Story: Sensation (08)

লেখিকা: মাহাজাবিন রাফা

পর্ব :০৮

প্রণয় আর মাহতিম একসাথে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। প্রণয় ড্রাইভিং সিটে বসে আর মাহাতিম তার পাশের সিটে। এরপর ফুল স্পিডে গাড়ি চালাতে থাকে। প্রনয়রা ১০ মিনিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছে যায়। কায়নাত কুহুকে নিয়ে এয়ারপোর্টের মধ্যে বসেছিল। কায়নাত মাহাতিমকে প্রণয়কে একসাথে আসতে দেখতে পায়। কায়নাত খেয়াল করে মাহাতিম সেই আগের পোশাকেই আছে। টোরকুইজ রংয়ের একটা শার্ট আর ফর্মাল প্যান্ট। পায়ে সু। মাহতিমের সাথে কোন লাগেজ নাই। কায়নাত একটু অবাক হয়ে বিড়বিড় করে বলে – অন্য একটা দেশে যাচ্ছে অথচ লাগেজ সাথে নেয়নি!

মাহতিম এসে বলে ওঠে – আপনাদের টিকেট কাটা হয়েছে?

– হুম অলরেডি কেটে ফেলেছি। আপনারটা?

– আমারটাও কাটা হয়ে গিয়েছে।

কায়নাত আর মাহাতিম প্রনয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইমিগ্রেশনের দিকে আগায় । প্রণয় তিনজনের চলে যাওয়ার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর বেরিয়ে যায় এয়ারপোর্ট থেকে। মাহতিম আর কায়নাত ইমিগ্রেশনের পালা শেষ করে প্লেনে ওঠে। তিনজনের সিট ছিল বিজনেস ক্লাসে। কায়নাত আর কুহু একসাথে আর মাহাতিম আর এক পাশে সারিতে বসেছে।

– আম্মু আমরা কোথায় যাচ্ছি ?

– লন্ডনে

– আমরা কি আগেও গিয়েছি?

– তুমি ছোট থাকতে একবার গিয়েছিলাম

– কিন্তু কবে? আমার তো মনে পড়ছে না

কায়নাত কুহুর দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলল – ওরে আমার দুষ্টু মনি! অনেক কথা জানে

কুহু কায়নাতের দিকে তাকিয়ে খিল খিল করে হাসতে থাকে। কায়নাত কুহুর পেটে শুরশুরি দেয়া শুরু করে। কুহু আরো বেশি হাসতে থাকে। মাহতিম বসেছে ঠিক কায়নাতদের বরাবরি পাশের সিটে। মাহতিম দুজনকে দেখছে আর হাসছে। মাহতিম মনে মনে বলতে থাকে ” আল্লাহ তুমি যদি আমাকে আর কায়নাতকে এক করে দিতে তাহলে কি কোন সমস্যা হতো? কায়নাত জীবনে যে কষ্টটা পেয়েছে সেই কষ্টটা পেত না। আজকে তো কুহু আমাদের মেয়ে হতো তাহলে তো কুহুর জীবনটা অন্যরকম হতো আমরা কেন কুহুকে নিয়ে লন্ডন অপারেশন করতে যাব আমরা তো ঘুরতে যেতে পারতাম। তুমি ভাগ্যটা এমন লিখলে কেন আল্লাহ?

প্রায় ১৩ ঘন্টা পর প্লেনটি heathrow airport লন্ডনে ল্যান্ড করে। ওদের যাত্রা শুরু হয়েছিল দুপুর একটা বাজে যদি ওরা এখন বাংলাদেশে থাকতো তাহলে সময় হতো রাত দুইটা। কিন্তু লন্ডনের সময় বাংলাদেশ থেকে ৫ ঘন্টা পিছিয়ে বলে রাত দশটা বাজছে। মাহতিম কায়নাতের আর কুহুর লাগেজ টানছে। কুহু কায়নাতের কোলে ঘুমাচ্ছে তিনজন একসাথে বেরিয়ে এয়ারপোর্টের সামনে রোডে দাঁড়ালো ।

– মিস কায়নাত

– জ্বী বলুন

– আমি ড্রাইভারকে কল করে দিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যে ড্রাইভার চলে আসবে আমাদেরকে নিতে।

– সরি আমি না ভুলে গিয়েছিলাম হোটেল বুক করতে এখন কোথায় থাকব বুঝতে পারছিনা আপনি কি হোটেল বুক করেছেন?

– হোটেলের কি প্রয়োজন? আমার অ্যাপার্টমেন্টে থাকবো আমরা

– আপনার অ্যাপার্টমেন্টে ?

– হুম। এখানে আমার মা-বাবা থাকে। আমরা সেখানেই থাকবো। আশা করি আপনার কোন সমস্যা হবে না

কায়নাত কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে ওঠে – ঠিক আছে কোন সমস্যা নেই

একটা মার্সিডিজ বেঞ্জ এসে থামলো ওদের সামনে। একজন অর্ধবয়স্ক লোক পরনে তার ড্রাইভারের স্যুট গাড়িটাকে বের হয়ে গাড়ির পিছনের দরজা খুলে দিল।

– আপনি বলুন আমরা উঠতে পারবো

ড্রাইভার নিজের জায়গা গিয়ে বসে পড়ল। মাহাতিম কায়নাতকে পিছনে বসার ইশারা করে বসতে বলল। কায়েনাত কুহু কে নিয়ে গাড়িতে বসতেই মাহতিম গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিল।
মাহতিম লাগেজগুলো গাড়ির ডিকিতে রেখে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে পড়লো।
ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিল । রাস্তা ফাকা হওয়ায় মাহতিমের বাড়িতে পৌঁছাতে সময় লাগলো ৩৫ মিনিট। মাহতিমের বাড়ি লন্ডনের Hampstead শহরে । হ্যাম্পস্ট্যাড অনেক ধনী পরিবারের জন্য সেরা।

 

 

চলবে ………..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x