গল্প:হৃদয়ের আশ্রয় (০৪)

লেখিকা:নুসরাত পুতুল

পর্ব:০৪

” তোমার রাস্তার কাটা সরিয়ে দিয়েছি ভাই,। যা চেয়েছিলে তা হাসিল হয়েছে তো এবার? ভাবি কে তো বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম প্ল্যান করে ।
হয়েছে এবার আমার কাজ শেষ,

” আমি চিন্তায় ছিলাম, কি ভাবে কি করব। যাক তোরা এদিকটা সামলে নিলি। কিন্তু রুমি তো প্রেগন্যান্ট। এখন তো ডিভোর্স হবে না। ৭ মাস চলছে তার। আরও কম করে তিন চার মাস অপেক্ষা করতে হবে।

বাবার গলায় আফসোসের সুর। যেন এক্ষুণি মাকে ডিভোর্স দিতে পারলে বেচে যায়।

” হ্যা তা তে করতেই হবে। কি আর করার।

ফুফুর চোখ এসে পরলো আমার দিকে,
” আরে ছামির। কি করছিস আয় এদিকে,

আমায় ডাকলেন তিনি। আমি কিছু না বলে চলে আসলাম।

কান্না পাচ্ছে এখন। বাবাকে ফেরেস্তার ন্যায় জানতাম। আর সে বাবা কিনা আজ মাকে বাড়ি থেকে বের করার জন্য এতো ফন্দি আটলো। তার মানে, এসব খাওয়ার জন্য ঝামেলা করেনি। সব কিছু সাজানো প্ল্যান, এটা একটা উসিলা ধরে বাড় থেকে বের করল মাত্র। বাড়ি থেলে বের করার পিছনে বড় কোনো কারণ লুকিয়ে আছে। আর সে কারন বাবা জানে
আজ যেন এতে বছর পর নিজেই নিজের বাবাকে চিনতে পারছি না। কোনটা আমার বাবার আসল রুপ? এখন নাকি আগের টা?
প্রশ্ন টা গোলকধাঁধার মতো ঘুরছে নাথায় ভনভন করে

________________

স্বামীর সাথে ননদ রুমিকে দেখে হাসি মুখে এগিয়ে এলেন হাসনা বেগম। আরে রুমি কেমন আছো। ভালোই হয়েছে এসেছ। কয়দিন পর তো আসতেই হতো। ছামির বাবা কোথায় তাকে দেখছি না যে।

ভাবির মুখে ছামিরের কথা শোনে মুখটা মলিন হয়ে এলো রুমির,
কি জবাব দিবে সেই ভাবনায় মশগুল সে, তখনই পাশ থেকে ভাই বলে,

” ছামিরকে আনি নাই
” ওমা কেন?

লিহাব সাহেব বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“রুমি মাত্র এসেছে পরে কথা বলো। এখন রুমিকে বিশ্রাম নিতে দাও। চলো তুমি আমার সাথে।

বলে জোরপূর্বক স্ত্রী কে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন তিনি।

রুমি তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে, তাকে আসতে দেখে কতো খুশি হয়েছে ভাবি,কিন্তু ভাবি যখন জানবে তাকে ঐ বাড়ি থেকে এক বারে নিয়ে আসা হয়েছে তখন কি এই খুশিটা থাকবে ভাবের মুখে ?
_______

পরের দিন ফুফুরা চলে গেলে বাড়ি একদম নিরব হয়ে পরে। বাড়িতে আমরা তিনজন মানুষ আমি বাবা আর দাদি। বাবা সারা দিন অফিস থাকে,
দাদি গ্যাসের চুকায় রান্না করে শুয়ে বসে থাকে,
আমি একলা হয়ে পরি। আমার সময় কাটতে থাকে মহল্লার ছেলেদের সাথে খেলা করে। প্রতিবারই খেলা শেষে বাড়ি ঔিরে মনের ভুলে মাকে ডেকে উঠি। কোনো সারা না পেয়ে দ্বিতীয় বার ডাকতে গেলেই মনে পরে, মা আর নেই এ বাড়িতে।
আগে বাড়িতে মা পড়াতো। এখন পড়ানোর জন্য মেডাম রেখে দিয়েছে বাবা।

লিভা মেডাম,, খুবই সুন্দর করে কথা বলেন, মিষ্টি করে। প্রথম প্রথম পড়তে চাইতাম না আমি।
তার পর তিনি তো আমায় কাছে টেনে মায়ের মতো করে কি সুন্দর করে বুঝালেন আমায়,
যে বড় হতে হবে। ভালো করে লেখা পড়া না করলে বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া যাবে না না।
আমি তো মেডামের মুখের উপর বলে দিলাম,
” আমি পুলিশ অফিসার হতে চাই ডাক্তার না, মেডাম মুচকি হেসে আমায় কোলে বসিয়ে বললো,

” পুলিশ হতে ও তো পড়ালেখা জানতে হবে। নয়তো দেশ রক্ষা করবে কি ভাবে।

আমিও ভাবলাম সত্যি তো। লেখাপড়া না করলে তো পুলিশ হতে পারব মা। অপরাধী দের শাস্তি দিতে পারব না। আমাকে তো শাস্তি দিতে হবে বড় হয়ে

আমি পড়তে রাজি হয়ে গেলাম,
‘ পড়ব আমি, ঠিক মতো মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করব।

শোনে লিভা মেডাম স্বস্তির নিশ্বাস নিলো ।

কাকে যেন কল করে সাথে সাথে জানালো,
” আমি সাকসেস, সে রাজি হয়েছে।
বলে আবার কলটা কেটেও দিয়েছে।

আমার ছোট্ট মস্তিষ্ক তখন এতো কিছুর মারপ্যাচ বুঝেনি। যখন বড় হলাম তখন পরিষ্কার হতে লাগল সকলের বলা একেকটা শব্দ একেকটা ধ্বনির মানে।

_______

সপ্তাহ খানেকের ভিতর লিভা মেডামের সাথে আমার পরিবারে খুব ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠলো,

আমায় এক ঘন্টা পড়ালেও, পড়ানোর আগে পরে মিলিয়ে প্রায় দুই আড়াই ঘন্টা আমাদের বাড়িতে থাকতেন তিনি।

দাদি শুধু রান্না করে নিজের খাবার খেয়ে টেবিলে আমার জন্য খাবার দিয়ে বলতো খেয়ে নিতে।
ছোট থেকেই খাবার খেতে সময় লাগে আমার,
আর নিজ হাতে একা একা খেতে একদম ভালো লাগতো না।
যার ফলস্বরূপ দরুন মেডাম এসেই খায়িয়ে দিত আমায় প্রায় সময়।নিজ হাতে না খাওয়ালেও আমার পাশে বসে গল্প করতো আমি খেয়ে নিতাম।
মেডাম এতোটাই আদর করতো, যার ফলে মায়ের অভাব একটু হলেও মোচন হয়েছিল আমার। মায়ের জন্য খারাপ লাগা কমে যেতো যতোক্ষণ মেডাম কাছে থাকতো।

শুধু আমায় ভালোবাসতো, সব বুঝাতো এমন নয়, দাদির সাথেও খুব ভালো ব্যবহার করতো।

দাদির অসুখ হয়েছিল। চোখে কম দেখেন, কখন কোম ঔষধ গুলো খাবে বুঝতপন না। মেডাম একদিন আমায় পড়ানো শেষে দাদির ঔষধ গুলো আলাদা আলাদা করে ভাগ করে বুঝিয়ে দিলেন, কখন কোন ঔষধ খাবে। দাদি তো সে কি খুশি। আনন্দে মেডামের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিল।

এ ভাবেই কাটতে লাগে আমার দিন, ছোট ফুফুর বাড়ি আমাথের এখান থেকে বেশি দূরে নয়। দুই গ্রাম৷ পরের। সে জন্য প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেল হলে এসে পরতেন তিনি।
দেখতে দেখতে তিন মাস কেটে গেলো ঠিক এ ভাবেই,

এর মধ্যে আরও একটা ঘটনা ঘটে গেছে, নাদিম ভাইকে নাকি আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে একে বারে,
বেপার টা আমার জন্য খুশির নাকি বেদনার হবে তখনও বুঝতে পারছিলাম না আমি।
নাদিম ভাইয়া আমার থেকে কয়েক বছরের বড়। তার সাথে মিশতে পারব তো আমি? নয়ন হলে ভালো হতো। দু জন সমবয়সী ছিলাম,
মনপর ভিতর সংকোচ হচ্ছে, ভয় জন্য নিচ্ছে রীতিমতো, কি হবে সেই ভেবে।

চলবে ইনশাআল্লাহ……

( লেখিকা এখন ঘুমেষে যাবে😴 বিদায় পৃথিবী )

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments