গল্প:প্রিয় সর্বনাশ ...
 
Notifications
Clear all

গল্প:প্রিয় সর্বনাশ তুমি (Writer: Nusrat putul)

Page 1 / 2

Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago
প্রেমিকের বাচ্চা পেটে নিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিয়ের পিড়ীতে বসছে সারা । 

কথাটা এখন অবধি কেউ  জানে না। এইতো কয়েক ঘন্টা আগে, সারা নিজেও জানতো না এ খবর।  কাল রাতে প্রেগন্যাসি টেস্ট  এর রিপোর্ট  যখন হাতে পেলো।
দেখলো রেজাল্ট প্রজেটিভ, সে থেকে যেন মাথায় আসমান ভেঙে পরলো তার। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ঠিক কতক্ষন তার হিসেব নেই  সারার। 

সারার পাশে বসে আছে আদ্র, যার সাথে আজ বিয়ে হচ্ছে তার ।। সারা ঘাড় কাত করে আড়চোখে একটু তাকালো আদ্রের দিকে।

বুকটা কেমন ধুক করে উঠলো তার, 
আচ্ছা বিষয়টা  সবাই  জামাজানি হলে কি হবে? বিয়েটা ভেঙে যাবে নিশ্চয়ই।  আর হলেও কি এ নিষ্পাপ অনাগত ফুলটাকে পৃথিবীতে আসতে দিবে সকলে ? পৃথিবীতে আসার আগেই হয়তো তাকে খু*ন করে দিবে। তাইনা?
এস ভাবনার মাঝে হঠাৎ  মনে হলো।।আর দেরি করা চলবে না, পাশে বসা মানুষটাকে এখনই জানাতে হবে সবটা । নয়তো বড্ড  বড় ভুল হয়ে যাবে জীবনে।

আর সময় নষ্ট  না করে সবটা সাহস সঞ্চয় করে সারা আদ্র এর কানের কাছে মুখটা এগিয়ে  দিলো। চোখের ইশারায় বুঝালো সে কিছু  বলতে চায়। 
কম্পিত গলায় ফিসফিস  করে খুলে বললো সবটা,

" আমি প্রেগন্যান্ট,,,,,,

কথাটা যেন বো*মার মতো বিস্ফোরণ হলো আদ্র চৌধুরীর কানে। মুহুর্তে তার মুখের ভাব পরিবর্তন  হয়ে এলো। চোয়াল শক্ত,  মুখ লালচে হয়ে আসছে। চোখ জোড়া গোল করে তাকিয়েছে সারার দিকে, 

যত দ্রুত আদ্রের মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন  হয়েছিল ঠিক  ততো দ্রুত আবার তা স্বাভাবিক হয়ে গেলো।  রেগে আগু*ন  হয়ে যাওয়া শক্ত চোয়াল এখন স্বাভাবিক। 
সারা ভেবেছিল আদ্র বিয়েটা করবে না এ কথা শোনার পর।  কিন্তু  অবাক করা বিষয় এইযে আদ্রের মধ্যে  এ বিষয়টা নিয়ে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে লক্ষ  করেনি সারা 

বিয়েটা নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ হলো।

তবে কি আদ্র কথাটা মজা ভেবে নিয়েছে? সারা দ্বিতীয়  বারের মতো কথা বলার সুযোগ  পায়নি আদ্রের সাথে। 

_________

গাড়ি  এসে থামলো চৌধুরী বাড়ির সামনে।  

সারাকে বরণ করা হলে, আদ্রের বোন অনি সারাকে  আদ্রের ঘরে নিয়ে বসিয়ে দিলো । তার পর বেরিয়ে গেলো তারা।
একা রুমে বসে বসে আদ্রের বিশাল বড় রুমটা দেখতে ব্যস্ত সারা। 
 চোখ জুড়িয়ে গেলো সারার। মনের মতো ঘর, কিন্তু  ঘরের মালিকটা মনের মতো নয় ভাবতেই একটা দীর্ঘ শ্বাস ত্যাগ করলো সারা।
প্রাক্তন প্রেমিক লাহামের সাথে ঠিক  এমন একটা ঘরে বাস করার স্বপ্ন  দেখতো সে।
লাহামের কথা মনে করে পেটে হাত চলে গেলো নিজের অজান্তেই । আজ দু মাস হলো, মানুষ টা নিখোঁজ।  কতো চেষ্টা করেছে যোগাযোগ করার, কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো।

কালো অতীত মনে পরতে গিয়েও পরলো না। তার মাঝেই ঘরে প্রবেশ করলো আদ্র।  আদ্রকে ঘরে আসতে দেখে নড়েচড়ে বসেছে সারা। 

অপেক্ষা করলো আদ্র কখন এসে খাটে বসবে। মিনিট খানেক অপেক্ষা  করতে আদ্র এসে খাটেট কোনায় বসতেই একটা ডাক্তারের রিপোর্ট  সামনে এগিয়ে  দিলো আদ্রর।
" আপনি আমার কথা বিশ্বাস  করছেন না হয়তো।আমি মজা করে বলিনি ঐ কথা। এটা দেখুন।  আমি সত্যি  পেগন্যান্ট। 

আদ্র,  এক পলক তাকালো, সারার হাতে থাকা কাগজের দিকে, আর একবার তাকালো সারার মুখের দিকে।

এর পর কাগজ টা হাতে নিয়ে বেডের পাশে টেবিলের উপর টা টেখে দিলো।

" ইন্টারেস্ট নাই এসব দেখার। 
 
সারা অবাকের শেষে প্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো

" ইন্টারেস্ট  নেই  মানে। এমন একটা সিরিয়াস  বিষয়  নিয়ে আপনি হেয়ালি করছেন?  এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য  নেই  আপনার?  আপনার কি যায় আসে না এসবে?

" নাহ ।  তোমার  কোনো বিষয়েই আমার কোনো রকম ইন্টারেস্ট নেই, শুধু এ বিষয়ে নেই  এমন টা না।  বিয়েটা করেছি বিজনেস এর প্রয়োজনে। তোমার জীবনে আগে পরে কে ছিল কে আসবে আই ডোন্ট  কেয়ার। এসব নিয়ে ভাববার মতো সময় আমার হাতে নেই।  

কথাটা বলেই গা ছাড়া ভাব নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতে লাগলো আদ্র,

সারা হতাশার সুরে বললো,

" বাচ্চা টা কি এবরেশন করাতে হবে আমায় ? 
আমার বাচ্চা টা মে*রে ফেলতে  বলছেন? 

কিঞ্চিৎ বিরক্ত  হলো আদ্র,

" আজব মেয়ে মানুষ তো আপনি , 
আমি কখন বললাম এবরেশন করতে। 

আদ্রের একেকটা কথা একেক রকমের অদ্ভুত  লাগছে সারার কাছে। 
অবাকের সুরে আবার জিগ্যেস  করলো,

" তাহলে, যতোদিন খুঁজে  না পাবো বাচ্চার  বাবাকে, ততোদিন  এ বাচ্চার পরিচয় কি হবে? কার পরিচয়ে পৃথিবীতে আসবে সে? কি হবে এ বাচ্চার? 

আদ্র বাকা হাসলো,
" এমন দু চার দশটা বাচ্চার পরিচয় বহন করতে কোনো অসুবিধে আমার হবে না।
বিয়ে যখন করেছি  বাচ্চার পরিচয়  ও দিতে পারবো।

সারা গোল গোল চোখ করে দেখছে আদ্রকে। কৃতজ্ঞতার সুরে বললো,

" ধন্যবাদ আপনাকে, বেশি না যতোদিন পর্যন্ত আমি ওরে খুঁজে  না পাবো ততোদিন শুধু  পরিচয়  দিয়েন। ওরে খুঁজে  পেলে আমি চলো যাব৷ ততোদিনে আপনার বিজনেস ডিল ও সম্পূর্ণ  হবে নিশ্চয়ই।  আর আমি নিজে চলে গেলে তখন আর আপনার সমস্যা  হবে না। কারন আমি তো নিজে থেকে চলে যাব সবাই  জানবে।

আদ্র আবারও বাঁকা হাসলো,,,,,
সারার সাথে কথা বলার ইচ্ছে করলো না তার। পাশঘুরে শুয়ে  পরলো বিনাবাক্যে 

সারা ও বিয়ের বেনারসি পাল্টে এসে আদ্রের পাশে গুটিশুটি মে*রে শুয়ে পরলো। হাতের মুঠোয়  ছোট ছু*রি টা খুব শক্ত  করো ধরে শাড়ির আঁচলের নিচে লুকিয়ে নিয়ে শুয়ে পরলো সে। 
ছেলে মানুষের সাথে  এক দন্ড বিশ্বাস নেই,৷ ইন্টারেস্ট  নেই বলে যে আবার ইন্টারেস্ট দেখাতে আসবে না তার কি গ্যারান্টি। 

______________

চৌধুরী বাড়ির নাস্তার টেবিলে বসে আছে আকরব চৌধুরী,  কারিমা চৌধুরী এবং কায়েশ চৌধুরী , হেমা চৌধুরী ।  যারা সম্পর্কে  আদ্র এর বাবা মা এবং দাদা দাদু হয়।

একজন সার্ভেন্টকে কায়েশ বললো,

" আদ্র এবং তার নতুন বউকে নাস্তার জন্য  ডেকে আসো,

সার্ভেন্ট গিয়ে সারা আর আদ্রকে নাস্তার টেবিলে আসতে বললে তারা দুজনই নেমে এলো রুম থেকে। 

গরম গরম পরোটা, গরুর কলিজা ভুনা, 
পাউরুটি কলা, দুধ এনে সাজানো হলো টেবিল। 

গরুর কলিজা ভুনার গন্ধে গা গুলিয়ে  আসছে সারার। অনেক চেষ্টা করলো নিজেকে সামলে নেওয়ার। কিন্তু  পারছে না, পেটের ভিতর  নাড়িভুড়ি যেন ধলা পাকিয়ে বের হয়ে আসতে চাইছে।  সহ্য করতে না পেরে সারা দৌড়ে  বেসিনের সামনে গিয়ে গলগল করে বমি করতে লাগলো।

তার এহেন কান্ডে উপস্থিত  সকলে হতভম্ব। খাবার টেবিল ছেড়ে  সকলে উঠে আসলো সারার কাছে। বসে রইলো কেবল আদ্র চৌধুরী। 

কারন সারার বমি করার কারন টা তার জানা আছে, এ সময় বমি পাওয়া টা অস্বাভাবিক  কিছু  নয়। কিন্তু বাড়ির বাকিরা জানলে কি হবে,

সারা সোজা  হয়প দাড়িয়ে আছে,  মুখ তার রক্তিম  বর্ণ ধারম করেছে। বিয়ের প্রথম দিন যদি শশুর  বাড়ির লোকেরা জানতে পারে এমন বমি করার কারন, তাহলে কি হবে।  
আল্লাহ  কে ডালছে সারা। মনে মনে ভাবছে কি ভাবে বিষয় টা আড়াল করা যায়।

উপস্থিত সকলের মাঝে সর্ব  প্রথম আদ্রর মা কারিমা বললো, 

" সে কি বউমা সাধ সকালে এমন বমি করছো কেন। 

কায়েশ চৌধুরী বললেন
" কাল সারা দিন ঠিক মতো খাওয়া হয়নি,  গ্যাসের সমস্যা হয়েছে হয়তো। 

উপস্থিত সকলে তাই ণেবে নিলো। 
সারা ও মাথা নেরে কায়েশের কথায় সম্মতি জানাতে যাবে  তখন সবাইকে থামিয়ে দিয়ে এক বড়সড় বিস্ফো*রণ ঘটালো হেমা,

তীক্ষ্ণ  দৃষ্টিতে সারার দিকে তাকিশে প্রশ্ন করলো

" দাঁড়াও নাতবউ ,  তোমার মা*সিক হয়না কয় মাস হলো?

হেমার প্রশ্নে উপস্থিত  সকলের মুখের ভাব ভঙ্গি পাল্টে গেলো। ছেলে ছেলের বউ স্বামী  সকলের সামনে এ কেমন প্রশ্ন করলো হেমা। কায়েশ গলা কেশে হেমাকে উদ্দেশ্য  করে প্রশ্ন ছুরলো,
" এ কোমন প্রশ্ন করছো,  এসব কি ধরনের কথা হেমা।

হেমা চৌধুরীর গলার সুর কঠিন। 
" আমি যা বুঝতে পারছি তা তোমরা পারছো না। কারন আছে বলেই এমন প্রশ্ন করেছি,
কেন করেছি তা নাতবউ  খুবই  ভালো করে বুঝতে পারছে।
তাই না নাতবউ? 

ভয়ে সারার গলা শুখিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।  মাথা ঘুরছে।  এ বুঝি পরে যাবে। 
কি জবাব দিবে এখন সে।
বলবে এ বাচ্চা  অন্য  কারো।

কারিমা শাশুড়ী কে বললো,

" কেন বলছেন আম্মা?  কি বুঝতে পারছেন আপনি?

" নাত বউ সন্তান  সম্ভবা।  আমার এ ৭০ বছরের অভিজ্ঞতা আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এটাই ধরা পরেছে।
বিশ্বাস না হলে এবার তোমারা ডাক্তার  ডেকে পরীক্ষা  করিয়ে দেখে নাও।

কারিমার মাথায় হাত উঠে  গেলো।  কি বলছে এসব।  কাল মাত্র  বিয়ে হলে। আর আজই সন্তান সম্ভবা।  ছেলের বউয়ের  সন্তান  হবে শোনলে সকল মা কতো খুশি  হয়। কিন্তু আজ যে চৌধুরী বাড়ির কেউ  খুশি হতে পারছে না

" বাচ্চা?  নতুন বউয়ের পেটে বাচ্চা?  কি ভাবে কি। তিনি
দু কদম এগিয়ে এলো সারার দিকে,
 এই মেয়ে এই বাচ্চা  কার ?  

কারিমার হুঙ্কারে কেঁপে  উঠল সারা। কি বলবে এখন সে। ভয়ে ভয়ে তাকালো চেয়ারে বসে থাকা আদ্রর দিকে,
আয়েশ করে পরোটা চিবুচ্ছে, যেন শোনতেই পারছে না কিছু।  চার পাশে কিছু  হচ্ছে  তাতে তার কিছু  যায় আসে না।  
কাল রাতে বলেছিল কোনো ইন্টারেস্ট নাই সারার প্রতি। আজ যেন তাই প্রমান দিচ্ছে। 
কিন্তু  রাতে তো বলেছিল বাচ্চার পরিচয় দিবে সে, তাহলে এখন কেন বলছে না কিছু, 

সারা কি করে সামাল দিবে এখন এই পরিস্থিতি, 

 
চলবে ইনশাআল্লাহ

  

Loading spinner

Reply
8 Replies
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago
  পর্ব-২
 
  

সারার  কাছ থেকে কোন জবাব না পেয়ে কারিমা তার চুলের মুঠি  শক্ত করে ধরে হুঙ্কার  ছাড়ল আবারও, 

" বলছিস না কেন ,  এ অবৈধ বাচ্চা  কার, কোথা থেকে নিয়ে এসেছিস । 

ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠছে সারা।  থরথর করে কাপছে সে। 

চার দিকটা অন্ধকার হয়ে আসছে। এমন সময় পিছন থেকে কারো  শব্দ ভেসে এলো কানে।

"ওর  পেটের বাচ্চা  আমার। আর বাচ্চা কখনো বৈধ অবৈধ হয় না।অবৈধ হয় সম্পর্ক৷  বাচ্চা সর্বদাই বৈধ,  আল্লাহ চায় বলেই বাচ্চা আসে। 

উপস্থিত সকলে পিছন ঘুরে তাকালো।  কারিমা চৌধুরীর হাতের বাধন আগলা হয়ে এলো। 
হতভম্ব হয়ে সকলে তাকিয়ে আছে আদ্রের দিকে। 

হাতে থাকা দুধের গ্লাসের পুরোটা দুধ এক চুমুকে শেষ করে তবেই টেবিল ছেড়ে উঠে আসলো আদ্র। শান্ত গলায় ধীরে ধীরে বলছে,

" এতো হইচই কেন করছো। ঐটা আমার বেবি। 

কারিমা রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আছে আদ্রের দিকে,

" কি সব আবোল তাবোল বকছো তুমি।  কাল মাত্র বিয়ে করেছো,  আর আজ বলছো ওর পেটে তোমার বাচ্চা, এক দিনে বাচ্চা কি করে হয়।  

" আম্মু বিয়ে কাল করেছি,  বলিনিতো বাচ্চা  কাল হয়েছে। বললাম তো এ বাচ্চা  আমার, আর কি করে হয়েছে তা নিশ্চয়ই  বিশ্লেষণ করে বুঝাতে হবে না তোমাদের। 

আদ্রের কথা শেষ হতে না হতেই ঠাস করো এক চর পরলো তার গালে,
ছেলের গালে চরটা দিয়েছে   আকবর চৌধুরী। 

" তুমি ঠিক কবে এতোটা নিচে নেমেছিলে আমাদের জানা ছিল না। মানুষ থেকে অমানুষ কবে হয়েছো।। 

আদ্র পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। এতো বড় হলো কখনো তার গায়ে হাত তুলেনি আকবর। আজ একটা মেয়ের কারণে,, 

রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে আসছে তার,

পরিস্থিতি সামাল দিতে কায়েশ মুখ খুললো।

' যা হওয়ার হয়ে গেছে। তাছাড়া দাদুভাই যেমন একটা অন্যায় কাজ করেছে ঠিক  তেমন তাকেই তো বিয়ে করেছে। সুতরাং এটা নিয়ে আর বারাবাড়ি করার প্রয়োজন নেই।  লোকে শোনলে চৌধুরী বাড়ির বদনাম রটে যাবে। এ বিষয়টা না হয় মাস খানেক বাড়ির ভিতরে থাকুক।

দাদুভাই যাও বউকে নিয়ে ঘরে যাও। 

আদ্র বড় বড় পদক্ষেপে রুমে চলে গেলো। সারা ও তার পিছন পিছন রুমে ঢুকতেই দরজা বন্ধ করে দিল আদ্র। 

দেওয়ালের সাথে সারার হাত শক্ত  করে চেপে ধরে রাগী গলায় বললো,

" বমিটা কি রুম থেকে করো গেলে হতো না? এই সকাল সকাল ঝামেলা  পাকাতেই হলো?

১ টা মাস বিষয় টা গোপন  রাখতে পারলে না পরিবারের  কাছে।? 

" আহ লাগছে আমার। ছাড়ুন। 
আর  রুম থেকে বমি করে যাব কি ভাবে।  আমার তো খাবার টেবিলে  যাওয়া  পর বমি পেয়েছে।
আদ্র ছেড়ে দিলো সারার হাত, বিরক্ত  নিয়ে বললো,
"  হ্যা মহান কাজ করেছেন ম্যাডাম। আর আপনাকে বাঁচাতে  গিয়ে আমার সম্মান  নষ্ট  হলো পরিবারের সামনে। বাহ আদ্র চৌধুরী বাহ

আর এই এতোই যখন  ঝামেলা  করলেন, সবাই  যখন জিগ্যেস  করছিল বমির কারন তখন বললেন না কেন কিছু?  কেন মুখ বন্ধ  করে দাঁড়িয়ে ছিলেন?

সারা আমতা আমতা করলো,
" আপনি তো বলেছিলেন, বাচ্চাকে আপনার পরিচয় দিবেন যতোদিন না আমার প্রেমিক কে খুঁজে  না পাই।

আদ্র হাসলো, ঠোঁট  বাঁকিয়ে। 

" আমি বললাম আর আপনি সে কথা ধরে আমার উপর ভরসা  করে বসে আছেন তো?

আচ্ছা মিস সারা যাকে বিশ্বাস করা যায় না, তাকে ভরসা কি করে করে মেয়ে মানুষ। 

সত্যি  আজব বটে। 

বলেই আরও এক জলক বাঁকা হেসে বেরিয়ে গেলো,, 
সারা থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,  বিশ্বাস করেনা।  মানে আদ্র কি বুঝাতে চাইলো এ কথা দ্বারা? 
বোধগম্য হলো না সারার। চিন্তিত মন নিয়ে বসে পরলো খাটের ওপর। 

_______________

সকালে ঘুমিয়ে ছিল অনি। তাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো না, কিন্তু ঘুম থেকে উঠে যখন দাদীর মুখে সবটা শোনলো তখন এক দৌড়ে  আদ্রের রুমে সে।
সারা তখনও রুমে বসে আছে। বের হতে ভয় লাগছে তার। মাত্রই যা ঘটে গেলো, এরপর কোন মুখে সকলের সামনে যাবে। রুম থেকে বের হলেই না কে কি প্রশ্ন করে বসে তখন তো আরেক বিপদ। 

অনি এসে ঝাপটে ধরলো সারাকে,

" ভাবিমনি সত্যি ফুপি হবো আমি?
বলো না গো বলো না। 

অনির মিষ্টি সুর, আর বাচ্চামু স্বভাব দেখে না হেসে পারলো না সারা।  নিজের অজান্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে জবাব দিলো,
" হুম হবে তো। 

" জানো ভাবি মনি, একটা বাবুর কতো শখ আমার৷ আমি তো ভাইয়াদের ছোট এক মাত্র  বোন। আমার পর তো আর কোনো ভাই বোন নেই। 

সেই ছোট থেকে আমাট খেলার সাথী নেই একটা, একা একা এ বাড়িতে বড় হতে হয়েছি। স্কুল কোচিং আর এ বোরিং বাড়ি।  
মাঝে মাঝে অবশ্য পাপা,  ভাইয়া ওরা বাইরে ঘুরতে নিয়ে গেছে কিন্তু  কি বলোতো। বাড়িতে একটা খেলার সাথী একটা বন্ধু কিছু নেই  আমার। আদ্র ভাইয়া যা ঘুরিয়েছে আর একজন তো,,,,

এটুকু বলেই থেমে গেলো অনি। 
দাঁত দিয়ে জ্বিব কাটলো 
মনে মনে নিজেকে শাসালো 
" হায়রে অনি কি ভুল বকছিস।  নিষিদ্ধ জিনিসই বলা লাগে তোর। আর একটু হলেই তো পাতলা ঠোঁটের ফাক দিয়ে সব বেরিয়ে আসতো। তখন নিশ্চয়ই পাপা তোর  কল্লা কা*টতো । 

সারা মনোযোগ দিয়ে শোনেছিল অনির কথা, হঠাৎ থেমে যাওয়াতে বেশ অবাক হলো,

কথার প্রথমে অনি একবার বলেছে ভাইয়ারা, বেপারটা সারা তেমন ভাবে নেয়নি। 
কিন্তু এখন আবার কি বলতে গিয়ে থেমে গেলো।

' আর একজন কে অনি?
তোমার না একটাই ভাই? আদ্র চৌধুরী? 

ভগরে গেলো অনি, দ্রুততার সাথে উত্তর দিলো,
' হুম একটাই তো। বলতে চাচ্ছিলাম, আরেকজন থাকলে কতোই না ভালো হতো।
এখন তো একটা চকলেট,  একটা গিফট পেতে হয় তখন সব ডাবল ডাবল হতো।

আচ্ছা  ভাবিমনি তুমি  থাকো আমি এখন আসছি। বলেই ছুটে পালালো যেন অনি। অনির আচরণ একদম ভালো থেকেনি সারার কাছে, কেন জানি মনে হচ্ছে  কিছু  একটা লুকাচ্ছিলো অনি। 
যাক সে সব চিন্তা  আবাধত মাথা থেকে জেরে ফেললো সে 

____________\

ফোনের স্কিনের দিকে  তাকিয়ে হতাশার শ্বাস টানছে সারা। ফোনে একটা সেভ নাম্বারের দিকে তাকিয়ে  আছে সে, নাম্বার টা জামাইজান দিয়ে সেভ করা।
সে দিকে তাকিয়ে  বির বির করে বললো,

" তুমি  কোথায় লাহাম, দু মাসের বেশি  সময় হলো তুমি নিখোঁজ।  হঠাৎ  করে কোথায় হাড়িয়ে গেলে তুমি,  ঐ তো সে দিন তোমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিলাম,
তুমি কথা দিয়েছিলে সারা জীবন এমন করেই বুকে আঘলে রাখবে। তোমার ভালোবাসার স্পর্শে ভরিয়ে দিয়েছিলে আমার হৃদয়।তাহলে আজ কোথায় তুমি । 
ভাবতে ভাবতে সারার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল।

রুমে কারো প্রবেশের শব্দ  অনুভব  করতেই চোখ মুছে নিলো দ্রুত । দুর্বলতা কারো সামনে প্রকাশ করতে নেই যে,

সারা দিন পর আদ্র বাড়ি ফিরেছে। মুখ দেখে বুঝা মুশকিল  এখনও রেগে আছে কি না। 
আর থাকলেইবা কি, এসবে তোয়াক্কা  করে না সারা। 

আদ্র ফ্রেস হয়ে শুয়ে পরলো বিছানায়,,,,
সারার মনে প্রশ্ন জাগলো, 
" আচ্ছা  উনি কি বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে? একবার  জানতে চাইবো কি?

পরক্ষণেই ভাবলো না না। খাবে না খাবে তাতে আমার কি। আমি তো আর ওনার  বিয়ে করা বউ না,যে উনি কি করছে খাচ্ছে ঐসব খোঁজ  নিব।

নিজের বোকা ভাবনায় নিজেই হাসলো,
বউইতো,  তবে মন থেকে তো আর বউ না। তাই এসব বউগীরি দেখানো চলবে না। পরে না আবার আদ্র সত্যি  সত্যি  স্বামীর অধিকার খাটাতে আসে। সারা নিজেকে শুধালো 
সুতরাং  বউ জামাই বাদ,
কাজের কথায় আসা যাক সারা,
গলা কেশে ডাকলো,

" ভাইয়া,,,
আদ্র মৌন রইলো,
" এইযে আদ্র ভাইয়া,,,
এবার নড়েচড়ে উঠলো আদ্র

" আমায় বলছো?

" জ্বি, আপনি ছাড়া এ ঘরে আর কে আছে,

' তা আমায় ভাই ডাকছো কেন? তোমার কোন জন্মের ভাই আমি?

" দেখুন আমরা মুসলিম, আমাদের একটাই জন্ম, সনাতন ধর্মের মতো সাত জন্ম আট জন্ম নেই বুঝলেনল৷ 
সো এ জন্মেরই ভাই। 

" এই মেয়ে  কথায় কথায় ভাই ডাকবে না আমায়,  

সারা লাফিয়ে উঠলো।
" কেন কেন? এইতো আসল রূপ বের হচ্ছে।  কাল রাতে তো খুব বললেন, আমার প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নাই। আর এক রাত যেতে না যেতেই এখন ভাই ডাকতে না করছেন। 

" আজর তো। ইন্টারেস্ট এর সাথে ভাই ডাকার কি সম্পর্ক? 

" দেখুন আপনি বয়সে আমার থেকে বেশি বড় না। আমার বড় একটা  ভাই থাকলে আপনার বয়সি থাকতো।
আর আপনি তো অতো বেশি বড় না যে আপনাকে কাকা মামা ডাকবো। সুতরাং ভাইয়া ঠিক আছে। ভাইয়া'স পারফেক্ট 

আদ্র কপাল চাপটালো। মনে মনে বললো,

" হুম বিয়ে করা বউয়ের মুখে ভাই শোনার জন্যই বেঁচে আছিস ভাই তুই। মেনে নে।

" হুমমম কি ভাবছেন? 
যাক বাদ দিন এসব কথা,আসল কথায় আসুন,,, আপনি  কবে আমাকে নিয়ে বের হবেন আমার বয়ফ্রেন্ড কে খুঁজতে? 

' আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড কে খুঁজতে  বের হবো মানে?
আমি কেন যাব?
তোমার প্রয়োজন থাকলে তুমি খুঁজে বের করো তাকে, 

" আমি কি করে বের করবো একা একা। 
তাছাড়া আপনাকে তো বিয়েই করলাম দুজন মিলে তাকে খুজবো বলে, আমায় তো পাপা বাড়ি থেকে একা ছাড়তো না, আর আমারও একা সাহসে কুলায়নি। তাই ভেবেছি বিয়ের পর আপনাকে নিয়ে খুজতে যাব।
 আর আপনি না কাল বললেন আমায় সাহায্য করবেম?

উচ্চ শব্দে হাসলো আদ্র,
' বেশ জোকস বললে তো।   কি বললে? তুমি আমায় বিয়ে করেছো তোমার বয়ফ্রেন্ড কে খুঁজে বের করার জন্য? বিয়েটা ছেলে খেলা তোমার  কাছে? যে বয়ফ্রেন্ড খোঁজার জন্য  বিয়ে করবে,

" আপনিও তো বিয়েটা সত্যি  সত্যি  করেননি, আপনিও তো বিজনেস ডিল হিসেবে বিয়ে করেছেন,

সারার কথায় রক্ত  চক্ষ করে তাকালো আদ্র্

" চুপ একদম চুপ। কি ভাবছো কি তুমি আমায়?
আদ্র চৌধুরী আমি, কোনো কাজ নেই আদ্র চৌধুরীর?   যে মেয়ে রাতে ছু*রি নিয়ে ঘুমায় আমায় খুন করার জন্য  তাকে নিয়ে তার বয়ফ্রেন্ড কে খুঁজবো আমি? তা আবার বেঁচে আছে কি মরে গেছে কে জানে।

সো ফানি,  হাসালে বাবু। 

 
চলবে ইনশাআল্লাহ 
Loading spinner

Reply
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago
  
পর্ব-৩
  

সারা কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।।
 চোখ পাকিয়ে তাকালো আদ্রর দিকে,এরপর বুক সটান করে খানিকটা ভাব নিয়ে বললো,,

" ইসসস রে আদ্র চৌধুরী আসছে, এই শুনুন আপনি চৌধুরী হতে পারেন তবে মনে রাখবেন আমিও কিন্তু  কম না। 
সারা শেখ আমি। শেখ বংশের মেয়ে বুঝলেন। তা আবার এক মাত্র মেয়ে  
সো আমাকে অতোটা ঠুকনো ভাবার কিছু নেই। আর শুনুন, আমি আগে সব সময় ফেসবুকে দেখতাম যে মেয়েরা বুঝে কম চিল্লায় বেশি।  কিন্তু  কি বলুন তো চৌধুরী সাহেব, এখন দেখছি আপনি ছেলে হয়েও বুঝেন কম চিল্লান বেশি। 

দেখুন আপনাকে মা*রার জন্য  আমি ছু*রি টুরি নিয়ে ঘুমাইনি। আপনি তো আমার শত্রু না, তাহলে অযথা আপনাকে কেন মা*রতে যাব
আপনি তো আমার বর। বরং আপনাকে মা*রলে তো আমি এখন বিধবা হবো। আর আমার বয়ফ্রেন্ড কে ও খুঁজে  বের করতে পারবো না।  একটু নিজের ভালোর জন্য হলেও তো আপনাকে বাচিয়ে রাখা লাগবে আমার। 

এতোক্ষণ সব কিছু  স্বাভাবিক ভাবেই শোনছিল আদ্র, হঠাৎ তার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। হাত মুঠি বদ্ধ করে বড় বড় পদক্ষেপ ফেলে বেরিয়ে গেলো।
বের হওয়ার আগে অবশ্য ব্যঙ্গ করে বলে গেছে।

" মেয়েরা বরাবরই সার্থপর হয়। আর ঠিক এ কারনেই মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট নাই আমার। আর তুমি আজ আবার ও তার প্রমান দিলে। 
আর শেষে কি যেন বললে,
 আমি তোমার বর?  আমাকে মারতে কেন জাবে তুমি? 

যে মেয়ে বয়ফ্রেন্ড কে খোজার জন্য  বিয়ে করে। সে নিজ স্বার্থের জন্য  সব কিছু করতে পারে। আর যে বিয়েটা মন থেকে মানেই নাই সেখানে নাকি বর মানে আমায়।

তোমার মতো নাটকবাজ মেয়েদের দু চারটা কথায় গলে যাওয়ার ছেলে আদ্র চৌধুরী  না। পারো তো আজই নিজের বয়ফ্রেন্ডের কাছে চলে যেয়ে আমায় আপদ মুক্ত  করো।

সারা অবাক হয়ে চেয়ে রইলো,

" আরে উনি তো ভুল  বুঝলো আমায়। কি যে মুশকিল। 

______________

অনি,,অনি, জানালার পাশ থেকে ফিসফিস ডাক শোনে দ্রুত জানালার কাছে গেলো অনি। তার রুমটা নিচতলার একদম কর্ণারে।
বাড়ির পিছনের দেওয়াল থেকে তার জানালার দূরত্ব মাত্র  এক হাত পরিমান হবে।

অনি কান পেতে রইলো। তৃতীয়  বারের মতো ডাক এলো,
" অনি,
অনি এবার সিউর হলো। হ্যা তাকেই  কেউ  ডাকছে। জানালা খুলতেই দুটো চকলেট  বক্স, বিশাল বড় টেতি, কত্তো গুলো হেয়ার ক্লিপ অনির হাতে ধরিয়ে  দিলো কেউ।  অন্ধকারে মুখ বুঝা যাচ্ছে  না লোকটার তবে অনি যেন ঠিক টের পেলো কে এই মানুষ।  ফিসফিসিয়ে  বললো,

" এতো রাতে তুমি এ জানালা দিয়ে কেন?

" আমার অনির বার্থডে আজ আর আমি আসবো না।? সবার আগে উইশ করবো না তা কিকরে হয়?

অনি হাসলো। আনন্দে  তার চোখের কোণে পানি চিকচিক  করছে। 

জানালার গ্রীল বেধ করো বাইরে থাকা পুরুষের কপালে আল্তো চুম্বন ছোয়া ছেয়ে দিতে দিতে বললো,
" তুমিও না, 

ঠিক  তখনই রুমের বাইরে থেকে দরজায় ঠকঠক শব্দ  ভেসে এলো। সাথে মা বাবা দাদু সকলের গলার শব্দ। 

" অনি পাখি, আমাদের  অনি পাখি কি  ঘুমিয়ে গেলো নাকি?

বাইরের পুরুষ টা বিরক্ত গালয় বললো 
" ঐ যা তোর হিটলার পরিবার  এসে হাজির হয়েছে । বলেই অন্ধকারে মিশিয়ে গেলো লোকটা। অনি এতো গুলো চকলেট আর এতো বড় টেডি, এতো এতো গিফট  কোথায় লুকাবে বুঝতে না পেরে খাটের তলায় ধাক্কা  দিলো এগুলো। এরপর ঘুমের ভাঙ ধরে দরজা  খুলতেই পায়েশেট ভাটি নিয়ে এক চামচ মেয়ের মুখে পুরে দিলো কারিমা চৌধুরী । 
একে একে হেমা কায়েশ  সবাই  এসে মিষ্টি  মুখ  করালো।  সবার পিছনে সারা ও দাঁড়িয়ে আছে। আদ্র বোনকে টানতে টানতে বললো,
চল আগে কেক কাট*বি,,,
সকলে সায় দিলো তাতে সবাই  মিলে বের হয়ে যাওয়ার সময় খাটের নিচে লুকানো টেডির এলটা পা দেখতে পেলো সারা। সবাই  বেরিয়ে  গেলে হালকা উকি দিতে তার সামনে দৃশ্যমান হলো নতুন টেডি এবং কয়েকটা চকলেট বক্স। 

যা দেখে সারার চোখ গোল গোল হয়ে গেলো,, কেউ এসেছিল অনির কাছে। কিন্তু  কে? আর অনি বা এসব লুকিয়ে  কেন রেখেছে৷ আচ্ছা  অনি  প্রেম করে না তো ?

তার ভাবনার মাঝে ডাক পরলো ড্রয়িং রুম থেকে। 
ড্রয়িং রুমে ছোট পরিসরে কেক কাটার আয়োজন  করা হয়েছে। বাড়ির সকল সার্ভেন্টরাও উপস্থিত এখানে। মা বাবা দাদু আদ্র থেকে  শুরু করে সকলে কিছু  না কিছু গিফট দিচ্ছে৷। 
যা দেখে মন খারাপ  হয়ে গেলো সারার। 
সে তো জানতো না আজ অনির জন্মদিন।  সে তো কোনো গিফট আনেনি,  এখন কি দিবে। মন খারাপ করে পিছন থেকে রুমে চলে যেতে গেলেই ডেকে উঠে অনি। ভাবিমনি কোথায় যাচ্ছো গো। আমার গিফট দিবে না তুমি? 

পা জোড়া থেমে যায় সারার, কি বলবে এখন।

 
চলবে ইনশাআল্লাহ। 

  

Loading spinner

Reply
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago
  পর্ব-৪
  
 

সারা আমতা আমতা করতে লাগলো। 
তখনই  অনি বললো

" তোমার থেকে কিন্তু  আমি যে সে গিফট  নিবো না ভাবিমনি , 

সারা ভ্রু কুঁচকালো। 

অনি এক গাল হেসে বললো,

" তোমার বেবিটা চাই আমার। ও সারাক্ষণ  আমার সাথে থাকবে কিন্তু।  আমাকে মামনি বলে ডাকবে। ছোট কুইন চাই আমি।  আর এটাই আমার সব থেকে বড় গিফট। 
সারা সহ উপস্থিত  সকলে হাসলো অনির কথায়।
________

সকালে নাস্তা করার জন্য ড্রাইনিংয়ে বসেছে সকলে। 
সারা ও এসে চেয়ার টেনে বসতে নিতেই চেচিয়ে উঠলো কারিমা চৌধুরী। 

অনি, তাকে বল এখানে যেন না বসে। কথাটায় সকলে নড়েচড়ে উঠলো। সকলের দৃষ্টি কারিমার দিকে।

" কেন আম্মু? ভাবিমনি খাবে না নাকি?

"না,  এখানে খেতে পারবে না। ওর খাবার  ঘরে পাঠিয়ে দিচ্ছি  আমি। এ সময় অনেক খাবারের গন্ধ সহ্য হয় না। 
এখানে একেকজন একেক খাবার খাবে, সমস্যা হবে তার। তাই এখন থেকে ঘরেই খাবে ও।

কারিমার এহেন কথায় সস্থির নিঃস্বাস ছাড়িল সকলে। 
সারা মাথা নুয়িয়ে ঘরে চলে গেলো। কারিমা রাগী খুব।।কঠিন করে কথা বলে। কাল থেকে কারিমাকে যমের মতো ভয় করে সারা। 
সারার পিছন পিছন একজন সার্ভেন্ট রুমে খাবার নিয়ে এলো।

এক গ্লাস গরম দুধ, সেদ্ধ ডিম, রুটি, কলা, আপেল এসব নিয়ে এসেছে। 

বেড সাইডের টেবিলে রাখতে রাখতে সার্ভেন্ট বললো,

" খালাম্মার অর্ডার সব গুলা খাবার যেন শেষ করেন।এ সময় বেশি  বেশি  না খাইলে নাকি বাচ্চার ক্ষতি হইবো। 
বলেই সার্ভেন্ট বেরিয়ে গেলো।

সারা  তো অবাক, রাগী মানুষ টা ও তার জন্য  এতো চিন্তা করছে। এতো যত্ন  করছে ,  
____________

কয়দিন  হলো মেয়েকে দেখে না রাজেশ। পুরো নাম রাজেশ শেখ। সারার বাবা।  দু হাত ভরে নানা রকমের ফলমূল সহ আরও অনেক কিছু  সাথে নিয়ে মেয়ের শশুর বাড়িতে পা রেখেছেন তিনি। 

চৌধুরী বাড়িতে পা রাখতেই সকলে তাকে আপ্যায়ন শুরু  করলেন।

কারিমা চৌধুরী বেয়াইকে নাস্তা  দিলে তিনি বলেন।

" মেয়েটাকে নিতে  এসেছি আপা। 
কারিমা নাছুক করলো,

" না না ভাইসাব,  এ অবস্থায় আমরা বউকে ঐ বাড়ি পাঠাতে পারিনা। মা নেই,  কে খেয়াল রাখবে তার। 
করিমার কথায় ধাক্কা খেলো রাজেশ।  
আপনার কথার মানে বুঝতে পারলাম না। 

কারিমা মুখটা অন্ধকারে ডেকে গেলো।
" আসলে কি বলুনতো ছেলে মেয়ে এমন একটা কাজ করেছে যা আর বলা হয়নি আপনাকে।। এটা বলে সব কথা খুলে বলেন কারিমা। সবটা শোনে চক্ষু কপালে উঠে গেলো রাজেশের। কিছুক্ষণ চুপ থেকে মেয়ের রুমে গেলো। 
যা বুঝার সে বুঝে গেছে।   সারার সাথে বেশ খানিকক্ষণ কথা বললো রাজেশ রুম থেকে বেরিয়ে গেলে সারা কাঁ'দতে  লাগলো। বিষয়টা খেয়াল করলো কারিমা। 

রাজেশ চলে গেলেন, 
বিছানার চাদর খামচে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠলো সারা।সকলে ভাবছে তার পেটের বাচ্চা টা এ বাড়ির সন্তান।  এ বাড়ির মানুষ গুলো কতো স্বপ্ন  দেখছে। কিন্তু যখন আসল সত্যি  জানতে পারবে। তখন কতোইনা কষ্ট পাবে।

______°_°°°_°_

 ক্লান্ত শরীর নিয়ে গা এলিয়ে দিতেই চোখে ঘুম  লেগে আসলো সারার। 

রাত ১১ টার দিকে আদ্র আসলো,

" উঠো,

সারা ঘুম থেকে হকচকিয়ে  উঠলো। 

ঘুমের আড়মোড়া ভেঙে তাকালো আদ্রর দিকে,
" কি হয়েছে?
আদ্র উত্তর  দিলো না, নিজের ফোন বের
করে সারার সামনে ধরলো,

সারা ফোনের স্কিনে তাকিয়ে  লাফিয়ে উঠলো,,,, 

" লাহাম,,,

লাহামের ছবি আপনি কোথায় পেয়েছেন? 

আর লাহামের সাথে এটা কে।  

" ঘুমিয়ে পরো। কাল সকাল করে উঠবে। আমরা সিলেট যাব। 

সারা ভ্রগ কুচকালো। 
" আপনার সাথে আমি সিলেট কেন যাব? আচ্ছা লোক তো আপনি,  মনে মনে এতো কিছু  আপনার ?
মুখে বলেন কোনো ইন্টারেস্ট  নাই  আবার ঠিক  আমায় নিয়ে সাজেক ঘুরতে যাওয়ার  প্ল্যান কটেছেন তো।
না না আমি তো যাব না আপনার  সাথে। দেখুন লাহাম কোথায় তাই  বলুন 

সারার কথায় চোখ পাকিয়ে তাকালো আদ্র,

" এই এতো বেশি কথা বলো কেন তুমি?  মাথায় কি সারা দিন এসবই ঘুরে নাকি? 
সিলেট তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে নিয়ে যেতাম তোমা, এখন
গেলে যাবে না গেলে নাই,  আমি বাসের ট্রিকেট কেনসেল করে দিব কল করে। 

 
চলবে ইনশাআল্লাহ 
Loading spinner

Reply
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago
  
পর্ব-৫
 
 
 

ভরদুপুরে সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলের একটি বাড়ির উঠুনে দাঁড়িয়ে আছে সারা আর আদ্র. বুকের ভিতর কেমন ধুকপুক করছে সারার।

মিনিট খানেকের মধ্যে একটা দু আড়াই বছরের ছেলে কোলে করে এসে সামনে দাড়ালো একজন মেয়ে,বয়স ২৩*২৪ হবে তার বেশি  না। গোলগাল  চেহারা। 

" কিতা খুঁজেন আপনেরা। কোন থেইকা আইলেন।

সারা কিছু  বলতে গেলে তাকে থামিয়ে  দিয়ে আদ্র বলে, 

" লাহাম নামের কেউ একজন আছে এ বাড়িতে? 

" হয়, তাইনে তো কামে আছে। আপনারা কারা?
 সারা ঝটপট উত্তর দিলো,

" আপনার ভাই  কখন  আসবে ? 

মেয়েটি কপাল কুঁচকালো । 

' কিতা কন এগুলা৷।  হেতে আমার ভাই হইতে যাইবো কেন৷ আমার ফোয়ার বাপ লাগে। 

আদ্র মুচকি  হাসলো ।  

কিন্তু সারার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরেছে। আদ্র সারার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,

" উত্তেজিত হবেন না ম্যাডাম,  বাবুর ক্ষতি হবে। আর এখনই বলবেন না কে আপনি।তাহলে দেখা যাবে আপনার প্রেমিক পুরুষ  খবর পেয়ে আর বাঈি আসলো না।

সারা ভাবলো। কথাটা মন্দ  বলেনি। 
তাই মুখ খুললো না সারা। 
তারা বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে।  বাড়ির পাশে একটা দোকানে বসে আছে, একটু দূরে একটা ছোট পাহারের মতো।

হঠাৎ করে সারার শখ জাগলো সে পাহাড়ে উঠবে।

আদ্রকে ইশারা করে বললো,

" আমি না পাহাড়ে চড়ব। 

আদ্র মাত্র চায়ে চুমুক দিচ্ছিল।  সারার কথা শোনে সরু চোখে তাকালো তার দিকে।

মেয়েটা বোকা।  কখন কি করতে হয় জানে না নাকি।

" কি দেখছেন?  দেখুন নজর দিবেন না আমার দিকে।  মেয়ে দেখার এতো শখ থাকলে বিয়ে করে ঘরপর বউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকুন। 
সারার বোকা কথায় হাসি পেলো আদ্রের। 

আদ্র খেয়াল করলো দোকানদার আড় চোখে তাকাচ্ছে তার দিকে। তাকানোর একটা বিশেষ কারন  আদ্র একটু আগে দোকানদারকে বলেছিল তারা ঢাকা থেকে এসেছে। সম্পর্কে হাসবেন্ড ওয়াইফ। 
আর এখন সারা গলা ফাটিয়ে বলছে সে যেন বিয়ে করে বউয়ের দিকে তাকায়।

আদ্র কথার উত্তর না দিয়ে বললো,

তোমার বয়ফ্রেন্ড এসে গেছে নিশ্চিত এতোক্ষণে।  চলো এবার।
সারা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো। পাহাড়ে উঠার কথা ভুলে গেলো মুহূর্তে। 

__________

দ্বিতীয় বারের মতো লাহামেদ বাড়ির উঠানে পা রাখতেই দেখা গেলো লাহাম বাচ্চা টাকে নিয়ে খেলা করছে
,,

সারা দ্রুত পায়ে গিয়ে দাঁড়াল তার সামনে। সারাকে দেখে থমকে দাড়ালো লাহাম। মস্তিষ্ক শূন্য তার। হয়তো হিসাব মিলচ্ছে কি হতে চলছে। 

" তুমি এ ভাবে কেন চলে এসেছিলে? আমাকে না বকে কেন আসলে তুমি?  তেমার ফোন বন্ধ কেন ছিল?.
কি হয়েছিল তোমার?

একনাগারে প্রন করছে সারা। 
সারার কথা শোনে লাহামের স্ত্রী ও বেরিয়ে এলো।

লাহাম রাগী গলায় বললো,

" তুমি এখানে কি করে আসলে? কেন এসেছ ?

" আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও তুমি।  কেন ফেলে এসেছিলে আমায় এভাবে?

লাহামের স্ত্রী এগিয়ে এলো,

" ঐ ফুড়ি, কে গো তুই।  তাইনেরে এমন কইরে কথা কেন কইতেছত।

সারার ভিতরটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল।।
 মেয়েটা কি সুন্দর অধিকার নিয়ে হালামকে সম্মোধন করছে। অথচ সে কি ভাবে পর হয়ে গেলো। 

হালাম ফোড়ন কাটলো,

" দেখ সারা যেখান থেকে এসেছিলে চলে যাও। 

বলেই ঘরে চলে যেতে পা বাড়ালে পিছন থেকে চিতকার করে উঠলো সারা।

" চলে যাব?  কোথায় চলে যাব? তোকে ছেড়ে কোথায় যাব আমি? 
 আর এই মেয়ে কে? এ বাচ্চা  কে?

সারার কথা শোনে তেড়ে আসলো লাহামের স্ত্রী। 
" ঐ ফুঁড়ি।  কে রে তুই ।  আমার বরের বাড়ি আইসা আমার বরের সাথে গলা উচা কইরা কথা কস। আবার জিগাস আমি কে।

সারা দু পা পিছিয়ে গেলো।

এই মেয়ের বর মানে। তাহলে কি লাহাম বিবাহিত।? 
এ বাচ্চা  লাহামে। 

চোখ বেয়ে পানি পরছে সারার। হাতটা পেটে চলে গেলো। ঐ বাচ্চা  যদি লাহামের হয় তাহলে এই যে পেটে। এটা কার বাচ্চা?  কি হবে এর?

লাহাম তো বলেছিল সে বাবা মায়ের এক মাত্র  সন্তান।,   চাকরির কারনে ঢাকা থাকে সে। 

সারাদের পাশের বাসায় ভাড়া থাকতো লাহাম। সারা তো প্রেমে পরেনি। একদিন দু দিন এমন করে লাহাম কতো দিন পিছু নিয়েছে সারার। 
এর পর আস্তে আস্তে প্রেমে পরা,  এমনকি তার মায়ের সাথেও কথা বলিয়ে দিয়েছিল সারাকে। 

বিয়ে করবে বলে কতো স্বপ্ন  কতো কি। আজ কিনা এক মুহূর্তে সব মিছে হয়ে গেলো।

লাহাম এগিয়ে  এলো,
শক্ত  গলায় বললো,
" এই মা**গির বাচ্চা  তুই  এখানে কেন?
যেখান থেকে এসেছিস সেখানে যা।

সারা ঠাস করে চর বসিয়ে দিল লাহামের গালে,,, 

" কু*ত্তার বাচ্চা গালি দিস কেন।  
তোর বউ কোথা থেকে  আসলো রে?  এই জানো*শার তোই নাকি বিশে করিসনি?
তাহলে এই বাচ্চা  কোথা থেকে আসলো?

রেগে মেগো তেরে আসলো লাহাম। 

" হ্যা করেছি বিয়ে।  তাতে তোর কি। 

" আমার জীবনটা কেন নষ্ট  করলি?

" তুই এমনি নষ্ট  তোকে আর কি নষ্ট  করবো।

এতোক্ষণ  পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল আদ্র। এবার এগিয়ে  এসে সারার হাত টেনে বললো

" চলো। বাসায় যাবে।

লাহাম বাঁকা  হাসলো,

" নষ্টা মেয়ে ছিলে নাগর নিয়ে আসছে  আমার সংসারে ঝামেলা  করতে,,,,,

আদ্র রক্ত  চোখে তাকালো,

" এতোক্ষণ  যা বলেছিস তা তোদের বেপার। বাট আমার সম্পর্ক টেনে একটা বাজে কথা বলবি তো জ্বিব টেনে ছিড়ে নিব। 

সারা চলো,

সারাকে এক প্রকার টানতে টানতে গাড়ির কাছে নিয়ে আসলো। 

এতোক্ষণে গ্রামের লোক জমেছে বেশ কয়েকজন, 

সারা হাঁটু গেরে বসে পরলো রাস্তার পাশে। 

মাথার,ভিতর কেমন যন্ত্রণা হচ্ছে ।  লাহামকে হারিয়ে ফেললো সে। 
এতো সহজে? 

গ্রামের লোকেরা একেকজন একেক কথা বলছে। সকলের মাঝে জানার আগ্রহ, 
টকজন মহিলা সারার অবস্থা দেখে এগিয়ে এলো। 

হালে এক গ্লাস পানি। 

" পানি ডা খাইয়া নাও। 
কেডা তুমি । এ গাওয়ে কেন?  সব খুইলা কও দেহি আমগো। 

সারা ফেলফেল দৃষ্টিতে তাকালো। তার ঠোঁট যে কাপছে তিরতির করে। 
আদ্র বললো, 

" বাদ দেন আন্টি,  আপনারা বরং চলে যান।  আমি ওনাকে বাসায় নিয়ে  যাচ্ছি। 

প্লিজ একা ছেড়ে দিন।

আদ্রের অনুরোধে সকলেই পা বাড়ালো নিজ গন্তব্যে,  
আচমকা পিছন থেকে ডেকে উঠে সারা। 

" দাঁড়ান সবাই 

সারার ডাকে থেমে গেলো সকলে। তিন চার জন মহিলা সাথে কৈকজন পুরুষ  ও আছে। 

সারা উঠে  দাড়িয়ে বলতে লাগলো একে একে সকল ঘটনা।

" আমি আমার বাবার এক মাত্র  মেয়ে,  মা নেই।  জন্মের সময় মা-রা গেছে। কাজের লোকদের কাছে মানুষ  হই আমি। 
এর পর একদিন লাহামের সাথে দেখা। আমাকে নাকি প্রথম দেখাতে ভালো লাগে  তার। 
আমি ছিলাম আমার আব্বির আদরের মেয়ে। প্রেম ভালেবাসায় আমার জোক ছিলনা কখনোই, 
তবুও তার মিথ্যা নাটকের কাছে হার মানতে হয়, 

নিজপর সবটা দিয়ে বিশ্বাস  করতাম তাকে, ভালেবাসতাম।
তার মায়ের সাথেও কথা বলিয়ে দিয়েছিল আমায়। 

সারার কথা শোনে এক মহিলা বললো,
।" মা কোনতে পাইলা। অয় তে এতিম।  

সারা অপলক  দৃষ্টিতে তাকিয়ে  থাকে। তার পর মলিন হাসে। মনে মনে ভাবে, 

তার পর একে একে বলতে থাকে সব কিছু।  

সবটা শোনে,,,সবাই দুঃখ  প্রকাশ করছে। কপাল পুড়েছে মেয়েটার। বাটপার টার পাল্লাশ পরে মেয়েটার জীবন শেষ। 

সকলের কথার মাঝে সারা দৌড়ে গেলো একটা পাহারের কাছে। 
ছোট  রকমের একটা পাহাড়ে উঠতেছে সারা।

তার পিছন পিছন ছুটে চলেছে আদ্র। পিছন থেকে  ডাকছে সারাকে। তার পিছনে পিছনে গ্রামবাসীরা,,

 
চলবে ইনশাআল্লাহ
Loading spinner

Reply
Page 1 / 2
Share:

Loading spinner