গল্প: অযাচিত প্রণয়...
 
Notifications
Clear all

গল্প: অযাচিত প্রণয় (Writer: Sana Sheikh)

Page 1 / 3

Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago

কানাডা থেকে খালাতো বোনের বিয়ে খেতে এসে নিজেরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে শুনে থ হয়ে গেছে ইমরান । মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না তবে মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছে।

এয়ারপোর্ট থেকে সোজা ছোট খালার বাড়িতে এসেছে। আর আসার দশ মিনিট পরেই শুনছে বর পালিয়ে গেছে গার্লফ্রেন্ডের সাথে। বর ছাড়া বর যাত্রী কি করতে আসবে ? তারা কল করে তুলির বাবার কাছে মাফ চেয়েছেন । তুলির বাবা এখন কি করবেন ? তার মেয়ের কি হবে ? টেনশনে পেশার লো হয়ে নিচে পড়ে গেছেন। মাথায় পানি ঢেলে ওনাকে কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে । কিন্তু একটা কথাও বলছেন না তিনি । রাগে থরথর করে কাঁপছেন শুধু । আদরের মেয়ের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবেন তিনি ? কি জবাব দেবেন মেয়েকে ? ওই ছেলেকে সামনে পেলে জ*বাই করবেন তামিম ইকবাল। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পালিয়েই যখন যাবি বিয়ের আগের দিন গেলি না কেনো ? বিয়ের দিন কেনো গেলি ? গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে বিয়েতে রাজী কেনো হয়েছিলি ? বিয়ের আগে বললি না কেনো ? 
তুলির মা মিসেস ইয়ানা  স্তব্ধ হয়ে রয়েছেন । 
তুলি এখনো এই সবের কিছুই জানে না , বাড়ির ভেতর রয়েছে এখনো , ওকে সাঁজানো হচ্ছে । বিয়ে বাড়ি পুরো শোকসভায় পরিণত হয়েছে । হই হই , রৈ রৈ , ডিজে গান সব থেমে গেছে । 
এমন এক মুহূর্তে ইমরানের বাবা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন ,

_ বিয়ে আজকে হবেই ।

তামিম ইকবাল চোখ তুলে তার দিকে তাকান । 
তারপর আর কি ? ইমরানকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে । 

বেচারা এই কথা শোনার পর থেকে সাপের মতো ফোস ফোস করছে । কোন দুঃখে বিয়ে খেতে এসেছিল ? 
চ্যারার (কেঁচো) মত চিকন মেয়েকে বিয়ে করবে তাও ইমরান মাহমুদুল ? "সারহীন চিকন সাদা মুলা" বলে ডাকতো সবাই ছোট বেলায়  তুলিকে । কেউ কেউ "ওয়েট লেস তুলা" বলে ডাকতো । আবার কেউ কেউ কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকতো ।  এতো চিকন ছিল ছোট বেলায়। তবে দেখতে পুতুলের মতো লাগতো। সারা দিন ফ্যার ফ্যার করে দৌড়ে বেড়াতো । দুই পাশের ঝুঁটি দুটো উচুঁ নীচু হতো কদম দেওয়ার সাথে সাথে । আর কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকার একটা কারণ আছে তা হলো তুলি ছোট বেলায় মাটি দিয়ে বেশি খেলতো। মাটিতে খেলতে না দিলে গলা ছেড়ে চিৎ*কার করে কান্না করতো। বলা যায় মাটির পোকা ছিল তুলি। এই কারণেই এমন অদ্ভুত অদ্ভুত নামে ডাকতো ওর কাজিনরা । সাথে বড়রাও ভালোবেসে ডাকতো। তুলিকে সবাই পছন্দ করলেও ইমরান করতো না ছোট থেকেই । মাটিতে ল্যাটা দিয়ে বসে খেলা ওর সবচেয়ে অপছন্দ । নিজে তো খেলবেই না অন্য কাউকে খেলতেও দেবে না । গ্রামে নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর তুলিকে দেখে একশো হাত দূরে থাকতো। কারণ তুলি ইমরানকে দেখেই দৌড়ে যেতো ওর কোলে চড়ার জন্য । আর গিয়েই নিজের গায়ের ধুলো বালি মাটি ইমরানের গায়ে লাগিয়ে দিতো। তখন ইমরান না পারতো তুলিকে মা*রতে আর না পারতো সহ্য করতে। বেচারা সাপের মতো ফোস ফোস করে নিজেকে শান্ত করতো। 

আর আজকে কিনা সেই তুলিকে বিয়ে করতে হবে ? যাকে ও দুই চোখে দেখতে পারে না । ওর কথা স্মরণ হলে রাগে মাথা ফেটে যায় । ছোট বেলায় নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর কি জ্বালান জ্বালাতো ওকে । তখন থেকেই দুচোখে দেখতে পারে না । 

বিয়ের হৈ হৈ রৈ রৈ ডিজে গান আবার শুরু হয় । 
সবাই খুশি হলেও ইমরান কোনো ভাবেই খুশি হতে পারছে না । কিভাবে খুশি হবে ? ওর ত্রিশ বছরের সিঙ্গেল জীবনের ইতি ঘটতে চলেছে । তাও ওর অপছন্দের মেয়ের সাথে । 
ডাক্তারি পড়া শেষ করে কানাডা তেই ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ওই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। তার পর পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল গত তিন বছর আগে। তখন দুবার দেখেছিল তুলিকে । তার পর আর দেখা হয়নি । 

ইমরানকে একটা রুমে রেস্ট নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে । রুমে এসে মাকে কাছে ডাকে ।  মিসেস ইরানী কাছে আসতেই ইমরান রেগে রেগে বলে ,

_ এসব কি হচ্ছে আম্মু ? আসলাম বিয়ে খেতে , আর এখন নিজেরই বিয়ে!

_ বয়স তো কম হয়নি , বিয়ে তো করতেই হবে একদিন না একদিন । তাহলে আজকে করলে সমস্যা কোথায় ? 

_ তুলিকে আমি বিয়ে করবো না ।

_ কেনো ? কি সমস্যা ? তুলি স্মার্ট সুন্দরী শিক্ষিত মেয়ে। তোর পাশে ওকেই মানাবে । 

_ তুমি বুঝতে পারছো না কিছু ?

_ নাহ্ আর বুঝতে চাই ও না । বিয়ে করতে বললেই তোর না না শুধু । বিয়ের কথা উঠলেই নানান বাহানা । 

_ বিয়ে করবো কিন্তু ওকে না । অন্য মেয়ে বিয়ে করবো। 

_ এ দেখি ভূতের মুখে রাম রাম । মুডি বয় ইমরান মাহমুদুল বিয়ে করবে ? তাও নিজের মুখে বলছে ? স্বপ্ন দেখছি না তো আমি ? 

_ মজা করছো আমার সাথে ? 

_ একদমই না ।

_ আমি তুলিকে বিয়ে করবো না এটাই শেষ কথা । 

_ আমি তুলি কেই আমার বাড়ির বউ বানাবো । 

_ ওকেই কেনো বানাতে হবে ?

_ ওকে আমার পছন্দ হয়েছে ওকেই বউ বানাবো। ওকে আমার বাড়ির বউ না বানালে আমি ওই বাড়িতে আর ফিরবো না ।

 কপাল ভ্রু কুঁচকে কিছু সময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে ইমরান । তারপর বলে ,

_ ওর বাড়ির বউ হওয়ার সাথে তোমার বাড়ি ফেরার কি সম্পর্ক ? 

_ তুলিকে আমার পছন্দ হয়েছে, ওকে বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছি আমি । ওকেই বউ বানাতে হবে এটাই আমার শেষ কথা । 

_ আরেক ছেলে আছে তো তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। ওদের দুজনের স্বভাব চরিত্র এক । 

_ গিয়ে রাজি করা তোর ভাইকে । 

_ করাচ্ছি ।

_ হুম যা ।

ইমরান পকেট থেকে ফোন বের করে ওর মায়ের কাছ থেকে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে ওয়াইফাই কানেক্ট করে । তার পর ছোট ভাই কামরান মাহমুদুল এর ফোনে ম্যাসেজ পাঠায় । 
মিসেস ইরানী কে ডাক দেওয়ায় সে রুম থেকে বেরিয়ে চলে যায় । ছেলের বিয়ে তার অনেক কাজ । 

একটু পরেই কামরান চলে আসে বড় ভাইয়ের কাছে । 
ইমরান গম্ভীর থমথমে হয়ে পায়চারি করছে । 
এতো রাস্তা জার্নি করে এই লোক ক্লান্ত হয়নি নাকি ? চিৎ পটাং হয়ে বিশ্রাম না নিয়ে এভাবে পায়চারি করছে কেনো ? একটু পরেই তো বিয়ে , এখন বিশ্রাম না নিলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাবে না তো আর । 

_ হ্যাঁ ভাইয়া বলো কি বলবে !
 
_ আমি এই বিয়ে করবো না ।

_ কেন?

_ করবো না মানে করবো না । এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না । 

কামরান বির বির করে বলে ,

_ খ্যাক খ্যাক করার স্বভাব যায়নি এখনো । 

তারপর বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ বিয়ে করবে না তো আমি কি করবো ? 

_ তুই এই বিয়ে ক 

মাঝ খানে থামিয়ে দেয় কামরান । 

_ জীবনেও না ভাই , আমার গার্লফ্রেন্ড আছে ।

_ তো কি হয়েছে ?

_ ওকে আমি অনেক ভালোবাসি । ওকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করলে বাসর করার আগেই আমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে । তাছাড়া তুলার বস্তা কে আগে আমি বড় বোনের নজরে দেখতাম আর এখন  ভাবী হিসেবে মেনে নিয়েছি। বড় বোন আর ভাবী মায়ের সমান । আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ এই কথা আর জীবনেও উচ্চারণ করবে না ভাইয়া । আল্লাহ তায়ালা পাপ দেবে । 

_ সর আমার চোখের সামনে থেকে । 

_ আমি এসেছি নাকি ? তুমিই তো ডেকেছো। কি সুন্দর গার্লফ্রেন্ডের সাথে প্রেমালাপ করছিলাম । 

_ তোর মধ্যে লজ্জা সরম বলতে কিছু কি আছে ?

_ নাহ্ , একদম নেই । 

ইমরান তেড়ে যায় কামরানের দিকে । কামরান দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় । 
ভদ্র সভ্য ইমরান পারছে না ছোট ভাইকে একটা গালী দিতে । ওর আপন ভাই এমন হয়ে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে । কেমন লাগাম ছাড়া কথা বলে বড় ভাইয়ের সামনে । লাজ লজ্জা কিচ্ছু নেই । বাড়িতে থাকলে একদম সোজা করে রাখতো । 
পুনরায় পায়চারি করতে শুরু করে । কিভাবে বিয়ে বন্ধ করা যায় । ছোট ভাইয়ের মত বাঁদর মেয়েকে কিছুতেই বিয়ে করবে না ইমরান । এই মেয়েকে কেনো শুধু ! কোনো মেয়ে কেই বিয়ে করতে চায় না ইমরান । বিয়ে মানেই ঝামেলা , আর ঝামেলা মানে প্যারা । আর প্যারা থাকলে মনে শান্তি থাকে না । আর মনে শান্তি না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না । ঝামেলা প্যারা আর অশান্তি নিজের জীবনে চায় না ইমরান । একা একাই খুব সুখে শান্তিতে আছে ও । ওর একার জীবনে ব্যাঘাত ঘটতে দেবে না ইমরান । কিন্তু কি করবে ? ছোট ভাই তো বিয়ে করবে না বললো । 

______________________

বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় । তুলি রোবটের মতো বসে রয়েছে । পাশেই বসে রয়েছে আরেক রোবট । 
তুলি ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ইমরানের মুখের দিকে তাকায় । ইমরান গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । কি ভাবছে মনে মনে কে জানে । 
ইমরানের ওই চাহনি দেখে মাথা ঘুরে ওঠে তুলির ।  এই রোবটের সাথে কিভাবে থাকবে ? এই রোবটের আদো কোনো অনুভূতি আছে কি না সন্দেহ আছে । 
দুলতে দুলতে স্টেজের উপরেই কাত হয়ে শুয়ে পড়ে । 
টেনশনে মাথা ঘুরছে ভন ভন । চোখে দেখছে সর্ষে ফুল। 
দুনিয়ায় ছেলের অভাব পড়েছিল ? বিয়ে টা নাহয় আরো দুই চার দশ বছর পর করতো কোনো সমস্যা নেই তো তুলির । 

চলবে..............

 

Loading spinner

Reply
14 Replies
Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago
Part:02
 
                
কনে বিদায় হয়। যাওয়ার সময় তুলির সে কি কান্না। সে কিছুতেই যাবে না। মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে, বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে , ছোট ভাইকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে ওকে যেন না পাঠানো হয়। কিন্তু বিয়ে যখন হয়েছে তখন শশুর বাড়িতে তো যেতেই হবে , এটাই নিয়ম। 

পুরোটা সময় নিশ্চুপ থেকেছে ইমরান। বেচারা লং জার্নি করে এসেছে বাংলাদেশে। ভীষণ ক্লান্ত হয়ে আছে, বিশ্রাম প্রয়োজন । কিন্তু কিসের বিশ্রাম ? কিসের কি ? আসতে না আসতেই একটা বউ জুটিয়ে দিয়েছে বাবা মা চৌদ্দ গুষ্টি মিলে। 

বাড়িতে ফিরে কোনো কথা না বলে নিজের সুটকেস টা নিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে আসে ইমরান । 
বউ আর বাসর গোল্লায় যাক। সুটকেস থেকে টাওয়েল ট্রাউজার আর টিশার্ট বের করে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। ক্লান্ত থাকলেও বেশ সময় নিয়ে শাওয়ার নেয়। 
ড্রেস চেঞ্জ করে রুমে আসে, তারপর রুম অন্ধকার করে বেডে শুয়ে পড়ে। বাকি চিন্তা ভাবনা আগামী কাল করা যাবে এখন ঘুমোনো যাক। 
,
,
তুলি সোফায় বসে আছে। নড়ছেও না চরছেও না। বেচারির মুখের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো এখনো বুঝতে পারছে না। 

শিহাব কে সামনে পেলে কাঁচা চিবিয়ে খাবে তুলি। 
 বিয়ে ঠিক হওয়ার আগে দুজন যখন দেখা করেছিল তখন তুলি বার বার জিজ্ঞেস করেছিল বিয়ে তে কোনো সমস্যা বা অমত আছে কি না ! শিহাব বার বার বলেছিল কোনো সমস্যা নেই , অমত ও নেই। 
ব্যাটা এক নাম্বারের লু*চ্চা বদ*মায়েশ শ*য়*তা*ন । 
বিয়ের আগে খুব তো দাঁত কপাটি বের করে বলেছিল  প্রেমও করেনি কোনো দিন। আর আজকে বিয়ের দিন গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পালিয়ে গেলো। 
একমাত্র ওই শ*য়*তা*ন শিহাবের জন্য ওর বিয়ে ইমরানের সাথে হয়েছে। সামনে পেলে টুকরো টুকরো করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেবে। 

মিসেস ইরানী এক গ্লাস ওরেঞ্জ জুস নিয়ে আসেন তুলির জন্য। তুলি খেতে না চাইলেও জোর করে খাইয়ে দেয়। 

_ রুমে যা লেহেঙ্গা চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে হালকা ড্রেস পরে নিস। 

_ আচ্ছা । 

বলেই তুলি সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ভঙ্গুর হয়ে এলোমেলো পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করে। 
মিসেস ইরানী দেখেন তুলির সুটকেস টা নিচেই রয়ে গেছে। তিনি সুটকেস টা হাতে নিয়ে তুলির পেছন পেছন যান। 
তুলিকে গেস্ট রুমে প্রবেশ করতে দেখে ডেকে ওঠেন।

_ তুলি ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস ?

_ রুমে ।

_ সেটা তো দেখতে পাচ্ছি , কিন্তু ওই রুমে কেনো ?

_ তাহলে কোন রুমে যাবো ?

_ ইমরানের রুমে ।

_ জীবনেও না খালামণি । 

_ কেনো ? এখন তোরা দুজন স্বামী স্ত্রী । দুজন এক রুমেই থাকবি আজ থেকে। তাড়াতাড়ি এই রুমে আয়। 

_ না আমি ওই রুমে যাবো না। তোমার ছেলে দেখলেই খ্যাক খ্যাক করে উঠবে আগের মতোই। 

_ কিচ্ছু বলবে না এখন। এখন কি তোদের সম্পর্ক আগের মত নাকি ? 

তুলি গেস্ট রুমে ঢুকে যায়। ও জীবনেও ইমরানের রুমে যাবে না। ক্লাস থ্রীতে থাকতে একবার ওর রুমে ঢুকেছিল। ভুল করে একটা সো পিস ভেঙে ফেলেছিল , সেজন্য কি জোড়ে চড় মে*রে*ছিল ওর গালে ভলেনি তুলি ।  তার পর মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আর জীবনেও ওই নাক উচু , অহংকারী , গম্ভীর বদ মেজাজী ইমরানের রুমে আর সামনে কোনো দিন যাবে না।  রাইটার সানা শেখ। তারপর থেকে তুলিও ইমরানকে পছন্দ করে না। ওর সামনেও যায় না সহজে। অতি প্রয়োজন হলে তখনই যেতো। 

 মিসেস ইরানী গেস্ট রুমে প্রবেশ করেন। 

_ তুলি চল এখান থেকে। 

_ এখানেই ঠিক আছি আমি। 

_ তুই ঠিক থাকলেও এভাবে কোনো দিন তোদের দুজনের সম্পর্ক ঠিক হবে না। নিঃসন্দেহে তুই একজন ভালো মেয়ে। আমার ছেলে ও ভালো একজন ছেলে। ছোট বেলায় কি হয়েছে, না হয়েছে সেসব নিয়ে এখনো রেষারেষি করবি দুজন ? এখন তোরা দুজন স্বামী স্ত্রী। হালাল সম্পর্ক তোদের। তোরা এখন একে অপরের পরিপূরক। দুজনেরই চেষ্টা করতে হবে সম্পর্ক  স্বাভাবিক করার। এভাবে দূরে দূরে থাকলে তো হবে না মা । বোঝার চেষ্টা কর । 

তুলি কিছু না বলে চুপ করে রইলো। ভালো লাগছে না, বেশি কিছু ভাবতেও ইচ্ছে করছে না। নিজে থেকেই গেস্ট রুম থেকে বেরিয়ে ইমরানের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। সুটকেস টা হাতে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। 
পুরো রুম অন্ধকারে নিমজ্জিত। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। 
বুক ধড়ফড় করছে তুলির। ইমরান ওকে এখানে দেখে কেমন রিয়েক্ট করবে ? কিছু বলবে কি ? যদি রাগারাগি করে ? যা করবে , করবে সেটা পড়ে দেখা যাবে। 

অন্ধকারে খুঁজে খুঁজে রুমের লাইট অন করে। সাথে সাথেই পুরো রুম সাদা আলোয় আলোকিত হয়ে যায়। 
বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে উপুর হয়ে শুয়ে আছে ইমরান। ইমরানের সাথে একই রুমে থাকতে হবে ভাবতেই হার্ট বিট বেড়ে যায়। পুরো শরীর জুড়ে শিহরণ খেলে যায়। মৃদু কাঁপতে থাকে পুরো শরীর। সুটকেস খুলে ভেতর থেকে জামা পায়জামা আর ওড়না নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 
লেহেঙ্গা চেঞ্জ করে নেয়। মেকআপ রিমুভ করে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তারপর লেহেঙ্গা হাতে নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। লেহেঙ্গা সোফার উপরে রেখে হাত মুখ মুছে নেয়। ড্রিম লাইট অন করে বড় লাইট অফ করে দেয়। 

রুমের ডোর লক করে একটু একটু করে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। আর একটু একটু করে ওর হার্টের শব্দ বাড়তে থাকে। হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে রইলো যেন শব্দ না হয়। কিন্তু অবাধ্য হৃদযন্ত্র থরথর করে কাঁপতেই থাকে। কাঁপতে কাঁপতেই বেডে উঠে শুয়ে পড়ে কিনার ঘেঁষে। বেডের মাঝ বরাবর শুয়ে আছে ইমরান। ওর ভারী শ্বাসের শব্দ তুলির কানে ভেসে আসছে। সেই সাথে ইমরানের গা থেকে ভেসে আসছে পুরুষালি ঘ্রাণ। 
দম আটকে নেয় তুলি। কেমন হাসফাঁস লাগছে এই মুহূর্তে। ইমরানের পাশে শুয়ে থাকতে অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। 
চোখ বন্ধ করে নেয়। সাথে সাথেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইমরানের চেহারা। ধপ করে চোখ খুলে তাকায় আবার। ঘাড় ঘুরিয়ে ইমরানের দিকে তাকায়। ড্রিম লাইটের নীল আলোয় বোঝা যাচ্ছে না ইমরানের চেহারা। ইমরানের দিকে ঘুরে চোখ বন্ধ করে নেয় আবার। অনুভব করার চেষ্টা করে ওরা দুজন হাসবেন্ড ওয়াইফ। বিয়ে হয়ে গেছে দুজনের। আজকের পর থেকে মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ওর সাথেই থাকতে হবে। 
,
,
সকালে ঘুম হালকা হয়ে আসে ইমরানের। কাত থেকে চিৎ হয়ে শোয়। অনুভব করে বুকের উপর অনেক ভারী কিছু রয়েছে । কোলবালিশের ওজন তো এত বেশি না । এটা কি লোহার কোলবালিশ নাকি ? না হলে এত বেশি ওজন কেনো ? মুখের উপর সুরসুরি লাগায় নাক মুখ কুঁচকে একটু চোখ খুলে তাকায়। মুখের উপর থেকে হাত দিয়ে চুল গুলো সরিয়ে দেয়। ওর চুল তো এত লম্বা নয়। রাইটার সানা শেখ।
চুল গুলো থেকে অসাধারণ ঘ্রাণ ভেসে আসছে। কোন শ্যাম্পুর স্মেইল এটা ? ও তো এই শ্যাম্পু ব্যবহার করে না। ভালো ভাবে বুকের দিকে তাকাতেই দেখে ওর বুকের উপর তো কোলবালিশ নয় আস্ত একটা মানুষ শুয়ে আছে। তাও মেয়ে মানুষ । 
এক ঝটকায় বুকের উপর থেকে তুলিকে বেডে ফেলে দেয়। ধড়ফড়িয়ে নিজেও শোয়া থেকে উঠে বসে। তুলি নিজেও লাফিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। 
দুজনের দৃষ্টি আটকায় একে অপরের মুখের দিকে। 
দুজনেরই পূর্বের ঘটনা স্মরণ হতে কিছুটা সময় লাগলো। 

চলবে................

Loading spinner

Reply
Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago
Part:03
 
 
 
লাফিয়ে বেড থেকে নেমে দাঁড়ায় ইমরান। দুই হাতে ভালো ভাবে চোখ কচলে আবার তাকায় বেডের দিকে। ফোলা ফোলা চোখ মুখ, এলোমেলো চুল-পরনের কাপড়। ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই। আবার নিজের দিকে তাকায় ইমরান। আবার বেডে বসে থাকা তুলির দিকে তাকায়। 
ডান হাত উচু করে আঙ্গুল তুলে তুলির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে ,

_ এই তুই এখানে কি করছিস ? কখন এসেছিস এই রুমে ? আমার বুকের উপর শুয়ে কি করছিলি ? 

তুলির চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়। ও ইমরানের বুকের উপর উঠে শুয়ে ছিল ? সিরিয়াসলি ? 

_ কিরে কথা বলছিস না কেনো ? 

_ আমি কখন তোমার বুকের উপর উঠে শুয়ে ছিলাম ? আমি তো বেডের এই কিনার ঘেঁষে শুয়ে ছিলাম। 

_ আমি মিথ্যে বলছি ? হাতির মতো শরীর টা নিয়ে তো আমার বুকের উপরেই শুয়ে ছিলি। 

_ একদম মিথ্যে দোষারোপ করবে না আমাকে। আর আমার শরীর হাতির মতোও না , মাত্র চল্লিশের উপর আট কেজি ওজন আমার। আর তোমার বুকের উপর উঠে শুয়ে থাকার কোনো সখ বা ইচ্ছে আমার নেই। নিশ্চই তুমি নিজেই আমাকে তোমার বুকের উপর তুলেছিলে আর এখন আমার দোষ দিচ্ছো। কোন বদ মতলবে আমাকে তোমার বুকের উপর তুলেছিলে ? 

তুলির কথা শুনে ইমরানের রাগ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। গলা ছেড়ে ডেকে ওঠে ,

_ আম্মু আম্মু আম্মুউউউউ ।

মিসেস ইরানী রান্না শেষ করে টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখছিলেন। বড় ছেলের হাক ডাক শুনে বুয়া কে খাবার সাজাতে বলে দ্রুত ইমরানের রুমের দিকে এগিয়ে যান। 
ইমরানের গলা ছেড়ে ডাক শুনে কামরান আর মুস্তাফিজুর রহমান ও রুম থেকে বেরিয়ে আসে। 
তিন জন একসাথে এসে দাঁড়ায় ইমরানের রুমের সামনে। 

ডোরের দিকেই তাকিয়ে ছিল ইমরান। 

_ ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছো ? ভেতরে আসো।

তিন জন একসাথে ভেতরে প্রবেশ করে। 
মিসেস ইরানী বলেন ,

_ কি হয়েছে ? এভাবে চিৎ/কার করছিস কেন?

_ তুলি এই রুমে কি করছে ?

_ তো কোন রুমে থাকবে ? 

_ কোন রুমে থাকবে সেটা আমি কিভাবে জানবো ? 

_ তুই জানবি না কেনো ? তোর বউ তোর রুমে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। 

_ না ও আমার রুমে থাকবে না। 

_ ও এই রুমেই থাকবে।

_ বলছি তো থাকবে না।

_ বলছি তো থাকবে।

_ ওকে নিয়ে যাও আমার চোখের সামনে থেকে। ওই বের হ আমার রুম থেকে।

_ একদম বের হবি না তুলি। এই রুমে ইমরানের যতটা অধিকার আছে, তোরো ঠিক ততটাই অধিকার আছে। মনে রাখবি এখন এই রুম তোরো। এই বাড়িও এখন তোর।  এই বাড়ির সব কিছুতেই তো অধিকার আছে এখন। কারো কথা শুনে কিছুতেই এই রুম থেকে বের হবি না। গত কাল থেকে ইমরান ও তোর , ওকে কিছুতেই ছাড়বি না। 

"গত কাল থেকে ইমরান ও তোর , ওকে কিছুতেই ছাড়বি না"।  এই কথা গুলো তুলির কানে রিপিট রিপিট হয় কয়েক বার। অদ্ভুত শিহরন বয়ে যায় পুরো শরীর জুড়ে।
অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়। শরীর জুড়ে বিদ্যুৎ খেলে যায়। 

মায়ের কথা গুলো শুনে ফুঁসে ওঠে ইমরান। খ্যাপাটে কন্ঠে বলে,

_ একদম না। তুলি কিছুতেই এই রুমে থাকবে না। আর ও যদি থাকে তাহলে আমি থাকবো না।

_ না থাকলি। 

_ আম্মু।

_ চিৎ/কার করছিস কেনো ? কানে শুনতে পাই তো আমি। আমার কানে কোনো সমস্যা নেই, আস্তে কথা বল। কানের পর্দা ফাটিয়ে দিবি নাকি ? 

_ ওকে নিয়ে যাও আমার রুম থেকে।

_ দুনিয়া উল্টে গেলেও না। বিয়ে করেছিস এখন থেকে ওর দায়িত্ব তোর।

_ জোর করে বিয়ে করিয়েছো তোমরা। আমার ঝামেলাহীন জীবনে ঝামেলা জুটিয়ে দিয়েছো তোমরা সবাই মিলে। 

_ জীবনে ঝামেলা না থাকলে জীবনের আনন্দ বোঝা যায় না। ভালো থাকতে হলে জীবনে ঝামেলার প্রয়োজন আছে। জঞ্জাল ভালো কাঙ্গাল ভালো না। তাই ঝামেলা নিয়ে জীবন যাপন কর। অকারণে চিৎ/কার চেঁচা/মেচি করবি না। রান্না শেষ হয়েছে ফ্রেশ হয়ে দুজন  খেতে আয় অনেক বেলা হয়ে গেছে। 

তারপর ছোট ছেলে আর স্বামীর দিকে তাকান।

_ চলো খাবার খাবে। 

রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে আবার বলেন,

_ তারাতারি আসবি দুজন , খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে নয়তো। 

চলে যায় তিন জন। 
তুলির দিকে খ্যাপাটে দৃষ্টিতে তাকায় ইমরান। 

_ বের হ আমার রুম থেকে। 

কেনো যেনো আজ তুলির একটুও ভয় করছে না ইমরান কে, আবার আগের মত রাগ ও উঠছে না। আগে দেখলেই ভয় কাজ করতো, রাগ উঠতো। ইমরানের চুল গুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করতো। রাগে ওর সামনেই আসতো না। 
গত কাল রাতেও ভয় কাজ করলো এই রুমে আসতে। যদি রেগে আবারো চড় দেয় ছোট বেলার মত ! অথচ আজকে সেসব কিছুই হচ্ছে না। উল্টো ইমরানের উপর শোধ তুলতে ইচ্ছে করছে। ভয়ের চেয়ে ইমরানের উপর রাগ বেশি জমে আছে। ছোট বেলায় ওর সাথে যা যা করেছে সেসবের শোধ তুলবে আস্তে আস্তে সুধে আসলে। তুলিকে তো চেনেনা। হাড় মাংস জ্বা/লিয়ে খাবে ওর। এখন আর আগের সেই তুলি নেই। 

_ কি বলছি কানে যাচ্ছে না ? বের হ আমার রুম থেকে।

আয়েশ করে হাত পা ছড়িয়ে বেডে শুয়ে পড়ে তুলি। ইমরানের দিকে তাকিয়ে গা জ্বা/লা এক হাসি ফুটিয়ে বলে ,

_ যা বো না। তোমার যেতে ইচ্ছে করলে তুমি যাও। 

ধমক দিয়ে বলে,

_ যা আমার চোখের সামনে থেকে।

_ ঠ্যাকা পড়েনি আমার কারো কথা শুনতে।

মৃদু চিল্লিয়ে বলে,

_ তুলিকা।

_ জি ভাইয়া।

_ বের হতে বলেছি আমি। 

_ খালামণি কি বলে গেলো মনে নেই ? 

ইমরান গজগজ করতে করতে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ফোস ফোস করছে। কত বড় সাহস ওর মুখে মুখে তর্ক করে ! আগে দেখলে তো ভয়ে হাঁটু কাপতো। ওর সামনেই আসতো না। 
আয়নার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা দেখা যায়। 

তুলি বেড থেকে নেমে এলোমেলো বেড গুছিয়ে রাখে। 
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো ব্রাশ করে নেয়। সুটকেস থেকে টুথব্রাশ বের করে হাতে নিয়ে ঘুরে ফিরে রুম টা দেখতে শুরু করে। 
এই রুমে খুব কমই আসা হয়েছে ওর। ইমরানের উপর রাগ করেই এই রুমে প্রবেশ করতো না। 

ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে ইমরান। তুলিকে দেখেও কিছু বলে না। তুলি একবার ইমরানের দিকে তাকিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 
তুলি ওয়াশরুমে প্রবেশ করতেই ইংরেজিতে কয়েক টা বকা দেয় ইমরান। 
এক'টা মাস কোনো রকমে সহ্য করতে পারলেই হয়। 

এক টেবিলে বসেই সকালের খাবার শেষ করে পাঁচ জন। 

খাওয়া শেষে তৈরি হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ইমরান। স্কুল কলেজের বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাবে। সারা দিন আর ফিরবে না বাড়িতে। 
আশ্চর্য্য তুলিকে দুই চোখে দেখতে ইচ্ছে করছে না। 
তুলিকে দেখলেই রাগ বেড়ে যাচ্ছে তরতর করে। ছোট বেলায় দেখলে যতটা রাগ হতো , তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রাগ হচ্ছে এখন। ইচ্ছে তো করছে এক আছাড়ে তুলির ভবলীলা সাঙ্গ করে দিতে। 

ইমরান বেরিয়ে যেতেই মুখ ভেংচি কা/টে তুলি। 
দেখলেই ইচ্ছে করছে মাথা ফাটিয়ে দিতে। 
তুলি নিজেকে দেখে নিজেই আশ্চর্য্য হচ্ছে সকাল থেকে। ওর ভেতরে এত সাহস কোথা থেকে আসলো ? সাহস ওয়ালা জ্বীন ভর করেনি তো ওর উপর ? না হলে এত সাহস তো হওয়ার কথা ছিল না। নানান টেনশানে গত কাল বিয়ে শেষ হওয়ার পর যেখানে মাথা ঘুরে স্টেজেই শুয়ে পড়েছিল সেখানে আজ ইমরানের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত বুদ্ধি ওর মাথায় কিলবিল করছে। 
সত্যি সত্যিই বোধহয় জ্বীন ভর করেছে। 

বেডে শুয়ে পড়ে। ঘুম পাচ্ছে ভীষণ, ক্লান্ত ও লাগছে। বিয়ের চক্করে পরে কয়েক দিন ধরে ঘুমোতে পারেনি। শপিং মল , পার্লার দৌড়াদৌড়ি করতে করতেই 
আধম/রা অবস্থা। এখন ঘুমোতে পারলে একটু ভালো লাগবে। গত রাতেও ঘুমোতে পারেনি টেনশনে। শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়েছিল একটু । 

________________

রাতে বাড়ি ফেরে ইমরান। কোনো কিছুই বলে না চুপ চাপই থাকে। ঝামেলা করে কাজ নেই মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। 
রাতের খাবার টাও একসাথেই খায় পাঁচ জন। 

খাওয়া শেষ করে আগে আগে রুমে চলে আসে তুলি। কে জানে শ*য়*তা*ন ইমরান আগে রুমে এসে যদি ডোর লক করে দেয় ? তাহলে তুলি ওকে শায়েস্তা করবে কিভাবে ? 

রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়ে তুলি। একটু পর রুমে আসে ইমরান। ডোর লক করে বেডের দিকে তাকাতেই মেজাজ তুঙ্গে। 

_ বেড থেকে নাম।

_ কেন?

_ তোর সাথে এক বেডে ঘুমাবো না আমি। তুই নিচে ঘুমাবি।

বেড থেকে একটা বালিশ তুলে ছুঁড়ে দেয় ইমরানের দিকে। বালিশ টা ক্যাচ ধরে ইমরান। 
তুলি বলে ,

_ "সারওয়ালা সাদা মুলা" তুমি নিচে ঘুমাও। 

রেগে তুলির দিকে তাকিয়ে রইলো ইমরান। ওর ডাক ওকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে ! ছোট বেলায় সকলের সাথে সাথে ইমরান নিজেও মাঝে মধ্যে তুলিকে "সারহীন সাদা মুলা" বলে ডাকতো। তার শোধ তুলতে আজ ওকে "সারওয়ালা সাদা মুলা" বলে ডাকছে। 
চিৎকার করে বলে , 

_ তুলির বাচ্চা।

_ সবে মাত্র গত কাল বিয়ে হলো , এখনই বাচ্চা কোথা থেকে আসবে ? পাগল হয়েছো নাকি তুমি ? 

তুলির দিকে তেড়ে যায় ইমরান।

চলবে...............

Loading spinner

Reply
Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago
 Part:03
 

লাফিয়ে বেডে উঠে যায় ইমরান। ধড়ফড়িয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে তুলি। তুলির দুই পাশে হাত দিয়ে ওর দিকে ঝুঁকে যায় ইমরান। দুজনের মাঝে কয়েক ইঞ্চির দুরত্ব। ইমরান দাঁতে দাঁত চেপে কটমট করে বলে,

_ কি বললি আবার বল।

_ কি বলেছি ?

_ মনে নেই ?

_ না , কি বলেছি ?

_ বের হ আমার রুম থেকে। 

_ হবো না, রুম তোমার একার নাকি ? এই রুম আমারও রুম। এই রুমে থাকবো নাকি থাকবো না সেটা আমার ইচ্ছে। এই রুম থেকে কখন বের হবো, কখন আসবো সেটাও আমার ইচ্ছে। তোমার ভালো না লাগলে ওই যে দরজা আছে , ওখান দিয়ে বেরিয়ে যাও। 

_ তুলি ।

_ আস্তে বললেও শুনতে পাই আমি।

_ তুই ভয় পাশ না আমাকে ?

_ তুমি বা/ঘ না ভা/ল্লু/ক যে তোমাকে দেখে ভয় পেতে হবে ? 

_ বা/ঘ ভা/ল্লু/কের মতো কা/ম/ড় দিয়ে খেয়েও ফেলতে পারি। 

এই কথা ইমরানের মুখ দিয়ে বের করতে দেরি তবে এই কাজ তুলির করতে দেরি হয় না। 
একটু সোজা হয়ে ইমরানের টিশার্টের উপর দিয়েই ওর বুকে কা/ম/ড় দিয়ে ধরে।  হতভম্ভ হয় ইমরান। রা/ক্ষ/স নাকি এই মেয়ে ?  
ব্যাথা পেয়ে তুলিকে নিজের কাছ থেকে সরানোর চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। এত জোড়ে কা/ম/ড় দিয়ে ধরেছে যে মনে হচ্ছে বুকের চামড়াই উঠে যাবে। 
তুলির বাহু ধরে বলে,

_ তুলি ছাড় বলছি , নয়তো কিন্তু তোর কপালে দুঃখ আছে। 

ঠেলে ঠুলে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দেয় তুলি কে। 
সোজা হয়ে বসে ইমরান। তুলি একটু সরে যায় ওর কাছ থেকে। ইমরান বুকে হাত চেপে ডলা দেয় কয়েক টা। 
ইমরানের মুখ লাল হয়ে গেছে। টিশার্ট উপরে তুলে বুকের দিকে তাকায়। র/ক্ত জমাট বেঁধে ফুলে উঠেছে। 
কি জোড়ে কা/ম/ড় টা দিয়েছে ! মনে হচ্ছে জায়গা টুকু পচে গেছে। তুলিও তাকায় ইমরানের বুকের দিকে। 
ফর্সা লোমশ বুকে তুলির সিলমোহর বসে গেছে। 
ইমরান রেগে তুলির দিকে তাকায়।

_ রা/ক্ষ/স নাকি তুই ? কি করেছিস ?

_ জীবনে দ্বিতীয় বার আমাকে কা/ম/ড়ে খাওয়ার সখ যেন না জাগে সেই কাজ। 

টিশার্ট ঠিক করে একটা বালিশ হাতে তুলে নেয় ইমরান। বালিশ দুই হাতে ধরে তুলির দিকে এগিয়ে বলে,

_ আজকে তোকে বালিশ চাপা দিয়ে মে/রে/ই ফেলবো। 

_ ডাক্তারের কাজ মানুষ সুস্থ্য করা, খু/ন করা না। তাই ভুলেও এই কাজ করতে আসবে না ডাক্তার সাহেব। 

_ জীবনে অনেক মানুষ সুস্থ্য করেছি একজন খু/ন করলে কিছুই হবে না। 

তুলি লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে। ইমরানের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,

_ এখন মা/র/তে সুবিধা হবে। 

তুলি যানে ইমরান যাই বলুক ওকে জানে মা/র/বে না। 
রাগে ফোস ফোস করতে করতে হাতের বালিশ টা পাশে রেখে উপুর হয়ে শুয়ে পড়ে। 

_ শ/য়/তা/ন মহিলা লাইট অফ করে দিয়ে আয়। 

তুলি অন্য পাশ ফিরে শুয়ে বলে ,

_ ঠ্যাকা পড়েনি আমার। তোমার সমস্যা হলে তুমি অফ করে দিয়ে আসো। 

বালিশ থেকে মুখ তুলে তুলির দিকে তাকায় ইমরান। তুলির মুখ দেখা যাচ্ছে না, শুধু পিঠ দেখা যাচ্ছে। দুজনের মাঝে দুই হাত দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দুজনেই বেডের দুই পাশে কিনার ঘেঁষে শুয়ে আছে। 
ইমরান বুঝতে পারছে না হঠাৎ তুলির এত পরিবর্তন কিভাবে হলো ? এই তুলি তো সেই তুলি না। যেই তুলি বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পরে ভয়ে টেনশনে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল সেই তুলি কিনা বিয়ের পরের দিন থেকে ওর মুখে মুখে তর্ক করছে ? এটাও সম্ভব ? 

তুলিকে আর কিছু না বলে ইমরান নিজেই বেড থেকে নেমে লাইট অফ করে দিয়ে বেডে এসে শুয়ে পড়ে আবার। 

_ ভুলেও আমার বুকের উপর উঠবি না। আর এই বালিশ টা তো কোনো ভাবেই ক্রস করবি না। 

বলেই মাঝখানে কোলবালিশ রেখে দেয়। তুলি সাড়া শব্দ করে না। ইমরান ও আর কিছু না বলে চুপ চাপ শুয়ে রইলো। ছুটির এই এক'টা মাস কোনো ভাবে তুলিকে সহ্য করে নিতে পারলেই হয়। একবার কানাডা ফিরে গেলে ভুলেও আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। 
এই বিয়ে, সংসার , ভালোবাসা এসব ওকে দিয়ে হবে না। এই সব কিছুর প্রতি কোনো আগ্রহ নেই ওর  সেই ছোট বেলা থেকেই। বিয়ের পর থেকে ওর মাথাই ঠিক ঠাক কাজ করছে না। ওর সাজানো গোছানো পরিপাটি সিঙ্গেল জীবন এলোমেলো হয়ে ডবল হয়ে গেছে। যেখানে বিয়েই করতে চায়নি , সেখানে নিজের অপছন্দের একজন কে কিছুতেই বউ হিসেবে মেনে নিতে পারছে না। কানাডা ফিরে যাবে বাংলাদেশে আর ফিরবে না এটাই ভালো বুদ্ধি। 

কিন্তু ইমরান ভুলে গেছে মানুষ সব সময় যা ভাবে , যেভাবে করতে চায় তা প্রকৃতির নিয়মেই পরিবর্তন হয়ে যায়। আমরা চাইলেই সব হয় না। 
যেখানে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ওদের জুটি বেঁধে দিয়েছেন সেখানে ইমরান চাইলেই কি তুলির থেকে আলাদা হতে পারবে ? 

________________ 

অনেক গুলো  দিন পেরিয়ে যায়। দুজনের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি। আগের মতোই রয়েছে এখনো। ইমরান সকালে বাড়ি থেকে বের হয় দুপুরে ফিরে খাবার খেয়ে আবার বেরিয়ে যায়। মাঝ রাতে বাড়ি ফেরে ততক্ষণে তুলি ঘুমে বিভোর। এসে নিজেই বেড়ে খেয়ে শুয়ে পড়ে। 
এর মধ্যে দুবার তুলির বাবার বাড়িতে গিয়েছিল। 
কারো কোনো কথা শোনে না ইমরান। কেউ বেশি কিছু বলেও না, বললেই রেগে যায়। এমনিতেই জোর করে বিয়ে টা করিয়েছে। 
আর কোনো উপায়ও ছিল না তখন এটা করা ছাড়া। একটা মেয়ের বিয়ের দিন যখন কোনো কারণে বিয়ে টা ভেঙে যায় তখন সেই মেয়ে আর পরিবারের কেমন অবস্থা হয় তা অন্য কেউ আন্দাজ করতে পারবে না। সমাজের চোখে কতটা ছোট হতে হয় তা কারো অজানা নয়। এই একটা কথার জের ধরে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কথা শোনায় মেয়ে টা কে, তার পরিবার কে। মেয়েটার দোষ নেই সেটা কারো চোখে পড়ে না। বিয়ে টা কেনো ভেঙে গেলো সেটাও কেউ দেখবে না। শুধু দেখবে মেয়েটার বিয়ে ভেঙে গেছে কোনো কারণে। মেয়েটা খারাপ , কোনো দোষ আছে, বড় কোনো ঘাপলা নিশ্চই আছে তাই বিয়ে টা হয়নি। এই সমাজের মানুষ জন বড়ই অদ্ভুত। তারা তিল কে তাল বানিয়ে তবেই ছারে। 

ইমরান ম্যাচিউর একজন ছেলে হয়ে এমন আচরণ করবে কেউ ভাবেনি। ভেবেছিল একবার বিয়ে টা হয়ে গেলে আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। 
কিন্তু ইমরান কিছুতেই তুলিকে মেনে নিতে পারছে না। তুলিকে দেখলে অটোমেটিক ওর রাগ বেড়ে যায়। রাগ হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই তবুও রাগ হয়। 
আর এক সপ্তাহ তার পর ইমরানের ফ্লাইট। এই এক সপ্তাহ ইমরানের কাছে এক বছরের মতো লাগছে। সময় যেন আগাচ্ছে না। সময়ের কা/টা থেমে গেছে। 

পরিবারের সাথেও সেরকম সময় পাড় করে না। 

আজ রাতে বারোটার পর বাড়ি ফেরে ইমরান। ড্রইং রুমে এসে দেখে ওর মা সোফায় বসে আছে। একটু অবাক হয় মাকে দেখে। আজ এখনো জেগে আছে কেনো ? 

_ আজ এখনো ঘুমাওনি কেনো আম্মু ?

মিসেস ইরানী ইমরানের দিকে তাকান। ইমরানকে বেশ ক্লান্ত লাগছে। 

_ কোথায় ছিলি ?

_ রাস্তার মোড়ে।

_ কটা বাজে এখন ?

_ বারোটা পনেরো।

_ নতুন বউ ঘরে রেখে এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকার মানে কি ইমরান ? এক সপ্তাহ পর তোর ফ্লাইট , এই কটা দিন মেয়ে টা কে একটু সময় তো দিতে পারিস। 
ওর মনের উপর দিয়ে কি বয়ে যায় কখনো বোঝার চেষ্টা করেছিস ? তোর সামনে হাসি খুশি থাকে বলে তুই ভাবিস তুলি খুশি আছে ? ওর কষ্ট হয় না ? ওর খারাপ লাগে না ? মেয়েটা সারা দিন ওই রুমের মধ্যে চুপ চাপ বসে থাকে। কথা বলতে গেলে বলতে চায় না। আগে কামরানের সাথে কত হাসি খুশিতে সময় পাড় করতো, এখন কামরানের সাথেও কথা বলে না। প্রয়োজন ছাড়া রুমের বাইরে বের হয় না। মেয়ে টা ভেতরে ভেতরে গুমরে গুমরে শেষ। মাঝে মাঝেই দেখি ওর চোখ মুখ ফোলা ফোলা থাকে। চোখ লাল হয়ে থাকে। কিছু বলতে গেলে শোনে না, ইগনোর করে। জোর করে কিছু বলতেও পারি না। মেয়েটার ভালো করতে গিয়ে উল্টো খারাপ করে দিলাম বোধহয়। নিজের কাছে নিজেকেই অপরাধী মনে হয় এখন। আমার এই সিদ্ধান্ত টা ভুল ছিল হয়তো। 

ইমরান কিছু বলে না। মাথা নিচু করে মায়ের সব কথা শোনে। 

_ খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। 

কিছু না বলে ফ্রেশ হওয়ার জন্য চলে যায় ইমরান। 
রুমে এসে বেশ অবাক হয়। আজ রুম ফাঁকা, তুলি নেই রুমে। ওয়াশরুম, বেলকনিতে কোথাও নেই তুলি। কোথায় গেলো ? ড্রেসিং টেবিলের উপর তুলির জিনিস গুলো নেই। ড্রেসিং টেবিল ফাঁকা। আলমারি খুলে দেখে, আলমারি ফাঁকা। তুলির একটা ড্রেস ও নেই। 
হয়তো অন্য রুমে শিফ্ট হয়ে গেছে। ওর জন্য ভালোই হয়েছে। বেশি কিছু না ভেবে টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 

ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসে। মিসেস ইরানী তখনো সোফায় বসে আছেন। তার মন টা বিষন্ন হয়ে আছে। 

ইমরান সোজা গিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে। নিজেই বেড়ে খেতে শুরু করে। কিন্তু আজকে কেনো যেনো খাবার গলা দিয়ে নামছে না। অল্প কিছু খাবার খেয়ে হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়ায়। বাকি খাবার ফ্রিজে তুলে রেখে দেয়। 
সব কিছু করে সোফার কাছে এসে দাঁড়ায়। 

_ অনেক রাত হয়েছে ঘুমোতে যাও আম্মু।

_ তুই যা।

যায় না ইমরান। বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। অন্য দিন তো এমন করে না। 

_ তুলি কোথায় আম্মু ?

মিসেস ইরানী মুখ তুলে ইমরানের মুখের দিকে তাকান।

_ চলে গেছে।

চমকায় ইমরান।

_ কোথায় গেছে ?

_ ওর বাবার বাড়িতে। 

_ কেনো ?

_ তোর জন্য।

_ আমার জন্য ? 

_ হ্যাঁ তোর জন্যই। তুলি এই বাড়িতে থাকলে তো তোর অনেক সমস্যা। ওর জন্য তুই নিজের বাড়িতেই থাকতে পারিস না। সারা দিন বাইরে বাইরে থাকিস। নিজের ফ্যামিলির সাথেও সময় কা/টা/তে পারিস না। তোর রুম দখল করেছে, তোর বাড়ি দখল করেছে, তোর ফ্যামিলি কে তোর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তাই তোর সব কিছু তোকে ফিরিয়ে দিয়ে চলে গেছে। তুই আমাদের বড় ছেলে। তোর প্রতি আমাদের টান টাও বেশি। কত গুলো বছর ধরে তো দূরে দূরেই থাকিস। ছুটিতে আসিস অল্প কিছু দিনের জন্য। এবার এক মাসের ছুটিতে আসলি। তোকে আমরা কাছে পেয়েও পেলাম না। বাংলাদেশে আছিস তো আর এক সপ্তাহ। এই এক সপ্তাহ যেন নিজের ফ্যামিলির সাথে সময় কা/টা/তে পারিস তাই চলে গেছে। তোর কোনো সমস্যার কারণ আর তুলি হবে না। 

মায়ের কথা গুলো শুনে ইমরান বলতে পারে না কিছু। মিসেস ইরানীর চোখে টলমলে পানি। 

_ কি বল তো বাবা আমরা যেমন টা পরিকল্পনা করি , যা সিদ্ধান্ত নেই সেরকম কিছুই হয় না বেশির ভাগ সময়, আমাদের সিদ্ধান্ত ও ভুল হয়। তুলির বাবা কেই দেখ না , মেয়ের জন্য শত শত ছেলে দেখে একজন পছন্দ করলো। একটা মাত্র মেয়ে , তাকে কিছুতেই দূরে বিয়ে দেবে না। সেজন্য খুঁজে খুঁজে কাছাকাছি মেয়ের বিয়ে ঠিক করলো। তার মনে কত আনন্দ ছিল , কত কিছু ভেবেছিল মেয়ের বিয়ে নিয়ে। সেসব করলোও, সবই ঠিক ঠাক মতোই হচ্ছিল। হচ্ছিল কিন্তু হয়নি, শেষ মুহূর্তে এসে বিয়ে টা ভেঙে গেলো। বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় মেয়ে টা কে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। সেজন্য  আমি আর তোর বাবা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। তুলি আমাদের চোখের সামনে বড় হয়েছে , ধরতে গেলে কোলে পিঠে মানুষ করেছি। তুলি খুবই ভালো একজন মেয়ে। ওর মতো মেয়ে আজ কাল হয় না। তাই তোর সাথে জোর করেই বিয়ে টা দিলাম। ভেবেছিলাম দুজনেরই ভালো হবে। আমাদের ও একটা মেয়ে হবে। একে অপরের সাথে ভালো থাকবি। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেসব কিছুই হলো না। দুজনের ভালো করতে গিয়ে দুজনেরই খারাপ করে দিলাম। 

মিসেস ইরানীর চোখ থেকে টুপ টুপ করে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সেই পানি টুকু মুছে নিয়ে উঠে দাঁড়ান।  নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলেন,

_ গিয়ে ঘুমিয়ে পড় অনেক রাত হয়েছে। 

ইমরান কিছু সময় আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। মায়ের বলা কথা গুলো মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে। 
ড্রইং রুমের লাইট গুলো অফ করে ধীর পায়ে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। খালি বেড দেখেই তুলির কথা মনে পড়ে। রুমের মাঝ খানে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে বেডের দিকে তাকিয়ে রইলো।

চলবে....................

Loading spinner

Reply
Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago
Part:05 
 

নিজের রুম অন্ধকার করে বেডে শুয়ে আছে তুলি। চোখের কোণা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে উষ্ণ তরল। ঘুমোতে চাইলেও ঘুম আসছে না কিছুতেই। মনের মধ্যে জমানো দুঃখ কষ্ট গুলো উপচে বেরিয়ে আসছে। বুকের ভেতর অসহনীয় যন্ত্রণা হচ্ছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। এই কষ্ট কাকে দেখাবে ? কাকে বোঝাবে মনের কষ্ট গুলো ? বাবা মায়ের কাছে বলতে পারবে না, তাহলে তারাও কষ্ট পাবে। 
ওর সাথে এমন টা কেনো হলো ? 
বিয়ে নিয়ে সব মেয়ের সুন্দর একটা স্বপ্ন থাকে। বিয়ের পরের দিন গুলো নিয়ে থাকে নানান জল্পনা, কল্পনা। ওরো ছিল কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে। ওর সুন্দর স্বপ্ন, জল্পনা, কল্পনা সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। 
নিজের জীবনের সাথে সাথে আরেক জনের জীবন ও জটিল করে তুলেছে। কি করবে কিছুই মাথায় আসছে না। উপুড় হয়ে শুয়ে বালিশে মুখ গুজে গুমরে কাঁদে। 
,
,
নিজের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে ইমরান। ঘুম আসছে না আজ। কেমন হাসফাঁস লাগছে। বেলকনির এপাশ থেকে ওপাশে পায়চারি করে। আবার স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে  দূর আকাশ পানে তাকায়। আজ আকাশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে। টিপ টিপ করে জ্ব/ল/ছে কয়েক টা তারা। মেঘ মেঘ হয়ে আছে আকাশে। রাতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা আছে। 
বেলকনিতে রাখা টুলের উপর বসে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো বাইরের দিকে। 

_______________________

সকালে ঘুম থেকে ওঠে ইমরান। ঘুমিয়েছিল শেষ রাতে। মাথা ভার ভার হয়ে আছে, মাথা সোজা করতে ইচ্ছে করছে না। তবুও বেড থেকে উঠে দাঁড়ায়। টাওয়েল নিয়ে দুলতে দুলতে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 
পঁচিশ মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে কোমরে টাওয়েল জড়িয়ে। 

অল্প সময়ের মধ্যে ড্রেস পরে তৈরি হয়ে নেয়। প্রয়োজনীয় সব নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে  আসে। এগিয়ে যায় বাবার রুমের দিকে। মুস্তাফিজুর রহমান ওয়াশরুমে রয়েছেন। ভেতর থেকে পানির শব্দ আসছে। 

_ আব্বু।

কয়েক বার ডাকার পর শুনতে পান ছেলের ডাক।

_ হ্যাঁ বলো।

_ কারের চাবি টা কোথায় ? 

_ ড্রেসিং টেবিলের উপর।

_ আমি কার নিয়ে বের হচ্ছি।

_ আচ্ছা। 

চাবি নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে আসে। ড্রইং রুম পুরো ফাঁকা। এগিয়ে যায় কিচেনের কাছে। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখে ওর মা মিসেস ইরানী আর কাজের বুয়া রান্না করতে ব্যস্ত। আজকে এখনো রান্না হয়নি ? অন্য দিন তো আরো সকালে রান্না শেষ হয়ে যায়। 

_ আম্মু আমি বের হচ্ছি।

হঠাৎ বড় ছেলের গলার স্বর শুনে চমকে ওঠেন মিসেস ইরানী। পেছন ফিরে ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন,

_ কোথায় যাবি ? রান্না প্রায় শেষ, খেয়ে যা। 

_ এসে খাবো, আসছি এখন।

বলেই বেরিয়ে যায়, মাকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ দেয় না। 

গ্যারেজ থেকে কার বের করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। 
,
,
কলিং বেলের শব্দ শুনে সোফা থেকে উঠে ডোরের কাছে এগিয়ে যায় তুহিন। সকাল সকাল কে এলো ? 
ডোর খুলে ডোরের সামনে ইমরানকে দেখে ভূ/ত দেখার মত চমকে ওঠে।  

_ ভাইয়া তুমি , তুমি সত্যিই এসেছো ?

_ কি মনে হয় ?

হাত বাড়িয়ে ইমরানের হাত ছুঁয়ে দেয়। তারপর দুই হাতে জাপটে ধরে খুশি হয়ে বলে,

_ কেমন আছো ভাইয়া ?

_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, তুই কেমন আছিস ?

_ আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। কালকে আপুর সাথে আসলে না কেনো ভাইয়া ? আপু বললো তুমি নাকি আমাদের বাড়িতে আর আসবে না ! 

তুহিনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

_ আসবো না কেনো ? আজকে এসেছি , ভবিষ্যতেও আসবো। 

_ তুহিন কে এসেছে ?

ভেতর থেকে তুলির মা মিসেস ইয়ানার গলার স্বর ভেসে আসে। 

_ ভাইয়া এসেছে।

_ কোন ভাইয়া ?

_ বড় ভাইয়া , ইমরান ভাইয়া।

ইমরানের নাম শুনে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসেন মিসেস ইয়ানা। ডোরের দিকে তাকিয়ে দেখেন তুহিন তখনো ইমরানকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। 

_ ওকে ওখানে দার করিয়ে রেখেছিস কেনো ? ওকে ভেতরে আসতে দে। 

_ হে হে ভুলে গেছিলাম। 

ছেলের বলার ধরণ দেখে মুচকি হাসেন মিসেস ইয়ানা। ইমরানের ঠোঁটের কোণেও হাসির রেখা দেখা যায়। 

ভেতরে প্রবেশ করে ইমরান। 

_ কেমন আছো ইমরান ?

_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি কেমন আছো ?

_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, কাল আসলে না কেনো তুলির সাথে ? 

_ ওই একটু বিজি ছিলাম।

_ কয়েক দিনের জন্য দেশে এসেও কি এত বিজি থাকো ?

আমতা আমতা করে বলে,

_ তুলি কোথায় ?

_ ওর রুমেই আছে , ঘুম থেকে ওঠেনি এখনো। 

ইমরান আর কিছু না বলে তুলির রুমের দিকে এগিয়ে যায়। মিসেস ইয়ানা দ্রুত কিচেনের দিকে এগিয়ে যান ডাইনিং টেবিল সাজানোর জন্য। ইমরান আসবে জানলে আরো কিছু আইটেম রান্না করতেন। তুলিও তো বলেনি আজ ইমরান আসবে। 

ইমরান তুলির রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। হাত বাড়িয়ে ডোর ঠ্যালা দিতেই খুলে যায়। 

_ এই মেয়ে ডোর লক করে ঘুমায় না ?

বির বির করতে করতে রুমের ভেতর প্রবেশ করে। পুরো রুম তখনও অন্ধকার হয়ে আছে। ডোর খোলায় একটু একটু আলো আসছে। ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে ফ্যান। বেডের দিকে তাকায়, আবছা আলোয় তুলিকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এগিয়ে গিয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে থাই গ্লাস খুলে দেয়। সাথে সাথেই পুরো রুম আলোকিত হয়ে যায়। আবার তাকায় বেডের দিকে। 
কাথা দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে ঘুমিয়ে আছে তুলি। 
ঘুরে এসে তুলির কাছে দাঁড়ায়। 

_ তুলি , এই তুলি ওঠো তুলি। 

তুলির সাড়া শব্দ নেই। ঘুমে বিভোর হয়ে আছে। 
ইতস্তত করে তুলির গায়ের উপর থেকে কাথা টেনে সরিয়ে নেয় ইমরান। নড়ে চড়ে ওঠে তুলি। নাক মুখ কুঁচকে চোখ বন্ধ রেখেই কাথা খোঁজে। না পেয়ে স্থির হয়ে যায়। 

_ এই তুলি ওঠো।

ঘুমের ঘোরেই কপাল ভ্রু কুঁচকে যায় তুলির। ডাক কানে পৌঁছালেও মস্তিষ্ক সজাগ হচ্ছে না। এত বেশি ঘুম পাচ্ছে যা বলার বাইরে। 

তুলির অবস্থা দেখে ওর দিকে তাকিয়ে দুই আঙ্গুলের সাহায্যে কপালে স্লাইড করতে শুরু করে ইমরান। কিছু সময় তুলির দিকে তাকিয়ে থেকে ওর হাত ধরে টেনে ওঠানোর চেষ্টা করে বলে,

_ আর কত ঘুমাবে ? ওঠো এখন। 

_ যা তো ভাই ডিস্টার্ব করিস না কতক্ষণ আগেই ঘুমিয়েছি। তুই নিজের কাজে যা। 

হাত ছেড়ে দিয়ে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো ইমরান। একটু পরেই বুঝতে পারে তুলি ঘুমের ঘোরে তুহিন মনে করছে ওকে। 

_ তুলি তুহিন না আমি ইমরান। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখো আগে। 

তুলির বাহু ঝাকিয়ে কথা গুলো বলে ইমরান।  ইমরানের নাম কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই ফট করে চোখ খুলে তাকায় তুলি। চোখের সামনে ইমরানকে দেখে কতক্ষন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো। তারপর তড়িৎ গতিতে শোয়া থেকে উঠে বসে। দুই হাতে চোখ কচলে আবার তাকায় ইমরানের দিকে। বিশ্বাস হচ্ছে না ইমরান এসেছে। হাত বাড়িয়ে ইমরানের গাল স্পর্শ করে। যখন বুঝতে পারে সত্যি সত্যিই ইমরান এসেছে তখন চোখ দুটো আপনাআপনি বড় হয়ে যায়। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলে,

_ তুমি এখানে!

ইমরান চুপ করে তুলির চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে, ফোলা ফোলা ও লাগছে অনেক। চোখ মুখ কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। সারা রাত ঘুমায়নি ? পুরো রাত কেঁদেছে নাকি ? 

_ তুমি এখানে কেনো এসেছো ? 

_ তোমাকে নিতে।

_ কেনো ?

_ কেনো আবার ? তোমার শশুর বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছি। উঠে ফ্রেশ হয়ে তৈরি হয়ে নাও। 

_ যাবো না আমি তোমার সাথে। আর ওই বাড়িতেও ফিরে যাবো না। 

_ কেনো যাবে না ?

_ ভালো লাগে না তাই যাবো না। তোমার সাথে থাকবো না আমি। 

_ অত কথা শুনতে চাই না আমি, উঠে ফ্রেশ হয়ে তৈরি হও। 

_ বললাম তো যাবো না আর ওই বাড়িতে। 

_ তুলি মেজাজ গরম হচ্ছে কিন্তু এখন। 

_ আই ডোন্ট কেয়ার। 

_ তুলি।

_ কাকে রাগ দেখাচ্ছো তুমি ? তোমরা সবাই কি পেয়েছো আমাকে ? যখন যার যা ইচ্ছে তা চাপিয়ে দেবে আমার উপর ? তোমাদের সকলের সব সিদ্ধান্ত চুপ চাপ মেনে নেবো সব সময় ? আমার নিজের কোনো ইচ্ছে নেই ? আমার নিজের জীবন নিয়ে নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই ? তোমরা যে যখন যা বলবে তাই পালন করতে হবে আমাকে ? 

_ তোমার উপর আর কেউ কোনো সিদ্ধান্ত চাপাবে না। তোমার যা ইচ্ছে তাই করবে তুমি। 

_ ডি/ভো/র্স দিয়ে দাও আমাকে।  

ধমক দিয়ে ওঠে ইমরান।

_ ভালো ভাবে বলছি ভালো লাগছে না ? দেবো নাকি কানের নিচে একটা লাগিয়ে ? পাঁচ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে তৈরি হবি নয়তো কিভাবে তৈরি করিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। 

_ যাবো না আমি।

_ ঘাড় ত্যাড়ামি করবি না তুলি। 

_ একশো বার করবো, হাজার বার করবো। তাতে তোমার কি ?

_ আমার কি ?

_ হ্যাঁ।

আর কথা না বাড়িয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় ইমরান। তুলিকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। ওয়াশরুমে দার করিয়ে বলে,

_ পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হবি নয়তো যেমন আছিস সেভাবেই নিয়ে চলে যাবো। 

বলেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো তুলি। অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে আজ ইমরানকে দেখে। 
এই ইমরান তো সেই ইমরান নয়। ইমরানের কি হলো হঠাৎ ? এত দিন রুম থেকে বের করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে আর আজ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তুলির স্মরণ হয় ইমরান ওকে আজ তুমি তুমি বলে সম্বোধন করছিল। শেষে রেগে গিয়ে তুই তুই বলেছে। এক রাতে এত পরিবর্তন ? আশ্চর্য্য ।

ইমরান রুমে এসে তুলির সুটকেস খুজতে শুরু করে। আশে পাশে তাকিয়ে দেখে আলমারির পাশেই দার করিয়ে রেখেছে। উচু করতেই বুঝতে পারে ভর্তি রয়েছে এখনো। তবুও একবার খুলে দেখে নেয়। কাপড় চোপড় আর প্রয়োজনীয় সব কিছু না নিয়ে গেলে এসব নেওয়ার জন্য আবার আসতে হবে। 

তুলি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখে ইমরান বেডের উপর বসে আছে। তুলি অবাক হয় এটা দেখে যে ইমরান ওর বেড গুছিয়ে পরিপাটি করে রেখেছে। 

কিছু না বলে হাত মুখ মুছে মুখে ক্রিম লাগায়  সময় নিয়ে। চুল গুলো ব্রাশ করে আস্তে আস্তে বেশ সময় নিয়ে। 

ইমরান বেডে বসে তুলির কর্ম কান্ড দেখে রাগে ফুলছে। এই বাড়িতে যতটা ঠান্ডা মেজাজ নিয়ে এসেছিল এখন ঠিক ততটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তুলির ব্যবহারে। এই মেয়ে ইচ্ছে করেই যে ওকে রাগাচ্ছে বুঝতে বাকি নেই ইমরানের। দোষ শুধু ওর একার ! তুলির কোনো দোষ নেই ! এক নাম্বারের হাড় ব/জ্জা/ত মেয়ে একটা। শিরায় শিরায় শ/য়/তা/নি বুদ্ধি দিয়ে ঠাসা। 
সারা রাত জেগে যা যা ভেবেছিল এখন ঠিক তার উল্টো করতে ইচ্ছে করছে। রাতে মায়ের বলা কথা গুলো ওর উপর ইফেক্ট ফেলেছিল। তুলির দিক টাও ভেবে দেখেছিল , এই সম্পর্ক হওয়ার জন্য তুলির তো দোষ নেই। দুজন কেই জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাই হোক পরিবার তো সন্তানের ভালোই চায় সব সময়। দুই পরিবার আর তুলির কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কষ্ট করে না হয় মানিয়ে চলার চেষ্টা করবে। আস্তে আস্তে এক সময় ঠিক হয়ে যাবে সব কিছু। 
কিন্তু এখন ইচ্ছে করছে তুলিকে এখানেই ফেলে চলে যেতে। এই মেয়ে ওর লাইফে থাকা মানে ঝামেলা আর ঝামেলা। ঘাড় ত্যাড়ামিতে তো সেরা সেটা এতো দিনে বুঝে গেছে। 
,
,
খাওয়া দাওয়া সেরে এগারোটার পর পর তুলিদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে ইমরান তুলিকে সাথে নিয়ে। 
তুলি কিছুতেই আসবে না, তুলির মা ও চাইছিলেন তুলি আর দুই এক দিন থেকে যাক। বিয়ের পর মাত্র তিন দিন থাকা হয়েছে বাবার বাড়িতে। কিন্তু ইমরান কয়েক দিন পর চলে যাবে তাই আর বেশি কিছু বলেননি। 

ইমরানের পাশে ফ্রন্ট সিটে মুখ গোমড়া করে বসে আছে তুলি। এক মনে ড্রাইভ করছে ইমরান। 
তুলির কত শখ ছিল বরের সাথে লং ড্রাইভে যাবে। হাতে হাত রেখে অনেক পথ হাটবে। বরের কাধে মাথা রেখে সূর্যাস্ত দেখবে। কিন্তু এই ইমরানকে দিয়ে ওর এই স্বপ্ন গুলো কোনো দিন পূরণ হবে না। ব্যাটা নিরামিষ একটা । তুলি এটাও বুঝে গেছে ইমরান একবার কানাডা ফিরে গেলে ভুলেও আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। এখন হয়তো বাবা মায়ের জন্য ফিরিয়ে নিচ্ছে ওকে। 

____________________

আজ কানাডা ফিরে যাবে ইমরান। ওর সাথে তুলিও যাবে। তুলির ইমারজেন্সি পেপার্স রেডি করিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তুলি ইমরানের সাথে কানাডা যাবে শুনে ইমরানের মুখ টা দেখার মতো হয়েছিল। বেচারা না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে কিছু করতে। গত এই কয়েক দিন একদম ভালো ছেলে , ভালো হাসবেন্ড সেজে থেকেছে ইমরান। অতি প্রয়োজন ছাড়া ভুলেও বাড়ির বাইরে পা রাখেনি। 
ইমরানের এই কয়েক দিনের আচরণে ওর বাবা মা বেশ খুশি। তুলিকে আর আগের মতো লাগেনি। হাসি খুশিই লেগেছে এই কয়েক দিন। 

বিকেল পাঁচ টায় বাড়ি থেকে বের হয় তুলি ইমরান। ওদের দুজন কে বিদায় জানাতে দুই পরিবারের সবাই এয়ারপোর্টে যাবে। 

এয়ারপোর্টে পৌঁছে তুলি ওর মাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদে। ওর একটুও কানাডা যাওয়ার ইচ্ছে নেই। শশুর শাশুরির জন্য যেতে হচ্ছে। ওখানে যাওয়ার পর ইমরান ওর সাথে কেমন ব্যবহার করবে কে জানে ! ওখানে তো ওর আপন বলতে আর কেউ থাকবে না। মনের মধ্যে অনেক কষ্ট জমা হলে মায়ের কাছে যাওয়া হবে না। বলতে না পারলো, মায়ের মুখ টা তো দেখতে পারতো এখানে থাকলে। 
আবার শাশুরি মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। 

ইমিগ্রেশনের সময় হয়ে যাওয়ায় সকলের থেকে বিদায় নিয়ে ভেতরে এগিয়ে যায় দুজন। কয়েক বার পেছন ফিরে তাকায় তুলি। ইমরান একবারও তাকায় না। তবে ওর চোখেও পানি ছলছল করছে। সানগ্লাসের আড়ালে ঢাকা পড়েছে সেই পানি। মনে পাথর চাপা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দূর দেশে। 

চলবে...............

Loading spinner

Reply
Page 1 / 3
Share:

Loading spinner