গল্প: মায়াবিনী (০৫)

 

 Author:Ayrah Rahman

 

part:05

 

 

 

রাত প্রায় ১০ টার কাছাকাছি,

বাসায় ঢুকে ড্রয়িং রুমে তাকিয়ে দেখি সোফায় আমার দুই ভাই বাদে সবাই বসে আছে।

হয়তো কোন কিছু নিয়ে কথা হচ্ছিল, যা আমাকে দেখে অফ হয়ে যায়।

আমি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে সোজা সিড়ি দিয়ে উপরে উঠার জন্য এগুলেই বাবা পিছনে থেকে বলল,

“আয়াত দাড়াও”

বাবা কন্ঠ শুনে মুহূর্তে ই আমার থেমে গেলো, তবুও সামনের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলাম,

“কিছু বলবেন মিস্টার খান?”

আমার জবাব শুনে বাবা বা কেউই অবাক হলো না কারণ এসব তাদের এখন অভ্যাস হয়ে গেছে,তাই বাবা সেদিকে পাত্তা না দিয়ে আমাকে বলল..

— আমি তোমার সামনে নয় পেছনে,, এদিকে তাকাও

আমি ঘুরে সবার দিকে তাকালাম,, সবাই কে এক পলক দেখে বাবার দিকে তাকালাম,,

— হুম বলেন কি বলবেন.

— এতক্ষণ কোথায় ছিলে? ভার্সিটি শেষ তো সেই কবে,,এতক্ষণ কি করছিলে,,?

— ইউ নো মিস্টার খান.. মাহাবীন খান আয়াত কখনো কাউকে কৈফিয়ত দেই না,,

— আয়াত তুমি কিন্তু ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করেছো

–তো?

— ভালো ঘরের ভালো মেয়েরা এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকে না,

— লিসেন মিস্টার খান,, এটা ভালো ঘর হতে পারে তবে আমি কোন ভালো মেয়ে না,, এটা জেনে রাখবেন,,আর ভবিষ্যতে আমার কোন প্রকার অধিকার ফলাতে আসবেন না,,

— আয়াত তুমি কিন্তু আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙে দিচ্ছো

— ধৈর্য ধারন করতে বলেছে কে আপনাকে? কি করবেন আপনি আমায়? মারবেন? মারতে মারতে অজ্ঞান করে দেবেন,, এর চেয়ে বেশি হলে মেরে ফেলবেন,, এই মাহাবীন খান আয়াত আর যায় হোক মৃত্যু কে ভয় পাই না,,আর আমার উপর আপনাদের এসব ফালতু ড্রামা না দেখিয়ে যেখানে দেখালে সম্মান পাবেন ভালোবাসা পাবেন সেখানে দেখান,,আমি আসি,

বলেই চলে আসতে নিলে পিছনে থেকে বড় ফুপি বলে উঠলো,,

— দেখলি দেখলি তোর মেয়ে কেমন বেয়াদব হচ্ছে দিনে দিনে,,মুখপুড়ির কথা শুনেছিস,,ও যেন ভুলে গেছে ও কার ঘাড়ে চেপে তিন বেলা দু মুঠো গিলছে,,বসে বসে অ্ন্ন ধংসস করছে

আমি ফুপির কথা শুনে সামনে তাকিয়ে ই মুচকি হাসলাম..

এ ব্যবহারে আমি অভ্যস্ত তাই এখন আর তেমন খারাপ লাগে না,,

আমি কিছু বলার আগেই মিহির ভাই কোথ থেকে যেন এসে বলে উঠলো,,

— ফুপ্পি ( অনেকটা রেগে) তুমি কি বলছো তোমার কোন আন্দাজ আছে? কাকে কি বলছো তুমি!

ভাইয়ার কথা শুনে ফুপি মুখ ঝামটা মেরে বলল

— কি এমন বললাম,,যা সত্যি তাই তো বললাম,,

ভাইয়া এবার মা বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,,

— এখনো তোমরা চুপ করে থাকবে কিছু ই বলবে না?

ভাইয়ার এরকম কথা শুনে আমার খুব হাসি পেলো,,ভাইয়া আর মানুষ পেলো না কথা বলতে হাহ্,,

আমি ভাইয়াকে বললাম,,

— আহহা ভাইয়া তুমিও যে কি,,কাদের কি বলছো,,যারা অন্যের জন্য নিজের সন্তানকে মেরে ফেলতেও দ্বিধা বোধ করে না তাদের? নাইস জোক্স অফ দা ইয়ার,,

আমি কিছু টা এগিয়ে ফুপির সামনে গেলাম..

— তো মিসেস জামান! কি যেন বলছিলেন? আমি বসে অন্ন ধংষ করছি? কিন্তু আপনি বোধ হয় ভুলে গেছেন যে আপনি যেখানে দাড়িয়ে আছেন সেই বাড়ি টাও আমার ই,,দাদাজান মারা যাবার আগে বাড়ি টা কিন্তু আমার নামেই করে দিয়েছিলো,,তাহলে বলতে গেলে আপনি আমার ঘাড়ে চেপে খাচ্ছেন,,

আপনি আপনার স্বামীর সংসার ছেড়ে ভাইয়ের সংসারে পরে আছেন লজ্জা থাকা দরকার আপনার,,তাও যদি এটা আপনার ভাইয়ের বাড়ি হতো,,তাও তো না,,আজ এই মুহূর্তে আমি চাইলে আপনাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারি,, কিন্তু না আমি সেটা করবো না,

কথা গুলো বলার পর ফুপির দিক থেকে চোখ সরিয়ে মা বাবার দিকে তাকালাম আর বললাম..

কারন আমি আর কারো মতো অমানুষ নই,,ভবিষ্যতে আমাকে কিছু বলার আগে আজকের কথা টা মনে রাখবেন,,

কথা গুলো শান্ত ভঙ্গিতে বলার পর আমি একটা হাসি দিয়ে চলে আসার সময় দেখলাম,,

— ভাইয়ার মুখে প্রশান্তির হাসি,,

সিড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে ভাইয়াকে ডেকে বললাম,,
আমার ঘরে আসতে,,

আমি রুমে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে আয়নার দিকে তাকালাম,,

চোখের নিচ টা বেশ কালো রেস ধরেছে,,কতরাত নির্ঘুম কাটিয়েছি তার হিসেব হয়তো আমারো জানা নেই,,

চুল থেকে হেয়ার ব্যন্ড খুলতে খুলতে দেখি ভাইয়া রুমে এসেছে,,

— দরজাটা লাগিয়ে আসো,,কখন যে কে এসে আড়ি পেতে থাকে বলা তো যায় না,,

আমার রুমটা যদিও সাউন্ড প্রুভ।

আমার কথা শুনে ভাইয়া দরজা লাগিয়ে এসে বিছানায় বসে,,

আমি গিয়ে সোজা ভাইয়ার কোলে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ি,

— ভাইয়া মাথা টা বিলি কেটে দে,, মাথাটা ব্যথা করছে,,

ভাইয়া আমার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল,,

— আমার পিচ্চি বোনটা কবে এতো বড় হয়ে গেলো হুম?

— দেখো ভাইয়া সবার কাছে আমি বড়, স্ট্রোঙ্গ হলেও তোমার কাছে আমি সেই আগের পিচ্চি ই,,তাই এসব বড় টড় বলে রাগ উঠাবা না,,

— ওকে বাবা ওকে বলব না,,বাট আজ তো তুই পুরো ফাটিয়ে দিয়েছিস,,

— কি আর করব বলো,,সবার সাথে তো আর মারামারি করা যায় না,,আর তুমি খুব ভালো করে ই জানো আমি ঠান্ডা মস্তিষ্কের মানুষ,, হুটহাট রেগে যাই না,,

— আচ্ছা মাহু!তুই অল টাইম এত কুল থাকিস কিভাবে? আমি তো একটু কিছু হলেই রেগে যায়,,

— সহ্য করতে করতে সয়ে গেছে তাই,,,

ভাইয়া আর কিছু ই বলল না,,আস্তে আস্তে আমার চুলের ফাকে নিজের আঙুল চালাচ্ছে,,

সারাদিন ঘুরাঘুরি করে অনেকটাই ক্লানৃত ছিলাম তাই কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারিনি,,আমি ঘুমিয়ে গেছি বুঝতে পেরে ভাইয়া আমাকে সোজা করে সুইয়ে দিয়ে কপালে চুমু দিয়ে দরজা লাগিয়ে চলে যায়,,

_______________

এদিকে মিসেস আর মিস্টার চৌধুরী,, আয়াস,, সারা সবাই খাবার টেবিলে বসে আছে,, কারো মুখে কোন কথা নেই,,সারা গালে হাত দিয়ে একবার মা বাবার দিকে আরেক বার আয়াসের দিকে তাকাচ্ছে,, আয়াস বসে বসে নিরবতা পালন করছে,,

আয়াস উপরে তাকিয়ে দেখে আবরার সিড়ি দিয়ে নিচে নামছে,,

আবরার নিচে নেমে দেখে সবাই কেমন জানি নিরব,, কারো কোন কথা নেই,,

আবরার ভ্রু কুচকে সবাই কে এক পলক দেখল,,

— কি হচ্ছে এখানে? সবাই রোবটের মতো বসে আছো কেন?

আবরারের কথা শুনার পর ও কারো মুখে কোন কথা নেই,,

— আরে বাবা বলবে তো,,আমি তো বলেছি খাবার সময় কথা না বলতে,,বোবা সাজতে তো বলি নি,,

দেখো বেশি বেশি কোন কিছু ই কিন্তু ভালো না,,সো ড্রামা অফ করে চুপচাপ খাও,,

বলেই আবরার খাবার টেবিলে বসে পরে,,আবার সবার দিকে তাকিয়ে খেতে শুরু করে,, আবরার কে দেখে সবাই ই খেতে শুরু করে,,

খাওয়া শেষ করে আবরার নিজের রুমে চলে যায়,,

বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর জন্য চেষ্টা করছিলো হঠাৎ আবরারের সেই গানের কথা টা মনে পড়ল,,

— কি মিস্টি স্বর তার বাট মুখ টাই তো দেখা হলো না,,

কে এই মেয়ে? কিন্তু মেয়েটার কন্ঠ কেমন জানি লেগেছে,,মনে হচ্ছে খুব কষ্ট নিয়ে গান টা গাইছিল,, কি এমন কষ্ট মেয়েটার? আচ্ছা মেয়েটা কি কাঁদছিলো?

মেয়েটা কাঁদছিল কথা টা মনে হতেই আবরারের বুকটা ধক করে উঠলো,,

কে এই অপরিচিতা? জানতে হবে যে করেই হোক,,আর কি এমন কষ্ট তার মাঝে?

চলবে…..

[ যারা যারা আমার গল্প টা পড়ছেন তারা প্লিজ রিয়েক্ট দিয়ে সাথে থাকবেন ]

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments