Golpo:Amrita Toke C...
 
Notifications
Clear all

Golpo:Amrita Toke Chai(Writer: Rahi Chowdhury Toha)

Page 2 / 3

Posts: 12
Topic starter
(@toha)
Joined: 5 months ago
পর্ব: ২৪
 

পুরো সন্ধ্যা নেমে এসেছে। শহরের ব্যস্ততা আগের তুলনায় একটু কমলেও চারপাশ এখনো আলোয় ঝলমলে। রাস্তার দুই পাশে দোকানগুলোর আলো এখনো জ্বলছে। কোথাও চায়ের দোকানে আড্ডা, কোথাও ফুচকার দোকানের সামনে ভিড়।
গরম অনেকটাই কমে গেছে। বাতাসে এখন একটা শান্ত ঠান্ডা ভাব।

রিক্তা চোখের চশমা খুলে চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে নেয়। তারপর পুনরায় চশমা পরে নেয়। মিনিট কয়েক পর রিকশা আহমেদ বাড়ির সামনে এসে থামে।

হাঁটুর উপর থেকে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে রিক্তা নেমে ভাড়া দেয়। রিকশাওয়ালা ভাড়া নিয়ে চলে যায়।

রিক্তা এগিয়ে যায় বাড়ির বড় গেইটের কাছে। গেইটের ছোট দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে যায়। তারপর এগিয়ে যায় বাড়ির মধ্যে। জুতা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে।

ভিতরে ঢুকে দেখে সবাই সোফায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। রিক্তা কাঁধের ব্যাগটা সোফায় রেখে সৈয়দ আহমেদের পাশে গিয়ে ধপাস করে বসে পড়ে।

সোহেল আহমেদ জিজ্ঞেস করে„“আজ এত দেরি কেন?”

রিক্তা সোজা হয়ে বসে উত্তর দেয়„“আরশিদের সাথে একটু গ্রুপ স্টাডি করেছি।”

সৈয়দ আহমেদ মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলেন„“দোয়া করি মা, বড় হয়ে একজন ল’ইয়ার হও।”

রিক্তা বাবার কথার জবাবে বলে„“আপনার ইচ্ছে কি?”

„“আমার ইচ্ছে আমার মেয়ে একদিন ল’ইয়ার্স গাউন পরে, হাতে ফাইল থাকবে, তার নামের পাশে লেখা থাকবে অ্যাডভোকেট। যখন সবাই বলবে অ্যাডভোকেট আদিবা আহমেদ রিক্তা। গর্বে তখন বুক ভরে যাবে আর এটাই আমার ইচ্ছে।”

কথা শেষ করে সৈয়দ আহমেদ বুক ভরে শ্বাস নেন।

সোহেল আহমেদ জিজ্ঞেস করেন„“পারবে তোমার আব্বুর স্বপ্ন পূরণ করতে?”

রিক্তা মলিন হেসে বলে„“আমার জীবন দিয়ে হলেও আব্বুর স্বপ্ন পূরণ করবো।”

„“কে কিসের স্বপ্ন পূরণ করছে শুনি?”

রাহাদের কণ্ঠে সবাই পিছন ফিরে তাকায়। রাহাদ দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বলে„“কে কার স্বপ্ন পূরণ করছে?”

রাহাদ ভিতরে এসে সোফায় বসে।

রিতু চিপস খেতে খেতে বলে„“রিক্তা আপু ছোট আব্বুর স্বপ্ন পূরণ করবে।”

„“কি স্বপ্ন?”

„“আপুর নামের আগে অ্যাডভোকেট হবে—সেটাই।”

রাহাদ অবিশ্বাসী চোখে সৈয়দ আহমেদের দিকে তাকিয়ে বলেন„“ছোট আব্বু, তোমার ইচ্ছে বোনুকে ল’ইয়ার বানানো?”

রাহাদের কথায় সৈয়দ আহমেদ হালকা হেসে বলেন„“হ্যাঁ। আমি চাই আমার মেয়ে একজন ভালো ল’ইয়ার হোক।”

রাহাদ কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ রিক্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি এনে বলে„“মন্দ না। আমাদের বোনু কোর্টে দাঁড়িয়ে সবার সামনে কথা বলবে—আহা, কী ফিলিংস!”

রিতু সাথে সাথে বলে উঠে„“হ্যাঁ! আপু তো এখন থেকেই অনেক বকবক করে।”

রিক্তা চোখ ছোট করে রিতুর দিকে তাকায়„“তুই আর একবার বল তো কথাটা।”

রিতু সাথে সাথে চিপস মুখে ঢুকিয়ে নিরীহ মুখ করে বসে পড়ে।

সোহেল আহমেদ হেসে বলেন„“আসলে রিক্তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে। কথা গুছিয়ে বলতে পারে। তাই সৈয়দের এমন ইচ্ছে হওয়াটাও স্বাভাবিক।”

সৈয়দ আহমেদ শান্ত গলায় বলেন„“আমি চাই আমার মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াক। মানুষের সামনে মাথা উঁচু করে চলুক।”

রিক্তা বাবার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে। তার চোখে তখন অন্যরকম কোমলতা।

রাহাদ সোফায় হেলান দিয়ে বলে„“তা বোনু, তখন কিন্তু আমাদর কোনো কেস হলে ফ্রি-তে লড়বি।”

রিক্তা ভ্রু তুলে বলে„“তোমার কেস কেন হবে শুনি?”

রাহাদ হালকা চোখ টিপে বলে„“সময় বলে দেবে।”

রিক্তা জহুরি দৃষ্টিতে রাহাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
রাহাদ আর কিছু না বলে কোর্ট নিয়ে উপরে চলে যায়। রিক্তা কিছুটা সন্দেহ করে, কিন্তু প্রকাশ করে না।

ডাইনিং রুম থেকে মনিরা আহমেদের কণ্ঠ ভেসে আসে„“টেবিলে খাবার সাজানো হয়েছে, খেতে এসো।”

রিক্তা ব্যাগ নিয়ে উপরে চলে যায় ফ্রেশ হতে, আর বাকিরা টেবিলে বসে।

রিক্তা রুমে গিয়ে ব্যাগ টেবিলে রেখে ফোন চার্জে দেয়। ড্রয়ার থেকে একটা থ্রি-পিস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। মিনিটখানেক পর রিক্তা বের হয়।

রুমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে একটু ক্রিম লাগিয়ে নেয়। তারপর নিচে চলে আসে।

রিক্তা একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ে। মনিরা আহমেদ খাবার দিতে থাকেন।

সোহেল আহমেদ খেতে খেতে রাহাদকে জিজ্ঞেস করে„“আজ এত তাড়াতাড়ি আসলে?”

রাহাদ মুখের খাবার শেষ করে বলে„“আজ কোনো কাজ ছিল না, তাই তাড়াতাড়ি আসলাম।”

„“যাক, ভালোই হয়েছে।”

সবাই নীরবে খাবার খায়। খাবার শেষে সবাই উঠে যে যার রুমে চলে যায়। শুধু নিচে থেকে যায় মনিরা আহমেদ, সানজিদা আহমেদ এবং সাথী। তারা খাবার গুছিয়ে পরে রুমে যাবে।

রিক্তা রুমে এসে দেখে বিছানায় শুয়ে রিতু তার ফোনে স্ক্রল করছে।

রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে„“পড়া নেই?”

„“না আপু, স্যার সব পড়িয়ে গেছে।”

রিক্তা কিছু বলে না। গিয়ে টেবিলের চেয়ারে বসে। ল্যাম্পলাইট অন করে নেয়। চশমা চোখে দিয়ে পড়তে থাকে।

রুমে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে।
শুধু টেবিল ল্যাম্পের হলুদ আলো আর পাতা উল্টানোর শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই।
রিক্তা মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। চশমার কাঁচে লাইটের হালকা প্রতিফলন পড়ছে। মাঝে মাঝে সে কলম দিয়ে নোট করছে।

বিছানায় শুয়ে থাকা রিতু উঠে গিয়ে ফোন চার্জে রেখে রিক্তাকে দেখে বলে„“আপু, তুমি কি সারারাত পড়বা?”

রিক্তা চোখ না তুলেই বলে„“হুম, তুই গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।”

রিতু হাই তুলতে তুলতে বিছানার দিকে এগিয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে কাঁথা দিয়ে ঢেকে কিছুক্ষণ পর আবার ফিসফিস করে বলে„“আপু… বেশি পড়লে পাগল হয়ে যাবে।”

রিক্তা এবার কলম রেখে একটু পাশে তাকায়। দেখে রিতু শুয়ে পড়েছে।
„“তুই ঘুমা।”

রিতু আর কিছু বলে না। এবার সত্যিই চুপ হয়ে যায়।
রুমে আবার নীরবতা ফিরে আসে।
বাইরে হালকা বাতাসে জানালার পর্দা একটু নড়ে উঠছে। দূরে কোথাও কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে।

রিক্তা আবার পড়ায় মনোযোগ দেয়। হঠাৎ করেই টেবিলের উপর রাখা ফোনটা হালকা ভাইব্রেট করে উঠে।

রিক্তা ভ্রু কুঁচকে একপলক ফোনের দিকে তাকায়।
এত রাতে সাধারণত কেউ তাকে মেসেজ দেয় না।

সে ধীরে ফোনটা হাতে নেয়। স্ক্রিনে ভেসে উঠে অচেনা একটা আইডি।
কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। তারপর ধীরে মেসেজটা ওপেন করে।
— “মায়াবিনী এখনো জেগে?”

রিক্তার চোখের পাতা কেঁপে উঠে।
আবারও সেই নাম। “মায়াবিনী…”
ওই দিন রাগের জন্যই ফোন ভেঙেছে, আবার সেই মেসেজ করছে।
রিক্তা বিরক্ত হয়ে টাইপ করে—
— “আপনার সমস্যা কি?”

ওপাশ থেকে সাথে সাথেই রিপ্লাই আসে—
— “এত রাগ তোমার? যার জন্য ফোনটাই ভেঙে ফেলেছো?”

রিক্তা ভ্রু কুঁচকে আবার টাইপ করে—
— “আপনি জানলেন কি করে? আমি ফোন ভেঙেছি?”

কয়েক সেকেন্ড সিন হয় না। তারপর রিপ্লাই আসে—
— “বললাম না, আমি খুব কাছের কেউ তোমার।”

— “কাছের না ছাই। আপনি বলেন কাছের, বাট কখনো দেখিনি আপনাকে।”

— “যদি বলি দেখেছো?”

— “দেখি নি। আমি জানি।”

— “আর মাত্র কিছু মাস, তারপর তোমার সামনে আসবো মায়াবিনী… মায়াবীলতা।”

রিক্তা আর রিপ্লাই দেয় না। সে দ্রুত ফোনটা টেবিলে রেখে দেয়। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে।

„“আজব লোক একটা…”
খুব আস্তে করে বিড়বিড় করে সে।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার নিজেই ফোনটা হাতে নেয়। স্ক্রিনে এখনো সেই চ্যাট খোলা।

রিক্তা ঠোঁট ফুলিয়ে টাইপ করে—
— “আপনি কি সবাইকে এমন বিরক্ত করেন?”

ওপাশ থেকে রিপ্লাই আসে—
— “সবাইকে বিরক্ত করার প্রয়োজন মনে করি না।”

রিক্তার অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠে। সে দ্রুত সেটা চাপা দেয়।
— “আমাকে কেন?”

— “কারণ তুমি আমার।”

রিক্তার বুকের ভিতর আবারও কেমন যেন করে উঠে। সে কিছুক্ষণ কোনো রিপ্লাই দেয় না।

বাইরে হালকা বাতাসে জানালার পর্দা নড়ে উঠে।
রুমের নীরবতার মাঝে ফোনের আলোটা আরো উজ্জ্বল লাগছে।

ঠিক তখনই আবার মেসেজ আসে—
— “এত চুপ কেন মায়াবিনী… মায়াবীলতা?”

রিক্তা টাইপ করে না, শুধু ভাবছে। সামনে বই খোলা, হাতে কলম, চুলগুলো এলোমেলো, চোখে চশমা আর মাথার মধ্যে সেই অচেনা আইডির ব্যক্তির পরিচয় মিলানো।

আবার ওপাশ থেকে মেসেজের শব্দ রিক্তার ধ্যান ভাঙে
— “আমার কথা ভাবছো মায়াবীলতা?”

রিক্তা এবার বিস্ময় নিয়ে রিপ্লাই দেয়—
— “আপনি কি ভাবে জানলেন? আপনি তো মহা মনপড়া। না দেখেই মন পড়তে পারেন?”

— “তুমি খুবই নাদান। একজনকে না দেখেই কি কেউ কিছু বলতে পারে?”

— “তাহলে আপনি আমাকে দেখছেন কিভাবে?”

— “আমি তোমার সম্পর্কে বলবো?”

— “বলেন দেখি।”

— “তুমি এখন পড়ার টেবিলে, চুলগুলো এলোমেলো, চোখে চশমা, হাতে কলম এবং চিকন ব্রেসলেট, তার মাঝে S লেখা। গলায় সেম একটা নেকলেস, তার মাঝেও S। সামনে বই, পুরো রুম অন্ধকার, শুধু তোমার টেবিলে ল্যাম্পলাইট আর বারান্দায় লাইট। আমি যা কিছু বললাম সব কি সত্যি?”

রিক্তার এবার জ্ঞান হারানোর অবস্থা হয়ে গেছে।
রিক্তা দৌড়ে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আশেপাশে তাকায়, কিন্তু চারপাশে কিছুই নেই। আবার হতাশ হয়ে রুমে ফিরে আসে। পাশে তাকিয়ে সব বুঝার চেষ্টা করে, কিন্তু সন্দেহের কিছুই পায় না।

হতাশ হয়ে টেবিলে বসে ফোনের দিকে তাকায়। দেখে লোকটা মেসেজ করেছে—
— “আমাকে খুঁজছো মায়াবিনী… মায়াবীলতা? আরে বোকা, এত তাড়া কেন? আমি তোমার মধ্যেই আছি।  তাই শুধু শুধু খুঁজে হয়রান হয়ো না।”

— “কিন্তু আপনি কোথা থেকে দেখছেন আমাকে?”

— “সময় হলে সব বলবো। এখন পড়ো। আর হ্যাঁ, বেশি পড়ো না, তাহলে ব্রেইনে প্রবলেম হবে। গুড নাইট মায়াবিনী… মায়াবীলতা।”

এই মেসেজ দিয়ে লোকটি অফলাইনে চলে যায়।

মেসেজটুকু পড়ে রিক্তা হতাশ হয়ে ফোন রেখে বইয়ের দিকে তাকায়।
কিন্তু কয়েক লাইন পড়ার পরও মন বসে না।
বারবার চোখ ফোনের দিকে চলে যাচ্ছে।

বিরক্ত হয়ে বই বন্ধ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ফোন নিয়ে বিছানার কাছে এগিয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে পাশের টেবিলে চশমা আর ফোন রেখে সব লাইট অফ করে শুয়ে পড়ে।

বাইরে তখন গভীর রাত নেমে এসেছে। চারপাশে এক অদ্ভুত শান্ত নীরবতা। দূরের রাস্তার লাইটের হলুদ আলো জানালার কাঁচে এসে হালকা প্রতিফলন তৈরি করছে।

খোলা জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ভিতরে ঢুকছে।
বাতাসে রাতের স্নিগ্ধ গন্ধ মিশে আছে।

জানালার পাশে রাখা পাতাবাহার গাছের পাতাগুলো হালকা দুলছে।
দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মাঝে মাঝে কোনো গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলে গেলে তার আলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য রুমের দেয়ালে পড়ে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে।

আকাশে আধখানা চাঁদ মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে। চাঁদের আবছা আলো বারান্দার গ্রিলে পড়ে নরম ছায়া তৈরি করেছে।

চলবে....

Loading spinner

Reply
Posts: 12
Topic starter
(@toha)
Joined: 5 months ago
পর্ব:২৫

সকালের নরম রোদ ধীরে ধীরে শহরটাকে আলোর চাদরে মুড়িয়ে দিচ্ছে।
পূর্ব আকাশে হালকা কমলা আভা ছড়িয়ে আছে। রাতের ঠান্ডা আবেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বাতাসে ভোরের স্নিগ্ধতা মিশে আছে।
রাস্তার পাশে গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরের ফোঁটাগুলো রোদের আলোয় চিকচিক করছে। দূরে কোথাও মসজিদ থেকে ভেসে আসছে কোরআন তিলাওয়াতের সুর। পাখিরা দল বেঁধে উড়ে যাচ্ছে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
খোলা জানালা দিয়ে ভোরের ঠান্ডা বাতাস রুমের ভিতরে ঢুকছে। পর্দাগুলো হালকা দুলছে। সকালের রোদ এসে বিছানার একপাশে নরম আলো ফেলেছে। চারপাশে এক শান্ত, সতেজ অনুভূতি ছড়িয়ে আছে।

রিক্তা উঠে নামাজ আদায় করে পড়তে বসেছে।
রিতু নামাজ পড়েই ঘুমিয়েছে।

টানা ১ ঘণ্টা পড়ার পরে রিক্তা টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। চোখের চশমাটা খুলে চোখ কচলাতে থাকে। হাতের চশমাটা বক্সে রেখে রিতুর কাছে এগিয়ে যায়। রিতুকে কয়েকবার ডাক দিয়েছে কিন্তু রিতুর কোনো খবর নেই। বিরক্ত হয়ে রিতুকে ধাক্কা দিতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে চেঁচাতে শুরু করে„“আম্মু আব্বু তোমরা কোথায়? দেখো চোর আসছে... উঁহু উঁহু!”

রিতুর মুখ চেপে ধরায় আর বাকি কিছু বলতে পারলো না। রিক্তা ধমক দিয়ে বলে„“চুপ। আমি কোনো নিজের বাড়িতে চুরি করবো কোন দুঃখে শুনি?? "

রিতু রিক্তার দিকে ঘুরে তাকায়। তারপর শান্ত হয়। রিক্তা রিতুর মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিতেই রিতু বলে„“ তুমি এত সকালে ডাকলে কেন? আমি তো ভয় পেয়ে গেছি।”

„“মহারানী, এখন ৮টা বাজে। এত সকাল না।”

„“এটাতো সকালই!”

„“এই তুই কি স্কুল যাবি না? আর ১ ঘণ্টা পরে স্কুল।”

রিতু ঘুম চোখে উঠে রুম থেকে বের হয়ে তার রুমের দিকে এগিয়ে যায়। রিক্তা ততক্ষণে বিছানা গুছাতে শুরু করে। বিছানা গুছানো শেষে কলেজ ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। ড্রেস পরে আয়নার সামনে এসে হিজাব পরে নেয়। পুরো তৈরি হয়ে ব্যাগ নেয়। রিক্তা তৈরি হয়ে রুম থেকে বের হয়। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামে।

রিক্তা ডাইনিং টেবিলের কাছে এগিয়ে যায়। চেয়ারে ব্যাগ রাখে। যেখানে নাস্তা করছিলেন সোহেল আহমেদ এবং তার ছোট ভাই সৈয়দ আহমেদ। রিক্তাকে দেখে দুজনেই তাকায়। সৈয়দ আহমেদ বলেন„“খেতে বসো।”

রিক্তা মিষ্টি করে বলে„“না আব্বু, আপনারা খেয়ে নিন।”

„“রিতু উঠেছে?”

„“হুম। রুমে চলে গেছে তৈরি হতে।”

„“ওহ।”

সানজিদা আহমেদ রান্নাঘর থেকে ভাজির বাটি এনে টেবিলে রাখে। রিক্তাকে দেখে টেবিলে খাবার দিতে থাকে।

রিক্তা তাড়াতাড়ি করে বলে„“আমি এখন খাবো না।”

সানজিদা আহমেদ বলেন„“তা কখন খাবি? আর একটু পর চলে যাবি। তাহলে?”

„“আমি আজ খাবো না।”

„“খাবি না বললেই হলো? সেই বিকেলে আসবি আর ততক্ষণ না খেয়ে থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবি।”

„“বড় আম্মু, এখন খেতে ইচ্ছে করছে না।”

সোহেল আহমেদ বলেন„“অল্প করে কিছু খাও।”

„“আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।”

„“তুমি বড় আব্বুর কথা রাখবে না?”

রিক্তা আর কি করবে? এখন তো খেতেই হবে। তাই টেবিলে বসে পড়ে। সানজিদা আহমেদ হালকা হেসে রিক্তাকে খাবার দিতে থাকে। ততক্ষণে রিতুও তৈরি হয়ে হাজির। রিতু চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে„“তাড়াতাড়ি খাবার দাও।”

সানজিদা আহমেদ রিতুকে খাবার দিতে দিতে বলে „“কতবার বলবো? স্কুল যাওয়ার আগে একটু আগে উঠবি, তাহলে আর এত তাড়াহুড়ো লাগে না।”

রিতু মুখে পরোটা দিয়ে বলে„“আম্মু, আমার এত তাড়াতাড়ি উঠতে ভালো লাগে না।”

সানজিদা আহমেদ আর কিছু বললেন না। এই মেয়ে যে কথা শুনবে না তিনি তা ভালো করেই জানেন। তাই কিছু না বলে সবাইকে খাবার দিতে থাকেন। সৈয়দ আহমেদ আর সোহেল আহমেদের খাওয়া শেষ। তারা উঠে দাঁড়ায়। সোহেল আহমেদ বলেন„“আমরা যাই।”

সানজিদা আহমেদ বলেন„“সাবধানে যাবেন।”

দুই ভাই মেয়েদের দিকে তাকায়। রিক্তা রিতু একসঙ্গে বলে„“বাই আব্বু।”

দুই ভাই হালকা করে হাসে। তারপর তারাও বাই বলে বের হয়ে যায়। 
রিক্তার খাওয়া শেষ। সে উঠে দাঁড়ায়। তখনো রিতু খাচ্ছে। তা দেখে বলে„“বোন আমার, তাড়াতাড়ি খা। এভাবে খেলে কখনো টাইমের আগে কলেজ যেতে পারবো না।”

রিতু খেতে খেতে জবাব দেয়„“খাবার সময় কথা বলতে নেই।”

রিক্তা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলে„“তুই টিফিনে খেয়ে নিস। এখন চল।”

„“আরে একটু দাঁড়াও।”

„“তাড়াতাড়ি কর।”

শেষের খাবারটুকু খেয়ে পানি খেয়ে উঠে দাঁড়ায়। রিক্তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রিতুর কাজকর্ম দেখছে। রিতু ব্যাগ নিয়ে বলে„“চলো।”

„“এত তাড়াতাড়ি খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলেন মহারানী? আরো কিছুক্ষণ খেয়ে নিন।”

„“না না, এখন স্কুল যেতে হবে।”

„“স্কুল না গেলে কিছু হবে না। আপনি নাস্তা করুন।”

রিতু বুঝে গেছে রিক্তা এখন রেগে আছে। তাই কথা না বাড়িয়ে বাহিরের উদ্দেশ্যে হাঁটা দেয়।
রিক্তাও ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।

বাইরে বের হতেই সকালের নরম রোদ মুখে এসে পড়ে। চারপাশে মানুষের ব্যস্ত চলাফেরা শুরু হয়ে গেছে।
রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকানগুলো খুলছে। কোথাও চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, কোথাও আবার স্কুল-কলেজের স্টুডেন্টরা ব্যাগ কাঁধে হাঁটছে।

রিতু গেট পার হতে হতে বলে„“আপু, আজকে কিন্তু আমার ক্লাস টেস্ট আছে।”

রিক্তা গেট বন্ধ করতে করতে বলে„“তাহলে কাল রাতে এত ফোন দেখছিলি কেন?”

রিতু নিরীহ মুখ করে বলে„“পড়াও করেছি।”

„“হুম। তোর পড়া আমি খুব ভালো করেই জানি।”

আসলে রিতু একটু দুষ্টু, কিন্তু সেটা বাড়িতেই। অন্য কোথাও ভদ্র মেয়ে হয়ে থাকে।

দুজন রাস্তার পাশে এসে দাঁড়াতেই একটা রিকশা সামনে এসে থামে।
রিক্তা আগে রিতুকে উঠতে বলে। রিতু উঠে বসতেই রিক্তাও পাশে বসে।
রিকশা ধীরে ধীরে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করে।
সকালের ঠান্ডা বাতাসে রিতুর চুল উড়ছে।

কিছুক্ষণের মধ্যে রিতুর স্কুলের সামনে রিকশা থামে। অবশ্য রিক্তাই থামাতে বলেছে। রিতু ব্যাগ নিয়ে রিকশা থেকে নেমে যায়। রিক্তা রিতুর উদ্দেশ্যে বলে—
„“মন দিয়ে পরীক্ষা দিস।”

„“ওকে আপু।”

এই বলে টাটা দেয়। সাথে রিক্তাও হাত নেড়ে বিদায় জানায়।

রিকশা আবার Adamjee Cantonment College-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
রিকশা ধীরে ধীরে ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে চলছে।
সকালের শহরটা এখন পুরোপুরি জেগে উঠেছে। কোথাও অফিসগামী মানুষের তাড়াহুড়ো, কোথাও স্কুল-কলেজের স্টুডেন্টদের ভিড়।

রিক্তা এক হাত দিয়ে ওড়না ঠিক করে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। হালকা বাতাসে তার হিজাবের পাশটা উড়ছে।

রাস্তার পাশে সারি সারি গাছ, ছোট দোকান, ফলের ঠেলাগাড়ি—সবকিছুই যেন প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক।
তবুও আজ তার মনটা অদ্ভুতভাবে আনন্দ লাগছে।
বারবার মাথার মধ্যে ঘুরছে গতরাতের সেই অচেনা আইডির কথাগুলো।
— “কারণ তুমি আমার…”

রিক্তা বিরক্ত হয়ে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে„“উফ! আজব লোক একটা…”

রিকশাওয়ালা পিছন ফিরে বলে„“আপা কিছু বললেন?”

রিক্তা একটু চমকে উঠে বলে„“না না চাচা।”

নিজের মাথায় নিজে থাপ্পড় মেরে বলে„“তুইও না রিক্তা।”
তার মুখে লেগে আছে অমায়িক হাসি।

কিছুক্ষণ পর রিকশা কলেজের সামনে এসে থামে। Adamjee Cantonment College-এর বড় গেটের সামনে তখন প্রচুর স্টুডেন্টের ভিড়।
কেউ বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছে, কেউ তাড়াহুড়ো করে ভিতরে ঢুকছে।

রিক্তা ভাড়া দিয়ে ব্যাগ কাঁধে নামতেই পিছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে আসে„“এই যে মায়াবিনী!”

রিক্তা থমকে যায়। মুহূর্তেই তার বুক ধক করে উঠে। সে দ্রুত পিছনে ফিরে তাকায়। পিছনে ফিরতেই দেখে দুই বান্দর আরশি আর নাহিদা দাঁড়িয়ে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে।

নাহিদা পেট চেপে হাসতে হাসতে বলে„“তোর মুখের এক্সপ্রেশন দেখে আমার খুব হাসি পাচ্ছে।”

রিক্তা বিরক্ত হয়ে বলে„“তোরা পাগল নাকি?”

আরশি চোখ টিপে বলে„“কি করবো বল? তোকে দেখলেই মজা করতে ইচ্ছে করে।”

রিক্তা চোখ রাঙিয়ে সামনে হাঁটতে শুরু করে।

নাহিদা তার পাশে এসে বলে„“আচ্ছা সত্যি করে বল, কাল রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাইছিলি?”

রিক্তার ভ্রু কুঁচকে বলে„“হঠাৎ?”

আরশি সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বলে„“কারণ তোর চোখ-মুখ দেখে মনে হচ্ছে রাতে উপন্যাস লিখছিস।”

রিক্তা শুকনো হাসি দিয়ে বলে„“তোদের মতো অকাজ করছিলাম।”

রিক্তার কাঁধে হাত রেখে নাহিদা বলে„“যাক, এবার কোনো কাজের কাজ হলো তোর ধারা ”

ঠিক তখনই সামনে থেকে রাফি দৌড়ে আসে। সাথে চিৎকার„“বাঁচাও!”

মাঠের সবাই অবাক হয়ে পিছনে তাকায়।সাথে রিক্তারাও

রাজ ধীরে ধীরে পিছন থেকে এসে বলে„“সকালে আবার কি নাটক শুরু করলি?”

রাফি হাঁপাতে হাঁপাতে বলে„“আজকে স্যার আসছে।”

নাহিদা ভ্রু কুঁচকে বলে„“তো?”

„“তো মানে? গতকালের হোমওয়ার্ক আমি করি নাই!”

কবিতা পিছন থেকে এসে বলে„“ইন্নালিল্লাহ…”

শিখা ব্যাগ ঠিক করতে করতে বলে„“একদিন এই ছেলে নিশ্চিত হার্ট অ্যাটাক করবে।”

রাফি বুক চেপে বলে„“বন্ধুরা আমার কষ্ট বুঝে না…”

রিক্তা এবার হালকা হেসে ফেলে।
পুরো গ্রুপ একসঙ্গে হলে স্যার-ম্যাডাম পর্যন্ত আলোচনা করে। একবার তো কবিতাকে বিনা অপরাধে স্যার মেরেছিল। তখন বাকিরা সেটার প্রতিবাদ করে হেড স্যারের কাছে বিচার দিয়ে থ্রেট দিয়েছিল। সেই থেকে প্রতিটি স্যার ম্যাডাম ওদের খুব ভালো করে চিনে। তারা যেমন পড়াশোনায়, আড্ডায়, এবং সব কিছুতেই। 

সবাই একসাথে ক্লাসের দিকে চলে যায়।

---

টিফিনের পর আর তারা ক্লাস অ্যাটেন্ড করেনি। আড্ডা দিতে পাশের একটা ছোট টং-এ গিয়েছে। সবাই বেঞ্চে বসে চা খাচ্ছে আর কথা বলছে। নাইম চায়ে চুমুক দিয়ে বলে„“রিক্তা, তোরা না বললি ওইদিনের মলের কথা পরে বলবি? তা কি হয়েছিল সেদিন মলে?”

শিখা, আরশি, নাহিদা, রিক্তা চারজনে একসঙ্গে চাওয়াচাওয়ি করে।

রাজ বিরক্ত হয়ে বলে„“বাল! ওরা মেয়ে। এর থেকে আমার দিকে তাকা, আমিও তাকাই। আহা, কি রোমান্টিক সিন।”

নাহিদা রাজকে চিমটি কেটে বলে„“চুপ।”

নাইম ফের বলে„“কি হলো? বল।”

রিক্তা বড় করে শ্বাস টেনে বলতে শুরু করে„“যেদিন আমরা হসপিটালে যাই, সেদিন আসার সময় আমরা ওই মলে যাই কিছু খেতে। আমরা ঢুকতেই দারোয়ান লোকটা আমাদের স্যালুট করে। তো আমরা সেটাকে সেখানকার রুলস হিসেবে ধরি। পরে যখন রেস্টুরেন্টে যাই তখন ওয়েটারের ব্যবহার কেমন যেন ছিল, তাও আমরা কিছু বলিনি। পরে যখন আমরা বিল দিতে কাউন্টারে যাই তখন তারা আমাকে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। আমি কাউন্টারের মেয়েকে বিলের কথা জিজ্ঞেস করলে সে আমার কাছে টাকা নিতে চায়নি। বলেছে তাদের স্যার টাকা দিয়ে দিয়েছে। তো তাকে বললাম যে সে হয়তো আমার সাথে কাউকে গুলিয়ে ফেলছে। কিন্তু না, সে বলল আমি নাকি তার স্যারের ওয়াইফ।”

রিক্তা কিছু বলার আগে নাইম চেঁচিয়ে উঠে„“ওয়াইফ মানে?”

„“আগে পুরো কথা শেষ হতে দে।”

„“আচ্ছা বল।”

„“আমিও প্রথমে অবাক হই। একপর্যায়ে মেয়েটি কাকে যেন ফোন করে। তার মধ্যেই কিছু কালো গার্ড পরা লোক এসে বলে তারা নাকি আমার বডিগার্ড। আমি তো শুধু অবাকের উপর অবাক হচ্ছিলাম। তারা আমাকে তাদের সাথে যেতে বলে। আমি তো সাফসাফ না করে দিয়েছি। পরে শিখা সাহস দেয়। পরে তাদের সাথে যেতে থাকি। পুরো মলের লোকগুলো আমার সাথে ছবি, অটোগ্রাফ নিতে চেয়েছে কিন্তু গার্ডের জন্য নিতে পারেনি। বাইরে এসে একটা কালো গাড়িতে উঠতে বলে কিন্তু আমি উঠিনি। যখন তারা আমার কথায় অচেনা ব্যক্তিকে ফোন করে আর আমার কাছে দেয়, তখন কথা বলেছি একটা মেয়ের সাথে। তিনি খুব নরম করে বলেছিলেন যে আমরা যেন গাড়িতে উঠি। তো আমরাও বাধ্য হয়ে উঠি। পরে ড্রাইভার আমাদের বাড়িতে নামিয়ে দেয়। আসল কথা হলো তারা খুব ভালো ছিল কিন্তু আমরাই ভুল বুঝেছিলাম।”

রিক্তা কথা শেষ হতেই নাহিদা উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে„“জানিস, আমি সেই ব্যক্তির নাম দিয়েছি রিক্তার হিডেন হাজব্যান্ড। নামটা কেমন?”

নাইম রেগে বলে„“একদম ফালতু নামে ডাকবি না বলে দিলাম।”

কবিতা ভ্রু কুঁচকে বলে„“তোর প্রবলেম কি?”

নাইম থতমত খেয়ে বলে„“কিছু না।”

সবাই নাইমের বিষয় পাত্তা দিলো না। রাফি বলল„“দোস্ত, একটা জিনিস বুঝলাম। রিক্তার সাথে যেখানে যাবো সেখানেই এক্সট্রা সম্মান পাবো।”

কবিতাও তাল মিলিয়ে বলে„“১০০%।”

রাফি জিজ্ঞেস করে„“দোস্ত, তা তোর প্রেমিকের কি খবর?”

রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে„“মানে?”

„“আরে শিখার ভাইয়ের খবর?!”

রিক্তা অসহায় কণ্ঠে বলে„“যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই। তাকে যে আমি ভালোবাসি সে তো জানেই না।”

নাইম বিড়বিড় করে বলে„“না জানলেই ভালো।”

রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে„“কিছু বললি?”

নাইম স্বাভাবিক হয়ে বলে„“না না।”

কবিতা বলে„“রিক্তা, মনের কথা চেপে রাখলে তোমার প্রেমিককে কেউ ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে।”

আরশিও বলে„“হ্যাঁ, আমারও একই কথা। এখন বলে দিলেই হয়। শুধু শুধু টাইম ওয়েস্ট করার কোনো মানে হয় না।”

নাহিদা বলে„“হুম। সে যদি তোকে ভালো না বাসে তাহলে তুই মুভ অন করে ফেলবি। এতে খুব তাড়াতাড়ি হবে এবং ভালোও হবে। সিম্পল।”

রিক্তা চোখ ছোট ছোট করে শিখার দিকে তাকিয়ে বলে„“বলবো?”

শিখা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে বলে„“দেখ, তোকে আগে ভাবি বানানোর স্বপ্ন ছিল, এখনও আছে। এখন বাকিটা তোর হাতে।”

রিক্তা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে„“ওকে ফাইন। কাল বলবো। ডান।”

সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠে। 
কিন্তু নাইম ব্যাগ নিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। রাজ জিজ্ঞেস করে„“কি রে? আড্ডা দিবি না?”

„“না রে। বাসায় যেতে হবে। তোরা থাক।”

এই বলে নাইম চলে যায়। রাজ কিছু একটা বুঝে সেও বিদায় নিয়ে নাইমের সাথে যেতে থাকে।
কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই যে যার রাস্তায় যেতে থাকে।

চলবে....
 

Loading spinner

Reply
Posts: 12
Topic starter
(@toha)
Joined: 5 months ago
পর্ব:২৬
 
 
সকালের ব্যস্ত শহর পেরিয়ে শুভ আর লুমিনার গাড়ি এসে থামে হাসপাতালের সামনে।
বিশাল ভবনের সামনে তখন রোগী আর তাদের স্বজনদের ভিড়। কেউ রিপোর্ট হাতে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ তাড়াহুড়ো করে ভেতরে ঢুকছে, আবার কেউ ডাক্তার দেখিয়ে ক্লান্ত মুখে বাইরে বের হচ্ছে।

গাড়ি থেকে নেমেই শুভ একবার হাতঘড়ির দিকে তাকায়। তারপর গম্ভীর ভঙ্গিতে কোটটা ঠিক করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তার পেছন পেছন লুমিনাও হাঁটছে।

হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতেই চারপাশে পরিচিত ব্যস্ততা।
নার্সদের দ্রুত চলাফেরা, স্ট্রেচারে রোগী নিয়ে যাওয়ার শব্দ, রিসেপশনের সামনে মানুষের ভিড়—সব মিলিয়ে এক আলাদা পরিবেশ।
শুভকে দেখতেই কয়েকজন নার্স সম্মানের সঙ্গে সালাম দেয়।
শুভও মাথা নেড়ে জবাব দেয়।
লুমিনা পাশ থেকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।
সে খুব ভালো করেই জানে, এই হাসপাতালটা শুভর কাছে শুধু কর্মস্থল না—এটা তার দায়িত্ব, তার ভালোবাসা।

দুজন লিফটে উঠে নিজেদের ফ্লোরে চলে যায়।
লিফটের দরজা খুলতেই একজন জুনিয়র ডাক্তার দ্রুত এগিয়ে এসে বলে,„ “স্যার, কেবিন ৩০২-এর পেশেন্টের রিপোর্ট এসেছে।”

শুভ শান্ত গলায় শুধায়„“ আমি দেখছি।”
তারপর লুমিনার দিকে তাকিয়ে বলে„ “তুই আগে রাউন্ডে যা, আমি রিপোর্ট দেখে আসছি।”

লুমিনা মাথা নাড়িয়ে নিজের দিকে চলে যায়।
শুভ ফাইল হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে কেবিনের দিকে হাঁটতে থাকে।
মুখে তার স্বাভাবিক গম্ভীর ভাব থাকলেও ভেতরে আজ কেমন যেন অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সে কেবিন ৩০২-এর সামনে এসে দরজায় নক করে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
ভেতরে মাঝবয়সী একজন মহিলা বেডে শুয়ে আছেন। পাশে তার স্বামী উদ্বিগ্ন মুখে বসে।
শুভ শান্ত কণ্ঠে বলে„ “এখন কেমন লাগছে আপনার?”

মহিলা দুর্বল হেসে বলেন„ “আগের থেকে ভালো আছি, ডাক্তার সাহেব।”

শুভ রিপোর্ট দেখে কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর নার্সের দিকে তাকিয়ে বলে„“মেডিসিনগুলো কন্টিনিউ করুন। আর বিকেলের মধ্যে আরেকবার টেস্ট করাবেন।”
নার্স মাথা নাড়িয়ে বলেও„ “ওকে স্যার।”

পেশেন্টের স্বামী উঠে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞ কণ্ঠে বলে,„“ডাক্তার, আমার স্ত্রী ঠিক হয়ে যাবে তো?”

শুভ ভরসা দিয়ে বলে„ “ইনশাআল্লাহ। ভয় পাবেন না। আমরা চেষ্টা করছি।”

লোকটার মুখে তখন কিছুটা স্বস্তি ফুটে ওঠে।
শুভ কেবিন থেকে বের হয়ে নিজের কেবিনের দিকে চলে যায়।
শুভ কেবিনের সামনে এসে একবার গভীর শ্বাস নেয়। তারপর নিজের কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
কেবিনে ঢুকতেই ঠান্ডা এসির বাতাস গায়ে এসে লাগে। টেবিলের ওপর কয়েকটা ফাইল সাজানো। দেয়ালে ঝুলানো ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে ১১টা ছুঁইছুঁই।

টেবিলের ওপর একের পর এক ফাইল জমছে। বাইরে রোগীদের দীর্ঘ লাইন।
সে চেয়ার টেনে বসে গম্ভীর কণ্ঠে বলে„ “নেক্সট পেশেন্ট।”
একজন বৃদ্ধ লোক ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে আসে। সঙ্গে তার ছেলে।
শুভ মনোযোগ দিয়ে রিপোর্ট দেখতে থাকে। গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে„“কতদিন ধরে সমস্যা?”

লোকটার ছেলে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে সব বুঝিয়ে বলে।
শুভ ধৈর্য নিয়ে সব শোনে। তারপর কিছু টেস্ট লিখে দেয়।
একজন পেশেন্ট বের হতে না হতেই আরেকজন ঢুকে পড়ে।
কারও জ্বর, কারও হার্টের সমস্যা, কারও আবার অপারেশনের রিপোর্ট।
শুভ পুরোপুরি কাজে ডুবে যায়।
তার মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব।
এখন তার মাথায় শুধু রোগী আর দায়িত্ব।
অন্যদিকে লুমিনাও একের পর এক কেবিনে রাউন্ড দিচ্ছে।
নার্সদের নির্দেশ দিচ্ছে, পেশেন্ট চেক করছে, রিপোর্ট দেখছে।
করিডোরজুড়ে তখন ব্যস্ততা। স্ট্রেচারের শব্দ, নার্সদের হাঁটাহাঁটি, ডাক্তারদের ডাকে পুরো ফ্লোর সরগরম হয়ে আছে।
হঠাৎ একজন নার্স শুভর কেবিনে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে বলে„“ স্যার, করিডোরে একজন ইমারজেন্সি মহিলা এসেছে, যিনি এক্সিডেন্ট করেছেন। জলদি চলুন।”

শুভ উদ্বেগ্ন কন্ঠে বলে „“ আচ্ছা, তুমি যাও। আমি লুমিনাকে পাঠাচ্ছি।”

নার্সটি আচ্ছা বলে চলে যায়।
শুভ সঙ্গে সঙ্গে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। মুখের গম্ভীর ভাবটা আরও কঠিন হয়ে যায়। সে দ্রুত ফোন বের করে লুমিনাকে কল করে।
লুমিনা ফোন রিসিভ করতেই শুভ বলে„ “ ইমারজেন্সি কেস এসেছে। করিডোরে যা তাড়াতাড়ি।”

"আমি যাচ্ছি।”

ফোন কেটে শুভ দ্রুত কেবিন থেকে বের হয়ে করিডোরের দিকে এগিয়ে যায়। তার হাঁটার গতি দেখে আশেপাশের নার্সরাও বুঝে যায় পরিস্থিতি সিরিয়াস।

করিডোরে স্ট্রেচারে এক তরুণীকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুজন ওয়ার্ডবয়। আর আশেপাশে অনেক মানুষ।
মেয়েটার মাথার একপাশে রক্ত লেগে আছে। হাতেও কেটে গেছে। পাশে এক ছোট ছেলে।
লুমিনা স্ট্রেচারের পাশে দাঁড়িয়ে পালস চেক করে গম্ভীর কণ্ঠে বলে„ “ব্লাড প্রেসার ড্রপ করছে। দ্রুত ইমারজেন্সি ওটিতে নিন।”

লোকগুলো স্ট্রেচার দ্রুত করিডোর পেরিয়ে ইমারজেন্সি ওটির দিকে নিয়ে যায়

ঠিক তখনই শুভও দৌড়ে সেখানে এসে পৌঁছায়।
লুমিনাকে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে শুধায়„“কি হয়েছে?”
লুমিনা তাড়াহুড়ো কণ্ঠে বলে„ “মাথায় আঘাত পেয়েছে। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।”
এই বলে সে ওটির দিকে যেতে থাকে সাথে শুভ। 

ওটির সামনে পৌঁছাতেই লুমিনা বলে„“আমি ভেতরে যাচ্ছি। তুই থাক।”
লুমিনা গ্লাভস পরে ভেতরে ঢুকে যায়।
ওটির দরজা বন্ধ হতেই বাইরে অদ্ভুত এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়।
আশেপাশের মানুষ চিন্তা করছে।

একজন নার্স একটা পেপার এনে বলে„ “স্যার, ওনার তো কিছু কাগজ পূরণ করতে হবে।”

শুভ পেপারটি নিয়ে মানুষজনের কাছে এগিয়ে গলা উঁচু করে বলে„“পেশেন্টের পরিবার কে?”
একজন লোক বলে„ “স্যার, ওনাকে তো আমরা রাস্তায় পেয়েছি, সঙ্গে একটা ছোট ছেলে ছিল।”
শুভ ভ্রু কুঁচকে বলে„ “মানে? সব খুলে বলুন তো।”
লোকটি বলে„ “আমরা যখন কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম তখন ওনাকে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দেখি। তার পাশে ওনার ছেলে ‘আম্মু, আম্মু’ বলে কান্না করছিল। তখন আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি ওনার শরীর রক্তে ভিজে আছে। পরে আমরা সবাই মিলে তাকে এখানে আনি। এর বেশি আমরা কিছুই জানি না।”

শুভ সব শুনে পাশে থাকা স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছোট ছেলেটির দিকে তাকায়।
ছেলেটাকে দেখে শুভ অবাক হয়।
শুভ এক পা, দুই পা করে ছেলেটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে।
তার চোখে জল চিকচিক করছে।
যেন তার ভাইয়ের ছোটবেলার স্মৃতি ভেসে উঠেছে।
শুভ দুহাতে ছেলেটার গাল ধরে বলে„“ তোমার নাম কি?”
আট বছরের শিশুটি গম্ভীর কণ্ঠে বলে„ “আদনান খান শান।”
শুভর বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে।
সে নিজেকে সামলে বলে„“  “ওটিতে যাকে নিয়ে গেছে তিনি তোমার কে হন?”

“তিনি আমার মামুনি হন।”
 “তোমার বাবা কোথায়? তার নাম কি?”
“আমার বাবার নাম আরহাম খান শাহিন। আমার বাবা ব্যাংকে চাকরি করে।”
“তোমার দাদার নাম জানো?”
“হুম। আমার দাদা একজন অ্যাডভোকেট শরীফ খান।"

শুভর মনের ভেতর কেমন যেন করছে।যেন মনে হচ্ছে ছেলেটা তার ভাইয়ের ছেলে। কিন্তু নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।
তাই শুভ একজনকে ফোন করে বলে„ “একজনের ছবি আঁকতে হবে, জলদি এসো।”

শুভ ফোন কেটে ছেলেটাকে বলে„ “তুমি তোমার বাবার ছবি বলতে পারবে?”

"আমি এঁকে দিই?”
শুভ অবাক হয়ে বলে„ “তুমি ছবি আঁকতে পারবে?” “ইয়েস, আমি পারি।”

শুভ তাকে নিজের কেবিনে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে নার্সকে সব সামলাতে বলে।
কেবিনে এসে শুভ ছেলেটাকে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। একটা পেন্সিল আর পেপার দেয় ছোট ছেলেটির কাছে।
শুভ গিয়ে নিজের চেয়ারে বসে।
পাঁচ মিনিটের আগেই ছেলেটি ছবি এঁকে শুভর দিকে দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে„“এই যে ছবি।”

শুভ কাঁপা হাতে ছবিটা নেয়।
ছবিটা দেখে তার চোখে পানি চলে আসে। চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ওঠে।
শুভকে কাঁদতে দেখে ছেলেটা বলে„ “আপনি ডাক্তার। আর ডাক্তারদের কাজ মানুষের জীবন বাঁচানো, কাঁদা না।”
শুভ ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে বলে„“ তুই আমার ভাতিজা... আমাদের রক্ত।”

ছোট্ট শান কিছুই বুঝতে না পেরে অবাক চোখে শুভর দিকে তাকিয়ে থাকে। তার ছোট ছোট হাত দুটো ধীরে শুভর কাঁধে উঠে আসে।
“আপনি কাঁদছেন কেন?”

শুভ চোখের পানি মুছে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তার বুকের ভেতরটা যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
এতদিন ধরে যার কোনো খোঁজ নেই... আজ হঠাৎ তার ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে।

শুভ শানকে নিয়ে ওটির কাছে ছুটে আসে।
শুভ ভেতরে ঢুকতে যাবে, তখন শান বাধা দিয়ে বলে,„“মামুনি ভেতরে আছে, আপনি যাবেন না।”

শুভ শানের কপালে আলতো ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে„“কাকামুনি আসছি, তুমি থাকো।”

শান কি বুঝল কে জানে, শুভকে জড়িয়ে ধরে।
শুভও আবেগে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে।
তখন ওটি থেকে গ্লাভস খুলতে খুলতে বের হয় লুমিনা।
শুভ ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে আছে দেখে জিজ্ঞেস করে„“ “এটা কে শুভ?”

শুভ কিছু বলার আগে লুমিনা আতঙ্কিত কণ্ঠে বলে„“কি রে, কি হয়েছে? তোর চোখে পানি কেন?”

তখন সেখানে ইব্রাহিম এসে হাজির হয়।
মূলত ইব্রাহিম এসেছে শুভকে রিপোর্ট দেখাতে।
শুভর চোখে পানি দেখে ইব্রাহিম বলে„“কি রে দোস্ত, তোর চোখে পানি কেন?”
শুভ বুড়ো আঙুল দিয়ে চোখ মুছে বলে„“এই যে বাচ্চাটা দেখছিস, এটা শাহিন ভাইয়ার ছেলে।”

ইব্রাহিম আর লুমিনা হতভম্ব হয়ে যায়।
ইব্রাহিম অবাক কণ্ঠে শুধায়„“কি বলিস? ভাইয়ার ছেলে মানে?”
 “হ্যাঁ। আর ওটিতে যিনি আছেন, তিনি শাহিন ভাইয়ার বউ। আমাদের ভাবি।”

"দোস্ত, তোর মাথা গেছে। এই ছোট ছেলেটা বিদেশিদের মতো দেখতে, আর তুই বলছিস শাহিন ভাইয়ার ছেলে? তোর মাথা গেছে।”
“ভাবির জ্ঞান ফিরলেই সব শুনতে পাবি।”
 “আচ্ছা, আমার এই রিপোর্টটা দেখ।”
শুভ ইব্রাহিমের হাত থেকে রিপোর্ট নিয়ে দেখে।
কিছুক্ষণ দেখে বলে„ “রিপোর্ট সব ঠিক আছে।”
 “ওহ, আচ্ছা। আর শুন, আগামী শুক্রবার আমার এনগেজমেন্ট।”
শুভ ভ্রু কুঁচকে বলে “হঠাৎ?”
 “আরে, ভাবির মা খুব অসুস্থ। তাই তাড়াতাড়ি এনগেজমেন্ট করে রাখতে চাচ্ছে।”
 “ভাবির মা মানে?”
“সিদরাত ভাবির বোন, রিক্তার ফ্রেন্ড আরশি আমার বিয়ান। তার সাথেই বিয়ে। আর তার মা অসুস্থ, তাই তাড়াতাড়ি এনগেজমেন্ট করে রাখতে চাচ্ছে ভাইয়া।”
শুভ ইব্রাহিমকে জড়িয়ে ধরে বলে“ “ফাইনালি তোর বাসর পূরণ হবে।”
ইব্রাহিম দাঁত চেপে ধরে বলে„ “ভাই, এখানে ছোট বাচ্চা আছে আর আশেপাশে মানুষ আছে। একটু দেখে-শুনে কথা বল।”
শুভ ফিসফিস করে বলে„ “অভিনন্দন ২৫ বছরের সিঙ্গেল বন্ধু আমার ”
ইব্রাহিম শুভকে তেড়ে আসতে যাবে, তখন ভেতর থেকে একজন নার্স বলে„ “স্যার, পেশেন্টের জ্ঞান ফিরেছে।”

লুমিনা বলে“ “কেবিনে ট্রান্সফার করো, কুইক।”

নার্সটি ওকে বলে চলে যায়।

ইব্রাহিম শুভর থেকে ফাইল নিয়ে চলে যায়।
লুমিনা পেশেন্টের সঙ্গে কেবিনে যায়।
শুভ কিছুটা সামনে এগিয়ে লোকগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে বলে“ “আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ, ওনাকে হাসপাতালে আনার জন্য।”
লোকটি হেসে বলে„“আরে স্যার, ধন্যবাদ দেবেন না। এটা তো আমাদের দেশের কর্তব্য। আচ্ছা স্যার, আমরা কি চলে যাব?”
“হুম, যেতে পারেন। আর রোগী আমার আত্মীয়।”
“আচ্ছা স্যার, আমরা আসি।”
লোকজন সবাই চলে যায়।

শুভ শানকে নিয়ে কেবিনের দিকে যেতে থাকে।
কেবিনের দরজায় নক করে ভেতরে ঢোকে।
বেডে শুয়ে আছে ফর্সা চামড়ার একজন মেয়ে কিছুটা বিদেশিদের মতো দেখতে। মেয়েটি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, মাথায় ব্যান্ডেজ। হাতে স্যালাইন।
বেডের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে শুভ মিনমিনিয়ে বলে„“বড় ভাবি...?”
শুভর কণ্ঠ কাঁপছে।
চোখ বারবার ভিজে উঠছে।
বারবার চোখের পানি মুছে ফেলছে।

চলবে.....
 

Loading spinner

Reply
Posts: 12
Topic starter
(@toha)
Joined: 5 months ago
পর্ব:২৭
 
 
শুভর কাঁপা কন্ঠে মেয়েটি পিটপিট করে চোখ খুলে। চোখ খুলেই চারপাশে তাকায়। চারপাশে তাকিয়ে উঠতে চেষ্টা করে লুমিনা বাদা দিয়ে বলে „“ প্লিজ আপনি উঠবেন না "
মেয়েটি বলে „“ আমার শান কোথায়? আমি কোথায়? "
শুভ শানকে ডাক দেয়। শান এগিয়ে আসে।মেয়েটি শুভকে দেখেই অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলে „“ শুভ...? "

শুভ অবাক কন্ঠে শুধায় „“ আপনি আমাকে চিনেন? "
" হ্যাঁ আমি তোমাকে তোমার ভাইয়ের ফোনে দেখেছি। আমি তার স্ত্রী "
" আমি শুনেছি ভাবি। আচ্ছা ভাবি ভাইয়া কোথায়? "
" তোমার ভাই তোমার কথা খুব মনে করে। প্রতিদিন তোমার জন্য কান্না করে। তোমার সাথে দেখা করতে প্রায় খান বাড়ির সামনে যেতো কিন্তু তোমার দেখা মিলতো না "
" আমাাকে একটা ফোন করেনি কেনো? একটা ফোন করতে তো পারতো "
" ফোন করেছিলো কিন্তু তোমার নাম্বার বন্ধ বলতো "
শুভ বেডে বসে সুমির হাতে ধরে বলে „“ ভাবি প্লিজ ভাইয়াকে ফোন করো। আমি কথা বলবো "

সুমি শুভর থেকে ফোন নিয়ে শাহিনের ফোনে ফোন করে। প্রথম কল কেটে দেয় অচেনা নাম্বার দেখে। দ্বিতীয় বার ফোন করতেই রিসিভ হয়।ওপাশ থেকে সালাম ভেসে আসে।সুমি সালাম দিয়ে বলে „“ আমি সুমি !"
" এটা কার ফোন? তোমার ফোন কোথায়? "
" আমার ফোন হারিয়ে গেছে। আপনি একটু হসপিটালে আসুন তো "
" হসপিটালে কেনো? তোমার কিছু হয়েছে? আর শান.. শান ওর কিছু হয়েছে? '
" না না আমাদের কিছু হয়নি। আপনি তারাতাড়ি আসুন "
" আচ্ছা আমি আসছি ঠিকানা মেসেজ করে দাও"
সুমি ফোন কেটে দেয় তারপর ঠিকানা মেসেজ করে দেয়।তারপর শুভর দিকে ফোন দেয়।
শুভ ফোন পকেটে রেখে দেয়।
লুমিনা সুমি কে ঠিক করে আধশোয়া হয়ে শুয়ে দেয়।শুভ একটা পেপার নিয়ে কিছু ঔষধ লিখতে থাকে আর লুমিনা কে বুঝিয়ে দিতে থাকে। বুঝানোর শেষে বলে „“ লুমি এগুলো ইব্রাহিম কে বল কাউকে দিয়ে এখানে দিয়ে যেতে "
" আচ্ছা বলবো।কিন্তু এখন কি আন্টিদের কি এখানে আনবি? "
" না এখন পরে তাদের আনবো "
" কিন্তু সেটা করা কি ঠিক হবে? "
" জানি না "
" আচ্ছা আমি যাচ্ছি তুই থাক "
লুমিনা বেড় হয়ে যায়। সুমি আস্তে করে বলে „“ ভাই শুভ মেয়েটা কে বিদেশি মনে হচ্ছে? তোমার বউ? "
শুভ হালকা হেসে বলে „“ না না ও আমার ফ্রেন্ড আমেরিকা থেকে এসেছে আমার সাথে কাজ করবে দেখে। আর ওর নাম লুমিনা।"
" ওহ তা মেয়েটা থাকে কোথায়? "
" ও আপাতত আমাদের সাথে থাকে কয়েক দিন পর ফ্লাইট কিনবে "
" যাক ভালোই হয়েছে। তা বিয়ে করেছো তুমি? "
" না ভাবি। তোমাদের বাড়ি নিয়ে পরে বিয়ে করবো "
" মেয়ে ঠিক করা আছে? "
" বলতে গেলে আছে "
" মেযে কে? "
" পরে জানাবো "
" ভালোবাসো? "
"নিজের থেকেও "
সুমি শুধু হাসলো।
এরমধ্যেই কেবিনের দরজা খুলে যায়। সবাই একসঙ্গে দরজার দিকে তাকায়।
দরজা খুলে শাহিন থমকে দাড়িয়ে যায়। চোখে পান জমে উঠেছে। শুভ ছোট গিয়ে ভাইকে জরিয়ে ধরে।শাহিন ভাইকে ধরে কান্না করে দেয়। শাহিন কান্না জরিত কন্ঠে বলে „“ ভাই আমার। কেমন আছিস? "
শুভ শাহিন কে ছেড়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে বলে „“ তোদের ছেড়ে ভালো থাকি কি করে? ভাইয়া.. আমি আর পারছি না। অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছি।”

শাহিনের চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল„“ ছয়টা বছর... ছয়টা বছর আমি তোদের থেকে দূরে ছিলাম। প্রতিটা ঈদে, প্রতিটা জন্মদিনে, প্রতিটা রাতে শুধু তোদের কথা মনে পড়েছে।”
শুভর চোখও ভিজে উঠল।
“সব শেষ ভাইয়া। এখন আর কেউ তোমাকে আমাদের থেকে দূরে রাখতে পারবে না।আমি তোদের প্রচুর মিস করেছি।”
" আমিও তোদের খুব মিস করেছি। আচ্ছা সাব্বির কেমন আছে? "
" ভাইয়া খুব ভালো আছে ভাইয়ার একটা মেয়ে আছে "
" সাব্বির বিয়ে করেছে কবে? "
" এইতো তিন বছর হয়েছে "
" যাক ভালোই হয়েছে। শিখা মিলিরা কেমন আছে? আব্বু আম্মু কেমন আছে? "
শেষ কথাটা বলতে গিয়ে শাহিনের কন্ঠে কেপে উঠে।
শুভ ভাইয়ের হাত নিজের হাতের মুঠে নিয়ে বলে „“ সবাই ভালো আছে। আমি প্রমিস করছি তোমাদের বাড়ি নিয়ে যাবো "
শাহিন মলিন হাসলো। তারপর এগিয়ে বেডের পাশে যায় সুমিকে দেখে উদ্বেগ্ন কন্ঠে বলে „“ কি হয়েছে তোমার?"
সুমি কোনো মতে বলে „“ কিছু হয়নি শানকে স্কুল নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির সাথে এক্সিডেন হয় "
শাহিন ভয়ার্ত স্বরে বলে „“ আমার শান কোথায়? "
শান শুভর পিছন থেকে থেকে দৌড়ে এসে শাহিনের কাছে। ছেলেকে দেখে শাহিন কোলে তুলে নেয়। ছেলের কপালে চুমু দিয়ে বলে„“ বাবাই এইযে তোমার কাকামুনি "
শান শুভর দিকে তাকিয়ে বলে „“ হুম "
শুভ শান কে কোলে নিয়ে বলে „“ মাশাআল্লাহ, অনেক বড় হয়ে গেছে তো আমাদের বাবাই।”
শান গম্ভীর মুখে বলে„“আমি ছোট না। আমার বয়স আট বছর।”
শুভ হেসে শানের নাক টেনে দেয়।
ঠিক তখনই শুভর ফোন বেজে ওঠে।
শুভ পকেট থেকে ফোন বের করে রিসিভ করে„“ হ্যালো।”
ওপাশ থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে আসে„“ভাইয়া, কোথায় তুমি?”
শুভ কণ্ঠ শুনেই বুঝে যায় রাহাদ„“হসপিটালে আছি। কেন?"
" বিকেলে বেড় হবে? "
" কেনো? "
" আমি যে জমিটা কিনেছি সেটা দেখতে যাবো সবাই, আপু আর ভাইয়াও আসবে সাকিব আসবে, তাই তোমাকেও বললাম "
" আচ্ছা যাবো "
" ওকে ঠিকানা পাঠিয়ে দিবো সময় মতো চলে এসো "
" আচ্ছা "
শুভর ফোন কাটতেই শাহিন জিজ্ঞেস করে „“ কে ফোন করেছে? "
" রাহাদ ফোন দিয়ে দিছে। বিকেলে বেড় হব তাই "
" মামা বাড়ির সবাই কেমন আছে? রিতুরা বড় হয়ে গেছে? "
" হুম সবাই ভালো আছে। রিয়ার বিয়ে হয়েছে, রিক্তা করেজ ২ য় ভরসে পড়ে, রিতু কয়েকদিন পর shc দিবে "
" সবাই খুব বড় হয়ে গেছে '
শাহিন সুমির পাশে বসে মাথায় হাত রেখে বলে „“ এখন কেমন লাগছে? "
সুমি মুচকি হেসে বলে „“ সারপ্রাইজ কেমন হলো? "
শাহিন হাতের মুঠায় সুমির হাত ধরে চুমু দিয়ে বলে „“ ধন্যবাদ তোমাকে। তোমার জন্য আমি আমার হারানো ভাইকে ফিরে পেলাম "
শাহিনের হাতের উপর কোনো ভাবে হাত রেখে বলে „“ তোমার পরিবার কি আমার পরিবার না? আমব সব ছেড়ে তোমার কাছে এসেছি তোমার পরিবারকে নিজের করতে। তাহলে শুভ কি আমার ভাই না? "

শাহিন মুচকি হেসে সুমির কপালে আলতো চুমু খায়।
" হুম অবশ্যই আমার পরিবার মানেই তোমার পরিবার।”

সুমি হালকা হেসে চোখ বন্ধ করে।
এতদিন পর শাহিনের মুখে এমন হাসি দেখে তার নিজেরও ভালো লাগছে।

শুভ চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।
তার বুকের ভেতর কেমন একটা উষ্ণ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে।
এতদিন পর হারিয়ে যাওয়া ভাইকে ফিরে পেয়েছে।

শাহিন হঠাৎ শুভর দিকে তাকিয়ে বলে„ “আচ্ছা, আব্বু-আম্মু কি এখনো আমার উপর রাগ করে আছে?”

প্রশ্নটা শুনে শুভ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।
তারপর ধীরে ধীরে বলে„“রাগ? ভাইয়া, আব্বু প্রতিদিন তোমার জন্য দোয়া করে। আর আম্মু...”

কথা বলতে বলতেই শুভর গলা ভারী হয়ে আসে„“আম্মু এখনো তোমার রুমটা আগের মতোই রেখে দিয়েছে। কেউ ওখানে ঢুকতে পারে না। প্রতি সপ্তাহে নিজে পরিষ্কার করে।”

শাহিনের চোখ আবার ভিজে ওঠে।সে নিচু স্বরে বলে„“আমি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি।”

“না ভাইয়া। ভালোবাসা পাপ না। আর যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন শুধু বাসায় ফিরবি।”

শাহিন কোনো কথা বলে না।শুধু মাথা নিচু করে বসে থাকে।

ঠিক তখনই শান গম্ভীর মুখে বলে„ “বাবা, তুমি কাঁদছ কেন?”

সবাই শানের দিকে তাকায়।শাহিন দ্রুত চোখ মুছে বলে„ “না বাবাই, আমি কাঁদছি না।”

"মিথ্যা বলছ। তোমার চোখে পানি।”

শানের কথা শুনে কেবিনের সবাই হেসে ফেলে।শুভ শানকে কোলে তুলে নিয়ে বলে„ “আমাদের বাবাই তো সব বুঝে ফেলে।”

শান গর্বিত মুখে বলে„ “আমি অনেক বুদ্ধিমান।”

“আচ্ছা তাই নাকি?”

“হুম।”

শুভ হাসতে হাসতে তার চুল এলোমেলো করে দেয়।

শাহিন চারপাশে তাকায়।তার স্ত্রী, তার ছেলে, তার ভাই—

সবাই তার সামনে।

ছয় বছর পর জীবনে প্রথমবার তার মনে হলো, হয়তো সবকিছু আবার ঠিক হয়ে যেতে পারে।

হয়তো এবার সত্যিই সে নিজের মানুষদের কাছে ফিরে এসেছে।

চলবে....

Loading spinner

Reply
Posts: 12
Topic starter
(@toha)
Joined: 5 months ago
পর্ব:২৮
 
তিন মাস পর...
সময়ের নিজস্ব একটা গতি আছে।
দেখতে দেখতে তিনটা মাস কেটে গেছে।
সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। সুখ হোক কিংবা দুঃখ, সে নিজের গতিতেই এগিয়ে চলে।।চাইলে কেউ তাকে থামাতে পারে না।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে তিনটা মাস।
এই তিন মাসে অনেক কিছু বদলে গেছে, আবার অনেক কিছু আগের মতোই রয়ে গেছে।

রিক্তা নিজের সব অনুভূতি, সব আবেগ একপাশে সরিয়ে রেখে পুরোপুরি পড়াশোনায় মন দিয়েছিল। দিন-রাত এক করে পড়েছে। বই, খাতা আর নোটের বাইরে যেন তার আর কোনো জগৎই ছিল না। কলেজ থেকে বাড়ি ফিরা, বাড়ি থেকে কোচিংএ যাওয়া, এসে আবার পড়তে বসা। গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে যেতে তোখন রিক্তার রুমে পড়ার টেবিলে আলো জলতো।
এই তিন মাসে সে শুভর সাথে একবারও কথা বলেনি। না কোনো ফোন, না কোনো মেসেজ না কোনো দেখা।  খুব করে আকাশের পানে তাকিয়ে চাইতো যেন তাে ডাক্তার সাহেব এসে তাকে বুকের সঙ্গে লেপটে ধরতে। কিন্তু পরক্ষণেই তা মাথা থেকে ঝেরে পড়ায় মন দিতো।

শুভও আর তার সামনে আসেনি। যেন দুজনেই নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ধরে রেখেছে। শুভ খুব ব্যস্ত হয়ে পরেছে। হসপিটালের দায়িত্ব, বাড়ির দায়িত্ব সব মিলিয়ে তার দম ফেলার সময় ছিলো না। এই ব্যস্ততার মাঝেও তার পিচ্চির কথা খুব মনে পরতো কিন্তু সে কাছে আসেনি ঠিকই। দূর থেকে থেকে প্রতিটি সময় নজর রাখতো। তার পিচ্চি তাকে দেখার বেকুলতা দেখে তার বুক কেঁপে উঠতো। কিন্তু কি করার তার হাত পা তো বাঁধা। তাই আর সামনে আসেনি।

রিক্তা চেয়েছিল আগে নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে। আর শুভ অপেক্ষা করছিল।

অন্যদিকে শিখাও কম পরিশ্রম করেনি।
দুই বান্ধবী একসাথে রাত জেগে পড়েছে, একে অপরকে সাহস দিয়েছে, আবার পরীক্ষার চাপ নিয়ে একসাথে কেঁদেছেও।

এদিকে রাহাদও ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
নতুন বাড়ির কাজ, অফিসের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তার যেন দম ফেলার সময় ছিল না। তবে অবশেষে তার বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
নিজের দাদার জমির উপর তিনতলা বিশিষ্ট সুন্দর একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করেছে সে। পুরো বাড়ির সাজসজ্জার কাজও প্রায় শেষ।

আজ রিক্তার ফলাফল দিলেই আজকেই নতুন বাড়িতে উঠবে সবাই। আর সেই উপলক্ষে ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

সৈয়দ আহমেদের শরীর আগের মতো নেই।এখন খুব বেশি অফিসে যেতে পারেন না।বেশিরভাগ সময় বাসাতেই থাকেন।

সোহেল আহমেদও বয়সের ভারে কিছুটা ক্লান্ত হলেও মোটামুটি ভালো আছেন।

আর রিতু...
সবার প্রিয় দুষ্টু মেয়েটার দুষ্টামিও অনেক কমে গেছে।কারণ তার এসএসসি পরীক্ষা একদম সামনে। সেও এখন পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। মাঝে মাঝে দুষ্টুমিও করে।

সব মিলিয়ে তিন মাস কেটে গেছে ব্যস্ততা আর অপেক্ষার মধ্যে।
আজ সেই প্রতীক্ষার দিন।আজ রেজাল্ট দিবে।

ফজরের আজানের শব্দে ঘুম ভাঙে রিক্তার।চোখ খুলেই বিছানায় কিছুক্ষণ বসে থাকে।আজ তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্থিরতা।
যেন হৃদপিণ্ডটা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত চলছে। ওজু করে নামাজ পড়ে নেয়। নামাজ শেষ হওয়ার পর জায়নামাজে বসেই দুই হাত তুলে চোখ বন্ধ করে কাঁপা কণ্ঠে বলতে থাকে„“ হে আল্লাহ... আমি অনেক চেষ্টা করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। যদি আমার মধ্যে কোনো কমতি না থাকে তাহলে আমাকে নিরাশ করবেন না। আপনি জানেন আমার কত স্বপ্ন জড়িয়ে আছে আজকের দিনের সাথে...”

কথা বলতে বলতেই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।
“আমাকে ভালো একটা ফলাফল দিও আল্লাহ। আমার আব্বু-আম্মুর মুখে হাসি ফোটাও। প্লিজ...”

রিক্তা আর নিজেকে সামলাতে পারে না।চুপচাপ কান্না করতে থাকে। রিক্তার মতো অনেক মেযেদের এমন একটা দিন আসে। যখন রেজাল্ট দেয় তখন চিন্তায় কান্না করে আল্লাহর কাছে।আর আল্লাহ তার বান্দাকে নিরাশ করে না।

অনেকক্ষণ পরে নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ বারান্দায় গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কিভাবে যেন সময় কেটে যাচ্ছে আর রেজাল্ট দেওয়ার সময় কাছে চলে আসছে

সকাল গড়িয়ে প্রায় নয়টা বাজে।
নিচ থেকে মনিরা আহমেদের ডাক ভেসে আসে।
“রিক্তা... মা... নিচে আয়। নাস্তা করে যা।”

রিক্তা মলিন মুখে নিচে নেমে আসে ।
ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে আছে। রিক্তা চিন্তিত মুখ নিয়ে চেয়ার টেনে বসে।
মনিরা আহমেদ রিক্তার প্লেটে খাবার দিতে থাকে। রিক্তা খাবার প্লেটে আঙুল দিয়ে ঘুরাতে থাকে মাথা বর্তি চিন্তা। মুখে খাবার পযন্ত দেয়নি
মনিরা আহমেদ মেয়ের মুখের দিক তাকাতেই বুক টা কেঁপে উঠে। চোখের নিচে কলো হয়ে গেছে, শরীর শুকিয়ে গেছে।মনিরা আহমেদ মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলেন, “এত টেনশন করছিস কেন?”

মায়ের স্পর্শে রিক্তার দেন ভাঙ্গে। মলিন হেসে বলে „“ টেনশন করছি না ।”

সানজিদা আহমেদ বলেন „“ তোর মুখ দেখলেই বুঝা যায়। শরীরের কি অবস্থা করেছিস? আচ্ছা তুই তো সবসময় ফাস্ট হয়ে আসিস তাহলে কিসের এতো টেনশন? "

সোহেল আহমেদ হেসে বলেন„ “যে মেয়ে সারাবছর পড়েছে তার আবার ভয় কিসের?”

সৈয়দ আহমেদও বলেন„“ ইনশাআল্লাহ খুব ভালো রেজাল্ট হবে আমার মেয়ের ”

রিক্তা শুধু মলিন হাসে। তার গলা দিয়ে এখন কোনো কথা বেড় হচ্ছে না। সে আর তার আল্লাহই জানে এই রেজাল্ট তার কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ।
খাবার আর খাওয়া হলো না। না খেয়ে খাবারের প্লেটে পানি ঢেলে দেয়।
মনিরা আহমেদ বলেন „“ এটা কি করলি? "
রিক্তা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে বলে „“ আম্মু আমি খাবো না "
সানজিদা আহমেদ বলেন „“ এমন করিস না মা। নিজের দিকে একটু তাকা। শরীরের অবস্থা খুব নাজেহাল, এমন করলে অসুস্থ হয়ে যাবি। একটু খেয়ে নে "
রিক্তা মলিন কন্ঠে বলে „“ প্লিজ বড় আম্মু জোর করো না আমি খাবো না। খাওয়ার ইচ্ছে নেই "
সোহেল আহমেদ বলেন „“ ওকে যেতে দাও। ওর মন এখন খুব খারাপ "
কেউ আর কিছু বলল না। রিক্তা নিজের রুমের দিকে চলে যায়।
মেয়ের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে সৈয়দ আহমেদ।সোহেল আহমেদ ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বলে „“ চিন্তা করিস না। রিক্তা পাশ করবে আবার রিক্তা হাসি খুশি হয়ে ফিরে আসবে। "
সৈয়দ আহমেদ দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে বলে „“ তাই যেন হয় "

---

ঠিক দশটার দিকে রাহাদ নিচে নেমে আসে।হাতে গাড়ির চাবি নিয়ে। গিয়ে সোফায় বসে।
এরমধ্যেই কলেজ ইউনিফর্ম পড়ে রিক্তা নিচে নামে।
নিচে এসে। একে একে সবার কাছ থেকে দোয়া নেয়।
প্রথমে সোহেল আহমেদের হাত ছুঁয়ে সালাম করে।
তারপর সানজিদা আহমেদ,সৈয়দ আহমেদ,মনিরা আহমেদ। সবাই বুক ভরে দোয়া করে রিক্তাকে।

সবশেষে রিতুর মাথায় হাত রেখে বলে“ “আমার জন্য দোয়া করিস।”

রিতু হেসে বলে „“তুমি প্রথম হবে আপু।”

রিক্তা হেসে বলে„“পাগলি একটা।”
রাহাদ হাত ঘড়ি দেখে বলে „“ চল বোনু দেড়ি হয়ে যাচ্ছে "
রিক্তা মাথা নাড়িয়ে রাহাদের সাথে যেতে থাকে।
তাদের বিদায় দিতে পরিবারের সবাই মুল গেইটের কাছে এসে দাড়ায়

রাহাদের সাথে গাড়িতে উঠে বসে রিক্তা। গাড়ির কাচ নামিয়ে হাত নেড়ে টাটা দেয় পরিবার কে। পরিবারও টাটা দেয়

গাড়ি ধীরে ধীরে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পুরো রাস্তা জুড়ে রিক্তার হাত ঠান্ডা হয়ে থাকে।রাহাদ কয়েকবার কথা বলতে চাইলেও রিক্তা ঠিকমতো উত্তর দিতে পারে না। টেনশনে তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।

প্রায় ত্রিশ মিনিট পর কলেজে পৌঁছে যায় তারা।কলেজের সামনে আজ অস্বাভাবিক ভিড়।

সব ছাত্রছাত্রী এসেছে। কারো কারো পরিবার এসেছে কাঙ্ক্ষিত বাক্য শুনতে। সবার মুখেই দুশ্চিন্তার ছাপ। কেউ হাঁটছে।কেউ বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।কেউ আবার চুপচাপ বসে আছে।

রিক্তা ভিতরে ঢুকতেই শিখা দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলে „“ বেবি আমার খুব ভয় করছে রে।”

“আমারও।”

“যদি খারাপ হয়?”

রাজ দমক দিয়ে বলে „“ চুপ কর। সেই এসেছি হতেই তোর একই কথা শুনছি "
" দোস্ত সত্যি আমি নার্ভাস "
আরশিও বলে „“ আমিও খিব নার্ভাস "
নাহিদা বিরক্ত হয়ে বলে „“ আমি খুব আনন্দিত তাই সেই খুশিতে আমি এখন বাংলা মাল গানে নাচ করবো "
রাফি দাঁত বেড় করে বলে „“ করলে তো ভালোই হবে। চাইলে আমি বাংলা মাল এনে দিতে পারি"
নাহিদা রাফির দিকে তেরে আসতে নিবে তখনই পিছন থেকে ইব্রাহিমের কন্ঠে বেসে আসে „“ আরশি তাড়াতাড়ি অডিটোরিয়ামের দিকে চলো "

ইব্রাহিম আরশির হাসবেন্ড। তাদের বিয়ে হয়েছে তিন মাস আগে। আরশির রেজাল্ট দিলেই তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

রিক্তা রাহাদ কে ডাক দেয়। রাহাদ দূরে দাড়িয়ে তার চশমিস কে পর্যবেক্ষণ করছিলো, রাহাদও তাদের নিয়ে চিন্তিত।
রিক্তার ডাকে তাদের কাছে এগিয়ে আসে। তারপর সবাই মিলে অডিটোরিয়ামের দিকে যায়।  বন্ধুদের সাথে অডিটোরিয়ামে গিয়ে প্রথম সারিতে তারা বসে।আজ ছোট্ট একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।হলের ভেতর পিনপতন নীরবতা।সবার চোখ স্টেজের দিকে।কেউ কথা বলছে না। সবাই অপেক্ষা করছে।

রিক্তার মনে হচ্ছে তার বুকের শব্দ পাশের মানুষও শুনতে পাচ্ছে। হাতের তালু ঘেমে গেছে।

কিছুক্ষণ পর প্রিন্সিপাল স্যার মাইক্রোফোন হাতে স্টেজে উঠেন।তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

তারপর ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়।পুরো হলরুম নিস্তব্ধ।একটা মুহূর্ত,দুইটা মুহূর্ত।

তারপর স্যারের কণ্ঠ ভেসে আসে„“এই বছরের 2য় ভর্ষের পরীক্ষায় আমাদের কলেজ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে আদিবা আহমেদ রিক্তা  ..”

রিক্তার নিশ্বাস যেন আটকে যায় এক সেকেন্ড...দুই সেকেন্ড...রিক্তা যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারে না।তারপর চারপাশ থেকে করতালির শব্দ ভেসে আসে।

শিখা চিৎকার করে বলে উঠে „“রিক্তা! তুই প্রথম হয়েছিস!”
একসঙ্গে তাদের পুরো গুরুপ দাড়িয়ে যায়। সবার নজর কারে তাদের দিকে।
রিক্তা হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে থাকে।তার চোখে পানি চলে আসে। মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তার মুখে গর্বের হাসি। চোখ দুটো ভিজে উঠেছে।

মঞ্চের স্যার রিক্তাকে ডাকে স্টেজে।

সব বন্ধুরা চিয়ারাপ করতে থাকে। সব বন্ধুরা রিক্তা উচ্ছ্বাস দিয়ে বলে „ " যা! স্টেজে যা!”

কাঁপা পায়ে স্টেজের দিকে এগিয়ে যায় রিক্তা।পুরো হলরুম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

প্রিন্সিপাল স্যার তার হাতে ফলাফল তুলে দেন। সাথে সাথে আবার করতালির শব্দ শুনা যায়। চারপাশের থেকে ফ্ল্যাশলাইট ক্লিক শব্দ শুনা যায়। সব স্যার ম্যাডাম রিক্তার সাথে ছবি উঠায়।

প্রিনসিপাল স্যার মাথায় হাত রেখে বলেন„“ আমি জানতাম তুমি পারবে।”

রিক্তার চোখ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পড়তে থাকে।

স্যার  বলেন„“তুমি শুধু কলেজের না, আমাদের গর্ব।”

হলরুম আবারও করতালিতে ভরে ওঠে। রিক্তা স্টেজ থেকে নেমে তার সিটে যায়। বন্ধুরা সবাই খুব খুশি হয়। ইব্রাহিম রিক্তাকে বলে „“ কংগ্রাচুলেশনস বোনু প্লাস শালিকা "
রিক্তা কান্না চোখে হেসে বলে „“ থেংস ভাইয়া "
রিক্তা রাহাদের কাছে এসে হুট করে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠে। হল রুমের সবাই রিক্তাদের দিকে তাকায়।
হঠাৎ কান্ডে রাহাদ ভরকে যায়। পরমুহূর্তেই নিজের বোনের মাথায় হাত রেখে বলে „“ কান্না করছিস কেন? "
রিক্তা কান্না তুপে কিছু বলতেও পারছে না। কবিতা তার বোতল টা রিক্তাকে দেয়। রিক্তা পানি খেয়ে শান্ত হয়ে বসে।
এরপর দ্বিতীয় স্থানের জন্য ডাকা হয়„“ তায়েবা খান শিখা। "
শিখা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে। বন্ধুরা আবার চিয়ারাফ করতে থাকে।

শিখা কাপা কাপা পায়ে স্টেজে উঠে যায়। স্যার তার হাতে ফলাফল দিয়ে দোয়া করেন। শিখা পরীক্ষার সময় অসুস্থ থাকার কারণে তিনটি পরীক্ষায় সমস্যায় পড়েও সে দ্বিতীয় হয়েছে।
শিক্ষকরা তারও অনেক প্রশংসা করেন। শিখার চোখে পানি চলে আসে। সে সব স্যার ম্যাডামের সাথে ছবি তুলে ধন্যবাদ জানিয়ে নিচে চলে আসে।

এরপর তৃতীয় স্থানের জন্য নাইম কে ডাকে নাইমও গিয়ে ফলাফল নিয়ে স্যারের প্রশংসা শুনে পিক তুলে চলে আসে।
চতুর্থ স্থানের জন্য নাহিদাকে ডাকে, পঞ্চম স্থানের জন্য ডাকে আরশি কে, ষষ্ঠ রাজ কে ডাকে, সপ্তম কবিতা এবং অষ্টম রাফি। আর বাকি দুজন তাদের ক্লাস মেট কেদ
এক এক করে সবাই নিজেদের ফলাফল সংগ্রহ করে।
বন্ধুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, হাসছে, ছবি তুলছে।

রিক্তা আর শিখাও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।  দুজনের চোখেই আনন্দের অশ্রু।

কিছুক্ষণ পর তাদের বিভাগের স্যার রিক্তাকে ডেকে বলেন„“তুমি অনেক দূর যাবে মা। নিজের স্বপ্ন কখনো ছেড়ে দিও না।”

রিক্তা মাথা নিচু করে বলে„“দোয়া করবেন স্যার।”

"সবসময় করি। তা কে কতো হয়েছো "
" স্যার আমি প্রথম, শিখা দ্বিতীয়, নাইম তৃতীয়, নাহিদা চতুর্থ, আরশি পঞ্চম, ষষ্ঠ রাজ, সপ্তম কবিতা, অষ্টম রাফি। "
" মাশাল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। "

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রিক্তা বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। নাইমরা সবাই চলে গেছে।

শিখাকে জড়িয়ে ধরে বলে„“ খুব শীঘ্রই ভাবি ননদের দেখা হচ্ছে ।”

শিখা হেসে বলে„" অপেক্ষায় থাকলাম বেবি।”

রিক্তা মুচকি হাসে।

তারপর ফলাফলটা বুকের সাথে চেপে ধরে কলেজের গেটের দিকে এগিয়ে যায়।
বাইরে দাঁড়িয়ে আছে রাহাদ। বোনকে দেখেই গাড়ির হেলান ছেড়ে সপাট হয়ে দাড়ায়।রিক্তা গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে ডুকে। রাহাদ একপলক তার চশমিস কে দেখে গাড়ির ভিতরে ডুকে গাড়ি স্টাট দেয়।
শিখা খেয়াল করেনি তাকে যে কেউ দেখেছে। সে তার সফলতা নিয়ে গাড়িতে উঠে। গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি চালাতে শুরু করে।

রিক্তা গাড়ির জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে হাতে তার সফলতা চাবি কাঠি।

আজ তার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আজ তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলোর একটা।
আর এই দিনটা নিয়ে সে ফিরছে নিজের পরিবারের কাছে।

রাহাদ গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে বলে „“ বোনু তোর ফিলিংস কেমন? "
রিক্তা মুচকি হেসে বলে „“ খুব সুন্দর। বাট আমার গিফট কোথায়? "
" তোর গিফট অপেক্ষা করছে "
" কোথায়? "
" বাসায় গেলেই দেখবি "
রিক্তা মুখ ভেংচি কেটে বাহিরের দিকে তাকায়।
রাহাদ মুচকি হেসে কাউকে ফোন করে বলে „“ আমরা চলে আসছি সব ওকে? "
ওপাশ থেকে কে কি বলল তা শুনা যায়নি।
রাহাদ ওকে বলে ফোন কেটে দেয়।

প্রায় ৩০ মিনিট পর গাড়ি এসে থামে। রাহাদ গাড়ি থেকে নেমে দাড়িয়ে রিক্তার গাড়ির দরজা খুলে বলে „“ বোনু নেমে আয় "
রিক্তা গাড়ি থেকে নেমে দাড়ায়। চারপাশ চোখ ঘুরিয়ে দেখে। নতুন বাড়ি পুরো  সাজানো। ফুল, বেলুন বাতি ইত্যাদি দিয়ে।
রাহাদ আগে ভিতরে চলে যায়।
রিক্তা বিস্ময় নিয়ে ভিতরের দিকে এগয়।বাড়ির মুল গেইটের কাছে আসতেই একদল গেইটের কাছে এসে বাজি ফুটায়।হঠাৎ কান্ডে রিক্তা চমকে উঠে। লুমিনা, রিয়া, হৃদয়, রিতু সাকিব সবার হাতে ফুলের তোরা দিয়ে রিক্তাকে অভিনন্দন জানায়
রিক্তা হতভম্ব হয়ে চারপাশে তাকায়।
রিয়া এগিয়ে এসে রিক্তাকে জড়িয়ে ধরে বলে„ “আমার বোনু প্রথম হয়েছে!”
রিতু লাফিয়ে উঠে বলে„“আমি বলেছিলাম না! আমার আপুই প্রথম হবে!”
হৃদয় নাটকীয় ভঙ্গিতে বুকের উপর হাত রেখে বলে„“আজ আমাদের মধ্যে একজন সেলিব্রিটি উপস্থিত আছে।”
সাকিব বলে„“এখন অটোগ্রাফ নেওয়া লাগবে মনে হয়।”

লুমি একটা ছোট ফুলের তোরা রিক্তাকে এগিয়ে দিয়ে বলে!„“কংগ্রেচুলেশন রিক্তা! "
রিক্তা চোখে পানি নিয়ে মুচকি হেসে বলে „“থ্যাংকস আপু"
রিক্তাকে নিয়ে তারা ভিতরে প্রবেশ করে। ভিতরে ডুকতেই মামা মামি,আঙ্কেল আন্টি সবাই রিক্তাকে অভিনন্দন করে। তাদের দেখে রিক্তা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে „“ এরা এখানে কেনো? "
রাহাদ এগিয়ে এসে বলে „“ গিফট কেমন লাগলো?"
রিক্তা মিষ্টি হেসে বলে „“ খুব সুন্দর লেগেছে "
লুমিনা পিছন থেকে রিক্তার চোখ ধরে নিয়ে যেতে যেতে বলে „“ আস্তে আস্তে এসো "
রিক্তা একপা দুপা করে যেতে যেতে বলে „“ কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? "
" গেলেই দেখবে "
কিছুটা হাঁটার পর লুমিনা রিক্তাকে দাড় করিয়ে চোখ ছেড়ে দেয়। চোখ ছাড়তেই রিক্তা পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায়। সামনে তাকিয়ে রিক্তা পুরো শকট।এই তিন মাস যার জন্য অপেক্ষা করেছে  সে আজ সামনে। পাষাণ লোকটা তার সামনে দাড়িয়ে আছে। চোখে অভিমানের পানি জমে উঠে।
শুভর পরনে নিল শার্ট, হাতে ঘড়ি, চোখ গুলো বেশ শান্ত। হাতে নিল গোলাপের তোরা সেটা রিক্তার দিকে এগিয়ে দিয়ে হালকা হেসে বলে „“ কংগ্রাচুলেশনস "
রিক্তা এখনো বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেভাবেই ফুলের তোরা হাতে নিয়েছে।
শুভ গিয়ে এক কোনে দাড়ায়।এরমধ্যেই রিয়া শিখার চোখ বেঁধে নিয়ে আসে। চোখের কাপড় খুলতেই শিখা অবাক। সামনে ছোট ডেকারেশন, চারপাশে বেলুন, বড় টেবিলে কেক। শিখা অবাক হয়ে চারপাশে তাকায়। আত্মীয়সজন দিয়ে বরা।
লুমিনা শিখাকে ফুলের তোরা দিয়ে বলে „“ কংগ্রাচুলেশনস "
শিখা নিজেকে স্বাভাবিক করে হেসে তোরা নিয়ে বলে „“ থ্যাংকস আপু "
রিয়া রিক্তা শিখার হাত ধরে নিয়ে কেকের সামনে দাড় করিয়ে বলে „“ দুজন টপার কেক কাটেন "
দুজনেই সামনে তাকায়। সবার মুখে হাসি এবং করতালি দিচ্ছে।
রিক্তা শিখা একে অপরের দিকে তাকিয়ে একসঙ্গে কেক কাটে। সবাই চিয়ারাফ করতে থাকে।
শরিফ খান এগিয়ে এসে দুই মেয়েকে কেক খাইয়ে দুজনের মাথায় হাত রেখে „“ দুজন কে দোয়া করি সামনে এগিয়ে যাও এবং সফলতা অর্জন করো। "
রিক্তা শিখা হেসে মাথা নাড়ে।
সোহেল আহমেদ দুজনকে কেক খাইয়ে দোয়া করে„“ আমার দুই মেয়েকে আল্লাহ সফলতা দান করুক "
এভাবে একে একে সবাই কেক খাইয়ে যায়। দোয়া করে মন ভরে।
এরমধ্যেই দুপুরের আজান দেয় সবাই ফ্রেশ হতে চলে যায়। মেহমান তাদের গেস্ট রুম দেখিয়ে। রিক্তাকে রিতু নিয়ে তার রুম দেখিয়ে। তার সাথে শিখাও আছে। রিতু নিচে চলে যায়।
রিক্তা নিজের রুম টা ঘুরে ঘুরে দেখছে সব আগের মতোই গুছানো। এবং কিছু কিছু জিনিস নতুন।
শিখা ফুলের তোরা খাটে রেখে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে যায়। রিক্তা তার ফুলের তোরা এবং ফলাফলের কাগজ একসঙ্গে রেখে রিতুর রুমে যায় ফ্রেশ হতে।

চলবে.....

( এখানে অনেক বানান ভুল আছে। তাড়াহুড়ো করে লিখেছি আর আপুর ছেলেটার শরীর ভালো নাই তাড়াহুড়ো করে লিখেছি। ভুল হলে ক্ষার দৃষ্টিতে দেখবে🙏)

Loading spinner

Reply
Page 2 / 3
Share:

Loading spinner