গল্প: নৈঃশব্দে ভালো...
 
Notifications
Clear all

গল্প: নৈঃশব্দে ভালোবাসা (Writer: Sana sheikh)


Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago

 

 

"তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড হয়ে আমার বয়ফ্রেন্ডকে কীভাবে বিয়ে করতে পারলি নায়লা? তোর বিবেকে একটুও বাধলো না?"

তানিজার কথা শুনে নায়লা বিদ্রুপ করে বলে,

"কে তোর বেস্টফ্রেন্ড? আমি? সিরিয়াসলি? তোর মতো একটা মেয়েকে এই নায়লা কোনো দিন বেস্টফ্রেন্ড ভাবেই নি। আর কি বললি তুই? তোর বয়ফ্রেন্ডকে বিয়ে করতে আমার বিবেকে বেধেছে কিনা? বিশ্বাস কর তাহেরকে বিয়ে করতে আমার বিবেকে একটুও বাধেনি।"

"নায়লা তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড—

নায়লা তানিজাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,

"তোর বেস্টফ্রেন্ড আমি কোনো কালে ছিলাম না। আর তাহের নিজে আমাকে প্রোপোজ করেছিল।"

"তুই জানতি আমরা একে অপরকে ভালোবাসি।"

"তুই ভালোবাসতি, তাহের বাসতো না। আগে হয়তো বাসতো কিন্তু এখন বাসে না। তোর মতো একটা আনস্মার্ট ক্ষ্যাতকে কোনো ছেলেই ভালোবেসে বিয়ে করতে চাইবে না। তাহেরকে দেখেছিস কেমন স্মার্ট? ওর পাশে তোকে মানায়? তাহেরের পাশে আমাকে মানায়, এই নায়লাকে, তোকে না।"

তানিজার দু'চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। নিজের বেস্টফ্রেন্ডের কথা গুলো বিশ্বাসই করতে পারছে না, তাহের কীভাবে ওর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারল? এভাবে ঠকালো ওকে? 

নায়লার পাশে এসে দাঁড়ায় তাহের। হাতে গোলাপ ফুল। তানিজা সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও নিজ হাতে গোলাপটা নায়লার কানে গুঁজে দেয়। নায়লার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বলে,

"সুন্দর লাগছে তোমাকে।"

নায়লা মুচকি হেসে তানিজার দিকে তাকায়। 
তানিজা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাহেরের দিকে। 
এই তাহের কিনা এককালে ওর জন্য মরিয়া হয়েছিল! ওর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পিছন পিছন ছুটত! মানুষ এতটা পরিবর্তন হয়? এত বাজেভাবে ঠকায়? একটুও লজ্জা নেই, নেই কোনো অনুশোচনা। ও সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও এমন কাজ কীভাবে করছে? মিনিমাম লজ্জা বোধের কারণেও তো একটু সংযত করতে পারে নিজেকে। 

নায়লা ঘাড়ের উপর থাকা চুল গুলো হাত দিয়ে সরিয়ে দেয়। তানিজার চোখ নিজে থেকেই নায়লার ঘাড়ের উপর পড়ে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে লাভ বাইটের দাগ। তানিজা দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। ঘৃণা হচ্ছে দু'জনকে দেখে, তার চেয়েও বেশি ঘৃণা হচ্ছে নিজেকে। পরিবারের পর এই দু'জন মানুষকে বেশি ভালোবেসেছিল, আর এই দু'জনেই ওকে ঠকিয়ে দিল। 

তাহের তানিজাকে বলেছিল ওর জব হয়ে গেলেই তানিজার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে। কিন্তু তাহের করলো কী? জব হয়ে যেতেই নায়লাকে বিয়ে করে নিল। 

তানিজা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে তাহেরের দিকে তাকিয়ে বলে,

"তাহের, তুমি না ভালোবাসতে আমাকে, জব হয়ে গেলেই নাকী বিয়ে করবে আমাকে? আমি নিজে থেকেই এসেছিলাম তোমার জীবনে?"

তাহের গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,

"ভালো.... বাসতাম কিন্তু এখন বাসি না। মানুষের মন পরিবর্তন হতে কতক্ষন? নিজে থেকে তোমার জীবনে এসেছিলাম আবার নিজে থেকেই চলে গেলাম। তোমাকে আগে ভালো লাগলেও এখন লাগে না।"

তানিজা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। নায়লার দিকে তাকিয়ে বলে,

"তোর জন্য যে আমাকে ঠকিয়েছে সে একদিন অন্য কারো জন্য তোকেও ছেড়ে দিতে দু'বার ভাববে না। আমার সঙ্গে করা অন্যায়ের ফল তোরা দু'জনেই ভোগ করবি, দেখে নিস।"

কথা গুলো বলে আর এক মুহুর্তও দাঁড়ায় না তানিজা। হাঁটা শুরু করে রিকশার দিকে। গভীর কালো চোখ জোড়া দিয়ে জলপ্রপাতের ন্যায় জল গড়িয়ে পড়ছে। বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। গত তিনটা বছর ধরে যাকে ভালোবাসলো সে আজ অন্য কারো। 
তানিজা তো সবসময় বলতো বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসায় জড়াবে না। কিন্তু কী যেন হয়ে গেল একদিন। ওর পেছন পেছন ভালোবাসার দাবি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো তাহেরের ভালোবাসা মেনে নিল। মন প্রাণ উজাড় করে তাহেরকে ভালোবাসলো। আর সেই তাহের ওকে ঠকিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করে নিয়েছে। 

কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে তানিজার। চিৎকার করে কাঁদতে পারলে ভালো লাগতো কিন্তু তানিজা তো চিৎকার করে কাঁদতে পারে না। নিজের কষ্ট গুলোও কাউকে বলতে পারে না, বোঝাতেও পারে না। সবসময় চুপচাপ আর শান্ত স্বভাবের মেয়ে, কখনো ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছায় কাউকে দুঃখ-কষ্ট দেয় না। ওর সঙ্গে কেন এমন হলো? হারামে জড়াতে না চেয়েও কেন জড়িয়ে গিয়েছিল? কেন ভুলে গেল বিবাহ বহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসা নিষিদ্ধ? হারামে না জড়ালে তো আজ এত কষ্ট পেতে হতো না। এই কষ্ট না কাউকে বলতে পারবে আর না সহ্য করতে পারবে। বুকের ভেতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে। (গল্পের লেখক সানা শেখ। গল্পের পরবর্তী পার্ট আগে আগে পেতে সানা শেখ পেজটি ফলো দিয়ে রাখবেন সবাই।)
________________ 

তানিজা বাড়িতে ফিরে আসে। কলেজ ছুটি হয়েছিল অনেকক্ষণ আগেই। নায়লা আর তাহেরের সঙ্গে কথা বলতেই দেরি হয়ে গেছে বাড়িতে ফিরতে। 

কলিং বেল চাপতেই যাবে বুঝতে পারে দরজা খোলা, তাই আর কলিং বেল চাপে না। দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশ করতেই থ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। বাড়িতে এত মানুষ কেন? 

তানিজাকে দেখে ওর মা আর ভাবী এগিয়ে আসে দ্রুত। তানিজার ভাবী তানিজার হাত ধরে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে বলে,

"এত দেরি হলো কেন আজকে? কখন থেকে সবাই কল করছি, ফোন বন্ধ। ফোনের কী হয়েছে?"

"ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়িতে এত মানুষ কেন?"

"ওনারা তোমাকে দেখতে এসেছেন। এখন দ্রুত রুমে চলো।"

ভাবীর কথা শুনে তানিজা চমকে ওঠে। পা দুটো আপনাআপনি থেমে যায়। ভাবীর দিক থেকে চোখ সরিয়ে পাশে থাকা মায়ের মুখের দিকে তাকায়। মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হতে চাইছে না এখন। 

"কী হলো? চলো।"

তানিজা নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে বলে,

"মা...মানে? কী বলছেন এসব?"

"এত অবাক হওয়ার কী হয়েছে? ছেলেপক্ষ এসেছে তোমাকে দেখার জন্য।"

এর মধ্যে ঘটক এগিয়ে এসে বলেন,

"আর তৈরি করাতে হবে না আলাদা করে। এভাবেই নিয়ে আসো।"

আরো চমকে ওঠে তানিজা। এভাবেই দেখবে মানে? ওর চোখ দিয়ে তো কিছুক্ষণ আগেই পানি পড়েছিল, এখনো হয়তো চোখের পানির দাগ রয়ে গেছে গালে। 

"কী হলো? নিয়ে চলুন মেয়েকে।"

"এভাবে? তৈরি করিয়ে নিয়ে আসলে ভালো হতো না?"

"আর কী তৈরি হবে? কিচ্ছু করতে হবে না, নিয়ে আসুন।"

তানিজার ভাবী শাশুড়ি মায়ের মুখের দিকে তাকায়, তারপর তাকায় শ্বশুর আর হাজব্যান্ডের দিকে। 
তানিজার বাবা তানভীর শেখ বলেন,

"নিধি, তানিজাকে নিয়ে আসো।"

তানিজার ভাবী নিধি তানিজাকে নিয়ে সোফার দিকে পা বাড়ায়। তানিজা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিধি ঘুরে তাকিয়ে বলে,

"কী হলো? চলো।"

তানিজা মৃদু স্বরে বলে,

"মুখটা ধুয়ে আসি।"

"ওনারা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন, যাওয়ার জন্যও তাড়াহুড়ো করছে। চলো।"

তানিজার কোনো কথা আর শোনা হয় না। ওকে টেনে নিয়ে আসা হয় সোফার কাছে। সকলের সামনে সোফায় বসানো হয় ওকে। তানিজা নিচের দিকে দৃষ্টি নামিয়ে রাখে। পরনে কালো রঙের সাধারণ একটা বোরকা, হিজাবটাও কালো রঙের, মাস্ক পরা, সেটাও কালো রঙের। 
নিধি সকলের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে,

"আসলে ওর ফোনে চার্জ নেই তাই ফোন বন্ধ।"

পাশ থেকে একজন বলে,

"সমস্যা নেই, আমরা কিছু মনে করিনি। মেয়ের মাস্ক খুলুন।"

নিধি হাত এগিয়ে নেয় তানিজার মাস্ক খোলার জন্য। তানিজার শরীর থরথর করে কাঁপছে। চোখ দুটো পানিতে টুইটুম্বর হয়ে গেছে। ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে। সবাই যদি বুঝতে পেরে যায় ও কেঁদেছিল, কী হবে? কী বলবে? 

মাস্ক খুলে ফেলে নিধি। তানিজা মাথা তোলে না। নিধি জোর করে ওর মুখ তুলে ধরে সকলের সম্মুখে। 

সবাই দেখে তানিজাকে। ছেলের বাবা নাজিম উদ্দিন সরকার তানিজাকে বলেন,

"তোমার নাম কী মা?"

তানিজা কম্পিত স্বরে বলে,

"তানিজা তাসনিম।"

"বাবার নাম?"

"তানভীর শেখ।"

"ভাইয়ের নাম?"

"তন্ময় শেখ।"

"দাদার নাম?"

"মাহমুদুল শেখ।"

ঘটক হেসে বলেন,

"মেয়ে কিন্তু বোবা না ভাই।"

"তাইতো দেখছি।"

"আরো কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলে করতে পারেন।"

"আর কী জিজ্ঞেস করব? এখনকার ছেলেমেয়ে শিক্ষিত, তাদের কিছু জিজ্ঞেস করার থাকে না।"

সবাই হাসে। ঘটকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলেন,

"মেয়ে তো মাশা-আল্লাহ, আপনার বর্ণনার চেয়েও বেশি সুন্দর।"

ঘটক নিজেও হেসে বলেন,

"বলেছিলাম না, মেয়ে নিখুঁত সুন্দরী। দেখতে যেমন সুন্দরী, চরিত্রও তেমন সুন্দর। আশেপাশে খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন, কেউ বলতে পারবে না এই মেয়ের মধ্যে কোনো ভেজাল বা খারাপ কিছু আছে। যেমন শান্ত তেমন নম্র, ভদ্র, সভ্য একটা মেয়ে।"

নাজিম উদ্দিন সরকার তানিজার দিকে তাকিয়ে বলেন,

"কি মা আমার ছেলেকে দেখেছ?"

তানিজা চুপ হয়ে থাকে। উনি হেসে বলেন,

"ছেলেকে দেখে নাও পছন্দ হয় কি-না।"

তানিজা ছেলের দিকে তাকায় না। নিধি জোর করে তানিজার মুখ তুলে ধরে ছেলের দিকে। তানিজা এক নজর তাকিয়েই দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। 
ছেলের গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের। বলিষ্ঠ গড়নের, লম্বায় প্রায় ছয় ফুট হবে বোধহয়। গায়ে ফরমাল সাদা শার্ট, পরনে কালো প্যান্ট। দু'গাল ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি। দৃষ্টি তীক্ষ্ম আর ধারালো, চোখ-মুখ গম্ভীর হয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে জোর করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কেমন একটা বিরক্তি ভাব ফুটে আছে চোখে-মুখে।

নাজিম উদ্দিন সরকার পাশে বসে থাকা ছেলের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলেন,

"মেয়ের সঙ্গে আলাদা কথা বলতে চাইলে বলে আসো।"

ছেলে গম্ভীর স্বরে বলে,

"প্রয়োজন নেই।"

"সবসময় এমন করবে না। এই মেয়ে আমার পছন্দ হয়েছে, তোমার মায়েরও পছন্দ হয়েছে। একেই আমরা বাড়ির বউ করব। নিজের কথা বলবে মেয়ের মতামতও নেবে। যাও এখন।"

ছেলের কানের কাছে কথা গুলো বলে নিধির দিকে তাকিয়ে বলেন,

"ওদের দু'জনের আলাদা কথা বলার জন্য ব্যবস্থা করে দিন একটু।"

ছেলে বিরক্ত হয়ে বাবার দিকে তাকায়। বলছেই কথা বলতে চায় না। 

নিধি তানিজার হাত ধরে সোফা থেকে তুলে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে বলে,

"ভাইয়া আসুন।"

নাজিম উদ্দিন সরকার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন,

"যাচ্ছো না কেন? যাও।"

পাশ থেকে ছোটো ভাই বলে,

"লজ্জা পাচ্ছে বোধহয়, আমি সাথে যাব ভাইয়া?"

বড়ো ভাই গরম চোখে তাকাতেই ছোটো ভাই মুখ বন্ধ করে অন্য দিকে তাকায়। এখন দৃষ্টি দিয়েই ভস্ম করে দেবে ওকে। 

ছেলেকে জোর করেই তুলে দেন নাজিম উদ্দিন সরকার। এত মানুষের সামনে কিছু বলতে না পেরে বাধ্য হয়েই বসা থেকে উঠে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। ভেতরে ভেতরে রাগে ফেটে পড়ছে। 

সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই দেখে তানিজা আর নিধি দাঁড়িয়ে আছে। নিধি তানিজাকে বলে,

"তুমি ভাইটাকে নিয়ে ছাদে গিয়ে কথা বলো, আমি নিচে যাচ্ছি।"

নিধি দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায়। তানিজা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ওর পুরো শরীর তখনো কাঁপছে, বুকের ভেতর জোরে জোরে শব্দ হচ্ছে। 

চোখ তুলে তাকাতেই দেখে ছেলে গম্ভীর হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। সাথে সাথেই দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে বলে,

"ছাদে আসুন।"

তানিজার কন্ঠ কাঁপছে। ও দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে। ছেলেটা পেছন পেছন আসছে নাকী আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে লক্ষ্য নেই। 

চলবে........... 

নতুন গল্পটি কেমন লেগেছে অবশ্যই মতামত জানাবেন সবাই।  

Loading spinner

Reply
3 Replies
Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago
Part:02
 
তানিজা ছাদে এসে একপাশে দাঁড়ায়। এদিকটায় গাছের ছায়া পড়ে আছে। ঝিরিঝিরি হাওয়া বইছে। 
স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে নিজের আশেপাশে তাকায় কিন্তু ছেলেটাকে দেখতে পায় না। নিচেই দাঁড়িয়ে আছে নাকী? ছাদের দরজার দিকে তাকাতেই দেখে ছেলেটা ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে। হৃদস্পন্দন আবার বেড়ে যায়। উল্টো ফিরে দূরে তাকিয়ে থাকে। 

ছেলেটা এগিয়ে এসে ওর থেকে কয়েক হাত দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ায় পাশে। 
তানিজা যেন শ্বাস বন্ধ করে নিয়েছে এখন। 

বেশ অনেকটা সময় নীরবতায় পেরিয়ে যায়। কেউ কোনো কথা বলছে না, একে অপরের দিকে তাকাচ্ছেও না। দু'জনের দৃষ্টিই সামনের দিকে স্থির। 

ছেলেটা তানিজার দিকে তাকায়। মেয়েটাকে দেখতে ওর কাছে মন্দ লাগেনি। ওর ফুপুও তো বলেছিল মেয়েটা নাকী খুবই ভদ্র আর শান্ত। দেখেও ওর কাছে সেরকমই মনে হচ্ছে। 

"আপনার নামটা যেন কী?"

হঠাৎ পুরুষালি গম্ভীর গলার স্বর শুনে ভরকে যায় তানিজা। তড়িৎ গতিতে মুখ ফিরিয়ে তাকায়, সঙ্গে সঙ্গেই আবার দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। মৃদু স্বরে বলে,

"তানিজা।"

"কোন ইয়ার?"

"ফাইনাল।"

দু'জনের মধ্যে আবার নীরবতা নেমে আসে। তানিজা নিচের দিকেই দৃষ্টি রেখে বলে,

"আপনার নাম?"

"হীরা মানিক।"

আবারও তড়িৎ গতিতে মুখ তুলে তাকায় তানিজা। ওর চাহনি দেখে কপাল ভ্রু কুঁচকে হীরা বলে,

"এভাবে তাকানোর কিছু হয়নি, আমার নাম হীরা মানিকই। সবাই হীরা বলে ডাকে।"

তানিজা দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে দূর আকাশের দিকে তাকায়। আকাশ ঝলমল করছে, কোথাও মেঘ দেখা যাচ্ছে না। একদম নীল হয়ে আছে আকাশটা, দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগছে। 

হীরা নিজেও আকাশের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর ধীর স্বরে বলে,

"আপনার কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন।"

তানিজা চুপ থাকে। হীরা আগের মতো করেই বলে,

"যা বুঝলাম দুই পরিবারের সকলেরই পছন্দ হয়ে গেছে।  এখন তাদের পছন্দে তো আমাদের জীবন চলবে না। আপনার কোনো সমস্যা থাকলে বলতে পারেন।"

তানিজা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। হীরা আবার বলে,

"আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি তাই সরাসরিই বলছি। আপনার যদি কোনো পছন্দ থাকে বা কাউকে ভালোবাসেন আমাকে বলতে পারতে আমি সবাইকে ম্যানেজ করে নেবো আপনার উপর কোনো দোষ পড়বে না।"

তানিজা ঢোঁক গিলে মৃদু স্বরে বলে,

"এমন কিছু নেই।"

"সত্যিই নেই? পরে আবার আমাকে দোষারোপ করতে পারবেন না আমি আপনাদের মাঝখানে এসেছি।"

তানিজা মাথা নিচু করে বলে,

"এমন কিছু নেই, কাউকে ভালোবাসি না আমি কিন্তু আগে আমার এক জ—

হীরার ফোন বেজে ওঠে। নিজের সব কথা শেষ করতে পারে না তানিজা। পকেট থেকে ফোন বের করতে করতেই লাইন কে'টে গেছে, মিসড কল দিয়েছে। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে ওর ছোটো ভাইয়ের কল। মেসেজ আছে দুটো।
প্রথম টা, "ভাইয়া নিচে আসো, আব্বু আসতে বলছে।"
দ্বিতীয় টা, "যেতেই চাইলে না আর এখন আসতেই চাইছো না। এত প্রেম এখনই করলে বিয়ের পর কী করবে?"

মেসেজ দুটো পড়ে চোয়াল শক্ত হয় হীরার। 
তানিজার দিকে তাকিয়ে আগের মতোই গম্ভীর স্বরে বলে,

"আসছি।"

মাথা নাড়ে তানিজা। হীরা বড়ো বড়ো কদম ফেলে এগিয়ে যায় সিঁড়ির দিকে। পেছন থেকে তাকিয়ে আছে তানিজা। পুরো কথা তো শেষ করতেই পারলো না। ছাদে আসার পর থেকেই সব কিছু বলতে চাইছিল তবে বলতে পারছিল না। অবশেষে যখন মুখ খুলল তখন কথা শেষ করতেই পারলো না। 
দু'চোখ বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এতক্ষণ অনেক কষ্টে চোখের পানি আটকে রেখেছিল। বাড়ির গেটের ভেতর প্রবেশ করার সময় ভালোভাবে গাল মুছে নিয়েছিল যেন কেঁদেছে যে তা বোঝা না যায়। মাস্ক ছিল বলে অত টেনশন হয়নি কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করে এত মানুষ জন দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিল। ভয়ে হাত পা কাঁপতে শুরু করেছিল, এখনও কাঁপছে। 
_______________

নিজের রুমে এসে বোরকা হিজাব খুলে ওয়াশরুমের ফ্লোরে বসে আছে তানিজা। ঝর্ণা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে ওর ওপর। দু'চোখ বেয়ে এখনো পানি গড়িয়ে পড়ছে অনবরত। 
আজকেই এতকিছু হতে হলো? 
হীরার সঙ্গে বিয়েটা ফাইনাল হয়ে গেছে। আগামী কালকেই বিয়ে। তিনদিন পর হীরার ছুটি শেষ, আবার ছুটি পাবে তিনমাস পর। হীরার বাবা নাজিম উদ্দিন সরকার আগামী কালকেই বিয়েটা সেরে ফেলতে চাইছেন। অবশ্য তানিজার বাপ ভাই রাজি হতে চায়নি, তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে এভাবে হুট করে দেবেন? আয়োজনের একটা ব্যাপার স্যাপার আছে না? আত্মীয় স্বজনদের বলতে হবে, কত ঝামেলা। একদিনের মধ্যে কীভাবে কী করবেন এতকিছু? কিন্তু নাজিম উদ্দিন সরকার কিছুতেই ডেট পেছাতে রাজি নন। অনেক কষ্টে ছেলেকে রাজি করিয়েছেন বিয়েতে, দেরি হলে আবার যদি বেঁকে বসে? একবার বিয়েটা হয়ে গেলে আর কিছুই করতে পারবে না। 

শেষ পর্যন্ত নাজিম উদ্দিন সরকারের কথায় সবাই রাজি হয়। এই আধুনিক যুগে একদিনের মধ্যে আত্মীয় স্বজনদের কল করে আনা খুব বেশি কষ্টের কিছু নয়। বিয়েটা যেহেতু কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত হবে তাই খুব বেশি ঝামেলা হবে না। 

ছেলেপক্ষের সবাই ইতি মধ্যেই শপিং মলে চলে গেছে কেনাকাটা করার জন্য। এক রাতের মধ্যেই সবার কেনাকাটা শেষ করতে হবে। 

নিধি এসে তানিজার ওয়াশরুমের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলে,

"তানিজা এত কী করছো ভেতরে? এত সময় লাগছে কেন? তাড়াতাড়ি করো মা ডাকছে তোমাকে।"

তানিজা নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলে,

"আসছি।"

তানিজার গলার স্বর কেঁপে উঠলেও নিধি বুঝতে পারে না, তাড়াহুড়ো থাকায় দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যায়। বাড়ির একমাত্র বউ হওয়ার দরুন বেচারি ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ননদের বিয়ে উপলক্ষে। 

তানিজা গোসল শেষ করে বেরিয়ে আসে। ভেজা কাপড় বারান্দায় মেলে দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। চোখ-মুখ কী অস্বাভাবিক লাগছে? কেঁদেছে বোঝা যাচ্ছে? না, এমন কিছু বোঝা যাচ্ছে না।  মুখে মশ্চারাইজার লাগিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। মনের মধ্যে ভীষন অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একা থাকতে পারলে ভালো লাগত। ছাদ থেকে রুমে এসেই তাহের আর নায়লাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে। 
______________ 

এক শুক্রবার। 
তানিজা আর হীরার বিয়ে। 
সেন্টারে দুই পরিবারের আত্মীয় স্বজন সবাই উপস্থিত। একদিনের মধ্যেই দুই পরিবার সকল আত্মীয় স্বজনদের উপস্থিত করেছেন ছেলেমেয়ের বিয়েতে। 

স্টেজের উপর দাঁড়িয়ে আছে হীরা। পরনে সাদা শেরওয়ানি, চোখ-মুখ ভীষন গম্ভীর। 

তানিজাকে নিয়ে স্টেজের দিকে এগিয়ে আসছে ওর বাবা তানভীর শেখ। হীরা চোখ তুলে তানিজার দিকে তাকায়। তানিজার পরনে অফ হোয়াইট লেহেঙ্গা। মুখে ব্রাইডাল মেক-আপ। হিজাব বাঁধা রয়েছে। বাবার সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে নিচের দিকে দৃষ্টি রেখে এগিয়ে আসছে স্টেজের দিকে। অনেকেই ভিডিও করছে ছবি তুলছে। 

হীরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে তানিজার দিকে। নজর সরাতে ইচ্ছে করছে না। গম্ভীর চোখ মুখে অন্যরকম এক মুগ্ধতা বিরাজ করছে এখন। 

সকলের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা নায়লা স্টেজে দাঁড়িয়ে থাকা হীরার দিকেই তাকিয়ে আছে। হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এখন। তাহেরের চেয়ে হীরা অনেক বেশি হ্যান্ডসাম আর আকর্ষণীয়। তাহের সামান্য একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে জব করে, আর হীরা কাস্টম অফিসার। 

তানিজার কাছ থেকে তাহেরকে কেড়ে নিয়ে তো আরও ভালো কিছু পাইয়ে দিল। নাম হীরা হলেও মানুষটা আসলেই একটা হীরা। 

নায়লার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তাহের স্টেজে বসে থাকা দু'জনের দিকে তাকিয়ে আছে। তানিজা স্টেজে উঠে এসে বসেছে হীরার পাশাপাশি। 
দু'জনকে পাশাপাশি অনেক সুন্দর লাগছে। হীরা একটু পর পর আড়চোখে তানিজার দিকে তাকাচ্ছে। 

তাহেরের ভীষণ জেলাসি ফিল হচ্ছে। 
কিছুতেই মানতে পারছে না তানিজাকে অন্য ছেলে বিয়ে করছে। 
তানিজা কেন বিয়ে করবে এখনই? ওর বিরহে তো ওর এখন পোড়ার কথা ছিল। দেবদাসী হয়ে রুমের এক কোনায় বসে কাঁদবে আর ওকে মনে করবে। ওকে কল করে বার বার রিকুয়েস্ট করবে ওর কাছে ফিরে আসার জন্য। না, এই মেয়ে তো তেমন কিছুই করেনি উল্টো আজকেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে গেছে। 

তাহের হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে কুটিল হাসে। সুখে তো কিছুতেই থাকতে দেবে না। 

চলবে...........
 

Loading spinner

Reply
Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago
Part:03
 
 

বর বউকে নিয়ে সরকার বাড়িতে ফিরে এসেছে বাড়ির সবাই সবাই। তানিজার বাবার বাড়ির সবাই নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। সরকার বাড়িতে অল্প সংখ্যক নিকটাত্মীয় ছাড়া বাকী সবাইও নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। 

এখন রাতের প্রায় দশটা বেজে গেছে। একটু আগেই তানিজাকে বাসর ঘরে বসিয়ে রেখে এসেছে হীরার কয়েক জন কাজিন।  

কাঁচা ফুল দিয়ে সাজানো বিছানায় ঘোমটা টেনে বসে আছে তানিজা। বুকের ভেতর টিপটিপ করে কাঁপছে। সেন্টার থেকে ফেরার পথে তাহেরের দিকে চোখ পড়েছিল। শ'য়'তা'ন'টা অদ্ভুতভাবে হাসছিল ওর দিকে তাকিয়ে। কোনো শ'য়'তা'নি করেছে কি-না কে জানে!

তানিজা চায়নি নায়লাকে ইনভাইট করতে। ওকে ইনভাইট করেছে তানিজার বাড়ির মানুষ। বাড়ির সবাই জানে তানিজা আর নায়লা ছোটো বেলা থেকেই ভালো বন্ধু। তানিজা বাড়ির কাউকে নিষেধ করতে পারেনি ওকে ইনভাইট করতে। এখন যদি নিষেধ করে ওকে ইনভাইট করতে তাহলে তো সবাই এর কারণ জানতে চাইবে। তানিজা যেখানে ছোটো ছোটো অনুষ্ঠানেও নায়লাকে ইনভাইট করে সেখানে ওর বিয়েতে কেন ইনভাইট করতে নিষেধ করছে এর কারণ তো ওকে বলতে হবে। তখন কী বলবে তানিজা? তাই আর বাড়ির কাউকে কিছু বলেনি। 

নায়লার তো বিয়ে হয়ে গেছে যদিও ঘরোয়াভাবে বিয়েটা হয়েছে শুধু। নায়লার বড়ো ভাই দেশে ফিরলে বিয়ের আয়োজন করা হবে। জামাই ছাড়া কীভাবে বিয়ে খেতে আসবে নায়লা তাই ওর জামাইকেও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। বিয়ের ইনভাইট করার জন্য কল করার পর নায়লার বিয়ের কথা জানতে পেরেছে তানিজার বাড়ির সবাই। ঘরোয়াভাবে বিয়েটা হওয়ায় কাউকেই জানানো হয়নি সেভাবে। 

হীরাকে এখনও ড্রয়িংরুমে দেখে নাজিম উদ্দিন সরকার ছেলের কাছে এগিয়ে আসেন। চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারেন কিছু একটা হয়েছে। 

"হীরা, কিছু হয়েছে?"

হীরা স্বভাব সুলভ গম্ভীর স্বরে বলে,

"না, কী হবে?"

"এখনও রুমে না গিয়ে এখানে কেন?"

"এইতো যাচ্ছি।"

বাবাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রুমের দিকে এগিয়ে যায় হীরা। পেছন থেকে তাকিয়ে রইলেন নাজিম উদ্দিন সরকার। সেন্টার থেকে ফেরার পর থেকেই হীরার চোখ মুখের ভাব পরিবর্তন হয়ে গেছে। 
কী হয়েছে? 

দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করে হীরা। একবার বিছানার দিকে তাকিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। হেঁটে এসে দাঁড়ায় ড্রেসিং টেবিলের সামনে। ফোন ওয়ালেট হাতের ঘড়ি সব রাখে ড্রেসিং টেবিলের ওপর। তারপর এসে দাঁড়ায় আলমারির সামনে। ভেতর থেকে ট্রাউজার আর টিশার্ট বের করে নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 

তানিজা ঘোমটার ভেতর থেকে চোখ তুলে ওয়াশরুমের বন্ধ দরজার দিকে তাকায়। কী হলো এটা? নড়াচড়া না করে আগের মতোই বসে রইলো। 

বেশ অনেকক্ষণ পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে হীরা। ভেজা চুলগুলো টাওয়েল দিয়ে মুছতে মুছতে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ায়। চেঞ্জ করে শাওয়ার নিয়েছে। টাওয়েল মেলে দিয়ে রুমে ফিরে আসে। ব্যালকনির দরজা লাগিয়ে দিয়ে ফোন হাতে নিয়ে বিছানার পাশে এসে দাঁড়ায়। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে বিছানায় বসে গম্ভীর স্বরে বলে,

"চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়ুন।"

হীরার গম্ভীর ঠান্ডা গলার স্বর শুনে তানিজার বুকের ভেতর আরও জোরে জোরে শব্দ করতে শুরু করে। একমুহুর্ত দেরি না করে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। স্যুটকেস খুলে ভেতর থেকে শাড়ি, ব্লাউজ, পেটিকোট আর টাওয়েল বের করে নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 

হীরা পুরো বিছানায় একবার নজর বুলায়। বিছানার উপর থাকা ফুলের পাপড়িগুলো তুলে ফেলে দেয় একপাশে। মেইন লাইট অফ করে ডিম লাইট অন করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে নিজের জায়গায়। 

তানিজা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে রুমে ডিম লাইট জ্বলতে দেখে বিছানার দিকে তাকায়। হীরাকে উপুর হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে চোখ সরিয়ে সোফার দিকে তাকায়। হাতে থাকা নিজের শাড়ি আর হীরার শেরওয়ানি সোফার উপরে রাখে। 
টাওয়েলটা রেখে দিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা হীরার দিকে তাকিয়ে থাকে। 
হীরার এমন আচরণের কারণ কী? সেন্টারেও তো বেশ অন্যরকম লাগলো, হঠাৎ কী হলো?

আধা ঘণ্টার মতো দাঁড়িয়ে থাকার পর ধীর পায়ে এগিয়ে আসে বিছানার কাছে। হীরা ঘুমিয়ে গেছে কি-না বুঝতে পারছে না, হয়তো ঘুমিয়ে গেছে। নিজেও বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে কিনার ঘেঁষে। দু'জনের মাঝখানে বেশ অনেকটা দূরত্ব। 
___________

তানিজা সকালে ঘুম থেকে উঠে হীরাকে বিছানায় দেখতে পায় না। শোয়া থেকে উঠে নেমে দাঁড়ায় বিছানা থেকে। আশেপাশে নজর বুলিয়ে বুঝতে পারে হীরা রুম থেকে বেরিয়ে গেছে। নিজের ফোনটা খুঁজে হাতে তুলে নেয়। প্রায় ছয়টা বেজে গেছে। নতুন বউ এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছে, মানুষ জন কী বলবে! ফোন রেখে তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 

রাতে শোয়ার পরেও ঘুম আসছিল না, ঘুমিয়েছিল অর্ধেক রাত পার করে। গতরাতের আগের রাতেও ঘুমোতে পারেনি, প্রায় সারারাত জেগেই ছিল। তার আগের রাতেও জেগেই ছিল। 

ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানা গুছিয়ে নেয়। অপেক্ষা করতে থাকে কেউ ডাকতে আসার। নতুন বউ হয়ে একা একা তো আর রুম থেকে বেরিয়ে যেতে পারে না। 

সাত টার পর রুমের দরজায় নক হয়।। তানিজা বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। ভেতরে প্রবেশ করে হীরার কয়েক জন মেয়ে কাজিন। 

একজন মেয়ে মুচকি হেসে বলে,

"উঠে পড়েছেন, আমরা তো ভেবেছি এখনো ঘুমিয়ে আছেন।"

তানিজা নিজেও মৃদু হেসে বলে,

"উঠেছি আরও অনেকক্ষণ আগেই।"

"ওওও, তাহলে আমরাই দেরি করে ফেলেছি।"

"ভাবী নিচে চলুন, নতুন বউ দেখার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছে।"

তানিজা শাড়ির আঁচল আরেকটু টেনে চার জনের সঙ্গে রুম থেকে বের হয়। 

নিচে নেমে এসে সকলকে উদ্দেশ করে সালাম দেয়। 
নতুন বউ দেখে সবাই প্রশংসা করে। 

হীরা বাড়ির ভেতর প্রবেশ করছিল, তানিজার সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই আবার দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে রুমের দিকে এগিয়ে যায়।  

নাজিম উদ্দিন সরকার ছেলের পেছন পেছন বাড়িতে প্রবেশ করেন। ওনার দুই হাত ভর্তি টাটকা বাজার। ওনার পেছন পেছন আরও কয়েক জন বাজার হাতে ভেতরে প্রবেশ করছে। 

হাতের বাজার রেখে এসে তানিজার পাশে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে বলেন,

"ছেলের বউ কেমন দেখলেন সবাই?"

"মাশা-আল্লাহ ভালো। খুঁজে খুঁজে বউ এনেছেন একদম পরীর মতো। কথাবার্তাও তো সুন্দর।"

নাজিম উদ্দিন সরকার হাসেন। তানিজাকে ওনার বেশ মনে ধরেছে প্রথম দেখে। যেমন ছেলের বউ খুঁজছিলেন একদম তেমনই পেয়েছেন। আল্লাহ তা'য়ালা যা করেন ভালোর জন্যই করেন। 
_________

নয়টার দিকে তানিজার বাবা আর দু'জন কাজিন আসে সরকার বাড়িতে। হীরা আজকে আর শ্বশুরবাড়িতে যেতে পারবে না। বিকেলেই ফিরে যাবে চট্টগ্রাম। আগামীকাল থেকে ডিউটি করতে হবে। ছুটিতে এসে শ্বশুরবাড়িতে যাবে। 

তানিজাও আজকে যাবে না বাবার বাড়িতে, এক সপ্তাহ পর যাবে। তানভীর শেখ বিকেলে নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন মেয়ের জামাই রওনা হওয়ার পর। 

বাড়ির সকলের খাওয়া দাওয়া হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। তানভীর শেখ বেয়াই এর সঙ্গে বাইরে গিয়েছেন। তানিজা কাজিনদের নিয়ে হীরার কাজিনদের সঙ্গে বসে আছে। সবাই গল্প টল্প করলেও তানিজা চুপ হয়ে আছে। রাতের পর হীরা ওর সঙ্গে একটা কথাও বলেনি আর। তানিজা আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতেও পারছে না। কিছু তো একটা হয়েছেই হীরার। 

তানিজার কাজিন বলে,

"ভাইয়ার নামটা যেন কেমন না? বেশ ইউনিক আর আনকমন, এই নাম কে রেখেছে?"

একজন বলে,

"দাদি নাকী রেখেছিল শখ করে তাই নাম পরিবর্তন করা হয়নি আর।"

"দাদি কোথায়? ওনাকে তো দেখলাম না এখনও।"

"দাদি মা'রা গেছেন অনেক বছর, আমরা কেউ দাদিকে দেখিনি শুধু ভাইয়া দেখেছিল। এই কারণেই আরও দাদির দেওয়া নাম পরিবর্তন করা হয়নি।"

"এই নামের মধ্যে তাহলে ইমোশন জড়িয়ে আছে।"

"বলা যায় এমনই।"

"নামটা কিন্তু সুন্দর হীরা মানিক, আমাদের হীরা ভাই।"

সবাই হেসে ওঠে শেষের কথা গুলো বলার ধরণ দেখে। তানিজা চুপচাপ শুনছে সকলের কথা। একজন তানিজার দিকে তাকিয়ে বলে,

"ভাবী, আপনি কিছু বলছেন না কেন?"

তানিজা মৃদু হেসে বলে,

"কী বলব? আপনারা বলুন আমি শুনি।"

"ভাবী, আমরা আপনার চেয়ে বয়সে আর সম্পর্কে দুই ভাবেই ছোটো তাই আপনি আপনি না বলে তুমি করে বলুন।"

"আচ্ছা ঠিক আছে।"

"ভাইয়া তো বিকেলে চলে যাবে, আপনি এখানে বসে না থেকে ভাইয়ার কাছে যান।"

পাশ থেকে আরেকজন বলে,

"ভাবী, আপনার তো আজকে রুম থেকে বের হওয়াই উচিত না। যান যান দ্রুত রুমে যান, ভাইয়া বোধহয় আপনার জন্য ওয়েট করছে।"

"ভাবী দেখছি ভীষণ লাজুক, দেখ কেমন লাল হয়ে গেছে।"

"আয় হায় পিঙ্কিস বউ।"

"আরেহ পিঙ্কিস না, রেড বউ; লাল হয়ে গেছে।"

এতক্ষণ রুমে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও এখন এদের কথা শুনে লজ্জায় পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। বসা থেকে উঠে দ্রুত পায়ে হীরার রুমের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে। পেছন থেকে সবাই হু হা করে হাসছে। 

রুমে এসেই দেখে হীরা চেঞ্জ করছে, করছে বলতে করা শেষ প্রায় এখন শার্টের বোতাম লাগাচ্ছে। 
মুখ তুলে তানিজার দিকে তাকায় একবার তারপর আবার নিজের কাজে মনোযোগী হয়। তানিজা চুপচাপ বিছানার একপাশে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে। মন খারাপেরা জেঁকে ধরে আছে তিনদিন ধরেই। 
হীরার এমন আচরণও কষ্ট দিচ্ছে সঙ্গে ভয়ও হচ্ছে। তাহের কোনোভাবে হীরাকে কী কিছু বলেছে? কিন্তু কীভাবে বলবে? এখনকার যুগে তো বলাও অসম্ভব কিছু নয়, ইচ্ছে করলে যেকোনোভাবে কিছু বলতেই পারে। 

ঘাড় ঘুরিয়ে হীরার দিকে তাকাতেই দেখে হীরা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি সরিয়ে বাইরের দিকে তাকায় আবার। হৃদস্পন্দনের গতি হুহু করে বেড়ে গেছে। 

হীরা ফোনটা পকেটে ভরে হাত ঘড়িটা পরে নেয় হাতে। দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে গম্ভীর স্বরে বলে,

"আমি বের হচ্ছি, ফিরতে বিকেল হতে পারে দুপুরে সকলের সঙ্গে খেয়ে নিয়েন।"

বলতে বলতেই বেরিয়ে যায় রুম থেকে। তানিজা ওর যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকে। 

নিচে নেমে আসতেই হীরার মা এগিয়ে এসে বলেন,

"হীরা কোথায় যাচ্ছো এখন?"

"বাইরে, একটু কাজ আছে।"

"এখন আবার কীসের কাজ পড়ল? বিকেলেই তো চলে যাবে, এইটুকু সময় তো বাড়িতেই থাকতে পারতে।"

"জরুরী প্রয়োজন তাই যাচ্ছি, আসছি।"

হীরা ধুপধাপ পা ফেলে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। পেছন থেকে তাকিয়ে রইলেন আর মা। ওনার এই ছেলেটা বড়ো অদ্ভুত হয়েছে, কখন কী চলে মনের মধ্যে কেউ বুঝতে পারে না, বোঝার সাধ্যও নেই কারো। রহস্যময় একটা মানব এই ছেলে। 

তানিজা দুপুরের খাবার বাড়ির সকলের সাথেই খেয়েছে। খাওয়া দাওয়া সেরে রুমে ফিরে এসেছে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। মনের মধ্যে খচখচ করছে রাত থেকেই। হীরা কোথায় গেল? বাড়ির কাউকেই বলেনি কোথায় গেছে। 

চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়ে। 
_____________

চারটার পর বাড়িতে ফিরে আসে হীরা। রুমে এসে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে খাবার খাওয়ার জন্য আবার নিচে চলে যায়। বাড়িতে ফিরে তানিজাকে দেখতে পায়নি, হয়তো কোনো রুমে বসে আছে। 

তানিজা কথায় কথায় জানতে পেরেছে দুই বছর আগে হীরার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। মেয়েটার ছবি ফেসবুক থেকে খুঁজে বের করে তানিজাকে দেখিয়েছেও হীরার কাজিন সঙ্গে ইচ্ছে মতো গালাগালিও করেছে মেয়েটাকে। ওই মেয়ের রূপ সৌন্দর্য তানিজার ধারে কাছেও নেই। 

বিয়ের ঠিক দু'দিন আগে মেয়েটা পালিয়ে গিয়েছিল বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে। দুই পরিবার বিয়ের সব আয়োজন প্রায় করেই ফেলেছিল। সরকার বাড়ি নানান রঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছিল। অনেক আত্মীয় স্বজন বাড়িতে চলে এসেছিল। জাঁকজমক, হইহুল্লোড় লেগেই ছিল বাড়িতে, তারপর হুট করে সব ফিকে হয়ে যায় মেয়ের পালিয়ে যাওয়ার খবরে। হীরাও বিয়ের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল সেদিন রাতেই। এসেই জানতে পারে হবু বউ পালিয়ে গেছে। এর পর আর হীরাকে বিয়ের জন্য রাজি করানো যায়নি। ওই মেয়েটাকে হীরা নিজেই পছন্দ করেছিল, যদিও ওই বিয়েটাও ঘটকের মাধ্যমেই হচ্ছিল। পড়াশোনার চাপে কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকানোর ফুরসৎ হয়নি। জীবনের প্রথম কোনো এক মেয়েকে পছন্দ করেছিল সেও আরেক লাঙ্গের হাত ধরে পগার পার। শ'য়'তা'ন বেডি, যদি লাঙ একটা থেকেই থাকে তাহলে বিয়েতে রাজি হইলি কেন? 

এই কথাগুলো শুনে মুচকি হাসে তানিজা। মেয়েটা দারুণ মজার, এর সঙ্গে কথা বললে না হেসে থাকা দায়।

দুই বছর পর অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে হীরাকে বিয়ের জন্য রাজি করানো গেছে। হীরার স্বভাব চরিত্র, আচার ব্যবহার সম্পর্কেও তানিজার জানা হয়ে গেছে ইতি মধ্যেই। 

 কাজিনের ডাকে দরজার দিকে তাকায় তানিজা। 

"আপু, হীরা ভাইয়া এসেছে, তোমাকে যেতে বললো আন্টি।"

তানিজা বিছানা থেকে নেমে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে। নিচের দিকে যেতে নিলে তানিজার কাজিন বলে, 

"ভাইয়া তো রুমে গেছে, তোমাকেও রুমে যেতে বলেছে।"

তানিজা ঘুরে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। হাত পা ঘামতে শুরু করেছে। অস্থিরতায় জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। 

ধীর পায়ে রুমে প্রবেশ করে। হীরা ব্যাগ গোছাচ্ছে। চোখ তুলে একবার তাকিয়ে আবার গোছানোতে মনোযোগী হয়। ছয়টায় বাস, সাড়ে পাঁচটার মধ্যে বাড়ি থেকে বের হতে হবে। অলরেডি পাঁচটা বেজে গেছে। 

তানিজা চুপচাপ বসে রইলো, তাছাড়া আর কিইবা করবে? 

হীরা নিজের কাজ শেষ করে উঠে দাঁড়ায়। আলমারির ভেতর থেকে শার্ট প্যান্ট বের করে নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। চেঞ্জ করেই আবার বেরিয়ে আসে। 
পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুরোপুরি রেডি হয়ে যায়। 

সবশেষে ঘুরে দাঁড়ায় তানিজার দিকে। তানিজা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। হীরা ধীর পায়ে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়। নিজের সামনে হীরাকে দাঁড়াতে দেখে চোখ তুলে তাকায় তানিজা। হীরাকে পলকহীন তাকিয়ে থাকতে দেখে দ্রুত দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। 

তানিজাকে অবাক করে দিয়ে হীরা দুই হাতে ওর মুখ আগলে তুলে ধরে। বাক্যহীন তাকিয়ে থাকে কিছু সময়। তানিজার চোখ দুটো চঞ্চল হয়ে ছোটাছুটি করছে এদিক ওদিক যেন পালাতে চাইছে হীরার কাছ থেকে। 

হীরা তানিজাকে আরও অবাক করে দিয়ে ওর ললাটে ওষ্ঠ ছোঁয়ায়। স্থির দৃষ্টিতে হীরার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে তানিজা। চোখ মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে মেয়েটা ভীষণ শকড হীরার এমন কাজে। 

"সরি।"

তানিজার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড়ো বড়ো হয়ে গেছে। 

"আসছি, তিনমাস পর দেখা হচ্ছে আবার। পৌঁছে কল করব। ভালো থেকো, নিজের খেয়াল রেখো।"

আরও একটা চুমু খেয়ে চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে ব্যাগ হাতে রুম থেকে বেরিয়ে যায় হীরা। 
তানিজা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো দরজার দিকে। ডান হাত আপনাআপনি কপালে চলে এসেছে। 

স্বাভাবিক হতে সময় লাগে তানিজার। বসা থেকে উঠে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। হীরা সকলের কাছ থেকে বিদায় নেয়। বাইরের দিকে আগানোর আগে তানিজার দিকে তাকায় আবার তারপর বাইরের দিকে এগিয়ে যায়। 

হীরার পেছন পেছন বাড়ির সবাই এগিয়ে যাচ্ছে। তানিজা কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে রুমে ফিরে আসে। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকায়। হীরা নিজেও ব্যালকনির দিকে তাকায়। তানিজা দ্রুত সরে রুমে ফিরে আসে। 

বেশ কিছুক্ষণ ঝিম ধরে বসে থাকার পর ফোন হাতে তুলে নেয়। চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই যে এগারোটার দিকে চার্জে লাগিয়েছিল মাত্র খুলল চার্জ থেকে। 

ফোন অন করার একটু পরেই নোটিফিকেশনের চাপে ফোন হ্যাং হয়ে যায়। ওয়াই ফাই কানেক্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নোটিফিকেশন আসতে শুরু করেছে। 

পুরো দুই মিনিট পর ফোন ঠিক হয়। 
হোয়াটস অ্যাপের নোটিফিকেশন সংখ্যা দেখে অবাক হয়ে হোয়াটস অ্যাপ ওপেন করে। অপরিচিত একাউন্ট দেখে সেখানে ক্লিক করে। 
মেসেজ পড়তে গিয়ে ওর শ্বাস আটকে আসে। স্ক্রল করতে করতে দুই চোখ পানিতে টুইটুম্বর হয়ে যায়। মেসেজের শুরুর দিকে এসে ঠাস করে হাত থেকে ফোন নিচে পড়ে যায়। এই জন্যই গতকাল রাত থেকে হীরা এমন আচরণ করছে ওর সঙ্গে! ওর আর তাহেরের করা সকল মেসেজ স্ক্রিন ভিডিও করে হীরার ফোনে পাঠিয়ে দিয়েছে তাহের। শুধু তাই নয়, ওর সাধারণ পিকগুলো এডিট করে অশ্লীল বানিয়েছে। অনেকগুলো পিকে একটা ছেলেও আছে অশ্লীলভাবে তবে ছেলের মুখ বোঝা যাচ্ছে না। অনেকগুলো মেসেজ এডিট করা, এতঅশ্লীল মেসেজ তানিজা কোনোদিন করেনি।

এডিট করে হীরার ফোনে পাঠিয়ে দিয়েছে তাহের। সেটারও আবার স্ক্রিন ভিডিও করে তানিজাকে সেন্ড করেছে।  

হীরা অনেকক্ষণ তাহেরের সঙ্গে মেসেজে কথা বলেছে। তাহেরের মেসেজগুলো এমন যে তানিজা তাহেরকে ঠকিয়ে হীরাকে বিয়ে করেছে লোভে পড়ে। এবং ওর আর তাহেরের ফিজিক্যাল সম্পর্ক হয়েছে। 

হাত পায়ের সঙ্গে তানিজার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে। কী হবে এখন? দুই বাড়ির সকলের কাছেই যদি পাঠিয়ে দেয়? তানিজাকে বিশ্বাস করবে কী কেউ? না, কেউ বিশ্বাস করবে না। ওর সংসার শুরু হওয়ার আগেই শেষ। 

ভয়ে দ্রুত দরজা লাগিয়ে দেয় তানিজা। দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি পাচ্ছে না। চাপা স্বরে কাঁদতে কাঁদতে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে নিচে। 
ওর বাপ-ভাই এসব দেখলে ওকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে। 
তাহের এসব কীভাবে করতে পারল ওর সঙ্গে? ও-তো তাহেরকে ছাড়েনি, তাহের নিজে ওকে ছেড়েছিল। এই মুখ এখন কীভাবে দেখাবে হীরাকে? সবাই জেনে গেলে তাদেরই বা কীভাবে দেখাবে? ওর ম'রা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। 

চলবে..............

Loading spinner

Reply
Posts: 26
Topic starter
(@sana-sheikh)
Joined: 5 months ago
part:04 & last 
 
 
 
হীরা রিকশা নিয়ে বেশ কিছুটা পথ চলে এসেছে। কিছু একটা স্মরণ হতেই তাড়াহুড়ো করে রিকশা থামাতে বলে চালককে। 
রিকশা থামতেই রিকশা থেকে নেমে দাঁড়ায়। ভাড়া পরিশোধ করে দিয়ে বলে,

"আপনি চলে যান।"

ব্যাগ হাতে উল্টো ফিরে দ্রুত হাটা দেয় বাড়ির পথে। 
তানিজার জন্য গিফট এনে রেখেছিল বিয়ের আগের দিন রাতেই। বিয়ের রাতে তো দেওয়া হয়নি আবার আজকেও বের হওয়ার সময় তাড়াহুড়োয় দিতে ভুলে গেছে। আজকে না দিলে তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। এত লম্বা সময় অপেক্ষা করতে চায় না হীরা। 

গেট পেরিয়ে ভেতরে এসে কলিং বেল চাপে। একটু পরেই হীরার ছোটো ভাই দরজা খুলে দেয়। দরজার বাইরে বড়ো ভাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ছোটো ভাই অবাক হয়ে বলে,

"তুমি এখানে কেন? দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে তাড়াহুড়ো করে না বেরিয়ে গেলে বাড়ি থেকে?"

"সর সামনে থেকে।"

ছোটো ভাইকে ঠেলে সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে হীরা। ওকে বাড়িতে ফিরে আসতে দেখে বাড়ির সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। হীরার মা এগিয়ে এসে বলেন,

"ফিরে আসলে কেন?"

"একটু দরকার আছে।"

কথা বলতে বলতে ড্রয়িংরুমে নজর বুলায়, না তানিজা ড্রয়িংরুমে নেই। বেডরুমেই বোধহয় আছে এখনও। তাছাড়া বাকী সবাইও তো এখানেই রয়েছে। 

আর কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। পেছন থেকে সবাই তাকিয়ে থাকলেও কেউ কিছু বলে না। 

রুমের সামনে এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে বুঝতে পারে ভেতর থেকে লক করা। দু'বার ধাক্কা দিয়ে তানিজার নাম ধরে ডাকে। 
তানিজার সাড়া শব্দ না পেয়ে আবার ডাকতে শুরু করে।

"তানিজা, কী করছো? দরজা খোলো।"

হীরার গলার স্বর শুনে তানিজা আরও ভয় পেয়ে গেছে। হীরা ফিরে আসলো কেন? দ্রুত নিজের কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করে। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুখ মুছতে শুরু করে। লম্বা লম্বা শ্বাস নিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। হাত পা থরথর করে কাঁপছে এখনও। 

হীরার মনের মধ্যে ভয় জন্ম নেয়। তানিজা দরজা লাগিয়ে ভেতরে কী করছে? উল্টা-পাল্টা কিছু করার চেষ্টা করছে না তো? ভয়ে এবার হীরার গলা শুকিয়ে আসে। পুনরায় দরজায় কড়া নেড়ে বলে,

"এই তানিজা, কী করছো? দরজা খোলো দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার।"

ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে দেয় তানিজা। যা হওয়ার হবে, হীরা তো সব জেনেই গেছে। এর ফয়সালা আজ না হলেও কাল হবেই। পাপ করেছে পাপের শাস্তি পাবে না তা কী করে হয়? 

দরজা খুলতেই হীরা তানিজার মুখের দিকে তাকায়। চোখ মুখ দেখেই বুঝতে পারছে এতক্ষণ কাঁদছিল। ভেতরে এসে হাতের ব্যাগ রেখে দরজা লাগিয়ে দেয় ভেতর থেকে। তানিজা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরে। ওর হাত-পা-শরীর তখনও কাঁপছে থরথর করে। 

 হীরা তানিজার দিকে আগাতে নিলেই চোখ পড়ে নিচে পড়ে থাকা তানিজার ফোনের দিকে। নিচ থেকে ফোন হাতে তুলে নেয়। স্ক্রিনে তাকাতেই চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। মেসেজ, ভিডিও আর ss গুলো কখন পাঠানো হয়েছে সময়টাও দেখে নেয়। 

ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে তানিজার দিকে তাকায়। তানিজা মাথা নিচু করে থরথর করে কাঁপছে আর কাদঁছে। হীরা ফোনটা বিছানার উপর রেখে তানিজার সামনে এসে দাঁড়ায়। তানিজা ঝরঝর করে কেঁদে ওঠে এবার। হীরা আলগোছে ওকে টেনে এনে বুকে জড়িয়ে নেয়। মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

"কী হয়েছে, কাদঁছো কেন? কিছু হয়নি তো, এত ভয় পাচ্ছো কেন?"

তানিজা কাঁদতে কাঁদতে থেমে থেমে বলে,

"আমি ওই দিনই আপনাকে সব বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার আগেই আপনি ছাদ থেকে চলে গিয়েছিলেন। রাতে কল করেছিলাম এসব বলার জন্যই কিন্তু আপনি ব্যস্ততার কারণে শুনতে পারেননি। আমি আপনাকে ঠকাতে চাইনি, সত্যি সত্যিই চাইনি, বিয়ের আগেই সবকিছু বলতে চেয়েছিলাম আপনাকে কিন্তু সময় সুযোগ আর হয়নি। এসব মেসেজ, ভিডিও, স্ক্রিন শট আর ছবি সবই মিথ্যা। ওর সঙ্গে আমার এমন কোনো সম্পর্ক ছিল না। আল্লাহর কসম করে বলছি আমি এমন কিছু করিনি।"

হীরা তানিজাকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নরম স্বরে বলে,

"আমি জানি এসব মিথ্যে। তুমি এত প্যানিক করছো কেন? শান্ত হও।"

"আমি বিবাহ বহির্ভূত কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাইনি কোনোদিন কিন্তু তাহের আমার পেছনে এমনভাবে পড়ে ছিল যে আমার নিজের অজান্তেই মন নরম হয়ে গিয়েছিল। আমি ওকে ঠকাইনি, ও আমাকে ঠকিয়ে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। ওর সাথে শুধু ফোনেই টুকটাক কথা হতো তাছাড়া আর কিছুই হয়নি। আমি আমি...... আমি কাউকে ঠকাইনি, বিশ্বাস করুন আমি এমন কিছু করিনি।"

কান্নার কারণে আর কিছু বলতে পারে না তানিজা। হীরা ওর মাথায় চুমু খায়। মাথার সঙ্গে নিজের গাল ঠেকিয়ে রেখে পিঠে হাত বুলিয়ে বলে,

"আমি বিশ্বাস করি তোমাকে, তুমি শান্ত হও আগে। গতকাল আমি ভুল করেছি সেজন্য আবারও সরি।  হঠাৎ এসব দেখে মাথা কাজ করছিল না, কী করবো বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার মনটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।"

তানিজা হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে,

"সেন্টার থেকে ফেরার পর আপনার অদ্ভুত আচরণ দেখে আমার এমন কিছুই মনে হচ্ছিল, কিন্তু সত্যি সত্যিই যে এমন কিছু হয়েছে আমি কল্পনাও করিনি। তাহের এত নীচ কাজ করবে আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি।"

"প্রথমে তাহেরের কথা বিশ্বাস হয়েই গিয়েছিল আমার। কিন্তু পরে ও যখন তোমার পিকগুলো এডিট করে পাঠায় তখন আমি বুঝতে পারি আসল ঘটনা। ও নিজের পরিচয় গোপন রেখে আমাকে এসব দিয়েছিল তাই আমি বুঝতে পারছিলাম না ছেলেটাকে। সকালে আমার এক বন্ধুর সাহায্যে ওর পরিচয় খুঁজে বের করি। তারপর দুপুরে গিয়ে ওকে ধরেছিলাম। ও মাফ চেয়েছে আমার পা ধরে।"

"ও যদি আপনার আর আমার ফ্যামিলির মানুষের কাছে এসব পাঠিয়ে দেয়? আমি এই মুখ কাউকে দেখাতে পারবো না, আমি ম'রে যাব।"

"পাগলের মতো কথা বলছো কেন? উল্টা পাল্টা কিছু করার চিন্তাও করবে না কোনোদিন। ওর ফোন থেকে সবকিছু ডিলিট করে দিয়ে এসেছি। বাড়ির কাউকে কোনকিছু পাঠানো তো দূর কোনোদিন তোমার ফোনে আর একটা মেসেজ পাঠালেও ওর হাড় গুড়ো করে দিয়ে আসবো। আমি কী জিনিস সেটার ডেমো দেখিয়ে এসেছি আজ পরের বার ধরলে পুরোপুরি বুঝিয়ে দিয়ে আসবো। আজ যা দিয়ে এসেছি তাতে আগামী একমাস বেড রেস্টেই থাকতে হবে ওকে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আর কিছু হবে না। ভাগ্যিস ফিরে এসেছিলাম, নয়তো উল্টা পাল্টা কী করে বসতে কে জানে!"

তানিজা হীরাকে জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কাঁদতে থাকে। সত্যি সত্যিই হীরা ফিরে না আসলে ও উল্টা পাল্টা কিছু করেই বসতো। 

হীরা নিজের বুক থেকে তানিজার মুখ তুলে চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলে,

"আর মন খারাপ করবে না, কষ্ট পাবে না। তাহের আবার যদি মেসেজ বা কোনকিছু করার চেষ্টা করে আমাকে আগে জানাবে ওর ব্যবস্থা আমি করব।"

তানিজা হীরার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। হীরা তানিজার কপালে চুমু খেয়ে ছেড়ে দেয় ওকে। আলমারির দিকে এগিয়ে বলে,

"গিফট কিনে রেখেছিলাম তোমার জন্য কিন্তু গতরাতে আর দেওয়া হয়নি, তিনমাস অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করেনি আবার নিজের হাতে না দিতে পারলে ভালোও লাগতো না তাই ফিরে এসেছি।"

আলমারির ভেতর থেকে একটা বক্স বের করে। বক্স হাতে এগিয়ে এসে দাঁড়ায় তানিজার সামনে। বক্সটা তানিজার হাতে দিয়ে বলে,

"পরে খুলে দেখে নিও, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আসছি।"

তানিজা বক্স রেখে দেয় বিছানার উপর। হীরার হাত টেনে ধরে বলে,

"আপনি আমাকে কোনকিছু কেন জিজ্ঞেস করেননি?"

"আমি সত্যিটা যখন জেনে গেছি তখন তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করে আর অস্বস্তিতে ফেলতে চাইনি।"

"যদি সত্যিটা না জানতেন তাহলে?"

হীরা মুচকি হাসে। তানিজার বাম গালে হাত রেখে বলে,

"যেকোনো উপায়ে সত্যিটা আমি জেনেই নিতাম।"

"যদি তাহেরের কথাগুলো সত্যি হতো বা মিথ্যেটাই আপনার সামনে সত্যি বলেই উপস্থাপন হতো সবসময় তাহলে?"

"বললাম না, যেকোনো উপায়ে সত্যিটা আমি জেনেই নিতাম। যদি তাহেরের কথাগুলো সত্যি হতো তাহলে তোমাকে আমি নিজের জীবনে রাখতাম না, আর যদি কোনভাবে রাখতামও গতরাতে তোমাকে যেমন টাচ করিনি বাকী জীবনটাও এভাবেই পার করে দিতাম। ওই দূরত্ব কোনোদিন মিটতো না।"

হীরার মুখের দিকে তাকিয়ে তানিজার দু'চোখ বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। হীরা দুই কদম এগিয়ে তানিজাকে পুনরায় জড়িয়ে ধরে। আদর করে বলে,

"যা হয়ে গেছে সেসব বাদ দাও, দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাও।  তুমি একবার যখন আমার হয়েছো তখন অনন্ত কাল আমার হয়েই থাকবে, শুধু তুমি নিজের দিকটা পরিষ্কার রেখো কষ্ট করে।"

"আপনি অনেক ভালো, তাহের আসার আগে আপনি কেন আসেননি আমার জীবনে?"

"আগে না আসলেও পরে তো এসেছি, এসেছি যখন অনন্ত কাল থাকবো।"

হীরা একটু থেমে আবার বলে,

"বিয়ে হলো কিন্তু বাসর হলো না, বাসরটা তোলা রইলো, তিনমাস পর এসে পুষিয়ে নেব।"

হীরার হঠাৎ এমন কথায় লজ্জা পায় তানিজা। কান্না বন্ধ হয়ে গেছে বেচারির। কান্না করে এমনিতেই চোখ মুখ লাল বানিয়ে ফেলেছে তাই লজ্জায় গাল লাল হলো কি-না বোঝা যাচ্ছে না। 
হীরা আবার বলে, 

"তোমার পরীক্ষা শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব তোমাকে আমার কাছে নিয়ে যাব। আসছি হ্যাঁ, দেরি হয়ে গেল। এখন কীভাবে পৌঁছাবো সময় মতো আল্লাহ তা'য়ালা ভালো জানেন। নিজের যত্ন নিও, ভালো থেকো আর আমাকে বেশি বেশি ভালোবেসো। কম ভালোবাসায় কিন্তু আমার হবে না।"

তানিজাকে ছেড়ে ব্যাগ হাতে তুলে নেয়। দরজা খুলে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,

"বক্সটা খুলে দেখে নিও মনে করে, গুড বাই মাই লাভলি ওয়াইফ।"

চলে যায় হীরা। দরজার দিকে তাকিয়ে আছে তানিজা। এত ভালো মানুষও হয়? মানুষটা এত ভালো কেন? তিন বছর আগে কেন আসলো না ওর জীবনে? যদি আসতো তাহলে তো ওই শ'য়'তা'ন তাহের আসার সুযোগ পেতো না। 

এই তাহেররা না নিজে ভালো থাকে আর না তানিজাদের ভালো থাকতে দেয়। এরা থাকতে মূল্য দেবে না যখন হারিয়ে যাবে বা অন্য কেউ আগলে রাখতে চাইবে তখন এদের মধ্যে প্রতিশোধ পরায়ন প্রেমিক জেগে উঠবে। যখন ওর হয়নি তখন অন্য কারো হতে পারবে না বা অন্য কারো সঙ্গে ভালোও থাকতে পারবে না। 

এই সমাজে তানিজা, তাহের আর নায়লা অহরহ থাকলেও হীরা নেই, থাকলেও খুব কম আছে। তাহেরের মতো মানুষদের জন্য তানিজাদের মতো মেয়েরা ঝরে পড়ে অকালে। তানিজারা ভালো থাকতে চাইলেও তাহেররা ভালো থাকতে দেয় না, কিছু কিছু নায়লারাও এসে তানিজাদের সুখ কেড়ে নেয়। 
এই দুনিয়া আর দুনিয়ার মানুষ বড়ো অদ্ভুত রকমের। 

(সমাপ্ত)

Loading spinner

Reply
Share:

Loading spinner