গল্প: হৃদয়ের আশ্রয়(০২)

লেখিকা:নুসরাত পুতুল

পর্ব:০২

 

 

মায়ের ঘর থেকে কান্নার শব্দ  ভেসে  আসছে,
বাবা রুমে যাওয়ার পর মা বাবার কথার শব্দ  শুনতে পেরেছি কিছুটা।  কথা গুলো অস্পষ্ট ছিল বলে ঠিক  কি কি কথা হয়েছে তা জানতে পারিনি আমি,
কথার মাঝ খানে জোড়ে জোড়ে তিনটা চরের মতো আওয়াজ পেয়েছি। তার পর থেকেই মায়ের কা*ন্নার শব্দ।
কিছু ক্ষন পর সে টা ও বন্ধ।  তারপর শুনশান নিরবতা।  আমি কিছু ক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে চলে যাই খেলতে। ছোট মানুষ  কতক্ষণ আর এখানে  দাঁড়িয়ে থাকব।

খেলতে খেলতে ফুফুর একটা কথা কানে এসে পৌছায় আমার,
” দেখলা মা, ভাই কি বিচার করলো তার বউয়ের। আসার পর যে এতো কথা শুনালে সে তো পারতো বউকে  এনে তোমার কাছে একবার মাফ চাওয়াতে।

বড় ফুফু ধমকে উঠলেন।
” বিনা চুপ করবি, তোর জামাই বাড়িতে রেখে কি ঝামেলা  করতে চাস নাকি। তখন তো তুই ছোট হবি তার কাছে।

ছোট ফুফু ধমে গেলেন এবার।
ঐ রাতেট মতো মায়ের বেপারে কথা বলা সেখানেই  বন্ধ  হলো। আর কেউ  মায়ের নাম তুললো না।

কিছুক্ষণ  পর খাবার টেবিলে ডাকা হলো বাবাকে,
বাবা চুপচাপ  এসে খাবারে বসে পরলেন।
দাদি সকলকে খাবার তুলে দিচ্ছে। দুপুরে খাওয়ার পর বাটিতে গরুর মাংস কম পরিমাণে ছিল,

দাদি মাংস  গুলো ছোট ফুফুর মেয়ে ঝুমুর আর বড় ফুফুর ছেলে নাদিম এবং নয়ন ভাইয়ের পাতে ডেলে দিলেন।
আমার পাতে দিলেন শুধু  ডাল।
ডাল দিতে দিতে বললেন,
” গরুর গোস্ত কম ছিল , তাদের দিয়ে দিছি। আর তুই তো হাঁসের গোস্তো খাস না শক্ত  বলে, নে ডাল দিয়েই খেয়ে নে।
ওরা তো মেহমান।

কথাটা বলে বাবা এবং ফুফাকে হাঁসের মাংস  দিতে লাগলেন তিনি।
বাবা আমার প্লেটের দিকে একবার  তাকিয়ে ও দেখলো না।তিনি নিজের মতো করে খেয়ে যাচ্ছে।
আমার রাগ হলো ভিষণ,
না পাতে ডাল দিয়েছে তার জন্য  না, বরং বাবার কাজে রাগ হয়েছে। একটু আগে বাবা মাকে মেরেছিল, মা কেঁদেছে  মনে পরতেই রাগটা তরতর করে বেড়ে গেলো,,, আমি খাবার ছেড়ে উঠে আসলাম বিনা বাক্যে,
যাওয়ার সময় শুনতে পেলাম ফুফু বলছে।
” পুরে মায়ের স্বভাব  পেয়েছে,
তার পর সকলে খাবারে মন দিল।

আমি চুপচাপ  শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম না খেয়েই।
____

সকাল ৮ টা, চিল্লাচিল্লির শব্দে ঘুম ভাঙলো, ঘুমের আড়মোড়া ভেঙে চুখ মুখ কচলে বেরিয়ে এসে যা দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না,,

ফুফু মায়ের সামনে আঙুল উঁচু করে বলছে

” কতো বড় সাহস তোর,  আমার মায়ের মুখে মুখে তর্ক করিস।  হিংসায় পেট ভরা, আপাদমস্তক সব টা তে হিংসা, ভালো তো তোর বাপের বাড়ি থেকে কিছু আনস নাই,   খাইলে আমার ভাইয়ের টা খাইছি, তাতে তোর কি।
ফকি*ন্নি কোথাকার ।

মা গরম চোখে তাকালো,
” আপনাদের কে খাওয়ার খোটা আমি কখন দিলাম?  আর আপনি আমায় এসব কেন বলতেছেন? আমার বাপের বাড়ি যেমনই হোক আপনাদের মতো লো*ভী না

মায়ের কথায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে ফুফু।

” কি বললি তুই  আমরা লো’ভী?  ফকি’ন্নির মুখে আবার বড় বড় কথা। লোভী  তো তুই ।  এক বেলা ভাতের লোভ সামলাতে পারিস নাই।  রা’ক্ষসী কোথাকার।

সহ্য করতে পারিস না আমাদের। বেলা কয়টা বাজে বাড়িতে আমার হাসবেন্ড  আছে বাচ্চা  রা আছে।  তাদের কথা ভেবেও তো তোর রান্না  করা উচিৎ  ছিল। আর তুই  কিনা হিংসার ঠেলায় শুয়ে আছিস।  রান্না  করলে কি তোর কামাইর টাকার কিছু  করতি নাকি। করলে আমার ভাইয়েট কামাইর টাকায় করতি।  তবুও কেন করলি না।

বলেই ন্যাকা কান্না জুরে দিল তিনি।

” দেখলে মা, তোমার ছেলের সামনে তার বউ কতো গুলো কথা শুনালো।  আমরা নাকি লো’ভী,  আমরা কি রোজ রোজ এসে বসে থাকি এখানে খাওয়ার জন্য।  আমরা কি রা’ক্ষস  নাকি তার মতো।

এক্ষুনি  চলে যাব মা। আর কখনো আসব না এখানে।
ভাই কিছু  বললে আজ তার বউ তারই সামনে এতো গুলো কথা শুনাতে পারতো না আমাকে।

ঝুমুরের বাপ যাও ব্যাগ নিয়ে বের হও।

ফুফুর কথায় ফুফা ও তাই করছে। ব্যাগ আনতে  ভিতরে চলে গেলেন তিনি। দাদি ও গলা ছেড়ে বলছে। হ্যা হ্যা চলে যা তোরা। আমি ম’রলেও আসিস না। দু এক বেলা খেয়ে কি না আজ লো’ভী  হয়ে গেলি তোরা, বেশি দিন তো বাঁচব  না,  এ রা’ক্ষসী আমায় গিলে খাবে দেখিস।
দাদির কথার মাঝে ফুফা ব্যাগ পত্র নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।
” চলো,
বলে দু কদম এগিয়ে যেতেই বাবা বিস্ফোরণ করলেন,
।” দাঁড়ান,

” কোথাও  যাবেন না আপনারা,

” হ্যা ভাই যাব না কি করব?  তোমার বউয়ের কথা শুনব নাকি?  এখানে তার সাথে থাকা সম্ভব  না।

” তোরা ঘরে যা, তোদের বাড়ি,  তোরা কই যাবি।  যেতে হলে অন্য কেউ  যাবে। বলেই মামাকে কল করলেন বাবা।

কথাটা শোনার পর ফুফুর মুখে হাসির জলক দেখতে পাই আমি। আমার বুকটা ধুক করে উঠে হঠাৎ  কেন জানি। ছোট ছিলাম তবুও বুঝতাম কিছু টা।  মা কে হারানোর একরাশ ভয় এসে জেকে বসল বুকে।
কার দোষ কার অপরাধ কিছু বুঝিনি সে দিন আমি।  তবে বুঝেছিলাম যা হচ্ছে  ভালো হচ্ছে  না।
কি হতে চলছে মায়ের সাথে বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমি।

 

চলবে ইনশাআল্লাহ………….

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments