লেখিকা:জান্নাত রাহমান হৃদি
পর্ব:৫
(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
উত্তরের হাওয়া বইছে। শীত ও পড়ছে ভীষন। শুভ্রতা কলেজে যাওয়ার জন্য রেডী হচ্ছে। হুট করে মনে আসলো আজ কোচিংয়ের টাকা দিতে হবে। শুভ্রতা মায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। অকপটে বলল “ আম্মু আমার কোচিংয়ের টাকা দিতে হবে আজ। মাস হয়ে গেছে।”
“কত টাকা?”
“১৫০০ টাকা।”
“মেহরিন আলফা ব্যাগ খুলে দেখেন পাঁচশ টাকার একটা নোট পরে আছে শুধু। টাকাটা শুভ্রতার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলললেন, “আপদত এটাই আছে। তুমি এক কাজ করো, চারতলার ভাড়াটিয়ার কাছে যাও। দেখো এই মাসের বাড়ি ভাড়া টা দেয় কিনা।”
শুভ্রতা সিঁড়ি পেরিয়ে চারতলার ফ্লাটের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। কিছুক্ষন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে অবশেষে কলিংবেল চাপল। মিনিট দেড় পরে খট করে দরজাটা খুলে যায়। ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। শুভ্রতা সালাম দিলো। ভদ্রলোক সালামের উত্তর দিয়ে জিগ্যেস করলেন,
“কিছু বলবে শুভ্রতা?”
“জ্বী আংকেল, বাড়ি ভাড়া টাকা টা দিতে বলেছে আম্মু, ইমার্জেন্সী।”
লোকটা পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা গুনে শুভ্রতার হাতে দিতেই শুভ্রতা টাকা টা ব্যাগে ডুকিয়ে হাটা ধরেল। ভদ্রলোক পিছু ডেকে বললেন, “ শোনো শুভ্রতা এত ছেলে বন্ধু নিয়ে চলাফেরা করা ভালো না।”
শুভ্রতা পিছু মুড়ল। মিষ্টি হেসে বললো, “আগে ঘর সামলান আংকেল। পুনরায় বলল, আসছি আমি, কলেজের টাইম হয়ে যাচ্ছে। আমাকে নিয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে আমার বাবার কাছেও বলতে পারেন, সমস্যা নেই।”লোকটার পরবর্তী কথা শোনার আগ্রহ শুভ্রতার মধ্যে মোটেই দেখা গেলো না। সে দ্রুত বাসা থেকে বের হলো। মৌমিতার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে মৌমিতাকে ফোন লাগাল। রিং বাঁজছে, কিন্ত কল ধরছে না। শুভ্রতা অপেক্ষা করতে লাগল। কিঞ্চিত পরেই মৌমিতাকে দেখা যায়।
__
কুয়াশা ঘেরা সকালের মায়ায় ঢাকা চারপাশ, যেন প্রকৃতির এক নীরব আবরণ। কুয়াশার মধ্য থেকে হেঁটে চলেছে রাফাত। গুনগুন করে আবার গান গাইছে। পাশে কেউ যে পা মিলিয়ে তার সাথে হেঁটে চলেছে সে খেয়ালটুকু নেই তার। গানটুকু শেষ করে পাশে ফিরতেই ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে। “তুমি এখানে কেনো ইরা?”
“স্কুলে যাচ্ছি।”
“এত সকালে স্কুল খোলে?”
“এত সকালে কলেজ খোলে?”
আহম্মক হয়ে যায় রাফাত। ভ্রু বাঁকিয়ে জবাব দিলো, “ তুমি মুখে মুখে এত তর্ক করো কিভাবে?”
রেগুলার প্রাকটিস করি। আপনি চাইলে আপনাকেও শেখাতে পারি। শিখবেন? মাসে মাএ পাঁচশ টাকা ফি দিলেই হবে?”
“মাফ করো বইন। আমার তর্ক শেখার দরকার নেই।”
“ঠিক আছে না শিখলে না শিখবেন, কিন্তু বোন ডাকছেন কেনো?”
“তো একটা অপরিচিত একটা মেয়েকে আমি বোন না ডেকে কি ডাকবো বউ?”
“ইচ্ছে করলে ডাকতে পারেন আমি মাইন্ড করবো নাহ।”
“রাফাত ঝটপট উত্তর দিলো
, “ কিন্তু আমার তো বউ আছে। এখন তোমাকে বউ ডাকলে তো বাসায় গিয়ে মাইর খেতে হবেনিশ্চিত।”
“মানে? আপনার বউ আছে?”
রাফাত ফিসফিস করে বলল,
“ হ্যা আছে তো। যেনো মেয়েদের পিছনে না ঘুরি এই জন্য বাবা বিয়ে করিয়ে দিয়েছেন তাড়াতাড়ি। পুনরায় বলল,“ইটস সিক্রেট তুমি আবার কাউকে বলো না হ্যা।”
কথাটা শেষ করে শীষ বাঁজাতে বাঁজাতে হাঁটা ধরল রাফাত। ইরা নিজেকে ধাতস্হ করে দৌড়ে এসে রাফাতের সামনে দাঁড়াল রাফাত ভ্রু উচিয়ে বলল, মিথ্যা বলছেন?”
“কি?”
“চেষ্টা ভালো ছিলো কিন্তু সফল হননি।”
রাফাত বিরক্তি স্বরে জিগ্যেস করল,
“আমার কাছে আসলে কি চাও তুমি?”
আপনার কাছে আপনাকেই চাই, বলে হাত বাড়িয়ে দেয় ইরা। দেন আপনাকে।
“রাফাতকে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় না মেয়ে। তার জন্য সাধনা করতে হয়। সাইড দেও কোচিং এর দেরী হয়ে যাচ্ছে আমার।”
___
আজকে কোচিং এ ডুকতে সবারই দেরী হয়ে গেছে। কোচিং শেষে আবার ক্লাসে যেতে হবে। শুভ্রতার চোখে ঘুম। স্যার পড়াচ্ছেন অথচ শুভ্রতা টেবিলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। নজরুল স্যার পড়াতে পড়াতে শুভ্রতার দিকে নজর যায় তার। বজ্রকন্ঠে বলেন,,
“শুভ্রতা।”
শুভ্রতা লাফিয়ে ওঠে। ক্লাসের সবাই তাকিয়ে আছে ওর দিকে। স্যার সামনে হাতদুটো ভাজ করে দাঁড়ান। “কি পড়াচ্ছিলাম?”
“ভয়েস চেন্জ স্যার।”
“বলো।”
“এখন মনে পড়ছে না স্যার কাল বলবো।”
নজরুল স্যার চোখ গরম করে তাকান। শুভ্রতার পাশে থাকা মৌমিতাকে বলেন, “এই মৌমিতা তুমি বলো।”
শুভ্রতা চিমটি কাটে মৌমিতাকে। মানে তুই বললে খবর আছে তোর। মৌমিতা চুপ করে যায়। হাই তুলে বলল, “আমিও পারিনা স্যার।”
নজরুল স্যার একে একে আয়াত, তাহিব, রাফাত, ফয়সাল, মালিহা সবাইকে দাঁড় করায়। উত্তর একটাই আসে “পারিনা স্যার।”
“নজরুল স্যার তীক্ষ্ণ নজরে সবার দিকে তাকান। চড়া মেজাজ নিয়ে বলেন, “আপদত ক্লাস থেকে বের হও তোমরা। ক্লাস শেষ করে কথা বলবো তোমাদের সাথে। ততক্ষণ অব্দি বাহিরে ওয়েট করবে সবাই।”
সবাই সমস্বরে মাথা নাড়িয়ে ক্লাশ রুম থেকে বের হয়ে যায়। স্যার যে ওদের বাহিরে ওয়েট করতে বলেছে সে খেয়াল বান্দাদের নেই। তারা প্লানিং করছে কোথায় যাওয়া যায়। আশিক শুভ্রতার দিকে তাকিয়ে বলল, রাজবাড়ি যাবি?”
শুভ্রতা উচ্ছাস নিয়ে বলল, “হ্যা চল। পরমূহুর্তে মুখটাকে মলিন করে বলল, “কিন্তু শাড়ি পরিনি তো। আগে বলতি শাড়ি পরে আসতাম।
তাহিব বিরক্তস্বরে বলল,
, “মাইয়া মানুষ নিয়া এই এক জ্বালা। তোরা যাবি ঘুরতে, তা না করে সেখানে গিয়ে চিল্লাবে ভিডিও করে দে। ছবি তুলে দে। মনে হয় আমরা ওদের কামলা।”
“মনে হয় যেনো তোরা ছবি তুলিস না?”
আশিক ঠোঁট গোল করে বলল
“ তুলি না তো! আমার প্রোফাইল দেখিছিস? সেই দুবছর আগের পিকচার জুলানো এখনো। শুভ্রতা আর মৌমিতার দিকে আঙুল তাক করে বলল, “আর তোরা দুইটায় প্রত্যেক সপ্তাহে প্রোফাইল চেন্জ করিস। দিনে একশ দিস স্টোরি। আর ঐ দেখ মালিহা,সে তো একটা টিকটকার। তোদের সাথে চলাফেরা করতেও আজকাল ভয় লাগে। কখন আবার মানুষজন পিছন থেকে ডেকে বলে ঐ দেখো টিকটকারের বন্ধু যাচ্ছে। ছ্যাহ।”
“মালিহা ক্ষেপে উঠে বলল,
“তাও তো ভালো আছি। তোর মতো আজ এর সাথে ডেটিং। কাল ওর সাথে ডেটিং মারিনা। কতবড় ছ্যাছড়া গার্লফ্রেন্ডের কাছ থেকে আবার সিগারেট নেয়।”
“ফয়সাল এতক্ষণ ধরে শুনছিলো। এই তোরা থামবি? যেতে চাইলে চল। না যেতে চাইলে বাসায় গিয়ে ঘুমা।”
“সবাই যাওয়ার কথা বললেও শুভ্রতা এবার বেঁকে বসে। সে যাবে না। আশিক খোটা কেনো দিলো।”
“ফয়সাল দায়সারা ভাবে জবাব দিলো,
, শুভ্রতা ডং কমিয়ে করা শুরু কর। মাঝেমাঝে তোদের সবকটাকে দুগালে চড়াতে মন চায়। স্কুলের বাচ্চাদের মতো আজাইরা ঝামেলা সবসময়।”
ফয়সাল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে হাত তুলে একটা সিএনজি থামাল। সিএনজি চালক গাড়ি থামিয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল।
ফয়সাল জিজ্ঞেস করল, “মামা রাজবাড়ি যাবেন?”
চালক মাথা কাত করে বলল, “যাব! আপনারা কয়জন?”
ফয়সাল পেছনে তাকিয়ে বলল, “ আমরা আটজন।”
চালকের চোখে একটু বিস্ময় জাগল। হেসে বলল, সিএনজিতে আটজন তো হবে না।”
ফয়সাল একটু অস্বস্তিতে পড়ল। শুভ্রতাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “ তোরা এইটায় ওঠ! আমরা আর একটা সিএনজি নিয়ে আসছি। শুভ্রতারা চারজন উঠে বসে। ফয়সাল চালককে জিগ্যেস করে, “মামা ভাড়া কত?”
চালক গাল চুলকাতে চুলকাতে বলল,
রাজবাড়ি বেশি দূরে না তবে সকালে একটু ভাড়া বেশি লাগে। একশ দিয়েন।”
ফয়সাল একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে! ওদেরকে নিয়ে যান আপনি। আমরা পিছনে আসছি। আর গাড়ি সাবধানে চালাবেন।”
“চালক মাথা নাড়িয়ে ইন্জিন চালু করল।”
ফয়সালরা আর একটা সিএনজি ডেকে উঠে পরে। আধঘন্টার মধ্যে ওরা রাজবাড়ি পৌছে যায়। শুভ্রতাদের দেখতে পায় রাস্তার সাইডে দাঁড়িয়ে থাকতে। ফয়সালরা আসতেই সবাই মিলে বাড়িটির ভিতরে ঢোকে। দেখতে পায় এক জরাজীর্ণ প্রকান্ড অট্রালিকা। লোহার রেলিংয়ে ঘেরা টানা বরান্দা। জানালার গায়ে রঙীন কাচের শার্ষের কারুকাজ। ছাঁদের উপর দাঁড়িয়ে থাকা গম্ভুজটাকে দেখে শুভ্রতার এক নিমিষে মনে হলো এটা আহসান মন্জিল। কিছুক্ষন ঘুরে ফিরে সবকিছু দেখে ওরা। বেশ কিছু ছবি তোলে রিলস বানায়। প্রায় দুঘণ্টা পর ওরা জমিদার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
__
শুভ্রতা বিকেলের দিকে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ করে ক্লান্ত শরীরে বিছানায় বসে। সারাদিনের ব্যস্ততায় ফোন সাইলেন্ট করে রেখেছিল। ফলে একগাদা মিসড কল স্ক্রিনে জমা হয়ে আছে। সাদমান রাহমান একাধিকবার কল করেছেন। কাব্য ও বেশ ক’বার ফোন দিয়েছিলো। শুভ্রতা বাবার নম্বরে ডায়াল করতে যাবে ঠিক তখনই ফোনটা আবার বেজে ওঠে।
ফোন ধরার সঙ্গে সঙ্গে সাদমান রাহমানের বজ্রকণ্ঠ ভেসে আসে,
“ শুভ্রতা তোমার এই আচরণকে কী বলা উচিত?”
শুভ্রতা বুঝতে পারলো না। অবুঝের মতো বলল,
“তুমি রেগে আছে কেনো বাবা আমি কিছু করেছি?”
“তুমি কোচিংয়ে ক্লাসে অমনযোগী থাকো! পড়া পারোনি, স্যার তোমাকে বাহিরে ওয়েট করতে বলেছেন তা করো নি কেনো?’তুমি অপেক্ষা না করে সোজা কলেজ থেকে বের হয়ে গেলে, এটা কোন ধরনের বেয়াদবি?”
শুভ্রতা হকচকিয়ে বলল,
“সরি বাবা! বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিলাম।”
সাদমান রাহমান এবার আর একটু কঠোর হয়ে বললেন,
“ তোমার এতো বন্ধু-বান্ধব আমি তাদের সাথে চলাফেরা করতে কখনো নিষেধ করেছি? ঘুরতে বের হওয়ার জন্য অফ ডে নেই? ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে কেনো যাবে? শোনো শুভ্রতা, এটা তুমি স্যারদের নয় নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছ। তোমার ক্যারিয়ার তোমার ভবিষ্যৎ সামনে পরে আছে সম্পূর্নটা। নিজের ক্ষতি নিজে করো না। পড়াশোনাটা ঠিক ভাবে করো। আশা করছি তোমার নামে এ ধরনের কমপ্লেইন ভবিষ্যৎ এ আর শুনবো না।”সাদমান রাহমান কথাগুলো বলে ফোন কাটেন। শুভ্রতা থম মেরে বসে থাকে। সাদমান রাহমানের কথা যুক্তিযুক্ত। নিরবে মেনে নেয় শুভ্রতা। বাবা যা বলেছেন সবটাই সত্যি। তবে শুভ্রতা চটে গেলো মায়ের কথায়। কিছুক্ষন পরেই এসে মেহরিন আলফা বেশ কিছু কটু কথা শোনালেন। সাথে বাবাকে তুলে বিচ্ছিরী একটা কথা বললেন, যেটা শুভ্রতার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো কাজ করল। তীব্র আক্রশ নিয়ে বলল, “আমার বাবা না হয় ভালো না মানলাম। তুমি তো ভালো তাহলে নিজে কেনো নিজের মেয়েকে মানুষ করতে পারো নি?”
“মেহরিন আলফা ঠাস করে চড় বসান মেয়ের বাম গালে। শুভ্রতা এবার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সামনে রাখা কাঁচের জগটা ছুড়ে মারে ফ্লোরের উপর।
___
গোধূলি সন্ধ্যা নেমেছে তার রঙিন পরশ নিয়ে। আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কমলা, লাল আর সোনালি রঙের মায়া।
কাব্য আপদত একটা চায়ের দোকানে বসে আছে। দোকানটি গ্রামের রাস্তার ধারে, ছোট্ট কিন্তু পরিচ্ছন্ন। বেঞ্চে বসে কাব্য হাতে চায়ের কাপ ধরে আছে। চায়ের ধোঁয়া হালকা শীতের বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। াে চায়ের কাপে চুমুক দেয়। আবার পাশে রাখা ফোনে আঙুল চালিয়ে বারবার শুভ্রতাকে ট্রাই করছে। অবশেষে শুভ্রতা ফোন তোলে। তিক্ত স্বরে বলল, “যখন দেখছেন একটা মানুষ ফোন তুলছে না, তারপরো বারবার ফোন কেনো দিচ্ছেন?
“কাব্য মিইয়ে যায়। সরি তুমি বিজি ছিলে বুঝতে পারিনি।”
শুভ্রতা সম্পূর্ন কথা না শুনেই ফোন কেটে দেয়। অপরদিকে কাব্য ফোনটা হাতে নিয়ে বসে আছে। সারাদিনে কল দিয়েছে প্রায় ৬৭+ তারপর ম্যাসেজ। কাব্য মেসেন্জারে ডুকে দেখে ম্যাসেজ এখনো সিন হয়নি। তড়িঘড়ি করে ম্যাসেজ গুলো আনসেন্ট করে দেয় সে। চায়ের বিল মিটিয়ে বাড়িতে চলে আসে। বাড়ির সামনের খোলা মাঠটায় বসে ভাবনায় পরে যায়। শুভ্রতার প্রতি এই কদিনে অনেকটা দুর্বল হয়ে পরেছে কাব্য। ওর সাথে কথা বলতে স্বাছন্দ্যবোধ করে। শুভ্রতাকে দেখেও তো পজিটিভ লাগে। না কি এটা কাব্যর ধারনা শুধু। শুভ্রতা হয়তো ওর প্রতি ফিলিংস রাখেনা। এমনি এমনিই কথা বলে।
কাব্যের মনে এক অস্থিরতা ঘিরে ধরল।। কাব্য তার বন্ধু আরাফ কে ফোন দেয়। আরাফ ফোন তুলতেই কাব্য গম্ভীর স্বরে বলল,
“মামা একটা হেল্প লাগত।”
“হ্যা বল।”
“মুনতাহা মামি তো আমার সাথে শুভ্রতার সম্পর্কটা করিয়ে দিয়েছিলো। মামিকে বলবি শুভ্রতার ব্যাপারে আর একটু ভালো করে খোজ খবর নিতে। ইটস আর্জেন্ট মামা।”
কাব্যর কথা বলার ধরন দেখে আরাফ হেসে ওঠে। “সমস্যা নেই আমি বলে দিচ্ছি। মনে হচ্ছে শুভ্রতাকে নিয়ে বেশ টেনশনে আছো।”
কাব্য মলিন কন্ঠে বলল, “ ওই একটু- আধটু। রাখছি আমি। তুমি খবর জানিয়ো।”
চলবে….
( শুভ্রতা চরিএটাকে আমি একটা বদমেজাজি, ইগো ভরপুর, সমাজের নিয়ম কানুন মানে না এমন একটা চরিএ হিসেবে সাজিয়েছি আমি। বাউন্ডেলে শুভ্রতাটাকে কি আদতে কাব্য বদলাতে পারবে? হ্যাপি রিডিং)
Next part.