গল্প: আরো আঁধারি (০৩)


পর্ব:০৩

 

” তোমার সাহস হয় কিভাবে? একজন মন্ত্রীর সাথে এভাবে কথা বলার? “

পূর্ণার ধৈর্য্যের বাধঁ এবার ভাঙলো। রাতের একটা দেড়টা বাজে এভাবে নাটক করার কোন মানে হয়? তাও ঘুমের ডিস্টার্ব করে? পূর্ণা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

” বান্দরের নানী শাশুড়ী ! কসম বলছি, তুই যদি আমার সামনে থাকতি এতোক্ষনে র*ক্তা*র*ক্তি কিছু একটা হয়ে যেতো। আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিস না বলছি। নিজেও ঘুমা আর আমাকেও ঘুমাতে দে। “

বলেই ফোন কল কেটে দিলো পূর্ণা। রাগে শরীর কাঁপতে লাগলো তার। সাথে দুর্বলতা তো আছেই। কালকে অফিসে গিয়ে কম হলেও ইলমির মাথা ফাটাবে বলে মনে মনে পণ করে চোখ বন্ধ করলো। সাথে সাথেই এক রাশ ঘুম এসে হানা দিলো পূর্ণার চোখে মুখে। কি অদ্ভুত তাই না? পৃথিবীর সকল দুঃখ কষ্ট আমরা ঘুমের সময়টাতে ভুলে থাকতে পারি। তাই বোধ হয় যারা বেশি ঘুমায় তাদের দুঃখ টা একটু বেশিই হয়।

এদিকে তাহরিম কেটে যাওয়া ফোনের দিকে এক নজর তাকিয়ে কি একটা ভেবে মুচকি হাসলো। চিৎ হয়ে শুয়ে ঘূর্ণায়মান ফ্যানের দিকে তাকিয়ে রইলো। ঘুম যেন ধরা দিচ্ছে না কিছুতেই।

হঠাৎ ফোনের বায়োব্রেশনে ঘোর কাটলো তাহরিমের। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে কুশন কল করেছে, কপাল কুঁচকে কল পিক করে বলল,

” আবার কি? “

ওপাশ থেকে কুশন বলে উঠলো, ” ভাই আপনাকে অফিসে না পেয়ে মজুমদার সাহেব অনেক রেগেছে বলেই মনে হলো।”

তাহরিম শান্ত ভঙ্গিতে বলল, ” তো আমি কি করবো? রাগছে যখন ঘন্টা খানের ফ্রিজের ভেতর ঢুকিয়ে রাখ শান্ত হয়ে যাবে। এই রাত বিরাতে মেয়ে মানুষের মতো নাটক করতে ফোন করবি না । বিরক্ত লাগে।”

” ভাই, মজুমদার সাহেব কাল সন্ধ্যা সাতটায় সানসেট রিসোর্টে মিটিং ডেকেছে। আপনাকে বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। “

তাহরিম বিরক্তিকর কন্ঠে বলল, ” এই ব্যাডা কি চিপাচাপা ছাড়া আর কিছু চিনে না? ওই মফস্বল এলাকায় কেন তার যাইতে হবে, আজিব! গাড়ি টারি ও ঢুকে না বা*ল! কত টা পথ হাইটা যাইতে হয়। “

” একটু হাঁটাহাটি করলে শরীর সুস্থ থাকে ভাই “

তাহরিম দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
” তুই কি বলতে চাচ্ছিস, আমি শারিরীক ভাবে অসুস্থ? “
কুশন তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো, ” না না ভাই, আমি ওটা বলি নি। “

” তোর ওই বুড়ী নানির সাথে কয়বার বিয়া দেস আমারে, খ*বি*শ?”

তাহরিমের বিরক্তিকর কন্ঠে কুশন খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল, ” নানা ভাই ডাকি নাই তো। আমি তো মানা করছি। “

” হুমম”

” ভাই, মনে হয় ইমার্জেন্সি। তাই যেতে হবে। কাল বিকেল ছয় টায় আমি আর আপনি রওয়ানা হবো নে।
এখন ঘুমান নয়তো চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল পড়বে। “

” জুতা মেরে গরু দান করতে আসবি না কুশন। রাখ ফোন। “

বলেই ফোনটা কেটে দিলো তাহরিম। ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো। বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লো। এই বয়সে মন্ত্রীত্ব টা দলের অনেকেরই চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই সারির প্রথম সদস্য এই মজুমদার। আরো আছে অনেক গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে থাকার ফলে বেশ পরিচিতি আছে তাহরিম তালুকদারের এছাড়াও শহরে তালুকদার পরিবারের আলাদা নাম ডাক ও আছে পূর্ব থেকে।

______________

দুর থেকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি কানে আসতেই পিটপিট করে চোখ খুলে উঠে বসলো পূর্ণা। পিঠ ছড়ানো চুল গুলো হাত খোঁপা করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। বাহির তখনো কালো। পূর্ণা এগিয়ে গিয়ে বারান্দার দরজা খুলে দিতেই একটা ঠান্ডা দমকা হাওয়া ছুঁয়ে গেলো তার শরীর। মূহুর্তেই সতেজ হয়ে উঠলো প্রান। কয়েক মূহুর্তের জন্য ভুলে গেলো গতকালের সেই বিষাদময় স্মৃতি। প্রাণ ভরে শ্বাস নিলো। পুরনে দোতলা বাড়ি হওয়ায় বারান্দায় রেলিং নেই। খোলা অনেকটা ছাঁদ বারান্দার মতোই। পূর্ণা উঁকি ঝুঁকি মেরে দেখলো নিচ টা। কংক্রিটের রাস্তা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলো না।

বারান্দায় প্রায় মিনিট পাঁচেক সময় ব্যয় করে ওযু করতে গেলো। ওযু করে চার রাকআত নামাজ আদায় করে বারান্দায় রাখা ফুল গাছ গুলোতে পানি দিয়ে। বারান্দার মেঝেতেই বই আর লেপটপ নিয়ে বসলো।

অফিসের কাজের পাশাপাশি ভার্সিটির ও কিছু এসাইনমেন্ট বাকি আছে। লাস্ট সেমিস্টারে মনে হয় চাপ আরো দ্বিগুণ হয়।

সকাল প্রায় সাতটা। এসাইনমেন্ট কমপ্লিট করে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে উঠে দাঁড়ালো সে। সব কিছু গুছিয়ে রান্না ঘরে ঢুকলো। সকালের নাস্তা বানাতে বানাতেই মায়ের হাঁটা চলার আওয়াজ পেলো সে।

নাস্তা বানিয়ে টেবিলে সাজিয়ে রেখে নিজে তৈরি হতে গেলো, খাওয়ার সময় নেই তার। অফিস টাইম নয়টায়। অথচ অফিসে যেতেই সময় লাগে বিশ মিনিটের মতো আর জ্যাম থাকলে তো কনফার্ম লেট।

পূর্না একটা কূর্তি পরে ওড়না ভালো করে মাথায় দিয়ে ব্যাগ হাতে নিচে নামলো হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে প্রায় সাড়ে আটটা।

নিচে খাবার টেবিলে বসে খবরের কাগজ পড়ছেন মাজহারুল ইসলাম। পাশেই লাবনী বেগম দাড়িয়ে। পিয়াল টা ধীরে সুস্থে খাচ্ছে। বয়স পনেরো হলেও বয়সের তুলনায় অনেকটায় বুদ্ধিমান আর বুঝদার।

পূর্ণাকে নামতে দেখে পিয়াল পূর্ণাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো, ” আপু খেয়ে যাবা না? “

পূর্ণা পিয়ালের দিকে এগিয়ে যেতে গিয়েও ধমকে দাঁড়ালো, আড়চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে পুনরায় পিয়ালের দিকে তাকিয়ে জোর পূর্বক হেঁসে বলল,

” না আমি এসে খাব। তুই খা। “

পিয়াল নিজের প্লেট নিয়ে জায়গা থেকে উঠে পূর্ণার সামনে গিয়ে দাড়ালো, রুটিতে ডিম আর আলু ভাজি নিয়ে পূর্ণার মুখের সামনে ধরে বলল,

” রাতে তো মায়ের জন্য খেতে পারলে না। ভাতের থালাটায় কেড়ে নিলো এখন কিছু একটা মুখে নিয়ে যাও। নয়তো রাস্তা ঘাটে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবে তখন কে দেখবে তোমায়?”

পূর্ণা ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে হাসলো, পিয়ালকে ছুতে গিয়েও হাত গুটিয়ে নিয়ে বলল,

” আমার জন্য চিন্তা করিস না। অভাগীরা এতো সহজে ম*রে না। “

পিয়াল শুনলো, শান্ত দৃষ্টিতে বোনের দিকে তাকিয়ে রুটির অংশ টুকু পূর্ণার ঠোঁটের সামনে ধরে বলল,

” এতো কথা বলো না তো। নাও হা করো। তোমার কিন্তু সময় নেই। “

পূর্ণা আড়চোখে মায়ের দিকে তাকালো, লাবনী বেগম শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পিয়ালের দিকে।

” দাঁড়িয়ে আছিস কেন? পিয়াল দিয়েছে যখন, খা “

মাজহারুল ইসলামের কথায় পূর্ণা মুখ খুলে নিলো রুটির টুকরো টা। পিয়াল ডিম আর আলু দিয়ে রুটির রোল বানিয়ে পূর্ণার হাতে দিয়ে বলল,
” যেতে যেতে এটা খেয়ে নিবে। অসুস্থ হলে তোমার যেই মা জীবনেও সেবা করবে না। উল্টো রাস্তায় ফেলে আসবে তাই বলছি সময় থাকতে নিজের যত্ন নাও। “

পূর্ণা হাসলো, সেই হাসিতে ভরে আছে এক রাশ বিষাদ। পূর্ণা মাথা নাড়িয়ে চলে আসতে নিলে পিছনে থেকে লাবনী বেগম শান্ত কন্ঠে ডেকে উঠলো তাকে,

” পূর্ণা “

পূর্ণা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো মায়ের দিকে। লাবনী বেগম শক্ত কন্ঠে বলল, ” সকালে ভাইজান কল করেছে আম্মার শরীরটা তেমন ভালো না। আমাকে আর পিয়ালকে দেখতে চেয়েছে। তাই দিন তিনেকের জন্য আমি ব্রাক্ষণবাড়িয়া যাব। তোর বাপ ও চাকরির দরকারে চট্টগ্রাম যাবে। তুই এই ক দিন বাড়িতে একায় থাকবি। চাইলে তোর বান্ধবী কে বলতে পারিস এসে থাকতে। ভুলেও আ*কা*ম কু*কা*মে**র কথা মাথায় আনবি না। বাড়িতে যেন কোন ছেলে মানুষ না আসে। যদি কোন কেলেংকারী বাঁধে! তোরে কে*টে*কু*টে বুড়িগঙ্গায় ভাসাবো। বলে দিলাম। “

পূর্ণা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাপ ভাইয়ের সামনে এসব কথা শুনতে লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে তার। এই পর্যন্ত ছেলে ঘটিত সকল সমস্যা থেকে শত হাত দুরে দুরেই ছিল সে তবুও এসব কথার কোন ভিত্তি আছে?

পূর্ণা কিছু বলল না শুধু মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে।

অফিসে পৌঁছেই প্রথমেই ইলমিকে চেপে ধরলো পূর্ণা। ইলমি তখন ডেস্কে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলো। হঠাৎ এমন হওয়াতে খানিকটা ভয় পেয়ে গেলো সে। পরক্ষণেই পূর্ণাকে দেখেই হাফ ছেড়ে বাঁচলো।

” এই মফিজের বউ! কি সমস্যা? এরম লুইচ্চা ব্যাডাইতের মতো আঞ্জা আঞ্জি পাঞ্জা পাঞ্জি করছিস কেন? “

পূর্ণা এক ভ্রু উঁচু করে ইলমির দিকে তাকালো, দুই হাত বুকের উপর গুঁজে বলল,

” কালকে রাতে কি মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু খাইছিলি? “

ইলমি অবাক হয়ে বলল, ” রাতে কেন ভাই, আমি দিনের বেলাও এক প্যাকেট ব্রেড কিনতে গেলে সত্তর বার ডেট চেক করি। সেই আমি নাকি মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু খাবো!”

” তাহলে রাতে মাতালের মতো বিহেব করেছিস কেন মগা? “

ইলমি ঠোঁট উল্টে বলল, ” রাতে কখন? আমি তো এখান থেকে গিয়েই ঘুম দিয়েছি। রাতে খাই ও নি। কি আবোলতাবোল বকছিস?”

পূর্ণা ইলমির দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল,
” এই একদম নাটক করবি না। নাটকবাজ কোথাকার! আমার নতুন নাম্বার তোর কাছে ছাড়া আর কার কাছে থাকবে বল? ফোন করে আবার ভয়েস চেঞ্জ করে কথা বলে! ভাবছে চিনতে পারব না। আবার নাম কি বলে! মন্ত্রী তাহরিম তালুকদার। বেডার আর খাইয়া দাইয়া কাজ নাই। রাতের চৌদ্দডা বাজে আমারে কল দিবো! বলদী কোথাকার! “

ইলমি চোখ বড়ো বড়ো করে পূর্ণার বাহু ধরে বলল , ” ভাই তুই সিউর? তাহরিম তালুকদার কল দিয়েছিলো? মানে মন্ত্রী তাহরিম তালুকদার? “

পূর্ণা ইলমির হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে বলল, ” আর কত নাটক করবি ইলু? যা সরর কাজ করতে দে। ফের যদি এরম করিস তো উ*স্টা মেরে উগান্ডা পাঠাই দিবো। মনে রাখিস। “

বলেই পূর্ণা নিজের চেয়ারে বসে পড়লো। চাকরি টা তাদের পার্মানেন্ট নয়। মাস্টার্স কমপ্লিট করলে পার্মানেন্ট হবে। আপাতত শেখার জন্যই ঢুকেছে তাতে কিছু হাত খরচা ও হয়ে যাবে।

ইলমি পূর্ণার পিছনে পিছনে ঘ্যান ঘ্যান প্যান প্যান করতে লাগলো তাহরিম তালুকদার কি বলেছে? পূর্ণা কি বলেছে? ইত্যাদি ইত্যাদি…

এক সময় পূর্ণা বিরক্ত হয়ে কানে ইয়ারপড গুঁজে রাখলো। শেষমেশ পাত্তা না পেয়ে ইলমিও নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। তার হাতেও অনেক কাজ!

________

বিকেল ছয়টা বাজতে আর পনেরো মিনিট বাকি। তানজিম তাহরিমের ড্রেসিং টেবিলের সামনে দুই হাতে দুই রঙের পাঞ্জাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আসলে সে কনফিউশানে আছে কোনটা ভাইকে পরার জন্য দেবে। তার থেকে কদম পাঁচেক দুরে দাঁড়িয়ে আছে কুশন। আর কুশনের পাশেই তাহরিম ঠোঁট কামড়ে ভাইয়ের মতিগতি বোঝার চেষ্টা করছে।

” কি সমস্যা হাঁদারাম? আমার দেরি হচ্ছে কিন্তু। তুই তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবি দে “

তানজিম তার হাতে থাকা কালো রঙের পাঞ্জাবিটার দিকে একবার তাকাচ্ছে তো আরেকবার ছাই রঙের পাঞ্জাবির দিকে তাকাচ্ছে। শেষ মেষ ছাই রঙের পাঞ্জাবি টা তাহরিমের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল ,

” এটা পরো তুমি। এটাতে হট লাগবে তোমাকে। “

তাহরিম পাঞ্জাবি নিতে নিতে কপাল কুঁচকে বলল,

” কি লাগবে?”

তানজিম দাঁত কেলিয়ে হাসলো, ” বললাম এ্যাট্রাকটিভ লাগবে। “

তাহরিম পাঞ্জাবি টা গায়ে জড়িয়ে, হাতে ঘড়ি পড়লো। গায়ে কড়া পারফিউম মেখে চুল গুলো পিছনে ব্রাশ করে মানিব্যাগ আর মোবাইল হাতে নিয়ে নিচে নেমে এলো। তার পিছনে পিছনে এলো কুশন।

নিজের ব্লু রঙের গাড়িটা নিতে গিয়েও নিলো না। কুশনের দিকে তাকিয়ে বলল,

” অফিসে যা তুই। কিছু পেন্ডিং কাজ আছে ওগুলো সল্ভ কর আর দলের কিছু পোলাপান আসবে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে সেটা হ্যান্ডেল করবি। আমি মজুমদারের মিটিং এটেন্ড করে সরাসরি বাসায় চলে আসব। ওদিকটা তুই সামলাবি। আমার সাথে যেতে হবে না। ” বলেই কুশনকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তানজিমের বাইকে উঠে বসলো। মাথায় হেলমেট লাগিয়ে সেকেন্ডের মাঝে মেইন গেইট দিয়ে বেরিয়ে গেলো বাইকটা।
কুশন বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইলো। যতক্ষণে হুস আসলো ততক্ষণে তাহরিম হাওয়া হয়ে গেছে।
_____

কাজ করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। পূর্ণা আর ইলমির কাজ ও শেষ। ডেস্কের সব কিছু গোছগাছ করে উঠে দাঁড়ালো পূর্ণা। রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গের ইনফরমেশন কালেক্ট করছে সে। জানা অজানা সকল গোপন তথ্য!

ইলমি ও সবটা গুছিয়ে উঠে দাঁড়ালো। হঠাৎ কিছু একটা মনে হতেই, সে পূর্ণাকে বলে উঠলো,

” এই পূর্ণ জানিস? “

পূর্ণা ও বিরক্তিকর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল, ” হ্যা জানি “

ইলমি কপাল কুঁচকে তাকালো, ” কি জানিস?”

” তুই যখন জানিসই আমি জানি না তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছিস কেন? যে জানি কি না! যা বলার বল।”

পূর্ণার নিরামিষ কথায় পাত্তা না দিয়ে বলল,
” আররে মৃদুল তো এক মাসের জব ট্রিপ শেষে কাল জয়েন করছে এখানে। “

” তো?”

ইলমি দাঁত কেলিয়ে বলল, ” তো মানে! বেচারা তোকে কত ভালোবাসে! কত লাভ লেটার আর ফুল দেয়! কত হেল্প করে! তবুও পাত্তা দিস না কেন ভাই? দেখতেও তো রিত্তিক রওশান এর মতো কত্ত সুন্দর আর হ্যান্ডসাম! “

পূর্ণা বিরক্ত হয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
” তোর এতো ভাল্লাগলে গলায় ঝুলে পড় আমাকে বলছিস কেন? আমার তো ওররে ভাল্লাগে না।”

ইলমিও পূর্ণার পিছু পিছু হাঁটতে হাঁটতে বলল,
” আমাকে পছন্দ করতো না হয় আমি কিছু একটা করতাম। আমাকে তো বোন বানিয়ে রেখে দিছে সেই কবে!”

পূর্ণা মেইন রোডে দাঁড়িয়ে রিকশা ডাকলো, আকাশের অবস্থা মারাত্মক খারাপ। যেকোন সময় ঝড় আসতে পারে। কিংবা এখনই শুরু হয়ে যাবে। একটা রিকশা ডেকে এতে উঠে বসে বলল, ” আর একটাও কথা বলবি না ইলু। মেজাজ এমনিই খারাপ হয়ে আছে। “

ইলমি ঠোঁট উল্টে উঠে বসলো রিকশায়। প্রায় মিনিট পঁচিশের মাঝেই রিকশা পূর্ণাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো। ইলমিকে নামিয়ে দিয়েই এসেছে। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখলো বাসায় কারেন্ট নাই এর মাঝে ঝড় বৃষ্টি ও শুরু হয়েছে।

পূর্ণা মোমবাতি জ্বালিয়ে ওয়াসরুম থেকে ফ্রেস হয়ে এসে খাটের উপর বসলো। বাহিরে তখন ঝমঝমে বৃষ্টি। ছাঁদ বারান্দায় পুরো বৃষ্টি এসে পড়ছে। হুট করে ইচ্ছে করলো বৃষ্টি তে ভিজতে। কত বছর ধরে বৃষ্টি তে ভেজা হয় না। শেষ কবে ভিজে ছিলো তাও মনে নেই।

পূর্ণা মায়ের ঘরে গিয়ে আলমারি খুলে সারির তাকে চোখ বুলালো। মা রেগুলার শাড়ি পরে বলে অনেক শাড়ি আছে আলমারি তে। সেখান থেকে সাদা রঙের সুতি শাড়িটা হাতে নিলো সাথে সাদা রঙের হাফ হাতার ব্লাউজ।

পূর্ণা শাড়ি পরে হাত খোঁপা করা চুল গুলো ছেড়ে দিলো। চোখে কাজল আর হাতে সাদা রেশমি চুড়ি। খুব শখ করে পিয়াল তাকে কিনে দিয়েছিল চুড়ি গুলো। খুব যত্নে রেখেছে ভাইয়ের দেওয়া উপহার। আজ প্রথমবার পড়লো।

বাসা তালা দিয়ে সোজা ছাঁদে উঠে ছাদের দরজাটাও খিল দিয়ে দিলো। আশেপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না আর না কেউ তাকে দেখছে। এমনিতেই রাত তার উপর ঝড়! ঝমঝমে বৃষ্টি!

দুই হাত আকাশের দিকে মেলে ধরে ভেতরের সকল কষ্ট দীর্ঘ শ্বাস আকারে বের করে দিলো যেনো। বৃষ্টির একটা অদ্ভুত গন্ধ আছে। প্রান জুড়িয়ে যাওয়া গন্ধ।

ঠিক কতক্ষণ ভিজেছে খেয়াল নেই তার। ভিজে পুরো চিপ চিপে অবস্থা। এবার হালকা শীত শীত করতে লাগলো। না হলেও ঘন্টা দুয়েক তো ভিজেছেই। এবার জ্বর না আসলে বিশ্বাস! পেটে ও খিদেয় চো চো করছে। সেই অফিস ব্রেকে ইলমি একটা বার্গার কিনে দিয়েছিল তারপর আর কিছু খায় নি।

ছাদের দরজা খুলে সাবধানে নিজের বাসার ভেতরে ঢুকলো। ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে সামনে যেতেই নাকে এসে বাড়ি খেলো কড়া মেইল পারফিউমের গন্ধ! শাড়ি তে নাক ডুবিয়ে দেখলো গন্ধ টা শাড়ির কি না! কিন্তু তেমন কোন গন্ধই শাড়ি তে নেই। তাহলে?

ঘরে অন্য কেউ প্রবেশ করেছে? কথাটা ভাবতেই শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেলো। কাঁপা কন্ঠে আশেপাশে তাকিয়ে বলল,

” কে? ঘরে কেউ আছেন?”

চলবে….

[কেমন লাগলো জানাবেন কিন্তু আর বিশাল বড়ো পর্ব দিলাম সুন্দর গঠন গত মন্তব্য করবেন ]

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments