গল্প: দ্বিতীয় সূচনা (৩৯)

পর্বঃ৩৯[বাসর স্পেইশাল🌹]

লেখনীতেঃআফসানা শোভা

[প্রাপ্তবয়স্ক এলার্ট।⛔]

 

 

বাইরে থেকে কথা কাটাকাটি, ব্যাপক চিৎকার-চেঁচামেচি, হইচই শোনা যাচ্ছে। প্রচন্ড বাকবিতন্ডায় লিপ্ত দুই দল। মহিলা সমাজ কিছুতেই তাদের দাবি পূরণ করা ব্যতিত বাসর ঘরে ঢুকতে দেবেনা। অপরদিকে দফায় দফায় পকেট ফাঁকা হওয়া বেচারা ঐক্যের বন্ধুরা এবার আর কিছুতেই তাদের বন্ধুকে বলদ হতে দেবেনা। তাই কোমর বেঁধে মহিলাদের সাথে ঝগড়ায় নেমেছে।

— কি সমস্যা তোমাদের? এত টাকা খরচা করে বৌ করে নিয়ে এসেছে। তাও ছাড় দিচ্ছনা। আচ্ছা ধড়িবাজ মহিলা তো তোমরা।

পাশ থেকে সোহান সায় মিলিয়ে বললো,

— ভাই এই মহিলা সমাজকে এখনো তুই চিনতে পারিসনি। আগে বিয়ে কর তারপর বুঝবি। ওয়াশরুমে যাওয়ার আগেও এরা টাকা হাতিয়ে নেয়।

এদিকে যার বাসর সেই এসবে অতিষ্ঠ হয়ে বললো,

— কত টাকা চাই তোমাদের বলো? আমি দিয়ে দিচ্ছি।

মহিলারা একজন আরেকজনের কানে ফিসফিস করে কিছু বলে। ছেলেরা কান খাঁড়া করে শোনার চেষ্টা করে।
অবশেষে ফিসফিসানি শেষে মহিলারা তাদের চূড়ান্ত দাবি পেশ করলো। ঐক্যর কাজিনের বৌ হালকা কেশে গলা ঝেড়ে বললো,

— বেশি না ভাইয়া। আমরা এখানে ছয়জন আছি। তাই ছয়জনের জন্য স্বল্প এমাউন্ট হিসেব করে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে দিলেই হবে। বেশি চাইলাম না।

ঐক্যের বন্ধুরা তব্দা খেয়ে যায়। একযোগে বিরবির করে বললো,

— ত্রিশ হাজার মাত্র?

ঐক্যের ভালো লাগছেনা এত তর্কাতর্কি। আসল কথা হচ্ছে ওর মাথাটা টলছে। ছাদে ওরা ধরে নিয়ে গিয়ে তখন দুই প্যাক জোর করে গিলিয়ে দিয়েছে। মদখোর ঐক্যও সানন্দে গিলে নিয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নেশাটা খুব ভালো মতই ঝেঁকে বসেছে। পুরো শরীরটায় একটা অদ্ভুত উত্তেজনা কাজ করছে। ত্রস্ত হাতে পকেট হাতড়ে নিজের ওয়ালেট টা বের করল। ওয়ালেটে ক্যাশ বেশি নেই। তাই কার্ডটা নিয়ে ওদের হাতে ধরিয়ে বললো,

— কার্ড রাখ এখন। আর যদি বলো ক্যাশই লাগবে তাহলে ভেতরে ঢুকতে দাও। কাভার্ড থেকে বের করে দিই।

— না না। দরকার নেই ভাইয়া। কার্ডটাই রাখলাম। কাল শপিং শেষে পেয়ে যাবেন।

ঐক্য ক্লান্ত শ্বাস ছেড়ে বললো,

— এবার তাহলে ঢুকতে পারব?

ওরা প্রফুল্লচিত্তে দরজা থেকে সরে দাঁড়াল। গদগদকণ্ঠে বললো,

— হ্যাঁ যান যান ভাইয়া। বাসর ঘর তো আপনারই।

ঐক্য বন্ধুরা মুখ লটকে দাঁড়িয়ে রইল। রাদ সবাইকে বললো,

— দেখেছিস তোরা এই ব্যাটার বাসরের কত তাড়া?

সোহান ঐক্যের কানে কানে ফিসফিস করে বললো,

— ভাই তোর বাসরে এত তাড়া? রাত কি শেষ হয়ে যাচ্ছে?

ঐক্য শীতল দৃষ্টিতে তাকাল। সোহান দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো,

— এই আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন কেন? যান সবাই সরুন এখান থেকে৷ টাকা পেয়েছেন না? এবার ভাগুন। আমার বন্ধুকে তাড়াতাড়ি বাসর ঘরে ঢুকতে দিন।

মহিলারা সবাই ঠোঁট টিপে হেসে চলে গেল দ্রুত। ওরা যেতেই ঐক্য ঠান্ডা গলায় বললো,

— এবার তোরাও যা। নাকি দুয়েকটা ঘুষি খেয়ে তারপর যাবি?

— তুই শালা আসলেই একটা হারামি। আজকের বাসরেই তুই দশ বাচ্চার বাপ হয়ে যাবি। বদদোয়া দিলাম যা।

ঐক্যের বন্ধুরা সবাই গা দুলিয়ে হেসে দেয় সোহানের কথায়। ঐক্য তেড়ে আসতে নিলে ওরা ছুটে পালায়। ওরা যেতেই ঐক্য হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো যেন। মুখ ফুলিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত ঘরটায় ঢুকলো।

হাট করে দরজা খোলার আওয়াজে আবৃতির গোটা স্বত্ত্বা অকস্মাৎ থরথরিয়ে কেঁপে উঠে। ভয়ার্ত দৃষ্টি মেলে ঐক্যকে দেখে শাড়ির আঁচলটা টেনে শরীরটা ঢাকার বৃথা চেষ্টা করে। কম্পমান শরীরটা আরেকটু গুটিয়ে বিছানায় মধ্যিখানে জড়োসড়ো হয়ে বসে রইল। ঐক্য তাকিয়ে দেখল পুরো রুমটা আধো অন্ধারাচ্ছন্ন। চারদিকে কেবল কয়েকটা মোমের আলো জ্বালিয়ে রাখা। সেই মৃদু আলোছায়া কক্ষটাকে যেন আরো মোহনীয় করে তুলেছে। নিজের অতি পরিচিত কক্ষটা ঐক্যের নিকট আজ বড্ড অপরিচিত ঠেকল। আজ বহু বছর পর এই কক্ষে কেউ একজন নতুন করে তার রঙ ছড়াচ্ছে যেন। বিছানার মাঝ বরাবর গুটিসুটি মেরে বসে আছে তার বিয়ে করা বৌ। মোমের লালাভ আলোয় বিছানায় বসা শুভ্র শাড়ি পরিহিতা রমনীটিকে ঐক্যের নিকট কোন এক রূপকথার রানীর ন্যায় মনে হলো। ঐক্য ফিচেল হেসে দরজার ছিটকিনি টানল। সেই শব্দে পুনর্বার কেঁপে উঠে আবৃতির নারী কায়া৷ । মোমের হলদে আলোর ছটায় আর কাঁচা ফুলের মন মাতানো ঘ্রাণে ঐক্যের দমিয়ে থাকা নেশাটা ফের মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠল। নিজেকে ধাতস্থ করে মোহাবিষ্টের ন্যায় বিছানার দিকে ধীর কদমে অগ্রসর হলো। একটা শুকনো ঢোক গিলে ফুলের ঝাঁড় পর্দাটা সরিয়ে বিছানায় আবৃতির সম্মুখে বসলো। ঐক্যকে নিজের সন্নিকটে অনুভব করে আবৃতি আরেকটু গুটিয়ে যায়। ঐক্য
কিছুক্ষণ নিবিষ্ট নজরে আবৃতির বৃথা ঢেকে রাখা লাস্যময়ী বদনে নিজের মুগ্ধ দৃষ্টি বুলালো। ডাকল মৃদু গলায়,

— আবৃতি?

কি ছিল এই ডাকে জানেনা আবৃতি। স্বামীর কন্ঠে নিজের নাম বুঝি প্রতিটা মেয়ের কাছেই এমন মধুর শুনতে লাগে? কেমন সম্মোহনের ন্যায় আবৃতি মাথা তুলে তাকাল। তাকাতেই একজোড়া নেশাক্ত দৃষ্টিতে নিজের নজর পড়তেই আবৃতির বুকের কাঁপন বাড়ল দ্রুতবেগে। ত্রস্ত নিজের নজর নামিয়ে নিল। ঐক্য আরেকটু এগিয়ে এসে খরখরে হাতে আবৃতির চিবুকটা তুলে ধরে। আবৃতির বদ্ধ নেত্রে, কম্পমান লালচে ঠোঁটে, পানপাতার ন্যায় ঢলঢলে পেলব আননে নিজের মুগ্ধ দৃষ্টি বুলিয়ে ঐক্য নেশালো আওয়াজে বললো,

— তুমি খুব সুন্দর?

আবৃতি তড়াক করে চোখ খুলে তাকাল। ঐক্যের এমন নেশারু দৃষ্টি দেখে লজ্জায় আইঢাই করে উঠে। ঢোক গিলে নম্র স্বরে সালাম দেয় স্বামীকে। ঐক্যের হঠাৎ সম্বিৎ ফিরে আসে যেন। হুট করে আবৃতিকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ঐক্যের বদলে যাওয়া দৃষ্টি দেখে আবৃতি ভড়কে যায় সামান্য। অবাক চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে ঐক্য কাভার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কি যেন করছে। কাল বিলম্বে একটা চেক বই নিয়ে ফের আবৃতির সামনে হাঁটু মুড়ে বসে। আবৃতি অবোঝ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে ঐক্যের কার্যকলাপ। ঐক্য চেক বইটায় কলমের খসখস শব্দ তুলে কি যেন লিখে কাগজটা ছিঁড়ে নেয়। তারপর সেটা বাড়িয়ে দেয় আবৃতির দিকে। আবৃতি কাগজটা নিয়ে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকায়৷ ঐক্য ধিমি স্বরে বলে,

— তোমার মোহরানা।

আবৃতি চকিতে তাকিয়ে দেখে নগদ বিশ লক্ষ টাকার একটা চেক। সত্যি বলতে এই টাকাগুলোর আবৃতির কোন প্রয়োজন নেই। ওর প্রয়োজন কেবল এই সামনে বসে থাকা মানুষটা। একটু দেরী হলেও চৈতন্য ফিরতেই ধ্রুব আবৃতির মোহরানা পরিশোধ করে দিয়েছিল। আবৃতি সেগুলো আরশানের নামে ব্যাংকে রেখে দিয়েছে। কিন্তু আবৃতি এবার নিয়ত করল এই টাকাগুলো ও সম্পূর্ণ দান করে দেবে। বিনিময়ে উপরওয়ালা যেন এবার অন্তত ওর ভাগ্যে স্বামী সুখ আর একটা সংসার লিখে রাখে।

— কোথায় হারালেন মিসেস চৌধুরী।

বেখেয়ালি আবৃতির মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে হেসে বললো ঐক্য। আবৃতি একটু উঠে চেকটা বেডসাইড টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিল। ও উঠতেই বেখেয়ালে কোমর থেকে শাড়ির আঁচলটা সামান্য সরে গেল। আর তাতেই ঐক্যের সামনে দৃশ্যমান হলো আবৃতির চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য। শাড়ির আঁচল পেরিয়ে বেরিয়ে আছে আবৃতির একফালি নির্মেদ মোমরঙা উদর। ঐক্য ঢোক গিলে চোখ সরিয়ে নিতে যেয়েও নিলনা। দৈবাৎ মনে পড়ল এই সৌন্দর্য আস্বাদনের ওর পূর্ণ অধিকার আছে। আবৃতি চেকটা ড্রয়ারে রেখে ফের নিজের জায়গায় বসল। নত মুখে বসে কোলের উপরে শাড়ির আঁচলটা কচলাতে লাগল। ঐক্য মুচকি হেসে নিজের পকেটে হাত দিল। আবৃতি আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখল ঐক্য পকেট থেকে একটা বক্স বের করেছে। বক্সটা খুলতেই বের হলো এক জোড়া চকচকে সোনার নুপুর। ঐক্য নুপুর গুলো হাতে নিয়ে ঠোঁট এলিয়ে হেসে বলে,

— আসো পরিয়ে দিই।

বলে দেরী না করে আবৃতির গুটিয়ে রাখা নরম শ্বেতবর্ণ পা টা টেনে নিজের কোলে রাখল। আবৃতি লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নত করে নিল। ঐক্য খুব যত্ন করে অর্ধাঙ্গিনীর শুভ্র পায়ে সোনালী নুপুর জোড়া পরিয়ে দিল। নুপুর গুলো আবৃতির পায়ে এঁটে যেন আরো দ্বিগুণ সুন্দর দেখতে লাগছে। ঐক্য মুগ্ধ দৃষ্টিতে আবৃতির চরণে এঁটে স্মিত হেসে শুধায়,

— পছন্দ হয়েছে?

আবৃতি অভিভূত নেত্রে নুপুরগুলো দেখে বিরবির করে বলে,

— খুউউব!

ঐক্য হয়তো জানেনা আনমনেই সে তার বৌয়ের একটা অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণ করে ফেলেছে। আবৃতির ছোট থেকেই পায়েল,নুপুর এসবের প্রতি একটা অবসেশন আছে। আজ ভাগ্যক্রমে নিজের সবচেয়ে আপন মানুষটি হতে সে তার বহুল আকাঙ্কিত শখের জিনিসটা পেয়ে গেল, তাও বাসর রাতে স্বামী থেকে পাওয়া উপহার। এই অনুভুতির ব্যাখ্যা আবৃতির কাছে নেই। হঠাৎ আবৃতিকে পুরোপুরি স্তম্ভিত করে দিয়ে ঐক্য মুখ নামিয়ে চুমু খেয়ে বসলো ওর মাখনের মতো নরম শুভ্ররঙা পদযুগলে। স্বামীর প্রথম গভীর স্পর্শে আবৃতির গোটা শরীর বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো ঝটকা মেরে উঠল। সহসা খামচে ধরে শাড়ির আঁচল। পায়ের পাতা থেকে আপাদমস্তকে একটা শিরশিরে অনুভূতিতে ছেয়ে যায়। আবৃতির দেহের কম্পন ঐক্যের ঝিমিয়ে থাকা উত্তেজনাকে যেন আরেকটু উস্কে দেয়। পা থেকে মুখ তুলে ঐক্য ঘোলাটে চোখে আবৃতির সারা দেহে সূক্ষ্ম দৃষ্টি বোলায়। আরেকটু এগিয়ে এসে একদম আবৃতির সন্নিকটে ঘনিয়ে আসে। নিজের এত সন্নিকটে ঐক্যকে অনুভব করে আবৃতির প্রাণটা ওষ্ঠাগত৷ এই রাতটা কাঙ্ক্ষিত, স্বাভাবিক একটি রাত। তবুও সম্পূর্ণ নতুন কিছু অব্যক্ত অনুভূতিতে আবৃতির সর্বাঙ্গে বিদ্যুৎ খেলে যাচ্ছে। ঐক্য নিজের নেশাক্ত দৃষ্টি আবৃতির আনত সারামুখে বুলিয়ে অবশেষে নিজের রুক্ষ ঠোঁট নামিয়ে ছোঁয়ায় আবৃতির ললাটের মাঝ বরাবর। আবৃতি আবেশে চোখ বুজে নেয়। ধীরে ধীরে ঐক্যের নরম চুম্বন এঁকে দেয় আবৃতির নরম গালে, চিবুকে। আবৃতি স্তব্ধ হয়ে শুধু অনুভব করতে থাকে স্বামীর নরম স্পর্শ গুলি! ঐক্য হঠাৎ থেমে যায়। আবৃতি অনুভুতির বেগ সামলে বদ্ধ নেত্র জোড়া মেলে তাকায়। ঐক্য বড় বড় শ্বাস ছেড়ে অস্থির কন্ঠে ডাকল,

— আবৃতি

— জি?

— তোমাকে আদর করি একটু? তুমি না চাইলে ইটস ওকে। আমরা আরো সময় নেব।

আবৃতি বেড সিট খামচে ধরে প্রকম্পিত কন্ঠে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আওড়ায়,

— চা..চারটা বছর আপনি অনেক সময় নিয়েছেন ঐক্য। আমি চাই আপনি আমাকে ভালবাসুন। খুব খুব ভালবাসুন। আপনার সকল অনুভূতি, ভালবাসা, আদর আমার জন্যই বরাদ্দ থাক। কেবল আমার জন্য!

উদভ্রান্তের মতো বলা কথাগুলো বলে আবৃতি শান্ত হয়।
আবৃতির এলো-মেলো কথাগুলো ঐক্যকে বুঝিয়ে দিল ওর মনের না বলা কথা, নীরব অনুমতি। আবৃতি ফের ফের ডুকরে কেঁদে ওঠে,

— আপনি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আমার হয়ে থাকুন ঐক্য। শুধু আমার হয়েই থাকুন৷

ঐক্য সবেগে বন্ধ করে দিল মেয়েটার অশ্রুতে সিক্ত ঠোঁট জোড়া। দিশেহারা আবৃতি শিউরে উঠে খামচে ধরে ঐক্যের মাথার ঝাঁকড়া চুল। আবৃতির নগ্ন কোমর খামচে ঐক্য নিজেকে বিলীন করে দেয় আবৃতির টকটকে রক্তজবার ন্যায় ওষ্ঠে। কিছুক্ষণ পর আবৃতির ঠোঁট ছেড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে নিজের পরনের পাঞ্জাবিটা খুলে ছুঁড়ে মারে মেঝেতে। একপ্রকার ঘোরের মাঝেই আবৃতির মাথাটা ঠেকে ফুল ছড়ানো বালিশে। ঐক্য আবৃতির উপর আধশোয়া হয়ে ঝুঁকে চুমু বসায় মেয়েটার কপালে। ফিসফিস করে দৃঢ় কন্ঠে বলে,

— আজ থেকে মৃত্যুর আগ অব্দি এই ঐক্য চৌধুরী শুধু তোমার আবৃতি।

আবৃতির শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল।
ঐক্যের গলায় তুমি ডাকটি এত সুন্দর শুনতে লাগে কেব? ঢোক গিলে ও চোখ বন্ধ করে নেয়। আজ শুধু ও অনুভব করবে স্বামীর ভালবাসা। যেটা ভাগ্যক্রমে ওর নসিব হয়েছে। ওর বদ্ধনেত্রের কোল ঘেষে সহসা এক ফোঁটা উষ্ণ অশ্রু গড়িয়ে গাল বেয়ে নামল। ঐক্য নিজের ঠোঁট দ্বারা শুষে নিল সেই জলটুকু। রুক্ষ হাতে টেনে সরিয়ে দেয় আবৃতির বুকের আঁচলখানা। সেই রাতে আবৃতি নিজেকে সপেছে স্বামী নামক মানুষটার হাতে।
সময়ের সাথে স্বামী নামক মানুষটা আবৃতিকে শুষে নিয়েছে আবৃতির থেকেই। ভালোবাসার ছোঁয়া আর প্রবল চাহিদার পার্থক্যটা কি সুনিপুণভাবেই বুঝিয়ে দিল সে আবৃতিকে। আবৃতির পুরো সত্ত্বায় নিজের সিলমোহর বসিয়েছে প্রবল অধিকারবোধের সাথে। ভালবাসার একটা দীর্ঘ রজনীর অভিসারের সমাপ্তিতে ঐক্যের উন্মুক্ত বুকে অসাড় হয়ে পড়ে রইল আবৃতি। ক্রমশ ক্লান্তিতে, ঘুমে চোখদুটো বুজে আসছে ওর। ঐক্য মেয়েটার এলোমেলো চুলে আঙুল আঙুল বুলিয়ে বললো,

— ঘুমাও আবৃতি।

আসলেই ভীষণ ঘুম পাচ্ছে আবৃতির। ঐক্যের উত্তপ্ত বুকের ভাঁজে মাথাটা ঢাবিয়ে আবৃতি নিশ্চিন্তে চোখ বোজে। আজ বহুদিন বাদে ও একটু শান্তিতে ঘুমাবে স্বামীর বুকে মাথা রেখে। আজ আর মনে ভয়, মস্তিষ্কে দ্বিধা, সংশয় কিচ্ছু নেই। আজ আবৃতির একটা নিজের মানুষ আছে৷ মানুষটা তার স্বামী ঐক্য চৌধুরী!

চলমান…….

[আসসালামু আলাইকুম পাঠক। আজকের পুরো পর্বটায় দাম্পত্যের একটা সুন্দর রাতকে অনুভব করানোর চেষ্টা করেছি। কেউ অপ্রস্তুত হলে ক্ষমা করবেন। আর অবশ্যই যারা পড়ছেন একটু কৃপা করে লাইক, কমেন্ট করবেন অনুরোধ। ভালবাসা নেবেন। হ্যাপি রিডিং। ❤️]

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x