গল্প: বিষাদও বসন্ত ...
 
Notifications
Clear all

গল্প: বিষাদও বসন্ত (writer:Alakananda Aindri)

Page 1 / 2

Posts: 9
Topic starter
(@alakananda-aindri)
Joined: 5 months ago

গল্প :বিষাদও বসন্ত

Writer :Alakananda Aindri

এখন থেকে এইখানে বাকি সব গুলো পর্ব পোস্ট করা হবে,

আর যাদের আগের পর্ব গুলো পড়া হয় নি তাদের জন্য নিচে লিংক দেওয়া হয়েছে। 

 

গল্পের:link

Loading spinner

Reply
8 Replies
Posts: 9
Topic starter
(@alakananda-aindri)
Joined: 5 months ago

পর্ব :০৮ 

মিথির শরীরটা দুর্বল,তার উপর অনিয়মিত ঘুম এবং গতকাল রাতের আদ্রের কান্ডকারখানা। সব মিলিয়ে মিথির আজ ঘুমটা ভাঙ্গল অনেকটা বেলা করেই। ঘুম ছেড়ে উঠে যখন রুমের বাইরে পা রাখল ঠিক তখনই আদ্রর দাদী নাক কুঁচকাল। মিথির দিকে এমনভাবে চাইল যেন দুনিয়ার সর্বোচ্ছ ঘৃণীত কাজটা মিথিই করেছে। মিথি দৃষ্টি অনুসরন করে নিজের দিকেই চাইল। কেন এভাবে চেয়ে আছে তার কারণ না বুঝে যখন কিচেনের দিকে পা বাড়িয়ে যেতে নিল ঠিক তখনই আদ্র দাদী মুখ চোখ কুঁচকে বলে উঠল,

“ একেই তো কোন পরপুরুষের বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরতাছিস তার উপর কাল রাইতে কিনা আমার নাতিরে তুই চড় মারছস মিথি? তোর সাহস কত? আমার নাতির সংসার করবি না তুই? এইটা বলছস তুই? আরেহ তোরে যে আমার নাতি বিয়ে করছে এইডাই তো তোর সাত পুরুষের ভাগ্য! ”

মিথি শুনল চুপচাপ। অত্যাধিক দুর্বলতায় কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না তবুও উঠতে বসতে এভাবে আদ্রর দাদীর খোঁটাটাও সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছে ওর। বিশেষ করে ওটা যখন তার চরিত্র নিয়ে, সন্তান নিয়ে কথা। গত দুদিন যাবৎই ভদ্র মহিলা উঠতে বসতে মিথিকে এটাই প্রমাণ করেছে যে সে নষ্ট চরিত্রের মেয়ে। জঘন্য একটা মেয়ে। মিথি যথাসম্ভব উত্তর না দিয়ে থাকারই চেষ্টা করেছে। আজও যথাসাধ্য চেষ্টা করে আবারও পা বাড়িয়ে যেতে নিতেই উনি আবারও বলল,

“ এতই যখন প্রেমপিরিতি তখন ঐ পোলার লগে চইলা যাইতে পারতাছস না? পইড়া আছস কেন এই বাড়িতে? চইলা যা পেটে যার বাচ্চা তার কাছে। আমি আমার নাতিরে আবার বিয়ে করাব। ”

মিথি এবারেও উত্তর দিল না। কি প্রয়োজন ঝামেলা বাড়ানোর? তাছাড়া, যেখানে কথা বলে বিন্দুমাত্র লাভ হবে না ওখানে কথা বলারও কি প্রয়োজন। মিথি  চুপচাপ কিচেনে গেল। অতঃপর আদ্রর মাকে দেখা গেল ওখানে। আদ্রর মা মিথিকে দেখেই এগিয়ে এলেন। কপালে হাত রেখে সুন্দরভাবেই জানতে চাইল,

“ ভালো লাগছে না মিথি? শরীর অসুস্থ? চোখমুখ এমন দেখাচ্ছে...”

মিথি তাকাল। মনে মনে কাল রাতেই সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল যে সে আজ সকালেই ফুফিকে বলবে বাড়ি দিয়ে আসতে। ভাই তাকে যাই বলুক, যতই সহ্য না করুক তবুও মিথি এখানের থেকে ওখানেই বেশি নিরাপদ অনুভব করবে। অন্তত এমন পশুর সাথে তো বসবাস করতে হবে না ওকে। মিথি মনে মনে সবটা বলার জন্যই প্রস্তুত হলো। ছোট্ট শ্বাস ফেলে বলল,

“ ফুফি.. 

“ বল মিথি। ”

মিথি এবারে সরাসরিই বলল,

“ আমায় একটু বাড়ি দিয়ে আসার ব্যবস্থা করবে? ব্যবস্থা না করলে আমি নাহয় নিজেই যাব। একেবারের জন্য যেতে চাইছিলাম।  ”

আদ্রর মা ভ্রু জোড়া কুঁচকে ফেললেন। মিথির কথাটা শুনে দ্রুতই বলল,

“ একেবারের জন্য বাড়ি যাবি মানে? এটা তোর সংসার মিথি। সংসার ছেড়ে চলে যাবি তুই? ”

মিথি ঠোঁট এলিয়ে তাচ্ছিল্য মাখা হাসি হাসল। তার সংসার? এটা হাস্যকর নয়? সংসারের কিছু গড়ে উঠেছিল এখানে? হয়তো উঠেছিল। দৈহিক চাহিদা! আর কিছুই তো গড়ে উঠেনি। মিথি ওভাবেই বলে,

“ আমার সংসার? শুরু থেকেই তুমি যে এই মিথ্যে আশাটা আমায় বলে এসেছিলে ভাগ্যিস ফুফি,  মিথ্যে আশাটা আমি দেখিনি কখনো। দেখলে হয়তে আজ কষ্ট পেতাম, এই সংসার আঁকড়ে থেকে যেতে চেষ্টা করতাম মরে যাওয়া অব্দি। সৌভাগ্যবশত এখন আমার মায়া হচ্ছে না সংসার শব্দটার প্রতি। ”

আদ্রর মা আবারও বলল,

“ এত সহজে হাল ছেড়ে দিবি তুই? মাত্র দুই মাসে? তুই প্র্যাগনেন্ট মিথি। যেখানে বাড়িতে তোর ভাই-ই তোকে সহ্য করতে পারে না সেখানে তুই ওদের ওখানে গেলে ওরা খুশি হবে মনে করিস তুই? ”

“ না, মনে করছি না ফুফি। মোটেও মনে করছি না। তবুও আমি যাব। যেখানে আমার মাতৃত্বের কোন নিরাপত্তা নেই ওখানে কি করে থাকব? তাছাড়া এমনও তো নয় যে এখানে আমার উপস্থিতিতে সবাই খুশি। ”

“ তোদের মাঝে ঝামেলা হয়েছে আবার কাল রাতে, তাই তুই এসব বলছিস। তুই আদ্রকে চড় ও মেরেছিলি কাল মিথি? এটা কি সত্যি? আমি, আমি এটা বিশ্বাস করিনি। ”

মিথি তাকাল নিরব চাহনিতে। কেন বিশ্বাস করেনি? কেন? মিথির কি সারাজীবন কেবল আঘাত পেয়ে যাওয়াই উচিত? মার খাওয়া উচিত? ওর নিজের পাল্টা মার দেওয়া কি অবিশ্বাস্য? কেন ফুফির এত বিশ্বাস যে সে তার ছেলের গায়ে হাত উঠাবে না? মিথি ছোট শ্বাস ফেলে। অতঃপর একটা হাসি মিশিয়ে বলল,

“ ফুফি,এই সমাজে ছেলেরা মেয়েদের গায়ে হাত তুললে কোন অপরাধ হয় না তাই না? মেরে জখম করে ফেললেও কিচ্ছু হয় না। এমনকি স্বামীরা বউকে খু'ন করে ফেললেও এটা তো স্বাভাবিক বিষয় তাই না? অহরহ ঘটছে। অথচ মেয়েরা তার স্বামীর গায়ে হাত তুললেই বিষয়টা বিস্ময়কর,আশ্চর্যজনক, পাপ। চরম পাপ! এমনটা হয় নাকি। ”

এইটুকু বলেই মিথি চুপ করল। অতঃপর আবারও আদ্রর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

”হ্যাঁ, কাল রাতে আমি চড় মেরেছি তোমার ছেলের গালে। বিনা কারণে নিশ্চয় মারব না ফুফি? এই যে তোমার চোখমুখে এই অসহায়ত্ব, তোমার চোখমুখে এই চড় মারার বিষয়টা নিয়ে অবিশ্বাস এটাই বলে দিচ্ছে তুমি কখনো চাও নি তোমার ছেলের গায়ে কেউ হাত উঠাক। তাও আবার আমার মতো একটা সাধারণ মেয়ে? মুখে না বললেও বুঝা যাচ্ছে তুমি এতে খুশি হওনি। আসলে কি জানো তো ফুফি? মেয়েরা মা হবার পর সবার আগে মাতৃত্বকেই অগ্রাধিকার দেয়। নিজের নারীত্বকেও না। নয়তো একজন নারী হয়ে তুমি অন্য নারীর দিকটা ভাবতে। ভেবেছো? ভাবোনি। কারণ আদ্র তোমারই ছেলে, তোমারই সন্তান। জানো ফুফি? তুমি যেমন তোমার সন্তানকে ভালোবাসো আমিও ওভাবেই আমার সন্তানকে অনুভব করি ফুফি। ভালোবাসি। তবুও বলবে তাকে শেষ করার চেষ্টা করা লোকটার সাথে সংসার করতে? সে লোকটাকে চড় মেরে ভুল করেছি এটাই তো বলবে? ”

আদ্রর মা সবটা শুনল। অতঃপর মিথিকেও বলার মতো কিছু পেল ন যেন। ছোটশ্বাস পেনে অনেকটা সময় পর মিথিকে বুঝানোর ভঙ্গিতে উনি আবারও বললেন,

“ মিথি, আরেকটু সময় নে। তুই রাগের মাথায় তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছিস লক্ষী। ভাব একবার, তোর সন্তান। তোর বাচ্চা। জানি তো আমি তুই ভালোবাসিস। কিন্তু তুই ওকে একা বড় করবি? ওর বাবার প্রয়োজন পড়বে না মিথি? ”

সমাজ মেয়েদের মাতৃত্বকে মেয়েদের দুর্বলতা বানায়। এই যে তার প্রমাণ। একটা সন্তান হলেই ঐ সংসারে হাজারটা অত্যাচারের পরেও টিকে থাকতে হবে। কারণ কি? কারণ তার সন্তানের বাবা ঐ লোকটাই। ঐ নিকৃষ্ট লোকটাই। মিথি হাসে। বলে,

“ পড়বে না। ও বাবা ছাড়াই বড় হবে। পৃথিবীতে কত সন্তানই তো বাবা ছাড়া বড় হয়। তুমি দেখোনি ফুফি? ”

“ তুই যাই বলিস দিনশেষে ও বাবা বলে আদ্রকেই তো জানবে। ওর ইচ্ছে হবে না বাবার সাথে ঘুরতে, বাবার কোলে উঠতে? ওকে বাবার আদর থেকে বঞ্চিত করবি? ”

মিথি এবারের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই উত্তর করল,

“ ওর বাবার আদরের প্রয়োজনই পড়বে না ফুফি। ওকে ওর আম্মুই এত ভালোবাসবে যে ও কখনো বাবার অভাব বোধ করবে না।”

“ মিথি, আমার ছেলেটা অন্যায় করেছে।মানছি তো আমি। একটুও সময় ও তো দে ওকে শুধরানোর। প্লিজ। ”

মিথির আর কথা শুনতে ইচ্ছে হলো না। এই যে শুধরানোর কথা বলল না? কি শুধরাবে আদ্র নিজেকে? যদি শুধরায়ও, আদ্র কখনো পারবে নিজের সন্তানের দিকে চোখ তুলে চাইতে? পারবে যে সন্তানকে অস্বীকার করেছে সে সন্তানের সামনে দাঁড়াতে? মিথি শুধু শুধাল,

“ আমি তোমায় ভুল বলছি না ফুফি। তবে আমার জায়গায় তুমি থাকলে কি করতে তাই ভেবে বলো নাহয়। ”

এইটুকু বলেই মিথি পা বাড়াতে নিল। আদ্রর মা তড়িঘড়ি করে এবারে বলল,

“ দাঁড়া, খেয়ে যা। ”

মিথি তবুও দাঁড়াল না। না পেরে আদ্রর মা হাত টেনে ধরেই বলল,

“খেয়ে যা মিথি। রাগ দেখাচ্ছিস আমার সাথে? ”

“ আমার অতটুকু যোগ্যতাই নেই ফুফি। ”

অতঃপর মিথি ফুফির থেকে খাবার নিল। বসে মুখে খাবার তুলতে নিল। অথচ ইচ্ছে এল না খাওয়ার। তবুও যেটুকু ও খেল তা মুহুর্তেই উগড়ে আসতে চাইল। না পেরে মিথিকে দ্রুতই দৌড়াতে হলো বেসিনে। পেট উগড়ে আসা বমিটা বেরিয়ে আসতেই সোফায় বসে থাকা আদ্রর দাদী মুখচোখ কুঁচকে বলে উঠল,

“ কার না কার বাচ্চা পেটে রেখে দিনে তেরোবার খালি বমিই করতাছে। মাঝখানে আমার নাতির কপালটা পুড়ল এই মাইয়াডার জন্য। ”

মিথি শুনল নিরবে। মুখচোখে পানি নিয়ে পুনলায় আবার ফিরেও। এই যে সমাজের সাধারণ মানুষরা পুরুষের কথাকে এতোটা গুরুত্ব দেয়, মেয়েদের কথাকে কেন গুরুত্ব দেয় না? কেন ভাবে না, মেয়েরাও সত্যি বলতে পারে। 

.

মিথি ব্যাগপত্র সব গোঁছাল। ফুফির সাথে কথা বলেও যখন লাভ হলো না তখন নিজ থেকেই সিদ্ধান্তে অটল থাকল। রুম থেকে তার জামাকাপড়ের ব্যাগ গুলো বের করতে নিতে নিতেই আদ্র এল। ভ্রু কুঁচকে মিথির দিকে তাকিয়ে থেকে শুধাল,

“ ব্যাগপত্র গুঁছিয়ে কাঁধে অপবাদ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিস নাকি মিথি? নাকি ভয় পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছিস? কোনটা? ”

মিথি তাকাল। তাচ্ছিল্য নিয়ে হেসে বলে উঠল,

“ অপবাদ? আদ্র? জানেন, আপনি একদিন এই অপবাদের জন্যই খুব করে পস্তাবেন। একটা কথা জানেন তো? এই পৃথিবীতে আপনি কাউকে যেমন আঘাত উপহার দিবেন, ঠিক তেমনই কোথাও না কোথাও, কেউ না কেউ আপনাকেও ঠিক একইরকম আঘাতটাই উপহার দিবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা!”

চলবে...

Loading spinner

Reply
Posts: 9
Topic starter
(@alakananda-aindri)
Joined: 5 months ago

পর্ব:০৯
 

নিজের তিন কবুল বলা স্ত্রীকে যেখানে পরপুরষের সাথে জড়িয়েছে আদ্র,নিজের সন্তানকে অন্যের সন্তান বলে দাবি রেখেছে সবটা জেনেও সেখানে আদ্রর মুখে কোন অনুশোচনার ছায়া দেখা গেল না মিথির কথা শুনে। ও বিশ্বাসই করে না ওর এই কাজের জন্যও ও ফল পেতে পারে বলে। একদিন আপসোস করবে এটাও যেন ওর কাছে হাস্যকর। আদ্রর মুখে কতোটা দম্ভ একটা মেয়ের জীবন শেষ করেও। আদ্র ঠোঁট এলিয়ে হাসল। ব্যঙ্গ করে বলল,

“ সে সময়টা কখনই আসবে না মিথি যখন আমি আপসোস করব। আমি বরং বেঁচে যাচ্ছি। তুই চলে গেলে আমার পথটা ক্লিয়ারই। আরামে মুহুকে নিয়ে সংসার করতে পারব মিথি। ইশশশ, আগে জানলে আমি আমি প্র্যাগনেন্সির এই টোপটা ইউজ করে তোর চরিত্রের দোষ দিতাম। অথচ শুরুর দিকে আমি তোর এই প্র্যাগনেন্সি কি ভয় পেয়ে গেলাম, ভাবলাম মুহু জেনে যায় যদি? জেনে গেলেই তো বুঝে যাবে যে আমি তোর সাথে ফিজিক্যালি ইনভলব্ড ছিলাম।অথচ হলো উল্টোটা। তোকেই এখন চলে যেতে হচ্ছে। আসলে উপরওয়ালা যা করে ভালোর জন্যই করে বল? ”

মিথির ঘৃণা লাগে এই পুরুষটার কথা শুনতে। এই পুরুষটার দিকে তাকাতেও ঘৃণা হয়। অথচ রূপের দিক দিয়ে এই পুরুষ কতোটাই সুদর্শন। তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায় এমন সৌন্দর্য তার। চোখ, নাক, ভ্রু সবই নজরকাড়া। এমনকি শিক্ষা? এই পুরুষটা অতিশিক্ষিতও। কিন্তু দিনশেষে ফলাফল কি হলো? এই পুরুষটার মধ্যে সব আছে৷ রূপ আছে, শিক্ষা আছে, অর্থ আছে। শুধু নেই  মনুষত্ব্যটা। মিথি তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসল। জবাবে বলল,

“ বউ এর সাথে ফিজিক্যালি ইনভলব্ড ছিলেন জেনে যে প্রেমিকাকে হারানোর এতোটা ভয় সে প্রেমিকাকে হারানোর ভয়টা চিন্তা করে আগেই বউএর থেকে দূরত্ব মেইনটেইন করলে তো হতো আদ্র। নাকি কামনার কাছে ভালোবাসা নত হয়ে যেত রাতের আঁধারে? ”

আদ্রর মুখেচোখে তখনও দম্ভ, অহংকার। মিথির তাচ্ছিল্য নিয়ে বলা কথাটা যেন ও গায়েই মাখল না। উল্টে বেশ দাম্ভিকতার সহিত বলল,

“ মুহুকে আমি সত্যিই ভালোবাসি। মন থেকে ভালোবাসি। কিন্তু তুই ছিলি শুধুই আমার শারিরীক চাহিদা। ভালোবাসা না। বুঝলি? ”

“ আপনার মতো বিকৃত মানসিকতার পুরুষের ভালোবাসা হওয়ার ইচ্ছেও নেই আদ্র। ”

এটুকু বলেই মিথি ফের ঘরে গেল।  সবকিছু বের করে নিয়ে, নিজে তৈরি হয়ে যখন বের হলো তখন ড্রয়িং রুমের সোফায় আদ্রর দাদী বসা। মিথিকে এভাবে ব্যাগপত্র গুঁছিয়ে আসতে দেখেই ভদ্রমহিলা সর্বপ্রথম ভ্রু কুঁচকালে। পরমুহুর্তে গাল কুুঁচকালেন। ভ্রু বাঁকিয়ে বললেন,

“ কিরে? যার বাচ্চা পেটে নিয়া ঘুরতাছস তার সাথেই পালাইয়া যাইতাছস নাকি ব্যাগপত্র নিয়া? যাক আপদ গেলে আমরাই বাঁচি।”

মিথি শুনল। এই কয়েকটাদিন দাদী নামক মানুষটা এক নাগাড়েই বলে যাচ্ছেন সে চরিত্রহীন, তার বাচ্চা অন্যের, তাকে বিয়ে করে তার নাতির জীবনটা শেষ এইসেই। মিথি উত্তর করতে চায়নি।তবুও আজ উত্তর করল ও। হেসে বলল,

“ দাদী, এই যে আপনি দিনরাত এতবার করে মারা যাচ্ছেন? আমায় দেখে শ্বাস নিতে পারছেন না? এই জন্য ভাবলাম, আপনার বেঁচে থাকার জন্য হলেও আমার পালিয়ে যাওয়া উচিত। কি বলেন হুহ? ”

দাদী মুখচোখ কুঁচকালেন। তীব্র বিরক্তি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

“ কত বড় বেয়াদব দেখছস? আমার মুখে মুখে ও কথা কইতে আসে। ”

মিথি আবারও হেসে বলল,

“ কথার উত্তর দেওয়াকে তো আমি ভদ্রতাই মনে করি দাদী। আপনি কি অভদ্রতা মনে করো?”

দাদী এবার ক্ষেপল যেন। চোখ রাঙ্গিয়ে বলল,

“ এই, তোর ঐ প্রেমিকই এসব সাহস দিচ্ছে না?  নয়তো এতদিন তো মুখে বোমা মারলেও আটা বের হয় না এমন হয়ে পড়ে থাকতি। ”

“ অথচ তখনও আপনাদের চোখে ভালো হতে পারিনি। এখনও ভালো না। ”

আদ্রর মা এল তখন বাইরে থেকে। দুইজনকে এসব নিয়ে কথা বলতে দেখে শুধাল,

“ কি হচ্ছে আম্মা? ওর সাথেই এভাবে লাগেন কেন?” 

উনি অসন্তুষ্ঠ হলেন বোধহয় ছেলের বউ এর উত্তরে। জবাব দিলেন,

“ লাগব না? ওরে তোমাদের মতো কইরা মাথায় তুইলা রাখব আমি? নষ্টা চরিত্রের মেয়েমানুষ কোথাকার। ঘরে স্বামী রেখে কোন পোলার সাথে কি কি করছে আল্লাহ জানে। ”

মিথি তাকাল। নিজের চরিত্রের দোষ নিতে নিতে ও ক্লান্ত।শুধাল,

“ দাদী? ঘরে স্বামী রেখে অন্য পুরুষের সাথে কিছু করলে নাহয় নষ্টা চরিত্রের মেয়ে সে। কিন্তু ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়ের সাথে কিছু করলে সে পুরুষকে কি বলা হয় দাদী? মহান পুরুষ? ”

দাদী মুখ ভেঙ্গালেন। বললেন,

“ পুরুষ মানুষ পুরুষ মানুষ। তুই কি পুরুষ মানুষ নাকি? একে চরিত্র খারাপ আবার মুখে কথা ফুটেছে। ”

আদ্রর মা এবার বিরক্ত হলো। শ্বাশুড়ির দিাে চেয়ে শুধালেন,

“ আম্মা, মুখ থামান। ওর পেছনে কেন আপনার এত কথা বলতে হবে? আশ্চর্য! ”

উনি মুখ থামালেন না। আবারও বললেন,

“ হ,সবাই মিইলা  মাথায় উঠাইছো দেইখাই তো এহন এমন করছে। মুখের উপর চুনকালি দিয়ে চইলা যাইতেছে। সবাই কইব ডা কি? চৌধুরী বাড়ির ছেলের বউ আরেক পোলার লগে...”

“ থামুন, এক কথা বারবার শুনতে ভালো লাগছে না আম্মা। আর আপনার নাতি যা বলে তাই বিশ্বাস করা বন্ধ করুন বুঝলেন আম্মা? আপনার নাতি ও একদম ধোঁয়া তুলসীপাতা নয়। ”

 এটুকু বলেই আদ্রর মা মিথির দিকে চাইল। ব্যাগপত্র সব ওভাবে দেখে যা বুঝার বুঝেই গেলেন বোধহয় উনি। ছোটশ্বাস ফেলে বলল,

“ মিথি, এদিকে আয়। তোর সাথে কথা আছে আমার। ”

মিথি চাইল। বোধহয় কি বলবে তা তার ধারণাতেই আছে। তাই বলল,

“ থেকে যাওয়ার কথাই তো বলবে তাই না? ”

উনি ক্লান্ত গলায় বলল,

“ আরেকবার ভাবা যায় না মিথি? এই অবস্থায় এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হচ্ছে? ”

“ আমার তো মনে হয়, এটার থেকে উচিত আর কোন কাজই হবে না ফুফি। ”

“ এমনিতে তো আলাদা রুমে থাকছিস মিথি।তুই বলাতে করে দিয়েছি না আলাদা থাকার ব্যবস্থা?তবুও.. ”

“ অথচ আলাদা ঘরে থেকেও লাভ কি? তোমার ছেলের কারণে আমি নিরাপদ অনুভব করছি না তো ফুফি। এর থেকে ভালো আমার গ্রামের বাড়িটাই। শান্তিতে তো থাকব বলো? ”

“ তাহলে চলেই যাবি? অন্তত তোর ফুফা আসুক। কথা বলে তারপর নাহয়... ”

মিথি হেসে শোনাল,

“ ফুফা বুঝবেন আশা করি আমার অবস্থাটা।”

“ আচ্ছা যা, ভালো কথা। আমি গিয়ে আবার নিয়ে আসব হ্যাঁ? তখন কিন্তু না করবি না। ”

মিথি ছোটশ্বাস ফেলল। বলল,

“ আমি আর ফিরতে চাই না এ বাড়িতে ফুফি। এমনকি,তোমার ছেলের সাথে জুড়ে যাওয়া সম্পর্কটাও আমি মুঁছে ফেলতে চাই ফুফি। তোমার ছেলের নামের অংশটাও আমার নাম থেকে মুঁছে ফেলতে চাই। আমি ঘৃণা করি তাকে।”

“ এতোটাই ঘৃণা? ”

“ হ্যাঁ, এতোটাই ঘৃণা। উনার মতো মানুষদের শুধু ঘৃণাই করা যায় ফুফি। শুধু এবং শুধু ঘৃণাই! ”

আদ্র মা অবাক হলেন না কথা শুনে। তার ছেলে যা করেছে তাতে বোধহয় এটাই প্রাপ্য তার। বলল,

“ বাদ দে, একটু বস।একা তো যেতে দিব না তোকে মিথি। আমারও শরীরটা খারাপ৷আদ্রকেই বলতাম। কিন্তু তোদের সম্পর্কটা তো ঠিক নেই এখন। তার চেয়ে বরং তোর ফুফা এসে নিয়ে যাক। ”

মিথি সঙ্গে সঙ্গে না করে বলল,

“ না, প্রয়োজন নেই ফুফি। আমি বাসে উঠিয়ে দিলে গ্রামে চলে যেতে পারব। তুমি আমায় বাসে উঠিয়ে দিয়ে আসতে পারবে? ”

“ আমি তোকে একা ছাড়তে চাই না মিথি এই অবস্থায়। কেউ গেলে ভালো হতো না? ”

“বাস পর্যন্ত উঠিয়ে দিয়ে এলেই হবে। ”

আদ্রর মা চিন্তা করলেন। অতঃপর উশখুশ করে বললেন আবারও,

“ তোর ফুফা নাহলে আদ্রকে বলি দিয়ে আসতে  মিথি? ”

মিথি আবারও নাকোচ করে বলল,

“ না, ফুফি। দয়া করে আমায় সবকিছুতে এতোটা মূল্যহীন বানাবে না ফুফি। 

অতঃপর আদ্রর মাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। শরীর সুস্থ না থাকায় অতদূর যেতে না পারলেও মিথিকে বাস অব্দি ছেড়ে দিয়ে আসল। এমনকি বাস ছাড়ার আগ মুহুর্ত অব্দি মিথির দিকে চেয়ে থাকল চিন্তিত ভঙ্গিতে, ঠিক যেভাবে তাকিয়ে থাকে মায়েরা। 

.

মিথি যখন বাস থেকে নামল তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছে। শীতকাল হওয়ায় দ্রুতই আঁধার নামে যেন। মিথি আশপাশে তাকায়। এটা গ্রামের বাজার। এখান থেকেই সি এনজি নিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে হবে তাকে। অথচ শারিরীক দুর্বলতায় অথবা এতোটা সময় জার্নির জন্যই বোধহয় শরীর গুলিয়ে উঠছে তার। বমি বমি ভাব লাগছে। চোখমুখ ও ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যেই। মিথি হাতের দু দুটো ব্যাগ নিয়ে যখন বাজারে একপাশে দাঁড়াল তখনই মনে হলো ও শরীরের ব্যালেন্স হারাবে। চোখমুখ আঁধার হয়ে আসতেই ও ব্যাগপত্র ছেড়ে বসে পড়ল। ব্যাগ হাতড়ে পানির বোতলটা নিতেই পাশ থেকে শুনতে পেল, 

“ এই, তুমি মিথি না? মাহমুদ ভাইয়ের বোন না তুমি? শুনছো? এভাবে বসে আছো কেন?”

মিথি কিছুটা পানি খেয়ে বাকিটা চোখমুখে দিল। কন্ঠ শুনে মাথা তুলে উপরে চাইল। পাশের বাড়ির আলোক ভাইয়ের বউ। নাম বোধহয় স্নিগ্ধা। অথচ উনারা তো শহরে থাকতেন। এখানে? এখানে কেন তবে? মিথি তাকাল। মুদুস্বরে জবাব দিল,

“ আসসালামুআলাইকুম ভাবী, কেমন আছেন? ”

স্নিগ্ধা হাসল। মিষ্টি করে বলল,

” গ্রামের আবহাওয়া পেয়ে একদম ভালো আছি। তোমাকে বাসে দেখলাম অনেকটা সময় যাবৎ। একাই তো এসেছো তাই না? ”

মিথি মাথা নাড়াল। জবাবে বলল,

“ হ্যাঁ।একাই এসেছি। ”

“ তোমার বোধহয় অসুস্থ লাগছে মিথি। চোখমুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে। ”

মিথি উত্তর করল,

“ একটুআধটু। ”

স্নিগ্ধা আবারও জানতে চাইল,

“ একা যেতে পারবে বাড়ি? নয়তো আমাদের সাথে চলো। একই সাথেই তো বাড়ি আমাদের। ”

“ একা পারব ভাবী। ধন্যবাদ। ”

স্নিগ্ধা মানল না। বরং বলল,

“ মোটেই পারবে না। আমাদের সাথেই চলো।”

মিথি এবারে না করল না। ওদের সাথেই উনাদের ভাড়া করা একটা সিএনজিতে উঠল। স্নিগ্ধা, স্নিগ্ধার বোন আর মিথি পেঁছনে বসল। সিএনজির সামনে বসল হিমেল। এই গ্রামেরই ছেলে এ এবং সম্পর্কে স্নিগ্ধার দেবর। স্নিগ্ধা হিমেলের  দিকে চাইল। সিএনজির সামনের দিকে বসতে অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা জানতে জিজ্ঞেস করল,

“ হিমেল, বসতে অসুবিধা হচ্ছে তোমার? ”

মিথি এবারে চাইল। হিমেল ভাইকে সে খেয়ালই করেনি এতোটা সময়। মিথির এবারে খারাপ লাগল। সে যে সিটটায় বসেছে এটা বোধহয় হিমেল ভাই এর জন্য বরাদ্ধকৃত। সে বসাতেই বোধহয় হিমেলকে সামনে বসতে হলো। মিথি উশখুশ করল।অতঃপর কি বুঝে নেমে গিয়ে বলল,

“ হিমেল ভাই এর বোধহয় অসুবিধা হচ্ছে ভাবী। আমি অন্য সিএনজিতেই যেতে পারব। আপনারা যান। ”

হিমেল ভ্রু জোড়া কুঁচকে নিল কেমন করে। মিথির দিকে চেয়ে রাশভারী স্বরে শুধাল,

“ তোকে বললাম আমি অসুবিধা হচ্ছে? ভাবী? ওকে বসতে বলো। ”

হিমেল বরাবরই কেমন গম্ভীর। এই গম্ভীর কন্ঠের উপর বোধহয় আর কিছু বলা যায় ও না। অগত্যা স্নিগ্ধার কথাতে আবারও উঠতে হলো মিথিকে। তারপর হিমেলদের বাড়ির সামনে স্নিগ্ধা আর ওর বোন নেমে গেল। এর পরই মিথিদের বাড়ি। স্নিগ্ধাদের ব্যাগপত্র সহ ঘরে দিয়ে এসে হিমেল আবারও এসে সামনে বসল।  সিএনজি এবার মিথিদের বাড়ির সামনে থামল। হিমেল চুপচাপ নামল। কোন কথা না বলে ভাড়া মিটাল। অতঃপর আগ বাড়িয়ে মিথির ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে পা বাড়াতেই মিথি বলল,

“ হিমেল ভাই, আমিই নিচ্ছি আমার ব্যাগপত্র।  দিন,আমি নিতে পারব। ”

হিমেল ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাল। গম্ভীর কন্ঠে জানাল,

“ জানতে চেয়েছি মিথি? হাঁট তুই। ”

মিথির মুখ চুপসে যায়। হিমেল ভাই ছোট থেকেই এমন কিনা জানে না সে, তবে মিথির ধারণা হিমেল ভাই তাকে পছন্দ করে না। সম্ভবত এই কারণেই আগে থেকেও এমন গম্ভীর ভাবে কথা বলত। মিথি চুপচাপ হাঁটল। ঘরের সামনে গিয়ে হিমেল চুপচাপই ব্যাগপত্র রেখে আবার চলে গেল। মিথি বুঝলই না এই হিমেল ভাই অদ্ভুত? নাকি অন্যরকম? মিথি ছোটশ্বাস ফেলে নিজেই ঘরে ডুকল। প্রথমেই তার ভাইকে চোখে পড়ল। মিথি ভাবল তার ভাই এগিয়ে আসবে, কেমন আছে জানতে চাইবে। অথচ তেমন হলো না। প্রথমেই জিজ্ঞেস করল,

“ একি মিথি? তুই? বলেছিলাম না আমি যাব? তুই কেন নিজে নিজে আসতে গেলি? আশ্চর্য। ”

মিথি হাসল। ভাই বোধহয় খুশি হলো না সে আসাতে। তবুও উপায় যে ছিল না ওর। আরো কোথায় বা যেত ও? মিথি বলল

“তুমি তো যেতে না ভাইয়া, জানতাম আমি।” 

তার ভাই, মাহমুদ তার আগপিছে চাইল। সাথে কেউ এসেছে কিনা সেজন্য। যখন দেখল কেউ নেই জিজ্ঞেস করল,

“ একাই এসেছিস? ”

“ হ্যাঁ, একাই এসেছি। ”

মাহমুদের নজরটা এবাে বোধহয় তার হাতের ব্যাগপত্রের দিকে গেল। এত বড়বড় ব্যাগ। মনে হচ্ছে জামাকাপড় সব নিয়ে চলে এসেছে। নিশ্চয় এমনি এমনি নয়? মাহমুদ কপালটা সামন্য কুঁচকেই বলল,

“ ব্যাগপত্র সব নিয়ে? ওদিকে সব ঠিকঠাক আছে না মিথি? ”

মিথি হাসে। ভাই এর চিন্তাটা বোধহয় ও খুব সহজেই বুঝে গেল। বলল,

“ হ্যাঁ, সব ঠিকঠাক। তুমি ভয় পাচ্ছো নাকি ভাইয়া? এ বাড়িতে থেকে যাব বলে? ”

“ ভয় পাওয়ার কি আছে। ”

“ আমি যদি একেবারে চলে আসি থাকি তবুও ভয় পাবে না? ”

“ আহ মিথি, ভালোই মজা করছিস দেখছি। ফুফুরা আসেনি কেন? তোকে একা পাঠাল হঠাৎ?”

মিথি এবারেও হাসল। এতোটা সময় পরও তার আপন ভাই, একমাত্র বড়ভাই একটাবার সে কেমন আছে এটা জিজ্ঞেস করল না। অথচ একা কেন এল, এত ব্যাগপত্র নিয়ে কেন হাজির হলো এই নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেল। উত্তর করল,

“ ফুফুদের ব্যস্ততা ছিল তাই। ভাবীরা নেই? ”

“ আছে। ভেতরে যা। ”

মিথি ভেতরে গেল। ভাবীকে বিছানায় হাত পা মেলে বসে থাকতে দেখে হেসে এগোতে নিবে ঠিক তখনই মুখচোখ কুঁচকালেন তার ভাবী তাহিয়া। ভ্রু কুঁচকে প্রথমেই শুধাল,

“ একি মিথি, ব্যাগপত্র সব নিয়ে একেবারে একা একা আচমকা বাড়ি হাজির হয়ে গিয়েছো? কি ব্যাপার? একেবারে পাঠিয়ে দিল নাকি তোমায়? ”

মিথি হেসে উত্তর করল,

“ ভাইয়া না বললেও তুমি যে ঠিক কথাটা ঠিক সময়ে বলে ফেলবে জানতামই ভাবী। ”

তাহিয়ার কপাল আরে কুঁচকাল। সঙ্গে সঙ্গেই বলল,

“ ঠিক কথা মানে? সত্যি সত্যিই বের করে দিয়েছে নাকি? ”

মিথির ইচ্ছে হলো ভাবীর সাথে কথা বাড়াতে। ক্লান্ত লাগছে তার। সত্যিই ক্লান্ত লাগছে। গা গুলাচ্ছে। কথা না বাড়িয়ে ও বলল,

“ একটু রেস্ট করি ভাবী? তারপর নাহয় তোমার প্রশ্নের উত্তর দিব হুহ? ”

মিথির ভাবী খুবই নিরাশ হলো যেন। হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে স্বামীকে দেখামাত্রই মুখচোখ কুঁচকে বলল,

“ দেখো গিয়ে সত্যি সত্যিই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আশ্চর্য!  মিথিরে যতই না দেখতে পারি কিন্তু মিথি তো স্বামীর সংসার থেকে বের করে দেওয়ার মতো মেয়ে না। কোন দোষে বের করল বলো তো? এখন যদি আমার সংসারে উঠে বসে থাকে কি করব?আজীবন তোমার বোনকে ঘাড়ে বয়ে নিয়ে চলব নাকি? ”

চলবে....
 

Loading spinner

Reply
Posts: 9
Topic starter
(@alakananda-aindri)
Joined: 5 months ago

 
পর্ব:১০
 

মিথি আসার ঠিক কিছুটা সময় পরই আদ্রর মা কল করেছিল। মিথির কথা জানতে চাইল। মিথি তখন ঘুমে বলে সরাসরি কথা বললেন না। মিথির ভাবী তাহিয়া অবশ্য বুদ্ধিমতী মহিলা। এই ফাঁকেই বারবার জিজ্ঞেস করে নিলেন মিথি আসলে কেন এসেছে, কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। যদি আদ্রর মা সুন্দরভাবেই বুঝালেন যে কোন সমস্যা হয়নি, মিথিকে উনি কয়েকদিন পরই নিয়ে আসবেন। এতে বোধহয় তার ভাবী কিছুটা নিশ্চিন্তই হলেন। অথচ সে নিশ্চিন্ত থাকার মাঝে অস্থিরতা ঢেলে দিল আদ্র। কিছুটা সময় আগেই কল করে সে জানিয়েছে যে মিথিকে ও বউ হিসেবে মানে না আর। দোষ কি? মিথি অন্যের সন্তানের মা হতে চলেছে এটা দোষ। এরপরই শুরু হলো তাহিয়ার খচখচানো। মিথির ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা আর সে করতে পারল না। বরং রুমে গিয়ে মিথির ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা না করেই গায়ে ঝাঁকড়া দিয়ে বলে উঠল,

“ মিথি, এই মিথি? মিথি, তুমি নাকি কার সাথে কি করেছো? কার সাথে কি করেছো? কার সন্তান তোমার পেটে? এইজন্যই তো, এইজন্যই তো আমি বলি যে এই মেয়ে একা একা কেন এসে পড়ল। ঠিকই সন্দেহ করেছিলাম। ঠিকই সন্দেহ করেছিলাম যে ওদিকে কি না কি করে চলে এসেছে। ”

মিথির তখনও ভালোভাবে ঘুমই ভাঙ্গল না। ঘুমঘুম চোখে ও কথা গুলো ঠিক না বুঝলেও ভাবীর মুখভঙ্গি ঠিকই নজর কাড়ল ওর। মুখচোখে স্পষ্ট আপসোস, ভয়। মিথি ভ্রু কুঁচকে বুঝার চেষ্টা চালাল।অথচ বুঝে উঠার আগেই তাহিয়া আবার ও চেপে ধরে জিজ্ঞেস করল,

“ কার সাথে কি করেছো বলে ফেলো মিথি। ভালোই ভালো বলে ফেলো। আগে তো তোমায় এমন মনে হয় নি কখনো মিথি। দিব্যি ভালো চরিত্রের মেয়ে মনে হয়েছিল। বিয়ের পর কি হলো হঠাৎ যে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক করেছো? নাকি ঐ পরপুরুষটা মুহিব? ”

মিথির চোখের ঘুম গেলেও চোখজোড়া ঘুমোঘুমো।বোধহয় আজ কয়েকদিন পর তার এই সুন্দর ঘুমটা হলো। অথচ তাও পরিপূর্ণ হলো না। মিথি ছোটশ্বাস টানে। ভাবীর শেষ কথাটা শুনে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল, 

“ ভাবী।”

তাহিয়া ও মুহুর্তেই উত্তর করল,

“ ভাবী বলবা না একদম, মুহিবরে তো তুমি পছন্দ করতা। করতা না ? মুহিব তো শহরেই থাকে। শহরেরই কোন একটা ভার্সিটিতে পড়ে। কোন ভাবে ওর সাথে তোমার সম্পর্ক হয়ে যায় নি তো মিথি? বিয়ের পরও আবেগ অনুভূতি গুলো জ্বলজ্বল করে উঠেনি তো তোমার মনে? ছিঃ ছিঃ! আমার ভাবতেই তো লজ্জা হচ্ছে মিথি। ”

মিথি একটা সময় সত্যিই মুহিবের প্রতি দুর্বল ছিল। সত্যিই কিশোরী অনুভূতির সাথে পেরে না উঠে ও মুহিবের পিছু ঘুরত, পাগলামো করত, চিঠি দিত। তার মানে এই নয় মিথির জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পেয়েছে সেই অনুভূতির সাথে। মিথি তো যেদিন থেকে সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল যে সে আদ্রকে বিয়ে করে নিবে সেদিন থেকেই মুহিবকে ভুলার শপথ করেছিল। প্রথম দিকটায় ওর কিছুটা অনুভূতি কাজ করলেও ধীরে ধীরে বিয়ের পর যখন কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হলো তখন ওর মুহিবের কথা মনেই পড়ল না। মিথি এতোটা জ্ঞান বুদ্ধি  হীন নয় যে ও বিয়ের পরও অন্য একটা পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়াবে। হোক সে একসময়কার আবেগ কিংবা অনুভূতি। মিথি সত্যিই পরকীয়ায় জড়ানোর মতো মন মানসিকতা নিয়ে বড় হয়নি। তাহলে? ভাবী কেন ভাবল এমনটা?মিথি সোজা হয়ে বসল। গায়ের কাঁথাটা একপাশে নিয়ে ভাজ করতে করতে বলল,

“ যে সম্পর্কটা আমার বিয়ের আগে এতো এফোর্ট দেওয়া স্বত্ত্বেও হলো না, সে সম্পর্কটা আমার বিয়ের পর হয়ে গেল? আমি এতোটাই নির্বোধ যে বিয়ের পর ও পরকীয়ার মতো নিচু একটা সম্পর্কে জড়িয়ে বাচ্চা নিয়ে নিব? আমি যেখানে আদ্রদের বাসা ছেড়ে দুয়েক পা অব্দি বাইরে যেতাম না কখনো, সেখানে মুহিব ভাই এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লাম আমি আরামে? শুধু সম্পর্কে জড়ানো হলে তো মানা যেত, আমি কিনা মুহিব ভাই এর বাচ্চার মা হয়ে গেলাম অবৈধ সম্পর্ক করে? রিয়েলি? তোমার সত্যি মনে হচ্ছে কাহিনীটা ভাবী? ”

মিথির ভাবী তাহিয়া শুনল এসব। অথচ থেমে গেলেন না। পরমুহুর্তেই আবার বলে উঠলেন,

” তাহলে? তাহলে কাকে দেখে তোমার এমন মতিভ্রম হলো শুনি? কার জন্য নিজের ন্যায়নীতি ভুলে বসেছো এভাবে? একটা অবৈধ সন্তান এভাবে পেটে বয়ে নেওয়ার কারণ কি মিথি? ”

অবৈধ? ওর সন্তান অবৈধ? ওর সন্তান অবৈধ নয়। মিথি জানে। ও বৈধ, ও পবিত্র, ওর গায়ে কোন কলঙ্ক নেই। তবুও কেন বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে? মিথি চোখজোড়া টানটান হয়ে যায়। ভাবীর দিাে চেয়ে স্পষ্ট ভঙ্গিতে বলে উঠল ও,

“ ভাবী! ওকে অবৈধ বলার অধিকার আমি তোমায় দেয়নি। বুঝেশুনে কথা বলো ভাবী। যা মুখে আসছে তাই বলে ফেলো না।মানব না আমি।   ”

তাহিয়া মুখ ভেঙ্গাল। বলল,

“ অবৈধকে অবৈধ বলব না তো কি বলব? বৈধ বলব আমি? ”

মিথির মুখচোখ কঠিন হয়ে আসে কেমন। তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, উঠুক। মিথি মেনে নিচ্ছে তো। কিন্তু তার সন্তানকে অবৈধ বলার সাহস পায় কি করে? বলল,

“ ও বৈধ না অবৈধ এটা জাস্টিফাই করার তুমি কেউ না ভাবী। আবারও বলছি, ও অবৈধ না।  ”

“ আমি কেউ না? উঠে তো বসেছো আমারই ঘাড়ে। আবার আমায় বলছো আমি কেউ না? শুনো মিথি, তোমার নিজেরই স্বামী এই বাচ্চাকে অস্বীকার করেছেন। আমাকে নিজেই বলেছে যে তোমার পেটের সন্তান তার নয়, অন্য কারো। এর দ্বারা কি বুঝায়? অবৈধ নয় এই সন্তান? ওকে আমি অবৈধ বলব না তো বৈধ বলব হ্যাঁ? ”

মিথি এবারে ঠোঁট বাঁকাল। আদ্রই বলেছে এসব তাহলে? আদ্র আর কতোটা নিচে নামবে? কতোটা? আদ্র আসলে কি চায়? মিথি যাতে কোনভাবে শান্তি না পাক তাই চায়? অথচ মিথি কিন্তু আদ্রকে সুখে থাকারই পথ করে দিয়ে এল। মুহুকে নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে এল। তবুও পুষাচ্ছে না? মিথি ছোটশ্বাস ফেলে জানাল,

“ উনি আমার বাচ্চাকে অস্বীকার করার কেউ নন। আমি নিজেই উনাকে আমার বাচ্চার বাবা হিসেবে অস্বীকার করেছি। এই বাচ্চাটা উনার নন,শুধুই আমার। ”

তাহিয়া বিরক্ত হলো। কপাল কুঁচকানো। চোখমুখে বিরক্তির তীব্র ছাপ। বলল,

“ কথা ঘুরাবে না মিথি। সংসারটা যে টিকবে না তা তো বুঝাই যাচ্ছে। কি করবে সারাজীবন? আমি বাবাহ তোমার দায়িত্ব আজীবন বয়ে বেড়াতে পারব না মিথি। ননদ ঘরে নিয়া আজীবন সংসারও করতে পারব না। সময় আছে, ঐ অবৈধ বাচ্চাটা ফেলে দিয়ে ওদের কাছে ভুলটা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নাও। দেখো সংসারে তুললেও তুলতে পারে। ”

মিথি তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসল। কতোটা স্পষ্ট রূপ তার ভাবীর। বলল,

“ তোমার কেন মনে হচ্ছে আমি ঐ সংসারে যেতে মরিয়া হয়ে আছি ভাবী? ”

“ তো কি করবে? বাপের বাড়িতে পড়ে থাকবে নাকি আজীবন? ”

“ কেন? বাপের বাড়িতে থাকার কি মেয়েদের অধিকার নেই নাকি ভাবী? আমার জানামতে তো আমার অধিকার আছে। এইছাড়াও, সেলাই পারি তো। আপাতত ওটাই চালিয়ে নিব। দেখি এটা করতে করতে আরো কিছু হয়তো পেয়ে যাব।বিয়ের আগেও তো সেলাই করে যা টাকা পেতাম তা তুমি নিয়ে নিতে। ”

মিথি সেলাই পারে। সেলাইটা অবশ্য তার মায়ের থেকেই শেখা।তার সেলাই মেশিনটা এখনো জানালার কাছে পড়ে আছে অবহেলায়। অথচ একটা সময় বিয়ের আগে মিথি এতে সেলাই করত মোটামুটি। আর যা আয় হতে তার সবটাই যেত তাহিয়ার হাতে। ভাই এর সংসারে খাচ্ছে বলে কথা! তাহিয়া মুখ ভেঙ্গাল। বলল,

“ সেলাই করে কত টাকাই আসবে?  পড়ে তো থাকবে সে আমার সংসারেই। টানতে হবে সে আমাকেই। আমি বাবাহ তোমায় এত বহন করতে পারব না মিথি। এখনও সময় আছে । আদ্রর হাতে পায়ে ধরে হলেও সংসারে ফিরে যাও।  দরকার হলে আমি আর তোমার ভাইও সুপারিশ করব। তবুও সংসারেই ফিরে যাও।  ”

মিথির পছন্দ হলো না কথাগুলো। বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতেই বলল,

“বহন করতে হবে না আমায়। আমার খরচ আমি যেভাবে পারি ওভাবেই চালাব ভাবী, তবুও ওখানে আর কখনোই ফিরব না আমি।”

তাহিয়া আবারও বলল,

“ দেখো মিথি, ফটরফটর করো না। আমি তোমার ফটরফটর সহ্য করব না।ওখানে না ফিরলে বরং মুহিবের কাছেই চলে যাও। আমি আজই ওর নাম্বার নিয়ে কল করে জিজ্ঞেস করব এই অঘটনটা কে ঘটিয়েছে।”

তাহিয়া কথাটা বলল ঠিক। তবে সত্যিই সত্যিই যে করবে তা ভাবে নি। অথচ মিথিকে অবাক করে দিয়ে তাহিয়া মুহিবের নাম্বার কালেক্ট করল। সকাল সকাল মুহিবকে কল করেই বলে বসল,

“ এই মুহিব, মিথির সাথে তোমার কি সম্পর্ক? ওর পেটের বাচ্চাটা তোমার হ্যাঁ? তুমিই ঐ অবৈধ বাচ্চার বাপ? ”

মিথি তখনও নিজের ঘরে। বাইরে থেকে ভাবীর কন্ঠে এহেন কথাগুলো শুনে ওর ইচ্ছে হলে মরে যেতে। স্রেফ মরে যেতে ইচ্ছে হলো। ছিঃ!  শেষ পর্যন্ত মুহিব ভাইকেও এসব জানানো হচ্ছে, এসবে টেনে আনা হচ্ছে।অতঃপর মিথি দ্রুতই নিজের ঘর ছেড়ে বাইরে এল। 

চলবে....
 

Loading spinner

Reply
Posts: 9
Topic starter
(@alakananda-aindri)
Joined: 5 months ago

 
পর্ব:১১
 

মিথি একটা সময় মুহিবের প্রতি দুর্বল ছিল এটা যেমন ঠিক, তেমনই এই মুহুর্তে দাঁড়িয়ে মুহিবের প্রতি তার পাগলামো গুলো ভাবলে মিথির লজ্জ্বা হয়। এই মুহুর্তে দাঁড়িয়ে  ও কেবল এবং কেবল নিজেকেই ভালোবাসে।এই মুহুর্তে দাঁড়িয়ে মিথি বুঝতে পারে জীবনের নানাবিধ সমস্যার কাছে এসব আবেগ কিছুই না। একটা সময়  মানুষ এমন আবেগকেই আঁকড়ে ধরে রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা ব্যয় করে, কারণ ঐ যে জীবনে এতোটা সমস্যার সম্মুখীন তখনও হয়নি সে। হলে হয়তো বা এসব পাগলামো কখনোই করত না। মিথি তপ্তশ্বাস ফেলে। এই যে ভাবী এখন মুহিবকে এই কথাগুলো বলল? এতে মিথির ইচ্ছে লজ্জায়, অপমানে মাটির নিচে চলে যেতে। এভাবে অন্য এক পুরুষের কাছে কথাটা জিজ্ঞেস না করলেই কি হতো না?মুহিব ও বোধহয় আশা করেনি তাকে এমন একটা কথা শুনতে হবে সকাল সকাল। কিছুটা সময় চুপ থাকল ও। বোধহয় বুঝার চেষ্টা করল আসলে বলছে টা কি? এপাশ থেকে মিথির ভাবী আবারও বলল,

“ চুপ করে আছো কেন? সত্যিটা বলো। মিথির সাথে তোমার কি চলছে হ্যাঁ? ”

মিথি এই পর্যায়ে কপাল কুঁচকে বলে ফেলল,

“ কিসব যাতা বলে যাচ্ছো ভাবী। ছিঃ! মুহিব ভাই কি ভাবছে? আশ্চর্য। তুমি ফোন রাখো ভাবী। আমি তোমায় বলছি। ফোন রাখো। ”

মিথির ভাবী ফোন রাখল না। উল্টো মিথিকেই বিরক্ত হয়ে চুপ থাকতে বললেন। ওপাশ থেকে মুহিব এবারে শুধাল,
 
“ আপনি কে? কে বলছেন..”

“ মিথির ভাবী বলছি। বলো এবার, মিথির সাথে কি সম্পর্ক? ”

মুহিব বোধ হয় এই প্রশ্নও বুঝে না। বলল,

“মিথির সাথে আমার কি সম্পর্ক মানে? ”

“ সম্পর্ক নেই বলছো?তাহলে ওর বাচ্চার বাবা তুমি নও বলছো? ”

মুহিব মুহুর্তেই বলে উঠল,

“ কিসব যা তা বলছেন। ওর সাথে আমার কথাই হয়নি বহুদিন। আমি তো গ্রামেও যাইনি অনেকদিন। তাহলে? সম্পর্ক কি করে হবে ? বাচ্চার বাবা তো দূর...”

মিথির ভাবী তাহিয়া তবুও নিশ্চিত হতে পারলেন না যেন। সন্দেহ নিয়ে শুধালেন,

“ তুমি মিথ্যে বলছো না তো? মিথি শুধু মাত্র তোমার প্রতিই দুর্বল ছিল বিয়ের আগে। তোমার জন্যই পাগলামি করত। ও যদি অন্য কোন পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়ায়ই তাহলে তোমার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর সম্ভাবনাই ৯৯%।”

মুহিবের গলায় এবার কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ পেল যেন। সকাল সকাল এসব কথাবার্তা ওর ঝামেলাই মনে হচ্ছে। বিস্তর ঝামেলা। মিথি কি বলেছে ওর বাচ্চার বাবা মুহিব? নয়তো এই কথাটা কেন উঠল?যদি বলেও, কেন বলবে? এটা কেমন ফাজলামো? মিথি কি এখনো ছোট? সংসার আছে। তবুও এই হেয়ালিপনা কি কারণে? মুহিবের এই যে মিথির প্রতি একটা অনুভূতি তৈরি হয়েছে এটক যেটুকু ঠিক, ঠিক তেমনই এটুকুও ঠিক যে ও ওর সম্মানকে ভালোবাসে খুব। গ্রামে ওর যে মূল্য এটাকে ও ভালোবাসে। মিথির সন্তান ওর নিজের এটা স্বগর্বে   বলে বা বলার মতো সাহসিকতা ও কখনোই দেখাবে না। এমনকি খুব প্রয়োজনীয় মনে হলেও না। মুহিব কিছুটা বিরক্তি গলায় ঝেড়েই বলল,

“ এই কারণে ওর বাচ্চার বাবা আমি হবো কেন?  ওর বিয়ে হয়েছে বললেন। ওর বাচ্চার বাবা ওর হাজব্যান্ড হবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি কেন হবো?”

এটুকু বলেই ফের আবার ভ্রু বাঁকিয়ে মুহিব জিজ্ঞেস করল,

“ এক সেকেন্ড, ওর বাচ্চার বাবা ওর হাজব্যান্ড নয়? অন্য কেউ? ”

মিথির ভাবী উত্তর করলেন না। এবারে উনি নিজেই বিরক্ত হলেন যেন।  ফোন রেখে দিলেন মুহিবের মুখের উপরেই। মিথির দিকে চেয়ে  ভ্রু বাঁকিয়ে শুধালেন,

“ মুহিব না হলে আর কোন ছেলের জন্য তো তোমার এই অবনতি হওয়ার কথা নয় মিথি। সত্যি বলো, সত্যি সত্যিই কি এই বাচ্চা আদ্রর নয়? ”

“ তুমি তো ইতোমধ্যে বিশ্বাস করে নিয়েছো কিছু একটা। তাই না? ”

মিথির ভাবী তাহিয়ার মুখে আপসোস  যেন। বললেন,

“ যদি উত্তরটা মুহিব হতো তবুও কিছুটা বিশ্বাস করতাম। কিন্তু এখন বিশ্বাস হচ্ছে না। এতোটাও খারাপ ভাবিনি তো তোমায়। তো, এতোটা খারাপ কাজ কি করলে মিথি? ”

মিথি উত্তর করে না এবারে। বিশ্বাস হচ্ছে না, অথচ সে একই কথাই জিজ্ঞেস করছে! ও কিছুটা সময় স্থির থেকেই এই বিষয়টা এড়িয়ে গিয়ে বলল,

“ মুহিব ভাইকে আবার কল করো ভাবী। তাকে এমন অসম্মানজনক কথা শোনানোর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে আমার। কি না কি ভাবছেন উনি কে জানে। ”

মিথির ভাবী কপাল কুঁচকে নিলেন। বললেন,

“ এতে তো ক্ষমা চাওয়ার কিছু নাই। অসম্মানজনক কি জানতে চাইছি? কিচ্ছুই তো বললাম না।  ”

এইটুকু বলেই মিথির সামনে দিয়ে মুখ বাঁকিয়ে চলে গেল ওর ভাবী। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। ওর কাছে আগে বাটন ফোন ছিল। যা দিয়ে যোগাযোগ করা যেত অন্তত। অথচ এখন নেই। বিয়ের পর ফোনটা দেয়নি উনারা। ও বাড়ি গিয়েও কল করার জন্য তাকে ফুফির উপরই নির্ভর করতে হতো। মিথির ইচ্ছে হলো মুহিবের সাথে এই বিষয়ে কথা বলে আসলেই স্যরি বলা প্রয়োজন। অথচ পারল না। মন খচ খচ করল কেবল এই ভেবেই যে মুহিব ভাই এই বিষয়ে কি না কি ভেবে ফেলেছেন তাকে নিয়ে!

.

দুপুরের আগে আগেই মিথি গোসল সেরে কাপড় নিয়ে পুকুরে গেল। নিজের জামা কাপড়ের সাথে সাথে ভাবীর কাপড় ও ভাই এর মেয়ের কাপড়ও রাখা ছিল বালতিতে। বোধহয় ও বালতিতে কাপড় রেখেছে দেখেই তার উপরে নিজেদের কাপড়গুলো রেখে গিয়েছে ওর ভাবী। এমনটা বিয়ের আগেও হয়েছে। মিথি সেসব  মনে করে পুকুরপাড়ে গিয়ে সব কাপড়ই ধুঁয়ে নিল। অতঃপর ধোঁয়া শেষে পুকুর পাড়ের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে নিতেই দেখা গেল হিমেল ভাইকে। হাত ধরে আছে পাঁচ বছর বয়সী সিমরানের। সিমরান স্নিগ্ধার মেয়ে, অর্থ্যাৎ হিমেলের ভাই এর মেয়ে। দেখতে মিষ্টি। হাত ধরে যখন পুকুরপাড়েই আসল ঠিক তখনই সিমরান মিথিকে দেখে বলল,

“ মিথি ফুফি, তুমি সাঁতার পারো? ”

মিথির সাথে সিমরানের সাক্ষাৎকারটা এবং ভাবটা বিয়ের আগে  থেকেই। বলা চলে সিমরানের ছোটকাল থেকেই। ছুটির সময়ে যখনই হিমেলদের পরিবার বাড়িতে আসত তখনই সিমরানের সাথে মোটামুটি ভালো সময় কাঁটত তার। কোলে করে বাড়ি ঘুরানো হতে শুরু করে পুকুর পাড়ে এসে বসে থাকা সব। মিথির যদিও  এই মুহুর্তে কথা বলার ইচ্ছে কিংবা আকাঙ্ক্ষা কিছুই নেই তবুও ও হাসল। শরীর ক্লান্ত। যত তাড়াতাড়ি কাজ করে বিছানায় গা এলিয়ে একটা ঘুম দিতে পারলেই যেন শান্তি।  তবুও সিমরানের দিকে চেয়ে বলল,

“ একদম পারি। ”

সিমরান উচ্ছাস নিয়ে বলল এবার হিমেলের দিকে চেয়ে, 

“ চাচ্চুও পারে। চাচ্চু সাঁতার কাঁটবে। আমি তা দেখব ফুফু। ”

মিথি সিমরানের উচ্ছাস দেখে বলল,

“ তাই নাকি? খুব ভালো তো। আসি তাহলে এখন ফুফি? ”

সিমরান নাকোচ করল। সিঁড়িতে বসে মিথিকেও বলল,

” চাচ্চু পুকুরে নামলে আমি তো একা। তুমিও বসবে সিঁড়িতে আমার সাথে? দুজনে একসাথে দেখি? ”

মিথি বুঝে উঠল না বসা উচিত কিনা। হিমেল ভাই সাঁতার কাঁটবে এটা সে বসে কি দেখবে? তাছাড়া হিমেল ভাই নিজেও বা এটা পছন্দ করবেন কিনা? মিথি হিমেলের দিকে চাইল। মুখচোখ গম্ভীর। বুঝে না উঠে ও জিজ্ঞেস করল,

“ বসব হিমেল ভাই? ”

হিমেল উত্তর করল,

“ আমার সিঁড়ি যে আমার থেকে অনুমতি নিতে হবে? ”

মিথি উত্তর করল না। চুপচাপ হাতের বালতিটা একপাশে রেখে সিমরানের পাশে বসল। হিমেল তখন এক সিঁড়ি নেমে দাঁড়িয়েছে। টাউজারের পকেট থেকে মোবাইল এবং মানি ব্যাগটা বের করে মিথির দিকে এগিয়ে ধরে বলল  হিমেল,

“ ফোনটা আর মানিব্যাগটা রাখ মিথি। ও হয়তো ফেলে দিতে পারে। ”

মিথি এগিয়ে নিল। ফোন দেখে ইচ্ছে হলো হিমেল ভাইকে একবার বলতে যেন মুহিব ভাইয়ের নাম্বারে একবার কল করতে দেয়। সকালের ভাবীর ব্যবহারটার জন্য একবার নমনীয় ভাবে বুঝিয়ে বলত নাহয়। অথচ হিমেলের মুখভঙ্গি দেখে ওভাবে বলে ফেলতে পারল না। মিনিট দুয়েক পরে হিমেল যখন পুকুরের পানিতে পা রাখল ঠিক তখনই বলল,

“ হিমেল ভাই?”

“ হু।”

“ আপনার ফোনটা একটু কথা বলতে দিবেন? মুহিব ভাই এর নাম্বার আছে না আপনার কাছে? আমার  একটু কথা বলা দরকার ছিল। ”

মিথি নিশ্চিত ছিল যে মুহিব ভাই এর নাম্বার অবশ্যই থাকবে হিমেল ভাই এর কাছে। কারণ মুহিব ভাই হিমেল ভাই এর চাচাতো ভাই। অথচ তার আশায় পানি ঢেলে হিমেল জানাল, 

“ না নেই। ”

“ আপনার চাচাতো ভাই। তবুও নেই? ”

“ না। ”

মিথির মুখটা কালো হলো। শুধাল,

“ আপনি মুহিব ভাইকে অপছন্দ করেন তাই না হিমেল ভাই? মুহিব ভাই এর সাথে আপনার শত্রুতা ছিল কি কোন কারণে? ”

হিমেল চাইল। উত্তর করল,

“ ছিল। ”

“ কি নিয়ে? ”

“ তোকে বলতে ইচ্ছুক নই। ”

মিথি আবারও কেন জানি কৌতুহলি হয়ে বলে ফেলল,

“ সিক্রেট কিছু নিয়ে? ”

হিমেল এবার আকাশের দিকে তাকাল। পায়ের পাতাটা পানিতে রেখে আকাশের দিকে চেয়ে বলল,

“ যা ও পেয়েও অবহেলা করেছে,  তা আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে চেয়েও পাইনি। এইটুকুই। ”

মিথি শুনল। ইশ, হিমেল ভাই এর জীবনেও অপ্রাপ্তি আছে? পৃথিবীতে সবার জীবনেই বোধহয় কোন না কোন অপ্রাপ্তি থাকে। যা তারা চায় তা বোধহয় সৃষ্টিকর্তা তাদের দেয় না। কিংবা দেয়! মিথি এবারে বিড়বিড় করেই শুধাল,

“ যা ভাগ্যে থাকে না, তা তো আমরা শত প্রার্থনা করেও পাই না হিমেল ভাই। যদি সৃষ্টিকর্তার কাছে চেয়ে সবাই সব পেয়ে যেত তাহলে দুনিয়াতে কষ্টে কেউ থাকত না। দুনিয়াতে কোন মানুষই বা দুঃখী হতে চায় বলুন তো? তবুও সৃষ্টিকর্তা বেঁছে বেছে কাউকে সুখে ভাসিয়ে দেন, আর কাউকে দুঃখের সাগরে ডুবিয়ে রাখেন। এটা অনেকটাই ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল। ”

এটুকু আনমনেই বিড়বিড় করে বলল মিথি। ওপাশ থেকে ভাবীর ডাকের গলা শুনে ও তড়িঘড়ি করে উঠে পড়ল।সিমরানের দিকে ফোন আর মানিব্যাগটা দিয়ে মিষ্টি করে বলল ওকে,

“ আমায় বোধহয় ভাবী ডাকছে। সিমরান সোনা, যাচ্ছি হুহ? তুমি একা চুপ করে বসে দেখো। এদিক সেদিক যেও না হুহ? ”

সিমরানও বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়াল।

.

মিথি চলে যাওয়ার পর সেদিন রাতে আদ্র আর বাড়িতেই ফিরেনি। এসেছে মুহুর কাছে। এমনকি এখনও ও মুহুর কাছেই।পুরোটা রাত দুইজনে লং ড্রাইভে গিয়েছে, ঘুরেছে, শীতের রাতে কুয়াশায় জমেছে অতঃপর কুয়াশায় ঘেরা একটা সকালে ওরা বাসায় ফিরেছে। মুহুর গলা ধরেছে ইতোমধ্যেই। নিঃশ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছে ঠান্ডার সমস্যা আছে বলে। আদ্র অনেকটা সময় চেয়ে থেকে এবারে বলল,

“ এসব লং ড্রাইভ লং ড্রাইভ করে নিজের শরীরেন বারোটা বাঁজানো। যা তোমার শরীর নিতেই পারে তাতে এত ইন্টারেস্ট কেন হুহ? নেক্সট টাইম লং ড্রাইভের কথা বললে সোজা ছাদ থেকে ফিক্কা মারব নিচে। ”

মুহুর মুখটা বাচ্চাদের মতো হয়ে গেল যেন। মুহু একদম বাচ্চা বাচ্চা, আদুরে। একদম পুতুলের ন্যায়। যে পুতুলটাকে একমাত্র আদ্রই আগলে রাখে। যে পুতুলটার একটা আদ্রই আছে পৃথিবীতে। মুহু যখন আদ্রর শক্ত ধমক শুনে ঠোঁট উল্টে ঠিক তখনই আদ্র এগিয়ে এল। এক আঙ্গুলে মুহুর থুতনিটা তুলে ধরে বলল,

“ খারাপ কিছু বলেছি আমি? অসুস্থ হওয়ার এত শখ কেন তোমার মিস মুহু? ”

” তুমি আছো না সুস্থ করার জন্য? ”

আদ্র এবার মাথা নোয়াল। মুহুর কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখে হেসে বলল,

“ মিসেস হয়ে যান আমার। আজীবন থেকে যান আমার হয়ে মুহুরানী। ”

মুহু হাসে। বলল,

” এমনিতে কি তোমার মিসেস অন্য কেউ হুহ? তুমি কি তোমার ওয়াইফকে তোমার মিসেস ভাবো আদ্র? ”

“ আপনাকেই ভাবি। কিন্তু আপনি এখনো কাগজে কলমে আমার হননি মুহুরানী। আপসোস। কত অপেক্ষা করব আর? ”

আদ্র বরাবরই চায় মুহুকে। বরাবরই চায় মুহু ওর জীবনে থাকুক। ওর জীবনে সবসময় জড়িয়ে থাকুক। কোনভাবেই যাতে মুহু ওর লাইফ থেকে না যায় এর জন্য ওর বহুচেষ্টা। আদ্র ভালোবাসে, পাগলের মতো ভালোবাসে এই মেয়েটাকে। অথচ ও জানে না ও অলরেডি ভালোবাসার সংজ্ঞায় হেরে গিয়েছে। ওর গুণাগুণ, বৈশিষ্ট্য ভালোবাসার বৈশিষ্ট্যের সাখে মিল নয় এটুকু কে বুঝাবে?আদ্র অবশ্য বুঝবেও না বোধহয়। ও মুহু বলতে অন্ধ। তাই মুহুর গালটা দুই হাতে আঁকড়ে নিয়ে বলল,

“ মুহু, মুহু, মুহু? আই লাভ ইয়্যু মুহু।এতোটা সুখ কেন  মুহু তোমার মধ্যে? আমি সত্যিই তোমাকে চাই। আমার হও তুমি এটা খুব করে চাই সহ ”

মুহু এতোটা আহ্লাদে নরম গলায় বলল,

“ মুহু তোমারই আদ্র। মুহুর তো এই পৃথিবীতে তুমি ব্যাতীত কেউ নেই। যারা আছে তাদের মুহুর আপন আপন লাগে না। মুহুর কেবল এই আদ্রকেই আপন আপন লাগে। অনেকটা! ”

এইটুকু বলেই পরমুহুর্তে অনেকটা সময় পর আবার বলল,

“ গলা ব্যাথা করছে আদ্র। জ্বলছে খুব গলা।বোধহয় খুব করে ঠান্ডা লেগেছে। ”

আদ্র কথা শুনে ছোটশ্বাস টানে। মুহুকে বসিয়ে দিয়ে যেতে যেতে বলল,

“মুহু? আম্মু আগে আমায় মসলা আর লেবু দিয়ে চা বানিয়ে দিত। গলা ব্যাথা সেরে যেত তাতে। বানিয়ে আনছি, বসো।  ”

অথচ বানাতে গিয়ে দেখল লেবু নেই। আদ্র এই সময়ে বের হলো। বাজার থেকে লেবু আর রেস্টুরেন্ট থেকে সকালের নাস্তাটা নিয়ে এল। অতঃপর লেবু চা বানিয়ে মুহুকে দিতেই মুহু নাক সিঁটকাল। ও নাকি খাবে না, নাস্তাও করবে না। অগত্যা আদ্রকেই জোরজবরদস্তি করতে হলো। নাস্তার প্লেট থেকে খাবার তুলে খাইয়ে দিতে দিতে বলল,

“ গলা ব্যাথা এমনিতেই। এর উপর উনি খাবেন না। পরে অসুস্থ হয়ে থাকলে আমি দেখব তোমায়? সোজা রাস্তায় ফেলে আসব মুহু। চুপচাপ খাও।  ”

“ না খেলে?”

আদ্র মুখ ফুলিয়ে বলল,

” উহ মুহু, ভালোবাসি বলে মাথায় উঠছো।”

“ একদম নয়। কোলে উঠেছি সর্বোচ্চ, মাথায় উঠিনি আদ্র। ”

আদ্র হাসল। উত্তর করল,

“ মাথায় ও উঠো, না করেছে কেউ? ”

.
 
তখন বিকাল। আশপাশে ফুরফুরে হাওয়া। মিথি নিজের সেলাই মেশিনটা পরিষ্কার করছিল। ঠিকঠাক আছে কিনা যাচাই করছিল। তখনই তার চাচাতো বোন তুশি আর স্নিগ্ধা ভাবীর বোন সাবিহা এল। মিথি সৌজন্যতার স্বরূপই বসতে বলল। তুশি হেসে বসে গেলেও সাবিহা কিছুটা সময় মিথিকে পরখ করল। চুপচাপ মিথিকে দেখে পর্যবেক্ষন করে অতঃপর হেসে বলল,

“ তুমিই মিথি তাই না? আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল তোমার সাথে দেখা করার। ”

মিথি সেদিন এই মেয়েটাকে সি এনজিতে দেখেছে। স্নিগ্ধা ভাবীর কথা অনুযায়ী এই মেয়েটা উনার বোন। মিথি ও হেসে বলল,

“ আপনি তো ভাবীর বোন তাই না? ”

“ হ্যাঁ, সেদিন সি এনজিতে ছিলাম।তখন তো বুঝেই উঠিনি তুমিই সেই মিথি।  ভালোভাবে দেখতে ও পারিনি তোমায়। তাই চলে এসেছি এখন দেখতে। ”

মিথি শুনল। ভ্রু কুঁচকে বলল,

“ আমায় দেখতে? ”

“হ্যাঁ, তোমায় দেখার ইচ্ছা কিংবা কৌতুহল আমার বহুদিনের। ”

মিথি এবারও ভ্রু কুঁচকে বলল,

“ কেন? ”

“ আমার অনেক কৌতুহল ছিল তোমায় নিয়ে মিথি। বোধহয় কৌতুহল থেকেই। ”

মিথি আবারও বোধহয় প্রশ্ন ছুড়ত। কিন্তু তার আগেই তুশি বলে উঠল,

“দূররর আপনি মিথি আপুকে দেখে এতোটা পাগল হচ্ছেন কেন আমি বুঝে উঠছি না সাবিহা আপু। আপনি, আপনি জানেন মিথি আপুর বর কতোটা সুন্দর? আপনি দেখলে জাস্ট তাকিয়ে থাকবেন। একদম নায়কের মতো দেখতে। ”

সাবিহাও বলল,

“ তাই নাকি? অনেক সুন্দর? ”

“ হ্যাঁ, হ্যাঁ। অনেক সুন্দর আমাদের আদ্র ভাই। ”

কথাটা বলেই পরমুহুর্তে আবার মিথির দিকে ফিরে বলল,

“ আদ্র ভাই কি সুন্দর গো মিথি আপু।তোমার 
লাইফের বেস্ট অর্জন হলে এটা বুঝলে?একদম সুন্দর, বড়লোক একটা বর পেয়ে গেলে। জিতে গেলে তুমি বুঝেছো? ”

মিথির মুখে তাচ্ছিল্য স্পষ্ট!  ও জিতেছে সুন্দর আর বড়লোক বলেই জিতেছে? তুশির ভাবনা গুলো কি হাস্যকর। মিথি উত্তর করল,

“ কে বলল স্বামী দেখতে সুন্দর হলেই নারী জিতে যায়? পুরুষ মানুষের সৌন্দর্য্য দেখে প্রেমে পড়তে গেলে তুই ভুল তুশি। প্রেমে পড়তে হয় পুরুষ মানুষের যত্নে, ভালোবাসায় ও শ্রদ্ধা দেখে। প্রেমে পড়তে পুরুষ মানুষের ব্যাক্তিত্বের। একজন সুন্দর পুরুষকে বিয়ে 
করা কোন অর্জন নয় তুশি। একজন সুন্দর চরিত্রের,সুুন্দর মনের এবং সুন্দর ব্যাক্তিত্বের মানুষকে বিয়ে করাটাই অর্জন। ”

চলবে....
 

Loading spinner

Reply
Page 1 / 2
Share:

Loading spinner