Story: You And I (02)

 

পর্ব:0২

লেখিকা:নুসরাত জাহান তীব্রতা

[ কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ]

ঘরের ভিতরে থেকে শিতুলের চিৎকার ভেসে আসছে। দরজা বন্ধ। ধোঁয়ায় সারা বাড়ি ভরে গেছে। দরজার বাইরে থেকেও বোঝা যাচ্ছে ভিতরের লাল আভা। ধোঁয়ার মধ্যে কাশতে কাশতে অসুস্থ হয়ে পড়েন দেলোয়ার খন্দকার। হাঁপাতে হাঁপাতে দরজায় ধাক্কা দেয়। অনবরত সবাই মিলে হিমাদ্র আর শিতুলকে ডাকতে থাকে কিন্তু এখন আর কোন সাড়া পাওয়া যায় না। শিতুলের চিৎকার আরো আগেই থেমে গেছে।‌সবাই টেনশনে পরে যায় ভিতরে আসলে হয়েছে কি?”

প্রায় অনেক্ষণ পর খট করে দরজা খুলে হিমাদ্র। দরজা খুলতে দেখে যেন সবার জানে পানি আসে। তাড়াহুড়ো করে ঘরের ভিতরে ঢুকে পরে। এরমধ্যে হিমাদ্রর মা আর বোন আসে। এতোক্ষণ তারা রুমে দরজা আটকে বসে ছিল। হিমাদ্রর মা আর বোন শিতুলকে পছন্দ করেন নাকি সেটা বোঝা যায় না কিন্তু তাই বলে ঘৃণাও করেন না। তারা প্রচন্ড গম্ভীর মানুষ। এই বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ প্রচন্ড পরিমানে গম্ভীর। তারা কোন কিছু মুখে প্রকাশ করেন না। যার যেভাবে ইচ্ছা সে সেভাবেই চলে। হিমাদ্রর বিয়ে নিয়ে তাদের কোন আগ্রহ ছিল না আবার বিতৃষ্ণাও ছিল না। বরং সবকিছু এমনভাবে চলেছে যে যাই কিছু হোক না কেন তারা তাদের নিয়মমতো চলবে। কোনকিছুর জন্য কিছু থেমে থাকবে না। এই গম্ভীর্যতার কারণে এই বাড়ির মানুষদের বেশি পছন্দ করে না শিতুল। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস শেষমেষ তাকে এই বাড়ির বউ হয়েই আসতে হয়েছে। শিতুলের মাঝে মাঝে মনে হত এই বাড়ির নাম রংধনু ভিলা না হয়ে গম্ভীরভিলা হওয়া উচিত ছিল। রংধনু তো কত হাসিখুশি। মেঘের মধ্যে হেসে খেলে বেড়ায়।

সোফায় অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে শিতুল। চোখমুখ লাল হয়ে আছে। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এতোক্ষণ আগে যেই ধোঁয়া ছিল এখন আর সেসব নাই পুরো ঘর পরিষ্কার। তারচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে ঘরে কোথাও আগুনের ছিটেফোঁটাও নেই। তাহলে তারা কি দেখলো? আর ধোঁয়া তাহলে কিসের ছিল? সবকিছু মাথার মধ্যে গড়মিল খাচ্ছে।
হিমা গিয়ে ওয়াশ রুমে থেকে পানি এনে শিতুলের মুখে ছিটিয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও যখন শিতুলের জ্ঞান ফিরছে না তখন দেলোয়ার খন্দকার আর হিমাদ্রর বাবা ভয় পেয়ে যান। হিমা বা মিসেস খন্দকারের মুখে ভয়ের লেশমাত্র নেই। তারা নির্বিকার। এরমধ্যে হিমাদ্র এদের আদিখ্যেতা সহ্য করতে না পেরে গটগট পায়ে রুম থেকে চলে যায়।

শিতুলকে ততক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার জ্ঞান ফিরে পরেরদিন সকালে। ডাক্তার জানায় শিতুলের শরীরে পোড়া দাগ পাওয়া গেছে আর প্রচন্ড ভয়ের কারণে জ্ঞান হারিয়েছে। আপাতত রেস্টে থাকলেই হবে।‌তবে খেয়াল রাখতে হবে ভালো করে।তবে এরমধ্যে হিমাদ্র একবারও আসে নাই শিতুলকে দেখতে।আর না হিমাদ্রের কোন খোঁজ পাওয়া গেছে ।
শিতুলের শরীরের আঘাতের ব্যাপারে শাফায়াত ও প্রিয়তাকে জানানো হয় নি। তারা এতোক্ষণ হাসপাতালেই ছিলেন কিন্তু এখন শিতুলকে নিয়ে রংধনু ভিলায় যাবে বলে তারা চলে গেছে।আর শিতুলের বাবা তখন হিমাদ্রদের বাড়িতে থাকলেও শিতুলের গায়ের পোড়া দাগ কারোরই চোখে পরে নাই। তাই তিনি এ বিষয়ে এখনও অনবগত।

_

হিমা আর শাহাব শিতুলকে ধরে বাড়িতে প্রবেশ করে। শাহাব কথা বলতে বলতে শিতুলের কানের পোকা নাড়িয়ে ফেললেও হিমা দরকার ছাড়া একটা বাড়তি কথা বলে নাই। শিতুলের বাবা মা সেই যে হাসপাতাল থেকে গেছে আর আসে নাই। শাহাবের থেকে শুনেছে তার মা কাজে চলে গেছে। তার মা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। তাছাড়া তার বাবাও বেশিরভাগ সময় অফিসে থাকে নাহলে অফিসের কাজে দেশের বাইরে। এগুলো তার কাছে নতুন নয়। অবশ্য এসবে শিতুল বা শাহাবের কোন যায় আসে না। তারা নিজেদের আনন্দ নিজেরাই খুঁজে নেয়। এরমধ্যে শাহাবের আহ্লাদী গলা শুনতে পায়,

— ও চিকার মা শোন না!

শিতুল আস্তে করে জবাব দেয়,
— কি হয়েছে তোর!”

শাহাব গোমরা মুখ করে বলে,
— তোর এ কই বিয়া হয়েছে রে? সব কয়ডারে দেখলে মনে হয় জোর করে এদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। কোথায় ভাবছিলাম বোনের শ্বশুরবাড়িতে এসে রাজার মতো আপ্যায়ন পাবো। তা না করে এরা রাজাকারের মতো ব্যাবহার করছে? মন চাচ্ছে ধান গাছের সাথে দড়ি দেই গলায়।”

— হুম ভাই আল্লাই জানে এটা কই আইছি আমি। এদের দেখলে মনে হয় জঙ্গলের দিকে চলে যাই।”

— কি হয়েছে তোমাদের?”গম্ভীর গলায় বলে হিমা।

শাহাব তড়িঘড়ি করে উত্তর দেয়,
— কিছু না কিছু। ওই তোমাদের নামে সুনাম করছিলাম হি হি।

শিতুলরা সিঁড়ির কাছাকাছি যেতেই হিমাদ্রকে দেখা যায় রেডি হয়ে নিচে নামছে। গায়ে একটা অফ হোয়াইট টিশার্ট তারউপর গাড় নীল রঙের শার্ট। হাতা কুনই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখা। সাদা গার্বিডিয়ান প্যান্টের সাথে সাদা কেডস । চুল। কতগুলো কপালের সাথে লেগে আছে। টিশার্টের গলার কাছে কালো সানগ্লাসটা আটকে রেখেছে। এককথায় পার্ফেক্ট লুক। বেলা তখন ১১:০০ টা। এইসময় ভাইকে রেডি হয়ে বাইরে যেতে দেখে হিমার কপালে কিঞ্চিত ভাঁজ পরে।তবে মুখ ফুটে কিছু বলে না। হিমাদ্র সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে একবার ওদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একপলক শিতুলকে আগাগোড়া পর্যবেক্ষণ করে। শিতুলের পরনে সাদা রঙের সুতির গাউন। চুলগুলো ছেড়ে রাখা। গলায় বেখেয়ালি একটা ওড়না ঝুলিয়ে রাখা।টানা টানা চোখে তাকিয়ে আছে।শ্যামলা মুখশ্রীতে মায়া উপচে পরছে কিন্তু তা মনে হয় হিমাদ্রর ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেললো না।

শিতুলকে দেখে একপলক আড়চোখে শাহাবের দিকে তাকায়। যে কিনা ভ্রু কুঁচকে তার দিকেই সন্দেহ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। যা দেখে হিমাদ্র থতমত খেলেও প্রকাশ করে না। হিমার দিকে চেয়ে বলে,
— আমি বাইরে যাচ্ছি। কখন আসবো জানি না। আবার না আসতেও পারি। মাকে বলে দিস।”

হিমাদ্র এক কদম এগুতেই হুট করে কোথা থেকে বন্ধুমহল এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর। হিমাদ্র বিরক্ত দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে আছে তাদের দিকেই। কোনমতে নিজেকে তাদের থেকে ছাড়িয়ে কিছু বলার আগেই তূর্য হরবড়িয়ে বলে,
— কিরে তুই নাকি বিয়ে করছিস?”

— ভাই তুই তো বহুত ফার্স্ট রে। ঘরে একখান আবার বাইরেও একখান।ইস মামা তুই তো একদম জম্পেস খেলা দেখাইলি রে।” রিমন বিরবিরিয়ে বলে।

ইভান হিমাদ্রর দিকে তাকিয়ে বলে,
— তুই নাকি তোর বউকে মেনে নিচ্চিস না। যাক সেটা ব্যাপার না। তোর যেহেতু বাইরে একটা আছে তাহলে ঘরের জনকে আমাকে দিয়ে দে। আমি তো ভাই কবেই ক্রাশ খাইছি রে।

এরপর দ্রুত পা চালিয়ে শিতুলের সামনে দাঁড়ায়। শিতুল তখনো হা হয়ে যাওয়া মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। আসলে তখন হিমাদ্রর বন্ধুরা হঠাৎ করে এসে বাতাসের মতো সবকিছু করেছে যে শিতুল এখনও হা করে তাকিয়ে আছে।

ইভান মিটিমিটি হেসে ভদ্র বাচ্চার মতো সোজা হয়ে দাঁড়ায়।গলা খাঁকারি দিয়ে একপলক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। দম ফেলে লম্বা করে সালাম দেয়,

— আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বরকাতু ভাবীজান।”

শিতুল এখনও বোকার মতো তাকিয়ে আছে। সেভাবেই কোনমতে বলে,
— ওয়ালাইকুমুস সালাম।

হিমাদ্র এবার শিতুলের কাছে করে বলে,
— বলছিলাম ভাবী আমি তো তোমার জামাইয়ের মতোই। সে যেহেতু তোমাকে বউ মানে না সেহেতু তুমি আমাকে জামাই ভাবতে পারো। তোমার সাথে আমাকে কিন্তু দারুণ মানাবে হিমাদ্রর ভাবী হিসেবে। কি বলিস হিমাদ্র?”

হিমাদ্র আর হিমা দুজনেই বিরক্তি দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে ইভানের দিকে। এই ছেলে এতো দিন হিমার পিছনে পরে ছিল আজকে আবার শিতুলের পিছনে লেগেছে।

হিমাদ্র গম্ভীর কন্ঠে বলে,

— আমি যাচ্ছি। তোরা কি যাবি নাকি থাকবি?”

— কই যাবি তুই?” রিমন জিজ্ঞেস করে।

— মুসকানের সাথে দেখা করতে।”

— তাইলে যা! আমরা ভাবী জানের সাথে থাকি।” ইভান মিটিমিটি হেসে বলে মুখটা গম্ভীর করে বলে।

হিমাদ্রকে এখনও দাড়িয়ে থাকতে দেখে ইভান গম্ভীর গলায় বলে,
— দাঁড়িয়ে আছিস কেন?তোর মুসকান তো আবার দেরি হলে নাটক শুরু করে দিবে। যা যা তাড়াতাড়ি যা। ভাবীকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না আমি আছি তো।”
মুসকানকে নিয়ে খারাপ কথা বলায় হিমাদ্র সাথে সাথে রেগে যায়। রাগে কটমট করতে করতে সেখানে থেকে চলে যাওয়ার সময় শুনতে পায় কিছু কথা,

— ভাবীজান আমাকে কেমন লাগছে?

শিতুল সরল মনে জবাব দেয়,
— অনেক সুন্দর লাগছে।

হিমাদ্র আর দাঁড়ায় না গটগট পা ফেলে চলে যায়। সেটা খেয়াল করে ইভান হো হো করে হাসতে হাসতে বসে পরে। তূর্য,রিহান আর হিমা বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকায় ইভানের দিকে। আর শিতুল বেচারা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইভানের মুখের দিকে।

___________________

প্রায় বিশ মিনিট যাবৎ মুসকানের ফ্যাচফ্যাচ করে কান্না সহ্য করছে হিমাদ্র। মনে মনে রাগ উঠলেও বাইরে যথেষ্ট শান্ত থাকার চেষ্টা করছে সে। ইতিমধ্যে এক বাক্স টিস্যু শেষ করে ফেলেছে মুসকান। নাক টেনে টেনে ফ্যাচ ফ্যাচ করছে।এমনিতেই তার মনমেজাজ ভালো না তারউপর আবার এনি শুরু করেছেন আরেক নাটক।হিমাদ্র আর সহ্য করতে না পেরে ধমক দেয়,

— স্টপ মুসকান। আমার আর ভালো লাগছে না।

মুসকান কাঁদতে কাঁদতে বলে,
— হ্যাঁ হ্যাঁ এখন তো আর আমাকে ভালো লাগবে না। ভালোলাগার মানুষ পেয়ে গেছো না। তোমার বউ। এখন তো তাকেই ভালো লাগবে তোমার। যাও যাও ভালোলাগার কাছে যাও। আমি কে? আমি তো এখন পর। আমাকে ছেড়ে অন্য একজনকে তুমি বিয়ে করে নিছো । আমার কথা একবার তোমার মনে পরলো না হিমাদ্র। আমার সাথে এরকম কীভাবে করতে পারলে তুমি হিমাদ্র। যেই আমি তোমাকে পাওয়ার জন্যে শত শত বিয়ে ভেঙেছি আর সেখানে তুমি কিনা একটা বিয়ে ভাঙতে পারলে না। আমার ভাবতেও লজ্জা লাগছে আমি এরকম একটা কাপুরুষকে ভালোবেসেছি। তোমার জন্য আমি কি করি নাই একটু বলবা? অথচ তুমি! তুমি আমার ভালোবাসার এই প্রতিদান দিলে ছিহ হিমাদ্র ছিহ।”

হিমাদ্র মাথা নিচু করে বসে আছে। কিই বা বলার আছে তার। সবকিছু হয়েছে ওই মেয়েটার জন্য। সব দোষ ওই মেয়ের। ওর জন্যেই আজকে এসব হয়েছে। ভাবতেই রাগে চোখমুখ শক্ত হয়ে উঠছে তার। মুসকানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
— আমার সত্যি করার মত কিছু ছিল না মুসকান। তুমি বোঝার চেষ্টা করো। তুমি তো জানো আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোন মেয়ের দিকে ফিরেও তাকাই না। তুমি জানো না আমি কেমন? আমি সত্যি সরি মুসকান। আমি কখনো তোমাকে হার্ট করতে চাই নাই। তুমি চিন্তা করো না ওই মেয়েকে আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডিভোর্স দিব। তারপর আমি আর তুমি বিয়ে করবো। প্লিজ আর কেঁদো না। তুমি কাঁদলে আমার সত্যি কষ্ট হয়।সব ঠিক হয়ে যাবে।”

মুসকান হিচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
— সত্যি বলছো?”

— তুমি আমাকে অবিশ্বাস্ করছো?”

— না না। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।”

হিমাদ্রর মুখে এবার প্রশান্তির বাতাস বয়। চোখ বুঁজে বড় করে একটা শ্বাস নেয়।

___________

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে শিতুল। সন্ধ্যা নেমেছে ধরনীর বুকে। চারপাশে গোধূলি রঙের ছড়াছড়ি। পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। হিমাদ্র যে তখন বের হয়েছে আর আসে নাই। হিমাদ্রর বন্ধুরা অবশ্য হিমাদ্র যাওয়ার সাথে সাথেই চলে গিয়েছিল। শরীর ব্যাথায় এখনো টনটন করছে। তবুও কোনমতে এতটুকু এসেছে। সারাদিন শাহাবের সাথে ব্যাস্ত ছিল বলে ব্যাথা টের পায় নি কিন্তু এখন হারে হারে টের পাচ্ছে। পোড়া জায়গাটা যেন আরো গভীর হয়েছে। পোড়ার কথা মনে পড়তেই চোখ টলমল করে উঠে। গতকাল রাতেই তো হিমাদ্র তাকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছিল। তারপর আবার তার মুখ বেঁধে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে দাড় করিয়ে রেখেছিল। আর তারপর রুম অন্ধকার করে আগুন জ্বালিয়ে কিছু একটা করেছিল।ব্যাথা যেন আরো জেকে ধরেছে শিতুলকে। সবকিছু মিলিয়ে কাঁদছে সে। কালকেই শাহাব চলে যাবে হোস্টেলে। শাহাব বয়েজ স্কুলে পড়ে যা মোটামুটি দূরেই বলা চলে। তার সাথে দেখা করতে আর যখন তখন আসতে পারবে না। তাকে এখন এই বন্দী কারাগারে বসবাস করতে হবে।

বাইরে আবার কালকের মতো ঝড়ো হাওয়া বইছে। শিতুল তাড়াতাড়ি করে রুমে আসে। কারেন্ট চলে গেছে। রুম অন্ধকার হয়ে আছে। জেনারেটর চলছে না কেন বুঝতে পারছে না শিতুল। ভয়ে হাতড়ে হাতড়ে আয়নার সামনে যেতেই যা দেখে তাতে ভয়ে জোরে এক চিৎকার দেয়,
— আল্লাহ।

চলবে…..::.

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x