পর্ব-৬
এক পা এগিয়ে দিতেই পিছন থেকে খপ করে সারার হাত ধরে নিলো আদ্র,
আচমকা টানে টাল সামলাতে না পেরে আদ্রের বুকের উপর পরতেই আদ্র তাকে সোজা করে দাঁড়িয়ে সজোরে থাপ্পড় মা'রল গালে। তাদের পিছনে এতোক্ষণে এসে গ্রামবাসী সকলে উপস্থিত হয়েছে৷
মহিলারা এগিয়ে এসে ধরলো সারাকে।
" এ কি করতে যাচ্ছিলে তুমি? আর একটু হলেই তো নিচে পরে যেতে।
সারা কাঁদছে কোনো উত্তর নেই।
কাঁদতে কাঁদতে বলল,
" বেঁচে আর কি হবে? কার পরিচয়ে বাঁচব। যাকে এতোটা বিশ্বাস করেছিলাম।
পাশ থেকে মহিলা বলল,
" তুমি নিজের পরিচয়ে বাচবে।।
সারা নাক টেনে কান্না থামাতে চেষ্টা করে বললো,
" আর পেটের বাচ্চা। সে কার পরিচয়ে বাঁচবে,,,,,,
উপস্থিত সকলের মাঝে টনক পরলো এবার।।
সকলের মুখে হাত।
তবুও সকলে বুঝচ্ছে। ওর মতো প্রতারকের জন্য কেন নিজের জীবন নষ্ট করবে,,,
আদ্র ধৈর্য্য হারা হলো,
সারার হাত ধরে টানতে টানতে গাড়িতে এনে বসিয়ে ড্রাইভিং শুরু করলো,,,
ছটফট করছে সারা।
আমাকে কেন বাঁচাতে গেলেন,
আমি বাঁচতে চাই না,
সারার কথায় হঠাৎ ব্রেক কষলো আদ্র,
একটু ঝুঁকে এসে বললো,
" কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করবি একদম জানে মে*রে ফেলবো,
ম*রে যাবি যা, কিন্তু বাচ্চা রেখে তার পর মরিস।
আদ্রের এহেন কথায় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে সারা। কিছু ক্ষন ডেবডেবে করে তাকিয়ে থেকে বলে
" এই আমায় তুই তোকারি করছেন কেন আপনি?
টনক নড়লো আদ্রের। নরেচরে বসে বললো,
" ইচ্ছে হয়েছে তাই । বার বার মরার কথা বলতে লজ্জা লাগে না।
" তো কি করবো। এতোদিন তো আশা ছিল, আমি যে পাপি, এ পাপিষ্ঠ জীবন নিয়ে কি ভাবে থাকবো মুখ দেখাবো।
বাচ্চার কি হবে।
আদ্র শান্ত হলো,
" আগেও বলেছি এখনও বলছি বিয়ে যখন করেছি বাচ্চাকে পরিচয় দিতে অসুবিধে আমার হবে না।
সুতরাং এসব নিয়ে চিন্তা করে শরীর খারাপ করার প্রয়োজন দেখছিনা।।
বলেই গাড়ি চালাতে শুরু করে,
" এই এই থামুন,,,,,
আদ্র থামলো না, না থামিয়েই বললো
" কেন?
" থানায় যাব। মামলা দিব ওর নামে,,,,
" প্রয়োজন নেই।
" আছে , সে আমার জীবন টা নষ্ট করলে, এমন ভাবে ঠকালো আর আমি এমনি ছেড়ে দিব?
আদ্র ভাবলো, কথা ঠিক,
" তুমি চাও সে তার পাপের ফল ভোগ করুক?
" হুম চাই,।
" ব্যাস, বাকিটা আমি দেখে নিব।বাড়ি চলো,
" আপনি কি ভাবে দেখে নিবেন?
আদ্র গরম চোখে তাকালো,
' চোখ দিয়ে দেখে নিব।
ভরসা করো তো আমায়? চুপচাপ থাকো,
আমার বাচ্চার ক্ষতি হবে এতে হাইপার হলে।
আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছে আদ্র,
সারার হৃদয়ে একটা শীতল অনুভূতি ছেয়ে গেলো। সত্যি অদভুত মানুষটা।
_____________
স্কুল ব্যাগ দু কাঁদে নিয়ে হেলেদুলে হাঁটতে হাটতে ক্লাসে প্রবেশ করলো অনি। হাতে তার একটা চকলেট,,,
সেটাই খাচ্ছিলো এতোক্ষণ ধরে,,,,,
ক্লাসে পা রাখতে যাবে তক্ষুনি তার সামনে হাঁটু গেড়ে এল গুচ্ছ তাজা গোলাপ হাতে বসে পরলো সাইম,,,
দু জনই এসএসসি পরীক্ষা দিবে এবার।
সাইফ কে এ ভাবে বসতে দেখে হাতে থাকা চকলেটে আটোকটা বাইট বসিয়ে দিল অনি,
মুখের ভিতর চকলের চিবোতে চিবোতে অনি বললো,
" কি রে এমন গরুর মতো বয়ে আছিস কেন?
পিছনে থাকা সকলে মুখ টিপে হাসলে,
সাইফ গেছে প্রপোজ করতে আর সে কিমা আগেই গরু বলে ফেললো,
সাইফ ডোগ গিললো,
" না মানে,,,,,
" কি না মানে না মানে করছিস,,
পিছন থেকে সাইফের বন্ধুরা ইশারা করছে তারাতাড়ি বলে দিতে। সাইফ চোখ বন্ধ করে নিলো
চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে বলতে লাগলো,
" তোকে একটা কথা বলবো অনি,,,, হ্যা বলবি কিন্তু । আর ঢ়দি হ্যা না বলিস তবুও মারবি না আমাকে। তোর হাতের মার খেতে খেতে আমি আধবুড়া হয়ে যাচ্ছি এমনি।
আমি তোকে ভালোবাসি, আই লাভ ইয়ো। আমি জানি তুই ও আমাকে ভালোবাসিস, সুতরাং হ্যা বলে দে।
অনি ডেবডেব করে তাকিয়ে থেকে ফিক করে হেসে ফেলে।
" আমি কি সাধে তোকে গরু বলি? আমার বার্থডেতে আমার সাথে মজা করছিস এ ভাবে?। আরে গরু এমব ভাবে কেউ মজা নেয়। আমি তো সত্যি
" অনি, আমি মজা করছি না। সত্যি ভালো লাগে তোকে।
দেখ খুল নিয়ে এসেছি। আরে ইয়ার সিরিয়াসলি।
অনি এবার বিষয়টা সিরিয়াসলি নিলো।
সাইফ তার স্কুল বন্ধ। খুব ভাব দু জনের। সাইফ যে তাকে পছন্দ করে এটা এর আগের বেশ কয়েক বার। এমন নয় সাইফকে পছন্দ না অনির। অনিও পছন্দ করে বন্ধু হিসেবে। কিন্তু তাদের মধ্যে তো সারাক্ষণ টম জেরির মতো ঝগড়া লেগে থাকে। মারামারি কাটাকাটি হয়।তাহলে এখন কি সাইফ কে হ্যা বলাটা ঠিক হবে?
।
অনিকে চুপ থাকতে দেখে সাইফ উঠে পরতে পরতে বলছে।
" ওকে ফাইন। রাজি হলি না তো। আমি ক্লাসের অন্য মেয়েদের প্রপোজ করবো
চলবে ইনশাআল্লাহ