গল্প: ম‍্যাচ মেকার ( শেষ পর্ব)

লেখিকা:জান্নাত রাহমান হৃদি

 

পর্ব:০৬ শেষ

 


আমি ঘুম কাতুরে মানুষ। সময় পেলেই ঘুমাই। আনন্দ পেহলে ঘুমাই। দুঃখ পেলে ঘুমাই। মন খারাপেও ঘুমাই। ঘুমের সঙ্গে আমার গভীর প্রেম। যদিও মায়ের যন্ত্রনায় আজকাল ঠিকঠাক মন ভরে ঘুমাতে পারিনা। আজ ভীষণ মেজাজা খারাপ থাকায় কলেজ থেকে ফিরেই একটা ঘুম দিয়ছিলাম। সে ঘুম ভাঙলো সাদিয়ার ডাকে। আমি ঘুম কাতুরে স্বরে জানতে চাইলাম, ‘কেউ মরেছে?’

“হ্যা! আমার মনের মৃত্যু আজ। সন্ধ্যার পরেই কবর দেওয়া হবে।’

‘ওহ! তো আমার ঘুম ভাঙিয়ে লাভ কি? তোর মনের ব্যাপার তুই বোঝ। আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছিস না কেনো?’

সাদিয়া কাঁদোকাঁদো স্বরে বলল, ‘তোর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই মানসী? তুই আমার সঙ্গে এটা কি করে করতে পারলি?’

‘আজব তোর সাথে আমি আবার কি করলাম?’

‘তুই জানতিস না তুষার ভাইকে আমি পছন্দ করি। তুই কি করে তাকে বিয়ে রতে রাজী হলি?’

সাদিয়ার কথাটা শুনে আমি তাজ্জব বনে গেলাম। মেজাজ দেখিয়ে বললাম, ‘দিন দুপুরে গান্জা-টান্জা খেয়ে এসেছিস নাকি? কি উল্টাপাল্টা কথা বলছিস? তুষার ভাইকে বিয়ে করবো আমি? হাহ! মরে গেলেও না।’

‘তোর কি মনে হচ্ছে আমি তোর সাথে মজা করতে বসেছি এখানে? আজ সন্ধ্যা বাদ-ই তো তোদের বিয়ে।’

‘কিহ? বলে চেচিয়ে উঠলাম আমি। বিষয়টা এমন হয়ে গেলো না যে? যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়া পড়শীর ঘুম নেই। আপতত আমার সাথে এটাই হচ্ছে। সাদিয়ার থেকে ভালো করে জেনে নিলাম ঘটনা সত্য কি-না। ও একশ পার্সেন্ট এর জায়গায় এক হাজার পার্সেন্ট শিওরিটি দিলো। আমার মন ভেঙে খানখান হলো। আমি তীব্র শোকে মায়ের কাছে দৌড়ে এলাম। অভিমানি কন্ঠে জানতে চাইলাম, ‘আম্মু তোমরা আমার বিয়ে ঠিক করেছো?’

আম্মু দায়সারা কন্ঠে জবাব দিলেন, ‘হ্যা!’

-‘তুষার ভাইয়ের সাথে বিয়ে আমার?’
-‘হ্যা।’
-‘আমি ঐ মুরগী ব্যবসায়ী তুষারকে কিছুতেই বিয়ে করবো না আম্মু। তোমরা আমার সাথে কিন্তু ঘোর অন্যায় করছো।’
-‘আচ্ছা তারপর?’

-‘ভালো হচ্ছে না কিন্তু আম্মু। লোকের কাছে আমি কি পরিচয় দিবো? মুরগী ব্যবসায়ীর বউ?’

-‘প্রয়োজন হলে দিবে সমস্যা কি?’
-‘পারবো না। আমার মান সম্মান যাবে।’

আম্মু এবার আমার দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, ‘আর একটা চরিএহীন ছেলের সঙ্গে প্রেম করলে সম্মান যায় না? রাস্তাঘাটে চুমু খেতে চায়। তাতে অনেক সম্মান বাড়ে নাকি?’

আম্মুর বলা এমন শীতল কন্ঠে বলা কথার বিপরীতে আমার শরীর ঘাম দিয়ে উঠলো। কলিজা টা উচ্চ গতিতে লাফাতে শুরু করলো। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসলো। মনে পড়লো দুপুরের ঘটনা টা। কলেজ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই গেইটের সামনে দেখতে পেলাম ওয়াহিদ দাঁড়িয়ে আছে হাসি মুখে। আমি তাকে হাত নাড়িয়ে বিদায় দিয়ে বাসার পথে রওনা হচ্ছিলাম। ওমনি পিছু ডাকে ওয়াহিদ। দৌড়ে এসে প্রশ্ন করে, ‘বাসায় চলো যাচ্ছো?’

মাথা নাড়ালাম আমি। ‘হ্যা!’

‘একটু পরে গেলে হয় না? তোমাকে নিয়ে ফুচকা খেতে যেতে চাছিলাম।’

ঘড়িতে টাইম দেখলাম আমি। দেখে বললাম, ‘আধঘন্টা সময় দেওয়া যাবে।’

ওয়াহিদ হাসিমুখে মেনে নিলো। শহীদ মিনারের পাশে একটা দোকান বসে। সেখানে এসে দুটো ফুচকার অর্ডার দিয়ে চেয়ার টেনে বসলাম আমরা। লোকটা জানালো একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমরা দুজন বসে বসে গল্পে মত্ত হলাম। আচানক ওয়াহিদ আমার কাছে একটা আবদার করে বসলো, ‘তোমার তুলতুলে গালটায় একটা চুমু খাই মানসী?’

আমি ‘না’ করলাম।

কিন্তু ওয়াহিদ নাছোড়বান্দা। তার নাকি আমাকে আজ চুমু না খেলে রাতে ঘুম হবে না। সে জোরজবরদস্তি শুরু করলো, ‘প্লিজ, প্লিজ, মানসী..যাষ্ট একটা।’

তার জোরজবরদস্তির বিপরীতে আমি তার সঙ্গে রাগ দেখালাম। চোখ পাকিয়ে বললাম, ‘মোটেও অসভ্যতা করবে না ওয়াহিদ।’

ওয়াহিদ যেনো আমার কথা শুনতেই পায়নি এমন একটা ভাব করলো। আমার পারমিশন ছাড়াই সে এবার আমাকে চুমু খেতে এলো। বিপরীতে আমি তাকে সজোড়ে ধাক্কা দিলাম। দিয়ে তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে বাসায় চলে এলাম। নিজের প্রতি রাগ লাগলো খুব। এই অসভ্য ছেলেটার সাথে আমি কেনো প্রেম করলাম সেটা ভেবে। ভেবে নিলাম কাল গিয়েই ব্রেকআপ করে ফেলবো। সাদিয়া যে বলেছিল ‘সুন্দর পুরুষরা বেশিরভাগ-ই চরিএহীন হয়। আজ হাতে নাতে সেটার প্রমাণ পেলাম। কিন্তু এই ঘটনা আম্মু জানলো কি করে? আমি মাথা নিচু করে মিনমিনে স্বরে বললাম, ‘তোমাকে এসব কে বলেছে আম্মু?’

আম্মু এবার রূক্ষ স্বরে বললেন, ‘তোমার বাবা। সে বাসায় ফেরার পথে নিজ চোখে দেখেছে। এসেই তুষারের সাথে বিয়ে ঠিক করেছে। ছিহ মানসী, তুমি এমন নিচ একটা কাজ করতে পারলে? আমি ভেবেছিলাম তোমাকে আমি সঠিক মানুষ করতে পারছি। কিন্তু আমার অগোচরে তুমি এসব…’’

দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আম্মু। আব্বু হয়তো আম্মুকে নিশ্চিত অনেক কথা শুনিয়েছে। আম্মুকে আর কিছু বলতে পারলাম না আমি। মাথা নিচু করে চলে এলাম। সন্ধ্যার পরপর-ই তুষার ভাইয়ের সাথে খুব সাধারণ ভাবে বিয়েটা হয়ে গেলো আমার। আমার বিয়েতে উপস্থিত ছিল একমাএ আমার ফুপি এবং সাদিয়া। এক কাপড়েই তুষার ভাইয়ের সাথে বিদায় নিলাম আমি। প্রত্যেকটা মেয়ে বিয়ের পর বাবার বাড়ি ছাড়ার সময় কান্নাকাটি করে ভাসিয়ে ফেলে, অদ্ভুদভাবে আমি তা পারলাম না। আমার মনে তখন অন্য পরিকল্পনা চলছে। একটা মুরগী ব্যবসায়ী, একটা প্রেম ঘটকের বউ হিসেবে পরিচয় আমি নিজেকে দিতে পারবো না। সব মিলিয়ে ঐ তুষার নামক লোকটার সঙ্গে সংসার পাতানো আমার কাছে পুরো অসম্ভব ব্যাপার। এরে চেয়ে ভালো আমি আত্মহত্যা করবো। তুষার ভাইয়ের বাসায় বসেই এটা করার মতলব করলাম আমি। আমি মরে লোকটাকে কেনো বাচিয়ে দিয়ে যাবো? তার রুমে বসে মরলে পুলিশ যেনো তাকে ধরে নিয়ে যায় তার পুরোপুরি ব্যবস্থা করে যাবো আমি। এসব ভাবনা চিন্তা নিয়েই তুষার ভাইয়ের বাড়িতে পা রাখলাম আমি। আন্টি আমাকে হাসিমুখে বরণ করে নিলেন। বিয়ে উপলক্ষে তুষার ভাইয়ের খালাতো বোন সৃষ্টি আপু এসেছেন। তিনি আমাকে তুষার ভাইয়ের রুমে নিয়ে এলেন। আমাকে বসিয়ে রেখে তিনি চলে গেলেন, যাওয়ার আগে বললেন, ‘বসো একটু, আমি গিয়ে তুষার কে পাঠাচ্ছি তোমার কাছে।’

সৃ্ষ্টি আপু চলে যেতেই আমি উঠে দাঁড়ালাম। মাথার উপর ঘুরতে থাকা সিলিং টার দিকে তাকিয়ে ভাবুক হলাম। কিভাবে মরলে কষ্টটা কম হবে। এই চলন্ত ফ্যানের পাখার মধ্যে মাথা দিলে? নাকি গলায় ফাঁস দিলে? মন নামক ঘন্টিটা চুজ করলো দ্বিতীয় অপশন। আমি মনকে প্রশ্নবিদ্ধ করলাম, ‘প্রথম অপশনটা খারাপ কিসে?’

মন জানালো, ‘প্রথম অপশনটা চুজ করলে ফ্যানের পাখায় আমার মাথাটা কেটে চুন্নভিন্ন হবে। এতে আমার কষ্ট হবে অত্যাধিক। এর চেয়ে ফাঁস দেওয়াটা সহজতর।’

মনের কথাই মেনে নিলাম আমি। গলায় ফাঁস আটকানোর জন্য বেলকনিতে টানানো রশি খুলে আনলাম। এরপর সম্পূর্ন মনযোগ দিলাম ফ্যানের সাথে রশি বাঁধার কাজে। এসবের মাঝে তুষার ভাই কখন আমার পিছে এসে দাঁড়িয়েছে তা খেয়াল করতে পারিনি। কিন্তু ওনার কন্ঠ পেয়ে লাফিয়ে উঠলাম আমি। তুষার ভাই হেসে হেসে বলছেন, ‘আরে গাঁধি মানসী, মরবি ভালো কথা। কিন্তু ফ্যানের পাখার সাথে দড়ি বাঁধছিস কেন? এতে তো মরতে পারবি না। উল্টো ফ্যানের পাখা ভেঙে পড়বি। আমার কাছে দে! তোকে ভালো করে শক্তপোক্ত ভাবে রশি বেঁধে দিচ্ছি। একদম বেঁচে যাওয়ার কোনো চান্স থাকবে না এতে।’

তুষার ভাইয়ের কথা শুনে চোখ গোলগোল করে তাকালাম আমি। কত বড় খারাপ লোক হলে একটা মানুষকে আত্মহত্যা করা থেকে না বাঁচিয়ে সে আরো কিভাবে মৃত্যুটা যেনো মিস না হয় সেসব বুদ্ধি দিচ্ছেন। একটা মানুষ এতটা খারাপ কিভাবে হতে পারে? আমি রশি বাঁধার কাজ স্থগিত করে খাট থেকে নেমে দাঁড়ালাম। তুষার ভাইকে বললাম, ‘আপনি এতটা নিষ্ঠুর তুষার ভাই?’

‘নিষ্ঠুর?’

‘নিষ্ঠুর না তো কি? না হলে একটা মানুষ কিভাবে আত্মহত্যা থেকে না বাঁচিয়ে তাকে উলটো রশি বাঁধতে সাহায্যের কথা বলতে পারে।’

তুষার ভাই চার হাত পা বিছানায় মেলে শুয়ে পড়লেন। ফ্যানটার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি বলতে পারি। কারণ আমি জানি, মরার মতো সাহস তোর মধ্যে নেই।’

-‘কে বলেছে নেই?’
-‘আছে?’
-‘দেখতে চান?’
-‘হ্যা দেখা!’
-ছিহ তুষার ভাই। আপনি একটা মনাুষকে মরতে বলছেন?’
‘আমি বলছি কোথায়? মানুষ মরতে চাইলে আমি কি করতে পারি? আমি কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনদিন কথা বলেছি? দেখিছিস কখনো? আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কারো স্বাধীনতায় বাঁধা দিতে চাইনা।

আমি অভিমানী কন্ঠে বললাম, ‘আপনি আমাকে মরার জন্য আরো উসকাচ্ছেন কিন্তু তুষার ভাই। আমি কিন্তু সত্যি সত্যি মরে যাবো। দেখে নিয়েন।’

‘কবে মরবি? তখনও কি আজকের মতো দরজা খোলা রেখে মরতে যাবি?’

আমি অবাক গলায় বললাম, ‘দরজাটা খোলা ছিল?’

তুষার ভাই হো হো করে হেসে উঠলেন, ‘শুধু শুধু তোকে গাঁধা বলি নাকি? দরজা খোলা না থাকলে আমি ঢুকলাম কি করে?’

‘ওহ খেয়াল করিনি। পরের বার আর ভুলবো না।’

তুষার ভাই এবার চট করে উঠে বসলেন। বললেন, ‘চল আমার সাথে।’

‘কোথায়? আপনার সাথে কোথাও যাবো না আমি। আপনাকে আমি অপছন্দ করি।’

তুষার ভাই আমাকে পাঁজাকোলে তুলে নিলেন। সিঁড়ি ভেঙে ছাঁদে উঠতে লাগলেন। আমি হাত পা ছোড়াছুঁড়ি শুরু করলাম। ‘দেখুন তুষার ভাই, ভালো হচ্ছে না কিন্তু। আপনি আমাকে ছুয়েছেন কেনো?’

‘আমার অধিকার আছে তাই ছুয়েছি।, নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কথাটা বললেন তুষার ভাই। আমরা ততক্ষনে ছাঁদে পৌছে গিয়েছি। তুষার ভাই আমাকে নামিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। এরপর ছাঁদের লাইট জ্বেলে দিলেন। আমার সামনে উম্মুক্ত হলো খোলা ছাঁদটায় গোলাপের পাপড়ি বিছানো মাদুর টা। একটা কাগজে বড় করে লেখা ‘মানসী তোমার জন্য।’ আমি অবাক হয়ে গেলাম সবকিছু দেখে। তুষার ভাই তাড়া দিয়ে বললেন, ‘স্টাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? আয় কেক কাটবি।’

‘কেক কাটবো কেন?’

‘কারণ তোর তুষার ভাইয়ের কুরবানি দিবি আজ। কেক কেটে শপথ নিবি আমি আর তুষারকে ভাই ডাকবো না। জান, সোনা, ঘুঘু, পিতলা যা খুশি তা ডাকবো। কিন্তু ভাইয়া ডাকবো না।’

আমি ঠোঁট বাকিয়ে বললাম, ‘স্যরি ভাইয়া, আমি আপনাকে ভাইয়া ছাড়া আর কিছু ডাকতে পারবো না ভাইয়া। আমাকে ক্ষমা করবেন ভাইয়া।’

তুষার ভাই দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আমার মতো ঘাড়ত্যাড়া লোকের সাথে পেরে উঠতে না পেরে। পকেট থেকে একটা ডায়মন্ডের সিম্পল রিং বের করে হাতে পরিয়ে দিলেন আমার। হাতটার দিকে কয়েকপল তাকিয়ে থেকে আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তোকে বিয়ে করেছি কেন জানিস মানুসী?’

‘নাহ। কেনো করেছেন?’

‘বললে হয়তো বিশ্বাস করবি না। তবুও বলছি, ‘কারণ টা খুব সহজ। আমি তোকে ভালোবাসি তাই।’

তুষার ভাইয়ের কথটা আমি সত্যিই বিশ্বাস করলাম না। উলটো প্রশ্ন করলাম, ‘আপনার মুরগি গুলো কই?’

-‘বেচে দিয়েছি।’
-‘কেন?’

‘কারণ একটা অমানুষ বলেছে আমি নাকি মুরগী ব্যবসায়ী। মুরগী ব্যবসায়ীকে বিয়ে করলে তার নাকি সম্মান যাবে। তাই মুরগীই বেঁচে দিয়েছি।’

-‘আসলেই?’

তুষার ভাই গর্বের সহিত বললেন, ‘তুষার মিথ্যা বলে না।’

‘মাএ যেটা বললেন। সেটাও না?’

‘উহু সেটাও মিথ্যা নয়। যা বলেছি সব সত্য। আমি এক পাগলকে ভালোবাসি। সে পাগল যখন একটা সাদা মুলার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলো তখন খুব রাগ হচ্ছিলো। তবুও চুপচাপ সহ্য করেছি সবটা। দেখতে চেয়েছিলাম তুই কতটা নিচে নামতে পারিস।’’

‘দেখলেন।’

‘দেখলাম। এবং যে হাত দিয়ে তোকে ছুঁতে চেয়েছিলো সে হাত ভেঙেও দিলাম।’

আমি চমকে তাকালাম। ‘আপনি ওর হাত ভেঙে দিয়েছেন?’

-‘দিয়েছি।’
-‘কেনো?’

‘কারণ, আমার ভালোবাসার মানুষকে ছুঁতে চেয়ছিলো তাই।’

এমন সিরিয়াস মুহূর্তেও হেসে উঠলাম আমি। বললাম, ‘ও তো আমায় হাত দিয়ে ছুঁতে আসেনি তুষার ভাই। এসেছিলো ঠোঁট দিয়ে। আপনি ঠোঁট না কেটে হাত ভাঙলেন কেন?’

তুষার ভাই ধমকে উঠলেন, ‘চুপ বেয়াদব।’

তুষার ভাইকে কখনো ভয় পাইনি আমি। তার ধমকে আমার একরত্তিও ভয় হলো না। উলটো হেসে উঠলাম আমি। একটু পরে আমার সাথে তিনিও যোগ দিলেন। দুজনেই হাসতে হাসতে শুয়ে পড়লাম গোলাপ বিছানো মাদুরটায়। তুষার ভাই আলতো হাতে আমাকে টেনে নিজের বুকের উপর নিলেন। চুলে বিলি কাটতে কাটতে বললেন, ‘আমার সাথে কি সত্যিই সংসার পাতা যায় না মানসী? একটাবার চেষ্টা করে দেখবি? যায় কি-না।’

আমি অকপটে বলে ফেললাম, ‘করবো। তুষার মানব আসলে অতটাও খারাপ না।’

‘তাহলে কেন আমার সাথে বিয়ে হওয়ায় তুই আত্মহত্যা করতে গেলি? জানিস কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আমি। এমন কাজ আর কখনো করিস না।’

আমি উল্টো হয়ে তার মুখোমুখি হলাম। বললাম, ‘আপনি ভয় পেয়েছিলােন? তাহলে যেগুলো বললেন সেগুলো?’

‘এমনিই!’

‘এমনিই.?.’

আমার ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরলেন তুষার ভাই। ‘কথা বলিস না মানসী। তুই কাছে আসায় আমার কেমন জানি লাগছে। গা টা গরম গরম লাগছে। চেইক করে দেখতো জ্বর-টর আসবে কি-না।’

আমি সত্যি সত্যি কপালে হাত দিলাম। পর্যবেক্ষন করে টরে বললাম, ‘হ্যা তুষার ভাই! আপনার গায়ে জ্বর আসবে আসবে করছে। যে সে জ্বর নয় এটা। প্রেম জ্বর।’

 

-সমাপ্ত-

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments