গল্প:প্রিয় সর্বনাশ ...
 
Notifications
Clear all

গল্প:প্রিয় সর্বনাশ তুমি (Writer: Nusrat putul)

Page 2 / 2

Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago

পর্ব-৬
 

এক পা এগিয়ে দিতেই  পিছন থেকে খপ করে সারার হাত ধরে নিলো আদ্র,

আচমকা টানে টাল সামলাতে না পেরে আদ্রের বুকের উপর পরতেই আদ্র তাকে সোজা করে দাঁড়িয়ে সজোরে থাপ্পড় মা'রল গালে। তাদের পিছনে এতোক্ষণে এসে গ্রামবাসী সকলে উপস্থিত হয়েছে৷ 

মহিলারা এগিয়ে এসে ধরলো সারাকে।

" এ কি করতে যাচ্ছিলে তুমি?  আর একটু হলেই তো নিচে পরে যেতে।

সারা কাঁদছে কোনো উত্তর নেই। 
কাঁদতে কাঁদতে বলল,

" বেঁচে আর কি হবে?  কার পরিচয়ে বাঁচব।  যাকে এতোটা বিশ্বাস করেছিলাম। 

পাশ থেকে মহিলা বলল,

" তুমি  নিজের পরিচয়ে বাচবে।।
সারা নাক টেনে কান্না থামাতে চেষ্টা করে বললো,

" আর পেটের বাচ্চা।  সে কার পরিচয়ে বাঁচবে,,,,,, 

উপস্থিত সকলের মাঝে টনক পরলো এবার।।

সকলের মুখে হাত। 

তবুও সকলে বুঝচ্ছে। ওর মতো প্রতারকের জন্য কেন নিজের জীবন নষ্ট করবে,,,

আদ্র ধৈর্য্য হারা হলো,

সারার হাত ধরে টানতে টানতে গাড়িতে এনে বসিয়ে ড্রাইভিং শুরু  করলো,,, 
 
ছটফট করছে সারা। 
আমাকে কেন বাঁচাতে গেলেন,
আমি বাঁচতে চাই না,

সারার কথায় হঠাৎ  ব্রেক কষলো আদ্র,

একটু ঝুঁকে এসে বললো,

" কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করবি একদম  জানে মে*রে ফেলবো,
ম*রে যাবি যা, কিন্তু  বাচ্চা রেখে তার পর মরিস। 

আদ্রের এহেন কথায় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে  আছে সারা।  কিছু ক্ষন ডেবডেবে করে তাকিয়ে থেকে বলে 

" এই আমায় তুই তোকারি করছেন কেন আপনি?

টনক নড়লো আদ্রের। নরেচরে বসে বললো,
" ইচ্ছে হয়েছে তাই ।  বার বার মরার কথা বলতে লজ্জা  লাগে না। 

" তো কি করবো। এতোদিন  তো আশা ছিল,  আমি যে পাপি, এ পাপিষ্ঠ জীবন নিয়ে কি ভাবে থাকবো মুখ দেখাবো। 
বাচ্চার কি হবে।

আদ্র শান্ত হলো,
" আগেও বলেছি এখনও বলছি বিয়ে যখন করেছি বাচ্চাকে পরিচয়  দিতে অসুবিধে আমার হবে না। 
সুতরাং  এসব নিয়ে চিন্তা  করে শরীর খারাপ  করার প্রয়োজন দেখছিনা।।

বলেই গাড়ি চালাতে শুরু করে, 

" এই এই থামুন,,,,, 
আদ্র থামলো না,  না থামিয়েই বললো

" কেন?
" থানায় যাব। মামলা দিব ওর নামে,,,,

" প্রয়োজন নেই। 
" আছে , সে আমার জীবন টা নষ্ট করলে, এমন ভাবে ঠকালো আর আমি এমনি ছেড়ে দিব?

আদ্র ভাবলো, কথা ঠিক, 
" তুমি চাও সে তার পাপের ফল ভোগ করুক?

" হুম চাই,।

" ব্যাস, বাকিটা আমি দেখে নিব।বাড়ি চলো, 

" আপনি কি ভাবে দেখে নিবেন?

আদ্র গরম চোখে তাকালো,

' চোখ দিয়ে দেখে নিব।
ভরসা করো তো আমায়? চুপচাপ থাকো,
আমার বাচ্চার ক্ষতি হবে এতে হাইপার হলে।

আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছে আদ্র, 
সারার হৃদয়ে একটা শীতল অনুভূতি ছেয়ে গেলো।  সত্যি অদভুত মানুষটা। 

_____________

স্কুল ব্যাগ দু কাঁদে নিয়ে হেলেদুলে হাঁটতে হাটতে ক্লাসে প্রবেশ করলো অনি। হাতে তার একটা চকলেট,,, 

সেটাই খাচ্ছিলো এতোক্ষণ ধরে,,,,, 
ক্লাসে পা রাখতে যাবে তক্ষুনি তার সামনে হাঁটু গেড়ে এল গুচ্ছ তাজা গোলাপ হাতে বসে পরলো সাইম,,,

দু জনই এসএসসি পরীক্ষা দিবে এবার। 

সাইফ কে এ ভাবে বসতে দেখে হাতে থাকা চকলেটে আটোকটা বাইট বসিয়ে  দিল অনি,
মুখের ভিতর চকলের চিবোতে চিবোতে অনি বললো,

" কি রে এমন গরুর মতো বয়ে আছিস কেন? 

পিছনে থাকা সকলে মুখ টিপে হাসলে,

সাইফ গেছে প্রপোজ করতে আর সে কিমা আগেই গরু বলে ফেললো,

সাইফ ডোগ গিললো,

" না মানে,,,,, 
" কি না মানে না মানে করছিস,,

পিছন থেকে সাইফের বন্ধুরা ইশারা করছে তারাতাড়ি বলে দিতে। সাইফ চোখ বন্ধ  করে নিলো

চোখ মুখ খিচে বন্ধ  করে বলতে লাগলো,
" তোকে একটা কথা বলবো অনি,,,, হ্যা বলবি কিন্তু ।  আর ঢ়দি হ্যা না বলিস তবুও মারবি না আমাকে। তোর হাতের মার খেতে খেতে আমি আধবুড়া হয়ে যাচ্ছি এমনি।

আমি তোকে ভালোবাসি, আই লাভ ইয়ো। আমি জানি তুই ও আমাকে ভালোবাসিস, সুতরাং  হ্যা বলে দে। 

অনি ডেবডেব করে তাকিয়ে থেকে ফিক করে হেসে ফেলে।

" আমি কি সাধে তোকে গরু বলি? আমার বার্থডেতে আমার সাথে মজা করছিস এ ভাবে?।  আরে গরু এমব ভাবে কেউ মজা নেয়। আমি তো সত্যি  

" অনি,  আমি মজা করছি না। সত্যি  ভালো লাগে তোকে। 

দেখ খুল নিয়ে এসেছি। আরে ইয়ার সিরিয়াসলি। 

অনি এবার বিষয়টা সিরিয়াসলি নিলো।

সাইফ তার স্কুল  বন্ধ।  খুব ভাব দু জনের। সাইফ যে তাকে পছন্দ  করে এটা এর আগের বেশ কয়েক বার। এমন নয় সাইফকে পছন্দ না অনির। অনিও পছন্দ করে বন্ধু হিসেবে। কিন্তু তাদের মধ্যে তো সারাক্ষণ টম জেরির মতো ঝগড়া লেগে থাকে। মারামারি কাটাকাটি হয়।তাহলে এখন কি সাইফ কে হ্যা বলাটা ঠিক হবে?


অনিকে চুপ থাকতে দেখে  সাইফ উঠে পরতে পরতে বলছে।

" ওকে ফাইন।  রাজি হলি না তো। আমি ক্লাসের অন্য  মেয়েদের  প্রপোজ করবো

চলবে ইনশাআল্লাহ

Loading spinner

Reply
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago

পর্ব-৭

" হ্যা রে তবে তো তোকে রে,।মাথা ফাটিয়ে মর্গে পাঠাবো। 

বলেই সাইফকে দৌড়াতে লাগলো,, খানিকটা দৌড়ে থেমে গেলো সাইফ। 

" ওই পাগলি এরম না করে প্রপোজটা এক্সেপ্ট করে নিলেই তো হয় রে। 

অনি সটান হয়ে দাঁড়িয়ে পরে।  কি বলবে এবার,  হ্যা বলে দিবে কি?
নাকি না বলবে।  অনি কনফিউজড,  তখন তার বন্ধু রা সকলে তাড়া দিল। 

" অনি হ্যা বলে দে, তোদের জুটি  না জাস্ট ওয়াও হবে। 

অনি মুখে ভেঙচি কাটলো,

" এক্সেপ্ট করবো এক শর্তে, 

" কি শর্ত বল বল,, 

" আমার সব কথা কিন্তু মেনে চলতে হবে । 

পিছন থেকে সকলে হেসে এক সাথে বলে উঠলো,

" সে তো এখন ও তোর সব কথাই শোনে রে। 
" হ্যা আমি ঝগড়া করি মারামারি করি তোর সাাথে এটা ঠিক।  কিন্তু কথা তো তুই  যা বলিস তাই হয়।

গাল ফুলালো অনি৷ 

"  তবুও প্রমিস করতে হবে।

" ওকে প্রমিস। 
এবার তো লাভইয়ো টু বল,

অনি ভাব নিয়ে বললো,

" যা যা লাভইয়ো টু। বলেই সাইফের হাত থেকে ফুলের তোড়া টা নিয়ে পিছন ঘুরতে এমন কাউকে দেখতে পেল  যা দেখে রীতিমতো হাত পা কাপছে তার।

কাঁপা গলায় আওড়ালো,
" তুমি,, এখানে,,,,,,

____________________

বাসায় এসে রুমে শুয়ে  আছে সারা। কিছু তে মানতে পারছে না ঐ ঘটনা। মনে হচ্ছে সব ভ্রম, সব মিথ্যা ছিল। 

এইতো লাহাম এসে বলছে, 
" ঐ সব নাটক ছিল।  আমি তোমার  আছি আমার বউ নেই  বাচ্চা  নেই।  আমি তো তোমাকে ভালোবাসি,,,

কিন্তু না এরকম তো হচ্ছে  না। লাহাম তো আসছে না।  হটাৎ চিতকার করে উঠলো সারা৷।  আদ্র রুমেই ছিল।  সাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে মাত্র । 

সারার এহেন চিত্কারে দিক পাশ না পেয়ে তার সামনে গেলো,

কি হয়েছে,,,
বলার সাথে সাথে আদ্রের উন্মুক্ত বুকে ঝাপিয়ে পরলো সারা। 

আদ্র না চাইতেও দু হাতে আঁকড়ে নিলো সারাকে। 

আদ্রের বুকে কান্নায় ভেঙে পরলো সারা
,,,

ইদানিং ঘনঘন খিদে পায় সারার। কিন্তু  বার বার নিচে যেয়ে খাবার আনতে লজ্জা  লাগে,,,,
সন্ধ্যায় বসে ছিল।  তখন কারিমা রুমে আসে। আদ্র বাসায় নেই।  
কারিমার হাতে কয়েকটা বৈয়ম, 

তাকে রুমে  আসতে দেখে দাঁড়িয়ে যায় সারা। ঐ দিনের পর থেকে তার জন্য  খানার রুমে পাঠাবো হয়। আর বার বার সিড়ি  বেয়ে উঠা নামা করা ও নিষেধ।  তাই ঘরের মধ্যে বেশি সময় থাকে।

কারিনা হাতের বৈয়ম গুলো রেখে বললো,

" এখানে শুঁখনো খবার আছে কয়েক রকমের। 
এ সময় অনেক কিছু  খেতে ইচ্ছে  করে। ঘনঘন  খিদে পায়, তুমি  এ বাড়িতে নতুন। আমাদের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক  তৈরি হওয়ার আগেই  তাতে ফাটল বাঁধিয়েছ তোমরা। সব কথা আমাদের সাথে বলতে সংকোচ হবে তোমার। বুঝি আমি।

তাই এগুলো  রেখে গেলাম,,, আর যখন যা প্রয়োজন হয়,  বাড়ির কাউকে বলবে।, অনি আছে, আম্মা আছে,  আমার সাথে না হয় কথা বলতে দ্বিধা তোমার। তাদের কে বলো। 
আর কিছু  খেতে ইচ্ছে  করলে সার্ভেন্টকে বলে দিয়। বা অনি কে বলবে।  

আর হ্যা।  কাজটা তোমরা একদম  ঠিক  করোনি। বিয়ে হয়েছে বলে যে অন্যায় মাফ হয়ে হেলো এমন নয়। যা করেছ তা পাপ, অন্যায় 

বলেই সুরসুর করে বেরিয়ে গেলো কারিমা। 

সারা তাকিয়ে আছে সে দিকে।
সত্যি  তো,  এ বাড়ির লোকদের সাথে ভালো সম্পর্ক  তৈরি  হওয়ার আগেই তো তা নষ্ট  হয়ে গেলো। আর এটাও তো সত্যি  সে পাপ করেছে। পাপি সে। তবুও এ বাড়ির লোকগুলো কতো সুন্দর  যত্ন করছে তার। 
কারিমা তাকে রাগ দেখায় তবুও কেমন খেয়াল রাখছে কখন কি খেতে 

 

চলবে.....

Loading spinner

Reply
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago

পব-৮

 

ভাইয়া তুমি।  

অনি কাপা  গলায় কথাটা বলছে। তার চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট । 

নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনি। 

আর্যের মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে না সে রেগে আছে কি ন। 
অনির কথার কোনো জবাব না দিয়ে বললো

" চল, 

অন্য সময় হলে অনি একশো চারটে প্রশ্ন করতো। কিন্তু আজ চোর ধরা পরার মতো করে আর্যের পিছন ছুটলো কোনো কথা ছাড়াই ।  

স্কুলের পাশেই একটা পার্কের বেঞ্চিতে বসে আছে দু জন।  সুনশান নিরবতা।। 

অনির ভিতরে ভয়টা তরতর করে বারছে৷  

নিরবতা ভেঙে আর্য বললো,
" আমি আসাতে কি তুই খুশি না?

অনি চোখ তোলে তাকালো আর্যের দিকে। 

কি জবাব দিবে বুঝতে পারছে না। 

আর্য উত্তরের অপেক্ষা করলো না। উঠে পা বাড়িয়ে বললো,

" আমি আসায় তুই খুশি নস।  ওকে চলে গেলাম।

আর্য কয়েক কদম জেতেই অনি দৌড়ে গিয়ে ঝাপটে ধরলো তাকে । 

" ভাইয়া,,,,
মেয়েটা ফুপিয়ে কাদছে । 
আর্য সময় নিয়ে বললো,

" কান্না থামা তো অনি।  তোর যেন কাঁদতে না হয় তাই তো এখনও এই শহরে পা পরে আমার।  তুই না থাকলে তো কবেই চলে যেতাম। তবুও তুই কাঁদছিস। 

অনি কান্না থামাতে চাইলো। কিন্তু আজ যেন বাঁধ ভেঙেছে তার চোখের। 

আর্য ফের বললো,
" আমি রাগ করিনি তো। কেন কাঁদছিস বলতো।

" সত্যি রাগ করোনি?
আমি প্রমিস করছি এমন আর হবে না। 

আর্য হাসলো।
" অহুম অনি এটা কিন্তু ঠিক না৷ 
আচ্ছা সত্যি  কি ভালোবাসিস তুই তাকে?

অনি ভাবান্তর হলো।
আর্য বুঝলো। ভালোবাসা মানেটা এখনও অনি বুঝেনা। তাই আর একটু সহজ করতে বললো,

" ভালোবাসা টাসা বাদ দে,  মন থেকে ফিল করিস তো? দেখ যদি তোর মনে হয় ছেলেটাকে তুই  আপন ভাবিস। তার সাথে কথা না হকে কষ্ট হবে। তাকে তোর রোজ মনে পরে।  কিংবা তোর সব ব্যাপারে আগে ওর কথাই মাথায় আসে।  তাহলে ধরে নে একটু একটু ভালোবাসিস।

আর তুই যদি অমন কিছু ফিল করিস তাহলে কি করে বলছিস আমার জন্য সব ছেড়ে দিবি? কি করে দূরে থাকবি?  কথা না বলে?

। এটা কি ঠিক হবে বলতো?

অনি ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে, আর্য কি বলছে বুঝতে পারছে না ঠিক। 

আর্য হাসলো,, 
" দেখ আমি কিন্তু  তোর ভালোবাসাকে অসমর্থন করছি না। বরং তোর ভালোবাসা যদি সত্যি  হয় তাহলে আমি নিজে তোর এ পথে সঙ্গী  হবো। এ পথে যতো বাধা আসবে আমি ডাল হয়ে তোদের পাশে থাকবো

অনি ভাইয়াকে জড়িয়ে  ধরলো।

অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে।

আর্য আইসক্রিম  নিয়ে অনির হাতে দিতে দিতে বললো

" যা ক্লাসে যা, নয়তো তোর পরিবারের কেউ আবার তোকে ভাইরে দেখলে হাজারটা প্রশ্ন করবে তোকে। আমার জন্য  না তোকে আবার কি শোনতে হয়। বলেই চলে গেলো আর্য

অনি দীর্ঘ শ্বাস ফেললো,

আর্য ভাইয়া যদি পরিবারের সাথে থাকতো তো কতোই না ভালো হতো। 

কতো গুলো বছর হয়ে গেলো ভাইয়া বাড়ি যায় না। 
ভাবতেই দীর্ঘ শ্বাস ফেললো অনি।  

_________________

সারা ভাবছে কি করবে।  এ ভাবে আদ্রের ঘারে বসে থাকা ঠিক  না।  এ বাড়ির লোক গুলো  তো কতো ভালো,  তাদের কেন ঠকাবে সে। তারা তো ভেবে নিয়েছে তার গর্ভে থাকা সন্তান এ বাড়ির বংশের।  কিন্তু তারা তো ভুল জানে। তার গর্ভে যে আছে। সে তো জারজ, এ বাড়ির কারো সাথে তো তার কোনো সম্পর্ক নেই।  

পাপ তো সে করেছে এ বাড়ির কেউ তো করেনি। তাহলে তাদের কেন ঠকাবে। 
না না তাদের কে এ ভাবে ঠকাতে পারবে না সে। 

সারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে চলে যাবে,  তার পাপের শাস্তি সে একাই ভোগ করবে। 

______

গাড়িতে বসে বাড়ি ফিরতে ফিরতে কাকে যেন কল করলো আদ্র, 

কল রিসিভ  করতেই,  বললো,

" যে ভাবে বলেছিলাম সব ঠিক আছে তো?

" জ্বী স্যার,  আমি চোখে চোখে রাখছি তাকে।  

" ঠিক আছে, সময় সতো সুযোগ কাজে লাগাবি ওকে বায়। আমি বাড়ি যাচ্ছি, আমায় কল করবে না কিন্তু রাতে,,,,

" ওকে।  

কল কেটে দিতেই বাঁকা হাসলো আদ্র, আমার কলিজায় হাত দেওয়ার মজা এবার বুঝবে।  । 

__________

কারিমা বাদামের হালুয়া বানিয়ে একজন সার্ভেন্টকে ডাকলো,

সে লক্ষ  করে দেখেছে সারা মিষ্টি জাতীয় খাবারটা ইদানীং বেশি পছন্দ  করে। 
কারিমা তাই নিজ হাতে বাদামের হালুয়া বানিয়েছে। মেয়েটার জন্য  মায়া হয় তার। ছোট থেকে মায়ের আদর পায়নি। ইচ্ছে করে মায়ের মতো করে আদর করতে।  কিন্তু  কোনো এক অদৃশ্য বাধা তাকে আটকে দেয়। না মেয়েটার সামনে দুর্বল হলে চলবে না। তাই সার্ভেন্টকে দিয়েই খাবারটা পাঠিয়ে দিল।
মিনিট খানেকের মধ্যে আওয়াজ এলো।

" ম্যাডাম ভাবিজি তো রুমে নাই। 

এক মুহুর্তের জন্য  থমকে গেলো কারিমা।  কোথায় যাবে। পরমুহূর্তেই মনে হলো,আছে হয়তো বাড়িতেই কোনো জায়গায়।তাই ভালো করে দেখলো, বাগান থেকে শুরু করে ছাঁদ।  কোনো জায়গা বাদ রাখেনি। কিন্তু  না।  কোথাও নেই সারা। 
কারিমার মাথায় যেন বাজ ভেঙে পরলো। কপালে চিন্তার ছাপ। কোথায় যাবে মেয়েটা এ অবস্থায়।  

তড়িঘড়ি করে নিচে নামতেই তার সামনে এসে দাড়ালো আদ্র। আজ একটু আগে আহেই বাড়ি ফিরেছে মনে হয়। 
আরও একটু ঘাবড়ে গেলো কারিমা।  আদ্র জানতে পারলে কি করবে কে জানে। 

কারিমা ঘামছে এসি রুমেও। তার মাঝেই সার্ভেন্ট এসে বলতে লাগলো,

" সারা বাড়ি খুঁজছি ভাবি কোথাও নাই। 

কারিমা আোখ রাঙালো,
ইশারাতে বলতে বারণ করছিলো  আদ্রের সামনে।  কিন্তু  সব তো বলে ফেলেছে। 
আদ্র মায়ের দিকে তাকিয়ে জিগ্যেস  করলো।

" কি হয়েছে? 

কারিমা কোনো সংকোচ না রেখে বললো," সারাকে পাওয়া যাচ্ছে  না। 
তুই আবার ওর সাথে ঝগড়া  করিসনি তো?

আদ্র মায়ের দিকে একপলক তাকালো ও না। ছুটে গেলো গাড়ির কাছে। পাগলের মতো ড্রাইভ করছে সে। কিছু সময়ের মধ্যেই পৌঁছে গেলো সারাদের বাড়িতে। সারার আব্বু  বাড়িতেই ছিল। 

আদ্রকে দেখে চমকালেন তিনি।

" আরে তুমি।  ভিতরে আসো।

" সারা এসেছে এ বাড়িতে?

" সারা? কই না তো। কেন কি হয়েছে। 

আদ্র উত্তর দিলো না। 
বেরিয়ে গেলো। 

গাড়িতে বসে চুল খামচে ধরেছে সে। কোথায় যাবে তাহলে?

 

 

চলবে ইনশাআল্লাহ.....

Loading spinner

Reply
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago
সমাপ্তি পর্ব
 
ব্যর্থ বালিকা

সব দিকটা খুজেও যখন  সারা কে পাওয়া যাচ্ছে না।আদ্র তখন দিশেহারা হয়ে গাড়িতে বসে চুল খামচে ধরেছে। 
কোথায় গেছে কোথায় যেতে পারে ভেবেই পাগল প্রায় সে।। 

হঠাৎ চোখ পরে ফুটপাতে হাটতে থাকা একটা লোকের দিকে। 
মুখ দেখার উপায় নেই।  পিছন ঘুরে হাটছে সে।

আদ্রের চোখ জোড়া থেমে যেতেই গাড়ি থেকে নেমে
দৌড়ে  গেলো। 

সারা, আনমনা হয়ে ফুটপাতের রাস্তা ধরে হেটে চলছো। আদ্র, পিছন থেকে এক পলক দেখেই বুঝে নিল এটা সারা।

সারার সামনে এসে দাড়িয়ে সিউর হলো হ্যা সারাই এটা।
ইচ্ছে  করছে থাসিয়ে দুটো চর বসাতে সারার গালে। রাগ যেন কন্টোল করতে পারছে না। 

কিছু  বলতে গিয়েও থেমে গেলো।

" এখন মুখ খোলা  মানে সারাকে কথায় চিবিয়ে গিলা। কিছু না বলে সারার হাত ধরে টেনে গাড়িতে বসিয়ে ড্রাইভ করে বাড়ি আসলো।

সারা কেঁদেছে পুরো পথ৷ সাহস করে কিছু  বলেনি আর। 

বাড়িতে ঢুকতেই কারিমা পথ আটকে দাড়ালো 

" কোথায় গিয়েছিল?কোথা থেকে নিয়ে আসলি।

" ওদের বাড়িতে। 
বলে আর একদণ্ড না দাঁড়িয়ে রুমে নিয়ে গেলো সারাকে। 
দরজা  বন্ধ  করে শান্ত  কন্ঠে বললো,
" বাড়ি থেকে বের হয়েছিলে কেন?

গলার সুর শান্ত  কিন্তু  একেকটা ধ্বনি শোনে মনে হচ্ছে  উত্তর একটি এদিক সেদিক হয়ে আজ আর রক্ষা নেই  সারার। 

দ্বিতীয় বারের মতো বললো আদ্র,

" কেন গিয়েছিলে?

সারা চিতকার করলো,

" কি করতাম আমি? এখানে থেকে কি করতাম বলেন।
করুনা করতেন আমায় এখানে?

আমি ঠকিয়ে যেতাম আপনাদের?  আমি দোষী ,  আমি পাপী আমি মরে যাব। 

আর কিছু বলার আগেই আদ্র সারার গালে সজোরে চর বসালো।

" আর একটা কথা বলবে তো খুন করে ফেলবো। 

আমি দয়া করছি না তোমায়, করুনা করছি না। 

" তাহলে কি করছেন?

" সে তুমি বুঝলে তো হতোই।  

" হ্যা আমি বুঝি না বুঝতেও চাইনা। আমি অবুঝ।  আমাকে ছেড়ে দিন আমার মতো

সারা সত্যি অবুঝের মতো করছে। 
আদ্র আর সামলাতে না পেরে বসিয়ে দিল সারাকে। তার হাত ধরে বললো,

" আমি তোমাকে পছন্দ করেই বিয়ে করেছিলাম।  কিন্তু তুমি যখন বললে তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে তখন ভেবেছিলাম তোমাকে তোমার মতো ছেড়ে দেই। কিন্তু পরে যখন বুঝলাম সে তোমাকে ঠকিয়েছে তখন আর তোমাকে হারানোর  কোনো সুযোগ দিচ্ছি না।
সব পুরুষ তো এক না।একজন ঠকিয়ে গেলো বলে তুমি  আমায় ভরসা করবে মা বলো?

সারা ভাবান্তর হলো।
পেটের দিকে তাকিয়ে বললো,
" আর ও?

" জন্ম দিলেই বাবা হওয়া যায় না।ও আমার সন্তান,  
সারা কান্নায় ভেঙে পরলো।
সত্যি  এতো ভালো,  এতো সুখ তার জীবনে আগে কখনো অনুভব  হয়নি। 

আজ থেকে সব ভালো হবে। 

শক্ত  করে আদ্রকে জরুয়ে ধরে আছে সারা। অমন সময় আদ্রকের ফোনে কল আসলো।

নাম্বার টা দেখে ভ্রু করচকালো আদ্র,
সারার থেকে খানিকটা দূরে গিয়ে কল রিসিভ করতেই ভেসে আসলো, স্যার লাহাম নামের ঐ ছেলেটা এখন জেলে।
ধর্ষন মামলায় হাতে নাতে প্রমান সহ ধরেছে পুলিশ।। 

কি স্যার কাজ মন মতো হয়েছে তো?

 আদ্র দাঁত কিরকির করে বললো,
" তাহ তো হয়েছে, কিন্তু কল করতে বারণ করেছিলাম তো্।  জীবনে প্রথম বউকে জড়িয়ে ধরেছিলাম আর এখনই এতো বড় সিখবর দিতে হলো।
বলেই কল কেটে দিয়ে সারার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো,

" পাপী তার শাস্তি পাবে আর তুমি আমার বুকে রবে।

 সমাপ্তি।। 

( আর্য কেন বাড়ি আসে না, আর অনির প্রেমের কি হবে এসব নিয়ে অনেক ভাবনা থাকতে পারে।আমও দুঃখিত এসব টুইস্ট গুলো ভাঙতে পারিনি আমার সিচুয়েশন খুব বাজে, তাই তারাতাড়ি গল্প টা শেষ  করলাম।)
Loading spinner

Reply
Page 2 / 2
Share:

Loading spinner