Golpo:Ek Chilte Sukher Asha(02)

পর্ব সংখ্যা: [২]

“চারপাশ আনন্দের স্রোতে ভাসছে, উল্লাসে প্রাণঘন হয়ে উঠেছে। কুহেলির চোখ-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, অথচ পুরো রুমটি সতর্ক যত্নে সাজানো, যেন প্রতিটি কোণ উল্লাসের সাক্ষী। কুহেলি বিছানার মাঝ বরাবর বউ সাজে বসে আছে, ওর শখা বাবুর আগমনের অপেক্ষায়।

-“রাতের ঘন্টা বারো পার হলো, তবুও সেই মানুষটির কোনো লেশমাত্র নিঃশব্দ উপস্থিতি নেই। হঠাৎ ইশরাক রুমে প্রবেশ করে, হালকা শব্দে দরজা বন্ধ করে দিল। এক নজর কুহেলির দিকে তাকিয়ে দ্রুত ওয়াশরুমের দিকে ফ্রেশ হওয়ার জন্য এগোল। দশ মিনিট পর বের হয়ে, বালিশ নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পড়ল, অথচ কুহেলির চোখে আকাঙ্ক্ষা আর প্রত্যাশার অগ্নি ম্লান হতে থাকল।

কুহেলি এতক্ষণ ধরে যার জন্য অপেক্ষা করেছে, সেই মানুষটা একবারও ওকে চেয়ে পর্যন্ত দেখল না। ছোট্ট  কুহেলির মুখ বিষাদের আচ্ছাদনে সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে, হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে। ধীরে বিছানা থেকে নেমে ফ্লোরে বসে, কুহেলি মৃদুস্বরে ডাকল, “ডাক্তার সাহেব শুনছেন কী?”

ইশরাক তড়িৎ গতিতে চোখ খুলে কুহেলির মুখপানে দর্শন করল। চোখে-মুখে বিস্ময়ের ছাপ, হালকা হাসি আর অদ্ভুতভাবে সুন্দর ভঙ্গি—এই প্রথমবার ইশরাক কুহেলিকে এত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করল। ওর চোখ ঝলমল করছিল, মনে হচ্ছিল যেন, ক্ষণিকের জন্য সবকিছু থমকে গেছে। তারপর সে দৃষ্টি সরিয়ে কঠিন স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়ল, “কিছু বলবেন?”

-“কুহেলি একটুখানি ইতস্তত বোধ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, আমার না খুব ক্ষুধা পেয়েছে, সেই সকাল থেকে কিছুই খাইনি। আপনি কী আমাকে একটু খাবার দিতে পারবেন?”

ইশরাক দ্রুত গতিতে উঠে বসল এবং সামনে বসে থাকা কিশোরীর দিকে গাঢ় দৃষ্টিতে তাকাল। চেহারায় কলুষিত ভাব, চোখের গভীরতা, মায়া ভরা চাহনি—যে কোনো মানুষকে অনায়াসে বিমোহিত করতে পারবে। তারপর ধীরস্বরে বলল, “আমি এখনই খাবার নিয়ে আসছি। একটু অপেক্ষা করুন, প্লিজ।”

‘বেশ কিছুক্ষণ পর ইশরাক খাবারের প্লেট নিয়ে রুমে ফিরে এলো। কুহেলি হাত ধুয়ে খেতে বসেছে। ইশরাক বিছানায় চুপচাপ বসে ভাবছে—মেয়েটা সকাল থেকে কিছুই খায়নি, অথচ ওই অভদ্র মহিলা ওকে খাবার খেতে দেয়নি। এ ধরনের মানুষ দুনিয়ায় বেঁচে আছে কেন?

কুহেলির শান্ত ডাকে ইশরাক হুঁশে ফিরল। চোখে চোখ রেখে, অবসাদগ্রস্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “ডাক্তার, আপনি খাবেন না?”

-“ইশরাক মৃদুস্বরে জবাব দিল, “নাহ!

-‘কুহেলি পুনঃ বলল, বাবা বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী একসাথে খাবার খেতে হয়। আপনি কী আমার সাথে খাবেন?”

ইশরাক কি বলবে, বুঝতে পারছিল না। কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইল। কুহেলি পাশে দাঁড়িয়ে, প্রফুল্লচিত্তে মুখ হাসির রেখা বজায় রেখে, ইশরাকের মুখের সামনে ভাতের লোকমা বাড়িয়ে দিল। ইশরাক আর কোনো বাঁধা দিল না—কারন, ওর খুব ক্ষুধা পেয়েছে।

“খাওয়া শেষ করে কুহেলি পরিশ্রান্ত স্বরে বলল,
ডাক্তার আপনি বিছানায় ঘুমান, আমি ফ্লোরে শুয়ে যাব। আপনার তো সাইনোসাইটিসের সমস্যা আছে, ঠান্ডা লাগলে অসুস্থ হয়ে যাবেন।”

ইশরাক বেশ আশ্চর্য হলো। পরিবারের বাইরে কেউ তো জানে না, ওর সাইনোসাইটিসের কথা। তাহলে কুহেলি জানল কীভাবে?

ইশরাক বিস্মিত কণ্ঠে প্রত্যুত্তর করল,“সমস্যা নেই! আলমারিতে ড্রেস রাখা আছে। আপনি ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে যান।”

-“কুহেলি ইশরাকের মুখপানে গভীরভাবে তাকিয়ে, শান্ত ভঙ্গিতে, খুব কোমল কণ্ঠে বলল,“আমি আগে থেকেই নিচে শুতে অভ্যস্ত। আপনি দয়া করে বিছানায় গিয়ে ঘুমান। নয়তো আমার আর রাতে ঘুম আসবে না।”

ইশরাক আর কথা বাড়াল না। বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।

‘কুহেলি ফ্লোরে শুয়ে উপরে ঘুরতে থাকা ফ্যানটার দিকে অপলক তাকিয়ে রইল। মনে মনে শখা বাবুকে নিয়ে কত কি ভেবে রেখেছিল—অথচ বাস্তবে কিছুই ঘটল না। ওর ক্লান্তিতে মাখা মুখে চিন্তার উদ্রেক স্পষ্ট।

-“চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগল—এই মানুষটাও বোধহয় আমার নয়। আমি যেন উড়ে এসে জুড়ে পড়েছি। আমার জীবনে কী কারোর বুকে ঠাঁই হবে না? কেনো হলো না?

কুহেলির মনে প্রশ্ন জাগল—
আমি খুব বেশি পাপ করে ফেলছি নাকি?
অবহেলায়, অবেলায়—এভাবেই দিন চলে যায়!”

-‘গভীর রাতের নিস্তব্ধতা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। কোলাহল বিচ্ছিন্ন। কেবল নিজের হৃদস্পন্দন আর ঘড়ির টিকটিক আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এই স্তব্ধতায় মন গভীর চিন্তায় মগ্ন।

হঠাৎ ইশরাকের ঘুম ভেঙে গেল। উঠে বসে কুহেলির পাশে, ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে দৃষ্টি রাখল। একদম শিশুদের মতো শান্তভাবে শুয়ে আছে—চোখের মণি সামান্য প্রসারিত, পাতার ভাঁজে মৃদু ফোলাভাব ফুটে উঠছে। ঘুমন্ত চোখে ক্লান্তি আর বিষাদ মিশ্রিত, যেন সে নিজেই এক বিষাদিনী। জানালা দিয়ে ছুঁটে আসা এক ফালি চাঁদের আলো মুখে পড়েছে, মায়াবী সেই ভঙ্গিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

ইশরাকের ঘোর কেটে গেছে। চট করে উঠে বিছানায় সটানভাবে শুয়ে পড়ল। মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করছে—“আমি এসব কী করছিলাম?”

-“শরতের ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। এ যেন কোমল, স্নিগ্ধ, থমকে যাওয়ার মতো পরিবেশ। পাখির কিচিরমিচির ডাকে কুহেলির ঘুম ভেঙে গেল।

আলমারি থেকে একটি গোলাপি রঙের শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল। আধ ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিল। এবার একবার ইশরাককে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল, তারপর গুটি গুটি পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে রান্না ঘরে উঁকি মেরে দেখল—সকলেই এখন ঘুমিয়ে আছে।

-“খান-বাড়িতে এত সকাল সকাল কেউ ওঠে না। কুহেলি রান্না ঘরে ঢুকে সবকিছু মোটামুটি খুঁজে নিয়ে নাস্তা রেডি করতে লাগল। কায়রা খানম ঘুম থেকে উঠে অবাক হয়ে ডাইনিং টেবিলে সাজানো নাস্তা দেখছে। রান্নাঘরে এসে দেখল, সবকিছু গোছালো এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। কুহেলি শাড়ির আঁচল কোমরে বেঁধে কাজ করছে।

পিছন থেকে কারোর স্পর্শ অনুভব করে হকচকিয়ে ফিরে তাকাল। আমতা আমতা কণ্ঠে বলে উঠল, “আআআ… আপনি?”

‘কায়রা খানম হাসলেন। “মা, তুমি এত সকাল সকাল একাই নাস্তা রেডি করে ফেলেছ, অথচ আমি টের পর্যন্ত পেলাম না। বলো, আমায় ডাকলে না কেন?”

-”কুহেলি কাচুমাচু করে তাকিয়ে লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল। সংকোচ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল,“কেউ ঘুমালে তাকে বিরক্ত করতে নেই। আচ্ছা আপনার ছেলে সকালে চা নাকি কফি খায়?”

কায়রা খানম পুত্রবধুর মাথায় হাত রেখে প্রশ্ন করলেন,“শ্বাশুড়ি হয়েছি বলে কি আমাকে ‘মা’ ডাকা যাবে না? তুমি শুধু আমার ছেলের বউ নও, মেয়ের মতো। আমি চাই, আমায় ‘মা’ বলে সম্মোধন করো। তাহলে আমি খুব খুশি হব। আমার এইটুকু আবদার রাখবে কী?”

-‘কুহেলি অস্পষ্ট স্বরে ডেকে উঠল,“মা…আআ!”

কায়রা খানম ছোট্ট কুহেলিকে বুকে জড়িয়ে নিলেন এবং মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। খান বংশের নববধূ—ছোট্ট মেয়েটি—নিস্পাপ শিশুর ন্যায় শাশুড়ি মাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে, প্রশান্তিতে ওর বুকটা ভরে গেছে।

দু’চোখ ফেটে অঝোরে অশ্রু বের হতে চাচ্ছে, কিন্তু কুহেলি নিজেকে শক্ত করে আবেশে চোখ জোড়া বন্ধ করে রেখেছে। এই প্রথমবার মায়ের মমতা পেয়েছে, কারোর বুকে ঠাঁই পেয়েছে। ইচ্ছে করছে হাউমাউ করে কাঁদতে। জড়িয়ে থাকা মানুষটাকে চিৎকার করে প্রশ্ন করতে, “আমায় এভাবেই রোজ একবার জড়িয়ে ধরবেন কী?”

কিন্তু কুহেলি তা করল না। শ্বাশুড়ির বুক থেকে মাথা তুলে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কায়রা খানম ছেলের বউয়ের কপালে আলতো করে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিলেন। তারপর হাসিমুখে বললেন, মা- “ইশরাক রোজ সকালে এক কাপ কফি খায়।”

-“কুহেলি তৃপ্তির হাসি নিয়ে কফি বানাচ্ছে। শ্বাশুড়ি পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে, ছোট্ট হাতে মেয়েটা কতো দ্রুত ও সাবলীলভাবে কাজ করছে। একমাত্র ছেলের জন্য উপযুক্ত বউ বেছে এনেছে—এই গর্বে কায়রা খানমের বুক ভরে গেল।

-“কুহেলি কফি বানিয়ে রুমে এসে বিছানায় বসে অপেক্ষা করতে লাগল। ইশরাক ওয়াশরুমে, গোসল করে ফ্রেশ হচ্ছে। খানিকক্ষণের মধ্যে ইশরাক সাদা রঙের তোয়ালে কোমরে বেঁধে বেরিয়ে এলো। চুল থেকে পানি টপটপ করে পড়ছে, প্রশস্ত বুকটা ভিজে দেখা যাচ্ছে। কুহেলি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে নিল।

ইশরাক ঢিলেঢালা টিশার্ট আর ট্রাউজার পরে, চুল মুছতে মুছতে কুহেলির সামনে এসে দাঁড়াল। কুহেলি দ্রুত কফির মগটা বাড়িয়ে দিল। এরপর তাড়াতাড়ি খাটের উপর উঠে তোয়ালে দিয়ে ইশরাকের ভেজা চুল মুছে দিল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উজ্জ্বল বর্ণের পুরুষ অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। দু’জনের চোখ চোখে মিশল—কুহেলি লাজুক দৃষ্টি ফেরাল।

-“কাজ শেষ করে কুহেলি ওয়াশরুমে ঢুকে ভেজা কাপড় গুলো ব্যালকনিতে ঝুলিয়ে দিল। ইশরাক ফোনে কথা বলতে বলতে কফিতে চুমুক দিল—আজ স্বাদটা অন্যরকম, তবে বেশ ভালো লাগছে।

ইশরাক কফি শেষ করে লিভিং রুমে এলো। দেখল, কুহেলি আত্মীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছে। শ্বাশুড়ি প্রশংসা করছে, বাকিরা হাসিমুখে শুনছে। কায়রা খানম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,“বাবু, এইদিকে আয়, দেখে যা তোর বউয়ের কান্ড।”

সবাই একসাথে সকালের নাস্তা করছে। কুহেলিকে ওর শ্বাশুড়ি মা খাইয়ে দিচ্ছেন, সাথে নিজেও খাবার খাচ্ছেন। কুহেলির দুই ননদ খাবারের প্রশংসা করছে।
ইয়াশা হেসে হেসে বলল,“ভাবি, তোমার হাতে সত্যি যেন যাদু আছে! খাবারগুলো খুব সুস্বাদু হয়েছে।
ভাইয়া তোমার হাতের রান্না খেয়ে পাগল হয়ে যাবে।”

‘ইরাবতী ব্যঙ্গ করল,“হ্যাঁ, আমাদের ভাই তো সবার হাতের রান্না খায় না। তবে এবার কুহেলির রান্না খুব পছন্দ করবে। ওর থেকে হালুয়া বানানোটা শিখে রাখতে হবে।”

ইশরাক চুপচাপ খাচ্ছে, কোনো কথা বলছে না। হঠাৎ করে ওর কাশি উঠল, খাবার মস্তকে আটকে গেছে। চটজলদি পানি খেয়েছে, কিন্তু কাশি যেন থামছে না। সবাই ওকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল। কুহেলি দ্রুত উঠে রান্নাঘরে চলে গেল।

-“দুই মিনিটের মধ্যেই গ্লাসে কুসুম গরম পানি নিয়ে এসে ইশরাককে পান করাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সব কিছু স্বাভাবিক হলো।

এরপর কুহেলি পাশে দাঁড়িয়ে নিজের হাতে ইশরাককে খুব যত্ন করে নাস্তা খাইয়ে দিচ্ছে। ইশরাক স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে—কারণ ওর আধখাওয়া খাবার কুহেলি খাচ্ছে। বাকিরা সবাই মিটমিট করে হাসছে।

এভাবে তিনদিন হাসি-আনন্দে কেটে গেছে। ইশরাক একবারও আগ বাড়িয়ে কুহেলির সাথে কথা বলেনি। কোনো প্রশ্ন করলে শুধু উত্তর দিয়েছে। দু’জনে রাতে আলাদা শুয়েছে—ইশরাক খাটে আর কুহেলি ফ্লোরে।

“মনের ভেতরের চিন্তা-ভাবনা, স্মৃতিচারণা—রাতের নিস্তব্ধ গভীরতা থেকেই যেন জন্ম নেয়। কুহেলি শুয়ে শুয়ে ভাবছে, হয়তো স্বামী আমায় খুব অপছন্দ করেন।
তবে আমি একটা পরিবার তো পেয়েছি। আমার বেঁচে থাকার জন্য এইটুকুই যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই।

-“প্রিয় মানুষেরা দূরে চলে গেলে তীব্র দুঃখ, শূন্যতা, একাকীত্ব আর হতাশা অনুভব হয়। এটা একটি কষ্টকর ও কঠিন অভিজ্ঞতা, যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক সময় লেগে যায়।

সকালে ইশরাক কুহেলিকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাচ্ছে। বাড়ির সবাই ভীষণ মন খারাপ করে আছে। কায়রা খানম পুত্রবধূকে বুকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুজড়িত কণ্ঠে বললেন,— মা, ঠিকমতো খাবার খেও আর নিজের খেয়াল রেখো।

তিনি একটু থেমে চোখের পানি মুছে নিলেন। তারপর আবার বললেন, ইশরাক তো সারাদিন বাসায় থাকে না। তোমাকে একা একাই বেশি সময় পার করতে হবে। এত দ্রুত কাজ করতে যেও না, সবকিছু খুব ধীরে ধীরে করবে। ইশরাক যদি কখনো রেগে তোমাকে বকা দেয়, শুধু আমাকে একটা কল করবে—আমি তাড়াতাড়ি চলে আসব। ঠিক আছে?

-‘কুহেলি শুধু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল।

কায়রা খানম নিজের ছেলেকেও ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেন কুহেলির খেয়াল রাখে। ওর বেলায় কোনো কিছুর কমতি না রাখে। এখন কুহেলির বয়স কম, বুঝশক্তি কম—ভুল করলে রাগ না দেখিয়ে বুঝিয়ে কথা বলতে বলেছেন।

কুহেলি ওর শাশুড়ির পায়ে হাত দিয়ে সালাম করল। ইয়াশা কেঁদেই ফেলেছে। চোখের পানি মুছে ভাইয়ের বউকে জড়িয়ে ধরে বিলাপী স্বরে বলল,— ভাবি রে, আমি তোকে খুব মিস করব। আমার পরীক্ষা শেষ হলে আম্মুর সাথে চলে আসব।

-‘ইরাবতী কুহেলির কপালে চুমু খেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। স্নিগ্ধ কণ্ঠে, মুখে মুচকি হাসি বজায় রেখে মায়ের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করল,— আম্মু, তোমরা এভাবে কাঁদলে মেয়েটা শান্তিতে যেতে পারবে নাকি?

সবাই হাসিমুখে বিদায় দাও। আর ভাই, আমি যদি শুনি, তুই কুহেলিকে কোনো ব্যাপারে কষ্ট দিয়েছিস! তাহলে তোর দুলাভাইয়ের পুলিশের লাঠি নিয়ে চলে যাব। আচ্ছামতো মেরে তারপর আবার ফিরে আসব বলে দিলাম।

সবাই শুনে হেসে ফেলল। ইরাবতীর একমাত্র ছোট্ট ছেলে ইমতিয়াজ কুহেলির দিকে একটা ডার্ক চকলেট বাড়িয়ে দিয়ে বলল,— মামি, তুমি আবার তাড়াতাড়ি চলে আসবে। আমরা কিন্তু একসাথে খেলব।

অতঃপর কুহেলি ছলছল চোখে সবার থেকে বিদায় নিয়ে ইশরাকের সাথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

-“পরবর্তী অংশ খুব শীঘ্রই নিয়ে আসব….

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x