Notifications
Clear all
Page 1 / 2
Next
August 16, 2026 1:13 am
গল্প :আড়ালে আবডালে শুধুই তুই
লেখিকা: রাহা ইসলাম
✨ ক্যাটাগোরি:
কাজিন রিলেটেড + অবসেসিভ রোমান্টিক সাসপেন্স থ্রিলার
⚠️ বিশেষ দ্রষ্টব্য:
গল্পটির কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🌸 প্রিয় পাঠক-পাঠিকা,
“আড়ালে আবডালে শুধুই তুই” শুধুমাত্র একটি সাধারণ প্রেমের গল্প নয়—এটি এক ভিন্ন অনুভূতির উপন্যাস।
এখানে যেমন রয়েছে গভীর ভালোবাসার কোমল রোমান্স, তেমনি আছে একতরফা প্রেমের নীরব যন্ত্রণা, বিষণ্নতা, সম্পর্কের জটিল টানাপোড়েন এবং আবেগের অদ্ভুত গভীরতা।
আর গল্পের প্রতিটি ধাপে লুকিয়ে আছে কিছু অপ্রত্যাশিত মোড়, যা ধীরে ধীরে আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে রহস্য আর অনুভূতির এক অন্য জগতে।
🖤
কখনো ভালোবাসা শান্ত,
কখনো ভয়ংকর রকমের আসক্তি…
আর কখনো একজন মানুষ হয়ে ওঠে আরেকজনের পুরো পৃথিবী।
আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও আগ্রহই লেখার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
ভিন্ন স্বাদের এই উপন্যাসে আপনাকে স্বাগতম।
💌 গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই
লাইক • কমেন্ট • শেয়ার • ফলো করে পাশে থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে। 🌼
5 Replies
August 16, 2026 1:38 am
পর্ব :০১
“ছে…ছে.. ছেড়ে দিন… প্লিজ, লাগছে আমার”
ভুল হয়ে গেছে। আর কখনও হবে না।
কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে তার হাত ধরে রাখা লোকটির পানে তাকিয়ে বলল রাহা।
কথাটি বলার সাথে সাথে, তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি দাঁতে দাঁত পিষে, নিজের সর্বশক্তি দিয়ে এক হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে, আর অন্য হাত দিয়ে তৎক্ষণাৎ..
ঠাসসসস…….
“গালে হাত দিয়ে সাথে সাথেই জোরে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে রাহা। নরম গালে এতো শক্ত থাপ্পড় খেয়েও অজ্ঞান হয়নি —এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় বিস্ময়।”
রাহার দুই বান্ধবী অবন্তিকা ও সাফা। তাদের প্রাণ প্রিয় বান্ধবীকে থাপ্পড় খেতে দেখে দূর থেকে দাঁড়িয়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল—সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন মানুষের দিকে…হুশ ফিরতেই দৌড়ে এলো রাহার কাছে।
ভয়ে ভয়ে চোখ তুলে, সামনে দাঁড়ানো লোকটির পানে তাকালো তারা তিনজন। এ যেনো কোনো মানুষ নয়, এক হিংস্র বাঘ তাদের সামনে দাঁড়ানো। এখনই তাদের কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। আতঙ্কে তারা চোখ নামিয়ে মাটির দিকে তাকালো।
লোকটির চোখ দু’টি ভয়াবহ রক্তিম আভায় ভরে উঠেছে। রাহার যে হাতটি সে চেপে ধরেছিল, সেখানে এখন স্পষ্ট পাঁচ আঙুলের দাগ বসে আছে।
রাস্তার চারদিকে নিস্তব্ধতা। ভরদুপুর—মানুষজনের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।
হঠাৎ করেই এক রুক্ষ কণ্ঠ ভেসে এলো—
“গো। রাইট নাউ।”
তিনজনই চমকে কেঁপে উঠল। কেউ নড়ছে না দেখে আবারও গর্জে উঠল—
“আই সেড, গেট লস্ট। ড্যাম ইট।”
কথাটি শ্রবণ হওয়ার সাথে সাথে অবন্তিকা আর সাফা মিলে রাহা কে ধরে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। আর যেতে যেতে, মনে মনে একশো একটা গালি দিতে ভুলল না।
“শালা, তুই সুন্দর হলেই কি… তোর বউ হবে কালো লুচনির মতো। তখন তোরা দুজন মিলে গাইবি—
‘সাদা সাদা কালা কালা, রঙ জমেছে সাদা কালা।’
হবি তুই দীর্ঘ টাকলা, অল্প কয়দিনে..”।
বলতে বলতেই ওর মুখে একটা বিদ্রূপাত্মক ভেংচি দিলো। রাগটা এখনো কমেনি। আজ পর্যন্ত কেউ তার গায়ে একটা ফুলের টোকাও দেয়নি, অথচ সেই লোকটা সরাসরি থাপ্পড় মেরে দিলো। তাও কোনো কথা না শুনেই।
অন্যদিকে লোকটি তাদের চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে এক রহস্যময় হাসি দিল।
তার সাথে থাকা দুইজন দেহরক্ষী—বা বলা চলে ভাইয়ের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু—জিজ্ঞেস করল,
“কিরে, মেয়েটাকে শুধু শুধু মারলি কেন?”
সে শান্ত গলায় শুধু একটাই উত্তর দিল—
“এজ মাই উইশ। নো মোর টক।”
তাদের ও কি আর করার বসের কথার উপর তো কোনো কথা বলা যাবে না। তারাও তিনজন গাড়িতে উঠে বসতেই ধোঁয়া উড়িয়ে কালো মার্সিডিজ টি
নিজ গন্তব্যের দিকে চলতে থাকলো।
—-----------
এদিকে তিনজন বদের হাড্ডি আইসক্রিম পার্লারে গিয়ে বসে পড়ল। একটু ঠান্ডা হওয়া দরকার—যা তাদের সাথে ঘটে গেছে, তা যেন এখনো মাথার ভেতর ঘুরছে।
তিনজনই যেন কোনো ঘোরের মধ্যে আছে। রাহার গাল আর হাত এখনো লাল হয়ে আছে। রাহা এক বোতল পানি নিয়ে আগে মুখটা ধুয়ে নিলো। এমনি অনেক গরম তারপর থাপ্পড় খাওয়া কম কিসে।
একটু ফ্যানের নিচে বসেই অবন্তিকার চোখে চোখ পড়তেই….!
হঠাৎ করে রাহা বলে উঠল .
“অবন্তিকার বাচ্চা আআআআআ….
তোর ডেয়ার এর মায়রে সালাম।”
কুত্তি, তোর জন্যই আজ প্রথমবার লাইফে মার খেলাম! নিকুচি করি তোর ট্রিটের। তোর ট্রিট তোকেই গরুর গোবর মিশিয়ে খাওয়াবো। আর কোনো ডেয়ার ছিল না, শালী!
এটাই কেনো বলাতে গেলি..? তোর জন্য আমার গালের রফা-দফা শেষ!
বলেই নেকা কান্না জুড়ে দিল রাহা। এদিকে দোকানের কয়েকজন কাস্টমার তাদের দিকেই বিরক্তিকর চোখে তাকিয়ে আছে। হয়তো ভাবছে কি যে শুরু করেছে এরা..!
অবন্তিকা বলে উঠলো...
“আমি কি জানতাম নাকি দোস্ত যে ওই বজ্জাত লোকটা এই সামান্য কোথায় এতো টা রিয়েক্ট করবে।”
অবন্তিকার কথা শেষ না হতেই সাফা বলল, “যা হয়েছে হয়েছে, এখন চুপ কর।”
জিভ দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে শয়তানি হাসি দিয়ে আবারও বলতে লাগলো…
“একটা জিনিস কিন্তু আমি খেয়াল করেছি…”
রাহা ভেজা চোখেই সুধালো, “কি…?”
-এই, ওয়েট ওয়েট…
তৎক্ষণাৎ রাহা আর অবন্তিকা ভ্রু কুঁচকে একে অপরের দিকে তাকাল, তারপর একসঙ্গে সাফার দিকে ঘুরে গেল।
সাফা শান্তভাবে বলল, “ইয়েস…”
রাহা আর অবন্তিকা মাথা নেড়ে একসঙ্গে বলল, “নো, নো… এটা হতে পারে না।”
আবারও সাফা জোর দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, এটাই।”
ঠিক তখনই বাকি দুইজন একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল—
“নোওওওওওওওওওওওওওওওওও!”
রাফা বিরক্ত গলায় বলে উঠল,
“বাঁশ খাওয়ার জন্য আর কেউকে পেলি না? এই খাটাসটাকেই?”
বলেই সে রাগে গজগজ করতে করতে আইসক্রিম খেতে লাগল।
অন্যদিকে অবন্তিকা শান্ত স্বরে বলল,
“যাই বলিস, লোকটা কিন্তু অনেক হ্যান্ডসাম রে দোস্ত। শার্টের উপর দিয়েই তো পুরুষালি মাসল দেখা যাচ্ছিল। ব্ল্যাক শার্ট আর প্যান্টে একদম নায়কের মতো লাগছিলো । তোর সাথে কিন্তু হেব্বি মানাবে রে”
রাফা তৎক্ষণাৎ তেতে উঠে বলল,
“বালের নায়ক! আমি মার খেয়ে শকে আছি, আর তোরা ওই খাটাসটার বডি নিয়ে পড়ে আছিস!”
তারপর বিরক্ত মুখে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“থাক, আমি বাড়ি যাই। আম্মু বলেছিল আজ তাড়াতাড়ি ফিরতে—কেউ নাকি আসবে। ওই লোকটার জন্যই দেরি হলো। তাও ভালো, অচেনা মানুষের হাতেই মার খেয়েছি…” আর কেউ দেখেও নি। আমার মানসম্মান এখনও আছে।
বান্ধবীদের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলো রাহা। বাড়িতে ঢুকার সময় তার কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছিলো যা আগে কখনো হয়নি।
এতো কিছু সাত পাঁচ না ভেবে গেট পেরিয়ে বড় হল রুমে ঢুকে সবাইকে বসে থাকতে দেখে।
কিন্তু তার চোখ গিয়ে ঠেকলো সবার কেন্দ্র বিন্দুতে যেখানে সেই লোকটি বসেছিলো।
যখন সেই লোকটিকে দেখতে পায় …মনে হয় আকাশ টা তার উপর ভেঙে পড়েছে।তার তো বেহাল দশা, মুখ হা হয়ে যায়।
আর তৎক্ষণাৎ চিৎকার দিয়ে উঠে…
“আআআআআআআআআআআ”
মুহুর্তে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়...।
যারাই গল্পটি পড়বেন আশা করি একটা ছোট্ট কমেন্টের মাধ্যমে আপনার মতামত প্রকাশ করবেন। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
🫶💖
August 16, 2026 1:39 am
পর্ব:০২
_পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখলো সাদা সিলিংয়ে ফ্যান ঘুরছে। মাথাটা ভার হয়ে আছে।
আবারও কিছুক্ষণ সময় নিয়ে চোখ বন্ধ করে আবার খুলল।
মেয়ের জ্ঞান ফিরেছে দেখেই রাহার মা, মিসেস “সাথী বেগম”, তাড়াতাড়ি ছুটে এসে মেয়ের শিয়রে বসলো,
আর জিজ্ঞেস করলো—
“কেমন লাগছে মা আমার?”
রাহা কিছুক্ষণ তার মায়ের দিকে অবুঝের মতো তাকিয়ে রইল। চোখে যেন বুঝাতে চাইছে— তার কী হয়েছিল!
রাহার জ্ঞান ফিরেছে শুনে একে একে বাড়ির সবাই ছুটে এলো। সবাই প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল ওর দিকে।
সবার দৃষ্টি অনুভব করতেই হঠাৎ রাহার মনে পড়ে গেল অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তটা। আর সঙ্গে সঙ্গে ভয় জেঁকে ধরল তাকে।
সে কী দেখেছিল তখন? কেন দেখেছিল? সত্যি ছিল, নাকি বেশি দুশ্চিন্তার ফল?
সবকিছু পাশে সরিয়ে রেখে নিজেকে বোঝাল— এগুলো শুধু দুশ্চিন্তার ফল, আর কিছু না।
কিন্তু রাহা বুঝতেই পারল না, দরজার আড়াল থেকে দু’টি চোখ তার দিকেই নিবদ্ধ।
রাহা সবাইকে শুধু এটুকুই বলল—
“এত গরমের মধ্যে শপিং করে এসেছি, তাই মাথাটা ঘুরে গিয়েছিল। রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।”
একথা শুনে সবাই তাকে একটু স্পেস দিয়ে চলে গেল।শুধু থেকে গেল তার মা আর তার চাচাতো বোন শিফা। রাহা তাদেরও যেতে বলল। কারণ তার ভালো লাগছিল না— একটু একা থাকতে চায়। তাই ঘুমানোর কথা বলে ওদের পাঠিয়ে দিলো।
এইদিকে বিছানায় শুয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে মনে করতে লাগল আজ তার সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা।
—---------------
কাল তার জন্মদিন,,,, কিছু কেনাকাটা বাকি ছিল, তাই দুই বান্ধবীকে নিয়ে বেরিয়ে ছিলো রাহা।
কেনাকাটা শেষ করে শপিংমল থেকে বেরিয়ে কিছুটা সামনে তারা একজন সুদর্শন লোককে দেখতে পেল—
লোকটি উল্টো দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে ছিলো।
হঠাৎ করেই অবন্তিকার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চলে এলো।
“রাহা, শোন…”
রাহা— “হুম, বল।”
“তোকে একটা ডেয়ার দেবো। কমপ্লিট করলে তোর জন্মদিনে আমি তোকে ট্রিট দিবো।”
রাহা আর সাফা দুজনেই হতবাক।
এই কিপটা অবন্তিকা ট্রিট দেবে— বিশ্বাসই হচ্ছে না!
তবুও কৌতূহল সামলাতে না পেরে রাহা বলল—
“বল, কী করতে হবে? তাড়াতাড়ি বল, বাসায় যেতে হবে।”
অবন্তিকা একটু হাসল—
“দাঁড়া দাঁড়া… সামান্যই কিছু। ওই যে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে শুধু ‘আই লাভ ইউ’ বলে দৌড় দিবি।”
“কি?!” — রাহা চমকে উঠল।
অবন্তিকা হেসে বলল—
“কি না জ্বি!”
রাহা— “অসম্ভব!”
“আরে জাস্ট বলেই চলে আসবি। তুই কি সত্যি সত্যি ভালোবাসবি নাকি, পাগলি?
তোর তো উনার মুখও দেখতে হবে না!”
সাফাও এবার যোগ দিল—
“বলে দে না রে! এমন চান্স বারবার আসে নাকি?”
রাহা একটু ইতস্তত করল… তারপর হঠাৎ বলল—
“ঠিক আছে! কিন্তু পরে পিছু হটবি না যেন।”
অবন্তিকা— “প্রমিজ!”
রাহার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
ধীরে ধীরে সে এগিয়ে গেল লোকটার দিকে।
তার পা যেন কেমন ভারী হয়ে যাচ্ছিল…
অজানা একটা অস্বস্তি কাজ করছিল ভেতরে।
লোকটার একদম পেছনে গিয়ে দাঁড়াল সে।
“আই… লাভ… ইউ…” — খুব দ্রুত বলে ফেলল রাহা।
বলে যেই দৌড় দিতে যাবে—
ঠিক তখনই…
লোকটা ফট ঘুরে দাঁড়িয়ে তার হাত চেপে ধরলো।
আর তারপর থেকে তো তার এই অবস্থা।
ভাবতে ভাবতে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল।
(বোকা মেয়েটি হয়তো জানতেই পারলো না, তার আড়ালে কতকিছু হয়ে গেলো।)
_______ Time skip ______
সময় বিকেল ৫টা, ঘুম ভাঙলো মহারাণীর।
মোবাইলে সময় দেখে হতাশার শ্বাস ফেলে নিজেই নিজেকে বললো—
“এতো সময় ঘুমিয়েছি!”
যাক, তাও হালকা লাগছে। গোসল দিলে আরও ভালো লাগবে— ভেবেই চলে গেলো ওয়াশরুমে।
দীর্ঘ ৪০ মিনিট পর বের হলো।
ক্ষুধা ও পেয়েছে ভীষণ। তখনই দরজায় ডাক পড়ল—
“রাহা, ঘুম হলো তোর?”
— “হ্যাঁ আপু, ভিতরে আসো।”
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়িয়ে ,মুখে একটু। ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগিয়ে নিলো।
শিফা বললো—
“চল, খাবি এখন। আর তো কিছু খাসনি। বিকেল শেষে সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। মেজো আম্মু ডাকছে।”
— “হুম্, তুমি যাও আমি আসছি।
- শিফা ও বেরিয়ে যেতে যেতে বলতে থাকে তাড়াতাড়ি আসবি। ভাইয়াটা ও যে কোথায় গেলো এখনও আসার নাম নেই।
রাহা ভালো মতো শুনতে পায়নি।কিসের ভাইয়া ,,কি বললো আপু...!
এসব কিছু ঝেড়ে ফেলে আগে খেয়ে নেই। পেট ডাকছে।
সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে দেখলো হলরুমে তার বড় আব্বু “আমান খান” আর ছোট আব্বু “আহসান খান” একসাথে বসে চা খাচ্ছে, আর কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।
রাহার বাবা “আরমান খান” বেঁচে নেই। গাড়ি এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে আরও ১৩ বছর আগে। যদিও তার মৃত্যুর রহস্য এখনও মীমাংসিত হয়নি।
রাহার মা তার মেয়ের জন্য দ্বিতীয় বিবাহের সিদ্ধান্ত নেয়নি। মেয়েই তার কলিজার টুকরা— তার একমাত্র সম্বল।
রাহা হলো খান বংশের মেয়ে। রাহার পুরো নাম “আশফিয়া খান রাহা”।
তার বড় আব্বুর এক ছেলে, এক মেয়ে। রাহা তার বাবার একমাত্র মেয়ে, আর ছোট আব্বুর দুই মেয়ে।
সবার মধ্যে তারা রাহাকেই চোখে হারায়, বলতে গেলে। সারাদিন দুষ্টুমি করে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখে। বাবা নেই তো কী হয়েছে— কেউ যেন সেই অভাবটা বুঝতেই দেয় না।
তার বড় আব্বুর কড়া আদেশ—
“যা-ই হয়ে যাক, কেউ যেন তার রাহা মাকে কিছু না বলে। তাহলে তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা আছে।”
খান বংশের টাকা-পয়সায় কমতি নেই। তবুও তাদের নেই কোনো অহংকার, না আছে দাম্ভিকতা।
সবাই খুবই অমায়িক। তাদের বংশমর্যাদা খুবই প্রখর— ভালোর সময় ভালো, আর কেউ অন্যায় করলে তার ছাড় নেই।
রাহার বড় আব্বু একজন স্বনামধন্য চেয়ারম্যান।
একনামে এলাকার সবাই তাকে চেনে। আমান খান নাম শুনলেই মনে হয়— তাদের মনে শান্তি বিরাজ করে।
আর ছোট আব্বু হলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও তাদের ব্যবসার কদর আর নাম সমানতালে এগিয়ে রয়েছে।
“Raha's Fashion World” নামে তাদের কোম্পানি রয়েছে, যা এখন বিশ্ববাজারে নামীদামি ব্র্যান্ডের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। ইতালিতে তাদের নিজস্ব শোরুম রয়েছে।
—-----------
সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে আসা রাহার পানে তাকিয়ে তারা অনেক আদর-সোহাগে কাছে ডাকলেন—
“আয় রাহা মা, এখানে আয়।”
— “কেমন লাগছে এখন, আমার মায়ের?”
— “ভালো লাগছে, বড় আব্বু।”
আহসান খানও বললেন—
“ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করো না, আম্মু? শরীর এত দুর্বল কেন?”
— “ছোট আব্বু, তুমি কখন ফিরেছো? আমার তো খুবই আনন্দ লাগছে। সবাই একসাথে— আজকে অনেক মজা হবে!”
— “এইতো আম্মু, কিছুক্ষণ হলো। এসেই শুনলাম তুমি নাকি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে। রেস্ট করছিলে, তাই আর যাইনি।”
“আগে যাও, কিছু খেয়ে নাও। তারপর কথা হবে। শিফা মা, ওকে নিয়ে যাও।”
খাবার টেবিলে বসতেই হরেক রকমের খাবারের গন্ধে রাহার পেট উগলে আসলো।
হয়তো শরীর ভালো না, তাই। যে মেয়ে রোস্ট হলে আর কিছু লাগে না, সে-ই সেটা দেখেও খেতে পারছে না।
রাহার বড় আম্মু আফসানা বেগম বলে উঠলেন—
“কি হয়েছে রাহা? খাচ্ছিস না কেনো?”
— “আসলে বড় আম্মু, আমার কেনো যেনো কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না। আমাকে ডাল আর আচার দাও শুধু।”
“আর এত আয়োজন কিসের আজকে? কে নাকি আসার কথা? তাড়াহুড়োয় তো কালকে শুনতেও পারিনি কে আসবে, আর আজও তো দেখলাম না কাউকে!”
“সে কি! তুই এখনও জানিস না? আর দেখবিও বা কী করে— তখন তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলি!”
আমার ছেলে তোর অ.. ভ....
রাহা ও বড় আম্মুর কথা শুনতে শুনতে যেই এক লোকমা ভাত মুখে দিয়েছে, অমনি ড্রয়িং রুম থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ পেল।
বিকট শব্দে আফসানা খান তার কথা শেষ করতে পারলেন না। আর রাহা ও স্তব্ধ হয়ে গেলো।
সবাই ছুটে গেল সেদিকে।
রাহাও খাবার রেখে গেল।
গিয়েই দেখলো—
এক লোক, এক হাতে হকিস্টিক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আর পুরো ফ্লোর জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে টি-টেবিলের ভাঙা কাঁচ
দেখামাত্র রাহার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীর ভয়ে কাঁপতে শুরু করলো…
এই লোকটা এখানে কেনো..!
ভাবার মধ্যেই—
রাহা আর লোকটির চোখে চোখ পড়তেই রাহার প্রাণ যায় যায় অবস্থা।
চলবে.....
সবাই গঠনমূলক কমেন্ট করবেন। আপনাদের মতামত আমার লিখার অনুপ্রেরণা জোগায় 🫶🌸
August 16, 2026 1:40 am
পর্ব:০৩
— লোকটিকে দেখে রাহার এমন মনে হচ্ছে—মাটি ফাঁকা হয়ে যাক, আর সে মাটির ভিতরে ঢুকে যাক।
চোখের সামনে লোকটির এরূপ বিধ্বস্ত রূপ, আর বাড়ির এই অবস্থা দেখে তার ছোট্ট মাথায় কিছুই ঢুকছে না।
হকিস্টিকটি ফ্লোরের সাথে লাগিয়ে এক পা, দুই পা করে রাহার দিকে এগিয়ে আসছে লোকটি। স্টিকটি লোহার হওয়ায় ফ্লোরের সাথে ঘর্ষণে ভীতিকর আওয়াজ সৃষ্টি হচ্ছে। তার চোখের মনি দুটো হালকা বাদামী—হ্যাজেল (Hazel), যা এই মুহূর্তে ভীষণ গভীর, তীক্ষ্ণ আর ভয়ংকর দেখাচ্ছে।
যা দেখে রাহার কলিজায় পানি নেই বললেই চলে।
লোকটি যত এগোচ্ছে, রাহাও এক পা, দুই পা করে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে। ভয়ে তার হার্টবিট দ্রুত উঠানামা করছে। যেতে যেতে একসময় সিঁড়ির সামনে গিয়ে ঠেকে। আর পিছানোর কোনো উপায় নেই।
আরও একবার পিছাতে গিয়েই পা সিঁড়িতে আটকে যায়। পড়ে যেতে নিলেও শেষ মুহূর্তে রেলিং আঁকড়ে ধরে কোনো রকমে নিজেকে সামলে নেয়।
লোকটি তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে পাশ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে যায়। প্রতিটা ধাপে তার পায়ের শব্দ যেন পুরো বাড়িটাকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল।
চারপাশে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এলো—যেন কেউ শ্বাস নেওয়ার শব্দটুকুও করতে ভয় পাচ্ছে।
রাহা যেন দম ছাড়ার সুযোগ পেলো। এতক্ষণ দম আটকে ছিল। আর কিছুক্ষণ থাকলে নির্ঘাত অক্কা পেত।
কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। বুক ধকধক করছে, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এসেছে। মাথায় হাজারটা প্রশ্ন ঘুরছে…
নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু কারো মুখে কোনো কথা নেই। সবাই যেন বুঝেও কিছু বুঝতে পারছে না।
পিছনে রেখে গেলো কতগুলো মানুষের ভগ্ন আর জিজ্ঞাসু চেহারা—কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করার সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি।
ধীরে ধীরে রাহা সিঁড়ির দিকে তাকাল। উপরে অন্ধকার করিডোর—সেখানে লোকটির ছায়াটাও মিলিয়ে গেছে।
হঠাৎ করেই দোতলা থেকে জোরে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ ভেসে এলো—
“ধাম!”
শব্দটা শুনে রাহার সাথে সাথে সবাই কেঁপে উঠল।
রাহার বড় আব্বু গিয়ে সোফায় বসে পড়লেন। সাথে সাথে তার স্ত্রী আফসানা বেগম দৌড়ে এলেন।
সান্ত্বনা দিতে দিতে বললেন, “আমি ওর সাথে কথা বলব। দয়া করে আপনি হাইপার হবেন না, নেতা সাহেব।”
আহসান খানও এগিয়ে এলেন ভাইয়ের কাছে। কারণটা তারও অজানা—কি এমন হয়েছিল ৯ বছর আগে? ছেলেটা তো এমন ছিল না! কেনই বা ভাইজান তাকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন?
চোখের সামনে যেই বড় ভাইকে সবসময় শক্ত দেখেছেন—শুধু ছেলের বেলায় যিনি নরম হয়ে যান, তাকে এই অবস্থায় দেখে তার বুকটাও ফেটে যাচ্ছে।
তখনই আমান খান ধীর কণ্ঠে বললেন— “আমার একমাত্র ছেলে অভ্র, দীর্ঘ ৯ বছর পর দেশে এসেছে। সবার সাথে হাসিখুশি থাকার কথা—সেই ছেলেই কিনা কারও সাথেই কথা বলছে না।
তবে কি আজও সেই কষ্ট তার বুকে গেঁথে রয়েছে? ভুলতে পারেনি…?”
কথাগুলো বলতে বলতে তার গলাটা ভারী হয়ে এলো। চোখের কোণে জমে থাকা পানি লুকাতে মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিলেন।
আফসানা বেগম নিঃশব্দে স্বামীর পাশে বসে তার হাতটা আলতো করে ধরে বললেন— “সব ঠিক হয়ে যাবে, আপনি একটু ধৈর্য ধরুন।”
কিন্তু সত্যিই কি সব ঠিক হবে…?
নাকি এই বাড়ির দেয়ালেই লুকিয়ে আছে সেই অজানা অতীত—যার ভার নিয়ে আজও ফিরে এসেছে অভ্র?
শিফা এতক্ষণ তার বড় ভাইয়ের সবকিছু দেখছিল, আর চোখের পানি ফেলছিল। বাবা-মায়ের কান্না সে সহ্য করতে পারছিল না।
তার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—কেউ কিছু বলছে না কেন?
—----
অভ্র নামটা শুনে রাহার মাথায় যেন বাজ পড়ল।
“এই তাহলে অভ্র ভাইয়া.....জিহাদ খান অভ্র!”
মনে মনে ভাবল সে। এতদিন শুধু নামই শুনেছে, কখনও দেখেনি। এত রাগী! বাবা রে বাবা! আমি তো আর কখনও উনার সামনে যাব না!
“উনার হাতেই তো আমি থাপ্পড় খেয়েছি—হায় খোদা! এখন যদি উনি বাড়ির সবাইকে বলে দেন, আমি তাকে ‘আই লাভ ইউ’ বলেছি, তাহলে তো সোজা বাড়ি থেকে বের করে দেবে!”
“না না… উনি নিশ্চয়ই কিছু বলবেন না,” নিজেকে শান্ত করল সে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার ভয় ফিরে এলো।
হঠাৎ পেছন থেকে পায়ের শব্দ পেতেই,
রাহার শরীর কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাতেই থমকে গেল—আবারও সিঁড়ি বেয়ে নামছে সেই মানুষটা।
কাপড় পরিবর্তন করে, একদম অন্যরকম লাগছে তাকে।
রাহার পাশ দিয়ে বাতাসের মতো চলে গেল। যাওয়ার আগে শুধু বলল—
“আমার জন্য যেন কেউ অপেক্ষা না করে । আমার সময় হলে আমি নিজেই বাসায় আসব। আর বাড়ির মেয়েরা যেন কখনও একা বের না হয়—এমনকি ফ্রেন্ডসদের সাথেও না। মাইন্ড ইট।”
রাহার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের শরীর ছুঁইছুঁই দূরত্ব, তার শরীরটা ঠান্ডা হয়ে গেল। কড়া ম্যানলি পারফিউমের গন্ধ নাকে আসতেই অদ্ভুত এক শীতলতা ছেয়ে গেল তার শরীরজুড়ে।
অভ্রের কথায় ধ্যান ভাঙল তার।
“কি বলল…? বাইরে যেতে পারব না?”
“এইরে গেলাম আমি… ফিনিশ!”
অভ্রের শেষ কথার মানে আর কেউ না বুঝলেও রাহা ঠিকই বুঝেছে।
—----------
বাড়ির কাজের মেয়ে আয়েশা এসে সবকিছু পরিষ্কার করে আগের মতো করে দিল। এখন দেখলে মনেই হবে না যে, কিছুক্ষণ আগেও এখানে এত ভাঙচুর হয়ে গেছে।
সবাই কোনো কথা না বলে যার যার ঘরে চলে যায়—এসব নিয়ে পরে কথা হবে বলে।
রাহার ছোট আম্মু, মিসেস নাজিরা বেগম, তার ছোট দুই মেয়ে আয়রা ও জায়রাকে খাইয়ে দিলেন। তারা দুই জমজ বোন, বয়স ৮ বছর।
এছাড়া আর কারো খাওয়া হলো না।
রাহা, শিফা—তারাও খায়নি। বাড়ির বড়রা না খেলে, তাদেরও যে গলা দিয়ে খাবার নামবে না।
রাত ১০টা। শিফা তার বাবা-মায়ের রুমে এসে ডাকল—
“মা, আসবো?”
— “হ্যাঁ, আয়। কালকে তো রাহার জন্মদিন।”
--“আরে হ্যাঁ! মনে ছিল, কিন্তু সন্ধ্যার ঘটনায় মাথা থেকে বিষয়টা বেরিয়ে গেছিলো। কয়টা বাজে এখন?”
— “১০টা।”
“আচ্ছা মা, ভাই এমন করলো কেন? যখন বাসায় আসলো, তখনও কারো সাথে কোনো কথা বলেনি—শুধু একটু নিচে বসে ছিলো। আর রাহা অজ্ঞান হওয়ার পর তো বেরিয়ে গেলো।
আর বাসায় এসেই এভাবে ভাঙচুর করার কারণও বুঝতে পারলাম না। আমাদেরও বাইরে বের হতে নিষেধ করে দিলো…!”
উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করলো শিফা—হয়তো কিছু বলবে।
কিন্তু আফসানা বেগম তখনও নিশ্চুপ।
কি উত্তর দেবেন তিনি? দেওয়ার মতো যে কিছু নেই। পুরনো অতীতের খাতা যে খুলতে চান না তিনি।
অবশেষে আফসানা বেগম বললেন—
“এসব ছাড় মা, সব ঠিক হয়ে যাবে। রাহার জন্মদিন নিয়ে ভাব। ১২টায় সবাই ওকে সারপ্রাইজ দিবো, আর কালকে বার্থডে পার্টি হবে। সবাইকে তো আজকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
সবাইকে বলে আয়—১২টার আগে যেন তৈরি থাকে।”
“ঠিক আছে মা,” বলে মলিন মুখে বের হয়ে গেলো শিফা—সবাইকে মনে করিয়ে দিতে।
এদিকে আফসানা বেগমের মুখটাও মলিন হয়ে যায়। চোখ ভরে ওঠে নোনা পানিতে। স্বামীর দিকে তাকাতেই তা ঝরঝর করে গড়িয়ে পড়ে।
তাদের সব কথোপকথন শুনছিলেন আমান খান। কিন্তু তার কাছেও যে উত্তর দেওয়ার মতো কিছু নেই।
বলতে গেলেই বেরিয়ে আসবে অনেক ঘটনা—
এমনকি তা হতে পারে এই পরিবারের ভাঙনের কারণ, যা তারা কেউই চায় না।
আফসানা বেগমের খুব সখের সংসার—
তিন জা মিলে বছরের পর বছর খুব মিলেমিশে একসাথে কাটাচ্ছেন। সুখ-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকেন—ঠিক যেন মায়ের পেটের তিন বোন।
আমান খান তখন বললেন—
“চিন্তা করো না, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
হালকা করে মুচকি হাসলেন তিনি।
আফসানা বেগমও স্বামীর কথায় সায় দিয়ে মাথা নাড়লেন, আর মৃদু হাসলেন।
—--------
রাহা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল বাঁধতে বাঁধতে ভাবছিল—
“অভ্র ভাই এমন কেনো…!”
উনি দেখতে তো মাশাল্লাহ—সত্যিই খুব সুন্দর, হ্যান্ডসাম,, কিন্তু এত রাগী কেনো!
একটু হাসলেই কি এমন হয়?গোমড়া মুখ করে থাকার মানে কি!
সে যাই হোক, আমার কি! উনি রাগী হলেই বা কি, না হলেই বা কি..!
কিন্তু আমার তো বাইরে বের হওয়া—
বলতে বলতেই হঠাৎ—
“আআআআআ!” করে কেঁদে উঠল।
আর সাথে সাথে অবন্তিকাকে বকতে শুরু করল—কেন তখন তার কথা শুনতে গিয়েছিল!
রাহা তো চিনতেই পারেনি—এই লোকটাই তার অভ্র ভাই!
চিনলে সাথে সাথেই মাফ চেয়ে নিতো। কিনা কি মনে করবে তাকে এখন।কীভাবে বুঝাই তাকে..!
আর চিনবেই বা কীভাবে? বড় হওয়ার পর তো আর দেখেইনি।
শুধু জানে—তার বড় আব্বুর একটা ছেলে আছে। ছোটবেলায় একটা ছবি দেখেছিল, কিন্তু বড় হয়ে আর কোনো ছবিই দেখেনি। কারণ এতদিন তাদের ছেলের সাথে কোনো যোগাযোগই ছিল না।
১৩ বছর বয়সে অভ্রকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।
কারণটা আজও বাড়ির বড়রা ছাড়া কেউ জানে না। তারা যেহেতু কিছু বলেনি, তাই কেউ আর প্রশ্নও করেনি।
দুই-একবার শিফা জিজ্ঞেস করলেও উত্তর পাওয়া যেত—
“পড়াশোনার জন্য গেছে, সময় হলে ফিরে আসবে।”
মায়ের করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে তাই আর কিছু জিজ্ঞেস করত না শিফা।
রাহা চুল বেঁধেই শুয়ে পড়ল।
আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল—
“থাপ্পড়ের বদলা তো আমি নেবই, চান্দু! আমাকেও আপনি চিনেন না—হুঁ!”
বলেই ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমাল।
—-----
রাত ১১টা ৩০ মিনিট…
কেউ একজন খুব ধীরে ধীরে রাহার রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো......!
চলবে.....
সবাই প্লিজ রিয়েক্ট দিবেন আর কমেন্টে আপনাদের মতামত দিবেন। আর একটা ফলো দিয়ে দিবেন 🫶💖
August 16, 2026 1:41 am
পর্ব:০৪
রাত ১১টা ৩০ মিনিট.....
কেউ একজন খুব ধীরে ধীরে রাহার রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল… পায়ের শব্দ প্রায় নেই বললেই চলে—অভ্যস্ত নিঃশব্দ পদচারণা।
ঘরের ভেতর মৃদু অন্ধকার। জানালার ফাঁক গলে চাঁদের আলো এসে পরেছে রাহার মুখে।
নরম আলোয় তার ঘুমন্ত মুখ আরও শান্ত, আরও নিষ্পাপ দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে একদম স্লিপিং বিউটি, ঘুমের মধ্যেও তার মায়াবী মুখটা যেন আরও মায়াময় হয়ে উঠেছে।
- অভ্র দরজাটা আস্তে করে বন্ধ করে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো ।
চোখ দুটো সরাসরি গিয়ে পড়লো বিছানায় শুয়ে থাকা রাহার দিকে। এক পা… দুই পা…
ধীরপায়ে এগিয়ে এলো। চাঁদের আলোয় তার ছায়া লম্বা হয়ে মেঝেতে পড়ছে—
আর সেই ছায়াটা ধীরে ধীরে গিয়ে মিশে গেলো রাহার বিছানার পাশে। রাহা গভীর ঘুমে। কিছুই টের পাচ্ছে না। অভ্র বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালো।
কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
তার চোখের দৃষ্টি আগের মতো রাগী না—বরং সেখানে আছে অদ্ভুত এক গভীরতা, কষ্ট, আর যেন চাপা কোনো অনুভূতি।
— ধীরে ধীরে হাত বাড়াতে লাগলো সে...
এক মুহূর্ত থামিয়ে নিল—
মনে হলো—নিজের সাথেই লড়াই করছে।
তারপরও নিজেকে দমিয়ে রাখতে না পেরে খুব আস্তে করে রাহার কপালের কাছ থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিলো।
রাহা হালকা নড়ে উঠল,
অভ্র মুহূর্তেই হাত সরিয়ে নিলো। চোখের দৃষ্টি আবার কঠিন হয়ে উঠলো।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিচু স্বরে বললো—
“এতটা বেয়াদব হয়েছিস তুই…?”
কথাটায় রাগ ছিলো—
হালকা একটা নিঃশ্বাস ফেলে আবারও বলল..
“আই লাভ ইউ… হুহ!”।
“অচেনা একটা ছেলেকে আই লাভ ইউ বলা তাই না।যদি আমি না হয়ে অন্য কেউ হত।
ওহ্ গড....
তাই তো থাপ্পড় দিয়েছি। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি।”
আরোও কিছুক্ষণ মুখের আদলে তাকিয়ে থেকে পুরোনো কিছু স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠল।
পরক্ষণেই নিজেই যেন তাচ্ছিল্য করে হেসে উঠলো,
কিন্তু সেই হাসিটা চোখে পৌঁছালো না।
“ তুই কিছুই জানিস না জান, কিছুই না ”।
একটু ঝুঁকে এলো রাহার দিকে—
মনে হলো কিছু বলতে চায়, কিন্তু বললো না।
তার ভিতরে এতো কথা লুকানো যে কয়েক মাস কেটে গেলোও যেনো ফুরাবে না।
৯ টা বছর সে তার প্রাণ ভোমরার থেকে দূরে ছিলো
এক মুহূর্তের জন্য তাকে দেখা দেয়নি।
হঠাৎ করেই তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।
চোখে আবার সেই কঠোরতা।
সোজা হয়ে দাঁড়ালো। আর বলল,
“আমি সশরীরে তোর সামনে উপস্থিত হয়েছি। আজ থেকে তোর প্রতিটি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস আমার নামেই আবদ্ধ থাকবে। এতদিন অনেক সুযোগ পেয়েছিস, এখন আর নয়।
আমি তোকে খুঁজে নেব না—তুই নিজেই আমাকে খুঁজবি, তুই নিজেই আমার কাছে চলে আসবি, আসতেই হবে। আমি তোকে আসতে বাধ্য করব।
আমি তোকে ধরা দেবো না জান। যেদিন তুই মিনতি করবি, স্বেচ্ছায় আমার কাছে আসবি—সেদিনই তোকে নিজের করে গ্রহণ করব।”
আবারও একটু নুয়ে খুব আস্তে করে কানের কাছে গিয়ে বলল..
“ আমার রাজ্যের গুপ্ত সাম্রাজ্যের একমাত্র সম্রাজ্ঞী তুই। আজকের এই দিনেই তোর আগমন হয়েছিল পৃথিবীতে। আর সেই থেকেই তুই আমার বেঁচে থাকার কারণ। তোর জন্যই এই ‘আমি’টা বেঁচে আছে, তোর জন্যই আমি সবকিছু। আমি সবসময় তোর দাস হয়ে আছি—
আর থাকবোও, আজীবন।
শুভ জন্মদিন, জান।”
এটা বলেই পাশে একটা ছোট্ট গিফটবিক্স সাথে একটা চিরকুট রেখে আর এক মুহূর্তও না থেকে ঘুরে দাঁড়ালো।
দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজা খুলে আবারও একবার ফিরে তাকালো—
ঘুমন্ত মেয়েটির পানে। তারপর নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল।
দরজাটা আবার ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
রুম আবার আগের মতো নিস্তব্ধ। শুধু হালকা বাতাসে পর্দা দুলছে।
আর রাহা—সে কিছুই টের পেলো না।
কিন্তু তার অজান্তেই—তার জীবনের সবচেয়ে বড় ঝড়টা ঠিক তার পাশ দিয়েই হেঁটে গেল..।
______________
রাত ১২টা....
হঠাৎ করেই রাহার ঘুম ভেঙে গেল।
মনে হলো—কেউ যেন ছিলো। এই রুমেই, ঠিক তার পাশে। আরপরিচিত পারফিউম এর ঘ্রাণ ও কিছুটা পাচ্ছিল। খুব চেনা চেনা লাগলো। কোথায় যেন পেয়েছিল এই মুহূর্তে মনে করতে পারছিল না।
চোখ মেলে তাকিয়ে আশে পাশে নজর বুলালো। কিন্তু কিছুই ঠেকলো না নজরে।
শোয়া থেকে উঠে বসতেই চোখ গেলো পাশের টেবিলের উপর রাখা একটা চকচকে বক্সের উপর। অন্ধকার ঘরে পড়ন্ত চাঁদের আলোতে বারবার ঝিলিক দিয়ে উঠছে। সেটা হাতে নিতেই, হৃদপিণ্ডটা অকারণেই দ্রুত ধুকপুক করছে। চারপাশ নিস্তব্ধ। কিন্তু কেন যেন বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্বস্তি কাজ করছে। বক্সটা নিয়ে আবারও বিছানায় গিয়ে বসলো।
ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাল—
দরজাটা অল্প খোলা।
রাহা ভ্রু কুঁচকালো।
“আমি কি দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়েছিলাম…?”
মনে করার চেষ্টা করল, কিন্তু কিছুই মনে পড়ল না।
ঠিক তখনই—
পর্দাটা হালকা নড়ে উঠলো।রাহার বুক ধক করে উঠল।
“কে..কে আছে…?”কাঁপা গলায় বলল সে।
কোনো উত্তর নেই। শুধু বাতাসের শব্দ।
তখনই একটা ছায়া হয়তো অন্ধকারে মিলিয়ে গেল
রাহা ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামলো।
পা দুটো ঠান্ডা হয়ে আছে—তবুও এগোলো।
এক পা..দুই পা…
পর্দার কাছে গিয়ে এক ঝটকায় সরিয়ে দিল—
কেউ নেই।
সে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
“আমি বোধহয় বেশি ভাবছি…” নিজেকেই বলল সে।
তারপর গিয়ে দরজাটা ভালোকরে চাপিয়ে দিলো।
রাহা কখনও দরজা লক করে ঘুমায় না। কেননা তার রুমে তেমন কেউ আসে না। শুধু চাপিয়ে রাখে।
বিছানায় বসে যেই বক্সটা খুলতে যাবে
ঠিক তখনই—
পিছন থেকে শিফা জড়িয়ে ধরলো।
রাহা প্রায় লাফিয়ে উঠল।
“কে,, কে?”
“এই তুই ঘুমাসনি এখনো?” অবাক হয়ে বলল সে।
রাহা যেন প্রাণ ফিরে পেল।
“তুমি! আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম…।
শিফা জড়িয়ে ধরেই বলল,
“শুভ জন্মদিন বনু আমার।
“ভয় পাস কেন? চল নিচে—১২টা বাজে। তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে!”
রাহা কিছুটা দ্বিধায় পড়ল।
“আপু, কেউ কি আমার রুমে এসেছিল?”
শিফা থমকে গেল এক মুহূর্তের জন্য।
তারপর খুব স্বাভাবিক গলায় বলল—
“না তো,কে আসবে?
তোর রুমে আমি, মা, মেজো আম্মু আর ছোট আম্মু, আয়রা, জায়রা ছাড়া তো কেউ আসে না।”
“আমার মনে হলো…”
“আরে ধুর! তুই বেশি ভাবছিস। চল নিচে।”
রাহা আর কিছু বলল না।
কিন্তু তার মনে সন্দেহটা থেকেই গেল। আর গিফট বক্সটার কোথাও ভুলে গেলো। বিছানায় রয়ে গেলো সেটা..।
________
নিচতলায় নামতেই—
হঠাৎ সব লাইট নিভে গেল। পুরো বাড়ি অন্ধকার।
রাহা থেমে গেল।
“আপু ?”
কোনো উত্তর নেই।
– পাশেই তো ছিলো। কোথায় গেলো.!
চারপাশ নিস্তব্ধ। ঠিক তখনই—
“৩… ২… ১…!”
হঠাৎ করেই সব লাইট জ্বলে উঠলো—
“হ্যাপি বার্থডে!!!
সবাই একসাথে চিৎকার করে উঠলো।
রাহা চমকে উঠে তারপর হালকা হাসলো।
চারপাশে সবাই—আফসানা বেগম, আমান খান, আহসান খান, নাজিরা বেগম, রাহার মা তার শিফা আপু আর বাচ্চারা। সবাই তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু উপস্থিত নেই একজন।
আর তারা আশাও রাখেনি কেনোনা তার উপস্থিতি একদম অসম্ভব।
কেক টেবিলের উপর।
মোমবাতির আলোয় ঝলমল করছে।
শিফা এসে তাকে আবারও জড়িয়ে ধরলো—
“হ্যাপি বার্থডে, পাগলি!”সবাই উইশ করলো।
রাহার মনটা কিছুটা হালকা হলো।
কিন্তু, তার চোখ হঠাৎ করেই থেমে গেল সিঁড়ির দিকে।সেখানে—
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে কেউ একজন।
উপরে,দোতলার ছায়ায়।
সবাই হাসছে, কথা বলছে কেউ খেয়ালই করছে না। কিন্তু রাহা দেখছে, স্পষ্ট দেখছে।
অভ্র ভাই…!
অভ্র ভাই এখানে..! আর এখনও দাঁড়িয়ে আছে..?
চোখ কচলে আবারও তাকালো । এটা সত্যি ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে..! তাহলে এখানে আসছে না কেনো..? মনে মনে কথা গুলো ভাবতে ভাবতে সে আবারও তাকালো।
অভ্র ও সিঁড়ির রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে একনজরে তাকিয়ে আছে রাহার দিকে। না কোনো হাসি। না কোনো অভিব্যক্তি। শুধু তাকিয়ে আছে অদ্ভুতভাবে।
রাহা শুকনো ঢোক গিললো।
কেউকে যে কিছু বলবে কোনো কথাও বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে।
এক মুহূর্তের জন্য তাদের চোখে চোখ পড়লো।
পরমুহূর্তেই অভ্র ধীরে ধীরে সরে গেল অন্ধকারের ভেতর।
অদৃশ্য হয়ে গেল। যেন সে কখনো ছিলই না…
তার মনে শুধু একটা কথাই ঘুরছে—
“ওই ছায়াটা, তাহলে সত্যিই ছিলো…?”
– সবাই কেক কাটায় ব্যস্ত…
“কাট কাট কাট!” উইশ কর! উইশ কর!”
হাসি, শব্দ, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। রাহা কেকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তার মন নেই এখানে। তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে সিঁড়ির দিকে।
অভ্র ভাই…আর ওই ছায়াটা…!
—“এই! কি হলো? কেক কাট!” শিফা ধাক্কা দিয়ে বলল।
রাহা চমকে উঠল।
হালকা হাসি দিয়ে চোখ বন্ধ করে উইশ করল।
কিন্তু তার মনের ভিতরে একটাই কথা—
“ উনি নিচে না এসে ওখানে কেনো দাঁড়িয়ে ছিলো।?”
কেক কেটে সবাই রাহাকে খাইয়ে দিলো।
আর রাহা ও সবাইকে খাইয়ে দিলো। সবাই গিফট দিলো। গিফট পেলে তো এই মেয়ে যা খুশি হয়।
প্রতিবছর রাত ১২ টায় সবাইমিলে তাকে সারপ্রাইজ দেয় সাথে গিফট তো আছেই। আর পরেরদিন বড় করে উদযাপন করে।
চেয়ারম্যান সাহেবের ভাতিজি বলে কথা।
সকালে অনেক মেহমান আসবে। অনেক কাজ আছে তাদের এই ভেবে সবাই ঘুমোতে চলে গেলো।
রাহা ও নিজের রুমে যাওয়ার সময়,
তার কেনো যেনো একটা অজানা টান তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আরেকদিক। এতো ধীরে ধীরে পা ফেলছে তার নিজের পায়ের শব্দই তার কাছে অস্বাভাবিক লাগছে।
দোতলায় উঠে চারপাশে তাকালো— দেখছে দক্ষিণ দিকের ঘরে আলো জ্বলছে।
অভ্র ভাই এখনও জেগে আছেন..!
দরজা অল্প খোলা দেখতে পেল।
ভিতর থেকে হালকা আলো বের হচ্ছে। রাহার বুক ধকধক করছে। সে ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেল।
হাত বাড়িয়ে ঠেলতেই—
দরজাটা নিঃশব্দে খুলে গেল। ভিতরে ঢুকেই থমকে গেল সে।
রুমটা একদম অন্যরকম। একদম শেষের রুম ছিলো এটা। সবসময় তালা দেওয়া থাকতো। কালকে রাহা দেখেছিলো এটা পরিষ্কার করতে। ভেবেছে পরিষ্কার করার পর এসে একবার দেখে যাবে। আর আজ সারাদিন যা যা হলো তাই এইদিক আসতেই পারেনি।
রুমটা সাউন্ডপ্রুফ। ডিজিটাল লক সিস্টেম। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নয়তো পিন লাগে ঢুকতে। কিন্তু কোনো লক করা ছিলো না আজকে, আশ্চর্য্য।
রুমের দেয়ালে সাদা কালো কম্বিনেশনে রং করা।
লাক্সারিয়াস বেড। সাথে এটাচড ছোট টেবিল। পাশেই খুবই বড় থাই দিয়ে সেট করা ট্রান্সপারেন্ট দরজা। যা একদম সিলিং থেকে ফ্লোর পর্যন্ত লাগানো। রাহা বুজলো সেটা ক্লোজেট।
পুরো ঘরটা একটা প্রখর ব্যক্তিত্বের ভাব বহন করছে। রাহা নজর বুলাতে বুলাতে হঠাৎ দেখতে পায় টেবিলের উপর—
একটা পুরনো ফটো ফ্রেম।
রাহা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
ফ্রেমটা হাতে তুলে নিতেই তার চোখ বড় হয়ে গেল।
ছবিতে—
একটা ছোট ছেলে হাসছে একদম নিষ্পাপভাবে।
তার পাশে একটা ছোট মেয়ে।
মেয়েটা হেসে ছেলেটার হাত ধরে আছে।
রাহার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো।
“এই মেয়েটা...আমি…?”আমার মতো লাগছে।!
হাত কেঁপে উঠল তার।
ঠিক তখনই—
পেছন থেকে ঠান্ডা একটা কণ্ঠ—
“ছবিটা যেখানে ছিল, সেখানে রাখ।”
চলবে.......
সবাই রিয়েক্ট করবেন আর কেমন হচ্ছে কমেন্টে জানাবেন 🫶💖
Page 1 / 2
Next