লেখিকা: মাহজাবিন রাফা
পর্ব:৬
~বর্তমান ~
– কিরে মহতিম কথয় হারায় গিয়েছিলি?
মাহতিম বর্তমানে ফিরে আসে। মাহতিম নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না । প্রায় ১২ বছর পর মাহতিম কায়ানাতকে দেখছে। মহাতিম কায়নাতের মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার নজর বুলালো। কায়নাতের পরনে কালো শার্ট ফরমাল প্যান্ট পড়া। শার্ট প্যান্টের সাথে ইন করা। পায়ে গুচি ব্র্যান্ডের হাই হিল পড়া। ডান হাতে গুচি ব্র্যান্ডের একটা ঘড়ি। বা হাতে একটা স্বর্ণের ব্রেসলেট। মুখে হালকা মেকাপ করা। চোখে কাজল দেওয়া। ঠোঁটে ম্যাট কালারের লিপস্টিক দেওয়া।চুলগুলো মেসি বান করা। মুখের ওপর কয়েকটা বেবি হেয়ার পড়ে আছে।
মাহাতিম মনে মনে বলতে থাকে – দূর থেকে তোমায় দেখেছিলাম। আর আজ ১২ বছর পর তোমায় আবার দেখছি। তুমি আরো বেশি সুন্দর হয়েছে। আবারো একবার মুগ্ধ হলাম। কখনো ভাবেনি তোমাকে আবার দেখতে পাবো। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ; তোমার সাথে এমন সময়ে দেখা হয়েছে যখন তুমি বিবাহিত তোমার একটা পাঁচ বছরের মেয়ে আছে। কি হতো যদি সৃষ্টিকর্তা তোমাকে আর আমাকে এক করে দিতো। তাহলে হয়তো কুহু আমাদের মেয়ে হতো।
প্রণয় মাহতিমের মুখের সামনে তালি বাজিয়ে বলে ওঠে – আবার কোথায় হারিয়ে গেলে?
মাহতিম এবার ধীর কন্ঠে বলে ওঠে – কিছু না। তুই পরিচয় করিয়ে দিবি না আমাদের?
প্রণয় কায়ানাতকে দেখিয়ে মাহতিমকে বললো – মাহতিম ওই কায়নাত। আর কুহু ওর মেয়ে
তারপর মাহতিমকে দেখিয়ে বলল – কায়ানাত এটা মাহতিম কারাহান।
– আর বলা লাগবে না। উনাকে তো সবাই চেনে। আমি ওনাকে অনেকবার দেখেছি।
– মিসেস কায়নাত! আপনি কুহুর সাথে একা এসেছেন কেন? মিস্টার ইয়াশার কোথায়?
আমি কুহুর মা বাবা দুইজনের সাথেই কথা বলতে চাই কুহুকে নিয়ে
– কুহুর সম্পর্কে যা বলবেন আমাকে বলুন ওর বাবা আসতে পারবেনা ওর বাবা নেই
– ও দুঃখিত। আমি জানতাম না সে মারা গিয়েছে
– বেঁচে আছে কিন্তু আমাদের কাছে মৃত আপনি দয়া করে কুহুর সামনে ওর বাবার কথা বলবেন না
মাহাতিম হালকা হেসে বলল – সমস্যা নেই। আপনি কুহুর কাছে যান। আমি একটু প্রণয়ের সাথে কথা বলবো।
কায়নাত কুহুর পাশে গিয়ে সোফায় বসলো। মাহতিম প্রণয়কে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে বলল – তোর হাজবেন্ড কোথায়?
– ডিভোর্স হয়ে গেছে? কুহুর জন্মের আগেই
– মানে?
– কায়ানাত যখন চার মাসের প্রেগনেন্ট তখন মারিদ যে অসভ্য ওর হাজবেন্ড ছিল ও কায়নাতকে অনেক মেরেছিল
– ওই সময় কেউ মারে?
– ওই অসভ্যটা সব পারে। কু*ত্তার বাচ্চাটা কায়নাতকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল সেদিন কিন্তু ভাগ্যবশত কাব্য আর আমি ওর বাসায় গিয়েছিলাম যার কারণে বেঁচে আছে। কুহুর জন্মের সময় অনেক সমস্যা হয়েছিল ডক্টর বলেছিল যেকোনো একজনকে বাঁচানো যাবে বিশেষ করে বাচ্চাকে না বাচানোটাই শ্রেয় সে সেটাই বলেছিল। তবে আল্লাহর রহমতে দুজনেই ভালোভাবে বেঁচে গিয়েছে কিন্তু কুহু আর কায়নাত অনেক উইক হয়ে গিয়েছে। দুজনকে অনেক সেফটি মেইনটেন করে চলতে হয় না হলেই অসুস্থ হয়ে যায়।
মাহতিম প্রনয়ের অগোচরে নিজের চোখের কার্নিশে জমে থাকা অশ্রু কণা মুছে ফেলে। তারপর বলে ওই হারামি টাকে কোথায় পাওয়া যাবে ?
উত্তরে বলে – জেলে আছে।
– ঠিক আছে কোন জেল ?
– সেন্ট্রাল জেল
– ঠিক আছে
কায়নাত প্রণয়কে ডাক দেয়। প্রণয় কায়নাতের ডাক শুনে বলল – মাহতিম চল।
মাহতিম প্রণয়ের সাথে যাওয়ার সময় প্রণয়কে বলে – কাব্য কে?
– কায়নাতের কাজিন।
– ওহ
মাহতিমকে দেখে কুহু বলে ওঠে – তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে ডক্টল
মাহতিম হেসে বলে – ডক্টল না ডক্টর
– হুম ডক্টল
মাহতিম , প্রণয় , কায়নাত তিনজন একসাথে হেসে ওঠে কুহুর কথা শুনে। কুহুও হেসে ওঠে। কিন্তু পরক্ষণেই প্রণয়ের দিকে আঙুল তুলে বলে ওঠে – এই লোকটা কে ?
তিনজনই অবাক হয়ে যায় কুহুর বলা বাক্যটা শুনে।
প্রনয় কুহুর সামনে হাটু গেড়ে বসে কুহুর হাতগুলো ধরে বলল – এই দুষ্ট। আমাকে চিনতে পারছো না। আমি প্রনয়। তোমার আম্মুর বন্ধু। তোমারও তো বন্ধু
কুহু কায়নাতের দিকে তাকিয়ে কান্না শুরু করে আর বলতে থাকে – আম্মু কে এই লোক?
প্রনয় কান্না স্বরে বলে উঠলো – পাখি তোমার কি হয়েছে? তুমি আমাকে চিনতে পারছো না কেনো ?
কায়নাত কুহুর কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লো। গত পরশু কুহু কায়নাতকে চিনতে পারছিল না আর এখন প্রণয় কে চিনতে পারছে না। কায়নাত মাহতিমকে বলল – আপনি একটু কষ্ট করে কুহুকে সামলান আমি প্রণয় কে সামলাচ্ছি। মাহাতিম কোমর সামনে গিয়ে প্রনয়ের হাত থেকে কুকুকে ছাড়িয়ে কুহু কে কোলে নিয়ে অন্যদিকে চলে গেল। প্রণয় ফেল ফেল চোখে সেদিকটা তাকিয়ে আছে। কায়নাত দেরি না করে প্রনয়ের সামনে গিয়ে প্রনয় কে বলল – কুর অবস্থা ভালো না গত পরশু কুহু আমাকে চিনতে পারছিল না আর আজকে তোকে
– What !
– হুম।
– মাহতিম অনেকদিন ধরেই হয়তো কুহুকে চেনে।
– আমি এটা জানি না। হয়তোবা চেনে।
– আজকেই মাহতিম কে জিজ্ঞাসা করতে হবে হয়েছে কি কুহুর
– হুম
চলবে………..