গল্প:রৌদ্রময় বালুচর(০৫)


লেখিকা:প্রিয় সিনী

 

পর্ব:০৫

 

 

কারো কাসির শব্দ শুনে চোখ মেলে তাকায় আরমান। তার চোখের সামনে দাড়িয়ে আছে টকটকে লাল চুঁড়িদার পড়া এক রমনী।মাথায় সুন্দর করে হিজাব বাঁধা। মুখ ডাকা আছে কালো মাক্স এর ভিতরে। সিগারেটের ধোঁয়ায় এখনো কেঁসেই চলেছে মাথা নিচু করে। এহন অবস্থা দেখে হাতে থাকা সিগারেট টা ফেলে পা দিয়ে পিষে ফেলে আরমান।

সিগারেটের গন্ধ আসতে আসতে কমে এলে লাল চুঁড়িদার পড়া রমণী নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। রমণীকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কেমন চেনা চেনা গালছে তার কাছে। আর একটু ভালো ভাবে পর্যবেক্ষন করতেই মন পরে.!

এই সে মেয়ে যাকে সে কাল গেটের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছে সাদা কলেজ ড্রেস ।চিনতে অসুবিধা হয়নি।কিন্তু এখনো মুখটা দেখা হয়নি তার। সামনে থাকা রমণীকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে দেখে আরমান জিজ্ঞেস করে….

“Are you Okay..? আপনি ঠি ‘…

” ঠাসসসসস” সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে পারলো না। তার আগেই মেয়েলি নরম হাতে একটা থাপ্পড় পরে আরমানের গালে। সঙ্গে সঙ্গে গালে হাতে চলে যায় আরমানের। কোনো দোষ না করেই থাপ্পড় খেতে হবে তা কস্মিনকালেও কল্পনা করেনি সে।

“বদমাশি*করার আর জায়গা পাস না..? আমাদের বাড়ির সামনে এসেই তোদের মতো মাতা*লদের মাত*লামি করতে হবে এই দিনেদুপুরে..? মেয়ে দেখলেই ইভটিজিং করা শুরু করে দিস।সিগারেট এর ধোঁয়া মেয়েদের মুখে উপর ছাড়িস।আবার ইংলিশে জিজ্ঞেস করছি” Are you okay “? খারাপ, লুচু,ইতর, বখাটে লোক তোর নামে নালিশ করব আমি। “

একদমে কথাগুলো বলে থামলো জারা। এখনো সিগারেটের  গন্ধের রেশ কাটেনি তার। চোখ , দুটো লাল হয়ে গেছে। জোরে জোরে নিশ্বাস নেওয়ার ফলে বার বার বুক উটা মানা করছে জারার।

“সে কখন তার মুখে সিগাটের ধোঁয়া দিলো।এই হাফ ইঞ্চির মেয়েকে তো দেখেইনি সে। রাগ লাগছে অনেক তার।এই হাফ ইঞ্চির মেয়ের এতো বড় সাহস। তার থেকে বয়সে এতো ছোট একটা মেয়ে তার গালে থাপ্পড় মারে। ইগোতে হার্ট হয় আরমানের।  আমি কে এই মেয়ে কি তা যানে..?হয়তো যানে না তাই এতো বড় সাহসের কাজটা করে ফেলেছে। রাগে চোখ দুটো লাল হয়ে উঠে আরমানের। আরমান এই মেয়েকে কাল কতোই না আলাভোলা ভেবেছিলো।আর আজ সে কি না তাকে থাপ্পড় মেরেছে.??অসভ্য মেয়ে মানুষ।তাই সে সামনে দাড়িয়ে থাকা মেয়েকে দুটো কড়া কথা শুনানোর জন্য আঙুল তুলে বলতে নিবে….

__” এই মেয়ে… তোমার এতো বড় সাহ*”

এবারও সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে পারলো না। তার আগেই জারা তার মুখের মাক্স খুলে আরমানের  আঙুল উঁচু করে রাখা হাতটা ধরে জোরে কামড় মেরে দেয়।”

“আহাহাহাহা” বলে চেঁচিয়ে উঠে আরমান।

ব্যথার চোঁটে দুচোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে সে। দাঁত বসিয়ে দেয়।রক্ত বের হচ্ছে। তাই হাতটা এক জাঁড়া দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় জারা কাছ থেকে। আর সহ্য করতে না পেরে দাঁতে দাঁত চিপে চিৎকার করে বলে উঠে আরমান….

” বেয়াদব মেয়ে মানুষ! তোর এতো বড় সাহস তুই আমার গায়ে হাত তুলিস।তুই জানিস আমি কে..?
হাফ ইঞ্চির মেয়ে হয়ে আমার গালে থাপ্পড় মারিস..? থাপ্পড়ে তোর মুখের নকশা পালটে দিব বেয়াদব।মেয়ে মানুষ বলে বেঁচে গেলি নয়তো অন্য কেউ হলে কবরে পাঠিয়ে দিতাম।আর একবার এমন করলে জেন্তপুতে ফেলব।অসভ্য মেয়ে মানুষ।

আরমানের এমন চিৎকার করে কথা বলায় কিছু টা দমে গেলো জারা।মনের মাঝে ভয় কাছে করছে তার। যদি তাকে একা পেয়ে কোনো ক্ষতি করে দেয়।মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। লোকটাকে ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারলো না। একবার শুধু চেয়েছিলো কামড় মাড়াঁর সময়। গায়ের রঙ ফর্সা। লম্বা আর বয়সে ওর থেকে অনেক বড়।দেখে মনে হচ্ছে লোকটা এই গ্রামের না। লোকটাকে দেখে জারা বুকটা কেমন যেনো করছে।মনে যঢ় বয়ে যাচ্ছে তার।দেখে তো মনে হচ্ছে ভদ্রলোক।বড় ঘরের ছেলে।তাহলে এমন বখাটে ছেলেদের মতো রাস্তায় দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে কেনো..??

আর ভাবতে পারলো না জারা।সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে তার।আজ সে অনেক সাহস দেখিয়ে ফেলেছে।তাই তো আরমানের চিৎকার শুনে সাহসে কুলোয় নি চোখে চোখ রেখে আর কথা বলতে। তাই এতক্ষণ চোখ বন্ধ করে রেখেছে জারা।

“চোখ আঁটকে যায় আরমানের সামনে থাকা রমণী কে দেখে।মুখের মাক্স খুলা! চোখে কেমন যেনো এক অদ্ভুত মায়া। গোলাপি ঠোঁটের কোণে এক কালো তিল।তিলটা কেমন আকর্ষণিয় লাগছে তার কাছে।যা দেখলেই নেশা লেগে যাবে যেনো পুরুষের।গায়ের রঙ ফর্সা হওয়ায় মুখটা লাল হয়ে আছে।গাল দুটো লাল টমেটুর মতো ফুলে আছে। টুপ করে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে তার। মনে মনে বলে “ হাফ ইঞ্চি বলে কি হয়েছে? দেখতে পরীর মতো সুন্দর। ভালোবাসা হাইট দেখে হয় না, মন থেকে হয়..! ”

কিন্তু পরক্ষনেই মনে পরে তাকে এই মেয়ে থাপ্পড় মেরেছে।

মাথা রাগ আরো চউড়া হয় তার।নিজের রাগ দমিয়ে আরমান এবার আরও ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে জারাকে। পোশাক-আাশাকে একধরনে শালিনতা আছে।জারাকে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আর কিছু বললো না আরমান। শরীর কাঁপছে তার।হয় তো ভয় পেয়েছে।কেমন ভদ্র ভদ্র লাগছে এখন জারাকে।তার দমকে ভয়ে কাচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে তার সামনে।

দেখতে পুরো  নিস্পাপ শিশু মতো লাগছে।কে বলবে এই মেয়ে তাকে থাপ্পড় মেড়েছে।খরগোশের মতো দাতঁ দিয়ে কামড় দিয়েছে।?আনমনেই নিঃশব্দে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেঁসে দিলো আরমান। যা চোখে পরেনি জারার।মনে এতো ভয় নিয়ে সাহস দেখাতে এসেছে। আরমান জারাকে আরএকটু ভয় দেখাতে বলে….

__” পরের বার অপরিচিত কারোর সম্পর্কে না যেনে খারাপ মন্তব্য করবেন না ম্যডাম..!!যদি করেন তাহলে তুলে নিয়ে পাচার করে দিব।সাবধানে চলাফেরা করবেন কিন্তু। দ্বিতীয় বার আমার চোখের সামনে পরবেন না আপনি। তাহলে কিন্তু খুব খারাপ কিছু হবে আপনার সাথে যা আপনি কল্পনা ও করতে পারছেন না। এখন এমন ভাবে রাস্তায় কাঁপা, কাঁপি না করে বাড়ি যান।”

বলে আর দাঁড়ালো না আরমান। চলে গেছে নিজের গন্তব্যে।পিছনে ফেলে গেছে এক ভয়মিশ্রিত রমণীকে….

জারা তাকিয়ে আছে আরমানের চলে যাওয়ার দিকে। ভয়ের চোটে চোখে পানি চলে আসে তার।রাগ লাগছে এখন নিজের উপর।কেনো লোকটা কে থাপ্পড় মারতে গেলো। এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে মিমদের বাসায় যাওয়ার জন্য তার উপর এসব। আর গেলো না মিম দের বাসায় ভয়ে চোটে।যদি আবার লোকটার সাথে দেখা হয়ে যায় তার । ফিহাকে ফোন দিয়ে বারন করে দিয়েছে।

আরমান হাঁটার মাঝে কাউকে ফোন করে বলে দেয় কি কি আসবাবপত্র লাগবে তাদের থাকার জায়গায়। প্রয়োজনীয় সব কিছু যেনো বিকেলের মাধ্যে চলে আসে।”

” আরমান বাড়ি আসতে আসতে ১২ টা বেজে যায়।এখনো কারো সকালের নাস্তা করা হয় নি। বাড়ি এসে সোজা নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নেয়। ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হতেই তার সামনে পরে জিনিয়া।

জিনিয়া ডাকতে এসেছে আরমানকে খাওয়ার জন্য।কিন্তু জিনিয়ার চোখ যায় ভাইয়ের লাল হয়ে থাকা গালের দিকে।মনে হচ্ছে কেউ গায়ের জোরে কসি থাপ্পড় মেরেছে।মনে সংসয় দূর করতে বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করেই ফেলে…..

 

চলবে…….

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments