লেখনীতে:আইরা নূর
পর্ব:০৩
🚫🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। গল্পটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু অবশ্যই হ্যাশট্যাগ গুলো লাগাবেন আর যদি কেউ গল্পটি নিজের টিকটক id তে দিতে চাই অবশ্যই আমার টিকটক id কে mention দেবেন🚫🚫
আদিল:- আরে ভাই তোরা তো সবাই খালি ট্রুথ নিচ্ছিস। কেউ তো ডেয়ার নে। আচ্ছা নীলাধ্র তুই তো বলিস যে তুই নাকি সব করতে পারিস তাহলে তুই এবার ডেয়ার নে।
নীলাধ্র:- হ্যাঁ তো নেবো। তো তোরা কি ভাবছিস যে আমি ডেয়ার নিতে ভয় পাই।
আদিল:- ঠিক আছে, আমি বোতল ঘোরাচ্ছি। নীলাধ্র তোর দিকে পড়লে তুই এবার অবশ্যই ডেয়ার নিবি।
নীলাধ্র:- ওকে।
আদিল বোতল ঘোরাতেই নীলাধ্র র দিকে যায়। আদিল আশেপাশে তাকিয়ে বলে,
আদিল:- কি ডেয়ার দেওয়া যায়। কি ডেয়ার দেওয়া যায়। হুম পেয়েছি। ভাই নীলাধ্র অনেক দিন হলো হা’ঙ্গা’মা করা হয়না। একটা হা’ঙ্গা’মা করলে কেমন হয়। (বাঁকা হেসে)
নীলাধ্র ভ্রু কুঁচকে আদিল কে জিজ্ঞেস করে,
নীলাধ্র:- মানে। কি বলতে চাইছিস একটু ক্লিয়ার করে বল!!!
আদিল ভার্সিটির গেটের দিকে আঙুল তাক করে সবাইকে ইশারা করে আর বলে,
আদিল:- ঐ দেখ ফ্রেসার।
আদিলের কথাই নীলাধ্র গেটের দিকে তাকাই। আরুহি ধীর পায়ে ভার্সিটির গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। আরুহি কে দেখে নীলাধ্র বি’র’ক্তি’তে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
নীলাধ্র, আদিলের উদ্দেশ্যে বলে,
নীলাধ্র:- হ্যাঁ তো। (বি’র’ক্তি ভরা স্বরে)
আদিল:- ঐ মেয়েটাকে এক ঘণ্টার ভেতর নিজের প্রেমে ফেলবি। তারপর পুরো কলেজের সামনে ওকে বলবি যে ও যেনো তোকে প্রপোজ করে।
নীলাধ্র:- অসম্ভব, ঐ মেয়ে কে কেনো অন্য মেয়ে কে বল এক্ষণই করে দেবো। কিন্তু ওকে না। (ভ্রু কুঁচকে)
আদিল:- তা তো হবে না। ঐ মেয়েকেই করতে হবে। তুই না কলেজে ক্র্যাশ বয়। তোর কি ওকে নিজের প্রেমে ফেলতে আদোও এক ঘণ্টা লাগবে!! তুই ঐ মেয়ের কাছে গেলে এমনিই গলে তোর প্রেমে পড়ে যাবে।
নীল:- হ্যাঁ নীলাধ্র, তুই আজ অব্দি যেই ডেয়ার নিয়েছিস সেটা তো পূরণ করেছিস। তাহলে আজকে কেন অসম্ভব বলছিস??
নীলাধ্র কিছুক্ষণ চুপ থাকে। এরপর সে আবার আরুহির দিকে তাকাই। মনে মনে কিছু একটা ভেবে তারপর সে মুখে শ’য়’তা’নি হাসি ফুটিয়ে বলে,
নীলাধ্র:- করলে ক্ষ’তি কি।
আদিল:- সাবাশ, এই না হলো আমাদের নীলাধ্র। যা তাহলে শুরু করে দে তোর কাজ। (বাঁকা হেসে)
নীলাধ্র সেখান থেকে উঠে ধীর পায়ে আরুহির দিকে এগিয়ে যেতে লাগে। নীলাধ্র র মনে তো অন্য কিছুই চলছে। আজকে তো সে এই আরুহি কে উচিত শিক্ষা দেবে।
তার বাড়িতে গিয়ে তার খালামণিকে পটিয়ে তারই খালাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে করা আজকে বের করবে নীলাধ্র। তার বোনের ভালোবাসার দিকে হাত বাড়িয়েছে আরুহি।
তাকে তো নীলাধ্র এতো সহজে ছাড়বে না। আরুহির জন্য তার বোনের চোখ দিয়ে জল ঝরেছে। এতো সহজে সে আরুহি কে ছেড়ে দেবে!!! কক্ষনো না। ঠিক যতটা পানি জাইরার চোখ থেকে ঝরেছে তার থেকেও দ্বিগুণ পানি সে আরুহির চোখ থেকে ঝরাবে।
কিন্তু আরুহির তো কোনো দোষ নেই এতে। শিলা আহমেদই তো নিজে থেকেই বিয়ে প্রস্তাব রাখে আরুহির সামনে। কিন্তু আরুহি তো এখনো মত দেইনি। আর সে মত দেবে ও না কখনো। কিন্তু সেটা তো আর নীলাধ্র জানে না। সেতো প্র’তি’শো’ধে’র নে’শায় অন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এমনিতেই নীলাধ্র, আরুহি কে দুচোখে সহ্য করতে পারে না। প্রায় ৭ দিন হলো আরুহি তাদের বাড়িতে এসেছে। আরুহির চৌধুরী বাড়িতে আসা টা যেমন নীলাধ্র র পছন্দ হচ্ছে না ঠিক তেমনই নাজিয়া চৌধুরী ও এটা পছন্দ করছেন না।
কিন্তু জাইরা আর আদনান চৌধুরী বিষয় টাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন। আসলে আরুহি ঢাকা শহরে নতুন। সে এখানকার তেমন কিছুই চেনে না। জ্ঞান হওয়ার পর এই প্রথম সে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে।
কোথায় থাকবে না থাকবে সেই জন্য রিহান তার চাচা মানে আদনান চৌধুরী কে বলে একসপ্তাহ জন্য যেনো আরুহি কে চৌধুরী বাড়িতে তিনি থাকতে দেন। ভার্সিটি শুরু হওয়ার আগেই সে হোস্টেলে উঠবে।
এই কদিনে সে শহরটাকে একটু চিনে নেবে। জাইরা তো আরুহি কে পেয়ে খুব খুশি। সেই আরুহি কে যত টুকু সম্ভব ঘুরিয়ে দেখিয়েছে শহর টা। যদিও সবটা একসপ্তাহে ঘুরিয়ে দেখানো সম্ভম নয়।
কিন্তু যেটুকু কাজের সুত্রে দরকার সেই টুকুই জাইরা আরুহি কে ঘুরিয়েছে। এতে অবশ্য নাজিয়া চৌধুরী বেজাই ক্ষে’পে আছেন মেয়ের ওপর।
তার ভাষ্য মতে ঐ মেয়েকে নিজের টাকা খরচ করে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানোর কি কোনো মানে হয়। তবে জাইরা তার মায়ের কথায় কোনো পাত্তা দেই না।
জাইরা তো নতুন বন্ধু পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু নীলাধ্র র কাছে এইসব কিছুই ন্যাকামো ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় নি। নীলাধ্র যত টুকু সময় বাড়িতে থেকেছে তত টুকু সময় আরুহি কে অপমান করতে এক চুল ও ছাড়ে নি।
তবে আদনান চৌধুরী আর জাইরা আরুহির সাথে কোনো খা’রা’প ব্যবহার করে নি।
উঠতে বসতে সুযোগ পেলেই নীলাধ্র আর নাজিয়া চৌধুরী বেশ কথা শুনিয়েছে আরুহি কে। কিন্তু আরুহি একটা কথাও বলে নি। কারণ সে এই কদিনে বুঝে গিয়েছে যে নাজিয়া চৌধুরী আর নীলাধ্র তাকে একদমই সহ্য করতে পারে না।
এইতো দুইদিন আগের কথা। নাজিয়া চৌধুরীর বোন শিলা আহমেদ আর তার মেয়ে ফারিয়া আহমেদ এসেছিলেন চৌধুরী বাড়িতে বেড়াতে। নাজিয়া চৌধুরী বেশ খুশি এতদিন পর বড় বোন তার বাড়িতে আসায়।
আরুহি রুমে ঘুমিয়ে ছিল। কারণ আজকে সারাদিন তার প্রচুর কাজের মধ্যে কেটেছে। হোস্টেলে উঠবে বলে অনেক কিছু কেনা কা’টা করা লেগেছে। তার ওপর ঢাকা শহরের রাস্তায় যা জ্যাম অর্ধেক দিনই তার রাস্তায় কেটেছে।
তাই ক্লান্ত শরীর টা বিছানায় এলিয়ে দিতেই ঘুমে তলিয়ে যায় সে। কিন্তু নাজিয়া চৌধুরীর তো আরুহির শান্তি সহ্য হয় না। তাই বাড়িতে এত মেড থাকার সত্ত্বেও তিনি আরুহি কে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলেন,
__:- এই মেয়ে সারাদিন কি পড়ে পড়ে ঘুমাবে নাকি। আমার বাড়িতে যখন আছো তখন আমার কথা মতো চলতে হবে তোমাকে। চলো তাড়াতাড়ি আমার সাথে।
আরুহি ঘুম ঘুম চোখে উত্তর দেই,
আরুহি:- কোথায় যাবো বড় আম্মু??
__:- আচ্ছা বে’য়া’দ’ব মেয়ে তো তুমি। জানো না বড়দের মুখের ওপর কোনো প্রশ্ন করতে নেই। তোমার ভাই তোমাকে কি কোনো শিক্ষা দীক্ষাই দেইনি নাকি। অবশ্য দেবে কিভাবে নিজেরই হয়তো কোনো শিক্ষা নেই।
কথা গুলো নাজিয়া চৌধুরী এমন ভাবে ব্য’ঙ্গ করে বলেন যে আরুহির চোখে পানি চলে আসে। আরুহি নিজেকে সামলিয়ে দৃঢ় গলায় বলে,
আরুহি:- বড় আম্মু আপনি আমাকে বলছেন ভালো কথা। আমি আপনার সব কথা, সব অ’প’মা’ন মুখ বুজে মেনে নেবো। কিন্তু আমার ভাইয়াকে উদ্দ্যেশ্য করে বললে আমি তা সহ্য করবো না।
কথাটা বলতে দেরি কিন্তু নাজিয়া চৌধুরীর চ’ড় মা’র’তে দেরি হয় না। আরুহি গালে হাত দিয়ে ছল ছল নয়নে নাজিয়া চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে থাকে।
__:- এই ছোট লোকের বাচ্চা, এই ভাবে তাকিয়ে কেনো আছিস। বলেছি বেশ করেছি আরো বলব কি করবি তুই।
বলেই তিনি আরুহির হাত ধরে টে’নে বিছানা থেকে ফেলে দিয়ে বলেন,
__:- ন’বা’ব’জা’দী এসেছে, এই যা কিচেনে যা। নাস্তা গুলো রেডি করে মেহমানদের সামনে নিয়ে আয়। দেরি হলে তোর খবর আছে।
বলেই নাজিয়া চৌধুরী রূম থেকে বের হয়ে যান। আরুহি চোখের পানি মুছে উঠে দাঁড়ায় আর কিচেনের দিকে যায়।
নাস্তা গুলো সুন্দর করে সাজিয়ে হলরুমে যায়। সেন্টার টেবিলের ওপর নাস্তার ট্রে টা রেখে চলে যেতে নেবে তখনই নাজিয়া চৌধুরীর বোন শিলা আহমেদ বলে উঠেন,
__:- দাড়াও মা।
শিলা আহমেদের কথা শুনে আরুহি দাঁড়িয়ে যায় আর পিছন মুড়ে তাকাই।
আরুহি:- জী আন্টি, কিছু বলবেন?
__:- বাহ্ কি মিষ্টি দেখতে। হ্যাঁ রে নাজিয়া মেয়ে টা কে।
__:- ও আবিরের মেয়ে। (বি’র’ক্তি নিয়ে)
__:- ওমা আবিরের মেয়ে এত বড় হয়ে গিয়েছে।
__:- হুম।
__:- বড় আপসোস হয়। এতো টুকু বয়সে বাবা মাকে হারিয়েছে মেয়েটা। মা এখানে এসো। আমার পাশে বসো এসো এসো।
শিলা আহমেদের কথা শুনে আরুহি একবার নাজিয়া চৌধুরীর দিকে তাকাই। নাজিয়া চৌধুরীর পাশেই জাইরা বসে ছিল। নাজিয়া চৌধুরী তখন বলে উঠেন,
__:- আপু তুমি ওকে বসতে কেনো বলছ। এই যা রুমে যা। (ধমকের সুরে)
__:- আহ্ নাজিয়া, এমন করে মেয়েটাকে ধমক কেনো দিচ্ছিস। এসো মা আমার পাশে এসে বসো।
শিলা আহমেদ আরুহি কে অভয় দেন। আরুহি ও আর কিছুই বলে না। সে গিয়ে শিলা আহমেদের পাশে বসে। শিলা আহমেদ পরম যত্নে আরুহির মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,
__:- এইরকম মিষ্টি একটা মেয়েই তো খুঁজছি। মা তোমার একটা বড় ভাই আছে না??
আরুহি:- হ্যাঁ।
__:- কি নাম ওর?
আরুহি:- রিহান।
__:- ও ওর ফোন নম্বর টা আমাকে একটু দিও কেমন। আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই। অনেক দিন ধরেই আমার ছেলেটার জন্য একটা মেয়ে খুঁজছি। তোমাকে বেশ মানাবে আহানের সাথে।
শিলা আহমেদের কথা শুনে নাজিয়া চৌধুরী, আরুহি আর জাইরা তিন জনই অবাক হয়ে যায়। জাইরার তো চোখে পানি চলে এসেছে। কিন্তু সে নিজের চোখের পানি আড়াল করে চুপ করে বসে থাকে। নাজিয়া চৌধুরী, শিলা আহমেদের কথা শুনে বলেন,
__:- আপু কি বলছো এইসব। মেয়ে পছন্দ হয়েছে বলে কি যার তার সাথে আহানের বিয়ে দেবে। আর আরুহির স্ট্যাটাসের সাথে আমাদের আহানের স্ট্যাটাসের কোন মিল নেই। এই মেয়েকে ও পছন্দ করবে নাকি!!
__:- নাজিয়া, কি ধরনের কথা বলছিস তুই এইসব। আর স্ট্যাটাস দিয়ে কারো মন তো বিচার করা যায় না। আর আমি আমার ছেলেকে চিনি। ও আরুহি কে নিশ্চই পছন্দ করবে।
ওপরে দাঁড়িয়ে থেকে নীলাধ্র তাদের সব কথাই শুনছে। সাথে সে জাইরা কে ও খেয়াল করেছে। জাইরা সবার থেকে নিজের চোখের পানি আড়াল করতে পারলেও নীলাধ্র র থেকে পারেনি।
তাছাড়াও নীলাধ্র র কেনো যেন আরুহির সাথে আহানের বিয়ের কথা শুনে সহ্য হচ্ছে না। তার এখন খুব রা’গ হচ্ছে তাই সে নিজের হাত মুষ্ঠি বদ্ধ করে রুমে চলে যায়।
তাদের আলোচনা দেখে জাইরা ও নিজের রুমে চলে যায়। কারণ এখানে থাকলে তার চোখের পানি সবাই দেখে ফেলবে। আর সে কতক্ষণই বা নিজের চোখের পানি আটকে রাখার চেষ্টা করবে।
রুমে গিয়েই জাইরা কান্নাই ভে’ঙ্গে পড়ে। আসলে জাইরা, আহান কে ছোট থেকেই ভালোবাসত। এটা কেউ না জানলেও নীলাধ্র জানতো।
নীলাধ্র অবশ্য ওর মাকে বলতে চেয়েছিল কিন্তু জাইরাই বারণ করেছিল বলতে। সময় হলে সেই এ কথা তার মাকে জানাবে।
কিন্তু তার আগেই তার খালামনি আরুহির সামনে প্রস্তাব রাখে। যেটা শুনে জাইরা মনটা ভে’ঙ্গে যায়। সে নিজের রুমে গিয়ে কান্না করছিল। বাইরে থেকে নীলাধ্র সবটা দেখছিল। সেইদিন থেকেই সে সুযোগ খুঁজছে যে কিভাবে আরুহির ওপর সে প্র’তি’শো’ধ নেবে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
দুদিন আগের কথাই ভাবতে ভাবতে ঠোঁ’টে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে নীলাধ্র, আরুহির সামনে এসে দাঁড়ায়।
আরুহি নিচে তাকিয়ে হাঁটাই সে ঠিক খেয়াল করে নি যে তার সামনে কেউ এসে দাঁড়িয়েছে। ফল স্বরূপ আরুহির মাথাটা গিয়ে লাগে নীলাধ্র র শক্ত পোক্ত বুকে।
আরুহি নিজের মাথায় হাত দিয়ে ডলতে ডলতে সামনে তাকাই আর দেখতে পাই যে নীলাধ্র দাঁড়িয়ে আছে।
আরুহি তৎক্ষণাৎ চোখ নামিয়ে নেয় আর মিনমিনিয়ে বলে,
আরুহি:- আমাকে মাফ করবেন, ভাইয়া। আমি দেখতে পাই নি।
বলেই আরুহি চলে যেতে নেবে তখনই নীলাধ্র তার হাত আলতো করে চে’পে ধরে তাকে পুনরায় নিজের সামনে দাড় করাই আর বলে,
নীলাধ্র:- সমস্যা নেই। তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিল আরু।
আরুহি অবাক হয়ে যায় নীলাধ্র র এতো নরম আচরণে। কারণ কাল অব্দি নীলাধ্র তার সাথে খা’রা’প ব্যবহার করেছে। তাকে খাবার নিয়ে খোটা পর্যন্ত দিয়েছে আর আজকে সেই মানুষ তার সাথে এত নরম ভাবে কথা বলছে।
আরুহি সন্দেহ চোখে নীলাধ্র র দিকে তাকাই। নীলাধ্র তখন বলে,
নীলাধ্র:- জানি না তুই বিশ্বাস করবি নাকি তাও তোকে বলছি। আমি তোকে ভালবাসি আরু। খুব, খুব, খুব ভালোবাসি।
নীলাধ্র র কথা শুনে আরুহির তো মাথা ঘুরে যাচ্ছে। আরুহি নিজেকে সামলিয়ে বলে,
আরুহি:- আপনি আমার সাথে মজা করছেন!! না মানে কালকে আপনি আমার সাথে যে ব্যবহার করেলেন তারপর আপনি ভাবলেন কিভাবে যে আমি আপনার কথা বিশ্বাস করবো।
আরুহির কথা শুনে নীলাধ্র র মাথা গরম হয়ে যায়। তবুও সে মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করে আরুহির হাত দুটো নিজের হাতের মাঝে নিয়ে নরম গলায় বলে,
নীলাধ্র:- দেখ আরু, ভালোবাসা তো আর বলে কয়ে হয় না তাই না। হ্যাঁ মানছি যে আমি তোর সাথে খা’রা’প ব্যবহার করি কিন্তু তুই একবার আমার মনটা বোঝার চেষ্টা কর তাহলে ঠিকই বুঝতে পারবি। আমি তোকে সত্যি সত্যিই অনেক ভালবাসি। আমি তোকে এত দিন বলতে পারি নি কারণ আম্মুর জন্য। তুই তো আম্মুকে চিনিস। আম্মুর ভয়েই তোর সাথে এত খা’রা’প ব্যবহার করেছি আমি। বিশ্বাস কর আরু।
আরুহি ঝট করে নীলাধ্র র হাতের বাঁধন থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। নীলাধ্র হাত ধরায় তার হাত দুটো কাঁপছে।
আরুহি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
আরুহি:- কিন্তু আমি তো আপনাকে ভালবাসি না। আর আপনি ভালবাসলেও আমার কিছুই করার নেই। আমাকে প্লিজ যেতে দিন।
নীলাধ্র:- আরু প্লিজ তুই আমাকে এইভাবে ফিরিয়ে দিস না। আমি তোকে সত্যি খুব ভালোবাসি। তোকে ছাড়া আমি বাঁচব না।
আরুহি:- দেখুন আমি তো বললাম যে আমি আপনাকে ভালবাসি না। তাও কেনো বার বার একি কথা বলছেন। আমার রাস্তা ছাড়ুন প্লিজ।
নীলাধ্র:- আরু আমার কথাটা শোন আরু প্লিজ।
আরুহি কোনো কথা না শুনেই নীলাধ্র র পাশ কাটিয়ে চলে যায়। ইতি মধ্যে কলেজের মাঠে যারা ছিল সবাই তাদের কথপোকথন শুনেছে। সবাই এখন নীলাধ্র র দিকেই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
নীলাধ্র র বন্ধু আদিল নীলাধ্র র কাছে আসে আর বলে,
আদিল:- কি রে ভাই, মেয়েটাকে ফাঁ’দে ফেলতে পারলি না।
নীলাধ্র র তো রা’গে কপালের রগ ফুলে উঠেছে। নিজের রা’গ কমাতে ফোসফাস করে শ্বাস ফেলছে তাও যেনো তার রা’গ কমছে না।
নীল তখন বলে,
নীল:- ভাই তুই এমন করছিস কেনো??
নীলাধ্র:- ঐ ছোটলোকের বাচ্চার এত বড় সাহস যে ও আমাকে রিজেক্ট করে। আমাকে পুরো ভার্সিটির মানুষের সামনে অ’প’মা’ন করেছে ও। ওকে আমি ছাড়বো না। ভেবেছিলাম, ছোট খাটো শিক্ষা দেবো ওকে কিন্তু না ঐ ছোট লোকটার ছোট খাটো শিক্ষাই হবে না। ওকে আমি এমন শিক্ষা দেবো যে মৃ’ত্যু’র আগ পর্যন্ত যন্ত্রণা ভোগ করবে ও। (রা’গী গলায়)
চলবে…….
{ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 😊😊}