লেখনীতে:লুনা আক্তার নূর
পর্ব:০২
মিসেস শারমিন খুঁজতে খুঁজতে একদিন আইরা দের বাড়ির খোঁজ পেয়ে যান। তিনি দেরি না করে একাই আইরা দের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। ইভান তখনও দেশে ছিল না।
মিসেস শারমিন রহমান, মিস্টার ইমরান রহমান কে নিয়ে দেশে এসেছিলেন শুধু মাত্র আইরার খোঁজ করতে। মিসেস শারমিন “নূর ভিলার” চৌকাঠে পা রাখতেই কানে ভেসে আসে চি’ৎ’কার চেঁচামেচির আওয়াজ। সাথে কিছু ছোঁ’ড়া’ছুঁ’ড়ি আওয়াজ ও ভেসে আসে ভেতর থেকে।
মিসেস শারমিন দেরি না করে বাড়িতে ঢুকতেই যাবে এমন সময় উনার পায়ের কাছে একটা কাচের গ্লাস এসে পড়ে আর ভেঙ্গে যায়। যার ফলে চারিদিকে কাচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে।
মিসেস শারমিন অনেক সাবধানে সেগুলো পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। হলরুমে ঢুকতেই তিনি দেখতে পান, মিস্টার আসিফ নূর সোফায় বসে নিজের ল্যাপটপ নিয়ে কি যেনো করছেন।
আর তার ঠিক সামনেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আছে আইরার দূর্বল শরীরটা। কিন্তু আসিফ নূরের যেনো সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। তিনি নিজের মতো কাজ করেই যাচ্ছেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছে যে এখানে কিছুই হয়নি।
মিসেস শারমিন, আসিফ নূরের থেকে চোখ সরিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে থাকা আইরার দিকে তাকান। আইরা কে দেখেই মিসেস শারমিনের বু’ক কেঁপে ওঠে। আইরার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষ’ত চিহ্ন। কিছু কিছু জায়গা থেকে তো র’ক্ত ও বের হচ্ছে।
আইরা যেই জায়গাই লুটিয়ে আছে সেই জায়গাটা জুড়ে ফোঁটায় ফোঁটায় র’ক্ত পড়ে আছে। আইরার সৎ বোন ইমা সোফায় পায়ের ওপর পা তুলে ফোন টি’প’ছে। আর ইমার ভাই তাশিফ খা’রা’প নজরে তাকিয়ে আছে আইরার দিকে।
আইরা রা আগে যেই বাড়িতে থাকত মিসেস শারমিন সেই বাড়ির আশেপাশের লোকদের মুখে শুনেছিলেন যে মিসেস মেহজাবিনের মৃ’ত্যু’র পর আসিফ নূর দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
সেই বউয়ের আগের ঘরে দুইটা ছেলে মেয়ে ও আছে। আসিফ নূরের দ্বিতীয় স্ত্রী মানে মিসেস ইলা কে নাকি প্রায় সময়ই আইরার ওপর ট’র্চা’র করতে দেখেছেন প্রতিবেশীরা।
প্রতিবেশীরা যদি কিছু বলতে যেতো তো মিসেস ইলা নাকি তাদের কে ও ছেড়ে কথা বলতেন না। অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন।
মিসেস শারমিন রহমান তাদের কাছ থেকে এ ও শুনেছেন যে আইরা নাকি তার দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছে। তাই আজকে আইরা কে এই অবস্থায় দেখে মিসেস শারমিনের আর বুঝতে বাকি থাকে না যে এই সেই আইরা।
যাকে নিয়ে মিসেস মেহজাবিন অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন এক সময়। মিসেস শারমিন কে বলেছিলেন তার অবর্তমানে যেনো মিসেস শারমিন ই তার মেয়ে আইরার খেয়াল রাখেন।
কিন্তু মিসেস শারমিন তার কথা রাখতে পারেন নি। মিসেস শারমিন চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা দেখছেন চোখের জলের জন্য।
মিসেস শারমিন আর সহ্য করতে পারেন না। তিনি চোখের পানি মুছে ছুট্টে আইরার কাছে যান আর আইরা কে মেঝে থেকে টেনে তুলে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেন। মিসেস শারমিন হঠাৎ এমন করাই মিসেস ইলা বোকা বোন যায়।
মিসেস ইলা বলেন,
__:- এই কে আপনি। বলা নেই কওয়া নেই এই ভাবে ভদ্র লোকের বাড়িতে কেনো ঢুকে পড়লেন!!
মিসেস শারমিন কিছু বলেন না। তিনি আইরা কে জড়িয়ে ধরে নিজের অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছেন। আইরা ও কিচ্ছু বলছে না। কারণ তার কথা বলার শক্তিটুকু ও যে নেই।
মিসেস শারমিন কিছু না বলাই মিসেস ইলা আবার বলে ওঠেন,
__:- আমি কি বলছি আপনার কি তা কানে যাচ্ছে না। এই কে আপনি। আর ওকে এইভাবে জ’ড়ি’য়ে কেনো ধরলেন।
তাও মিসেস শারমিন কিছু বলেন না। মিসেস ইলা এবার রে’গে গিয়ে আসিফ নূরের সামনে এসে দাঁড়ান আর বলেন,
__:- এই যে ইনি। আমি যে এতক্ষণ ধরে কথা বলছি তা ওনার কানেই যায় না। বলা নেই কওয়া নেই কোথা থেকে এই মহিলা এসেছে। এই তুমি শুনতে পাচ্ছ আমার কথা। দেখো বাড়িতে কে এসেছে।
বলেই মিসেস ইলা, আসিফ নূরের কাছ থেকে ল্যাপটপ টা কেড়ে নেন। এতে আসিফ নূরের মেজাজ খা’রা’প হয়ে যায়। এমনিতেই কাল সারা রাত জার্নি করে ভোরের দিকে বাড়িতে এসেছে।
এসে থেকে তো আর শান্তি নেই তার। সেই সকাল থেকে মিসেস ইলার চি’ৎ’কার চেঁচামেচি শুরু হয়ে গিয়েছে। আসিফ নূর বেশ বিরক্তি নিয়ে বলেন,
__;- এই কি হয়েছে তোমার। আমি আসা থেকেই দেখে যাচ্ছি চি’ৎ’কার চেঁচামেচি শুরু করেছ। আমাকে কি একটু শান্তিতে থাকতে দেবে না নাকি। শুধু শুধু কি আর বাড়িতে আসি না। তোমাদের এই অশান্তির জন্যই বাড়িতে আসতে মন চায় না।
আসিফ নূরের কথাই মিসেস ইলা বলেন,
__:- চি’ৎ’কার চেঁচামেচি তো আর সাধে করি না। তোমার ঐ মেয়ের জন্যই তো করি। মা টা ম’রে”ছে তো ম”রে’ছে সাথে করে এইটাকেও তো নিয়ে যেতে পারতো তা না করে আমার ঘা’ড়ে চাপিয়ে দিয়েছে।
মিসেস ইলার বলতে দেরি কিন্তু মিসেস শারমিনের উনার গালে থা’প্প’ড় মা’র’তে দেরি হয় না। মিসেস শারমিন রহমান বলেন,
__:- বা বা বাহ্। ভাই আমি কখনোই এটা আপনার থেকে আশা করিনি। আইরা, মেহুর রেখে যাওয়া শেষ চিহ্ন। আর আপনি সেই চিহ্ন টাকেই চিরো তরে মুছে দিতে চাইছেন। এটা না করলেও পারতেন। (করুন স্বরে)
আসিফ নূর, মিসেস শারমিন রহমান কে দেখে অবাক হয়ে যায়। তিনি বলেন,
__:- শারমিন তুমি!!!
__:- হ্যাঁ কেনো আমাকে বুঝি আশা করেন নি। আমি যদি না আসতাম তাহলে আজকে মেয়েটা হয়তো ম’রে’ই যেতো। আর আপনি বাবা হয়ে কিভাবে এগুলো সহ্য করছেন!!
মিসেস শারমিনের কথাই আসিফ নূর, আইরার দিকে তাকান। আইরা কে দেখে হঠাৎ করেই উনার বুক ধক করে উঠে। উনি আইরার কাছে যেতে নেবেন তার আগেই মিসেস শারমিন উনাকে আটকে বলেন,
__:- আপনি ওর কাছে যাবেন না। অনেক হয়েছে কিন্তু আর নয়। আমি আইরা কে আমার সাথে নিয়ে যাবো তাও আজকেই। আমি মেহু কে কথা দিয়েছিলাম যে আমি আইরার খেয়াল রাখবো তবে সেটা আমি করতে পারি নি। কিন্তু আর না ওকে আমি আর এই ন’র’কে থাকতে দেবো না।
বলেই মিসেস শারমিন আইরার কাছে চলে যান আর ওকে ধীরে করে তুলে নিয়ে যেতে লাগে। মিসেস ইলা তো খুব খুশি কারণ এত বছর পর তার ঘা’ড় থেকে যে বোঝা নামবে।
মিসেস শারমিন, আইরা কে নিয়ে যেইনা চৌকাঠ পেরোবে তখনই আসিফ নূর বলে উঠেন,
__:- দাঁড়াও শারমিন, তুমি আইরা কে নিয়ে কোত্থাও যাবে না।
মিসেস শারমিন থেমে যান। পিছনে ফিরে আসিফ নূরের উদ্দেশ্যে বলেন,
__:- কোন অধিকারে আপনি আইরা কে আটকাচ্ছেন।
__:- আমি ওর বাবা হই। সেই অধিকারই ওকে আটকাচ্ছি।
মিসেস শারমিন তাচ্ছিল্য হেসে বলেন,
__:- আপনি যদি ওর বাবা হতেন তাহলে আজকে মেয়েটা এতটা অ’ত্যা’চা’রি’ত হতো না। আপনার তো ওর ওপর কোনো অধিকারই নেই।
__:- তাহলে কোন অধিকারে তুমি ওকে এই বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছ। ও তো তোমার র’ক্তে’র কেউ হয় না।
__:- অধিকার বুঝি শুধু র’ক্তে’র সম্পর্কের মানুষের ওপর দেখানো যায়। আর ও মেহুর রেখে যাওয়া আমানত। সেটার খেয়ানত আপনি করতে পারলেও আমি পারবো না।
__:- কি পরিচয়ে ও তোমার বাড়ি থাকবে। ওর সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই তাই ওকে এই বাড়ি থেকে কোত্থাও নিয়ে যেতে পারবে না তুমি। (গম্ভীর কণ্ঠে)
__:- ও আমার ছেলের বউ হয়েই আমার সাথে যাবে। আমার আরেকটা সন্তান ও। এবার নিশ্চই আপনার কিছু বলার নেই। এখন তবে আসি।
আসিফ নূর কে আর কোনো কথা বলতে না দিয়ে মিসেস শারমিন, আইরা কে নিয়ে বের হয়ে যান।
,,,,,,,,,,,,,,,
ইভান:- কি হয়েছে মম। তুমি আমাকে এত আর্জেন্ট কেনো আসতে বললে!!
মিসেস শারমিন:- তোমার সাথে আমার খুব দরকারী একটা কথা আছে।
ইভান:- কি এমন দরকারি কথা মম!! যার জন্য তুমি আমাকে আর্জেন্ট দেশে আসতে বললে।
মিসেস শারমিন:- বলব তার আগে তুই আমাকে কথা দে যে তুই আমার কথা রাখবি।
ইভান:- আগে তো বলো তারপর নাহয় ভেবে দেখব।
মিসেস শারমিন:- না না ভেবে দেখব বললে হবে না তোকে কথা দিতে হবে।
ইভান:- ওকে বাবা কথা দিলাম। এবার বলো কি কথা।
মিসেস শারমিন:- তোকে বিয়ে করতে হবে।
ইভান, মিসেস শারমিনের কথা শুনে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আর বলে,
ইভান:- কিহ!! এসব কি বলছ মম। আমি পারবো না বিয়ে করতে।
মিসেস শারমিন:- তুই আমাকে কথা দিয়েছিস।
ইভান:- তাই বলে বিয়ে করতে বলবে। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।
মিসেস শারমিন:- কেনো সম্ভব নয়। তুই তো এক সময় বিয়ে করবি তাহলে এখন করতে কি সমস্যা। তুই তো ছোট বেলায় বোলতি যে তুই বিয়ে করলে মেহু আন্টির মেয়েকেই বিয়ে করবি। আর আমি তোর মেহু আন্টিকে কথা দিয়েছি। প্লিজ বাবা আমার কথাটা রাখ।
ইভান:- মম তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। বিয়ের মানে কি তখন বুঝতাম নাকি। আর তাছাড়া ও আমি এখন বিয়ে করতে পারব না। (রা’গী গলায়)
মিসেস শারমিন:- কেনো সমস্যাটা কি সেটা তো বল।
ইভান:- প্রবলেম আছে বলেই বলছি।
মিসেস শারমিন এবার একটু নড়ে চড়ে বসলেন। ছেলেকে হাত ধরে নিজের পাশে বসিয়ে ছেলের মাথায় পরম যত্নে হাত বুলিয়ে বলেন,
__:- দেখ বাবা, মেয়েটা বড় অসহায়। ঐ বাড়িতে আমি ওকে যে অবস্থায় দেখেছি তারপর আর ওকে ঐ বাড়িতে পাঠানোর সাহস হয়ে উঠছে না। ওরা খুব খা’রা’প যদি ওকে মে’রে ফেলে। আল্লাহর কাছে তখন আমি কি জবাব দেবো। তুই রাজি হয়ে যা বাবা প্লিজ।
ইভান এবার খুব বেশিই রে’গে যায়। এক তো তার বিসনেসে একটু প্রবলেম চলছে। অনেক হিসাব গড় মিল করে দিয়েছে স্টাফরা। সাথে অনেক ডিল ও ক্যান্সেল করছে ক্লায়েন্টরা। সব মিলিয়ে সে খুব বিরক্তি।
তার ওপর তার মা তাকে জরুরি কথা আছে বলে দেশে আসতে বাধ্য করেছে। সব কিছু ফেলে সে দেশে এসেছে। আর দেশে এসেই তার মা তাকে বলছে বিয়ে করতে। তাও আবার কাকে একটা অন্ধ মেয়েকে।
এই মেয়েকে নিয়ে কি সে সোসাইটি তে চলতে পারবে!! মানুষে কি বলবে তাকে!! যে ইভান রহমানের স্ত্রী একটা অন্ধ মেয়ে। ইভানের মাথা যেনো হ্যাং হয়ে গিয়েছে। সে জোরে চিৎকার করে বলে,
ইভান:- মম তোমরা সবাই আমাকে কি পেয়েছ হ্যাঁ। আমি কি তোমাদের হাতের পুতুল, যে যা বলবে তাই করবো। একটা ফালতু কাজের জন্য তুমি আমাকে এত দূর থেকে সব কাজ ফেলে আসতে বললে।
বলেই ইভান, মিসেস শারমিনের রূম থেকে বের হতে নেবে এমন সময় তিনি বলেন,
মিসেস শারমিন:- তুই যদি এই বিয়ে না করিস তাহলে আমাকে তোর ঐ মুখ দিয়ে আর মম বলে ডাকবি না।
ইভান পিছনে ফিরে তাকাই আর বলে,
ইভান:- মম,, এটা তুমি কি বলছো। একটা বাইরের মেয়ের জন্য তুমি তোমার ছেলেকে এমন কথা বলতে পারলে।
মিসেস শারমিন:- বাইরের মেয়ে কাকে বলছ তুমি। ও আমার বোনের মেয়ে। ও মেহুর মেয়ে। ও কোনো বাইরের মেয়ে না।
ইভান কিছুক্ষণ নিজের মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। মিসেস শারমিন চেহারা শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছেন। ইভান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
ইভান:- বেশ তবে আমি রাজি। বিয়ে করা নিয়েই তো ব্যাপার। কিন্তু এরপর যা কিছু হবে তার জন্য শুধু তুমি দাই থাকবে।
বলেই ইভান রূম থেকে বের হয়ে যায়। ইভান রূম থেকে বের হতেই মিসেস শারমিন, আইরার কাছে যান।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,
দুইদিনের মধ্যে মিসেস শারমিন, আইরা আর ইভানের বিয়ে দেন। দুইদিনের মধ্যে আর কিবা বিয়ের আয়োজন করা যায়। কাছের কিছু মানুষজনই শুধু বিয়েতে উপস্থিত ছিল।
ইভান বসে আছে নিজের রুমে। বিয়ের কাজ শেষ করেই সে নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। রা’গে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে।
দেশে ফিরতে না ফিরতেই তার মা তাকে বিয়ের পিড়ি তে বসিয়েছে যেটা ইভানের একদমই সহ্য হচ্ছেনা। বিয়েটা ও তার মা কোনো ভাবে দিয়েছে তবে সে এই অন্ধ মেয়ের সাথে নিজের সারাটা জীবন কাটাতে চাই না।
ইভান আর বসে থাকে না সে দ্রুত নিজের লাগেজ গুছিয়ে নেয়। এরপর ফোন বের করে কাউকে কল করে আর ফ্লাইটের টিকিট বুক করে।
এরপর সে খুব শান্ত মাথায় রূম থেকে বের হয় ডিনার করার জন্য। যেহেতু তার বিয়েটা সন্ধ্যার পর পরই হয়েছে। তাই এখনও বেশি রাত হয় নি। আর তার ফ্লাইট ও ১০ টার পর।
তাই সে নিচে চলে যায়। নিচে গিয়েই দেখতেই পাই তার মামাতো ভাই আরিয়ান বসে বসে গল্প করছে। ইভান ও তাই আরিয়ানের কাছে চলে যায়।
,,,,,,,,,,,,,
এতক্ষণে আইরা কে ইভানের রুমে দিয়ে আসা হয়েছে। মিসেস শারমিন ইভান কে ডাকে আইরার কাছে যাওয়ার জন্য।
ইভান এখনো পর্যন্ত আইরার মুখটা দেখেনি। ইভান বেশি কথা না বাড়িয়ে রুমে গিয়ে ক্লোজেট থেকে কাপড় বের করে ওয়াশরুমে গিয়ে একদম রেডি হয়ে বের হয়ে আসে।
লাগেজ নিয়ে রুমের দরজা খুলে বের হতেই নেবে এমন সময় মিসেস শারমিন তার সামনে আসেন।
এরপর ইভান মায়ের সাথে কথা কাটা কাটি করে দেশ ছাড়ে। দেশ তো ছেড়েছে আর কোনোদিনও সে এই দেশের মাটিতে পা ও রাখবে না এই প্রতিজ্ঞা ও করেছে।
তবে সে এই প্রতিজ্ঞা কতটুকু পালন করতে পারে সেটাই এখন দেখার পালা।
চলবে………
{কেমন হয়েছে দয়া করে সবাই জানাবেন। আপনাদের মন্তব্য আমাকে আরো উৎসাহ যোগাবে আরো সুন্দর সুন্দর গল্প লেখার জন্য। কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন}