গল্প: মৃত কাঠগোলাপ(০৪)

লেখনীতে:আইরা নূর

পর্ব:০৪

🚫🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। গল্পটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু অবশ্যই হ্যাশট্যাগ গুলো লাগাবেন আর যদি কেউ গল্পটি নিজের টিকটক id তে দিতে চাই অবশ্যই আমার টিকটক id কে mention দেবেন🚫🚫

নিধি:- আরু আমার অ্যাসাইনমেন্ট গুলো একটু স্যারের কেবিনে দিয়ে আসতে পারবি? আমিই যেতাম। কিন্তু শরীরটা হঠাৎ করেই খা’রা’প করছে। তুই অ্যাসাইনমেন্ট গুলো জমা দিয়ে আমাকে নিয়ে যাস। আমি মনে হয় একা একা হোস্টেলে ব্যাক করতে পারবো না। (করুন স্বরে)

আরুহি:- সে নাহয় আমি গেলাম, কিন্তু তুই থাকতে পারবি তো নাকি বেশীই শরীর খা’রা’প করছে? তোকে নাহয় হোস্টেলে রেখে এসেই অ্যাসাইনমেন্ট গুলো জমা দিয়ে আসি।

নিধি:- তা কিভাবে হয়। হোস্টেলে গিয়ে আবার ভার্সিটিতে আসতে তো অনেক দেরি হয়ে যাবে। তারপর আবার স্যারের কেবিনে যাবি। দেরি হলে তো আবার কতক্ষন অপেক্ষা করতে হবে তোকে। তার ওপর আজকে তো আবার তোর ২ টা টিউশন ও আছে। অনেক খাটনি হয়ে যাবে তোর আরু। এমনিতেই সারাদিন এত পরিশ্রম করিস। ৩ টা টিউশন করাস প্লাস রাত জেগে পড়াশোনা করিস। আবার সকালে উঠে ভার্সিটির ক্লাসের প্রিপারেশন নিস। তার থেকে ভালো তুই তাড়াতাড়ি যা অ্যাসাইনমেন্ট টা স্যারের কেবিনে গিয়ে জমা দিয়ে চলে আসবি। আমি ততক্ষন অপেক্ষা করতে পারবো।

আরুহি:- ঠিক আছে তাহলে যাচ্ছি আমি। সমস্যা হলে ফোন করবি। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসার চেষ্টা করবো।

নিধি:- হুম।

এরপর আরুহি ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়। আরুহি অ্যাসাইনমেন্ট গুলো দেখতে দেখতে যাচ্ছিল ঠিক তখনই নীলাধ্র কোথা থেকে এসে তাকে টে’নে একটা খালি ক্লাসরুমে নিয়ে আসে।

এই ক্লাসরুমে ক্লাস হয়না বললেই চলে। আর এই দিকটা তেও সেরকম কেউ আসে না। শুধু অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য এইদিকে আসতে হয়।

নীলাধ্র, আরুহি কে দেয়ালের সাথে পিন করে একহাত দিয়ে আরুহির কোমর জ’ড়ি’য়ে ধরেছে আর অন্য হাত দিয়ে ওর মুখ চে’পে ধরেছে যাতে করে আরুহি কোনো আওয়াজ করতে না পারে।

আরুহি, নীলাধ্র র থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে। কিন্তু নীলাধ্র তাকে ছাড়ছে না। হঠাৎই নীলাধ্র করুন স্বরে বলে উঠে,

নীলাধ্র:- আরু আর কতদিন আমাকে এইভাবে ঘোরাবি বলতো। দেড়টা বছর ধরে তোর পিছনে পা’গ’লে’র মতো ঘুরছি আর তুই, তুই তো আমাকে পাত্তাও দিচ্ছিস না। আচ্ছা আমি কী খুব খা’রা’প। আমাকে কি ভালোবাসা যায় না!!

আরুহি, নীলাধ্র র চোখের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নেয়। কারণ নীলাধ্র র এই গাঢ় বাদামী বর্ণের চোখ জোড়া যে আরুহির দুর্বলতা। যত বারই এই চোখের দিকে তাকাই তত বারই সে নীলাধ্র র মায়ায় পড়ে যায়।

কিন্তু ঠিক তার পর মুহূর্তেই নিজেকে সামলিয়ে নেয় আরুহি। কারণ সে যদি নীলাধ্র র চোখের মায়ায় পড়ে তাহলে সেই মায়া থেকে পরে বের হতে যে তার খুব ক’ষ্ট হবে।

সে চাইনা ভালোবেসে ম’র’ণ যন্ত্রণা ভোগ করতে। তাই তো বার বারই মন কে বোঝাই যে তার আর নীলাধ্র র মিল হওয়ার নয়। নীলাধ্র হলো আকাশের একটি মাত্র চাঁদ আর আরুহি হলো আকাশের লক্ষ তারার মধ্যে একজন।

যার শুধু দুর থেকে ঐ চাঁদকে দেখার সাধ্য আছে কিন্তু তাকে নিজের করে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। নীলাধ্র, আরুহি মুখ থেকে হাত সরিয়ে গেয়ে ওঠে,

নীলাধ্র:- “তাই এখন সব ভিন্ন ভিন্ন লাগে,
তুমি ছাড়া ঠুংকো এ জগতে,
এত সহজে ছেড়ে দিলে হাত,
তুমি ছাড়া শূন্য শূন্য লাগে,
ঠোঁ’টে আসে নাম তোমার বারে বারে,
বোঝাই কাকে এ কেমন ব্য’থা”

নীলাধ্র র গান শুনে আরুহি কিছুই বলে না তাই নীলাধ্র আবার বলে,

নীলাধ্র:- কিছু তো বল আরু। আর কতদিন এইভাবে চলবে। আমি আর সত্যি এই বিরহ সহ্য করতে পারছি না।

আরুহি:- বাহ্ ভালোই তো বাঙাল শিখে গিয়েছেন দেখছি। আবার গান ও গাইচ্ছেন।

নীলাধ্র:- সব তোর জন্য। তোর বিরহে আমি দেবদাস হয়ে যাচ্ছি আরু। প্লিজ আমাকে আর ফিরিয়ে দিস না। আমি তোকে সত্যি খুব ভালোবাসি। তোর বিশ্বাস হচ্ছেনা। আচ্ছা তুই আমাকে যা করতে বলবি আমি তাই করবো। তাহলে তো তোর বিশ্বাস হবে।

আরুহি:- আপনি আমাকে ছাড়ুন। আমি কোনো প্রমাণ দেখতে চাই না। ছাড়ুন আমাকে। (নিজেকে ছাড়ানো চেষ্টা করতে করতে)

নীলাধ্র আরুহি কে নিজের আরো কাছে এনে শক্ত করে ধরে বলে,

নীলাধ্র:- না আমি তোকে ছাড়বোনা। আজকে তোকে আমার ভালোবাসা একসেপ্ট করতেই হবে। নাহলে কোনো ছাড়াছাড়ি নেই।

আরুহি পড়েছে মহা মুসকিলে। সে যদি হ্যাঁ বলে তাহলে ও বিপদ না বললেও বিপদ। কি করবে এখন সে!? আরুহি কিছু একটা ভেবে বলে,

আরুহি:- আচ্ছা ঠিক আছে আমাকে ২ দিন সময় দিন। হুট করেই তো আর ভালোবাসি বলা যায় না। আগে নিজের ফিলিংস টা বুঝি। আমি আদতে ও আপনাকে ভালোবাসতে পারবো কিনা। আর তাছাড়াও আমি দেখতে চাই যে আপনি নিজের ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্য কি কি করতে পারেন।

নীলাধ্র:- আরু তুই যা বলবি আমি তাই করবো। শুধু একবার বলেই দেখনা।

আরুহি বেশ কিছুক্ষণ ভেবে বলে,

আরুহি:- ভেবে বলছেন তো। আমি যা বলব তা যদি করতে না পারেন তখন?

নীলাধ্র:- তুই একবার বলেই দেখনা। এই নীলাধ্র চৌধুরী পারে না এমন কোনো কাজ নেই।

আরুহি:- ঠিক আছে আমি ২ দিন ভাবার জন্য সময় নিলাম আর আপনি এই দুইদিন নাহয় সি’গা’রে’ট ছাড়া থাকবেন।

নীলাধ্র:- মানে!! (ভ্রু কুঁচকে)

আরুহি:- মানে এই দুইদিন আপনি একবারও স্মো’ক করবেন না। এবার বলুন পারবেন। যদি পারেন তো ভেবে দেখবো। জানি আপনার দ্বারা সম্ভব নয়। কারণ আপনি যে পরিমাণে স্মো’ক করেন।

আরুহি ইচ্ছে করেই এই কাজটা নীলাধ্র কে দিয়েছে। কারণ সে জানে নীলাধ্র এতো সহজে স্মো’ক করা ছাড়তে পারবে না। আর আরুহি চাই যে নীলাধ্র যেনো স্মো’ক করা ছেড়ে দেই। তাই তো সে নীলাধ্র কে এই কাজ টা দেই নিজের ভালোবাসা প্রমাণ করতে।

নীলাধ্র:- কে বলছে যে আমি পারবো না। তোকে আমি দেখিয়ে দেবো যে এই নীলাধ্র যা বলে তাই করে ও দেখাই।

আরুহি:- ঠিক আছে তাহলে আজকে থেকেই লেগে পড়ুন। আর আমাকে এখন ছাড়ুন আমার কাজ আছে।

আরুহি বলতেই নীলাধ্র তাকে ছেড়ে দেই। আরুহি আর সেখানে এক মুহুর্ত ও দাঁড়ায় না। আরুহি যেতেই নীলাধ্র এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে,

নীলাধ্র:- এটা তো কেবল শুরু। তুই জানিস ও না যে আগে তোর সাথে ঠিক কি কি হতে যাচ্ছে। প্র’তি’শো’ধ নেওয়ার জন্য আমি সব কিছু করতে পারি। কারোর থেকে তার ভালোবাসা কেড়ে নিলে ঠিক কতটা ক’ষ্ট হয় এবার তুই বুঝবি আরু। (বাঁকা হেসে)
,,,,,,,,,,,,,,

দেখতে দেখতে দুদিন কেটে গিয়েছে। নীলাধ্র নিজের কথা রেখেছে। সে দুদিনে একবার ও স্মো”ক করে নি। আরুহি তো ভাবতেই পারছে না যে নীলাধ্র তার কথা রেখেছে।

আজকে নীলাধ্র, আরুহির থেকে তার কাঙ্ক্ষিত জবাব পাবে তাই নীলাধ্র খুব খুশি খুশি। আরুহি একবার হ্যাঁ বলে দিলে নীলাধ্র তার পরিকল্পনার একধাপ এগিয়ে যাবে।
,,,,,,,,,,,,,

আরুহি:- আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না নিধি, যে উনি আমার জন্য স্মো’ক করা ছেড়ে দিয়েছেন। উনার এমন পরিবর্তন প্রথম প্রথম আমার কাছে নাটক মনে হতো। তবে এখন আমার মনে হয় না যে উনি নাটক করছেন। আমি উনার চোখে আমার জন্য ভালোবাসা দেখেছি। হয়তো সত্যি সত্যি উনি আমাকে ভালোবাসেন।

নিধি:- ভালো হলে তো ভালোই হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা উনি তোর কাজিন। তোরা একে অপরকে ছোট থেকেই চিনিস।

আরুহি:- হুম, কিন্তু কাজিন হলেও উনার সাথে আমার ছোট থেকে তেমন দেখা সাক্ষাৎ হতো না বললেই চলে।

আরুহি আর নিধি কথা বলতে বলতে ভার্সিটির গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পিছন থেকে নীলাধ্র, আরুহি কে ডাক দেই। নীলাধ্র র ডাক শুনে নিধি আর আরুহি থেমে যায়।

নিধি, আরুহি কে কানে কানে বলে,

নিধি:- যা তোর আশিক এসেছে।

বলেই হেসে দেই নিধি। আরুহি তাকে চি’ম’টি কে’টে চুপ করতে বলে। ততক্ষণে নীলাধ্র তাদের কাছে চলে এসেছে। নিধি বলে,

নিধি:- আপনারা কথা বলুন ভাইয়া, আমি বরং যায়। আপনাদের মাঝে কাবাব মে হাড্ডি হওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। (হাসতে হাসতে)

নিধি চলে যেতে নীলাধ্র, আরুহি কে জিজ্ঞেস করে,

নীলাধ্র:- তো কি ভাবলেন ম্যাম। আমার জবাব কি আমি এক্ষণই পাবো নাকি দেরি হবে। (মুচকি হেসে)

নীলাধ্র র এমন হাসি দেখে আরুহির হার্টবিট যেনো মিস হয়ে যাচ্ছে। কতটা স্নিগ্ধ ভাবে হাসছে ছেলেটা। অথচ আরুহি বুঝতে ও পারছে না যে তার জন্য ঠিক কি কি অপেক্ষা করছে।

নীলাধ্র:- কি হলো কিছু বল।

আরুহি লজ্জা মিশ্রিত কন্ঠে বলে,

আরুহি:- কি বলবো!!

নীলাধ্র:- যেটা শোনার জন্য এতদিন ধরে তোর পিছনে পরে ছিলাম, সেটাই বলবি।

আরুহি:- এখন না।

আরুহির কথা শুনে মনে মনে নীলাধ্র খুব রা’গ হয়। সে আরুহির এমন হেঁয়ালি পনা সহ্য করতে পারছে না। তবে প্র’তি’শো’ধ নেওয়ার জন্য তো তাকে একটু সহ্য করতেই হবে। নীলাধ্র ঘা’ড় এদিক ওদিক বাকিয়ে রা’গ ক”ন্ট্রো’লে আনার চেষ্টা করে। অনেক ক’ষ্টে সে নিজের রা’গ ক’ন্ট্রো’লে এনে ঠোঁ’টের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে,

নীলাধ্র:- ঠিক আছে এখন বলতে হবে না। ৭ দিন পর ভার্সিটি থেকে স্টাডি ট্যুরে বান্দরবান নিয়ে যাবে। ঐখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর মনের কথা প্রকাশ করার জন্য। ঐখানে গিয়েও নাহয় নিজের মনে কথাটা বলিস।

নীলাধ্র র কথা শুনে আরুহি বলে,

আরুহি:- কিন্তু আমি তো ঐখানে যাবো না।

নীলাধ্র ভ্রু কুঁচকে বলে,

নীলাধ্র:- কেনো যাবি না।

আরুহি:- আমার ট্যুরে যাওয়া একদমই পছন্দ না তাই আমি যাচ্ছি না।

বলেই আরুহি চলে যেতে নেবে তখন নীলাধ্র খপ করে আরুহির বাঁ হাতের বাহু ধরে টে’নে নিজের সামনে দাড় করাই। নীলাধ্র, আরুহির বাহু খুব জোরেই চে”পে ধরেছে। যেনো সে তার সমস্ত রা’গ এখানেই তুলছে। আরুহির এতে খুব ব্যা”থা লাগে তাই সে মৃদু চি’ৎ’কা’র করে উঠে। এতে নীলাধ্র হকচকিয়ে যায়।

নীলাধ্র:- কি হলো আরু চি’ৎ’কা’র করছিস কেনো??

আরুহি:- উফ্ বাবা। এতো জোরে চে”পে ধরেছেন কেনো হাতটা। ছাড়ুন আমার হাত, প্রচুর লাগছে। আপনার হাত নাকি পাথর!!

আরুহির কথা শুনে নীলাধ্র তাড়াতাড়ি ওর হাতটা ছেড়ে দেই। আর ও বুঝতে পারে যে ও ঠিক কি করতে যাচ্ছিল। ও যদি আরুহির সাথে আগের মতো ব্যবহার করে তাহলে তো আরুহি তাকে আর বিশ্বাস করবে না। হাত ছেড়ে দিয়েই নীলাধ্র বলে,

নীলাধ্র:- কেনো যাবি না বলতো আরু। প্লিজ চল না। আমি তোকে রিকুয়েস্ট করছি তাও তুই যাবি না। প্লিজ চল আরু প্লিজ প্লিজ প্লিজ।

আরুহি:- আমি যাবো না আমার ভালো লাগে না তো ট্যুরে যেতে।

নীলাধ্র শান্ত মাথায় অনেক বলার পর আরুহি রাজি হয় যেতে। এরপর আরুহি চলে যায় নিজের ক্লাসে।
,,,,,,,,,,,,,,,,

দেখতে দেখতে ট্যুরে যাওয়ার দিন ও চলে আসে। এই কয়দিন নীলাধ্র প্রায় আরুহির সাথেই চি’প’কে চি’প’কে থেকেছে।

আরুহি যেখানেই যেতো নীলাধ্র ও সেখানেই চলে যেতো। আরুহির কোনো অসুবিধা হলেই দিন নেই রাত নেই ছুট্টে চলে গিয়েছে তার কাছে। এক কথাই সে উঠে পড়ে লেগেছে আরুহি কে এটা প্রমাণ করতে যে সে সত্যি সত্যি আরুহি কে খুব ভালোবাসে।

আরুহির বিশ্বাস অর্জন করা টা এতটাও সহজ ছিলো না নীলাধ্র র কাছে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সে আরুহির প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রমাণ করেছে। তবে আরুহি এখনো সম্পূর্ণ ভাবে তাকে বিশ্বাস করে উঠতে পারে নি। তার মন বলছে নীলাধ্র কে বিশ্বাস করতে আর তার মস্তিষ্ক বলছে নীলাধ্র কে বিশ্বাস না করতে। আরুহি একরকম দোটানায় ভুগছে।

তবে নীলাধ্র র ভাষ্য মতে সে আরুহির প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করার জন্য যা যা করছে সবই তার সাজানো নাটক। আসলেই কি এই সবই নাটক!! আরুহির প্রতি এত কেয়ার, এত ভালোবাসা সবই কি তার নাটকের অংশ!!

আরুহির সাথে এই কদিন থাকতে থাকতে আরুহির প্রতি নীলাধ্র র একটু ও কি মায়া জন্মায়নি! একটু ও কি ভালোবাসেনি সে আরুহি কে!

হয়তো বেসেছে তবে তার প্র’তি’শো’ধের আ’গু’ন এতটাই প্রখর যে তার মনের কোণে আরুহির প্রতি যেটুকু ভালোবাসা জন্মেছে সেই টুকু হয়তো খুবই নগন্য।
,,,,,,,,,,,,,,

আরুহি আর নিধি নিজেদের জিনিস পত্র নিয়ে বাসে উঠে পড়ে। আরুহি নিজের সিট খুঁজছে। তখনই একদম পিছনের সিটের আগের সিট থেকে নীলাধ্র হাত উঁচু করে আরুহি কে ডাক দেই। আরুহি সেখানে যায়। এরপর সিট নম্বর দেখে।

হ্যাঁ নীলাধ্র র পাশের সিট টাই তার। আরুহি চুপ করে গিয়ে নীলাধ্র র পাশের সিটে বসে পড়ে। বাস চলতে শুরু করে দিয়েছে। আরুহির সিটটা জানালার পাশে তাই আরুহি জানালা টা একটু খুলে দিয়ে বাইরে মুখ বের করে।

তখনই নীলাধ্র ধ’ম’ক দিয়ে আরুহির হাত ধরে টে’নে নিজের বুকে ফেলে আর দুই হাত দিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে বলে,

নীলাধ্র:- পা’গ’ল হয়ে গিয়েছিস। এইভাবে কেউ জানালা দিয়ে মাথা বের করে। এমনিতেই প্রচুর জ্যাম এখানে। আর জানিস ই তো এখানে গাড়ি গুলো কিভাবে চলে। আরেকটা বাস এসে তোর মাথা কে’টে দিয়ে চলে যাবে। আর তার ওপর এই জায়গাই খুব ছিনতাই ও হয়। জানালা টা লাগিয়ে দে। নাহলে জানালা দিয়েই তোর জিনিস পত্র চুরি হয়ে যাবে।

নীলাধ্র র এইভাবে জ’ড়ি’য়ে ধরায় আরুহির হার্টবিট বেড়ে যায় সাথে নীলাধ্র র ও। আরুহি কে এই ভাবে জ’ড়ি’য়ে ধরাই কেনো জানি নীলাধ্র র অনেক শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে সারাজীবন এইভাবেই তাকে জ’ড়ি’য়ে ধরে রাখতে কিন্তু পর মুহূর্তেই তার মস্তিষ্ক তাকে জানান দেই প্র’তি’শো’ধে’র কথা তাই সে আরুহি কে ছেড়ে দিয়ে বলে,

নীলাধ্র:- জানালাটা আটকিয়ে দে।

আরুহি ও নীলাধ্র র কথা মতো জানালা আটকিয়ে দেই। এরপর সিটে হেলান দিয়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি পাত করে আরুহি। প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতেই পারে নি।

ঘুমের ঘরে মাথাটা তার হেলে পড়ে নীলাধ্র র কাঁধে। নীলাধ্র ফোন স্ক্রল করছিল। কাঁধে কিছুর উপস্থিতি টের পেতেই তৎক্ষণাৎ তাকাই সেদিকে।

আর দেখতে পাই আরুহির নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখখানা। এক সেকেন্ডের জন্য নীলাধ্র সেই নিষ্পাপ চেহারা ঘোরে আটকে যায়। তার ঘোর কা’টে ফোনের নোটিফিকেশনের আওয়াজে।

নীলাধ্র র মস্তিষ্ক আবার তাকে মনে করিয়ে দেই যে তাকে প্র’তি’শো’ধ নিতে হবে। এই মেয়ের মায়ায় পড়লে তার চলবে না। সে ও বুঝতে পারছে যে সে ধীরে ধীরে আরুহির মায়ায় আটকা পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু মন কে এটা বোঝাচ্ছে যে সে আরুহি কে ভালোবাসে না। সে যা যা করছে সব কিছুই নাটক।

তবে মনতো মনই। তাকে কি আর বুঝিয়ে পরিয়ে রাখা যায়। মস্তিষ্ক কে বোঝানো গেলেও মনকে বোঝানো বড় কঠিন। আমরা অনেক সময় নিজেদের মস্তিষ্কের কথা শুনি। মনের কথাকে পাত্তাও দেইনা, ফল স্বরূপ আমরা ভুল করে বসি। অথচ আমাদের মন সঠিক কথাটাই বলে।

নীলাধ্র র ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। তার মন তাকে বার বার জানান দিচ্ছে যে সে আরুহি কে ভালোবাসে কিন্তু তার মস্তিষ্ক সেটা মানতে নারাজ।
,,,,,,,,,,,,

দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা জার্নি করে তারা পৌঁছায় বান্দরবান। রাস্তায় জ্যাম থাকায় পৌছাতে তাদের দেরি হয়ে গিয়েছে। বান্দরবান পৌঁছিয়েই সবাইর রূম ঠিক করে দেওয়া হয়। প্রত্যেক রুমে চার জন করে থাকবে।

১২ ঘণ্টা জার্নি করে আরুহির একদম খা”রা’প অবস্থা। সে আগে কখনোই লম্বা জার্নি করেনি। এতো ক্ষণ বসে থাকার ফলে পা ব্য’থা হয়ে গিয়েছে। হাঁটতেও পারছে না ঠিক মতো।

নিধি ওকে ধরে ওদের রুমে নিয়ে যায়। ওরা ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছিল সকাল ৭ টাই আর পৌঁছিয়েছে ৭:৩০ টাই। ৩০ মিনিট লেগেছে হোটেলে পৌঁছাতে। রাতের ডিনার করে যে যার রুমে চলে গিয়েছে ঘুমানোর জন্য।

এখানে তারা ৩, ৪ দিন মতো থাকবে। এরপর ট্যুর শেষ করে ফিরে যাবে। কালকে সকালে তারা বের হবে এখানের সব পর্যটক জায়গা গুলো দেখার জন্য।
,,,,,,,,,,,,,

সকাল ৭ টা বাজার সাথে সাথেই সকলে নাস্তা করে বের হওয়ার জন্য রেডি হতে লাগে। আজকে সবাই নীলগিরি তে যাবে। সেখানে আজকে তারা বেশ কিছু জায়গা ঘুরে দেখবে। এই যেমন:- ভিউ পয়েন্ট, কুয়াশার ল্যান্ডস্কেপ, Hanging Bridge, পাহাড়ি রিজ ও ট্রেইল আরো কিছু জায়গা।

চলবে………

ভুল ত্রুটি গুলোকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments