প্রকৃতির কোমল, স্নিগ্ধ, শান্তিময় পরিবেশে মন মেজাজ প্রকৃতি মতো শান্ত তাকে বলে অর্পূব প্রকৃতির মাঝে গিয়ে ছবি আঁকেতে পচ্ছন্দ করে। নতুন একটা পজেক্ট এ কাজ করছে বলে আজ বাইরেই ছিল।অর্পূব কিছুক্ষণ আগেই বাসায় ফিরেছে। ফ্রেস হয়ে এককাপ কফির দেবার জন্য বলেছিল। মালিহা রায়হান কফির কাপ নিয়ে দরজার সামনে এসে দাড়ালেন। এই রুমে অর্পূব ছবি আঁকে। রুমের দরজা হা করে খোলা। ভিতরে অর্পূব তুলি দিয়ে ছবিতে প্রাণ দেওয়া চেষ্টায়। মালিহা রায়হান দরজায় ঠকঠক শব্দ করলেন। শব্দ শুনে অর্পূব ঘাড় বাকিয়ে ওনার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো -' মা আসো না। তুমি আবার কখন আমার রুমে আসতে পারমিশন চাইতে লাগলে? '
মালিহা রায়হান ছেলের দিকে তাকালেন ভালো করে। সাদা টাউজার আর ছাই রঙের একটা টি শার্ট পরে আছে। মাত্রই গোসল করেছে। চুল এখন ভিজে দুই তিনটা কপালে লেপ্টে আছে। দেখতে কি স্নিগ্ধ লাগছে। মালিহা রায়হান এগিয়ে যেতে যেতে বললেন -' যেদিন থেকে মনে হলো তুমি বড় হয়ে গেছো। তোমার এখন আমার থেকেও প্রাইভেসি দরকার। '
অর্পূব কাপ হাতে নিয়ে চুমুক দিতে দিতে বললো-' আজ হঠাৎ কেনো মনে হলো? '
মালিহা রহমান একটা কাঠের টুল এনে ছেলের পাশে বসলেন। রুমে আলাদা করে বসার জন্য একটা ডিভান আছে। ছেলের সাথে কিছু কথা বলবেন বলে টুল টেনে ছেলের পাশে এসে বসলেন। -' আজ থেকে নয় কিছুদিন থেকেই মনে হচ্ছে তুমি আমার কাছ থেকে প্রাইভেসি চাচ্ছো। রাতভর কারো ছবি আঁকছ। আমি এলে কেমন তটস্থ ভঙ্গিতে লোকাতে চাচ্ছো।জিজ্ঞেস করলে কেমন এড়িয়ে যাও। '
অপূর্ব মলিন মুখে কাপটা রেখে মায়ের হাতটা তার হাতে নিলো। -' মা তুমি কি তাই মন খারাপ করেছো? '
-' তা তো করছি বৈ কি? যে ছেলে কোনো দিন আমার কাছে কিছু লোকাতো না সে এখন হঠাৎ করে লোকাচ্ছে। ' বলে মলিন একটুখানি হাসলেন।
-'আসলে আমি বিষয়টা তোমায় বলিনি কারণ বলার মতো কিছুই আমার কাছে আপাতত নেই। কি বলবো যার অস্তিত্ব আমি খুজেই পাচ্ছি না। ' বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো অপূর্ব।
-' যে মেয়েটা পাঁচ পাঁচটা ছবি আঁকেলে তার অস্তিত্ব তুমি খুঁজে পাচ্ছো না? 'সন্ধিহান কন্ঠে বলে উঠলেন।উনার মুখে ক্ষীণ হাসির রেখা। অপূর্বই যেন খুলে বলে তাই তিনি চাচ্ছেন। -'দুঃখিত বাবা আমি আমার কৌতুহল আটকে রাখতে পারিনি। তোমার ছবিগুলা আমি দেখেছি। আচ্ছা সে কি তোমার কল্পনা মাত্র?। বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই? '
-'সমস্যা না মা। 'অপূর্ব মাথা নিচু করে মলিন মুখে বললো -'কিন্তু বাস্তবে ওর অস্তিত্ব আছে। ' মা যখন জেনেই গেছে তাই ও আর লোকালো না।
-' ওহ তাই না কি! তা তুমি খুঁজে পাচ্ছো না কেন? '
-' আমি তো মেয়েটাকে একবার এক পলকই দেখেছিলাম। আমি যে অ্যাকসিডেন্ট করেছিলাম ওইদিন দুইটা মেয়ে আমাকে হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলো যে তার মধ্যে একজন। মেয়েটার চেহারা ছাড়া আমার কিছু মনে নেই। শুধু চেহারা দিয়ে কি কাউকে খুজে পাওয়া যায়? '
মালিহা রায়হান ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। অপূর্ব মাথা নিচু করে বসে আছে। চোখ তোলে তাকাছে না। একটা মেয়ে নিয়ে কথা বলতে তার অনেক অস্বস্তি হচ্ছে। -' তুমি খুঁজে ছিলে? '
অপূর্ব মাথা উপর নিচ ঝাকিয়ে হ্যা বললো।
-' পাওনি তাই তো।'
-' আচ্ছা ওসব বাদ দাও। এভাবে কি আর কাউকে খুজে পাওয়া যায়? '--বলে অপূর্ব গুরে তুলি হাতে নিয়ে নিজের কাজে মন দিতে লাগলো।
মালিহা রায়হান ছেলের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন। -' তুমি যদি চাও আমি খুঁজে দিতে পারি।'
অপূর্ব তুলিতে রং লাগাতে লাগাতে মৃদু হেসে বলো -' তুমি কোথায় খুজবে? যেখানে আমি পেলাম না। তাক বাদ দাও ওসব কথা। '
মালিহা রায়হান ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন-' তুমি হয়ত ভুলে যাচ্ছো তোমার মা একটা সনামধন্য ভার্সিটির টিচার হিসেবে নিয়োজিত আছেন।কত ছেলে মেয়েই পরতে আসে। হয়ত খুঁজে পেতে পারি। ' হেয়ালি করে বললেন-' যদি তুমি চাও।'
অপূর্ব চমকে মায়ের দিকে তাকালো। দেখলো মালিহা হাসতেছেন।অপূর্ব সন্ধিহান হয়ে বললো -' তুমি চিনো? ' মালিহা চোক বোজে সায় দিলেন।
অপূর্বের মনে হলো ওর বুকের ভেতর কিছু একটা তীব্র আলোড়ন তুলেছে। হঠাৎ এভাবে পেয়ে যাবে ভাবেনি। কম তো খুজেনি।
মালিহা রায়হান হেয়ালি করে বললেন -' এখন যদি তুমি চাও তাহলে আমি মেয়েটাকে আমাদের ঘরে নিয়ে আসতে পারি। এই এত বড় ঘরে আমরা দুজন কেমন খালি খালি লাগে তাই না। এখন ঘরের যেহেতু আমরা দুজনই তাকি সেহেতু অন্য একজন সদস্য আনতে হলে দুজনেরই তো পারমিশন লাগবে। আমি রাজি তুমি রাজি তো? তাকলে বলো। '
অপূর্ব মাথা নিচু করে একটু হাসলো।কিছু বললো না।
-' তবে একটা জামেলা আছে। '
অপূর্ব মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো। -' কি জামেলা। ' মা কি বলবেন না বলবেন ভেবে ওর ভিতরে ভয় লাগছে।
মালিহা হেসে বললেন -' আমি ভেবেছিলাম তুমি মেয়েটার সাথে রিলেশনশিপ এ আছো। আর আমাকে বলছো না। আমি তাতে কষ্ট পেলাম। যে ছেলে কোনো দিন কিছুই লোকায়নি আজ সে আমাকে কিছু বলছে না। অথচ কথা ছিলো আমার ছেলে কারো সাথে রিলেশনশিপ এ গেলে সবার আগ আমায় জানাবে । তারপর ভার্সিটিতে দেখা হলেই মেয়টা কি সুন্দর করে কথা বলতো। আমার কাছে লাগলো আমাকে হয়তো পটাতে চাইছে। তাই আমি মনে মনে বললাম আমাকে পটাবে? তাহলে দেখো আমি কি করতে পারি। তারপর আমি....'
অপূর্ব মার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললো -' তারপর তুমি কি করেছো?
-' তারপর ওই একটু জালিয়েছি আর কি। আমি ডানে তাকলে মেয়েটা এখন বামে ভাগে। '
অপূর্ব হেসে বললো -' মা তুমি তো আমায় নিয়ে হিংসুটে হয়ে গেছো? '
-' তোমায় নিয়ে আমি সবসময় হিংসুটে ছিলাম। তবে ভেবো না আমি ছেলের প্রেমিকার সাথে হিংসুটে হলেও ছেলের বউর কাছে হিংসুটে হবো না। 'বলে ছেলের দিকে ঝুঁকলেন। -'ছেলের বউ তো আমারও ফিফটি ফিফটি। 'বলে হাসলেন।
--------------------------------
সকাল থেকেই আজ বৃষ্টি হচ্ছে। একদম মুষলধারে। মধ্যদুপূর অথচ আকাশের গুমোট ভাবের কারণে লাগছে এখনই ভোর কিংবা সন্ধ্যা। বৃষ্টির দিনে শীতল মওসুমের সময় কিছু ভাজাপুরা খেতে ভালো লাগে চন্দ্রের। মাকে পিয়াজুর কথা বলতেই খেয়েছে একটা ধমক। এই মধ্যদুপূরে চুলায় হাবিজাবি করতে ওনার একদম ইচ্ছে করছে না । চন্দ্রেরও নিজে করে খেতে ইচ্ছে করছে না। তাই ধমক খেয়ে পিয়াজুর স্বাদ মিটিয়ে চলে এসেছে।
চন্দ্র রুমের মেঝেতে আসন করে বিছানার সাথে ঠেকিয়ে বসে আছে আর ওর মা সুলতানা বিছানায় বসে তার মাথা তেল দিয়ে দিচ্ছেন। পিঁয়াজুর জন্য না করলেও স্বামীকে ঠিকই কাছের ভাজাপোড়ার দোকানে পাঠিয়েছেন। মেয়ে আবদার করছে দেননি বলে মনে খচখচ করছিলো। মমতাময়ী মা ওর প্রথমে না করে ঠিকই পরে করেই দেন যেকোনো ভাবে হউক।
পরীক্ষা শেষ হলো কিছুদিন আগে। ছুটির পরে মালিহা মেমকে দেখে ও তাজ্জব। ওরা ভেবে ছিল মেম ওকে পছন্দ করেন না বলে ছেলের সাথে রিলেশন এ আছে বলে ওই রকম বিহেভ করেছিলেন। চিঠি দিয়ে ওনাকে জানালে ওনি ও শান্তি ওরা শান্তি। কিন্তু পরীক্ষা সময় বা পরের ক্লাসে যা দেখলো তাতে তো মনে হয় চিঠির সাইড এফেক্ট বিপরিত দিকে চলে গেছে। মেমের ব্যবহার অতিরিক্ত ভালো। কি যে ভালো ব্যবহার করেন ওরা তা দেখে আরও আতঙ্কিত। দেখা হলেই ভালোমন্দের খবর নিচ্ছেন। পরীক্ষা পরে তার আসল কারণ সামনে আসলো। মালিহা মেম দুই দুইবার ওদের বাড়িতে ঘটক পাঠিয়েছেন। সামনাসামনি দেখা হলে আবার এই বিষয়ে ওনি তেমন কোনো কথা বলেন না বলেই বেঁচেছে। তা না হলে দুই দুইবারই ওরা না করে দিয়ে মুখোমুখি হলে ও স্বাভাবিক তাকতে পারতো না।
চন্দ্র ওর মা বাবার একমাত্র সন্তান। সন্তানের কথার আগে ওনাদের কাছে আর কিছুই নেই। মেয়ে বলেছে এই প্রপোজাল ও মানবে না তাই ওনারাও না করে দিয়েছেন। চন্দ্রের বাবা আতিকুর সাহেব ছেলের মা চন্দ্রের ভার্সিটির শিক্ষক শুনে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে না করেছে দেখে আর কিছু বলেন নি।
কিন্তু এর কিছু দিন পরে মেম আজব এক কান্ড করলেন। অফিসে ডেকে নিয়ে বড় একটা ক্যানভাস দড়িয়ে দিলেন। এটা নাকি তার উপহার। তাকে ক্যানভাসটা দেওয়ার সময় অফিসের সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সবাই ক্যানভাসের আকা ছবিটা দেখতে লাগলেন।
চন্দ্র ছবিটা দেখে অবাক হয়েছে। ক্যানভাসে তার ছবি আকা। ঘন চুল গুলো সিথি করে খোপা করা । ডান কানে একটা সুন্দর ফুটন্ত গোলাপ।ঠোঁটে মিষ্টি হাসি। চোখ গুলো কি অপরুপ। ওটা ওই এটা বিশ্বাস করতে চন্দের অনেক কষ্ট হয়েছে। ও এতো সুন্দর! কই ওতো নিজেকে কখনো এভাবে দেখেনি। ছবিটা একদম জীবন্ত! শিল্পীদের চোখে সবকিছু এতো সুন্দর হয়। না কি ও সত্যি এতো সুন্দর।
স্যার মেডাম মালিহা মেমকে জিজ্ঞেস করছেন ওটা ওনার ছেলে চন্দ্রকে কেনো দিলো। মেম হেসে বললেন ওনি বলছিলেন ওর একটা ছবি আঁকতে। চন্দ্র ওনার সবথেকে পচ্ছন্দের ছাত্রী কিনা।এসব দেখে আর শুনে চন্দ্রের মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো।
চন্দ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলো। বাসায় আসার পরে আননোন নাম্বার থেকে একটা কল এসেছিলো। কল ধরতেই ওপাস থেকে কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটা ভরাট কন্ঠ বলে উঠলো -' ছবিটা পছন্দ হয়েছে?'
আহ! সেই কন্ঠ শুনে যেনো চন্দ্রে ভিতরে আলোড়ন উঠলো। যা ও এই মহিলার ছেলের জন্য হউক চায়নি। এই মহিলা ওর জীবন তছনছ করেবে তা ও একশ পারসেন্ট সিওর।গিরগিটির মতো রং বদলিয়েছেন।ও শুধু ' হুম ' বলে কল কেটে দিয়েছে। এখন কোনো আননোন নাম্বার থেকে কল এলে ও কল তুলে না।
যত দূরে থাকবে তত ভালো। না হলে খারাপ হতে কতক্ষণ?ছবিটা ও বাধিয়ে ওর রুমের বিছানার উপরের দেয়ালে লাগিয়েছে।ছোটবেলা থেকেই বিছানার উপর নিজের বড় একটা ছবি লাগানো ইচ্ছে ছিল ওর নাইকাদের মতো। কি আজব ভাবেই না শখটা পূরণ হলো।
হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। চন্দ্র মাকে -' আমি যাচ্ছি 'বলে দৌড়ে গেলো।নিশ্চয়ই বাবা এসেছেন। দরজটা খোলেই ও স্তব্ধ হয়ে গেলো। দরজা বাইরে চার জন মানুষ । দুজন মহিলা দুজন পুরুষ। দুজনেকে ও চিনে। মালিহা মেম আর ওনার ছেলে!!
-------------------------
সুলতানা বেগম চুলায় চায়ের জন্য পানি বসালেন। ঘাড় ঘুরিয়ে একবার মেয়ের দিকে তাকালেন। চন্দ্র এককোণায় চেয়ারে বসে আছে। -' রুমে যা। এই কাপড় পরে ওদের সামনে যাবি না কি?
চন্দ্র বিরক্ত হয়ে বললো -' এই কাপড়ে তারা তোমার মেয়ের চাঁদবদন দেখে ফেলেছে। আমি এখন গিয়ে ডং করতে পারবো না। '
-' ওরা তোকে দেখতে এসেছে। একটু সুন্দর হয়ে যাবি না? '
-' কেন? কেন দেখতে এসেছে? আমরা না ওনাদের না করলাম। '
-' তুই রাজি হচ্ছিস না কেন? ছেলে তো দেখলাম ভালোই। কি শান্ত ভাবে কথা বলে। দেখতে তো ভালো। '
চন্দ্র ফিসফিসয়ে বললো -' সমস্যা ছেলে না। ছেলের মা। মাকে তো চিনো না। আস্ত একটা গিরগিটি। তুমি কি চাও তোমার একমাত্র মেয়ে স্বামীর বাড়ি গিয়ে শ্বাশুড়ি জন্য অশান্তিতে তাকোক?'
সুলতানা বেগম অবাক হয়ে বললেন- 'কই? আমার তো ভালোই লাগলো। ছেলের বউকে অশান্তিতে রাখবে মনে হয়নি। শিক্ষত মানুষ এরকম করবে না রে মা। '
-' তুমি চেনো কতটুকু? এই মহিলাকে আমি ভালো করে চিনি। 'বলে চন্দ্র উকি দিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে তাকালো। অনেক সময় হলো ওরা ওর বাবার সাথে কথা বলছে। মেমের সাথে উনার বোন আর বোনের ছেলে এসছে। মেম আর উনার বোন ভাবেকে কে ভুজংভাজাং বুঝিয়ে ফেলেছে তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। চন্দ্র তাদের পাশের সোফার দিকে তাকালো দুইটা ছেলে বসে আছে। একজন নিতান্তই টিনএজ। পাশের ছেলেকে কিছু বলছে। আর পাশের জন গম্ভীর মুখে শুনে যাচ্ছে।।
চন্দ্রের মন খারাপ হলো।এতো সুর্দশন একটা ছেলে কেনো এই মহিলার ছেলে হতে গেলো ? আকাশীরঙের ইন করা শার্ট কালো পেন্টে লম্বাচরা মানুষটাকে কি ভালো দেখাচ্ছে। চশমার নিচের তীক্ষণ চোখ দিয়ে যখন ওর দিকে তাকালো চন্দ্রের বুকের ভিতর ধামা ধাম বাজতে শুরু করলো। চন্দ্র দরজার সামনে থেকে চলে এলো।
-----------------------------
মায়ের জোড়াজুড়িতে পুরনো কামিজ পালটে গোলাপি রঙের একটা কামিজ পরছে চন্দ্র। তেল চিটচিটে চুল খোপা করেছে। এখন মালিহা রায়হানের পাশেই বসে আছে। চন্দ্রের খুব অস্বস্তি লাগছে। মনে হচ্ছে কেউ ওর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
মালিহা রায়হান হাত বাড়িয়ে চন্দ্রের বা হাত হাতে নিয়ে একটা রিং পরিয়ে বললেন -' এখন না করে কোনো লাভ নেই। দুই দুইবার ঘটক পাঠিয়েছি যখন মানোনি তখন নিজেই চলে এলাম। তোমাকে আমি নিয়ে যাবো। '
চন্দ্র মুখ শক্ত করে বললো -' জোড় করছেন? '
মালিহা রায়হান ওর দিকে তাকিয়ে বললেন -' হ্যা। ' হাত শক্ত করে ধরে ভরসা দেবার মতো বললেন -' আমি প্রমিকের মা হিসেবে খারাপ হলেও শ্বাশুড়ি হিসেবে খুব ভালো হয়ে দেখাব।কোনো অভিযোগ করতে দেবো না। না আমার ছেলেকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলে তুমি কোনো অভিযোগ করতে পারবে। তা বিশ্বাস রাখতে পারো। '
চন্দ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলো বিশ্বাস করে আর না করে বিয়েতে ও রাজি হয়েগেছে। এই লোকটা ওর ভিতরে প্রেমের যে আলোড়ন তুলেছে তাতে এই লোকটাকে বিয়ে করা ছাড়া ওর কোনো পথ খোলা নেই। চন্দ্র একবার অপূর্বের দিকে তাকিয়ে আবার মালিহা মেমের দিকে তাকিয়ে একটু লাজুক হাসে চোখ নামিয়ে নিলো। মালিহা রায়হান তা দেখ নিজেও হাসলেন
.....সমাপ্ত.....