গল্প: দ্বিতীয় সূচনা (১২)

পর্বঃ১২

লেখনীতেঃআফসানা‌ শোভা

[কার্টেসি ব্যতিত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।⛔]

— কোথায় যাচ্ছিস?

— একটা মডেলিংয়ের ইন্টারভিউতে।

— তুই পাগল হয়ে গিয়েছিস মাহিরা? মেয়েটা এদিকে জ্বরে কাতরাচ্ছে। আর তুই আছিস তোর সো কল্ড মডেলিং নিয়ে।

মাহিরা ঠোঁটে লিপস্টিক পড়তে পড়তে বলে,

— ঐক্য এমন অফার সব সময় পাওয়া যায়না। আর বেবির একদিন এক সমস্যা থাকবেই। তাই বলে কি সবসময় এমন অফার ছেড়ে দেব। তুই জানিস এই ইন্টারভিউতে আমি গ্রান্টেড হলে আমার মডেলিং ক্যারিয়ারটা একদম ফিক্সড। ন্যানি তো আছেই। বেবিকে সে দেখে রাখবে। আর আমি সন্ধ্যায়ই ফিরে আসব।

ঐক্য হতবাক স্বরে বললো,

— মডেলিং এখন তোর সন্তানের থেকেও বড় হয়ে গেল? তুই এতটা স্বার্থপর কবে থেকে হলি মাহিরা?

মাহিরা তেতে উঠে বলে,

— ঠিক এই কারণে। এসব ভবিষ্যতে হবে এটা জেনেই আমি বলেছিলাম এবর্শন করে ফেলি। কিন্তু তুই কি বলেছিলি?তুই আমাকে এসিউরড করেছিলি এই বেবিটা কখনো আমার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হবেনা।

— মাহিরা!

— চিৎকার করবিনা ঐক্য। বাচ্চা, সংসার সামলানোর যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আমি আমার স্বপ্নপূরণ করতে পারছিনা। আর কত স্যাক্রিফাইস করব আমি?

ঐক্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে। শান্ত সুরে বলে,

— মায়েদের একটু স্যাক্রিফাইস করতে হয় মাহিরা।

— কেন করব আমি। তুই তো জানতি আমার মডেলিংয়ের কতটা শখ। ইভেন তুই সব কন্ডিশন মেনেই আমাকে বিয়ে করেছিস। তাহলে এখন উল্টো সুরে গান গাইছিস কেন?

ঐক্য বড় বড় শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করে।

— আমি কিছুই ভুলিনি মাহিরা। তোর মডেলিং এর ইচ্ছা তুই সেটা করবি। সেক্ষেত্রে আমি কেন সে পথে বাধা হব। কিন্তু তোকে বুঝতে হবে ওয়াফা এখনো দুধের শিশু।

ও আরেকটু বড় হোক। তখন না হয়……

–পাগল হয়েছিস তুই ঐক্য। ওয়াফা কখন বড় হয় ততদিন পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করে থাকব?

মাহিরা কথা কেড়ে নিয়ে চিৎকার করে বলে।

ঐক্য নিস্পৃহ গলায় বলে,

— হ্যাঁ দরকার হলে তাই করবি। তোর মডেলিংয়ের চক্করে আমার মেয়ের কোনপ্রকার অযত্ন আমি সহ্য করবনা। এখন এসব সাজ পোশাক ছাড়। আর ওয়াফাকে ফিড করা। ও কাঁদছে।

মাহিরা অবাক চোখে মুখ শক্ত করে অনড় হয়ে দাড়িয়ে থাকা ঐক্যর দিকে তাকিয়ে থাকে। কেমন গা হিম করা কন্ঠে বলে উঠে,

— দরকার হলে তোকে আর তোর সন্তানকে ছেড়ে দেব তবুও মডেলিং ছাড়বনা।

বলে ড্রেসিং টেবিল থেকে নিজের ব্যগটা নিয়ে গটগট পায়ে হেঁটে বের হয়ে যায়। ঐক্য সেদিকে স্থবির হয়ে তাকিয়ে থাকে। এদিকে পাশের রুম থেকে এগারো মাসের জ্বরে নাজুক বাচ্চাটা তারস্বরে চেঁচিয়ে কাঁদছে। কিন্তু তার জননী তার এই করুণ কান্না উপেক্ষা করে চলে গিয়েছে নিজের স্বপ্নপূরণের নেশায়।

অদূরের যান্ত্রিক শহরের নিরবধি চলতে থাকা ব্যস্ত কোলাহলের পানে স্থির দিকে তাকিয়ে অতীতের পাতায় ডুবে ছিল ঐক্য। হাতে একটা আধ খাওয়া ধূমায়িত শলাকা। যেটির প্রান্ত আগুনের তাপে জ্বলতে জ্বলতে প্রায় নিঃশেষের পথে৷ হয়তো একটু পর পুরোপুরি জ্বলে হাতে ছ্যাকা লাগতে পারে। কিন্তু বেখেয়ালি চিন্তায় ডুবে থাকা সুদর্শন শ্যামপুরুষের সেদিকে কোন ভাবাবেগ নেই। সে ব্যস্ত নিজের জীবনের প্রহেলিকা হয়ে আসা নারীটি আর অতীতে ডুবে……….

আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগের কথা। মাহিরা আর ঐক্য তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের সেইম ব্যাচের স্টুডেন্ট ছিল। অত্যন্ত মেধাবী তরুণ ঐক্যর সাথে ফার্স্ট ইয়ারেই পরিচয় হয় মাহিরার নামক মেয়েটির সাথে৷ ক্লাসের সবচেয়ে প্রাণোচ্ছল আর সুন্দরী ছিল মাহিরা। মেয়েটা অনেক বেশি চঞ্চল ছিল। তার উপর খুব সহজেই যেকারো সাথে মিশে যেত। নাচগানে পারদর্শী মাহিরা ক্লাসের যেকোন প্রোগ্রামে সবসময় মাতিয়ে রাখতো। স্বভাবতই সুন্দরী মাহিরার প্রেমে মাতোয়ারা ছিল ক্লাস সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছেলেরা। কিন্তু ঠিক কি কারণে জানা নেই মাহিরা কেন জানি প্রচন্ড রকম ইন্ট্রোভার্ট ঐক্যর সাথে সেধে সেধে মিশতে চাইতো। বাকি ছেলেদের প্রতি কোন প্রকার ইন্টারেস্ট দেখাতোনা। স্বভাবতই ক্লাস মাতিয়ে রাখা মাহিরার প্রতি বাকি সবার মতোই আকর্ষণ অনুভব করে তরুণ ঐক্য। একসময় দুজনের মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। কিন্তু ঐক্যর কাছে মাহিরা একজন বন্ধুর চেয়েও বেশিকিছু ছিল।ক্লাসের সবাই ধরেই নিয়েছিল ওদের দুজনের সম্পর্ক আছে। কিন্তু ঐক্য বা মাহিরা তখনো কেউ ভালোবাসার স্বীকারোক্তি জাহির করেনি।

মাহিরা ছিল এতিম। এক বোন আর মাকে নিয়ে ঢাকায় একটা ভাড়া বাসায় থাকতো। কয়েকটা টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ সহ সংসারের যাবতীয় খরচা বহন করতো। মাহিরার বাহ্যিক সৌন্দর্য ছাপিয়ে ওর সংগ্রামী জীবনটা ঐক্যকে বেশি টানতো। ধীরে ধীরে ও মাহিরার প্রতি ভীষণ দূর্বল হয়ে পড়ে। এরমধ্যে হঠাৎ করেই ঐক্যর বাবা আকষ্মিক দূর্ঘটনায় মারা যান। বাবাকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে ঐক্য। তখন ওর পাশে ছাঁয়ার মতো থাকে মাহিরা। এভাবে মাত্র একবছরের মাথায় মাহিরার প্রতি প্রচন্ড দূর্বল হয়ে পড়ে ঐক্য। মনে মনে ঠিক করে মাহিরাকে নিজের ভালোবাসার কথা জানাবে। ভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত একটি প্রোগ্রামে অনেক আয়োজন করে পুরো ডিপার্টমেন্টের সামনে নিজের মনের কথা মাহিরাকে জানায় ঐক্য। বাকি সবার মতো মাহিরা একটুও অবাক হয়নি। ওর ঠোঁটে লেপ্টে ছিল নজরকাড়া হাসি। যেন ও জানতো এটা হওয়ারই ছিল। তারপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি দু’বছর ওরা ছুটিয়ে প্রেম করে। ঐক্য নিজ ইচ্ছেতে তুলে নেয় মাহিরার মা আর বোনের দায়িত্ব। মাহিরা ভীষণ শৌখিন ছিল। ফটোগ্রাফি,সাজগোছের প্রতি ওর তীব্র আকর্ষণ ছিল৷ সম্পর্কে ও ঐক্যকে জানিয়েছিল ও একজন মডেল হতে চায়। ঐক্য সম্মান জানিয়েছিল মাহিরার স্বপ্নকে। কোনদিন মাহিরার প্রতি কোন প্রকার জোর প্রদর্শন করেনি।মাহিরাকে দিয়েছিল অবাধ স্বাধীনতা।

প্রেমের সম্পর্কে থাকাকালীন ঐক্য মাহিরাকে অধিকবার জোবায়দা বেগমের পরামর্শে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কেননা ততদিনে বাবার ব্যবসার একচ্ছত্র অধিপতি ছিল ঐক্য। মাহিরার দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থা ওর ছিল। কিন্তু মাহিরা প্রতিবার পড়াশোনা শেষ করা ছাড়া বিয়ের করবেনা বলে ঐক্যকে ফিরিয়ে দিত।

কিন্তু ওদের সেই ভালোবাসার স্রোত একসময় মাহিরার সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কের পর্যায়ে পৌঁছে গেলে ঐক্য মাহিরাকে বিয়ের জন্য জোর দেয়। একপর্যায়ে মাহিরাও আর না করেনা। কিন্তু জুড়ে দেয় নানা রকম শর্ত৷ মাহিরার প্রেমে অন্ধ ঐক্যও সেসব শর্ত সরল মনে মেনে নেয়। তারপর মহা ধুমধামে মাহিরাকে পুত্রবধূ করে ঘরে তোলেন জোবায়দা বেগম। বিয়ের পর ঐক্য ব্যস্ত ছিল নিজ বাবার ফেলে রাখা বিজনেসের খুঁটি শক্ত করতে আর মাহিরা ব্যস্ত ছিল নিজের মডেলিং ক্যারিয়ার গোছাতে।

কিন্তু আসল সমস্যার শুরু হয় যখন ভুলবশত মাহিরা প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ায়৷ ছাব্বিশ বছরের ঐক্য ভীষণ খুশি ছিল পিতা হওয়ার সংবাদটি শুনে। তখন সবে সবে মাহিরা বিভিন্ন কোম্পানিগুলোতে বিজ্ঞাপনের মডেলিংয়ের ইন্টারভিউ দিচ্ছিল। কিন্তু মাতৃত্বের মতো সুন্দর এই অপ্রত্যাশিত সংবাদটি যেন ওকে স্তব্ধ করে তোলে। একদিন ধুম করে বলে ফেলে বাচ্চাটা এবর্শোনের কথা। কথাটা শুনে যেন ঐক্যর পায়ের তলার জমিন সরে যায়। ও হতবাক চোখে মাহিরার স্বাভাবিক মুখপানে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু মাহিরা ছিল নিজ সিদ্ধান্তে অটল৷ ও কিছুতেই এই বাচ্চাটা রাখবেনা। ঐক্য এই নিষ্ঠুর মাহিরাকে চিনতে পারেনা। ও অবাক হয় এই মাহিরা কি সেই? যাকে ও দীর্ঘ পাঁচবছর যাবত ভালোবেসে ছিল? ঐক্য বহুকষ্টে মাহিরাকে রাজি করায় ওর সন্তানটাকে না মারতে। নিশ্চয়তা দেয় বাচ্চাটা কখনো ওর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হবেনা। প্রেগন্যান্সি থেকে ওয়াফা দুনিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত মাহিরা বড্ড নির্লিপ্ত ছিল। যেন ওর মধ্যে মা হওয়ার কোন অনুভূতিই নেই। ওয়াফার জন্মের পরও মাহিরার মধ্যে তেমন পরিবর্তন হয়নি৷ দিনের বেশিরভাগ সময়ই ওয়াফাকে জোবায়দা বেগম আর ন্যানিরা সামলে রাখতো। ঐক্য অফিসে থাকায় সেসব ব্যাপারে কিছুই জানতোনা৷ জোবায়দা বেগম কোনদিন জানতেই দেননি মাহিরার ওয়াফার প্রতি দায়িত্বহীনতার কর্মকান্ড। কিন্তু ঐক্য অগোচরে থাকা সব খবরই ও জানতো বাসার সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে। প্রায় দিন এই নিয়ে ওদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হতো। এই ঝগড়া একদিন ওদের সম্পর্কের দীর্ঘ ফাটলের রুপ নেয়। রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য মাহিরা শেষপর্যন্ত নিজের মাতৃত্বে কলংক লাগিয়ে উনিশ মাসের দুধের শিশু ছোট্ট ওয়াফাকে ফেলে নিজের ফ্ল্যাটে চলে যায়। দুধের তেষ্টায় কাতর ওয়াফা চিৎকার করে কাঁদে মায়ের একফোঁটা দুধের জন্য । মেয়ের কান্নায় দিকদিশা হারিয়ে ঐক্য ছুটে যায় মাহিরার ফ্ল্যাটে ওকে ফিরিয়ে আনতে। যেটা কিনা বিয়ের পর ঐক্যই মাহিরাকে গিফট করেছিল। কিন্তু ঐক্যকে সম্পূর্ণ হতবাক করে দিয়ে নিজের দীর্ঘ পাঁচবছরের ভালোবাসাকে পায়ে মারিয়ে মাহিরা ঐক্যর হাতে তুলে দেয় ডিভোর্স পেপার৷ যেখানে জ্বলজ্বল করছিল মাহিরার হস্ত নামা। ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিয়ে কেমন অবোধের মতো ফ্যালফ্যাল করে মাহিরার দিকে তাকিয়ে ছিল ঐক্য। যেন মেলাতে চেষ্টা করছে প্রেমিকা রূপি ওই মাহিরার সাথে এই মাহিরাকে। তারপর প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকা আর জীবনের কূল কিনারা হারিয়ে তৈরী হয় আজকের ছন্নছাড়া, নেশাখোর ঐক্য!

— স্যার আসব?

কারো নম্র সুরের ডাকে অতীত থেকে ছিটকে যেন বাস্তবে ফিরলো ঐক্য। কখন যে চোখে জল জমেছে ও টের পেলনা। তড়িঘড়ি করে চোখের অবাঞ্চিত জলটুকু হাতের অনামিকা আঙুলের সাহায্যে ছিটকে বাহিরে ফেলে দিয়ে পেছনে ফিরে ৷ নিজেকে ধাতস্থ করে গলা খানিকটা খাঁকারি দিয়ে বলে,

— হ্যাঁ আসো৷

কেভিনের কাঁচের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ঐক্যর পিএ রবিন৷

— স্যার ডেকেছিলেন?

— হ্যাঁ। আজকের দুপুরের মিটিংটা ক্যান্সেল করে দাও। আমি ওয়াফাকে পিক করতে ওর স্কুলে যাব।

— জি স্যার৷ আমি ক্লাইন্টদের জানিয়ে দিচ্ছি।

— সাবেরকে গাড়ি বের করতে বলো৷ আমি বের হব।

★★

সকাল সাড়ে এগারোটার সময়ে ম্যাফল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গেইটের সামনে থামলো একটি কালো রঙের অত্যাধুনিক বিএমডব্লিউ কার। গাড়ি থেকে একজন ড্রাইভার বের হয়ে ব্যস্ত হাতে গাড়িটির ব্যাক ডোর খুলে দেয়৷ গাড়ি থেকে বের হয় চকচকে হিল পড়া একটি পা। ব্লু ডেনিম জিন্স আর ব্ল্যাক ক্রপটপ পরিহিতা এক লাস্যময়ী নারী কার থেকে বের হয়ে সরু দৃষ্টিতে তাকায় সামনের সুউচ্চ ভবনটির দিকে। হাতে থাকা মাস্কটা পড়ে নিয়ে নারীটি স্কুলের ভেতরের দিকে ঢোকে।

*

— কেমন হয়েছে পাস্তা মামনি?

ওয়াফা ফর্ক দিকে পাস্তা খেতে খেতে বলে,

— উম অনেক ইয়াম্মি হয়েছে সুইটি আন্টি।

পাশে বসে আরশান নিশ্চুপ বসে বসে তার ভাগের পাস্তাটা খাচ্ছে। আজকেও তার খাবারটা এই পঁচা মেয়ের সাথে ভাগ করতে হচ্ছে বলে বরাবরের মতো তার মসৃণ কপালটা কুঁচকে আছে৷

–আজ কি হয়েছে জানো?

আবৃতি গালে হাত দিয়ে অত্যন্ত কিউট ভঙ্গিতে খাবার খাওয়া বাচ্চাটিকে পরখ করছিল। ওয়াফার কথায় আগ্রহী স্বরে বললো,

— কি হয়েছে?

ওয়াফা মুখে হাত চেপে হেসে বলে,

— আজ না আমি টিফিনটা বাসার বিনে ফেলে এসেছি।

আবৃতি গাল থেকে হাত থেকে হাত সরিয়ে চোখ বড়বড় করে বলে,

–কিন্তু এটা কেন করেছ বেইবি?

ওয়াফা ঠোঁট উল্টে নিষ্পাপ চোখে তাকিয়ে বলে,

— আমার না তোমার হাতর ইয়াম্মি ইয়াম্মি খাবারগুলো খেতে অন্নেক মজা লাগে। রিমলি আন্টি একদম পঁচা খাবার বানায়। আমার খেতে একটুও ভাল লাগেনা।

আবৃতি নরম সুরে বলে,

–তোমার বুয়ার বানানো খাবার পছন্দ না হলে তোমার মাম্মাকে বলতে পারতে।

ওয়াফা কতক্ষণ চোখ পিটপিট করে আবৃতির দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,

— কিন্তু আমার তো মাম্মা নেই সুইটি আন্টি।

আবৃতি হতবাক হয়ে যায় একথা শুনে৷ মনে মনে বেশ কষ্ট পায় এটা ভেবে হয়তো ওয়াফার মা মৃত৷ মুখ খুলে কিছু বলতে নেবে এমন সময় পেছন থেকে ভেসে আসে অপরিচিত এক নারীর কন্ঠ হতে নির্গত খানিক পরিচিত কন্ঠস্বর।

— ওয়াফা মা আমার!

চলমান…..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x