গল্প:অমৃত্যু তোকে চাই (০৯)

লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা
পর্ব :৯

 

শুভ একটা সিগারেট ধরিয়ে ঠোঁটে নিয়ে টান দেয়। টান দিয়ে ধোঁয়া আকাশের পানে ছেড়ে সুর তুলল –
~ teri yaadein
Mulaqaatein
Main kaise bhulu
Chaahat
Ki wo barsaatein (ii)
Tuhi mere dil hai
Tuhi meri jaan
Tuhi mere dil hai
Tuhi mera jaan
Kabhi toh paas mere aao
Kabhi to nozrain
Mujlse milao
Kabhi to dil se dil ko milao
Oh jaana…….

গান শেষ করে আবার সিগারেট টান দেয়। দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে দেয় আকাশে। সামনে রেলিংর উপরে ফোনের স্কিনে জলজল করছে একটা পিক৷

রিক্তা সব কিছু খেয়াল করলো। কিন্তু মনের কোতুহল থেকে গেলো তার :-গান টা সে কার জন্য গাইলো? ফোনের স্কিনে কার ছবি। এই আর কি।

রিক্তা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ডাক দিলো„“ডাক্তার সাহেব…”

রিক্তার ডাক শুনে শুভ ভরকে যায়। তড়িতগতিতে পিছনে তাকায়। অবাক কন্ঠে বলে „“তুই এখানে।”
এই বলে হাতের জলন্ত সিগারেট দুরে ছুড়ে মারে  ।

রিক্তা মাথা নিচু করে বলে „“আম্মু খেতে ডাকছে আপনাকে।”
এই বলে উলটো ফিরে চলে যেতে থাকে।
শুভ তড়িৎ গতিতে রিক্তার হাতের কোনু চেপে ধরে তার দিকে ঘুরায়। অনেক জোরে ঘুরানোর ফলে রিক্তা শুভর বুকে এসে পড়ে।
শুভ কিছুক্ষণ চুপ থেকে মোলায়েম কন্ঠে বলে„“কখন এসেছিস ছাদে? ভয় হয়নি?”

রিক্তা মাথা তুলে বলে „“ভয় করেছিল কিন্তু সাহস করে এসেছি ডাকতে। রাহাদ ভাইয়া যখন নিচে যাচ্ছিল তখন আসছি।”
” রাহাদ দেখেছে তোকে?”
“হুম। ভাইয়া  বলেছে আপনাকে ডেকে নিয়ে যেতে ”
” ওহ আচ্ছা।”

এই বলে রিক্তাকে ছেড়ে দিয়ে নিচে যেতে থাকে। সিড়িতে পা রাখতেই সাহস নিয়ে রিক্তা প্রশ্ন করলো „“ আপনি সিগারেট খান কেনো?”

শুভ না তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল„“ইচ্ছে হয়েছে।”
“প্লিজ আপনি সিগারেট খাবেন না।”
“কেনো?”

রিক্তা কিছু বলতে চেও পারেনি শুধু এটুকু বলল „“জানি না। না করেছি যখন খাবেন না।”
এই বলে শুভর আগে নিচে নেমে আসে।
শুভ মুচকি হেসে নিচে চলে আসে

নিচে সবাই খেতে বসছে। সৈয়দ আহামেদ জিজ্ঞেস করলেন „“কি হলো কই ছিলে?”

শুভ মোলায়েম কন্ঠে বলে „“ জ্বি মামা ছাদে ছিলাম ভালো লাগছিল না তাই।”
“খেয়ে একটু রেস্ট নেও বালো লাগবে “

শুভ মাথা নাড়িয়ে চেয়ার টেনে হৃদয়ের পাশে বসে।
সানজিদা আহামেদ খাবার বেরে দেয়।
সবাই খাচ্ছে আর টুকিটাকি কথা বলছে।
সবার খাবার শেষ মনিরা আহামেদ রান্না ঘর থেকে পায়েসের বাটি নিয়ে আসে।সবাই কে জিজ্ঞেস করছে আর দিচ্ছে।
শুভকে পায়েস খাবে কি না তা জিজ্ঞেস করলো? সানজিদা আহমেদ।
শুভ কিছু বলতে যাবে তার আগে শিখা বলে „“বড় মামি ভাইয়া পায়েস খুব পছন্দ করে।”

রিয়া পায়েস খেয়ে বলে „“আম্মু আজ পায়েস রিক্তা রান্না করেছে?”

সবাই রিয়ার দিকে তাকায়।
সানজিদা আহামেদ বললেন „“ হুম। রিক্তা খুব জোর করছিল রান্না করার জন্য তাই দিয়েছি রান্না করতে।”
“আমি জানতাম এটা রিক্তার রান্না।”

সানজিদা আহামেদ শুভকে পায়েস দিলো।
শুভ এক চামচ মুখে নিয়ে রাহাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো চোখে চোখে বলল „“মাশাল্লাহ তোর বোন তো বড় হয়ে গেছে। এবার বিয়ে করা যাবে।”

রাহাদ ও চোখে চোখে বলে„“ দেখতে হবে না কার বোন।”

শুভ মুচকি হেসে খেতে থাকে ।
হঠাৎ শুভর ফোনে গান বেজে ওঠে- ” চলে আয়না বাচা যায় না করিস না বাহানা আয়নারে কাছে আয়নারে এই প্রানতো আর  সয়নারে। বলবো কথা কানে কানে একি পথে চলনারে।”
শুভ তাড়াতাড়ি করে ফোন বের করলো। ফোনের স্কিনে লেখা my best friend শুভ ফোনটা ধরে কানে দরে„“হ্যাঁ বল৷”
এই বলে খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে অন্যদিকে চলে যায়।
সবাই শুভর দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ চলে যেতে যে যার কাজ করতে থাকে। কিন্তু রিক্তার গলা দিয়ে খাবার নামছে না৷ সে শুভর চিন্তায় মগ্ন। রিক্তা ভাবছে „“ফোনের স্কিনে কার ছবি? কে ফোন করেছে।”
ওই যে কথায় আছে মানুষ যাকে বেশি পছন্দ করে তার জন্য বেশি চিন্তা করে। তো রিক্তার অবস্থা সে-রকম। রিক্তা শুভ পাশে কাউকে সয্য করতে পারে না।

রাত ১২ টা। সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু রিক্তা ঘুমাতে পারছে না। রাগে খোবে মাথা ব্যথা উঠে গেছে।
হঠাৎ পাশে থাকে ফোনটা টুং করে উঠে।
রিক্তা চোখ নাক মুখ কুঁচকে ফোন হাতে নিলো।
একটা মেসেজ আসছে। মেসেজের উপরে নাম লেখা আব্রাহাম খান শুভ।
রিক্তার মুখে আবেশে হাসি ফুটে উঠলো।
রিক্তা মেসেজ টি অন করলো „“পিচ্চি… ঘুমাবেন না?”

রিক্তা মুখে হাসি রেখে মেসেজে রিপ্লাই দিলো„“হুম ঘুম আসছে না।”
“কেনো রাগে?”

রিক্তা কিছুটা অবাক হয়ে যায়।
রিক্তা মনে মনে ভাবে „“ সে কিভাবে জানলো আমার রাগ উঠেছে৷”
রিক্তা মেসেজ দিলো „“আপনি জানলেন কীভাবে?”
“ছাদে আসেন বলছি।”
“ভয় করছে তো। কেউ দেখলে বোকা দিবে।”
” আপনি আসেন কিছু হবে না৷”
“আচ্ছা আসছি।”

রিক্তা মুচকি হেসে ওরনা ভালো ভাবে মাথায় দিয়ে। রুম থেকে বেড় হতে যাবে তখন শিখা ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে „“ কি রে এতো রাতে কোথায় যাচ্ছিস?”

রিক্তা বিরক্তি হয়ে দাতে দাত চেপে বলে „“বাতারের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি যাবি।”
“তোরে লাতি দিবো কি বলছিস?”
“তো কি বলবো? তোর ভাই ছাদে যেতে বলছে।”
“তো সেটা বললেই তো পারিস। যা।”
” একটু এগিয়ে দিয়ে আসবি?”
” পারবো না”
” প্লিজ দিয়ে আয় না প্লিজ”
“সর ভাইয়া দেখলে বকা দিবে আমি পারবো না।”
“তুই শুধু সিড়ি পযন্ত দিয়ে আয়।”
“আচ্ছা চল।”

শিখা বিছানা ছেড়ে ওড়না নিয়ে রিক্তার সামনে এসে বলে „“ চল।”

দুজন মিলে যেতে থাকে। সিড়ি পযন্ত এসে শিখা রিক্তার রুমে চলে যায়।
রিক্তা কালেমা পড়তে পড়তে ছাদে উঠে যায়। ছাদে উঠে দেখে শুভ রেলিংর পাশে দাড়িয়ে আছে।
রিক্তা শুভর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
শুভ রিক্তার দিকে তাকিয়ে আবার সামনে তাকায়।
রিক্তা আস্তে করে বলে „“ কেনো ডাকলেন?”

শুভ সামনের দিকে নজর রেখে বলে „“রাগ করেছিস কেনো?”

রিক্তা শুভর দিকে তাকালো চাদের আলোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে তার মুখখানা। রিক্তার মুখে আবেশে ফুটে উঠলো হাসি।

শুভ রিক্তার দিকে ঘুরে দেখে রিক্তা তার দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ মৃদু হেসে মোলায়েম কন্ঠে বলে „“শুনেন ম্যম। চোখের সামনে যা দেখেন সব কিছু সত্যি নয়। এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর সত্যি। আপনি যে লুমিনার বিষয় টা নিয়ে রেগে আছেন সেটা আমি ভালো করে বুঝি।”

রিক্তা এক সেকেন্ড দেরি না করে বলে „“ বুঝেন তো সত্যি বলছেন না কেন?”

শুভ মুচকি হাসলো
” লুমিনা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি সর্ব প্রথম আমেরিকা যখন গেছি তখন থেকেই ওর সাথে পরিচয় তার পর দুজন দুজনের ভালো বন্ধু। আর ও আমাকে সাহায্য করবে দেখে বাংলাদেশে আসছে। আর বড় কথা হলো লুমিনা বাংলাদেশ খুব পছন্দ করে। আমার সাথেই আসতো কিন্তু লুমিনার পাসপোর্ট ওই সময় হয়নি তাই আসতে পারে নি। আশা করি বুঝতে পেরেছেন?”
“হুম। আচ্ছা আপনি সিগারেট খান কবে থেকে?”
” এই তো ৪ বছর ধরে।”

রিক্তা অবাক কন্ঠে বলে „“ কি…? আমি না ডক্টর তাহলে সিগারেট খান কেনো?”
“আরে ম্যম সিগারেট সব সময় খাইনা। মন খারাপ থাকলে দুই একটা টান দিয়ে ফেলে দেই।”
” ওহ আচ্ছা।”

শুভ রিক্তার দিকে ঝুকে ফিসফিস করে বলে „“ আপনার জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে ম্যম?”

রিক্তা লাজুক হেসে বলে „“ আপনি আমাকে তুই করে বলবেন। আপনি ঢাক শুনতে কেমন যেন লাগে।”

শুভ রিক্তার কাছে থেকে সরে বলে „“ ঠিকাছে বলবো। এখন ঘুমাতে যান আপনি।”
” আপনি ঘুমাতে যাবেন না?”
” হুম যাবো। আপনি যান৷”

রিক্তা কয়েক পা এগোতেই আবার পিছন ঘুরে বলে „“ ডাক্তার সাহেব”
” হুমমমমম”
” আমাকে একটু নিচে দিয়ে আসবেন?”
” কেনো তুই যেতে পারিস না।”
“ভয় করছে”

শুভ ভ্রু কুঁচকে বলে „“আসলি কিভাবে”?

রিক্তা মাথা নিচু করে আস্তে  বলে „“ শিখা এগিয়ে দিয়ে গেছে।”

শুভ মৃদু হেসে বলে „“ চলেন…”

রিক্তা সিড়ি দিয়ে আগে আগে নামছে আর পিছনে শুভ পকেটে হাত রেখে নামছে।
রিক্তার রুমের সামনে এসে রিক্তা রুমে ঢুকে বলে „“thank you”
“most welcome and good night.”
“good night”

শুভ গুন গুন করতে চলে যায় রাহেদের রুমের দিকে আর রিক্তা রুমের দরজা লাগিয়ে বিছানা চলে যায়। রিক্তা বালিশ নিয়ে শুয়ে পরে। শিখা রিতু ঘুমিয়ে পরেছে।
রিক্তা ডিম লাইট অন করে ঘুমিয়ে পড়ে৷

সকাল সকাল আহামেদ বাড়ির রান্নার ধুম লেগেছে।
সবাই হাতে হাতে কাজ করছে।
বাড়ির ২ কর্তা সোফায় বসে খবর পরছে।
২ কর্তি রান্না করছে।
রিয়া হৃদয় রুমে আছে। রাহাদ, শুভ তৈরি হচ্ছে। তারা এখন বেড় হবে।
রিক্তা মাএই উঠলো।শিখা রিতু রিক্তার রুমে বসে আছে। মুলত শিখা তৈরি হচ্ছে বাড়ি যাবে এখন আর রিতু পাশে বসে তারা তৈরি হওয়া দেখছে।
রিক্তা বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে শিখার উদ্দেশ্যে বলে „“কি রে কই যাবি?”
“বাড়ি যাবো”
শিখার কথা শুনে রিক্তার ঘুম ছুটে যায়।
“এতো তাড়াতাড়ি কেনো?”

শিখা আয়নার সামনে থেকে পিছনে রিক্তার দিকে ঘুরে বলে „“ আমাকে বাড়ি দিয়ে ভাইয়া এয়ারপোর্টে যাবে।”

রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে „”এয়ারপোর্ট কেনো?”
” কেনো ভাইয়ার বান্ধবী আসবে তুই জানিস না।”

রিক্তার মনে পরে কয়েকদিন আগে রাহাদ বলেছিল শুভর বান্ধবী আসবে আমেরিকা থেকে।
রিক্তা ওয়াশরুমে যেতে যেতে ছোট করে উওর দেয় „“ভালো।”

রিতু বসা থেকে উঠে শিখার কাছে এসে ফিসফিস করে বলে „“ আপু…. রিক্তা আপুর মাঝে মাঝে কি হয় বুঝতে পারি না।”

শিখা রিতুর কান টেনে বলে „“ বড় হলে বুঝবে।”

রিতু মৃদু আর্তনাদ করে বলে „“আহ… আপু লাগছে।”

তখন দরজার বাহির থেকে শুভর ডাক শুনা যায় „“শিখা কই তুই? দেরি হচ্ছে।”

শিখা রিতুর কান ছেড়ে উচ্চ স্বরে বলে „“ আসছি ভাইয়া।”
শিখা রিতু দুজনে রুম থেকে বেড় হয় যায়।
তাদের সামনে শুভ রাহাদ যাচ্ছে।
নিচে সবাই আসে।
শুভকে রেডি হয়ে নিচে আসতে দেখে সোহেল আহামেদ জিজ্ঞেস করলেন„“ তুমি রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছো?”

শুভ সোফায় বসে উওর দেয় „“লুমিনা কে আসতে যাচ্ছি এয়ারপোর্ট।”
“ফিরবে কখন?”
” আমি বাড়ি চলে যাবো, তাই শিখাকে নিয়ে যাবো।”
” কেনো?”

শুভ দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে মোলায়েম কন্ঠে বলে „“ আমি এদিকে আসবো না আর।লুমিনাকে নিয়ে বাড়ি যাবো। বাড়িতে লুমিনা শিখাকে রেখে হসপিটাল যাবো। আজ ইমারজেন্সি রুগী আছে। তাই একেবারে যাচ্ছি।”
” ওহ তা খেয়ে যেও। অবশ্য সেটা না করবে না।”

শুভ মুচকি হেসে বলে „“ ঠিকাছে।”

রিয়া হৃদয় কে তৈরি হয়ে নিচে আসতে দেখে সোহেল আহামেদ ভ্রু কুঁচকে বসে „“ তোমরা কি চলে যাচ্ছো?”

রিয়া হৃদয় নিচে এসে সোফায় বসে বলে „“ না আব্বু। শুভর সাথে এয়ারপোর্ট যাবো।”

সৈয়দ আহামেদ বলেন „“ তা কে কে যাচ্ছো?”

রিয়া উওর দেয় „“ ছোট আব্বু.. ওখানে যাবে আমি, হৃদয়, রিফাত , শুভ,রাহাদ, শিখা,রিক্তা,রিতু, মিরাজ, রাইসুল,ইব্রাহিম, ফাহিম,ইরা, ইশিতা এরাই যাবে।

সোহেল আহামেদ বলেন „“এতো লোক একসঙ্গে যাব কি করে?”
” শুভর গাড়িতে যাবে রিক্তা, শিখা, রিতু,ইশিতা।  রাহাদের গাড়িতে যাবো আমি, হৃদয়,মিরাজ,রিফাত,রাইসুল, আর ফাহিমের গাড়িতে যাবে ইব্রাহিম, ইরা।
“তা যেও কিন্তু সাবধানে।”

রিক্তা রিফাত হাসি মুখে কথা বলতে বলতে সিড়ি দিয়ে নামছে। তারা বেশ ক্লোজ ভাবে কথা বলছে। অগ্নি চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে শুভ। রাগে হাত মুঠো করে ধরলো।
সামনে রাহাদ ছিল। তার দিকে তাকায়। রাহাদ শুভর চোখের দৃষ্টি অনুসরণ করে সেদিকে তাকায়। রিক্তা রিফাতকে একসঙ্গে দেখে শুকনো ঢোক গিলে মিনমিন করে বলে „“গেলো শালায় গেলো।”

শুভ উচ্চ স্বরে গম্ভীর কণ্ঠে হৃদয়কে বলে „“তা হৃদয় ভাই? আপনার ভাইতো বেশ ভালো।”
তার কথা সবাই তার দিকে তাকায়।

হৃদয় কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরে রিফাত কে ডাকলো „“ রিফাত…”

রিফাত রিক্তার কথা ছেড়ে তার ভাইয়ের কথায় উওর দেয় „“ আসছি ভাইয়া।”
রিফাত রিক্তার আগে হৃদয়ের কাছে চলে আসে। হৃদয়ের পাশে দাড়িয়ে বলে „“ হুম বলো”
“মা ফোন করেছিল। তোকে বাড়ি যেতে হবে।”
“হঠাৎ বাড়ি কেনো?”
” মা র ঔষধ শেষ সেটা নিয়ে যেতে বলছে। তুই যা। আমি বিকেলে আসছি।”

রিফাতের মন খারাপ হয়ে যায়। ছোট করে বলে „“ ঠিকাছে যাচ্ছি।”

সৈয়দ আহামেদ বলেন „“ রিফাত পরে যাবে। হৃদয় বাবা তুমি অন্য কাউকে দিয়ে ঔষধ পাঠিয়ে দাও।”
“কিন্তু..”
” কোনো কিন্তু না।”

একসঙ্গে সবাই নাস্তা খাচ্ছে।
রিতু রিক্তাকে বলে „“ আপু কোন রঙের জামা পরবে তুমি?”

রিক্তা খেতে খেতে জবাব দেয় „“ কিসের জামা?”
” কেনো আমরা না এয়ারপোর্ট যাবো শুভ ভাইয়ার বান্ধবীকে আনতে।”
“তোকে কে বলেছে আমি যাবো?”
” কেনো রিয়া আপু?”

রিক্তা রিয়াকে বলে „“রিতু কি বলছে আপু?”

রিয়া আমতা আমতা করে বলে „“না মানে আমরা প্লান করেছিলাম সবাই একসাথে যাবো।”

রিক্তা সোজাসাপ্টা উওর দেয় „“ তোমরা যাও। I have no desire.”

রাহাদ শান্ত কন্ঠে বলে „“ কেনো যাবি না?”
“ওইযে বললাম I have no desire.”
“এমন করিস না বোনু চল। ভালো লাগবে।শিখাও যাচ্ছে তো…”
“হ্যাঁ আমিও যাবো। চল না প্লিজ..”
“জোর করেসি না শিখা তোরা যা।”

শিখা মন খারাপ করে আস্তে করে বলে  „“আমিও যাবো না।”

শুভ রাগ মিস্ত্রি স্বরে বলে „“শিখা অতিরিক্ত বেড়েছিস..”

শিখা খুব ভয় পেয়ে বলে „“রিক্তা যাবে না আমি খেলে ওর অবশ্য ভালো লাগবে না।”

শুভ অগ্নি চোখে শিখার দিকে তাকিয়ে বলে „“ what did i tell you?”

সৈয়দ আহামেদ বলেন „“ যার যেতে ইচ্ছে করছে না তাকে জোর করো না।”

সবাই খাবার খেয়ে উঠে গেলো।
এক এক করে সব যে যার কাজে চলে যাচ্ছে।
শুভ রাহাদ বাহিরে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। শুভ গাড়িতে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে আছে।
কিছুক্ষণ নিজের রাগ দমানোর জন্য পকেট থেকে সিগারেট বেড় করে সিগারেট ধরিয়ে দুয়েকটা টান দিয়ে রাগ মিস্ত্রি স্বরে বলে „“ I see your sister has a lot of courage?”

রাহাদ ফোস করে নিশ্বাস ছেড়ে বলে „“ শান্ত হও। তুমি তো জানোই রিক্তা একটু বেশি জেদি।”
” I will break this one soon”

রাহাদ মনে মনে বলল„“ আল্লাহ কেনো যে এই দুই পাগলের পাল্লায় আমাকে ফেললো কে জানে? এক পাশে বাগ তো আরেক পাশে বাগিনি। আল্লাহ এর থেকে তুমি আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও।”

শুভ গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“পাগলের মতো কি বকছিস?”
” কিছু না।”

শুভ সিগারেটে দুয়েক টান দিয়ে ফেলে দেয়। রিয়া হৃদয় মিরাজ সবাই চলে আসছে।
শুভ নিজের ব্লু কারে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসে।
শুভর পাশে ঈশিতা বসতে যাবে তখন শুভ চোখ নাক মুখ কুঁচকে বলে „“ তুই পিছনে যা আর শিখা সামনে আয়।
ঈশিতা বলল „“ কেনো শুভ আমি বসলে কোনো সমস্যা?
” আমি এক কথা বারবার বলি না ঈশিতা ”
ঈশিতা আর কথা বারালো না শুভ যে এমনই সেটা তার অজানা নয়। ঈশিতা পিছনে যায় আর শিখা সামনে পিছনে রিতু আছে।
রাহাদের গাড়িতে বসে হৃদয়, রিফাত,রিয়া, রাইসুল।
পিছনের গাড়িতে বসে ফাহিম, ইব্রাহিম, মিরাজ,ইরা।

তিনটা গাড়ি একসঙ্গে ছুটে চলছে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে। চারদিকে রৌদের চিলিক, কিন্তু মৃদু বাতাসও আছে চারদিকে নিরোব। তার সাথে শুভও নিরবে গাড়ি চালাচ্ছে। তার মনে শান্তি নেই। বহু বছরের আগুন জলছে মনে। না পরছে বলতে না পারছে সয্য করতে। প্রিয়জন হারালে যেই কষ্ট তার ভিতরে এখন সেই কষ্ট। ৫ বছর আগে বন্ধুর মতো বড় ভাইকে হারিয়েছে। কোথায় আছে? কেমন আছে? জানা নেই।
হঠাৎ পাশে থাকা ফোনটা বাই ব্রেট করে উঠে।শুভ ড্রাইভিং হুইলে হাত রেখে ফোনের দিকে তাকায়। ফোনের উপরে আব্বু নাম দেখে শিখার উদ্দেশ্যে বলে „“Call your father.”

শিখা বিরক্ত হয়ে ভাইয়ের উপর। দেশে ফেরার পর থেকে তার বাপের সাথে তেমন একটা কথা বলে না। পর পর করে রাখে শরিফ খান কে।

শুভ আবার গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“ I didn’t hear what I said”

শিখা ফোন করলো শরিফ খানকে „“ হ্যালো আব্বু বলো?”
“তোমার গুনধর ভাই কই?”
” ভাইয়া ড্রাইভিং করছে। লুমিনা আপুকে আনতে এয়ারপোর্ট যাচ্ছে।”
“এরজন্যই তাকে ফোন করেছি। কখন আসবে তা জানার জন্য। আচ্ছা রাখি সাবধানে যেও তোমরা।”

শিখা আচ্ছা বলে ফোন কটে দেয়।
শুভ গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“কি বলেছে?”
“বলেছে কখন বাড়ি যাবো”

শুভ কিছু না বলে গাড়ি চালানোতে মন দিলো।

 

চলবে ইনশাআল্লাহ…..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x