Story: Sensation (07)

লেখিকা:মাহাজাবিন রাফা

পর্ব:৭

কুহুকে কাঁধে নিয়ে বাগানে হাঁটছে মাহতিম। কুহু রাজ্যের গল্প নিয়ে বসেছে মাহতিমের কাঁধে। একটা গল্প শেষ হচ্ছে তো আরেকটা শুরু করছে। মাহতিমও কুহুর সাথে সমানে গল্প করছে।

– ডক্টর

– হুম

– ওই সাদা ফুলের কাছে চলো।

মাহতিম কুহুর দেখানো সাদা ফুলগুলোর কাছে যেতে যেতে বলল – কুহু তুমি জানো ওগুলো কি ফুল ?

– কামিনী ফুল

– তুমি কিভাবে জানো?

কুহু মনে করার চেষ্টা করে বলল – মনে নেই।

– তোমার আম্মু বলেছে?

– না

– প্রনয় বলেছে?

– সেটা আবার কে?

– কুহু বেড়াতে যাবে?

কুহু মাহতিমের কাঁধেই লাফিয়ে বলে ওঠে – তুমি নিয়ে যাবে ? আম্মুর তো সময়ই হয় না। সবসময় নানুআম্মুর সাথেই ঘুরতে যেতে হয়।

– আচ্ছা। আমি তোমার আম্মুর সাথে কথা বলবো। দেখবে তোমার আম্মুও যাবে।

– সত্যি?

– চল যাই

মাহতিম কয়েকটা কামিনী ফুল ছিড়ে কুহুর হাতে দিয়ে সদর দরজার দিকে হাঁটা শুরু করে।
মাহতিম বাড়িতে প্রবেশ করেই একটা মহিলা সার্ভেন্টের কোলে কুহুকে দিয়ে বলে – ওকে নিয়ে যাও। সার্ভেন্ট চলে যেতেই মাহতিম গিয়ে সোফায় প্রনয়ের সাথে বসে। কায়নাত মাহতিমকে জিজ্ঞেস করতে নেয় তখনই মাহতিম বলা শুরু করে – কুহুর ব্রেইন টিউমার হয়েছে। যার কারনে ওর নিউরনের টিস্যুগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর ও বারবার এই কারনেই অনেককিছু ভুলে গেছে। এতদিন আমি দেখেছি ও ভুলে গেলেও আবার কিছুক্ষণের মধ্যে কিছুটা মনে করতে পারছে কিন্তু এবার আমার ভয় হচ্ছে কুহুকে নিয়ে কারণ এক ঘন্টার উপরে হয়ে গিয়েছে তবুও কুহু প্রনয়কে মনে করতে পারছে না। আমি কুহুর ডিটেইলস লন্ডনে পাঠিয়েছিলাম কিছুক্ষণ আগে কল এসেছিল তারা জানিয়েছে ইমার্জেন্সি সার্জারি করতে হবে।
কুহুকে তাড়াতাড়ি লন্ডনে নিয়ে যেতে হবে। আর ডক্টর ফারনান্দেজ আমাকেও অপারেশনে থাকতে বলেছে কিন্তু আমি কিভাবে এটেন্ড করবো এই অপারেশন। আমার তে বিডি থেকে বের হওয়ার পারমিট নাই এমুহূর্তে।

– ওই বান্দির জীরে আমি খুন করমু। শালীর জন্য কতবড় সমস্যা ক্রিয়েট হলো

– শান্ত হো প্রনয়। আল্লাহ আমাদের পথ দেখাবেন।

প্রনয়ের ফোন বাজছে প্রনয় কলটা রিসিভ করে বলে ওঠে – হ্যালো।
প্রনয় ফোন কানে রেখেই মাহতিমকে বলে ওঠে – টিভিটা অন কর।

মাহতিম টিভিটা অন করে। মিশকার বাবা লাইভে এসে বলছে – নিউরোলজিস্ট মাহতিম কারাহানের সাথে যা হয়েছে পুরোটাই ভুল বোঝাবোঝি ছিল। আসলে জিডি করা হয়েছিল মাহবুব কবড়ির নামে কিন্তু কোনো একভাবে তারা মাহবুব কবড়ি নামটাকে মাহতিম কারাহান বানিয়ে ফেলেছে। আমি অন্যভাবেও বলতে পারতাম কিন্তু পুরো দেশে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে সবাই মাহতিমকে নিয়ে ঠাট্টা করছে এইজন্য আমি লাইভে এসে পুরোটা ক্লিয়ার করলাম। মাহতিম বাংলাদেশের সম্পদ। তাকে নিয়ে এমন কথা যায় না। মাফ করবেন মিস্টার কারাহান। পুরোটাই একটা ভুল বোঝাবোঝি ছিল। লাইভটা শেষ হয়।

মাহতিম বলে ওঠে – আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।

কায়নাত বলে ওঠে – আমরা আজকেই লন্ডন যাচ্ছি। আমি আমার আর কুহুর ভিসা আর পাসপোর্ট নিয়ে এয়ারপোর্টে থাকবো। আমি বাসায় গেলাম।

মাহতিম বলে ওঠে – আমিও বাসায় যাচ্ছি।

প্রনয় বলে ওঠে – তোরা যা আমি বিডি তেই থাকবো।

মাহতিম বলে ওঠে – হ্যা তুইতো পরেও আসতে পারবি

– হুম

কায়নাত কুহুকে নিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়। কুহু কায়নাতকে বলতে থাকে – আম্মু আমরা কি তাহলে ঘুরতে যাবো নাকি এবারও তোমার সময় নেই।

কুহুকে নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে – হুম আমরা এখনি যাবো। আগে বাসায় গিয়ে তোমার আর আমার সবকিছু নিয়ে বের হব।

– এখনই

– হুম

কুহু অনেক খুশি হয়ে যায়।

কায়নাত গেরেজে গিয়ে কুহুকে বসিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয়। ১০ মিনিটের মধ্যেই কায়নাত বাসায় পৌঁছে যায়। কুহুকে নিয়ে বাসায় ঢুকেই কায়নাত……

চলবে ……..

Loading spinner

Leave a Comment