গল্প: মিস ফাস্ট ইয়ার(০২)

লেখকা:তাছমিয়াতুল জান্নাত

পর্ব :০২

বাসায় ফেরামাত্রই মায়ের তীক্ষ্ণ বকাবকি শুরু হয়ে গেল। তীরা আর একটি শব্দও উচ্চারণ করল না। ভেতরের পুঞ্জীভূত অভিমান আজ বাঁধ ভেঙেছে। সে সোজা নিজের ঘরে গিয়ে আলমারি খুলে জমানো সব টাকা, নিজের ফোন আর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস ব্যাগে ভরে নিল। মায়ের সাথে শেষবারের মতো একটা ঝগড়া করে বিকেল চারটায় যখন সে বাসা থেকে বের হলো, তখন তার চোখে কোনো পানি ছিল না, ছিল শুধু অনিশ্চিত গন্তব্যের জেদ।

​হাঁটতে হাঁটতে  রাত এগারোটা বেজে গেল। নির্জন রাস্তায় ক্লান্ত শরীরে যখন তীরা হাঁটছিল, তখন হঠাৎ একটা গর্জন তুলে তার সামনে এসে থামল একটি কুচকুচে কালো R15 বাইক।

​হেলমেটের কাঁচ তুলে পরিচিত সেই গম্ভীর অথচ শান্ত কণ্ঠস্বর ভেসে এল—

“মিস ফার্স্ট ইয়ার!”

​তীরা তাকিয়ে দেখল, রায়াশ দাঁড়িয়ে আছে। পরনে কালো লেদারের জ্যাকেট, কালো প্যান্ট আর হাতে রাইডিং গ্লাভস। রাতের অন্ধকারে ওকে কোনো রহস্যময় রাজপুত্রের মতো লাগছে।

​রায়াশ হালকা হেসে প্রশ্ন করল,

“কী হলো? এত রাতে একা রাস্তায় কী করছো?”

​তীরা নির্লিপ্ত গলায় উত্তর দিল,

“আমার কোনো বাসা নেই এখন।”

​রায়াশ ভ্রু কুঁচকে হাসল,

“কেন? হঠাৎ ঘরছাড়া হলে কেন?”

​তীরা ক্ষোভ আর ক্লান্তিতে ফেটে পড়ল,

“বেরিয়ে এসেছি একেবারে। আর কোনোদিন যাব না ওখানে। ওখানে থাকা মানে পাগল হয়ে যাওয়া, আমি আর এসব সহ্য করতে পারছি না!”

​রায়াশের ঠোঁটে আবার সেই বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।

রায়াশ বাইকের ইঞ্জিন চালু রেখে বলল,

“কাউকে সহ্য করতে হবে না। আজ আমার একটা বাইক রাইড আছে, অনেক দূরে যাব। তুমি কি আমার সাথে যাবে, ‘মিস ফার্স্ট ইয়ার’?”

​তীরা এক মুহূর্ত ভাবল না। এই অচেনা শহর আর চেনা যন্ত্রণার চেয়ে রায়াশের পেছনের সিটটাই যেন তাকে বেশি নিরাপত্তা দিচ্ছে। সে ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে বাইকে উঠে বসল।

​রায়াশ হেলমেটটা নামিয়ে বলল,

“শক্ত করে ধরে বসো। রাতটা কিন্তু বেশ লম্বা হবে!”
★★★

রায়াশ বাইকটা নিয়ে স্টেডিয়ামের বিশাল গেটের সামনে থামল।

তীরার দিকে তাকিয়ে কিছুটা কর্তৃত্বের স্বরে বলল,

“শোনো, তুমি ওই দিকের গ্যালারিতে গিয়ে বসো। আমি রাইডের জন্য যাচ্ছি। শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই থাকবে।”

​তীরা ভিড়ের আড়ালে গিয়ে দাঁড়াল। সেখানে গিয়ে ও অবাক হয়ে দেখল, কয়েকশ ছেলেমেয়ে জমায়েত হয়েছে। যখনই রায়াশ বাইক নিয়ে স্টার্ট লাইনে গিয়ে দাঁড়াল,

চারপাশ থেকে মেয়েরা পাগলের মতো
চিৎকার করতে শুরু করল—

“রায়াশ! রায়াশ! গো রায়াশ!”

তীরা বুঝতে পারল, রায়াশ শুধু ক্যাম্পাসে নয়, এই রেসিং জগতেও কতটা জনপ্রিয়।

​সবুজ সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই
R15-এর গর্জন তুলে রায়াশ তীরের মতো বেরিয়ে গেল। তিন কিলোমিটারের সেই রুদ্ধশ্বাস রেস! ধুলো আর বাতাসের ঝাপটা উড়িয়ে যখন ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করল, দেখা গেল সবার আগে সেই কালো বাইকটা। রায়াশ জিতেছে!

​পুরো স্টেডিয়াম যেন ফেটে পড়ল করতালিতে। রায়াশ হেলমেট খুলে চুলগুলো ঝাঁকিয়ে যখন চারদিকে তাকাল, ওর চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত জয়ের নেশা। কিন্তু এত মানুষের ভিড়েও ওর চোখ দুটো যেন কাউকে খুঁজছিল।

​গ্যালারির এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা তীরা বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে ভাবছিল

—এই ছেলেটা আসলে কে? কখনো সে বকাটে, কখনো মারকুটে, আবার কখনো বা এমন এক হিরো যার জন্য পুরো শহর পাগল!

বিজয়ের উন্মাদনা চারদিকে। রায়াশ হাসিমুখে গ্যালারিতে ঢোকা মাত্রই তাকে মেয়েরা ছেঁকে ধরল। কেউ অটোগ্রাফ চাইছে, কেউ বা এক পলক দেখার জন্য ধাক্কাধাক্কি করছে। সবার হাতে ফোন, সবাই চাচ্ছে এই ‘পপুলার ক্রাশ’-এর সাথে একটা সেলফি তুলতে।

​কিন্তু রায়াশ যেন কাউকে পাত্তাই দিল না। সে ভিড় ঠেলে সোজা গিয়ে দাঁড়াল এক কোণায় জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তীরার সামনে। চারপাশ মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

​রায়াশ নিজের হাতের হেলমেটটা তীরের কোলে ধরিয়ে দিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে তীরার ওড়নার এক প্রান্ত টেনে নিল। এরপর সেই ওড়না দিয়ে নিজের কপাল আর মুখের ঘাম মুছতে শুরু করল।

​তীরা কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর হৃদস্পন্দন যেন থেমে যাওয়ার জোগাড়! শত শত মেয়ের হিংসুটে আর অবাক দৃষ্টি তখন তীরের ওপর। রায়াশ ঘাম মুছে ওড়নাটা ছেড়ে দিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিল।।

রায়াশ নিচু স্বরে বলল, “কী হলো? অত ভয় পাচ্ছো কেন? চলো, এবার এখান থেকে বেরোতে হবে।”

​গ্যালারিতে তখন কানাকানি শুরু হয়ে গেছে। সবার মনে একই প্রশ্ন—

কে এই সাধারণ মেয়েটি, যার ওড়না দিয়ে রায়াশ আরশাদ নিজের ঘাম মোছার স্পর্ধা দেখালো?রায়াশ তীরার খুব কাছে এসে দাঁড়াল।

রায়াশের সবুজ চোখের মণি দুটো রাতের অন্ধকারে আরও গভীর দেখাচ্ছে।

ধীর অথচ শান্ত গলায় রাযাশ  বলল,

“আমার সঙ্গে তুমি হারিয়ে যাবে, কথা দিচ্ছি কোনো ক্ষতি হতে দেব না।”

​তীরা কোনো প্রশ্ন করল না। ওর দীর্ঘশ্বাস আর ক্লান্তি যেন রায়াশের এই একটি আশ্বাসে প্রশান্তি খুঁজে পেল। সে শুধু আলতো করে মাথা নাড়ল।

​রায়াশ পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে ডায়াল করল।

ওপাশে কল রিসিভ হতেই হুকুমের সুরে বলল,

“১০ মিনিটের মধ্যে স্টেডিয়ামের ছাদে হেলিকপ্টার চাই। এখনই।”

​তীরা স্তম্ভিত হয়ে দেখল,

★★★*

মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় আকাশে আলো বিলিয়ে একটি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার স্টেডিয়ামের ল্যান্ডিং প্যাডে এসে নামল। রায়াশ তীরার হাত ধরে ওকে ভেতরে নিয়ে বসল। রাতের শহরটা নিচে ক্রমে ছোট হয়ে আসছিল।

পাইলটকে উদ্দেশ্য করে রায়াশ শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করল—

“সিলেট।”

​ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তারা চায়ের দেশ সিলেটে পৌঁছে গেল। শহরটা তখন ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন। রায়াশ তীরাকে নিয়ে সিলেটের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং নান্দনিক হোটেল ‘গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ গিয়ে উঠল।

​বিশাল লবি পার হয়ে রায়াশ ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“দুইটা ডিলাক্স রুম বুক করো। আলাদা ফ্লোরে।”

​রুমের চাবি হাতে পেয়ে রায়াশ তীরার দিকে তাকিয়ে বলল, “

যাও, এবার বিশ্রাম নাও।
কাল থেকে তোমার নতুন জীবন শুরু।”

তীরা নিজের রুমের দিকে হাঁটা দিল। পেছনে তাকিয়ে দেখল রায়াশও তার উল্টো দিকের করিডোর দিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে যাচ্ছে। এক অদ্ভুত নিরাপত্তা আর একরাশ বিস্ময় নিয়ে তীরা হোটেলের নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিল।

★★★

পাহাড়ি লেকের ধারে এক স্বপ্নীল সকাল
​তীরার ঘুম ভাঙল দরজায় মৃদু করাঘাতের শব্দে। চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুলতেই সে অবাক! সামনে রায়াশ দাঁড়িয়ে আছে। ওর পরনে সাদা টি-শার্ট আর ডেনিম, হাতে একটা সুন্দর করে প্যাকিং করা বক্স।

​রায়াশ বক্সটা তীরার হাতে দিয়ে মৃদু হেসে বলল,

“ফ্রেশ হয়ে এটা পরে নাও। তোমাকে আমি এখানে শুধু ঘুমানোর জন্য আনিনি, আজ আমার সাথে অনেক ঘুরতে হবে।”

​তীরা বক্সটা খুলে দেখল, ভেতরে ঠিক পিন্টারেস্টের মতো নান্দনিক এক চিলতে ফ্লোরাল ড্রেস, সাথে ম্যাচিং জুতো আর সবচাইতে কিউট একটা ‘পুকি হেয়ার ক্লিপ’। তীরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন নিজেকে সাজাল, মনে হলো সে যেন কোনো রূপকথার গল্পের নায়িকা।
★★★

​কিছুক্ষণ পরেই দুজনে বেরিয়ে পড়ল। রায়াশ তীরাকে নিয়ে এল পাহাড়ের কোল ঘেঁষা এক অদ্ভুত সুন্দর জায়গায়। সামনেই নীল জলের এক শান্ত লেক। লেকের ওপারে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ চা বাগান পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে এসেছে। আর লেকের এই পাশে একটা বিশাল সবুজ ঘাসের মাঠ।

​তীরা দেখল, মাঠের এক কোণায় বড় একটা
গাছ তলায় সুন্দর একটা প্রিন্টের চাদর বিছানো। তার ওপরে সাজানো অনেক রকমের খাবার—স্যান্ডউইচ, ফল, কেক আর কাঁচের বোতলে ভরা ঠান্ডা কোকোকোলা।

​রায়াশ ঘাসের ওপর ধপ করে বসে পড়ে বলল,

“কেমন লাগছে ‘মিস ফার্স্ট ইয়ার’? এখানে বসে পাহাড়ের হাওয়া খেতে খেতে খাওয়া-দাওয়া করাটা কিন্তু মন্দ নয়!”

​তীরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো চারপাশটা দেখছিল। নীল আকাশ, লেকের জল আর পাহাড়ের ঐ সবুজ—সব মিলিয়ে তার মনে হচ্ছিল ঘরের সেই দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে সে অনেক দূরে, এক নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছে।

তীরা রায়াশের পাশে বসে মৃদু স্বরে বলল,

“খুব সুন্দর! আমি স্বপ্নেও ভাবিনি দিনটা এমন হবে।”

রায়াশের আঙুলের ইশারা অনুসরণ করে তীরা সেদিকে তাকাতেই ওর চোখদুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। পাহাড়ের কোল ঘেঁষা একটা বিশাল গাছের ডালে ঝোলানো রয়েছে একটি কাঠের দোলনা। দোলনাটি সাধারণ কোনো দোলনা নয়; মোটা দড়িগুলোতে লতানো সবুজ পাতা আর সাদা-গোলাপী বুনো ফুল দিয়ে খুব সুন্দর করে সাজানো। ঠিক যেন পিন্টারেস্টের কোনো নান্দনিক ছবি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

​রায়াশ তীরার বিস্ময়ভরা মুখটা দেখে হালকা হেসে বলল,

“কী হলো? ওভাবে তাকিয়ে আছ কেন? যাও, এনজয় করো। আমি তোমার কিছু সুন্দর ছবি তুলে দিচ্ছি।”

​তীরা ধীরপায়ে দোলনাটার দিকে এগিয়ে গেল। ওর পরনের ফ্লোরাল ড্রেসটা পাহাড়ের এই বুনো বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে উড়ছে। সে যখন দোলনায় গিয়ে বসল, রায়াশ তার পকেট থেকে ফোন বের করে দক্ষ ফটোগ্রাফারের মতো পোজ নিতে বলল।

​রায়াশ লেন্সের ওপাশ থেকে দেখছিল

—তীরার চুলে সেই ছোট ‘পুকি’ ক্লিপটা চিকচিক করছে, আর ওর মুখে লেগে আছে এক চিলতে পবিত্র হাসি।

রায়াশ কয়েকটা ক্লিক করে বলল,

“একটু ওদিকের পাহাড়টার দিকে তাকাও তো ‘মিস ফার্স্ট ইয়ার’… ব্যস, পারফেক্ট!”

​তীরা দোলনায় দুলতে দুলতে আকাশের দিকে তাকাল। ওর মনে হলো, কয়েক দিন আগের সেই ঘরবন্দী একঘেয়ে মেয়েটা আর আজকের এই উড়ন্ত মেয়েটা সম্পূর্ণ আলাদা। রায়াশের এই অদ্ভুত খেয়াল আর যত্ন ওকে প্রতিনিয়ত নতুন করে চেনাচ্ছে।

​রায়াশ ছবি তুলতে তুলতে হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল, ওর ঠোঁটের কোণে হাসিটা রয়ে গেলেও চোখে ছিল এক গভীর পর্যবেক্ষণ।

রায়াশ বিড়বিড় করে বলল,

“হাসলে তোমাকে আসলেও ‘মিস ফার্স্ট ইয়ার’ লাগে, ভীতু তীরা নয়।”
★★*

রায়াশ দোলনায় আলতো করে ধাক্কা দিতে দিতে আকাশের দিকে তাকাল। হঠাৎ গম্ভীর হয়ে প্রশ্ন করল,

“আচ্ছা ‘মিস ফার্স্ট ইয়ার’, তোমার জীবনের সবচাইতে বড় স্বপ্নটা কী?”

​তীরা দোলনায় দুলতে দুলতে দুহাত ছড়িয়ে দিয়ে বলল,

“আমি অনেক ঘুরতে চাই। একদম সব জায়গায়! পুরো পৃথিবীটা নিজের চোখে দেখতে চাই।”

​রায়াশ মৃদু হেসে বলল,

“জানো, আমার আর তোমার স্বপ্ন কিন্তু একদম এক। আমরা যদি একসাথে ঘুরি, তবে মন্দ হয় না। তুমি মেয়েটাও কিন্তু খুব একটা খারাপ না!”

​তীরা একটু দুষ্টুমি করে হাসল। রায়াশের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“ঘুরতে তো অনেক টাকা লাগে, ‘বাইকার সাহেব’! অত টাকা পাবেন কোথায়?”

​রায়াশ হোহো করে হেসে উঠল।

“বাইকার সাহেব? ইন্টারেস্টিং! নামটা তো বেশ সুন্দর দিলে। কিন্তু ওই যে বললে—সাগর তলা টাকা, ওটা কোথায় পাব?”

​তীরা কিছুক্ষণ চুপ করে কী যেন ভাবল। তারপর হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বলল,

“আইডিয়া! আপনি ব্লগিং করতে পারেন। এই যে আজকের এই সুন্দর জায়গাটা, এটা ভিডিও করে যদি আমরা ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে আপলোড করি, তবে কিন্তু দারুণ হবে!”

​রায়াশ দোলনাটা থামিয়ে তীরার দিকে ঝুঁকে এল।

“কিন্তু আমার তো কোনো পেজ নেই। আর পেজ খুলতে হলে তো একটা ইন্টারেস্টিং নাম দিতে হয়, তাই না?”

​তীরা কোনো কিছু না ভেবেই চটপট উত্তর দিল,

“আমি আপনার একটা সুন্দর নাম দেব, ওটাই হবে আপনার পেজের নাম।”

​রায়াশ কৌতূহল নিয়ে হাসল,

“কী নাম?”

​তীরা লাজুক হেসে বলল,

“আমার নাম ফাওজিয়া তীরা। তাহলে আপনার নাম দেওয়া যায়— তীর!”

​রায়াশ শব্দ করে হেসে উঠল। তীরার চোখের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি করে বলল,

“তোমার নাম যদি হয় তীরা তাই ধনুক, তবে আমার নাম হোক ‘তীর’। তাহলে তো সবচাইতে ভালো হয় যদি আমরা আমাদের পেজের নাম রাখি— ‘তীর-ধনুক’!”

​তীরা খিলখিল করে হেসে উঠল। নামটা দুজনেরই খুব পছন্দ হলো। পাহাড়ের সেই শান্ত বিকেলে লেকের পাড়ে বসে ‘তীর-ধনুক’ নামের এক নতুন স্বপ্নের জন্ম হলো।

★★★

তীরার বুদ্ধিতে রায়াশ তার iPhone 17 Pro Max বের করল। পাহাড়ের নীল আকাশ আর লেকের স্বচ্ছ জলের পটভূমিতে রায়াশ যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াল, ওকে আসলেও কোনো পেশাদার ভ্লগারের মতো লাগছিল। তীরা পেছনের ক্যামেরা ধরে বেশ সিরিয়াস ভঙ্গিতে ডিরেকশন দিচ্ছে।

​রায়াশ ফোনের লেন্সের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে তার সেই ভরাট গলায় শুরু করল:

​”আসসালামু আলাইকুম, লাভলি পিপল! আই’ম তীর আরশাদ। ওয়েলকাম ব্যাক টু অ্যানাদার ডে অব মাই ডেইলি লাইফ অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার্স। অ্যান্ড বিহাইন্ড দ্য ক্যামেরা ইজ মাই ক্যামেরাম্যান, ধনুক। সো গাইজ, লেটস স্টার্ট টুডেজ জার্নি টুগেদার! স্টে উইথ আস অ্যান্ড এনজয় দ্য ভ্লগ!”

​এরপর তীরা ক্যামেরাটা ঘুরিয়ে পুরো জায়গাটার সৌন্দর্য তুলে ধরতে লাগল। ভ্লগটি যেভাবে এগোলো

​পাহাড় ও লেকের মায়া

​পিকনিক স্পট: ক্যামেরা প্রথমে ফোকাস করল সেই সুন্দর ফ্লাওয়ার ডেকোরেশন করা দোলনাটার দিকে। এরপর ঘাসের ওপর বিছানো সেই রঙিন চাদর, যেখানে সাজানো রয়েছে স্যান্ডউইচ আর কোকোকোলার বোতল।

রায়াশ ব্যাকগ্রাউন্ডে বলছিল,

“প্রকৃতির মাঝে এমন একটা সকাল কাটানো যে কতটা প্রশান্তির, তা এখানে না আসলে বোঝা যাবে না।”

তীরা ক্যামেরা প্যান করে লেকের নীল জলরাশি দেখাল। ওপারে পাহাড়ের ধাপে ধাপে সাজানো সবুজ চা বাগানগুলো যেন আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে আছে।

রায়াশ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পাহাড়ের দিকে ইশারা করে বলল,

“ওই যে দেখছেন সবুজের গালিচা, ওটাই আমাদের গন্তব্য। আজ আমরা এই অরণ্য আর পাহাড়ের গভীর রহস্য খুঁজে বের করব।”

​কিছুক্ষণ পর দেখা গেল দূরে দুটো ঘোড়া চরে বেড়াচ্ছে। রায়াশ হাসতে হাসতে একটি ঘোড়ার কাছে গিয়ে তার পিঠে হাত রাখল। ক্যামেরা তখন ক্লোজ-আপে রায়াশের সেই সাহসী ভঙ্গি আর পাহাড়ের বিশালতা ফুটিয়ে তুলল।

রায়াশ বলল,

“শহরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে এই বুনো পথে হারিয়ে যাওয়ার মজাই আলাদা। আপনারা যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, এই জায়গাটি তাদের জন্য স্বর্গ!”

​সবশেষে তীরা ক্যামেরাটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে একবার মিষ্টি করে হাসল।

রায়াশ পাশ থেকে বলে উঠল,

“তো গাইজ, কেমন লাগল আমাদের আজকের এই ছোট্ট আয়োজন? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। দেখা হবে পরবর্তী অ্যাডভেঞ্চারে। টা-টা!”

​ভিডিও শেষ হতেই তীরা উত্তেজনায় লাফিয়ে উঠল।

“ভাইয়া! দারুণ হয়েছে! একদম প্রফেশনাল লাগছে আপনাকে।”

​রায়াশ তীরার মাথায় আলতো করে হাত রেখে বলল,

“সবই তো তোমার আইডিয়া, ‘ধনুক’। এখন চলো, এই ভিডিওটা এডিট করে আপলোড করার ব্যবস্থা করি। আজ থেকেই ‘তীর-ধনুক’ এর যাত্রা শুরু হোক!”

( [আপনাদের সবাইকে দাওয়াত  রায়াশ আর তীরার dream picnicএ আশার অনুরোধ রইলো ]
আপনাদের থেকে কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন সিলেটে ঘোরার মত অনেকগুলো স্পট আছে আপনারা যদি চান তাহলে ওদের ব্লগে এগুলো অ্যাড করব )

চলবে…………………………

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments