পর্ব – ১১ [প্রোপোজ স্পেশাল 💜]
লেখা – আসফিয়া রহমান
অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌
দেখতে দেখতে কেটে গেছে তিনটি মাস। অর্ণব একটা প্রাইভেট হসপিটালে জয়েন করেছে। বিনীতার সেকেন্ড ইয়ারের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল গত মাসে। পরীক্ষা শেষে এখন ওর কিছুটা অবসর। এর মধ্যে গত তিন মাসে ধীরে ধীরে অর্ণব-বিনীতা একে অপরকে চিনেছে কিছুটা হলেও। বিনীতার মনে হয়েছে অর্ণব হয়তো সেই মানুষটা; যেমন মানুষ ও নিজের জন্য চেয়ে এসেছে সবসময়।
অর্ণবেরও মনে হয়েছে জীবনসঙ্গী হিসেবে বিনীতা ওর জন্য পারফেক্ট। এই তিন মাসে ওরা খুব বেশি সময় একসঙ্গে কাটাতে পারেনি, কিন্তু যে ক’বার দেখা হয়েছে, বা যে কথোপকথনগুলো হয়েছে, সেগুলো যেন ধাপে ধাপে একটা অদৃশ্য সেতু গড়ে তুলেছে ওদের মধ্যে।
_______________________
এক বিকেলে, বিনীতা জানালার পাশে বসে উদাস মনে তাকিয়ে ছিল বাইরের দিকে। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল—অর্ণবের নাম ভেসে উঠেছে স্ক্রিনে।
— হ্যালো?
— কী করছিলেন?
— এমনি বসে ছিলাম।
— একটু বের হবেন?
বিনীতা একটু অবাক হলো। অর্ণব সাধারণত এমন হুটহাট ডাকে না।
— কোথায়?
— হাঁটতে।
এক মুহূর্ত ভাবল বিনীতা, তারপর বলল,
— আসছি!
_________________
সন্ধ্যার বাতাসটা আজ দারুন লাগছে। পিচঢালা রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটছিল ওরা, দু’জনেই চুপচাপ। হাঁটতে হাঁটতে বিনীতা মাথা ঘুরিয়ে অর্ণবের দিকে তাকালো একবার।
“কিছু বলবেন?” অর্ণব হেসে তাকাল ওর দিকে।
বিনীতা মাথা নাড়ল, “আপনি বলুন।”
অর্ণব খানিকক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর ধীরস্বরে বলল, “আমার সঙ্গে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে কি সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়, বিনীতা?”
বিনীতা চমকে উঠল, হাঁটা থামিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো অর্ণবের দিকে। অর্ণব হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন করে বসবে ও ঘুনাক্ষরেও চিন্তা করেনি।
অর্ণব হঠাৎ করে হাঁটু গেড়ে বসলো ওর সামনে। বিনীতা চূড়ান্ত পর্যায়ের অবাক! ও যেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কী ঘটছে এই মুহূর্তে। দু হাতে মুখ চেপে ধরেছে ও। কি করতে চাইছে অর্ণব?
বিনীতার মনে হলো চারপাশের সময় যেন থমকে গেছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় অর্ণবের মুখটা আবছা দেখা গেলেও, ওর চোখের গভীর দৃষ্টি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে বিনীতা। একটা অচেনা অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল ওর শরীরজুড়ে। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, এটা কি সত্যি? নাকি স্বপ্ন?
অর্ণব পকেট থেকে একটা বেগুনি রঙা বক্স বের করল। বক্সের ভেতর একটা রুপালি পায়েল।
বিনীতার চোখদুটো ছলছল করে উঠলো সহসাই; পুরো মুহূর্তটা যেন হজম করতে পারছে না। ও এতটা ভাবেনি কখনো।
মেয়েটা শ্বাস বন্ধ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো। অর্ণব হাঁটু গেড়ে বসে আছে ওর সামনে, এক হাতে বেগুনি রঙের বক্সটা ধরে অপর হাত দিয়ে ধীরে ধীরে পায়েলটা বের করল।
রুপালি পায়েলটা ল্যাম্পপোস্টের আলোয় চিকচিক করে উঠল একবার। অর্ণবের চোখের গভীর চাউনি, একরাশ অপেক্ষা নিয়ে তাকিয়ে থাকা দৃষ্টি বিনীতার ভিতর কেমন অদ্ভুত উথাল-পাথাল ঢেউ তুলছে।
অর্ণব বিনীতার দিকে তাকিয়ে মাদকতা মিশ্রিত কন্ঠে শুধালো, “মে আই?”
বিনীতা ছলছল চোখ নিয়ে মৃদু হেসে মাথা নাড়ালো। পা এগিয়ে দিল অর্ণবের দিকে। অর্ণবের মুখে প্রশান্তির হাসি। ও খুব যত্ন করে বিনীতার জুতাটা খুলে দিল, আঙুলের ডগা দিয়ে মেয়েটার মসৃণ পায়ের পাতা ছুঁয়ে দিল আস্তে করে।
প্রথমবারের মতো নিজের শরীরে কোনো পুরুষের এহেন আদুরে স্পর্শ পেয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলেছে বিনীতা।
প্রথম স্পর্শ!
বিনীতা অনুভব করল ওর হৃদয় আর শরীর দুটোই কাঁপছে একসাথে!
অর্ণব তাড়াহুড়ো করল না। ধীরে ধীরে মসৃণ পা-টা উঠিয়ে নিল হাঁটুর উপর। তারপর পায়েলটা পরিয়ে দিল সযত্নে, আঙুল দিয়ে আলতো করে ঠিক করে দিল ছোট্ট হুকটা। সে মুহূর্তে বিনীতার মনে হচ্ছিল, ওর হৃদপিণ্ডটা ঠিক ওখানেই আটকে গেছে— অর্ণবের হাতে, ওর স্পর্শে।
অর্ণব খুব সাবধানে পায়েলটা ঠিক করে দিয়ে মাথা উঁচু করে তাকালো বিনীতার দিকে। বিনীতার চোখ এখনো বন্ধ। অর্ণব মৃদু স্বরে ডাকলো, “বিনীতা?”
বিনীতা ধীরে ধীরে চোখ খুলে অর্ণবের চোখে চোখ রাখলো। অর্ণব তাকিয়ে আছে গভীর দৃষ্টিতে। গাড় বাদামি গভীর ওই চোখজোড়ার দিকে তাকিয়ে বিনীতার বুক ধক করে উঠলো আরেকবার।
নিজেকে সামলে বিনীতা এক টুকরো হাসি দিল অর্ণবের দিকে তাকিয়ে। অর্ণব ওর পা-টা সাবধানে নামিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকলো বিনীতার দিকে, তারপর খুব আস্তে কাছে এলো, বিনীতার হাতটা নিয়ে একটা নরম চুমু খেলো হাতের উল্টো পিঠে।
বিনীতা একটা ঝাঁকুনি খেলো পুরো শরীরে। হৃদপিন্ডের স্পন্দন আরো তীব্র হয়ে উঠেছে এবার।
অর্ণব ধীরে ধীরে মেয়েটার হাতের ওপর নিজের আঙুল বুলিয়ে দিল। বিনীতার চোখ ঝাপসা হয়ে এলো আবার। অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, “ডাক্তার সাহেব, ছেড়ে যাবেন না তো কখনো?”
অর্ণব মেয়েটার চোখে তাকালো; ওই কাজল কালো চোখদুটোতে বিরাজমান ব্যাকুলতা দেখল চেয়ে চেয়ে। তারপর ওর হাতটা আরেকটু শক্ত করে ধরে চেপে ধরল।
“কক্ষনো না।”
বিনীতার চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে। ঠোঁটের কোণায় একটা অস্পষ্ট হাসির রেখা। হৃদয়ের স্পন্দন এত দ্রুত চলছে, যে ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এত আবেগ একসাথে অনুভব করার জন্য ও প্রস্তুত ছিল না। পিচঢালা রাস্তায় তাকিয়ে দেখল পিছনের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় রাস্তার ওপর অর্ণবের ছায়ার সাথে ওর ছায়াটা কেমন মিশে গেছে— নিবিড়ভাবে।
__________________________
বিনীতা আর রূপন্তি হাঁটছিল লেকের পাড় ধরে। বসন্তের বিকেল, মৃদুমন্দ বাতাস বইছে চারপাশে। লেকের পানিতে শেষ বিকেলের আলো পড়েছে, টুকরো টুকরো সোনালি আভার প্রতিফলন পুরোটা লেক জুড়ে।
রূপন্তি জিজ্ঞেস করল বিনীতাকে, “এই জায়গাটায় তো তোর স্পেশাল মেমোরি আছে, তাই না?”
বিনীতা চুপ করে তাকিয়ে থাকল লেকের পানিতে। একটা শুকনো পাতা ধীরে ধীরে ভেসে চলেছে।
“হতে পারে,” আস্তে বলল ও।
রূপন্তি হাসল, “হতে পারে মানে? এখানে বসে না তুই একদিন অর্ণব ভাইকে কবিতা শুনিয়েছিলি?”
বিনীতা মুখ ঘুরিয়ে রূপন্তির দিকে তাকাল,
“হুম, শুনিয়েছিলাম তো। তবে সেটা স্বল্প পরিচিত আগন্তক হিসেবেই। তখন তো এটা জানতাম না যে, ভবিষ্যতে ওনাকে ঘিরেই এত কান্ড ঘটে যাবে!”
রূপন্তি মাথা নেড়ে বলল, “সত্যি বলতে, তোর জীবনে একটা অদ্ভুত টুইস্ট এসে গেল হুট করেই!”
বিনীতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “আমার জীবনে এরকম টুইস্ট কখনো কল্পনাও করিনি আমি!”
রূপন্তি একটু থেমে বলল, “তুই কি খুশি না?”
বিনীতা একটু সময় নিল। তারপর মৃদু হেসে বলল, “হ্যাঁ.. অর্ণব চমৎকার মানুষ। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, সবকিছু এত সহজে হয়ে গেলে কি সত্যি হয়?”
রূপন্তি হাসল, “জীবনে সবকিছু কঠিন হতে হবে এমন তো কোনো নিয়ম নেই, বিনু।”
বিনীতা কিছু বলল না। সামনের লেকের পানির দিকে তাকিয়ে থাকল। ঢেউয়ের ওপর সূর্যের আলো চিকচিক করছে।
রূপন্তি এবার আস্তে করে বলল, “তুই কি ভালোবাসিস ওনাকে?”
বিনীতা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। বাতাসে পাতার খসখস শব্দ, পানির হালকা ঢেউ, আর দূর থেকে ভেসে আসা ঘরে ফিরতে থাকা পাখির ডাক— সব মিলিয়ে একটা শান্ত, নিবিড় পরিবেশ।
বিনীতা নিচু হয়ে একটা শুকনো পাতা তুলে নিল মাটিতে জমে থাকা পাতাগুলো থেকে, আঙুলের মাঝে ঘুরিয়ে দেখতে লাগল।
“ভালোবাসি কিনা জানি না। কিন্তু…”
ও থামল এক মুহূর্তের জন্য, তারপর ফিসফিস করে বলল, “ওনাকে ছাড়া কিছু ভাবতে কেমন জানি লাগে।”
রূপন্তি একটু হাসল, “তাহলে?”
বিনীতা এবার বলল,
“না রে… আমি এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে, কেমন যেন… জানি না, অবাস্তব লাগে।”
রূপন্তি ওর হাতটা আলতো করে ধরল,
“তুই যদি ওনাকে নিয়ে ভাবিস, ওনার সাথে থাকলে তোর ভেতর যদি ভালোলাগা কাজ করে, তাহলে উত্তর তো তোর মনেই আছে!”
বিনীতা এবার হাসল, “হয়তো…!”
রূপন্তি এবার খানিকটা বিরক্ত বিনীতার উপর, “তোর এই ‘হয়তো’ শুনতে শুনতে কান পঁচে গেল, বিনু!”
বিনীতা একটু লজ্জা পেয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল, “আসলে কি জানিস, আমি ভয় পাই… যদি আমি আসলেই ওনাকে ভালোবেসে ফেলি, আর…”
রূপন্তি এবার চোখ ছোট ছোট করে তাকালো বিনীতার দিকে, “অর্ণব ভাই না তোকে প্রপোজ করেছে?”
বিনীতা কিছু বলল না, শুধু চোখ নামিয়ে মাথা নাড়ল।
বিনীতার দিকে এবার সরাসরি তাকালো রুপন্তি,
“তাহলে? উত্তর তো তোর সামনেই! এরপরও কিসের দ্বিধায় ভুগছিস তুই?”
বিনীতা মুখ ভার করে রূপন্তির দিকে তাকালো,
“জানিনা আমি! আমার সময় লাগবে…”
রুপন্তি একটু চিন্তা করে বলল,
“সময় তো আছেই! কথাবার্তা তো কেবল শুরু। আঙ্কেল আন্টি বিয়ের ব্যাপারে কি বলছেন?”
বিনীতা গভীরভাবে শ্বাস টানলো,
“সামনের মাসেই অ্যারেঞ্জ করতে চাইছে।”
রূপন্তির গলা এবার একটু বিজ্ঞদের মত শোনালো,
“তোদের এটা তো মেইনলি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। কথাবার্তা শুরু হওয়ার পর অর্ণব ভাই যদি তোর প্রতি ফল করে থাকে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার! কিন্তু অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে কিছুটা দ্বিধা তো থাকেই। তাই তোর এই দ্বিধা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা নিয়ে প্যানিক করিস না। আঙ্কেল আন্টিকে ‘হ্যাঁ’ বলে দে।”
বিনীতা এক মুহূর্ত চুপ করে রইল তারপর মাথা নিচু করে পায়ের নিচে জমে থাকা শুকনো পাতাগুলোর দিকে তাকালো। দ্বিধান্বিত কন্ঠে বলল, “আচ্ছা!”
______________________
মেয়ের সম্মতি পেয়ে রাহনুমা বেগম মহাখুশি। বান্ধবীকে সাথে সাথেই জানিয়েছেন খুশির সংবাদ। তারপর দুজন মিলে শুরু করেছেন হাজারটা প্ল্যানিং। বিনীতা শুধু বসে বসে মায়ের কান্ড দেখছে। বান্ধবীর সাথে রাহানুমা বেগম যেন ছোটবেলার মতো আনন্দে মেতে উঠেছেন। এনগেজমেন্ট, মেহেন্দি, হলুদ, বিয়ে, রিসেপশন— কতশত প্লানিং শুরু হয়ে গেছে এখনই। দুই বান্ধবী চাইছেন একসাথে শপিং করতে; সেখানে আবার বিনীতা আর অর্ণবের থাকা বাধ্যতামূলক!
অর্ণব থাকবে শুনে বিনীতা একটু ইতস্তত করছে। সেদিন অর্ণব প্রোপোজ করার পর থেকে ওদের আর সামনা-সামনি দেখা হয় নি। দু-একবার ফোনে কথা হয়েছে, তবে বিনীতা লজ্জায় একবারও ভালোভাবে কথাই বলতে পারেনি। এখন সামনাসামনি দেখা হলে ও কী করবে আল্লাহই জানে! তাই বিনীতা চাইছে না যেতে। কিন্তু রাহানুমা বেগমও ছাড়ার পাত্রী নন; জোর করে রাজি করিয়েই ছেড়েছেন বিনীতাকে। যেতে যেহেতু হবে তাই বিনীতা ভাবল, রূপন্তিকে সাথে নিলে কেমন হয়?
যেই ভাবা সেই কাজ; ঘরে গিয়ে ও ফোন লাগালো রূপন্তিকে।
— হ্যালো, রুপু? সামনের শনিবারে তুই ফ্রি আছিস? আমার সাথে বিয়ের শপিংয়ে যেতে পারবি?
— সামনের শনিবার মানে তিনদিন পর?
— হ্যাঁ!
— কে কে যাবে?
— আমি, মা, আসমা আন্টি আর অর্ণব।
রুপন্তি এবার বুঝলো বিনীতা কেন ওকে নিতে চাইছে। তাই ও ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে না করে দিল বিনীতাকে।
— আমার তো সময় হবে না রে! ঐদিন আমার একটু কাজ আছে।
— ওহ্, কাজ আছে। তাহলে তো আসতে পারবি না। আচ্ছা, ঠিক আছে তাহলে।
বেজার মুখে ফোন রাখলো বিনীতা।
ধুর!
রূপন্তিটাও ফ্রি নেই!
এখন ওকে একা একাই যেতে হবে।
_________________________
ওদিকে অর্ণব যখন শুনলো, এসব বিয়ের শপিংয়ে ওকেও থাকতে হবে; ও তো বুঝেই পাচ্ছেনা এসব মেয়েলি ব্যাপারে ওর কাজটা কী!
অর্ণব মায়ের দিকে তাকিয়ে ভোতা মুখে বলল,
“এসব মেয়েদের ব্যাপার মা! আমাকে টানছো কেন!”
আসমা বেগম অনেক ভুজুং ভাজুং দিলেন ছেলেকে—
“বিনীতাকে শাড়ি পছন্দ করে দিতে হবে না? আমি চাই বিনীতা বিয়েতে তোর পছন্দ করা শাড়ি পরুক।”
অর্ণব ঠিকই বুঝল মায়ের এসব ছলা-কলা। মা চাইছে শপিং এর দোহাই দিয়ে হলেও ওরা দু’জন একটু আলাদা সময় কাটাক; একে অপরকে চিনুক, জানুক। মায়ের ভাবনা বুঝতে পেরে মনে মনে হাসলো অর্ণব। মা তো আর জানে না তার ছেলে তার ভাবনার থেকেও কত এগিয়ে! অলরেডি মায়ের হবু বৌমাকে অর্ণব প্রোপোজও করে ফেলেছে! আর মা এখনো পড়ে আছে চেনা-জানা নিয়ে। মনে মনে হাসলেও ওপরে ওপরে অর্ণব খুবই বিরক্তির ভাব দেখালো যেন ওর একদম ইচ্ছে নেই এসব শপিং-টপিংয়ে যাওয়ার!
To be continued…