গল্প:অমৃত্যু তোকে চাই(১০)

লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা

পর্ব :১০

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। নাম করা এয়ারপোর্ট।
এয়ারপোর্টের প্রবেশ পথে গাড়ি গুলো একে একে থামলো।
মানুষের ভিড়,  চারপাশে কোলাহল। অথচ শুভ খুব নিরিবিলি।

গাড়ি থেকে একে একে সবাই নেমে পড়লো। গাড়ি থেকে নামতেই রিতু উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে „“উফফ! কতো সুন্দর জায়গা।”

শিখা কিছুই বলল না। শিখার মনে বিরক্ত ছাড়া আর কিছুই নেই।

ইশিতা শুভর গা গেসে  দাড়িয়ে বলে „“আমরা ভিতরে যাবো?মনে হয় প্লেন ল্যান্ড করেছে।

শুভ ইশিতার থেকে দূরে সরে দাড়িয়ে সংক্ষিপ্তে উওর দিল „“ Everyone go ahead”
শুভ এগিয়ে যায় সামনে পিছনে সবাই আসতে থাকে  ১২ নাম্বার গেইটের সামনে সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। কেউ কেউ বেঞ্চে বসলো, কেউ কেউ এটা ওটা খাচ্ছে।

শুভ ফোন এসক্রোল করছে কিন্তু বারবার চোখের সামনে ফুটে উঠেছে সকালের ঘটনা রিক্তা রিফাতের হাসাহাসি…

হঠাৎ হৃদয় পাশে দাড়িয়ে কাঁধে হাত রেখে বলে „“ঠিক আছো ভাই…?”

শুভ গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“রিফাতকে রিক্তার কাছ থেকে দূরে থাকতে বলো..”
” রিফাত ছেলে মানুষ তাই বুঝতে পারে নাই। আমি বুঝাবো ওকে।”
” তার জন্যই কিছু বলেনি। না হলে ওর হাত পা নিয়ে বাড়ি যেতে পারতো না।”
শেষ কথাটা দাঁতে দাঁত চেপে বলল।

ভিতরে মাইকে ঘোষনা হলো „“The plane arrived from America.”

সবাই উচ্ছ্বাস নিয়ে দাড়িয়ে যায়। সবার মুখে লুমিনাকে দেখার আগ্রহ ফুটে উঠেছে।
এরিমধ্যে যাএীদের আসা শুরু হলো। একজন, দুজন, বেশ কয়েকজন তার মাঝে দেখা মিললো লম্বা, স্মার্ট, সাদা, চশমা পরা, পরনে হালকা ক্রিম রঙের ড্রেস পড়া লুমিনা। হাতে ট্রলি।

শুভ এগিয়ে যায় তার কাছে। লুমিনাকে আগে পরে কেউ দেখেনি।
শুভকে দেখতে পেয়ে লুমিনা হাসি মুখে শুভর কাছে এসে জরিয়ে দরে

এটা অন্য সব দেশে স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ হলে অন্য লোকেরা বলবে। সরি অন্য লোক না বিজ্ঞানিরা তাদের বিজ্ঞানি বললে চলে তারা বলবে নিশ্চিত এই ছেলে মেয়ের সাথে কিছু চলছে।

শুভ লুমিনা কে জরিয়ে দরে হাসি মুখে বলে „“Welcome to Bangladesh.”
“Thank you very much”
শুভ লুমিনাকে ছেড়ে দিলো।

রিয়া,রাহাদ,হৃদয় একে ওপরের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু কিছু বলছে না।

শুভ সবার দিকে তাকিয়ে বলে „“এই হচ্ছে লুমিনা।”

সবাই হাসি মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
রিয়া হাসি মুখে বলে „“ hi iam riya. You?”

লুমিনা হাসি মুখে বলে „“ আমি লুমিনা। আর আমার সাথে বাংলায় কথা বলতে পারো। আমি বাংলা পারি।”
” ও তাই।”

সবার সাথে পরিচিত হয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়।

—-

এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই গাড়িগুলো আবার একসঙ্গে চলতে শুরু করল।
শহরের কোলাহল রাস্তা প্রচন্ড যেমজট হয়ে থাকে
তার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে তারা।
সূর্যের নরম আলো,বাতাসে হালকা শীতলতা।
শুভ গাড়ি চালাচ্ছে চুপচাপ। চোখ সামনে কিন্তু চিন্তাভাবনা  বহু দূর।
পাশের সিটে বসে থাকা লুমিনা চারপাশের দৃশ্য মন ভরে দেখছে। মুগ্ধ কন্ঠে বলে „“বাংলাদেশ সত্যি খুব অপুর্ব।”

শিখা মুচকি হেসে বলে „“আপনি সবেমাত্র বাংলাদেশ আসছেন৷ আপনাকে আরো অনেক সুন্দর জায়গায় দেখতে পাবেন।”

লুমিনা পিছনে ঘুরে শিখার দিকে তাকিয়ে বলে „“no আপনি Only তুমি। তুমি আমাকে আপু বলে ডাকতে পারো।”
“ঠিকাছে আপু বলেই ডাকবো।”

লুমিনা শিখার পাশে ঈশিতাকে ভালোভাবে দেখে বলে „“are you angry with me?”
শুভ ভ্রু কুঁচকে পিছনে ইশিতাকে একবার দেখলো।
ইশিতা কন্ঠে ঝাঁজ নিয়ে বলে „“না”

লুমিনা চার আঙুল দিয়ে চশমা ঠিক করতে করতে বলে „“ চশমা এমনি এমনি পরি না। তুমি শুভর সাথে আমাকে দেখে একটু জেলাস। i know no কেনো তুমি জেলাস কিন্তু এটা জানি তুমি  জেলাস।”

ঈশিতা চোখ ঘুড়িয়ে বাহিরে দৃষ্টি রেখে বলে „“দেখো বাজে কথা বলো না।”

শুভ গাড়ির স্ট্যারিং চালাতে চালাতে বলে „“বাদ লুমি ইশিতা একটু এরকমই।”

লুমিনা ফিসফিসিয়ে বলে „“ শুভ ইশিতার জন্য রিক্তার কোনো সমস্যা হতে পারে ।”
“তুই সেটা চিন্তা করিস না। আমি মানিয়ে নিবো।”
“Well, whatever you like”

খান বাড়ির গেইট দিয়ে প্রবেশ করে তাদের গাড়ি।
গাড়ি বাড়ির ভিতরে ডুকতে করিম চাচা বসা থেকে উঠে সালাম করে।
গাড়ি গুলো পার্ককিন করে সবাই নেমে যায়।
লুমিনা চোখ গুড়িয়ে চারপাশ দেখে৷ লুমিনাকে এরকম করে দেখচ্ছে সেটা শিখা খেয়াল করে বলে „“আপু এটা আমাদের আব্বু, ছোট আব্বুর তৈরি বাড়ি আর আমাদের পূর্ব পুরুষদের বাড়ি গ্রামে ”
” Really unbelievable এতো সুন্দর বাড়ি।”

শুভ গাড়ির চাবি আঙুলের মাথায় ঘুড়াতে ঘুড়াতে শিষ বাজাতে বাজাতে ভিতরে যায়। সাথে সাথে সবাই যায়।
লুমিনা বাড়িতে প্রবেশ করতে সবাই একসাথে ফুল দিয়ে বরন করে।
লুমিনা পুরো হতভম্ব হয়ে যায়।
শিখা লুমিনা কে সোফায় নিয়ে বসায়। সাথে সবাই বসে।
আমেনা খান, আকলিমা খান, কাজের বুয়া সবাই ট্রে তে বাহারি ধরনের নাস্তা এনে হাজির করে।

শুভ সোফা থেকে উঠে দাড়িয়ে লুমিনাকে বলে„“তুই থাক আমি একটু আসছি।”
এই বলে শুভ সেই আগের মতো আঙুলের মাথায় চাবি ঘুড়াতে ঘুড়াতে শিষ বাজাতে বাজাতে সিঁড়ি  দিয়ে চলে যায়।

শিখা লুমিার সাথে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
সবাই লুমিনার সাথে টুকটাক কথা বলতে থাকে।
শুভ সাদা টাওজার আর সাদা টি শার্ট পড়ে ফোন চালাতে চালাতে নিচে আসে।
নিচে আসতেই সুফিয়া দৌড়ে এসে শুভর টাওজার নিচের কিছু অংশ টানতে থাকে আর আদো আদো কন্ঠে বলে „“ কাকামনি আমাকে কুলে নাও।'”

শুভ নিচে তাকিয়ে ফোন পকেটে রেখে। নিচে জুকে সুফিয়াকে কোলে নিয়ে গালে চুমু দিয়ে বলে „“ আমার আম্মাজান।”

সুফিয়া শুভর গালে চুমু দিয়ে বলে„“আমার কাকামনি। তোমাকে ভিতন মিত কলেছি।”
“ওলে আমার আম্মাজান।”

শুভ সোফায় গিয়ে বসে। শিখার উদ্দেশ্য বলে „“শিখা তোর ব্যাগ থেকে চকলেট দে।”

শিখা তার ব্যাগ থেকে দুটো কিট কেট বের করে এগিয়ে দেয়।
শুভ চকলেট নিয়ে সুফিয়াকে দেয়। চকলেট পেয়ে সুফিয়া মহা খুশি। খুশি হয় শুভর গালে চুমু দিয়ে বলে„“থ্যাংকু”
শরিফ খান লুমিনার উদ্দেশ্য বলে„“যাও মা শিখার সাথে রুমে যায়। তোমার এই গা ছাড়া ভাবের বন্ধু কখনো বলবে না ফ্রেশ হতে যেতে।”

লুমিনা মুচকি হেসে বলে „“it’s ok আঙ্কেল। আমি জানি শুভ একটু গা ছাড়া স্বভাবের।”

শিখা লুমিনার হাত ধরে হাসি মুখে বলে „”চলো আপু তোমাকে তোমার রুম দেখিয়ে দেই।”

লুমিনা হেসে শিখার সাথে চলে যায়।
রাহাদ উঠে দাড়িয়ে বলে „“আজ আসি ফুপা।”
“আজ থেকে যাও বাবা কাল যেও।”
” না ফুপা রিতুর স্কুল আছে। আর রিয়া আপু হৃদয় ভাইয়া আসছে তাই আজ চলে যাবো পরে আসবো।”

শাহাদাত খান বলেন „“ তা বললে কি হয়। তোমাদের বাড়ির জামাই মানে আমাদের বাড়ির জামাই।”

রিয়া  উঠে দাড়িয়ে বলে „“ না ফুপা আজ থাকলে হবে না। রিক্তা একা বাড়িতে।”
“রিক্তাকে নিয়ে আসতে?”
“ও একটু বদ মেজাজি। আসতে বলছিলাম কিন্তু ও আসবে না। তাই চলে যাবো।”
“ঠিকাছে সাবধানে যেও।”
“আচ্ছা ফুপা।”
একে একে সবাই বিদায় নিয়ে চলে যায়।

রাতে সবাই খাওয়াদাওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে যায়।
লুমিনা একা একা হাঁটতে শুভর রুমের দিকে এগোয়।
লুমিনা কে দেখে মিলি বিরক্ত নিয়ে বলে „“কোথায় যাচ্ছো?”
লুমিনা সহজ ভাবে উওর দেয়„“ শুভর কাছে।”
“কোনো দরকার আছে?”
“দরকার ছাড়া কেউ কারো কাছে  যায় না। আর এটা বুঝার ক্ষমতা নিশ্চয়ই তোমার আছে।”
মিলি রাগ নিয়ে বলে „“শুভ ভাইয়ার সাথে বেশি গেশাগেশি করবে না।”
এই বলে মিলি গটগট পায়ে চলে যায়।

লুমিনা চশমা ঠিক করতে করতে তাচ্ছিল্যের হেসে চলে যায়।
শুভর রুমের সামনে নক করে ভিতরে ডুকে।
ভিতরে ডুকে সোফায় গিয়ে বসে। শুভ কম্পিউটারে কাজ করছে।
লুমিনা ট্রি টেবিল থেকে একটা আপেল নিয়ে খেতে খেতে বলে„“কি রে কি করছিস ।”

শুভ হাতের কাজ বন্ধ করে চোখ থেকে চশমা খুলতে খুলতে বলে „“ তেমন কিছু না দরকারী ফাইল তৈরি করছিলাম। ”
”  হসপিটালের কাজ কতোটুকু হয়েছে?”
“কাল গিয়ে তুই আর আমি অপারেশন থ্রিয়াটারে যাবো।”
“অপারেশন থ্রিয়াটার কেনো?”
“কাল একজন মেয়ের মাথায় অপারেশন হবে। মুলত তার ব্রেন টিউমার৷”
“ওহ আচ্ছা।”

শুভ টেবিল থেকে ফোন নিয়ে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। বেডের পাশে ফোন রেখে।  বিছানায় শুয়ে বলে„“ রাত অনেক হয়েছে ঘুমাতে যা।”

লুমিনা আপেল খেতে খেতে চলে যেতে থাকে। দরজার সামনে এসে দাড়িয়ে পড়ে৷ কিছু একটা মনে করে পিছনে তাকিয়ে সন্দেহ দৃষ্টিতে বলে „“w8 তুই কি সিগারেট খাস?”
” হুম।”

লুমিনা বিরক্ত হয়ে বলে „“জিবনে প্রথম দেখলাম ডাক্তার হয়ে সিগারেট খেতে৷”
শুভ ভ্রু কুঁচকে বলে„“ কেনো? ডাক্তার হয়ে কি খাওয়া যায় না?

“তুই কি পড়িস নি যে ধুমপান স্বাস্থ্যার পক্ষে ক্ষতি কর।”
“হ্যাঁ পড়েছি। তো?”
“তুই ডক্টর হয়ে রুগীদের জিবন বাঁচাস আবার তুই ধুমপান করিস।”
“আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার ডাক্তার ম্যম আছে। এখন তুই তোর বকবক থামিয়ে যা।”

লুমিনা হতাশ হয়ে চলে যায়।

চলবে…..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x