লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা
পর্ব:০৬
রিক্তা রিতুকে নিয়ে বাড়ি চলে আসে।
এসে ফ্রেশ হয়ে গেঞ্জি আর পেলাজু পরে নেয়। হাটু অবদ্ধ চুল গুলো ছেড়ে রেখেছে।
রিক্তা বেশির ভাগ সময় গেঞ্জি আর পেলাজু পরে।
নিচে থেকে সানজিদা আহমেদ বলেন –
~ ~ এদিকে আয় রিক্তা মা।
রিক্তাও নিচে নেমে আসে সানজিদা আহমেদের কাছে।
সানজিদা আহমেদ পরম যত্নে রিক্তার চুল শুকিয়ে মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে –
~ ~ কি অবস্থা করে রেখেছিস চুলের?
রিক্তা হেসে বলে –
~ ~ বড় আম্মু তুমি আছো না।
সোহেল আহামেদ আর সৈয়দ আহামেদ বাড়ি আসে।
রিক্তা দুজনের জন্য পানি এনে দেয়।
সৈয়দ আহামেদ বলেন –
~ ~ তোমার পড়াশোনার কি খবর মা?
রিক্তা হেসে উওর দিল –
~ ~ ভালো আব্বু।
সোহেল আহামেদ বললেন –
~ ~ মন দিয়ে পড়াশোনা করো মা।
রিক্তা বলে –
~ ~ দোয়া করবেন বড় আব্বু ।
আর কিছুক্ষণ কথা বলে রিক্তা চলে যায়।
রাতে খাবার টেবিলে সবাই বসে খাবার খাচ্ছে।
রাহাদ রিক্তাকে বলে –
~ ~ বোনু তোকে ফুপ্পি ফোন করেছে।
রিক্তা না সূচক মাথা নাড়ায় –
~ ~ কেনো ভাইয়া কিছু হয়েছে?
রাহাদ বলে –
~ ~ তেমন কিছু না শিখার শরীর টা একটু খারাপ। তাই তোকে শিখা ও বাড়িতে যেতে বলেছে।
সোহেল আহামেদ বললেন –
~ ~ কি বলো,কি হয়েছে?
রাহাদ বলে –
~ ~ আব্বু জর উঠেছে। আর কিছু না।
সোহেল আহামেদ বললেন –
~ ~ কাল রিক্তা রিতুকে দিয়ে এসো ও বাড়িতে।
রাহাদ হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানায়।
রাতের খাবার শেষ যে যার রুমে চলে যায়।
—
রিক্তা সকাল সকাল উঠে তৈরি হয়ে নিয়েছে শিখাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য। রিতুকে ডাকতে গেল। দেখে রিতু এখনো ঘুমাচ্ছে।
রিক্তা বিরক্ত হয়ে বলে –
~ ~ রিতু উঠ ভাইয়া অপেক্ষা করছে। তারাতাড়ি উঠ।
রিতু ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে –
~ আপু আরেকটু ঘুমাতে দাও প্লিজ।
রিক্তা রাগ দেখিয়ে বলে –
~ ~ ৫ মিনিটের ভিতরে উঠে তৈরি হ।
এই বলে সে চলে যায়।
রিতু উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তৈরি হয়ে নিচে নামে।
রাহাদ বাহিরে গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে –
~ ~ কি রে তোরা কই? আমার দেড়ি হচ্ছে তো।
রিক্তা চেচিয়ে বল –
~ ~ আসছি ভাইয়া।
রিক্তা রিতু সবার থেকে বিদায় নিয়ে। রাহাদের সাথে বেড়িয়ে যায়। ২ টা রিকশা নিয়েছে।
রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ ভাইয়া তুমি তো গাড়ি করে গেলে হতো আমার কারনে কেন তুমি রিকশায় এলে?
রাহাদ সান্ত কন্ঠে বলে –
~ ~ চল আজ তোর সাথে রিকশায় করে ভ্রমণ করি।
রিক্তা মুচকি হাসে।
কিছুক্ষণের মধ্যে ওরা খান বাড়ির সামনে এসে পরেছে। রিক্তা রিকশা থেকে নামতেই শিখা দৌড়ে এসে বলে –
~ ~ এসেছো জান আমার।
রিক্তাও বলে –
~ ~ হুম বেবি। তোমার অসুস্থের কথা শুনেও আমি আসবো না। এরকম বান্ধবী আমি না।
রিতু রাহাদের সাথে ভিতরে ডুকতে ডুকতে বলে –
~ ~ তোমার ডং শেষ হলে ভিতরে এসো কেমন!
রিক্তা ভেংচি কেটে বলে –
~ ~ এখন সয্য হচ্ছে না। বুঝি বুঝি সবই বুঝি।
শিখা রিক্তাও ভিতরে যায়।
তখন বসার রুমে শুভ আর মিলি ছিল।
রিক্তাকে দেখে মিলি শুভর কাছে বসার চেষ্টা করছে আর শুভ সরে যাচ্ছে।
এসব দেখে রিক্তা বলে –
~ ~ মানুষ কারনে শুধু শুধু গায় ঢলে পড়ে। কে যানে।
এই বলে৷ রিক্তা রান্না ঘরে যায় আকলিমা খান আর তার ছোট যা আয়েশা খানের কাছে রিক্তা রান্না ঘরে ডুকেই আকলিমা খান কে জরিয়ে দরে বলে –
~ ~ কি করছো ফুপ্পি?
আকলিমা খান হাসি মুখে বলে –
~ ~ রান্না করছি। তুই গিয়ে সোফায় বস।
রিক্তা জানতে চাইলো –
~ ~ ভাবি কই?
আয়েশা খান হেসে বলে –
~ ~ রুমে আছে মেয়েকে নিয়ে।
রিক্তা রুমের উদেশ্য যেতে থাকে। রুমের দরজার কিছু অংশ খুলে মাথা ডুকিয়ে বলে–
~ ~ ভাবি।
সিনথিয়া অবাক হয়ে বলে –
~ ~ তুমি এখানে রিক্তা?
রিক্তা ভিতরে ডুকে চেয়ারে বসতে বসতে বলে –
~ ~ হুম আসলাম শিখার জ্বরের খবর শুনে।
সিনথিয়া হেসে বলে –
~ ~ ভালোই হয়েছে। আমার ছোট দেবার টার আর আমাকে জালাবে না।
রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ মানে?
সিনথিয়া হেসে বলে –
~ মানে। বউ এসে পড়েছে এখন ভাবি দিয়ে কি করবে?
রিক্তা লাজুক হেসে উওর দেয় –
~ ~ কি যে বলো ভাবি?
রিক্তা সুফিয়ার গাল টেনে বলে –
~ ~ কেমন আছো বুড়ি?
সুফিয়া হেসে আদো আদো কন্ঠে বলে –
~ ভালো আতি মিতি ফুপি।
রিক্তাও হেসে বলে –
~ ওরে আমার পাখি রে
রিক্তা সুফিয়াকে কোলে নিয়ে গালে চুমু দেয়।
সুফিয়াও চুমু দেয়।
—
বিকেলের দিকে রিক্তা শিখা রিতু আর সিনথিয়া ভাবি ছাদে বসে গল্প করছে।
তখন মিলি সেখানে যোগ দিল।
মিলিকে দেখে রিক্তা বিরক্তি নিয়ে বিড়বিড় করে বলে –
~ ~ আসছে কুটনি।
মিলি শিখাকে মিষ্টি করে বলে –
~ ~ শিখা তোমার ভাই কই?
শিখাও হেসে বলে –
~ ~ মিলি আপু আমার কোলে নিয়ে বসে আছি ভাইয়াকে তুমি দেখছো না।
মিলি একটু সরম পেল শিখার এমন কথায় –
~ ~ না মানে দেখেছো?
শিখা সোজা উওর –
~ ~ জানি না।
মিলি রিক্তা কে বলে –
~ ~ তুমি দেখছো?
রিক্তাও ভাব নিয়ে বলে –
~ মনে হয় আমার আঁচলের নিচে।
মিলি বিরক্ত হয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
সিনথিয়া হেসে বলে –
~ ~ তোমরা ওর সাথে এরকম আচরণ করো কেন?
রিক্তা বলে –
~ ~ আরে করতে হয়। সে টা বুঝবে না তুমি।
আজানের আগে সবাই নিচে নেমে আসে।
রিক্তা রুমে গিয়ে রাহাদকে ফোন করে –
~হ্যালো ভাইয়া
রাহাদ ওপাশ থেকে বলল –
~ ~ হুম বল বোনু।
রিক্তা বলল –
~ ~ ভাইয়া আমার মিনি কে বাড়ি রেখে আসছি ওকে একটু দিয়ে যেতে পারবে?
রাহাদ বলল –
~ ~ আচ্ছা। আর কিছুর প্রয়োজন?
রিক্তা আমতা আমতা করে বলে –
~ ~ হ্যাঁ..
রাহাদ বলল –
~ ~ কি লাগবে?
রিক্তা আমতা আমতা করে বলে –
~ ~ আমার কেন্ডি শেষ। প্লিজ একটু এনে দিবে?
রাহাদ রিক্তার কথায় হেসে বলে –
~ ~ তুই আর বড় হলি না রে রিক্তা। আচ্ছা দেখি শুভ ভাইয়াকে দিয়ে পাঠিয়ে দিবো। আমার সময় হবে না রে ওদিক যাওয়ার।
রিক্তা হেসে উওর দেয় –
~ ~ আচ্ছা ভাইয়া।
রিক্তা ফোন কেটে নিচে হল রুমে চলে আসে। সবার সাথে গল্পে মতে উঠে।
আকলিমা খান এবং তা যা আয়েশা খান এবং সিনথিয়া চলে যায়। কারন তাদের স্বামী এসেছে।
এনিশা খান রিক্তাকে বলে –
~ ~ কি রে নাত বউ তোর স্বামী আসবে না?
রিক্তা হেসে উওর দেয় –
~ ~ আসবে আসবে। আর নাত বউ নাত বউ করো না যদি মিলি আপু শুনে তাহলে রেগে বোম হয়ে যাবে।
এনিশা খান ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ কেনো রে?
শিখা হেসে বলে –
~ ~ মনে হয় দাদিজান আপু ভাইয়া কে পছন্দ করে।
এনিশা খান বিরবির করে বলে –
~ ~ পছন্দ করলে লাভ নেই এই আবরাহাম খান শুভ অন্য কারো মালিকানায় বন্ধী। তার নামের পাশে অন্য কারো নাম আছে।
রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ ও দাদি কোথায় হারিয়ে গেলে।
এনিশা খান হেসে বলে –
~ ~ না না কোথাও না।
কিছুক্ষণ গল্প করার পর রিক্তা ঘড়ি দেখে বলে –
~ ~ দাদি আপনি আর শিখা উঠুন।
শিখা ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ উঠবো মানে কোথায় উঠবো?
রিক্তা কোমরে হাত দিয়ে বলে –
~ ~ আপনাদের ঔষধের সময় হয়েছে। এবার উঠে খেয়ে ঔষধ খেয়ে নিবেন।
এনিশা খান মলিন হেসে বলে –
~ ~ এই যে বাড়িতে আসতে না আসতেই শাসন শুরু।
রিক্তা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ে।
দুজনকে খাবার টেবিলে এনে বসায়।
খাবার টেবিলে শুভ ছাড়া সবাই উপস্থিত।
সাব্বির বলে –
~ ~ বোন তুমি খাবে না?
রিক্তা মিষ্টি হেসে বলে –
~ ~ অবশ্যই। আপনারা খেয়ে উঠুন তারপর আমি খাবো নি।
সিনথিয়া চোখের ইশারায় রিক্তাকে বলে –
~ ~ দেবোরের সাথে খাবে তাই না?
রিক্তাও হ্যাঁ,সূচক মাথা নাড়ে।
সিনথিয়া মুচকি হাসে।
এনিশা খান সহসা বলে ফেলে –
~ ~ ওকে কেউ জোর করো না। ও শুভর সাথে খাবে।
এনিশা খানের এমন কথায় মিলি রেগে বোম হয়ে থাকে।
সবাই এই কথায় এতো একটা পাত্তা দিলো না।
সবার সামনে এই কথা বলায় রিক্তা লজ্জা নিজের রুমে চলে যায়।
মিলি খাবার প্লেট ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে পরে।
সাব্বির ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ তোর কি হলো.
মিলি রাগ দেখিয়ে বলে –
~ ~ খেতে ইচ্ছে করছে না।
এই বলে গটগট পায় রুমে চলে যায়।
এটা নিয়ে কেউ মাথা গামালো না কারন মিলি প্রায় এরকম করে।
রাত ১১ টা
রিক্তা বারান্দায় দাঁড়িয়ে শুভর অপেক্ষা করছে। হঠাৎ গাড়ির আওয়াজে। দৌড়ে নিচে গিয়ে দরজা খুলে বাহিরে দাড়িয়ে থাকে।
শুভ গাড়ি পার্ক করে নেমে আসতে রিক্তা ছুটে যায় তার কাছের।
এতো রাতে রিক্তাকে বাহিরে দেখে শুভ ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ কিরে এতো রাতে বাহিরে কেন?
রিক্তা উজ্জ্বল মুখে বলে –
~ ~ আমার মিনি কই,? আমার মেয়ে কে এনেছেন?
শুভ ভ্রু কুঁচকে বলে –
~ ~ কিহ? একটা বিড়াল তোর মেয়ে? তোর কি আমায় দেখে বিড়াল মনে হয়? যে আমি তোকে বাচ্চা হিসেবে একটা বিড়াল গিফট করবো?
রিক্তা ভ্রু কিনছি করে বলে –
~ ~ আপনি কেন বাচ্চা দিতে যাবেন? আপনি কি বলেন সোজা সোজা বলতে পারেন না?
শুভ নিজেকে শক্ত করে হাতের ইশারা দেখিয়ে দিল মিনি কে।
রিক্তা হাতের ইশারার দিকে তাকিয়ে ছুটে গেলো সে দিকে।
গাড়ির ভিতর বসে আছে মিনি।
রিক্তা মিনি কে কোলে নিয়ে আদর করতে করতে বলে –
~ ~ আমার বাবু। তোকে খুব মিস করেছি।
রিক্তা শুভর দিকে এগোচ্ছ। শুভ চিৎকার দিয়ে বলে–
~ ~ খবরদার রিক্তা বিড়াল নিয়ে আমার কাছে আসবি না।
রিক্তা শুভর কথা শুনে তার দিকে এগতে এগতে বলে –
~ ~ কেন? বিড়াল না ও মিনি।আর মিনি আপনাকে কি করবে?
শুভ দাতে দাত চেপে বলে –
~ ~ না করেছি না। আমার বিড়াল ভয় লাগে আর বিড়ালে এলার্জি আছে।
শুভর ভয় লাগে কথা শুনে রিক্তা হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা হয়ে যাওয়া উপক্রম।নিজেকে সামলে নিয়ে বলে –
~ ~ আচ্ছা যাবো না। আমার কেন্ডি কই?
শুভ রিক্তার থেকে দূরে দাড়িয়ে বলে –
~ ~ তোর বাচ্চাকে রেখে আমার রুমে আস দিচ্ছি।
এই বলে সে ভিতরে চলে যায়
রিক্তা মিনিকে কোলে নিয়ে সিঁড়ি ভাঙে হাসতে হাসতে যাচ্ছে।
ওর মুখে একরাশ খুশি। শুভ একবার পিছন ফিরে রিক্তাকে দেখলো। সামনে ফিরে মুচকি হাসলো।
রিক্তা বারবার মিনিকে আদর করতে করতে বলছে –
~ ~ আমার মিনি। আমার মেয়ে তোকে খুব মিস করেছি মাম্মাম।
শুভ দরজা খুলে রুমে ঢুকতেই রিক্তা পেছন পেছন ভেতরে ঢুকল।
শুভ পিছনে ঘুরে ভ্রু কুঁচকে বলল –
~ ~ বিড়ালটা বাইরে রেখে আয়। আমার সামনে আনবি না।
রিক্তা ভ্রু টেনে হেসে বলল –
~ ~ আহা! আপনি কতো ভয় পান! আমার মেয়ে আপনাকে কিছু করবে না।
শুভ বিরক্ত হয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল –
~ ~ রিক্তা, আমি সিরিয়াস।
রিক্তা মিনিকে বাহিরে দাড় করিয়ে সে ভিতর ডুকে বলল –
~ ~ আচ্ছা , রাখলাম। এখন দেন আমার কেন্ডি।
শুভ আলমারি থেকে একটা প্যাকেট এনে তার দিকে ছুঁড়ে দিল –
~ এই নে, খুশি?
রিক্তা প্যাকেটটা বুকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো খুশি হয়ে বলল –
~ ~ ইয়েস! আমার কেন্ডি!
শুভ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
রিক্তার হাসিতে অজান্তেই শুভর ঠোঁটে ম্লান একটা হাসি ফুটে উঠল।
রিক্তা সেটা দেখে ফেলল।
চোখ কুঁচকে বলল –
~ ~ ওহহ, মিস্টার সিরিয়াস খান, আপনি হাসলেন?
শুভ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল –
~ ~ বাজে কথা বলিস না পিচ্চি।
রিক্তা হেসে খিলখিল করে উঠল –
~ ~ জানেন, আপনি যত গম্ভীর হন, আমার কাছে তত মিষ্টি লাগে।
রিক্তা তারাতাড়ি মুখ ধরে ফেললো। খুশির চোটে কি থেকে কি বলে ফেলেছে
শুভ চুপ করে গেল।
ওর চোখে এক ঝলক দ্বিধা, আবার অন্যদিকে একটা কোমলতা।
এমন সময় দরজায় টোকা।
মিলির কণ্ঠ –
~ ~ শুভ ভাইয়া ,?
রিক্তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
সে তাড়াতাড়ি মিনিকে কোলে নিয়ে পাশে সরল।
মিলি ভেতরে এল। রিক্তার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল –
~ ~ তুমি আবার এখানে?
রিক্তা ঠোঁটে ম্লান হাসি এনে বলল –
~ ~ আমার জিনিস নিতে এসেছি।
মিলি তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল শুভর দিকে।
~ এই ভাজে মেয়ে তোমার রুমে কেনো ?
শুভ বিরক্ত হয়ে বলল –
~ ~ মিলি বাজে কথা না বলে কেনো এসেছিস সেটা বল
রিক্তা কিছু না বলে মিনিকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
তবে বের হওয়ার আগে একবার শুভর চোখের দিকে তাকাল।
সেই চোখে অদ্ভুত এক টান, অজানা এক গল্প লুকিয়ে ছিল…
রিক্তা মিনিকে কোলে নিয়ে রুম থেকে বের হলো।
মিলির চোখে তখন অদ্ভুত রাগ। শুভ কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু মিলি ঘুরে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল তার দিকে।
~ ~ ভাইয়া তুমি কি সত্যিই বুঝতে পারছো না, নাকি বুঝেও না–বুঝার ভান করছো?
শুভ ভ্রু কুঁচকে –
~ ~ কি বলতে চাইছিস মিলি?
মিলি তীক্ষ্ণ গলায় –
~ ~ ওই মেয়ে… ওই রিক্তা। সে বারবার তোমার আশেপাশে কেন?
শুভ বিরক্ত স্বরে –
~ ~ মিলি, প্লিজ। তাকে নিয়ে বাজে কথা বলিস না।
মিলি তেতে উঠে –
~ ~ কেনো? কে হয় তোমার?
শুভ রুম থেকে যেতে যেতে বলল –
~ ~ মনে রেখিস… ও আমার জীবনে খুব বিশেষ একজন । একদিন বুঝবি।
মিলির রাগে গা রি রি করছে সেটা সে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে ন।
চলবে………