গল্প:আলোরন (লেখিকা:...
 
Notifications
Clear all

গল্প:আলোরন (লেখিকা:নাদিয়া ফেরদৌসী)


Posts: 19
Topic starter
(@nadia-ferdousi)
Joined: 5 months ago
গল্প : আলোরন
 
লেখিকা:নাদিয়া ফেরদৌসী 
পর্বঃ০১

 
 
টানা তিন দিন ঝুম বৃষ্টির পর আজ যেন আকাশ কিছুটা ক্লান্ত। তবুও নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে এই ঝিরিঝিরি বৃষ্টির আয়োজন। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির শব্দ ছাতার উপর আলোড়ন তুলেছে। শুনতে ভালো লাগে তা চন্দ্রমল্লিকার। সাবধানতার সাথে পা ফেলে হাটছে। ভার্সিটির মাঠে পিছলে পরলে আর মান সম্মান থাকা লাগবে না। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছাতা থেকে পানি ঝারতেই পিঠে দুম করে একটা কিল এসে পরলো।

- 'কি মেডাম এতো লেট কেন?' বলে দিতি পাশে এসে দাঁড়ালো। 

কিল খেয়ে মুখ কোঁচকালো চন্দ্র। এই মেয়ে হাতাহাতি ছাড়া চলতে পারে না।  মুখ কোঁচকানো রেখেই বললো - ' লেট হলেই তো ভালো। '

-' কিভাবে? '

-'এসেই সোজা ক্লাসে। ক্লাস করেই টুপ করে নাই হয়ে যাব। ' 

-'ওহ তাই না কি?  তা আজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। কাল একবার খবর এলো আপনি তো গেলেন না।  এখন সকাল সকাল তোমার যমের পিয়ন এসে তোমার খবর নিয়ে গেছে। আজ দেখা না করলে খবর আছে।' 

-' আরে দুর!  আমি এসেছি তা জানাতে যাবো কেন?  ক্লাস গুলো করে লুকিয়ে চলে যাবো। ' 

দিতি হেসে চন্দ্র এর কাধে হাত রেখে বললো -' তাও আপনা নসিবে নাই বান্ধবী। ' 

চন্দ্র ভুরু কুঁচকে বললো -' কেন?  তুই বলে দিবি না কি?  ' 

-'আমি এতো হারামি না বুঝলা।' বলে দিতি চন্দ্রের ঘাড় বাকিয়ে পেছনের দিকে দেখালো। চন্দ্র দেখলো অফিসের পিয়ন হেলতে দুলতে তাদের দিকেই আসছে । পিয়ন যেন এই কিছু দিনে চন্দ্রের কাছে আতঙ্ক  হয়ে দারিয়েছে। পিয়ন এসে কি বলবে তা তারা দুজনই জানে। 

পিয়ন এসে বললো - ' তোমারে মেডাম ডাকে। যাইতো ওইবো। '  

- ' আচ্ছা ক্লাস করে আসছি। ক্লাসের সময় হয়ে গেছে তো। ' বলে চন্দ্র একটু হাসার চেষ্টা করলো। 

-' না এখনই যাইতে হইবো। আমার লগে আসো। ' 

চন্দ্র বুঝতে পারলো এখন যেতেই হবে।পিয়নকে হয়তো তাকে ধরে বেধে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।চন্দ্র ঘাড় ঘুরিয়ে দিতির দিকে তাকালো। তাকাতেই দিতি চেঁচিয়ে ওঠলো -' আমার দিকে একদম তাকাবি না। আমি তোমার সাথে যাচ্ছি না। তোর সাথে সাথে আমার জীবন ও রফাদফা হচ্ছে। ' 

চন্দ্র সাথে সাথে দিতি হাত ঝাপটে ধরলে বললো -' চল না বোইন। তুই তাকলে একটু সাহস পাই। চল না, প্লিজ চল। 

-' একদম না। ' 

- ' না না তোকে আমার সাথে যেতে হবে।' 

তাদের টানাটানি দেখে পিয়ন বিরক্ত হয়ে বললো - আপনে যাইবেন কিনা কন। 

- আসছি তো । চল না। - অসহায়ের মতো বলতেই দিতি রাজি হলো। 

-যাচ্ছি তো ওই  মহিলা আমারে কিছু বললে তোর খবর আছে বললাম।   

- আচ্ছা আচ্ছা পড়ে দেখা যাবে। 

পিয়নের পিছনে পিছনে তারা এসে অফিসের সামনে দারালো। একটু পরে ক্লাস আছে তাই সব স্যার মেডামই অফিসে ক্লাসে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছেন।তারা অনুমতি নিয়ে ভিতরে গেলো। মালিহা মেম এর টেবিলের সামনে দাড়াতেই মেম একবার মুখ তুলে তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিলেন। 

- তোমাকে তো আসতে বলি নি। 

চন্দ্র আর দিতি একসাথে 'জ্বি ' বলে উঠলো। 

মালিহা মেম দিতির  দিকে তাকিয়ে বললেন - এই মেয়ে তোমাকে তো আসতে বলি নি। তুমি এসেছো কেনো। একটা কে ডাকলে দলবল হয়ে আাসতে হবে কেন?  যাও যাও বাইরে যাও। 

দিতি মুখ কালো করে বাইরে গেল। যাবার আগে চোখ দিয়ে  চন্দ্রকে শাসাতে ভুলো না। 

- এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি?  ক্লাসে আসো না কেনো আমার। সবার ক্লাস তো ঠিকই করো দেখি। নাকি তুমি আমার ক্লাস না করেই সবথেকে ভালো মার্কস পেয়ে যাবে মনে করছো। তাহলে ভাবা বন্ধ করো। ক্লাস না করলে আমি একটা মার্কস ও দিবো না। 

তারপর বাকি মেমদের দিকে তাকিয়ে বললেন - দেখছেন মেম  কতো বড় বেয়াদব?  আমার ক্লাস করে না। কালকে ডেকে পাঠালাম তাও আসেনি। ক্লাসে পড়াও পরে না। 

সব মেম চন্দ্রের দিকে তাকালেন। সবার চোখে তার জন্য বিরক্ত । তাদের মধ্যে একজন আফসোস করে উঠলে। - আর বলবেন না মেম এখনকার ছাত্র ছাত্রীরা নিজেদের  রাজা বাদশা মনে করে। ইচ্ছা হলে ক্লাস করবে না হলে নাই। কিন্তু গোন্ডামি করার জন্য আবার প্রতিদিনই আসে।

সবাই মেম এর কাথায় সায় জানালেন। বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। চন্দ্র জানে মেম ইচ্ছে করেই তাকে সবার কাছে খারাপ করতে এরকম করছেন। চন্দ্র বিরক্ত হলো। এসির রুমেও ও কেমন ঘামছে। এতো মেম স্যার তাকে যাই বলতো তার খারাপ লাগতো না। কিন্তু যখন মুবিন স্যার এসে তাকে বললেন - এটা কি চন্দ্রমল্লিকা। আমি তোমায় এমন ভাবতাম না।  ক্লাস ফাকি দেয়ও কেন?  ক্লাস ফাকি দিলে ভালো মার্কস পাবে কেমন করে।

চন্দ্র মনে হলো ও শেষ। ও ক্লাসের টপার নয়। তবুও মালিহা মেম আর মুবিন স্যার কাছে ও ভালো একজন ছাত্রী ছিল। কিছু দিন হলো মালিহা মেম ওর সাথে কেমন যেন ব্যবহার করছেন।  ক্লাসে গেলে কোথায় থেকে হঠাৎ প্রশ্ন করে ও খোঁজে পায় না। প্রতিটা ক্লাসেই এক চিত্র। তারপর পুরো ক্লাস কান দরে দারিয়ে তাকতে হয়। কেমনটা লাগে?  তাই কিছু দিন হলো মালিহা মেমের ক্লাস ও এরিয়ে চলে। অথচ কিছুদিন আগে মালিহা মেম তার কাছে খুব মিষ্টি একজন মেম ছিলেন। গত নবিনরবণ অনুষ্ঠানে মেম এর সাথে ছবি তুলে ফোনয়ে স্টোরি দিয়ছিলো ' মাই লাভলি টিচার ' লেখে আর এখন মিষ্টি থেকে টকে  পরিণত হয়েছেন। মনতো চায় লবন মরিচ দিয়ে চাবিয়ে খায়। লবণমরিচ ছাড়া আবার টক খেতে চন্দ্রের স্বাদ লাগে না। 

- কি হলো?  কিছু বলো ক্লাসে আসো না কেন?  

- আসলে মেম আমি ' কথা শেষ হবার আগে মেম বলে উঠলেন - হয়েছে হয়েছে এসব এক্সকিউজ তাক। আজের ক্লাসে যেন  তোমাকে পাই। এখন যাও ক্লাসে যাও।

সালাম দিয়ে চন্দ্র অফিসের বাইরে চলে এলো। মুখ তার কালো হয়ে আছে। মালিহা মেম এর হয়েছে টা কি তা বুঝতে পারছে না। হঠাৎ করে যেন ওর  শত্রু হিসেবে উঠে দাড়িয়েছেন।ভার্সিটিতে ওকে শান্তিতে থাকতে দেন না। প্রথম দিন ওর নাম চন্দ্রমল্লিকা শুনে বলেছিলেন - বাহ তোমার নাম বেশ সুন্দর। ' নামের জন্য হউক আর যে কারণেই হউক মেম ওর চেহারা মনে রাখতেন। মাঝে মাঝে টুকটাক কথাও হতো। মালিহা মেম কে ও বেশ পছন্দ করতো। মায়াময় একটা মুখ। কথাও মায়া মায়া। আর এখন ভেবেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো চন্দ্র। হঠাৎ বাহুতে ব্যাথা লাগতেই ওর ধ্যান ভাঙলো।

- তোর জন্য আমি আবার এই মহিলার ধমক শুনলাম। দুর দিনটাই খারাপ। তা কি বললেন আপনাকে? 

- যা বলার তাই। ক্লাসে যেতে হবে। না হলে আমাকে এই মহিলা ফিনিস করবে। 

- তো কি করবি?  যাবি না কি?  

-যাওয়া তো লাগবেই 

দিতি ওকে একহাতে জরিয়ে ধরলো। - আরে ভাবিস না সব টিক হয়ে যাবে।  এই মহিলার মাথা নষ্ট হয়েগেছে।

' হুম ' বলে ক্লাসের দিকে এগিয়ে গেলো। 

চলবে...

Loading spinner

Reply
4 Replies
Posts: 19
Topic starter
(@nadia-ferdousi)
Joined: 5 months ago
পর্বঃ০২
 
 
ফ্যান এর সা সা শব্দ আর খাতার পৃষ্ঠার কচকচ শব্দ ছাড়া ক্লাসের আর কোনো শব্দ চন্দ্রের কানে প্রবেশ করছে না। মালিহা মেম দুদিন আগে ক্লাস টেস্ট নিয়ে ছিলেন আজ সেই খাতা নিয়ে ক্লাসে এসে সবার ভুল ধরছেন আর ধমকাচ্ছেন। চন্দ্র জানে একটু পরে তার ডাক ঠিকই পরবে। ক্লাসের অত্যাচার একটু বেশি হয়ে গিয়েছিল বলে ও কিছুদিন ভার্সিটিতেই আসেনি। ভার্সিটিতে আসতে এখন চন্দ্রের জান হাতে নিয়ে আসতে হয়। কখন কি হয় বলা যায় না। আর কিছুদিন পর আসতেই ক্লাস টেস্টটা নিয়ে নিলেন। চন্দ্র যে কি লিখেছে তার জন্য এখন শরীর মৃদু কাঁপছে। এভাবে পেপার এনে ক্লাসে সবার সামনে অপমান করবেন জানলে ফাঁকা খাতাই জমা দিতো। ভার্সিটিতে না এসেও উপায় নেই। কিছু দিন পরে সেমিস্টার পরীক্ষা। এই এক সপ্তাহ ক্লাস পরে দশ বারো দিনের ছুটি। ছুটির পরেই পরীক্ষা। 

তুষার নামের একটা ছেলে ধমক খেয়ে মুখ কালো করে মেম এর কাছে থেকে গিয়ে নিজের জায়গায় বসলো। চন্দ্রে মেমের দিকে তাকিয়ে ছিলো বলে মেম ওর দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলো। চন্দ্র তাড়াতাড়ি করে চোখ সরালো। এখনই বোধ হয় ওরই ডাক পরবে।  হলোও তাই। 

- ' চন্দ্রমল্লিকা শেখ 'ডেকে উঠলেন মালিহা মেম। চন্দ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো। এই মহিলা এখন ওকে ধুয়ে দিবে। মেমের সামনে যেতেই একটা খাতা এগিয়ে দিয়ে বললেন - 'এটা তোমার খাতা তো?  ' মুখ ভঙ্গি এমন যেন এই খাতা কার উনি চিনতেন না। 

চন্দ্র মুখ স্বাভাবিক রেখেই বললো - জ্বি মেম 

মেম খাতার পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে বললেন-  লেখারই কি ছিরি।আর এসব কি লিখাছো? এটা কি বাংলা সাহিত্য?  মন যা চায় তাই লিখবে? মনের সব সাহিত্য ঢেলে দিবে। এসব করে তোমরা পাস করে উঠো কিভাবে?  পরীক্ষা যদি এমন লেখা পাই তাহলে কিন্তু তোমাদের সবার খবর আছে।  - বলে চোখ তোলে চন্দ্রের দিকে তাকালেন। চোখে কেমন যেন হুমকির আবাস পেলো চন্দ্র। 

চন্দ্রের যে খবর আছে তা হুমকি দিয়ে জানাতে হবে না।  ও এমনিতেই বুঝে গেছে। এমনটা ওর সাথে কেন হচ্ছে সে অনেক চিন্তা ভাবনা করে ও বের করতে পারেনি।  না ও কোনো দিন মালিহা মেমের সাথে বেয়াদবি করছে না কোনো দিন অসম্মান করেছে।তাহলে ওনি চন্দ্রের সাথে এমন ব্যবহার কেন করছেন। 

-'  আর এই দেখো!  তোমার কাছে কোন দিক থেকে লাগছে এটা খরগোশ ।দেখোতো অবস্থা। ' খাতাটা উঁচিয়ে ক্লাসের সবাইকে দেখালেন। সবাই চিত্র দেখে হেসে উঠলো। 

চন্দ্র ঘাড় ঘুরিয়ে একবার সবার দিকে তাকালো। দেখেতো অবস্থা বেহায়ার মতো সবকটা কেমন হাসতেছে। নিজের সময় ইস মেম কেন এমন করে বললেন। পরীক্ষার সময়কি আর সুন্দর করে লেখার সময় তাকে?  আর অন্যের সময় ঠিকই দাত বের করে হাসতেছে। ও এটা দিতেই চায়নি কিন্তু দিতি বললো কোনো রকম চিত্র একে অঙ্গ পতঙ্গ দেখিয়ে দিলেই তো ভালো মার্কস পাবে। তাই দিয়ে দিলো।  

মেম কি যেন বিরবির করে বললেন চন্দ্র বুঝতে পারলো না। তাই ও একটু কান পাতলো শুনার জন্য। মালিহা মেম মুখ বাকিয়ে বলছেন - সামান্য এই চিত্র  আঁকতে পারে না আবার আমার ছেলের পিছু নিয়েছে। হুহ।

চন্দ্রের ভুরু কুঁচকে গেলো। ওনার ছেলের পিছু। মানে কি?  ও আবার কার পিছু নিলো আর কখন নিলো?  তা আবার মেম জানেন। 

- ' কি?  এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?  পরীক্ষা আগে ছুটি আছে ভালো করে পড়ো। পড়াশোনায় মন দাও একটু। এভাবে উরে উরে বেরালে তো হবে না। যাও জায়গায় গিয়ে বসো। যাও। ' 

-' কিন্তু মেম আপনি একটু আগে কি যেন বললেন?  

মালিহা মেম ভুরু কুঁচকে তাকাতেই চন্দ্র  আমতা আমতা করে বলো - কিছু না মেম। কিছু না। আমি বরং যাই। 

চন্দ্র তাড়াতাড়ি ওর জায়গায় এসে বসলো।' উফ ' বলে ঠোঁট গোল করে শ্বাস ফেলো  যেভাবে তাকালেন মনে হয় গিলে খাবেন। দিতি পাশ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো - কি রে কি হলো?  

চন্দ্র আরো নিচু গলায় বলো - ' কি আর হবে?  তবে মেম কি যেন বিরবির করছিলেন জানিস। ' 

-' কি? ' 

-' আমি সামান্য একটা চিত্র আঁকত পারি না আবার ওনার ছেলের নাকি পিছু নিয়েছি। ' 

- ' কি?'   চেচিয়ে উঠলো দিতি। শব্দ শুনে সবাই ওদের দিকে তাকালো। তার আগে দিতি আর চন্দ্র এমন ভাব করে বসলো যেন কে শব্দ করেছে তারাও তাদের খুঁজছে। 

……….….……………………………………………………………………........

কান্টিনের এককোনার এক টেবিল জুড়ে বসে আছে দিতি আর চন্দ্র। দিতি টেবিলে কনুই টেকিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। - ' তুই বলতে চাচ্ছিস মেডাম তোকেই ভেঙ্গিয়েই এই কথা বলেছন? ' 

-' আমার তো তাই মনে হলো। আচ্ছা মেডামের কি কোনো বড় ছেলে আছে।  মানে আমাদের থেকে। আমার জানা মতে তো মেডামের এক ছেলেই। আমাদের ছোটোই হবে। 

- ' ধুর বেকুব!  মেমকে দেখলে লাগে না কিন্তু ওনার আমাদের থেকে ও বড় একটা ছেলে আছে। আর ওই একটাই। আর ছেলে মেয়ে নেই। ' দিতি দুষ্ট হেসে বললো - ' সব থেকে মজার বিষয় হলো ছেলেটা চিত্রশিল্পী খুব ভালো ছবি আঁকে। ' 

-' কি বলিস! ' চন্দ্র অবাক চোখে তাকালো। 

-' আরে হে। তুই জানিস না?  ' দিতি এক ভুরু উচালো। 

-' জানলে কি আর তোকে জিজ্ঞেস করি?  ' 

-' তাও কথা। আচ্ছা তুই কি কারো সাথে রিলেশনশিপে আছিস। আর সে চিত্র শিল্পী টাইপ। '

চন্দ্র দিতির মাথায় একটা চাটি মারলো। - আমি রিলেশন করি আর তুমি জানবে না তেমন কিছু হবে বলে মনে করিস না। আর আমি এসোবে যে নাই তুই জানিস না। ' 

-' তাইলে মেম কেন এই কথা বললেন?  আমার কাছে লাগছে মেডাম হয়তো কোনো ভাবে খবর পেয়েছে তুই ওনার ছেলের সাথে রিলেশনে আছিস তাই তোর সাথে এমন বিহেভিয়ার করছে। ' 

-' গাধামি করিস না তো আমার সামনে। আমি ওনার ছেলে কে জীবনেই দেখিনি। আর ওনি এই খবর পেয়ে বসে আছেন আমি ওনার ছেলের সাথে লটরপটর করছি। ' মুখ কোঁচকালো চন্দ্র। ওর এই জীবনে প্রেম পিরিতির কোনো কাহিনী নাই। চন্দ্র সুন্দরী সবাই বলে। জীবনে কম র্প্রোপোজালও পায় নি। তবুও করেনি আর কোন মহাশয়ের সাথে ও রিলেশনে আছে নিজে জানে না সবাই জেনে বসে আছে। 

-' তাহলে মেম কেনো এই কথা বলবেন। আচ্ছা বুঝলাম তুই তেমন কিছু করিস নি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এমন কিছুই মনে করে বসে আছেন মেম তাই তোর সাথে এমন করছে। ' 

চন্দ্র দুই হাত দিয়ে মুখ ডেকে লম্বা একটা শ্বাস নিলো। হাত সরিয়ে বললো -' আমি এখন কি করবো?  কিছু তো করতে হবে তা না হলে এই মহিলা যা শুরু করেছে। ' 

-' হুম। ' বলে দিতি চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বললো -' আমার মনে হয় মেমের ছেলেকে বলতে হবে এই বিষয়ে। মেমকে তো আমরা বুঝাতে গেলে হিতেবিপরিত হবে। ' 

-' তুই চিনিস?  ' 

-' না তবে আধুনিক দুনিয়ায় লোকটার সাথে কথা বলা তেমন কোনো বেপার না। ' 

-' কিভাবে?' 

-' আরে ফেসবুক টুইটার হাজিবাজি আছে কেনো। শুধু নাম জানলেই হতো। ' 

-' নাম জানিস?' 

-' না।' 

চন্দ্র করুণ হয়ে বললো -' তাহলে?' 

-' জানি না জেনে যাবো। হোস্টেল এতো মেয়ে কেউ তো জানবেই। চিন্তা করিস না রাতেই জোগাড় করে দিয়ে দিবো।

….........…........….…….................…..............…..........................

চন্দ্রের হালকা তন্দ্রা লেগেছিলো তখনই ওর ফোন যেন চিৎকার করে উঠলো। চন্দ্র বিরক্তির সাথে উঠে বসলো। সারাদিন হাজিবাজি চিন্তা করায় মাথা ব্যাথা শুরু হয়েছে। একটু শান্তিতে ঘুমাবে তাও কার যেন সহ্যহলো না। ফোন হাতে নিয়ে দেখলো দিতির কল। কল ধরে কানে দিতেই ওপাশ থেকে দিতি বলে উঠলো -' এই চন্দ্র জানিস আমি কি দেখলাম। ' 

চন্দ্র বিরক্তির সাথে বলে উঠলে -' তুই না বলে জানবো কেমন করে? ' 

দিতি হেসে উঠলো। -' আমি হাসবো না কাদবো বুঝতাছি না। ' 

-' কেদেই ফেল আর বেকার কল করে তাকলে ফোন রাখ। আমার মাথা ব্যাথা করছে। ' 

-' আরে শুন না। মেডামের ছেলে তো আমাদের উড়োজাহাজ ওয়ালা। ' 

চন্দ্র দিতি কথার মানে বুঝলো না। -' মানে?  ' 

-' আমি তোরে ওর ফেসবুক আইডির লিংক দিচ্ছি। তুই ফেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠাছ। আমি ওই উড়োজাহাজ ওয়ালার সাথে কথা বলতে পারবো না। ' 

-' আরে কি যা তা বলছিস। আমি তো কথা...' শেষ হবার আগেই দিতি কল কেটে দিলো। 

চন্দ্র দিতি দেওয়া লিংকের ভিতর গিয়ে তাজ্জব বনে গেলো। দিতির উড়োজাহাজ ওয়ালার কথাও বুঝতে পারলো। কিছুদিন আগের ঘটনা। এক শুক্রবারে দিতি আর চন্দ্র  মিলে ভাইরে বেরাতে গিয়েছিল। সেদিন এর সাথে দেখা হয়েছিল। 

ঘুরে ফিরে দিতি আর চন্দ্র বাড়ি ফিরছিলো। সিএনজিতে শুধু ওরা দুজন। সন্ধ্যা হয়ে গেছে চন্দ্র দিতিকে হোস্টেলের সামনে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি যাবে। হঠাৎ ডান দিকে জোরে একটা ধাক্কা লাগলো। সিএনজি ডাইবার কোনো রকম সিএনজি বাচালো। কিন্তু দিতি ডান দিকে বসে ছিল বলে ওর হাতে ব্যাথা পেলো। 
ওদের তেমন ক্ষতি না হলেও যে গারি তাদের ধাক্কা দিয়েছিলো তা আরেকটু সামনে গিয়ে জোড়ে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে অনেক ক্ষতি হয়ে ছিল।

সিএনজি চালক আর ওরা মিলে গিয়ে দেখলো একটা লোক গাড়ির ভেতরে আহত হয়ে আছে। তারা তিন জন মিলে তাকে কার থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেলো।

চলবে...

Loading spinner

Reply
Posts: 19
Topic starter
(@nadia-ferdousi)
Joined: 5 months ago
পর্বঃ০৩
 
 
-' শালার জীবনে শান্তি নাই। তোর দামি গাড়ি আছে ভালো কথা তাই বলে আমাদের মতো গরীব মানুষের উপর উঠিয়ে দিবি। ' 

-' আচ্ছা থাম না। আর কতো বকবি। ' 

-' এরে তো আমার মন চাচ্ছে পিস পিস করে কেটে ফেলতে।আমি একলা হলে তো রাস্তায় রেখেই আসতাম।  শুধু তুই, তোর জন্য এখন আমি এখানে।  উফ! হোস্টেলে আজ আর যেতে পারবো না। ' 

-' বললাম তো আজ আমাদের বাসায়  তাকবি। ' 

দিতি মুখ জামটা মরলো। -' থাক আপনার মাবনবতা আর দেখাতে হবে না। ওই উড়োজাহাজ ওয়ালাকে দেখান। গাড়ি নয় যেমন উড়োজাহাজ। উরে চলে যাবেন। ব্যাটা খবিস।আমার হাত শেষ। ব্যাথা করছে রে চন্দ্র।' 

চন্দ্র বেডের সাথে ভর দিয়ে দাড়িয়ে ছিলো। এই কেবিন তত বড় না। একজন বসার মতো জায়গা আছে। সেখানে দিতি বসে আছে। সিএনজি চালক তাদের এখানে দিয়েই চলে গেছে।  যা করেছে তাই তার জন্য অনেক। ওরাই লোকটাকে হসপিটালে র্ভতি করেছে। চিকিৎসার টাকা ও চন্দ্র নিজের কাছ থেকে দিলেও পরে দিতি ওই লোকটার মানিব্যাগ খুজে সেখান থেকেই দিয়েছে। নিজের দোষে মরছে আমরা কেনে টাকা দিব। এত মানবতা ও দেখাতে পারবে না। দিতি হাতে ব্যাথা পেয়েছে তাই এই লোক তার চোখের বিষ। তাই এখন বসে ঘ্যান ঘ্যান করছে বাসায় চলে যাবার জন্য। 

চন্দ্র উঠে দিতির কাছে গিয়ে দারালো। ভাবলেশহীন ভাবে বলো-'দেখি হাতটা। ইস সামান্যই লেগেছে ঠিক হয়ে যাবে। 

দিতি তেলেবেগুনে জলে উঠলো। -' তুই বান্ধবী নামে কলঙ্ক। আমার থেকে তোর এই লোকটার চিন্তা বেশি। চল না চলে যাই লোকটার বাড়ির লোক তো আসছেই  আমরা আর কত মশা মারবো। রাত নয়টা বাজে। ' 

বাসায় যেতে যেতে অনেক রাত হয়ে যাবে। বাসা থেকে কল আসে একটার পর একটা । চন্দ্রের বাবা আসছেন ওদের নিয়ে যাবেন। এই লোকটার কাছের কাউকে খবর দিতে দিতে দেরি হয়ে গেছে। ফোন হাতে পেলেও লক লাগানোর কারণে কাউকে কল করা যায়নি।  এই কিছুক্ষণ আগে কে যেন কল করলো। কথায় লোকটার  কাছের কেউই মনে হয়েছে চন্দ্রের থাকে আসতে বলেছে। লোকটা আসছে বলেছে। 

-' আচ্ছা চলে যাবো কেউ আসোক আগে। না হলে লোকটার জ্ঞান ফিরোক। ' 

দিতি উঠে গিয়ে লোকটার উপর ঝুকে দেখতে লাগলো। চন্দ্র তা দেখে হেসে উঠলো। -' দেখে তো লাগছে তুই তাকিয়েই জ্ঞান  ফিরিয়ে এনে ফেলবি। আর কতবার দেখবি বলদি। বুঝলাম লোকটা দেখতে সুন্দর ।  তাই বলে এভাবে তাকিয়ে তাকিস না। নজর লাগবে। তোর নজর ভালো না।'

দিতি বিরক্ত মুখে আবার জায়গায় গিয়ে বসলো। -' লোকটা সুন্দর তা তুমি দেখি ভালোই খেয়াল রাখছো। এই জন্য বুঝি এতো খাতিরদারি। ' বলে ভুরু উচালো। 

চন্দ্র দিতির গাল ধরে দিল টান। -' আমার কথা আমাকে ফিরিয়ে পাশ কেটে যাচ্ছো। আমি কি আর লোকটার দিকে বার বার তাকাচ্ছি। নিজেই তো যাস। ' 

দিতি ঝাজালো কন্ঠে বললো -' আমি কি অন্য কারণে যাই। লোকটা হুসে ফিরলেই চলে যেতে পারি।  হসপিটালের এই সব গন্ধ আমার কলিজা মোচরায়।  শালার ঘরের শালা। গাড়ি দেখে চালাবি না। নিজে মরবে আমাদেরকে নিয়ে মরবে।  এই সব বরলোকের বাচ্চার জন্য আমরা রাস্তা ঘাটে সেইফ না।' 

দিতির উজ্জ্বল শ্যামলা মুখে আদল কেমন লাল আবাহ হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা স্যতি রেগে যাচ্ছে। -' খুব রাগ হচ্ছে মন হচ্ছে?  ' 

-' হবে না আবার। যে ব্যাথা পায় সেই মজা বুঝে তুমি তো ফিটফাট। ' 

আসলেই কি চন্দ্র ফিটফাট।  সিএনজি যখন ধাক্কা খেলো মাথায় সেই রকম একটা বারি খেয়েছে। মাথায়  এখন ও টনটন করছে। সারা গায়ে ব্যাথা করছে। এখন তো আবার দারাতে দারাতে পায়ে ব্যাথা। ওর নিজেরই এখানে তাকতে ভালো লাগছে না। লোকটার যদি হুসে আসতো ও নিজেই চলে যেতো। কিন্তু এমন অবস্থা লোকটাকে রেখে যাবেই বা কেমন করে। 

চন্দ্র লোকটার দিকে তাকালো। তাকিয়ে চমকে উঠলো। লোকটা চোখ খুলছে। চন্দ্র  এগিয়ে গেলো।  লোকটার মুখের সামনে একটু ঝুকে দেখলো। দিতিও ওর পাশে এসে দাড়িয়েছে। লোকটা চোখ পিটপিট করে তাকালো। চন্দ্র একটু হাসলো। যাক লোকটার জ্ঞান তো ফিরলো। লোকটা স্বাভাবিক ভাবে  তাকাতেই চন্দ্র লোকটাকে জিজ্ঞেস করো ও কথা শুনতে পারছে কিনা। লোকটা মাথা নাড়িয়ে 'হ্যা' বললো। 

-' এখন কেমন লাগছে। ' 

মৃদু ভাবে উওর এলো -' ভালো ' 

-' পানি খাবেন?  ' 

লোকটা মাথা নাড়িয়ে 'না' বললো। চন্দ্র দিতির দিকে তাকালো তাকাতেই দিতি চোখ দিয়ে ইশারা করলো। চন্দ্র বঝুতে পারলো ও কি বলছে। 

চন্দ্র লোকটার দিকে তাকিয়ে বললো -' আমরা আপনার পরিবারকে জানিয়েছি। উনারা আসছেন। কিন্তু আমাদের যেতে হবে। আপনার জ্ঞান  ফিরার অপেক্ষা করছিলাম। ওনারা  যখন আসছে, আমরা যাই। ভালো তাকবেন। আর...

-' আর গাড়ি আস্তে চালাবেন। এটা উরোজাহাজ না যে উরিয়ে নিয়ে যাবে। আর এরকম চালালে কিন্তু আবার উরিয়ে নি আল্লাহর বাড়ি রেখে আসবে। যাই ভালো তাকবেন। 'দিতি কথা শেষ করে চন্দ্রের বাহু ধরে টেনে নিয়ে এলো। আর একটু হসপিটালে তাকলে ওর দম বন্ধ  হয়ে যাবে। 

চন্দ্র ফোন হাতে নিয়ে বসে আছে। ফোনে অর্পূব রায়হান নাম টা ঝলঝল করছে। লোকটাকে ও ফেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। কিন্তু কোনো রেসপন্স পাচ্ছে না। কোন গন্ডগোল লাগিয়েছে  না জানি এই লোক।  মালিহা মেম এর ছেলে যে তা তারা জানতোই না।  এখন এই লোকটার সাথে কথা বলতেই হবে। মাকে কি এমন বলেছে তা জানতে হবে। যার কারণে এই মহিলা ওর জীবন এমন ত্যানা ত্যানা করছে। জান বাচাঁনোর এই প্রতিদান। 

..…..........................................................................................

আজ ছয়দিন হলো অর্পূব রায়হানকে ও ফেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো রেসপন্স পাচ্ছে না।  তাই ওরা তার অন্য উপায় খুজেছে। কাল থেকে ভার্সিটি বন্ধ।  তাই তারা আজকে ওটা করতেই হবে। বন্ধের পরেই পরীক্ষা আর এই মহিলাকে এখন কিছু না জানালে এই মহিলা ওকে ফেল করাবে। তাই আজ তারা একটা বড় কাজ করবে। আজ তারা মেমের বাড়িতে গিয়ে একটা চিঠি দিয়ে আসবে।দিতি আর ওর আজকে চিঠি মিশন।

চলবে...

Loading spinner

Reply
Posts: 19
Topic starter
(@nadia-ferdousi)
Joined: 5 months ago
পর্বঃ০৪
 
 
তপ্ত দুপুরে ক্লাস ফাকি দিয়ে চন্দ্র আর দিতি ভার্সিটি থেকে চলে এসেছে।  সকালে গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্লাস করে বাকি সময় দুইটা মিলে লাইব্রেরিতে  বসে চিঠি লিখেছে। আজ এই বিষয়ের একটা এসপারওসপার করেই ছারবে। মেমকে ভার্সিটিতে এই দেখে এসেছে। ওরা চিঠিটা দিয়ে চলে যাবে।  কাল থেকে ভার্সিটি বন্ধ। বাড়িতে এসে চিঠি পেয়ে যখন ওদের নাগালে পাবে না তখন ছেলের কাছে যাবে। এখন যা করার ওনার ছেলেই করবে। ওই লোক কি করেছে আবার ওদেরকে ফাঁসিয়েছে। এবার মাকে ওই বুঝ দেক।  পিয়নের কাছ থেকে অনেক কৌশল করে মালিহা মেমের ঠিকানা এনেছে। 

-' এই মামা এখানে থামেন। এই দেখতো এই ঠিকানাটা না।' 

-' হুম এটাই। ' 

-'তাহলে নেমে যা। ' বলে দিতি রিকশা থেকে নেমে  গেলো। নেমে রিকশাওয়ালাকে বললো -' আপনি একটু দাড়ান আমরা এখনই ফিরে আসব। আমরা আবার চলে যাবো। আমাদের নিয়ে যাবেন। ' 

রিকশাওয়ালা গলায় ঝুলানো গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো। 

চন্দ্র বাড়ির দিকে তাকিয়ে বললো -' আরে এরা তো মালদার আছে। '

দিতি ওর হাত ধরে বললো -'তাহলে  চল, চলে যাই। চিঠি দেওয়া ক্যানসেল। আর মেমকে গিয়ে বলবি মেডাম গো তোমার ছেলের সাথে আমার দীর্ঘদিনের প্রেরেম। আমাদের ধরে  বিয়ে বিয়েটা দিয়ে দেন। ' 

-' ওওওও।আর মেম হাসতে হাসতে আমায় ছেলের বউ করে নিবেন।। 'চন্দ্র মুখ বাকিয়ে  বলো - ' পরে এই মহিলা আমার জীবন আজাবে পরিণত করবে। তাক বাবা আমি শান্তি প্রিয় মানুষ। ' 

-' তাহলে চলেন কাজ সেরে ফেলি। 'বলে দিতি বাড়ির আসে পাসে উঁকি ঝুঁকি মারলো।  -' কাউকে দেখা যাচ্ছে না।লোকটার সাথে দেখা হলে বেশি ভালো হতো।  এতো জামেলা করা লাগতো না। ' 

-'তাক আর লোকটাকে দরকার নেই। এক সপ্তাহ অপেক্ষা করেই কোনো খবর নাই।  এখন যা করতে এসেছি তা করে এখান থেকে ফুটি। চিঠি দিয়ে যা হয় আল্লাহ ভরসা। ' বলে চন্দ্র বাড়ির গেঠের সামনে এসে দাড়ালো । একটা ধাক্কা দিলো। ভেতরে নিশ্চয়ই দারোয়ান তাকবে।  দারোয়ান তাকলে দারোয়ানের হাতে দিয়ে দিবে। 

-' তোর মতো লিলিপুট এর ধাক্কায় কিছু হবে না। দেখ এভাবে ধাক্কা দিতে হয়। ' বলে জোরে জোরে কয়েকটা ধাক্কা দিলো।  ভেতরে কারো দৌড়ে আসার শব্দ মিলতেই দিতি বিজয়ের হাসি হাসলো। 

গেইট খোলে দারোয়ান বাইরে এলো। অপরিচিত দুইটা মেয়ে দেখে বোধহয় বিরক্ত হলো। বিরক্ত মাখা মুখ নিয়েই বললো -' কে আফনারা। আর এইভাবে গেট কেউ দাক্কা দেয়। গেট তো ভাইঙ্গা ফালাইবা। ' 

চন্দ্র বললো -' এটা মালিহা মেম এর বাড়ি না? ' 

-'হুও।তয় আফনারা কারা?  ' 

দিতি বললো -' আমরা কে জানতে হবে না। আপনাকে একটা জিনিস দেবো তা মেমকে দিতে পারবেন? ' 

-' হুও পারমো। দেন। 'বলে হাত বাড়ালো। 

চন্দ্র তার ব্যাগ থেকে চিঠি বের করে দারোয়ানের হাতে দিলো। দারোয়ান উল্টে পাল্টে দেখে বললো -' এইটাই? ' 

চন্দ্র মাথা নাড়িয়ে বলো -'হে এটাই। আপনি এ.....'বলতে না বলতেই ভিতর থেকে একটা কন্ঠ ভেসে এলো -' কে রমিজ। কে এসেছে। ' 

দিতি আর চন্দ্র কন্ঠটা শুনেতেই তাদের  মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। হায় আল্লাহ এই মহিলা এখানে কেনো। ওরা তো সকালে ওনাকে ভার্সিটিতে দেখেছিল।  এখন দেখে বাসায় চলে এসেছে। 

দারোয়ান ভেতরের দিকে তাকিয়ে বললো -' দুইডা মাইয়া আইছে। আফনেরে এইটা দিতে কইতাছে। ' হাত উচিয়ে দেখালো। 

মালিহা রায়হান বাগানে এই ছিলেন। আজ প্রথম ক্লাস করিয়েই চলে এসেছেন তিনি।শরীরটা ভালো না। একা একা ভালো লাগছিলো না বলে বাইরে এসছেন। দারোয়ান ওনার পাশেই ছিল এতোক্ষন। ওনি এগিয়ে এলেন।-'  দেখি কারা। আর এটা কি? ' বলে এগিয়ে এসে গেইঠ এর কাছে এসে বাইরে উকি দিয়ে তাকালেন।  দেখতে পেলেন দুইটা মেয়ে বেশ তাড়াতাড়ি করে রিকশায় উঠছে। ওনার চিনতে ভুল হলো না এরা কারা। -' রমিজ ওদের আটকাও। ' হুকুম দিলেন। 

হুকুম পেয়ে দারোয়ান দৌড়ে গেলো। রিকশার কাছে। কিন্তু রিকশা ধরতে পারলো না। দারোয়ান দৌড়েতে গিয়ে পরতে পরতে বাচলো। রিকশা তখন অনেকটা চলে গেছে এখন আর ধরা সম্ভব না। 

দিতি আর রিকশায় উঠে হাঁপাতে লাগলো। বাপরে বড়ো বাচা বেচেছে তারা। দুজনই রিকশা ওয়ালাকে তারা দিলো। রিকশা ওয়ালাও ভয় পেয়ে তারাতাড়ি চলতে লাগলো। না জানি এই মেয়ে গুলো কোন বেজাল লাগিয়ে এসেছে। এদের সাথে না তাকেও মার খেতে হয়।বাড়ির দারোয়ান ও পিছন পিছ আসতাছে।

দারোয়ান ফিরে গেলো। -' মেডাম মাইয়া গুলা চলে গেছে। দরতে পারি নাই। ' 

-' আচ্ছা দেখি কি দিয়ে গেছে। ' 

-' একটা কাগোজ। মনে হয় চিডি হইবো। ' 

মালিহা রায়হান চিঠিটা হাতে নিলেন। সুন্দর করে একটা খাম। খামটা ছিড়ে চিঠিটা বের করলেন। ওনার কপাল কোঁচকালেন। ওনাকে এই মেয়ে গুলো কি চিঠি দিলো। চিঠির ভাজ খোলে পরতে লাগলেন। 

প্রিয় মেম,

আমার সালাম নিয়েন। আশা করি আপনি ভালো আছেন। মেম কিছুদিন হলো আপনার মন মেজাজ আমার আমার উপর তেক্ত বিরক্ত আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু কেন এই বিরক্ত তা আমি আগে না বুঝলেও এখন একটু আন্দাজ করতে পেরেছি। মেম সত্যি কথা বলতে গেলে আপনার ছেলেকে জীবনে একবারই দেখেছিলাম। তখন তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছিলেন। আমরা তখন আপনার ছেলেকে হসপিটালে র্ভতি করিয়ে ছিলাম। যদিও পরে আপনারা আসার আগেই চলে এসেছিলাম। আমরা যদি জানতাম আহত ব্যাক্তি আপনার ছেলে তাহলে আপনার সাথে দেখা করেই আসতাম। কিন্তু তার পরে আর জীবনে উনার কথা কি দেখাও হয় নি। আমি জানি না  আপনি কোথায় থেকে সেই রকম কিছু আন্দাজ করলেন।  আসলে তেমন কিছুই আমাদের মধ্যে নেই।  তাই আমি আপনাকে তা জানানো খুব জরুরি মনে করলাম। যাতে আপনার ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়।কোনো ভুল করে তাকলে আপনি আমায় ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে ক্ষমা করবেন বলে আমি আশা করছি। 

ইতি 
আপনার ক্ষমা প্রার্থী

মালিহা রায়হান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে  চিঠিটা আবার ভাজ করে রেখে বাড়ি ভেতরে চলে গেলেন।বিষয় টা খাতিয়ে দেখতে হবে। আরো আগে দেখা উচিত ছিল হয়ত। কিন্ত ওনার মন মেজাজ ভালো ছিলো না বিষয়টা আন্দাজ করার পর। 

চলবে...

Loading spinner

Reply
Posts: 19
Topic starter
(@nadia-ferdousi)
Joined: 5 months ago
পর্বঃ০৫
 
 
 
প্রকৃতির কোমল, স্নিগ্ধ, শান্তিময় পরিবেশে মন মেজাজ প্রকৃতি মতো শান্ত  তাকে বলে অর্পূব প্রকৃতির মাঝে গিয়ে ছবি আঁকেতে পচ্ছন্দ করে। নতুন একটা পজেক্ট এ কাজ করছে বলে আজ বাইরেই ছিল।অর্পূব কিছুক্ষণ আগেই বাসায় ফিরেছে। ফ্রেস হয়ে এককাপ কফির দেবার জন্য বলেছিল। মালিহা রায়হান কফির কাপ নিয়ে দরজার সামনে এসে দাড়ালেন। এই রুমে অর্পূব ছবি আঁকে। রুমের দরজা হা করে খোলা। ভিতরে অর্পূব তুলি দিয়ে ছবিতে প্রাণ দেওয়া চেষ্টায়।  মালিহা রায়হান দরজায় ঠকঠক শব্দ করলেন। শব্দ শুনে অর্পূব ঘাড় বাকিয়ে ওনার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো -' মা আসো না। তুমি আবার কখন আমার রুমে আসতে পারমিশন চাইতে লাগলে? ' 

মালিহা রায়হান ছেলের দিকে তাকালেন ভালো করে। সাদা টাউজার আর ছাই রঙের একটা টি শার্ট পরে আছে। মাত্রই গোসল করেছে। চুল এখন ভিজে দুই তিনটা কপালে লেপ্টে আছে। দেখতে কি স্নিগ্ধ লাগছে। মালিহা রায়হান এগিয়ে যেতে যেতে বললেন -' যেদিন থেকে মনে হলো তুমি বড় হয়ে গেছো। তোমার এখন আমার থেকেও প্রাইভেসি দরকার। ' 

অর্পূব কাপ হাতে নিয়ে চুমুক দিতে দিতে বললো-' আজ হঠাৎ কেনো মনে হলো? ' 

মালিহা রহমান একটা কাঠের টুল এনে ছেলের পাশে বসলেন। রুমে আলাদা করে বসার জন্য একটা ডিভান আছে। ছেলের সাথে কিছু কথা বলবেন বলে টুল টেনে ছেলের পাশে এসে বসলেন। -' আজ থেকে নয় কিছুদিন থেকেই মনে হচ্ছে তুমি আমার কাছ থেকে প্রাইভেসি চাচ্ছো। রাতভর কারো ছবি আঁকছ। আমি এলে কেমন তটস্থ ভঙ্গিতে লোকাতে চাচ্ছো।জিজ্ঞেস করলে কেমন এড়িয়ে যাও। ' 

অপূর্ব মলিন মুখে কাপটা রেখে মায়ের হাতটা তার হাতে নিলো।  -' মা তুমি  কি তাই মন খারাপ করেছো? '

-' তা তো করছি বৈ কি? যে ছেলে কোনো দিন আমার কাছে কিছু  লোকাতো না সে এখন হঠাৎ করে লোকাচ্ছে। ' বলে মলিন একটুখানি হাসলেন। 

 -'আসলে আমি বিষয়টা তোমায় বলিনি কারণ বলার মতো কিছুই আমার কাছে আপাতত নেই। কি বলবো যার অস্তিত্ব আমি খুজেই পাচ্ছি না। ' বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো অপূর্ব।  

-' যে মেয়েটা পাঁচ পাঁচটা ছবি আঁকেলে তার অস্তিত্ব তুমি খুঁজে পাচ্ছো না? 'সন্ধিহান কন্ঠে বলে উঠলেন।উনার মুখে ক্ষীণ হাসির রেখা। অপূর্বই যেন খুলে বলে তাই তিনি চাচ্ছেন। -'দুঃখিত বাবা আমি আমার কৌতুহল আটকে রাখতে পারিনি। তোমার ছবিগুলা আমি দেখেছি। আচ্ছা  সে কি তোমার কল্পনা মাত্র?। বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই? '

-'সমস্যা না মা। 'অপূর্ব মাথা নিচু করে মলিন মুখে বললো -'কিন্তু বাস্তবে ওর অস্তিত্ব আছে। ' মা যখন জেনেই গেছে তাই ও আর লোকালো না।

-' ওহ তাই না কি! তা তুমি খুঁজে পাচ্ছো না কেন? ' 

-' আমি তো মেয়েটাকে একবার এক পলকই দেখেছিলাম। আমি যে অ্যাকসিডেন্ট করেছিলাম  ওইদিন দুইটা মেয়ে আমাকে হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলো যে তার মধ্যে একজন। মেয়েটার চেহারা ছাড়া আমার কিছু মনে নেই। শুধু চেহারা দিয়ে কি কাউকে খুজে পাওয়া যায়? ' 

মালিহা রায়হান ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। অপূর্ব মাথা নিচু করে বসে আছে। চোখ তোলে তাকাছে না। একটা মেয়ে নিয়ে কথা বলতে তার অনেক অস্বস্তি হচ্ছে। -' তুমি খুঁজে ছিলে? '

অপূর্ব মাথা উপর নিচ ঝাকিয়ে হ্যা বললো। 

-' পাওনি তাই তো।' 

-' আচ্ছা ওসব বাদ দাও। এভাবে কি আর কাউকে খুজে পাওয়া যায়? '--বলে অপূর্ব গুরে তুলি হাতে নিয়ে নিজের কাজে মন দিতে লাগলো। 

মালিহা রায়হান ছেলের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন। -' তুমি যদি চাও আমি খুঁজে দিতে পারি।'

অপূর্ব তুলিতে রং লাগাতে লাগাতে মৃদু হেসে বলো -' তুমি কোথায় খুজবে?  যেখানে আমি পেলাম না। তাক বাদ দাও ওসব কথা। ' 

মালিহা রায়হান ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন-' তুমি হয়ত ভুলে যাচ্ছো তোমার মা একটা সনামধন্য ভার্সিটির টিচার হিসেবে নিয়োজিত আছেন।কত ছেলে মেয়েই পরতে আসে। হয়ত খুঁজে পেতে পারি। ' হেয়ালি করে বললেন-' যদি তুমি চাও।' 

অপূর্ব চমকে মায়ের দিকে তাকালো। দেখলো মালিহা হাসতেছেন।অপূর্ব সন্ধিহান হয়ে বললো -' তুমি চিনো? ' মালিহা চোক বোজে সায় দিলেন। 

অপূর্বের মনে হলো ওর বুকের ভেতর কিছু একটা তীব্র আলোড়ন তুলেছে। হঠাৎ এভাবে পেয়ে যাবে ভাবেনি। কম তো খুজেনি। 

মালিহা রায়হান হেয়ালি করে বললেন -' এখন যদি তুমি চাও তাহলে আমি মেয়েটাকে আমাদের ঘরে নিয়ে আসতে পারি। এই এত বড় ঘরে আমরা দুজন কেমন খালি খালি লাগে তাই না। এখন ঘরের যেহেতু আমরা দুজনই তাকি সেহেতু অন্য একজন সদস্য আনতে হলে দুজনেরই তো পারমিশন লাগবে। আমি রাজি তুমি রাজি তো?  তাকলে বলো। '

অপূর্ব মাথা নিচু করে একটু হাসলো।কিছু বললো না। 

-' তবে একটা জামেলা আছে। ' 

অপূর্ব মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো। -' কি জামেলা। ' মা কি বলবেন না বলবেন ভেবে ওর ভিতরে ভয় লাগছে। 

মালিহা হেসে বললেন -' আমি ভেবেছিলাম তুমি মেয়েটার সাথে রিলেশনশিপ এ আছো। আর আমাকে বলছো না। আমি তাতে কষ্ট পেলাম। যে ছেলে কোনো দিন কিছুই লোকায়নি আজ সে আমাকে কিছু বলছে না। অথচ কথা ছিলো আমার ছেলে কারো সাথে রিলেশনশিপ এ গেলে সবার আগ আমায় জানাবে । তারপর ভার্সিটিতে দেখা হলেই মেয়টা  কি সুন্দর করে কথা বলতো। আমার কাছে লাগলো আমাকে হয়তো পটাতে চাইছে। তাই আমি মনে মনে বললাম আমাকে পটাবে?  তাহলে দেখো আমি কি করতে পারি। তারপর আমি....' 

অপূর্ব মার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললো -' তারপর তুমি কি করেছো? 

-' তারপর ওই একটু জালিয়েছি আর কি। আমি ডানে তাকলে মেয়েটা এখন বামে ভাগে। ' 

অপূর্ব হেসে বললো -' মা তুমি তো আমায় নিয়ে  হিংসুটে হয়ে গেছো? ' 

-' তোমায় নিয়ে আমি সবসময় হিংসুটে ছিলাম। তবে ভেবো না আমি ছেলের প্রেমিকার সাথে হিংসুটে হলেও ছেলের বউর কাছে হিংসুটে হবো না। 'বলে ছেলের দিকে ঝুঁকলেন। -'ছেলের বউ তো আমারও ফিফটি ফিফটি। 'বলে হাসলেন।

--------------------------------

সকাল থেকেই আজ বৃষ্টি হচ্ছে। একদম মুষলধারে। মধ্যদুপূর অথচ আকাশের গুমোট ভাবের কারণে লাগছে এখনই ভোর কিংবা সন্ধ্যা। বৃষ্টির দিনে শীতল মওসুমের সময় কিছু ভাজাপুরা খেতে ভালো লাগে চন্দ্রের। মাকে পিয়াজুর কথা বলতেই খেয়েছে একটা ধমক। এই মধ্যদুপূরে চুলায় হাবিজাবি করতে ওনার একদম ইচ্ছে করছে না । চন্দ্রেরও নিজে করে খেতে ইচ্ছে করছে না। তাই ধমক খেয়ে পিয়াজুর স্বাদ মিটিয়ে চলে এসেছে। 

চন্দ্র রুমের মেঝেতে আসন করে বিছানার  সাথে ঠেকিয়ে  বসে আছে আর ওর মা সুলতানা বিছানায় বসে তার মাথা তেল দিয়ে দিচ্ছেন। পিঁয়াজুর জন্য না করলেও স্বামীকে ঠিকই কাছের ভাজাপোড়ার দোকানে পাঠিয়েছেন। মেয়ে আবদার করছে দেননি বলে মনে খচখচ করছিলো। মমতাময়ী মা ওর  প্রথমে না করে ঠিকই পরে করেই দেন যেকোনো ভাবে হউক।

পরীক্ষা শেষ হলো কিছুদিন আগে। ছুটির পরে মালিহা মেমকে দেখে ও তাজ্জব। ওরা ভেবে ছিল মেম ওকে পছন্দ করেন না বলে ছেলের সাথে রিলেশন এ আছে বলে ওই রকম বিহেভ করেছিলেন। চিঠি দিয়ে ওনাকে জানালে ওনি ও শান্তি ওরা শান্তি। কিন্তু পরীক্ষা সময় বা পরের ক্লাসে যা দেখলো তাতে তো মনে হয় চিঠির সাইড এফেক্ট বিপরিত দিকে চলে গেছে। মেমের ব্যবহার অতিরিক্ত ভালো। কি যে ভালো ব্যবহার করেন ওরা তা দেখে আরও আতঙ্কিত। দেখা হলেই ভালোমন্দের খবর নিচ্ছেন। পরীক্ষা পরে তার আসল কারণ সামনে আসলো। মালিহা মেম দুই দুইবার ওদের বাড়িতে ঘটক পাঠিয়েছেন। সামনাসামনি দেখা হলে আবার এই বিষয়ে ওনি তেমন কোনো কথা বলেন না বলেই বেঁচেছে। তা না হলে দুই দুইবারই ওরা না করে দিয়ে মুখোমুখি হলে ও স্বাভাবিক তাকতে পারতো না। 

চন্দ্র ওর মা বাবার একমাত্র সন্তান। সন্তানের কথার আগে ওনাদের কাছে আর কিছুই নেই। মেয়ে বলেছে এই প্রপোজাল ও মানবে  না তাই ওনারাও না করে দিয়েছেন। চন্দ্রের বাবা আতিকুর সাহেব ছেলের মা চন্দ্রের ভার্সিটির শিক্ষক শুনে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে না করেছে দেখে আর কিছু বলেন নি। 

কিন্তু এর কিছু দিন পরে মেম আজব এক কান্ড করলেন। অফিসে ডেকে নিয়ে বড় একটা  ক্যানভাস দড়িয়ে দিলেন। এটা নাকি তার উপহার। তাকে ক্যানভাসটা দেওয়ার সময় অফিসের সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।  সবাই ক্যানভাসের আকা ছবিটা দেখতে লাগলেন। 

চন্দ্র ছবিটা দেখে অবাক হয়েছে। ক্যানভাসে তার ছবি আকা। ঘন চুল গুলো সিথি করে খোপা করা । ডান কানে একটা সুন্দর ফুটন্ত গোলাপ।ঠোঁটে মিষ্টি হাসি। চোখ গুলো কি অপরুপ।  ওটা ওই এটা বিশ্বাস করতে চন্দের অনেক কষ্ট হয়েছে।  ও এতো সুন্দর!  কই ওতো নিজেকে কখনো এভাবে দেখেনি। ছবিটা একদম জীবন্ত!  শিল্পীদের চোখে সবকিছু এতো সুন্দর হয়। না কি ও সত্যি এতো সুন্দর। 

স্যার মেডাম মালিহা মেমকে জিজ্ঞেস করছেন ওটা ওনার ছেলে চন্দ্রকে কেনো দিলো। মেম হেসে বললেন ওনি বলছিলেন ওর একটা ছবি আঁকতে। চন্দ্র ওনার সবথেকে পচ্ছন্দের ছাত্রী কিনা।এসব দেখে আর শুনে চন্দ্রের মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো।  

চন্দ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলো। বাসায় আসার পরে আননোন নাম্বার থেকে একটা কল এসেছিলো। কল ধরতেই ওপাস থেকে কিছুক্ষণ চুপ থেকে  একটা ভরাট কন্ঠ বলে উঠলো -' ছবিটা পছন্দ হয়েছে?'

আহ!  সেই কন্ঠ শুনে যেনো চন্দ্রে ভিতরে আলোড়ন উঠলো। যা ও এই মহিলার ছেলের জন্য হউক চায়নি। এই মহিলা ওর জীবন তছনছ করেবে  তা ও একশ পারসেন্ট সিওর।গিরগিটির মতো রং বদলিয়েছেন।ও শুধু ' হুম ' বলে কল কেটে দিয়েছে। এখন কোনো আননোন নাম্বার থেকে কল এলে ও কল তুলে না। 
যত দূরে থাকবে তত ভালো। না হলে খারাপ হতে কতক্ষণ?ছবিটা ও বাধিয়ে ওর রুমের বিছানার উপরের দেয়ালে লাগিয়েছে।ছোটবেলা থেকেই  বিছানার উপর নিজের বড় একটা  ছবি লাগানো ইচ্ছে ছিল ওর নাইকাদের মতো। কি আজব ভাবেই না শখটা পূরণ হলো।

হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। চন্দ্র মাকে -' আমি যাচ্ছি 'বলে দৌড়ে গেলো।নিশ্চয়ই বাবা এসেছেন। দরজটা খোলেই ও স্তব্ধ হয়ে গেলো। দরজা বাইরে চার জন মানুষ । দুজন মহিলা দুজন পুরুষ। দুজনেকে ও চিনে। মালিহা মেম আর ওনার ছেলে!!

-------------------------

সুলতানা বেগম চুলায় চায়ের জন্য পানি বসালেন। ঘাড় ঘুরিয়ে একবার মেয়ের দিকে তাকালেন। চন্দ্র এককোণায় চেয়ারে বসে আছে। -' রুমে যা। এই কাপড় পরে ওদের সামনে যাবি না কি?  

চন্দ্র বিরক্ত হয়ে বললো -' এই কাপড়ে তারা তোমার মেয়ের চাঁদবদন দেখে ফেলেছে। আমি এখন গিয়ে ডং করতে পারবো না। ' 

-' ওরা তোকে দেখতে এসেছে। একটু সুন্দর হয়ে যাবি না?  ' 

-' কেন?  কেন দেখতে এসেছে?  আমরা না ওনাদের না করলাম। '

-' তুই রাজি হচ্ছিস না কেন?  ছেলে তো দেখলাম ভালোই। কি শান্ত ভাবে কথা বলে। দেখতে তো ভালো। ' 

চন্দ্র ফিসফিসয়ে বললো -' সমস্যা ছেলে না। ছেলের মা। মাকে তো চিনো না। আস্ত একটা গিরগিটি। তুমি কি চাও তোমার একমাত্র মেয়ে স্বামীর বাড়ি গিয়ে শ্বাশুড়ি জন্য অশান্তিতে তাকোক?'

সুলতানা বেগম অবাক হয়ে বললেন- 'কই?  আমার তো ভালোই লাগলো। ছেলের বউকে অশান্তিতে রাখবে মনে হয়নি। শিক্ষত মানুষ এরকম করবে না রে মা। ' 

-' তুমি চেনো কতটুকু?  এই মহিলাকে আমি ভালো করে চিনি। 'বলে চন্দ্র উকি দিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে তাকালো। অনেক সময় হলো ওরা ওর বাবার সাথে কথা বলছে। মেমের সাথে উনার বোন আর বোনের ছেলে এসছে। মেম আর উনার বোন ভাবেকে কে ভুজংভাজাং বুঝিয়ে ফেলেছে তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। চন্দ্র তাদের পাশের সোফার দিকে তাকালো দুইটা ছেলে বসে আছে। একজন নিতান্তই টিনএজ। পাশের ছেলেকে কিছু বলছে। আর পাশের জন গম্ভীর মুখে শুনে যাচ্ছে।।

চন্দ্রের মন খারাপ হলো।এতো সুর্দশন একটা ছেলে কেনো এই মহিলার ছেলে হতে গেলো ?  আকাশীরঙের ইন করা শার্ট কালো পেন্টে লম্বাচরা মানুষটাকে কি ভালো দেখাচ্ছে। চশমার নিচের তীক্ষণ চোখ দিয়ে যখন ওর দিকে তাকালো চন্দ্রের বুকের ভিতর ধামা ধাম বাজতে শুরু করলো। চন্দ্র দরজার সামনে থেকে চলে এলো। 

-----------------------------

মায়ের জোড়াজুড়িতে পুরনো কামিজ পালটে গোলাপি রঙের একটা কামিজ পরছে চন্দ্র। তেল চিটচিটে চুল খোপা করেছে। এখন মালিহা রায়হানের পাশেই বসে আছে। চন্দ্রের খুব অস্বস্তি লাগছে। মনে হচ্ছে কেউ ওর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

 মালিহা রায়হান হাত বাড়িয়ে চন্দ্রের বা হাত হাতে নিয়ে একটা রিং পরিয়ে বললেন -' এখন না করে কোনো লাভ নেই। দুই দুইবার ঘটক পাঠিয়েছি যখন মানোনি তখন নিজেই চলে এলাম। তোমাকে আমি নিয়ে যাবো। ' 

চন্দ্র মুখ শক্ত করে বললো -' জোড় করছেন? ' 

মালিহা রায়হান  ওর দিকে তাকিয়ে বললেন -' হ্যা। ' হাত শক্ত করে ধরে ভরসা দেবার মতো বললেন -' আমি প্রমিকের মা হিসেবে খারাপ হলেও শ্বাশুড়ি হিসেবে খুব ভালো হয়ে দেখাব।কোনো অভিযোগ করতে দেবো না। না আমার ছেলেকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলে তুমি কোনো অভিযোগ করতে পারবে। তা বিশ্বাস রাখতে পারো। ' 

চন্দ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলো বিশ্বাস করে আর না করে বিয়েতে ও রাজি হয়েগেছে। এই লোকটা ওর ভিতরে প্রেমের যে আলোড়ন তুলেছে তাতে এই লোকটাকে বিয়ে করা ছাড়া ওর কোনো পথ খোলা নেই। চন্দ্র একবার অপূর্বের দিকে তাকিয়ে আবার মালিহা মেমের দিকে তাকিয়ে একটু লাজুক হাসে চোখ নামিয়ে নিলো। মালিহা রায়হান তা দেখ নিজেও হাসলেন 

.....সমাপ্ত.....

Loading spinner

Reply
Share:

Loading spinner