গল্প: নূর ই মুহব্বত (০৬)

লেখিকা:তাবাসসুম তাজ্বওয়ারী

পর্ব:০৬

 

 

চিন্তিত মুখে তাকিয়ে আছে নওমি। তুহি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই মেয়েটা এমন করছে কেন? সে রাগ দেখিয়ে বললো,

– সমস্যা কি তোর? এমন করছিস কেন?

নওমি ভয়ে ভয়ে বললো,

– আপু তুমি কি করে এসেছো? ওনাকে সব জানিয়ে দিয়েছো!!

– তো কি হয়েছে?

– এবার কি হবে? ওনি যদি আমাদের খোঁজ করে?

– দেখি কি করতে পারে। আজ যা বলে এসেছি এসবে কি ফল হবে আমি জানি না।

– আমার না খুব ভয় করছে!

– তুই কেন ভয় পাবি? যা হবে সরাসরি হবে! আর কত লুকিয়ে পালিয়ে বেড়াবি? তোর পালিয়ে বেড়ানো দেখে ওনি ধরে বসে আছে তুই অন্য কারো সাথে সংসার গেড়েছিস!

নওমি অবাক হলো না। সে জানে আযলান এমন কিছুই ভাববে ওর সন্দেহের কথা আর না ই বা বললো!

– কিন্তু আপু এখন কি হবে?

– কিছুই হবে না। তুই এত ভয় পাশ দেখে তোকে সবাই দুর্বল ভাবে! একটু শক্ত হ নওমি!

নওমি ঠোঁট চেপে বললো,

– আমার নিজের কিছু নিয়ে চিন্তা নেই আপু কিন্তু আদনানের কথা যদি জানতে পারে ওকে যদি নিয়ে যেতে চাই? আমি কিভাবে থাকবো? আদনান ছাড়া আমার কেউ নেই!

– মগের মুল্লুক নাকি? চাইবে আর দিয়ে দেবো আমরা? কিসের অধিকার ওর আদনানের উপর? আদনান যে ওর ছেলে এটা ও জানে? জানে না! ওই ব্যাটার জানার দরকারও নেই। যেখানে ইচ্ছে ম’রুক!

নওমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,

– তুমি বুঝতে পারছ না আপু, ওনি কতটা প্রভাবশালী। আযলান যদি কোনোভাবে জানতে পারে আদনান ওনারই সন্তান, তবে ওনি আইনিভাবে হোক কিংবা নিজের ক্ষমতার জোরে, আদানানকে আমার বুক থেকে কেড়ে নিতে এক সেকেন্ডও ভাববে না। তবে…

তুহি ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে বসলো,

– তবে?

– এখানে একটা গোলমাল আছে। যদি ওনি এই তিনবছরে বিয়ে করে তাহলে আমার কোনো ভয় নেই আদনানকে হারানোর।

– ওনি বিয়ে করেছে কি না এই খবর তো কারো কাছে পাইনি।

নওমি তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,

– বিয়ে করবে না আবার? আমিই তো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম তাই তো আমাকে না পারছিল ফেলে দিতে না পারছিল রেখে দিতে। গলার কাঁ’টা হয়ে বিঁ’ধেছিলাম! আমি বেরিয়ে আসার পরই বিয়ে করার কথা।

– কি বলছিস এসব? তোকে তো আযলান সন্দেহের বশে কথা শোনাতো বলতি?

– কথা শোনানোর অজুহাত যে সেটা নয় তা কিভাবে বলবো তুহি আপু?

– মানে?

– মানে পুরনো জিনিস ওনাদের বেশিদিন ভালো লাগে না তাই আমাকে ভালো লাগেনি। ওনাদের ভালো লাগে উচ্চশিক্ষিতা বড়লোক মেয়ে আমি তো তেমন নই! তাই আমাকে রাস্তা থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে হয়তো সন্দেহকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে?

তুহি হতভম্ব। এখন ঘটনা তো পুরো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। যদি সত্যিই তাই হয় তাহলে আযলান কেন এত বছর পর নওমির কথা জানার পর খোঁজ করবে? সত্যি অপমান করার জন্য? নাকি আদনানের জন্য? নাকি অন্য কোনো কারণে? তুহিকে চুপ থাকতে দেখে নওমি ওর হাত টেনে বললো,

– কি ভাবছো?

– কিছু না। শোন সাবধানে থাকিস। আমি আজ আসছি। আবরার তাড়াতাড়ি ফিরবে আজ। কালকে আমি আসব আবার।

– কিন্তু আপু ওনি যদি সত্যি খুঁজে নিয়ে চলে আসে?

– নওমি, তুই এখনো সেই আগের ভীতু মেয়েটাই রয়ে গেলি। তুই যে বলছিস ও আদনানকে কেড়ে নেবে? কীভাবে নেবে? আযলান আজওয়াদ একজন ডাক্তার হতে পারে, কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে তো নয়! আর তুই একা নোস নওমি, আবরার আর আমি তোর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

– আমি আর পালাতে চাই না আপু। কিন্তু আমি ওনার মুখোমুখি হওয়ার শক্তিও এখনো নিজের ভেতর খুঁজে পাচ্ছি না।

– তোকে ওনার মুখোমুখি হতে কে বলেছে? ও তোকে খুঁজে পাক, তারপর দেখা যাবে। এত চিন্তা করিস না।

তুহি বেরিয়ে গেল। রেখে গেল চিন্তিত নওমিকে। প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছে আদনানকে বোধহয় হারাতে বসেছে সে। প্রতিবার নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে, তুহিকে আগে বলে দিলে তাকে সাবধান করে দেওয়া যেত যেন তাদের কথা না বলে। তাহলে নিশ্চয়ই এতো কিছু হতো না? আদনান গুটি গুটি পায়ে মায়ের কাছে এসে ডাকলো,

– আ..মা…

এই আদুরে ডাকে যেন নওমির সব চিন্তা দূর হয়ে গেল। সে আদনানকে কোলে টেনে নিয়ে বললো,

– বলেন আব্বু?

– বাআ…বাআ

নওমির বুক ধ্বক করে উঠলো। ছেলের মুখ থেকে এই একটা শব্দ শোনার জন্য পৃথিবীর প্রতিটা মা চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে। কিন্তু নওমির বুকে এই শব্দটা শোনামাত্র যেন হাজারটা তপ্ত তীর এসে বিঁধল। সে আদনানকে প্রায় সময় ছবি দেখিয়ে চিনিয়েছে ঠিকই কিন্তু এখন ভাবলে ভয় হয় যদি আযলান ওকে নিয়ে যেতে চাই? যদি আদনান বাবার কাছে ফিরে যেতে চাই? তার কি হবে? ওর পুরো দুনিয়া তো আদনানকে ঘিরেই।
সে আদনানকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল তার। এই তিন বছরে কত রাত যে সে এই একই আশঙ্কায় বালিশ ভিজিয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। আযলান আজওয়াদ আহিল, নামটা মনে পড়তেই নওমির চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই অভিজাত, গম্ভীর চেহারার পুরুষটাকে, যাকে সে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছিল। কিন্তু বিনিময়ে কী পেয়েছিল? শুধু অবহেলা, কুৎসিত অপবাদ আর এক বুক শূন্যতা।

.

দুইদিন ধরে আযলান পাগলের মতো চিন্তা করেছে। ঘুরে ফিরে সে আটকেই যাচ্ছে। তার চোখের সামনে যেন একটা বিশাল ধাঁধা এসে দাঁড়াল। যার এক পিঠে তুহির দেওয়া পৈশাচিক লাঞ্ছনার অপবাদ, আর অন্য পিঠে তার নিজের চোখে দেখা কিছু ঘটনা, ফোনকল ইত্যাদি। এই দুই বিপরীত সত্যের মাঝে আসল সত্যটা কী, তা তাকে জানতেই হবে। আর তার জন্য নওমির মুখোমুখি হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু নওমি ওর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এটাও সে ভালো করে বুঝতে পারছে! কিন্তু সে যদি নির্দোষ হয় তবে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন? সে কি কোনোভাবে আযলানকে ভয় পাচ্ছে? তার মনে প্রথম আসছে এই নওমিই কি সেই নওমি?

– আমার দেখা নওমি ছিলো পুরো ভিন্ন! সেদিন নিকাব পড়া মেয়েটা যদি নওমি হয় তাহলে ওর মধ্যে এত পরিবর্তন কিভাবে? যেই মেয়ে কখনোই হিজাব পড়েনি সে সম্পূর্ণ নিজেকে আড়াল করে নিলো?

আযলান তার ভাই সমতুল্য বন্ধুর সাথে বসে নিজের জীবনের কথা বলছিল। এই বন্ধু সবটা জানে তার ব্যাপারে। সে আযলানকে বললো,

– দেখ তিন বছর কিন্তু কম সময় নয়। ইভেন একজন মানুষের পরিবর্তন হওয়ার জন্য এনাফ টাইম! সেটা তুইও জানিস! তোর মধ্যে কত পরিবর্তন এসেছে! আর এটাও হতে পারে তোর থেকে লুকিয়ে থাকার জন্য এমন…

– তাহলে আমি ওকে খুঁজে বের করবো কিভাবে? সে লুকিয়ে থাকে তাকে খুঁজে বের করা যায়?

– গত তিন বছর ধরে নিজেকে শক্ত করলি আর এখন এসেই ভেঙ্গে পড়ছিস? যার জন্য নিজেকে শক্ত করলি তার সামনেই ভেঙ্গে পড়বি?

আযলান ছোট্ট করে শ্বাস ছাড়ল। সব ঘেটে ঘ হয়ে যাচ্ছে তার। মন চাচ্ছে এখনই নওমিকে খুঁজে বের করে সব জেনে নিতে। তার দম বন্ধ লাগছে। ঘুম হচ্ছে না, কাজে মনোযোগ বসছে না। তার বন্ধু তৌহিদ চিন্তিত মুখে বললো,

– দেখ তুই ওকে কোথায় খুঁজবি এটা জানি না কিন্তু একটা ট্রিকস কাজে লাগা। সরাসরি বাসা খুঁজে লাভ নেই। যদি নওমি একা থাকে তাহলে অবশ্যই ও কোনো জব করবে? একা নিশ্চয় চলতে পারবে না? তার উপর তুই বলছিস একটা ছেলে আছে!

আযলান ভেবে দেখলো কথাটা ভুল নয়! কিন্তু এত বড় শহরে কোথায় কাজ করে এটা কিভাবে খুঁজবে সে?

– কিন্তু এটা কিভাবে খুঁজবো? এতো এতো কর্মস্থল!

– ব্যাটা তুই মাথার বুদ্ধি শুদ্ধি সব খুঁইয়েছিস নাকি? তুহিকে ফলো করলেই তোর অর্ধেক সমস্যার সমাধান! তুহি খুব সাবধান হয়ে গেলে ওর বাসায় কখনোই যাবে না কিন্তু তুহি যেহেতু ওকে সাহায্য করেছে সেহেতু দেখা না করে থাকবে না।

আযলান একটা ঢোক গিলে বললো,

– শেষমেশ ফলো করা শুরু করবো একটা মেয়েকে?

– তাহলে তুই থাক তোর মতো লোকের এইটাই প্রাপ্য! শা’লা খারাপের খারাপ!

– আরে আরে রেগে যাচ্ছিস কেন দোস্ত?

– তো কি তোকে মাথায় নিয়ে নাচবো? মেয়েটার সাথে বিষয়গুলো ডিসকাস করা যেত না? যতই নিজের চোখে দেখ একবার নিজের বউকে বিশ্বাস করা যেতো না? ওকে তুই সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলি কিছু?

– না। তবে কয়েকবার আমি ওকে জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিলাম ও উল্টো রাগ দেখিয়ে আমার মাথা খারাপ করে দিতো যার কারণে আরো বেশি রাগ লাগতো! এছাড়া আমি ইন্ডিরেক্টলি ওকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম ও সরাসরি না বলেছিল। আমি দেখে আসার পর এটা কিভাবে অস্বীকার করবো?

তৌহিদ হতাশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবলো, “দুইটাই একই! কেউ কারো থেকে কম না। রেগে না গিয়ে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া করলেই তো হয়! এই দুইটাকে দেখ! বউ রাগলে জামাইও মাথা গরম করে বসে থাকতো!”

– তোর যা মন চাই তা কর। তোদের দুইজন মিলে তিনটা বছর নষ্ট করেছিস! বাচ্চাটা যদি তোর হয় তাহলে বাচ্চাটার শৈশবের একটা অংশ নষ্ট করেছিস! দুইজনের কেউ এই দায় এড়াতে পারবি? মেয়েটাও তোকে না জানিয়ে চলে গেল! অবশ্য তোকে বলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তুই রাখিস নি! এখন আবার বলছিস আমি ফলো করবো? তোর কিছুই করা উচিত না। এভাবেই দেবদাস হয়ে ঘুরতে থাক তুই।

আদনানের কথা উঠতেই আযলানের মুখ মলিন হয়ে গেল। প্রথমদিন আধো আধো গলায় কি সুন্দর ‘বাবা’ ডাকলো! এই কঠোর হৃদয়টা কি একটুও বুঝতে পেরেছিল?  নওমি নিশ্চয়ই ওকে চিনিয়েছে নাহয় চিনলো কি করে! কিন্তু আমার সামনে কি সুন্দর বলে দিল “ওর বাবা নেই” ইশ বুকটা বড্ড পু’ড়ছে! এইজন্যই বুঝি নাম নিয়ে এতো কিছু করেছে! ছেলের নাম কি? আদনান আজওয়াদ? ভাবতেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটলো আবার! তৌহিদকে বললো,

– জানিস আমার ছেলেটা কত কিউট হয়েছে! দেখলে কোলে নিতে মন চাই!

– তাহলে ভাব তিনটা বছর কি হারিয়েছিস? ছেলেটা তোর কোলে পিঠে মানুষ হতো কিন্তু একটা ভুলে সব তছনছ!

হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠলো আযলান। এই অস্থিরতা তৌহিদ চেনে। সকলের সামনে কঠোর হলেও এই আযলান যে কতটা নরম সেটা শুধু তারা গুটি কয়েকজন জানে! আযলান অস্থির কণ্ঠে বললো,

– আচ্ছা তৌহিদ? আদনান কোনদিন আমায় বাবা ডাকবে?

তৌহিদের বুকে লাগলো কথাটা। তারও একটা ছোট পরী আছে। আধো আধো কথা শিখছে মাত্র। সে আযলানকে শান্তনা দেওয়ার ভঙ্গিতে বললো,

– ডাকবে না কেন? তুই তো বললি সেদিন ডাকলো।

– সেটা তো না জেনে ডেকেছে! যদি সত্যি নওমি ঠিক হয় আর আমি ভুল হই তাহলে এত কিছু জেনে ও বড় হয়ে আমাকে ঘৃণা করবে… তাই না?

বলতে বলতে গলা কেঁপে উঠল তার। তৌহিদ আযলানের পিঠে হাত রেখে আলতো করে চাপ দিল। এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

– অতীতের ভুলগুলোকে আঁকড়ে ধরে বসে থাকলে তো আর ভবিষ্যৎ ঠিক হবে না, আযলান। এখন ভেঙে পড়ার সময় নয়। আগে তুই সত্যিটা কী তা জানার চেষ্টা কর। নওমি যদি কোনো অপরাধ না-ই করে থাকে, তবে তার ভেতরের অভিমান আর কষ্টটা তোকে দূর করতে হবে। তোকে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে স্বামী হিসেবে, বাবা হিসেবে। তবে সব ঠিক করার জন্য কষ্ট করতে হবে খুব, মেয়েটা কম কষ্ট পায়নি!

কিছুক্ষণ পর তৌহিদ উঠে চলে গেল। আযলান বেশ খানিকক্ষণ একা বসে রইলো তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একেকটা অতীতের ঘটনা যেগুলো এতদিন ভুলতে চেয়েছে সেগুলো এখন নিজেই মনে করছে।

বিয়ের প্রথম দিকে নূরের সৎ মা নূরের সামনে প্রশংসা করলেও নূর অর্থাৎ নওমির আড়ালে ওর কানে অনেক কথা বলতো। আহিলের প্রচন্ড রাগ হতো কিন্তু নওমিকে বলতো না সে কষ্ট পাবে বলে। এক পর্যায়ে সে নওমির সৎ মায়ের বাড়িতে যাওয়া কমিয়ে দিলো। নওমিকেও যেতে দিতো না বেশি। এক মাস পর একদিন আহিল বাসায় ফিরে দেখলো নওমি ফোন নিয়ে বিছানায় বসে মিটমিটি হাসছে। আশেপাশে খেয়াল নেই। সে যে এসেছে সেই খবর ও নেই। সে ডাকতেই নওমি থতমত খেলো। আজ আগে ফিরেছে আহিল।

– আপনি? এত তাড়াতাড়ি?

– তো?

– কিছু না বসুন। আমি সরবত নিয়ে আসছি।

নওমি চলে গেল। আহিল ফ্রেশ হয়ে আসতেই নওমির ফোনে একটা কল এলো। ফোনটা রিসিভ করতেই কেউ বলে উঠলো,

– ওভাবে অফলাইন হলে কেন তোমার হাসব্যান্ড এসেছে নাকি?

পুরুষ কণ্ঠ শুনতেই আহিল অবাক হয়ে গেল। এর মধ্যে নওমি রুমে ঢুকলো। আহিল ওকে দেখে ফোন এগিয়ে বলল,

– এটা কে?

– আমি তো চিনি না।

– তাহলে তোমাকে এগুলো কি বললো?

নওমি ফোন হাতে নিয়ে নম্বর চেক দিয়ে বললো,

– এটা তো একটা আননোন নম্বর আমি কিভাবে জানবো?

– আমি ঘরে ঢুকেও দেখেছি তোমার এদিকে খেয়াল নেই ফোন দেখে মিটিমিটি হাসছো? কাহিনি কি?

নওমি রেগে গেল। জোর গলায় বললো,

– আপনি সবসময় আমাকে এভাবে জেরা করেন কেন বলুন তো? আমি কি আপনার ঘরের বন্দি কয়েদি? একটা সাধারণ বিষয় নিয়ে অহেতুক সন্দেহ করাটা আপনার রোগে পরিণত হয়েছে! আমি কি হাসতেও পারবো না?

এই নিয়ে ওদের বাকবিতণ্ড চললো। দুইদিন কথা বলাও বন্ধ ছিলো। এক পর্যায়ে আহিল মেনে নিলো তারই ভুল! সে ক্ষমা ও চেয়েছিলো নওমির কাছে।
কিন্তু এরপরের ঘটনা শুধু আননোন নম্বরেই সীমাবদ্ধ রইলো না। আহিলের চোখের সামনে এমন ভাবে সাজানো হলো যে সে বিশ্বাস করতে বাধ্য ছিলো!

চলবে………

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x