“সময় কি থেমে গেছে?”
রুহানিকা প্রায়ই ভাবে—সময় কি সত্যিই এগিয়ে চলে, নাকি আমরা একই জায়গায় বারবার ফিরে আসি?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সে একদিন চলে যায় গ্রামের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে…
লোকজন বলে, ওই বাড়িটা নাকি “সময় ভুলে গেছে”।
বাড়িটার সামনে দাঁড়াতেই একটা অদ্ভুত ঠান্ডা হাওয়া তার শরীর কাঁপিয়ে দিল।
দরজাটা আধখোলা… যেন কেউ তাকে অপেক্ষা করছে।
ভেতরে ঢুকতেই সে বুঝলো—এই বাড়ি সাধারণ না।
ঘড়িগুলো সব থেমে আছে, কিন্তু টিকটিক শব্দ হচ্ছে।
রুহানিকা ফিসফিস করে বললো,
“কে আছে এখানে…?”
হঠাৎই পিছন থেকে একটা কণ্ঠ—
“তুমি তো এসেছো… অনেক দেরিতে।”
সে ঘুরে তাকাল।
কেউ নেই।
কিন্তু দেয়ালের আয়নায় সে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখলো…
অদ্ভুত ব্যাপার—প্রতিচ্ছবিটা তার মতো না।
ওটা হাসছে।
রুহানিকা কাঁপা গলায় বললো,
“তুমি কে…?”
আয়নার ভেতরের মেয়েটা ধীরে বললো—
“আমি তুমি… যাকে তুমি সময়ের ভেতর হারিয়ে ফেলেছো।”
হঠাৎই চারপাশের সবকিছু বদলে যেতে লাগলো।
সে দেখতে পেল—নিজের অতীত, নিজের ভয়, নিজের না বলা কথাগুলো…
প্রতিচ্ছবিটা আবার বললো—
“তুমি কি জানো, মানুষ আসলে মারা যায় না…
সে শুধু নিজের ভেতর থেকে হারিয়ে যায়।”
রুহানিকার চোখ ভিজে উঠলো।
“তাহলে… আমি কি হারিয়ে গেছি?”
মেয়েটা হাসলো—
“তুমি এখনো খুঁজছো… তাই তুমি বেঁচে আছো।”
হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেল।
রুহানিকা চোখ খুলে দেখে—সে আবার সেই বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে।
সব কিছু আগের মতোই… শুধু একটা জিনিস বদলেছে।
তার হাতের ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে।
আর পেছন থেকে সেই একই কণ্ঠ—
“সময় কখনো থামে না…
থেমে যায় শুধু মানুষ।”
🖤
কিছু গল্প ভয় দেখায়,
কিছু গল্প সত্য দেখায়…
আর কিছু গল্প তোমাকে নিজের মুখোমুখি দাঁড়