গল্প: কাছে আসা বারণ (০৪)

লেখিকা:হুমায়রা মুর্তজা

পর্ব — ৪

 

রিমঝিম কাঁপছে তখনও। পায়ে একেবারেই বল পাচ্ছেনা। অনুভুতি শূন্যভাবে হেঁটে চলেছে পুরান ঢাকার সরু গলিতে। পাবে কিভাবে? ছোট থেকে মুখচোরা স্বভাবের রিমঝিম, বাড়ি থেকে বেরিয়েছে খুব কম। স্কুল থেকে বাড়ি, বাড়ি থেকে স্কুলে এসেছে মাথা নিচু করে। একদিন সকালে অফিস গিয়ে আর ফিরে এলোনা ওর বাবা। থানা-পুলিশ, কেস করে কোনোভাবেই তার সন্ধান পাওয়া গেলনা। সবাই ধরে নিল জাহিদ সাহেব মারা গিয়েছেন। নয়তো জলজ্যান্ত মানুষ হারিয়ে যাবেই বা কেন? বাবা নেই! এটা রিমঝিম অনুভব করলেও বুঝল না। সংসারের কর্মক্ষম জাহিদ সাহেবের লাপাত্তা হবার দরুন ওর নানা এলেন রংপুরে। জোয়ান মেয়ে-নাতনীকে তিনি বিভূঁইয়ে একা তো আর ফেলে রাখতে পারেন না। খুলনায় ওর নানাবাড়িতে তখন বিশাল সংসার। দুজন মামা,মামানি সহ ভাই-বোন মিলিয়ে প্রায় দশ জনের ভরা গৃহস্ত সংসার। মামীরা বাঁকা চোখে দেখতেন ঠিকই। আড়ালে হয়তো মুখ কালো করতেন। কিন্ত সামনা-সামনি তেমন কিছুই বলতেন না। সংসার তখনও হাতে আসেনি তাদের। নানাভাই রিমঝিমকে আদর করতেন ভীষণ। তবুও বাবার অভাব পূরন হয়? হয়না একদমই। বাবারা হলেন শূন্যে ডালপালা বিছিয়ে রাখা বিশাল বটবৃক্ষ। যার শীতলতায় সন্তানেরা দুনিয়াবি কঠিন ঝড়-ঝঞ্ঝা হতে আড়াল হয়ে থাকে। নতুন করে স্কুলে ভর্তি হয়ে গেল সেখানে। বাবার আদর ছাড়া দুটো বছর কেটে গেল সেখানে। রিমঝিম তখন প্রথন শ্রেনীতে পড়ে। স্কুল থেকে বাসায় এসে দেখল বসার ঘরে বেশ কয়েকজন অপরিচিত বয়োবৃদ্ধ মানুষ বসে আছেন। নানাভাইও তাদের সঙ্গে বেশ বিনয়ীভাবে কথা বলছেন। বসার ঘরের দিকে আর গেলো না রিমঝিম। বাইরে দাঁড়িয়ে রইল ঠায়। তখনই দেখল ওর মা একটা ট্রে হাতে নিয়ে, মাথায় ঘোমটা দিয়ে আস্তেধীরে হেঁটে আসছেন। মায়ের মুখটা শুকনো লাগছে। যেন অনেকক্ষণ কেঁদেছেন তিনি। অবশ্য বাবা হঠাৎ হারিয়ে যাবার পর রিমঝিম ওর মাকে প্রায়শই রাতে কাঁদতে দেখে। কখনো কখনো মায়ের বুকে মুখ গুঁজে সে নিজেও কাঁদে। কাঁদলে যদি বাবা ফিরে আসত তাহলে রিমঝিম সারারাত কাঁদত। প্রতিদিনই ওর মনে হয় কাল বুঝি বাবা চলে আসবেন। রাতের পর সকাল আসে ঠিকই। কিন্তু বাবা আর আসেনা। সেই লোকগুলোর মধ্যে কি কথা হলো রিমঝিম বোঝেনি। তবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর ওর মা যখন ঘরে এলেন তখন তিনি মেয়েকে ধরে অঝোরে কাঁদলেন। কাঁদতে কাঁদতে রিমঝিমের স্কুলের ইউনিফর্ম খুলে ওকে ফ্রেশ করিয়ে খাইয়ে দিলেন। রিমঝিমের প্রিয় গোলাপি প্রিন্সেস ফ্রক পরিয়ে, দুপাশে সুন্দর করে চুল বেঁধে দিলেন। ঠোঁটে লিপস্টিকও দিয়ে দিলেন। সেদিন অনেক ভালো খাবার-দাবার রান্না হয়েছিল নানারাড়িতে।পোলাওয়ের সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে ছিল আশপাশ। বেশ আয়েশ করে মায়ের হাতে পোলাও আর ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত মেখে খেলো। খেয়েই দিল একটা বিশাল ঘুম। ঘুম ভাঙল একেবারে রাতে৷ ঘরে বাতি জ্বলছে। দেখেই বুঝল রাত হয়েছে। রাত ছাড়া তার নানু বাড়ি রাতি জ্বালানো নিষেধ। ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙে মাকে খুঁজল সে। কিন্তু মাকে কোথাও পেলনা রিমঝিম। পুরো বাড়ি যেন নিস্তব্ধ। ঝিঝি পোকা ডাকছে। বাইরেটা অন্ধকার। অন্ধকারের মধ্যেই বাইরে বেরিয়ে এলো গুটিগুটি পায়ে। উঠোনে বড় মামানি রান্না করছিলেন। ওকে দেখে বড় মামানি বললেন, —’ এখন উঠলে হবে? মায়ের সঙ্গে তো আর দেখা হলোনা তোমার? ‘

ঘুম ঘুম চোখটা ছোটছোট হাতে কচলে জানতে চাইল রিমঝিম,— ‘ মা কোথায়? আমাকে নিয়ে গেল না কেন?’

বড় মামানি এগিয়ে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন রিমঝিমের। বললেন,— ‘ তোমার মায়ের বিয়ে হয়ে গেছে রিমঝিম। এখন থেকে তোমার মা নতুন বাড়িতে থাকবে।’

— ‘ আমি কখন যাব সেখানে?’ উৎসুক হয়ে বাচ্চাটা জানতে চাইল ঠিকই কিন্তু সে হয়তো তখনও বুঝতে পারেনি বাবা না থাকলে মা-ও থাকেনা। তারাও হারিয়ে যায়। কিংবা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাদের হারিয়ে দেয়। বড় মামানি কিছু বললেন না রিমঝিমকে। বরং আঁচলে চোখ মুছে ঘরের দিকে চলে গেলেন।

মা নেই শুনে রিমঝিম বরং খুশিই হলো। সে গিয়ে বসল বাড়ির পেছন সাইডের পুকুর পাড়ে। এদিকে একটা টিমটিমে বাতি জ্বলছে। সেই আলোতে মাটি দিয়ে খেলতে বসল রিমঝিম। দুহাতের নখ বিধিয়ে মাটি তুলে খেলতে শুরু করল। মা থাকলে এখানে একা আসতে দিত না কখনো। তারপর পুকুরের পানিতে পা ঝুলিয়ে বসে রইল কিছুক্ষণ। ইটের টুকরো কুড়িয়ে পানিতে ছুড়ল। কুচুরিপানার পাতা ছিঁড়ে এনে কাঠি দিয়ে চিকন করে চিরে পুতুল বানালো। ঠিক তখনই অন্ধকার থেকে একটা ছেলেকে এগিয়ে আসতে দেখল। ছেলেটির বয়স বুঝতে না পারলেও সে রিমঝিমের থেকে বেশ বড় এতটুকু অবশ্য বুঝল।সদ্য দাড়ি-গোঁফ গজাচ্ছে চিবুকে তার। কণ্ঠটাও ভাঙাভাঙা। ঝকড়া চুল মাথাভরতি। ছেলেটা এসেই ধমকাল রিমঝিমকে, — ‘ এই পিচ্চি এই? পানিতে ভূত থাকে জানোনা? পা টেনে ধরে মাঝ পুকুরে নিয়ে যাব। উঠে এসো ওখান থেকে।’

ছোট রিমঝিম তখন ব্যস্ত পুতুলের বিয়ে দিতে। অমন অনাকাঙ্ক্ষিত মেহমান তার পুতুলের বিয়েতে প্রয়োজন নেই। যে কি না এসেই ধমকায়। ফুলো গাল গুলো আরও ফুলিয়ে সে-ও রেগে রেগে বলল,— ‘ তোমাকে ভূতে ধরবে। বাবা বলেছে আমি অনেক সাহসী। তোমার ভয় করলে এখানে এসেছো কেন? ‘

— ‘ বড়রা কথা বললে সেটা শুনতে হয় জানোনা পিচ্চি? উঠে এসো? ‘

— ‘ না আসব না। তুমি খেলবা আমার সঙ্গে? ‘

— ‘ পুতুল নিয়ে পিচ্চিরা খেলে। আর আমি পিচ্চি নই। কচুরিপানার মধ্যে সা প থাকে। তুমি উঠে এসো পিচ্চি। ‘ ছেলেটি আবারও ধমকের সূরে রিমঝিমকে উদেশ্যে করে বলল।

— ‘ আমি পিচ্চি না। আমার আট বছর। ‘ বলেই মাটি লেগে থাকা হাতের সব গুলো আঙুল বের করে ছেলেটিকে দেখাল রিমঝিম। আট আঙুলের জায়গায় দশটা আঙুল দেখালো রিমঝিম। এতেই হেসে ফেলল ছেলেটা। বলল,

— ‘ তুমি তো অনেক বড় পিচ্চি। এবার বাড়িতে চলে যা-ও। এই তেঁতুল গাছে পেত্নি থাকে। পিচ্চিদের রাতের অন্ধকারে একা দেখলে গাছ থেকে নেমে এসে ওদের দেশে নিয়ে যায়। ‘

পেত্নিদের কথা শুনে ভাসা ভাসা চোখ গুলো আরও ভাসল রিমঝিমের। আগ্রহ সহকারে জানতে চাইল, — ‘ ওখানে নিয়ে কি করে? ‘

— ‘বড় বড় হাড়িতে বাচ্চাদের স্যুপ বানিয়ে খায়। তুমি হ্যানসেল আর গ্রেটেল দেখেছো না? ওই ডায়নীটা যে হ্যানসেলের স্যুপ বানাতে চেয়েছিল সে এই তেঁতুল গাছে থাকে। তুমি স্যুপ খেয়েছো কখনো? ‘

মাথা নাড়িয়ে রিমঝিম বলল,—’ হুম অনেক…. ‘

এবারে ছেলেটা হাঁটু গেড়ে রিমঝিমের সামনে বসল ওর সমান উচ্চতায়। উঁচু করে বাঁধা ঝুটিটা একটু টেনে দিয়ে বলল,— ‘ তুমি ডায়নীর স্যুপ হতে চাও?’

ভয়ে বিস্ফোরিত নেত্রে ছেলেটাকে উদেশ্যে মাথা নাড়ায় রিমঝিম, — ‘না!’

—’ তাহলে বাসায় চলে যাও। একা একা রাতে আর কখনো এখানে আসবেনা পিচ্চি। ওকে? ‘

 ব্যস তখনই দৌড়ে বাড়ির ভেতরে চলে এলো সে।হ্যানসেলকে আটকে রাখা ডায়নীটার স্যুপ সে মোটেও হতে চায়না। সেই দিনের পর রিমঝিমের মা চলে গিয়েছিলেন। তিনি এলেন মাস দুয়েক পর। ততদিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছে রিমঝিম। মাকে ছাড়া তার থাকার অভ্যস নেই। জ্বর, মানসিক আঘাতে চঞ্চল বাচ্চাটা ধীরেধীরে বুঝে গিয়েছে নির্মম বাস্তবতা। বাবা-মা হীনা পৃথিবীটা কঠিন। সেই কঠিন জীবনে রিমঝিমের মা সুমনা এলেন দুপুরে। মেয়েকে জড়িয়ে অনেকক্ষণ কাঁদলেন। আর রিমঝিম? মাকে পেয়ে সুস্থ হয়ে গেল৷ পেট পুরে খেল। বুকের সঙ্গে মিশে রইল। ওর মা বিকেলের দিকে নানাভাইয়ের সঙ্গে কিছু কারণ নিয়ে বেশ রাগারাগি, কান্নাকাটি করলেন। নানা ভাই, মামাও রেগে উঠলেন। ওসব দেখে মন খারাপ করে আবারও বাড়ির পেছন দিকে এসে বসে থাকল রিমঝিম। সবার কথায় এতটুকু বুঝেছে ওর মা আবারও চলে যাবেন ওকে ফেলে৷ বিষন্ন চিত্তে একটা পাঠকাটি দিয়ে মাটিতে আঁকিবুঁকি করার সময় দুচোখ বেয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়ল সেই আট বছরের বাচ্চাটার। বৃদ্ধ নানা-নানি আর কতইবা দেখাশোনা করতে পারেন ওর। মামানিরা নিজেদের সন্তান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ওর দিকে খেয়াল নেই। অযত্নে, অবহেলায় বেড়ে উঠছিল নানাবাড়িতে। ঠিক তখনই আবার ওর ঠিক পেছন থেকে কেউ একজন বলছে, — ‘ পিচ্চি? তুমি আবার এখানে এসেছো? বলেছিলাম না পুকুরে ভূত আছে? ‘

দুহাতে চোখ মুছে ফোঁপাতে ফোপাঁতে বলল, —’কিছু নেই। তুমি কোথায় থাকো? সেদিনের পর তোমাকে আর দেখলাম না কেন? ‘

 ছেলেটা এসে এবার বসল রিমঝিমের পাশে। স্নেহময় কণ্ঠে জানতে চাইল,

 — ‘তুমি কাঁদছো কেন পিচ্চি? ‘

বাচ্চা মেয়েটা তখনও ফোঁপাচ্ছে। কান্নাকাটিতে নাক দিয়ে সর্দি পড়া শুরু হলে ছেলেটা ঢোলা প্যান্টের পকেট থেকে একটা টিস্যু এগিয়ে দিল। ছোট ছোট হাতে নাক মুছে আবার টিস্যুটা ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিল রিমঝিম। বলল,

— ‘ নাও ধরো। ‘

নাক কুচকে ছেলেটা বলল,— ‘ তোমার কাছে রাখো। ‘

 টিস্যু না নেয়ায় বাচ্চা রিমঝিম বেশ পাকনি কন্ঠে বলল, — ‘এটা তোমার টিস্যু। আমি নেব না। বাবা বলে অন্য কারো থেকে কিছু নিতে হয়না। কারো কাছ থেকে কিছু নিলে সে নাকি কিডন্যাপ করে কিন্তু তুমি আমাকে টিস্যু দিলে কেন? কিডন্যাপ করবা আমারে? ‘

আজ আবারও হাসল ছেলেটা, — ‘ হ্যাঁ কিডন্যাপ করব তোমাকে পিচ্চি। কিন্তু তুমি বড় হলে। পিচ্চি কিডন্যাপ করে নাকের সর্দি পরিস্কার করতে পারব না। ততদিন একা একা বাড়ির পেছনে, পুকুরের কাছে আসবেনা ওকে? ‘

বলে ডাকা দাড়াল ছেলেটা। টিস্যুটা নিয়ে পকেটে দিয়েছে। কিছু দূর থেকে গাড়ির হর্ণ চালু হচ্ছে। সে দিকেই চুটল ছেলেটা। যাবার আগে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখা গেল রিমঝিমকে। আর রিমঝিম? দুচোখ দলকে জল নিয়ে হাতে তুলে জানাল ছেলে ছেলে…. অভিযোগকারীর বিদায়ের সময় গাড়ির হর্ণর ফরম চমকে উঠল রিমঝিম। অন্যমনস্ক থাকার কারণে মনের জোরে জটলা বেঁধ আছে। সেই ছেলে আজ আবার আমার মনে পড়ল! কেন মনে পড়ল রিমঝিম জানেন। সব ঘোষণা আশেপাশে চাইল রিমঝিম। গাড়ি,রিক্সা, সিনজি অটোরিকশা সব থেমে আছে। তৈরি করেছে যানজট। আর মহারাজ ঠিক মাঝখানে আমার ছেলেটা বেধড়ক পেটাচ্ছে কেউ একজন! পাঞ্জাবি, নীল জিন্স আর দীর্ঘকাল অবয়বটা মুসলিম মাত্র সেকেন্ডের লোক কয়েকটা চিনতে। গুন্ডাটা ! একটু আগে লিফট থামিয়ে আমাদের সাথে অসভ্যতা রে! আর এখন মা রা মারি করছে। আজ অবশ্য কষ্টের মধ্যে গেল না রিমঝ। সহজ পাশ দিতে আসতে উদ্যত হল। আর তখন ছেলে ছেলে কলার চেপে নিজের করে চোয়ালে একটা ঘুষি মার ল শুদ্ধ। সেইটা ব্যথায় চিৎকার করে উঠল। সেই আর্তচিৎকারে অস্বাভাবিকভাবে কেপে উঠল রিমঝিম। কাঁধের ব্যাগটা বুকের সাথে চেপে ভয়ার্ত শব্দে আওড়ালো, — ‘না…..!’

চোয়াল শক্ত করে শুদ্ধর হাতটা থেমে গেল চক্কিতে। বিস্ফোরিত নেত্রে চেয়ে চেয়ে সামনের দিকে টলটলে আঁখি নিয়ে ভয় রিমঝিমের। ঠিক ভোরেই কাথার্ত, টলটলে আঁখিযুগল রিমঝিম ঠায় শেষ হয়েছে আলিশানমরাটার প্রবেশের অভিমুখে। লক খোলার চেষ্টা করছে বারংবার। শরীরটা কাঁপছে থরথর করে। ব্যস্তহাতে লক্কর খোলার চেষ্টাই শুনল সেই মানুষটার কণ্ঠস্বর। ঘৃণায় গাগুলি আসে আমাদের। থেমে যায় পথে নবতানি ধরে রাখতে হাতটা।

– ‘ক্যান উই টক, রিমঝিম? ‘

কথাটা বলে রিমঝিমের দিকে ঝুঁকে এলো শুদ্ধ। ঘৃণা বিতৃষ্ণায় এতটা সময় চিবুক বুকে ঠেকিয়ে যাওয়ার সময় এককোনে ছিল রিমঝিম। পরণে শুদ্ধর শার্ট যেটা আগে মেঝে থেকে কুড়িয়ে দাঁড়িয়েছে। শুদ্ধরলিপ্ত শব্দে চিবুক উঠিয়ে তাঁকাল আমাদের দিকে। অমন বিধ্বংসী খেলা মেতে থাকার পরও অনুশোচনার লেশমাত্র নেই তার কাছে! রিমঝিমের ভাসা ভাসা দুচোখে এসে জড়ো হল একরাশ ঘৃণা। পেলব গাল শুদ্ধর হাতের ছাপ ফুটে আছে বাজে। শুদ্ধকে আবারও নিজের অটা কাছে নেটওয়ার্ক রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ল কোর রিমঝিম। হাত উঁচিয়ে ধাক্কা দিল উন্মুক্ত বক্ষে। চিবিয়ে চিবিয়ে, -‘ ​​কথা? আপনার সাথে? আপনি বোদ্ধাহ ঘোষণা অনুমোদন ওয়াহিদ শুদ্ধ। কথা বলতে বলতে মানুষের সাথে। মনুষ্যত্বহীন, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য পশুর সাথে কথা বলা যায়।’

শুদ্ধর বুকে ধাক্কা দিয়ে একবিন্দু টলাতে পারেনি রিমঝিম। আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে এলো শুদ্ধ। শীতল শব্দে থেমে থেমে আওড়ালো,

-‘ আচ্ছা? তুমি আমার বিবাহিত স্ত্রী স্ত্রী অন্য পুরুষের ছোঁয়া তোমার শরীর এলো কেন? হাউ ডেয়ার হি টু টাচ ইউ?’

— ‘ ছল করে বিয়ে করেছেন আপনি আমাকে। সুন্দরী বিয়ে আমি মানিনা। আপনি একজন ঠক, প্রতারক।’ বলে শুদ্ধর থেকে ছুটে আমার এলো রিমঝিম। বাঁধ কামরাটার নেতা থাকার উত্স ওয়াশরুম। সে দিকেই ছুটল সে। অযাচিত টোকাগুলোকে ধুয়ে-মুছে সাফ করার জন্য….

 

যাও….

0
গল্পের বিষয়ে কিছু বলুন x
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x