গল্প: রহস্যে ঘেরা বাড়ি (০৩)

পর্ব ৩

লেখক:রাকিবুর রহমান আতিক
=== ===
.
আতিক এই আতিক কী রে কী ভাবছিস?
না কিছু না।
তাহলে যে এতক্ষণ থেকে তোকে ডাকছি শুনছিস না কেনো?
না মানে, মিতা একটি সমস্যা হয়ে গেছে।
কী?
আমি যে বাড়িতে থাকতাম তারা জেনে গেছে যে আমি অবিবাহিত।
বলিস কী? তারা কীভাবে জানলো?
গত পরশু দিন বিকেলে ভাবি তোকে একবাড়িতে প্রবেশ করতে দেখেন। পরে তিনি খবর নিয়ে দেখলেন এটা তোর বাড়ি আর তর প্রতিবেশির কাছ থেকে জানতে পারলেন যে তুই অবিবাহিত।
.
“কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি? এখন কী করবি কিছু ভেবেছিস? তুইতো আবার ম্যাচে থাকতে পারবি না। “
” এটাই তো চিন্তা করছি। চারিদিনের ভিতরে বাড়ি কোথায় পাবো? পরিবার থাকলে না হয় কথা ছিলো, ব্যাচেলরকে তো কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না। “
” এই জন্যই তো তোকে বলি তুই আমাকে বিয়ে করে নে, ব্যাস হয়ে গেলো না পরিবার। “
” মিতা তোকে কতবার বললাম এখন আমি বিয়ে নিয়ে ভাবতে চাই না। আগে মায়ের চিকিৎসা করাই তারপর এগুলো নিয়ে ভাববো। “
” তুই ভাবতে থাক আমি গেলাম। এই বলে মিতা বসা থেকে উঠে চলে গেলো। আমিও আমার কাজে মন দিলাম। বিকেলে অফিস শেষ করে বের হলাম। মাথায় সেই এক চিন্তা বাড়ি খুঁজবো কোথায়। চিন্তা করতে করতে হাঁটছিলাম আনমনে। হঠাৎ মিতা পেছন থেকে ডাক দিলো। আতিক এই আতিক। মিতার ডাক শোনে দাঁড়িয়ে পিছনে তাকালাম। মিতা খানিকটা দৌড়ে এসে বলল- কী আমাদের প্রতিদিনের রুটিন কী ভুলে গেলি।
প্রতিদিন অফিস শেষ করার পর আমি আর মিতা রাস্তার পাশের একটি চটপটির দোকান থেকে ফুচকা কিনে খাই। আজ টেনশনের চাপে সেটা ভুলেই গিয়ে ছিলাম।
.
মিতা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে বলল- কী রে একেবারে হা বা হয়ে গেলি নাকি, কিছু বলছিস না কেন? আচ্ছা কিছু বলতে হবে না চল গিয়ে ফুচকা খাই।
আজ ফুচকা খেতে মন চাইছে না তবুও মিতার পীড়াপীড়িতে ফুচকা খেতে গেলাম।
মিতা ফুচকাওয়ালার কাছে গিয়ে বলল- ভাই ফুচকা দেন তো?
ফুচকাওয়ালা ফুচকা সাজিয়ে ছোট একটি প্লেটে দিলো।
মিতা ফুচকা খাচ্ছে আর একাএকা গল্প করে যাচ্ছে। আমি কথা বলছি না দেখে মিতা জিজ্ঞেস করল- কী রে আজ তর কী হলো কিছুই বলছিস না যে?
“না মানে ভাবছি কোথায় একটি বাড়ি পাওয়া যায়? “
“তর মাথায় এখনো সেই বাড়ির চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে। “
“কী করবো বল বাড়ি খোঁজা তো আর সহজ কথা নয়। যে বাড়িতে আছি সেটাও কীভাবে ভাড়া নিয়েছি সেটা তো তুই জানিস। “
“এক কাজ কর একটু দূরে কোথাও বাড়ি দেখ এবারও না হয় তর বউ সেজে যাবো। তর বউ সাজতে আমার ভালোই লাগে। “
” না মিতা, মিথ্যে বলে আর বাড়ি নেবো না। আমি অবিবাহিত জেনে কেউ যদি বাড়ি দেয় দিবে, না হয় অন্য পথে হাঁটতে হবে। “
“আতিক তুই এক কাজ কর একটু ভুতুড়ে বাড়ি খুঁজে বের কর। “
“কেনোরে ভুতের ছেলেকে বিয়ে করবি নাকি। “
“ইশশশ, আমার মত সুন্দরি মেয়ে বিয়ে করবে ভুতের ছেলেকে। এই তর মাথায় এইসব উদ্ভট চিন্তা কোথা থেকে আসে শুনি।”
“তাহলে ভুতুড়ে বাড়ি খুঁজতে বলছিস কেনো?
“শোন আমি হরর মুভিতে দেখেছি ভুতুড়ে বাড়ির মালিকরা কম ভাড়ায় বাড়ি ভাড়া দেয়। আর ব্যাচেলর না মেরিড সেটা খুঁজে না। “
“এক মিনিট তুই হরর মুভি দেখিস?
“হ্যাঁ দেখি। কোনো সমস্যা?”
“আমি তো জানি তুই একটি ভীতু, একটি কথা বলতো সত্যি করে। “
কী?
“হরর মুভি দেখার সময় কখনো কাপড় ভিজাস নি তো? “
আতিক ছিঃ তুই কী বাজে। তোকে তো আমি… মিতা কথা শেষ করার আগে আমি দিলাম ভৌ দৌড়। মিতা ও আমার পেছন পেছন দৌড়াতে লাগলো। ফুচকাওয়ালা বলল- ভাইজান আমার টাকা দিয়া যান।
আমি দৌড়তে দৌড়তে পিছনে তাকিয়ে বললাম- কালকে দেবো।


চলবে……..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x