গল্প :অভিমানে ও ভাল...
 
Notifications
Clear all

গল্প :অভিমানে ও ভালোবাসি (লেখিকা:ফাতেমা তুজ নৌশি)


Posts: 8
Topic starter
(@fatima-tuz-nawshi)
Joined: 5 months ago

অনু গল্প

 

 

 

আঁখির বিয়ের জন্য তার আম্মু আব্বু পাগল হয়ে গেছেন। মেয়ের বয়স ই বা কত? কিন্তু ওনারা দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ষোলো বছরের মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়েটার মাথা নষ্ট করে দিচ্ছেন।

আঁখির আম্মু আব্বু আঁখির মাথায় হাত রেখে বার বার বলছেন,"দেখ ছেলেটা খুব ভালো আর তোকে তো খুব ভালোবাসে। মানা করিস না মা। আচ্ছা তোর কি কাউকে পছন্দ?"

"না আম্মু আমার কাউকে পছন্দ না কিন্তু আমি এখনো দশম শ্রেণির গন্ডি পেরুই নি। কিছুদিন আগে এক্সাম দিলাম। আমার কি বিয়ের বয়স হয়েছে?"

আঁখির বাবা একটু কঠোর হয়ে মেয়ে কে বললেন,"দেখ মা ওর জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। সেইদিন ও না থাকলে তুই অনাথ হয়ে যেতি। আরাব তোকে খুব ভালোবাসে। আমার কাছে প্রতিদান হিসেবে তোকে চেয়েছে। কী করে মানা করি বল?"

একটু থেমে তিনা আবারো বলেন,"তোর কোনো কথা আমি শুনব না। তোকে আরাব কেই বিয়ে করতে হবে।"

আঁখি জানে তার বাবা কে আর বলে লাভ হবে না। তাই তাকে রাজি হতেই হবে কিন্তু সে তার বাবা কে শর্ত দিয়ে বলল,"আমি বিয়ে করব, কিন্তু এখন আমি ঐ বাড়িতে যেতে পারব না।"

আঁখির বাবা কিছু একটা চিন্তা করে ফোন দিলেন আরাব কে। আরাব সবটা শুনে হেসে হেসে ফেলল।
"ঠিক আছে আঙ্কেল আমার কোনো সমস্যা নেই।"

আরাব কল কেটে দিয়ে হাসল। মনে মনে আওড়াল,"পিচ্চি পাখি তুমি আমাকে কেনো বুঝো না। তোমাকে যে বড্ড ভালোবাসি, তিনটে বছর ধরে ভালোবাসি পাখি।" বলেই নিজের মনে হেসে উঠল আরাব। আঁখির ছবি তে হাত বুলিয়ে আবারো বলল,"পিচ্চি পাখি তুমি ও জ্বলবে,আমি না থাকলে। এইবার তোমাকে আমি একটা শিক্ষা দিয়েই দিব।"

অবশেষে আঁখির সাথে বেশ জমকালো ভাবে আরাবের বিয়েটা হয়েই যায়। আঁখির শর্ত ছিল সে এখন শ্বশুরবাড়ি যাবে না। তাই আঁখির বাসাতেই বাসর সাজানো হয়েছে। আপাদমস্তক ঘোমটা দিয়ে চারদিকের নানান রকমের ফুল দিয়ে সাজানো বেডে বসে আছে আঁখি। সে আরাব কে কয়েকবার দেখেছে। লোকটা আসলেই বেশ সুন্দর। বেশ লম্বা, উজ্জ্বল তার গায়ের রঙ , বডি ও একদম পারফেক্ট। কিন্তু আরাবের সাথে তার বেশ অভিমান রয়ে গেছে, তাকে এখনই কেন বিয়ে করতে হলো। পরে কি করা যেত না?এই সব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ সে দেখল আরার ঘরে প্রবেশ করছে। শ্যালক শ্যালিকা দের জ্বালায় পাক্কা এক ঘন্টা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল ছেলেটা। অবশেষে ছাড়া পেল। আরাব যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল এমন ভাবে দম ফেলল। সামনের দিকে চাইতেই দেখতে পেল তার পিচ্চি পাখি কাচু মাচু হয়ে বসে আছে। আঁখির অবস্থা বুঝে আলতো হাসল ও। ধীরে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসতেই মেয়েটি উঠে দাঁড়িয়ে সালাম করতে চাইল। কিন্তু আরাব সেটা করতে দিল না। ও বরং প্রিয়তমার বাহু ধরে আটকে দিল। একদম নিজের কাছে নিয়ে, মাথার ঘোমটা খুলে দিল। আঁখি তখন নিচু হয়ে তাকিয়ে আছে। ইষৎ লজ্জা অনুভব হচ্ছে। জীবনে প্রথম বারের মতন কোনো পুরুষ তার এত কাছাকাছি হয়েছে। তাই তো ভেতরটা আনচান করছে। এদিকে আরাব প্রাণ ভরে দেখে নিল  প্রিয়তমার মুখশ্রী। খানিক বাদে কানের কাছে  মুখ নিয়ে বলল,"পিচ্চি পাখি ভালোবাসি, খুব ভালোবাসি তুমি কি ভালোবাসবে আমায়?"

জবাবে মুখশ্রী ঘুরিয়ে নিল আঁখি। এতে আরাব কষ্ট পেল না। বরং ঠোঁট কামড়ে হাসতে লাগল। মেয়েটি নিজেকে কী ভাবে, সে অভিমান দেখালেই আরাব দূরে সরে যাবে? একদম ই না। আঁখি বেডে বসতে যাচ্ছিল, তখন আরাব পেছন থেকে হ্যাঁচকা টান মা র ল। নিজেকে  সামলাতে না পেরে সোজা আরাবের বুকে এসে পড়ল ও। আরাব বুক পকেট থেকে একটা ছোট ডায়মন্ডের পেনডেন্ট বের করল। পেনডেন্ট টা হাতের মাঝে রেখে পেনডেন্ট টাতে আলতো চুমু খেল। তারপর পেনডেন্ট টার দিকে তাকিয়ে বলল,"আমার পিচ্চি পাখির কালো টিকা হিসেবে তোকে ওর গলায় স্থান দিচ্ছি। তাই বলে ওর গলাতে চুমু খেতে যাস না। ওর গলায় শুধু আমি চুমু খাব।"

আরাবের এমন কথায় আঁখি খানিকটা শিউরে উঠল।
আঁখি কে পেছনে ঘুরিয়ে পেনডেন্টটা আঁখির গলায় পরিয়ে দিয়ে লকেট টাকে উদ্দেশ্যে করে বলল,"আমি থাকি আর না থাকি আমার পিচ্চি পাখিকে দেখে রাখবি। আমি ওকে কষ্ট দিলে ও তুই ওকে সব সময় হাসি খুশি রাখবি। বুঝলি?"

আরাবের এমন কথায় আঁখির বুকের ভেতর ছ্যাত করে উঠল। লকেট টা গলায় পরিয়ে দিয়ে আরাব আঁখির ঘাড়ে আর গলায় গভীর চুমো খেল। আঁখির জীবনের প্রথম কোনো ছেলের গভীর স্পর্শে আঁখি শিউরে উঠল। আঁখিকে ঘুরিয়ে এবার কপালে চুমু খেল। আরাবের এই সব কান্ডে আঁখি যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। সে একদমই আশা করে নি। ওর ছোট্ট মস্তিষ্ক এতটা ভাবে নি। মেয়েটির সমস্ত শরীর কাঁপছে। লজ্জায় লাল হয়ে গেছে মুখশ্রী। আঁখির হাত ধরে আখি কে বেডে বসাল। তারপর বলল,"আমার কিন্তু একটা শর্ত আছে।"

আঁখি সন্দিহান চোখে তাকাল। আরাব দুষ্টু হেসে মেয়েটির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,"তুমি যা ভাবছো তেমনটা নয় পিচ্চি পাখি। তবে......" বলে আরাব আবারো দুষ্টু হাসি তে হেসে উঠল। এহেন কান্ডে আঁখি এবার শুকনো ঢোক গিলে মিনমিনিয়ে বলল,"তবে কী?"

আরাব বলল,"তবে ভালোবাসার স্পর্শ তো তোমাকে পেতেই হবে।"

কথাটা শুনে আঁখির ভেতরে শিহরণ জেগে উঠে। আরাব তাকে খু*ন করেই ফেলবে। আরাব কে কিছু একটা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে কিন্তু অভিমানে আর বলল না। আরাব ই বলল,"তুমি যেমন বিয়ের আগে শর্ত রেখেছিলে আমি এখন শর্ত রাখব তুমি কি রাজি আমার শর্তে?"

আঁখি নিচু স্বরে বলল,"জি বলুন কী শর্ত?"

আরাব আঁখির ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে আখির হাতের পাঁচ আঙুল কে নিজের পাঁচ আঙুল দিয়ে আবদ্ধ করল। শক্ত, বড়ো হাতের ভেতর গলে গেল মেয়েটির হাত।
"রোজ আমার বুকে মাথা রাখতে হবে।"

আঁখি চমকে তাকাল। চোখ দুটো কেমন বিচলিত হয়ে গেছে। নিচু স্বরে বলল,"এটা সম্ভব নয়।"

আরাব মৃদু হেসে বলল,"তার মানে তুমি আজ থেকেই আমার স্পর্শ পেতে চাচ্ছ। ওকে নো প্রবলেম আমি তোমায় আজকের দিনটা নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য এই শর্ত দিয়েছিলাম। কিন্তু ওয়াও তুমি তো প্রস্তুত ই। তাহলে লেট কেন করব?" এই টুকু বলেই আরাব ওর কাছে আসছিল। আঁখির গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ও তাড়াতাড়ি বলল,"না, আমি শর্তে রাজি।  প্লিজ আজকে অন্তত......"

ও কথাটা পুরো করতে পারল না। আরাব আলতো হেসে আঁখির মুখটা হাতের মাঝে আবদ্ধ করে ঠোঁটে আলতো ভাবে নিজের ঠোঁট রাখল। আরাবের ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে আঁখি ফ্রিজ হয়ে গেছে। মানুষটার দিকে লজ্জায় চাইতে না পেরে সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে নিয়েছে। আরাব এবার আঁখির দুই চোখের পাতাতে চুমু খেল। এতে পাঞ্জাবি চেপে ধরল ও। আরাব আঁখির কানের কাছে মুখ নিয়ে কানের নিচের অংশ তে হালকা করে কামড় দিয়ে তারপর বলল,
"আমার এই টুকু ছোঁয়া তেই কাতর তুমি পাখি। আমাকে ভালো না বেসে পারবে তুমি?"

আঁখি চুপ করে রইল। কথা বলতে পারল না। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বুকের ভেতর ধীম ধীম করছে। মেয়েটির অবস্থা বুঝতে পেরে মৃদু হাসল ও। লজ্জা না বাড়িয়ে বুকের মাঝে চেপে ধরল। আখি ও কিছু বলল না। তার ভেতর অন্য রকম সুখ চলছে। প্রথমবার ই মানুষটার ছোঁয়া ওকে এক ধাপ নুয়ে দিয়েছে। তাই তো সে ও পরম আবেশে আরাবের বুকেই ঘুমিয়ে পড়ল। 

আরাব সেই যে বিয়ের পরের দিন নিজের বাসায় গেছে, আর আসে নি। আজ পঁচিশ দিন হয়ে গেল। আঁখি নিজের বারান্দায় বসে বসে ফুল গুলো কে দেখছিল। মন টা ভালো নেই। মিনমিনিয়ে বলল,"কি সুন্দর ওরা ইস ওদের মতো যদি হতে পারতাম।"

আচমকা পেছন থেকে কেউ একজন জড়িয়ে ধরে বলল,"পিচ্চি পাখি ফুলের থেকে ও তুমি অনেক বেশি পবিত্র। ফুলকে তো নানান হাতের স্পর্শ পেতে হয়। কিন্তু তুমি তো শুধু আমার হাতের স্পর্শ পাবা। আর পিচ্চি পাখি ফুল তো ঝরে যায়। যারা ওকে স্পর্শ করে তারা ও ওকে ভুলে যায় আর ও যাদের স্পর্শ পায় তাদের কে ও ভুলে যায়। মাঝখানে কোনো কৃতিত্ব কিছুই নেই। যা আছে তা হলো কলঙ্ক  আর তুমি তো পবিত্র অনেক বেশি পবিত্র। তোমার সর্বাঙ্গে শুধু থাকবে আমার স্পর্শ।"

আরাব কে দেখে চমকে গেল মেয়েটা। ওর ভাবনায় আসে না কখন এলেন ছেলেটা। আঁখি মাথাটা নিচু করে আছে। তা দেখে আরাব বলল,"আমি ফোন করি নি বলে তুমি ও ফোন করবে না নাকি?"

আঁখি কিছু বলতে পারল না। ওর মনে যে বড্ড অভিমান। আরাব আখি কে একটা ছোট্ট পুতুল হাতে দিল। আরাব মিটিমিটি হাসছে এই দেখে আঁখি বলল,"পুতুল এনেছেন যে। পুতুল দিয়ে আমি কী করব?"

জবাবে আরাব কিছুই বলল না শুধুই হাসল। আঁখি যেন কিছু ই বুঝল না।

আরাব রুমে ঢুকে সোজা শাওয়ারে গেল। শাওয়ার শেষে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে ওমন সময় আঁখির আম্মু এসে বললেন,"আঁখি আরাব কে নিয়ে খেতে আয়। ছেলেটা সেই কখন এসেছে।"

আঁখি শুধুই হুম বলল। আঁখির আম্মু চলে যেতেই বেডের কাছে এসে বলল,"আম্মু ডাকছেন।"

"পাঁচ মিনিট বসো কাজ টা শেষ করে নিই।"

আঁখি বসল। আরাব বেশ কিছু সময় কাজ করল। কাজ শেষ হয়ে গেলে বলল,"চলো।"

আঁখি আগে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল; তখনই আরাব হ্যাঁচকা টান মে রে আঁখিকে বুকে নিয়ে আসল। নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে আঁখি বলল,"ছাড়ুন দরজা লক করা নেই আম্মু আসতে পারে।"

জবাব পেয়ে আরাব আঁখির চোখে চোখ রেখে বলল,"  তার মানে বলছো তো, দরজা লক করা থাকলে প্রবলেম নেই?"

নিজের কথায় নিজেই বোকা বনে গেল মেয়েটা। তুতলিয়ে বলল,"মানে?"

আরাব আঁখি কে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে কাঁধে নিজের থুতনি রেখে বলল,"মানে আজকে রেডি থেকো।"

আরাবের সাথে আয়নাতে চোখাচোখি হওয়ায় আঁখি বেশ লজ্জা পেল। সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিল। আঁখির আম্মু আবার ডাক দিলেন। এদিকে আরাব কে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও লাভ হচ্ছে না। অগত্যা আরাবের বাহুতে আবদ্ধ হয়েই আঁখি বলল,"আসছি আম্মু।"

আরাব ফিসফিস করে বলল,"ভুলো না কিন্তু।"

তারপরই দুষ্টু হাসিতে অধর রাঙাল। বিষয়টি এড়াতে মেয়েটা বলল,"আম্মু ডাকছে তাড়াতাড়ি চলুন।"

বিকেলে আরাব আঁখির হাতে লাল টুকটুকে সিল্কের শাড়ি দিয়ে বলল,"তৈরি থেকো।"

"পারব না।"

"সমস্যা নেই আমি বুঝতে পেরেছি তুমি আমার থেকে ও হাজার পার্সেন্ট রোমান্টিক।"

আঁখি অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,"মানে কী? "

"মানে টা হলো কেমন কায়দা করে আমার হাতে শাড়ি পরার জন্য রেডি হবে না বললে।"

আঁখি যেন পুরো বোকা বনে গেল। আরাব ফের বলল,"রেডি থেকো না হলে আমি এসে রেডি করিয়ে দিব।"

রাতে আঁখি রেডি হয়ে বসে আছে। মুখে হালকা মেকআপে আখি কে অপ্সরীর থেকে কম লাগছে না। আরাব নিচে গাড়ি নিয়ে বসে আছে। আঁখি কে ফোন করে বলল নিচে আসতে। আঁখির আব্বু আম্মু কে আরাব আগে থেকেই সব বলে রেখেছিল। তাই আঁখি রুম থেকে বের হতেই আম্মু আব্বু বললেন,"সাবধানে যাস মা।"

আঁখির আম্মু মেয়ের কপালে চুমু খেলেন। কন্যার মাথায় আদুরে হাত রেখে বললেন,"দেখিস মা তুই খুব সুখি হবি।"

আঁখি কিছু বলল না শুধু বিদায় জানিয়ে নিচে চলে আসল।
গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে। আরাবের পাশে বসে আছে তার লাল টুকটুকে পিচ্চি পাখি। একটু পর পর আরাব আঁখি কে দেখছে। আঁখি বুঝতে পারছে কিন্তু কিছুই বলছে না। আক্ষখি আরাবের দিকে হালকা তাকাল, ছেলেটার মুখে স্নিগ্ধ হাসি , মনে হচ্ছে সে বিশ্ব জয় করেছে। অসম্ভব মায়ায় ভরা যে কেউ প্রেমে পড়তে বাধ্য। আরাব আঁখির দিকে তাকানো মাত্রই ওদের চোখাচোখি হয়ে যায়। আঁখি লজ্জা পেয়ে বাইরের দিকটায় তাকায়। আরাব মৃদু হেসে বলল," লুকিয়ে দেখার কী আছে, সরাসরিই দেখো,অন্য কারো তো নই আমি।"

আঁখি আরাবের কথায় লজ্জা পেল। কারণ সে ধরা খেয়ে গেছে। কিন্তু কি করবে বেহায়া চোখ তো মানুষটির স্নিগ্ধ হাসি দেখার লোভ সামলাতে পারে নি। আঁখি পুরো রাস্তা চুপ করেই ছিল। আরাব ও কিছু বলে নি আর। হঠাৎ গাড়ি থামল এক ডুপ্লেক্স বাংলোর সামনে। আরাব বেরিয়ে আসল। গাড়ির দরজা খুলে আঁখির দিকে হাত বাড়াল। আঁখি কিছু না ভেবে কেমন মোহগ্রস্তর মতন আরাবের হাতে হাত রেখে বেরিয়ে আসল। আঁখি বোঝার চেষ্টা করছে কিন্তু বুঝতে পারছে না। অসম্ভব সুন্দর এই বাড়ি আধুনিকতার কোনো অপূর্ণতা নেই। প্রিয়তমার হাত ধরে বাড়ির ভেতর নিয়ে গেল ও। বাসায় প্রবেশের জন্য পা বাড়াল যখন, তখনই ওপর থেকে সাদা গোলাপের পাপড়ি পড়ল ওদের ওপর।

আঁখি বাসায় পা রাখা মাত্রই বসার রুমে জ্বলে উঠল নানান ধরনের আলো। সাথে চারপাশ থেকে বাজির শব্দ শুনতে পেল ও। কিছু টা ভয় পেয়ে আরাবের ব্লেজার চেপে ধরল। আরাবের মুখে সেই ভুবন ভোলানো স্নিগ্ধ হাসি রেখেই আঁখিকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে বলল,"ওয়েলকাম টু ইউর হোম পিচ্চি পাখি।"

ইউর হোম বলাতে আঁখি আরাবের দিকে তাকাল। আরাব ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি রেখে বলল,"এটা তোমার বাড়ি আঁখি। অনেক যত্ন করে আমি বানিয়েছি শুধু তোমার জন্য।"

আঁখি খানিকটা চমকে গেল। সাথে চোখের কোণে পানির ঝলমল দেখা গেল। আরাব বুঝতে পেরে আখির চোখে ফু দিল। আঁখি পরম আবেশে চোখ বন্ধ করে নিল। আঁখির হাত ধরে আরাব ভেতরে নিয়ে গেল। ভেতরে রাখা ছিল একটি সুন্দর রেড ভেলভেট কেক। যেটার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে দুটো সুন্দর পুতুল। যাদের গায়ের পোশাক অবিকল আঁখি আর আরাবের মতন। পুতুল দুটি একে অপরকে জড়িয়ে আছে। আঁখির কাছে মনে হলো পুতুল দুটো যেন খিল খিল করে হাসছে। হাসিতে যেন রয়েছে অনেক অনেক পবিত্রতা।

আরাব বলল,"আমি নিজে বানিয়েছি পিচ্চি পাখি।"

আঁখি আরাবের কথায় চমকে গেল। মনে মনে বলল,"ওনি কেক ও বানাতে পারেন। বাহ এত গুণ আর আমি তো কিছুই পারি না!"

"আমি সব শিখিয়ে দিব তোমায়।"

আঁখি তো পুরো অবাক এই মানুষটা কি মনের কথা ও বুঝতে পারেন নাকি? আরাব আঁখি কে বলল,"কী ভাবছ আমি কীভাবে বুঝি? আমি শুধু আমার পিচ্চি পাখি কে বুঝতে পারি। আমার পিচ্চি পাখির জন্য আমি সব করতে পারি।"
 
আঁখি যেন চমকের শীর্ষে। আরাব ওর হাত ধরে কেক টা কেটে নিল। তারপর আঁখি কে খাইয়ে দিল। আখির ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা ক্রিম টুকু আরাব হাত দিয়ে নিয়ে খেয়ে নিল। আঁখি এই মানুষটি কে যত দেখছে ততটাই অবাক হচ্ছে। বার বার মানুষটির প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঐ যে অভিমান তাকে তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে বাঁধা দিচ্ছে । আরাব একটি পেপার দিয়ে বলল,"সাইন করো।"

"না।"

"প্লিজ পিচ্চি পাখি আমি তোমাকে তাজমহল দিতে পারছি না। কিন্তু  মআমার ভালোবাসার তাজমহল হিসেবে এই বাড়ি টি তো দিতেই পারি। তাই না?"

আঁখি আর মানা করতে পারল না। সাইন করে দিল।
আরাব আঁখিকে কোলে তুলে নিল। আঁখি ও আরাবের গলা জড়িয়ে ধরল। মেয়েটিকে কোলে করে একদম রুমে নিয়ে এল। পুরো ঘরটা সাদা গোলাপ দিয়ে সাজানো। আরাব বলল,"পিচ্চি পাখি তুমি আমার দুনিয়ার সব থেকে পবিত্র ।
এই সাদার মাঝে একমাত্র তুমি ই আমার জীবনের রঙ।
সারা বিশ্বের ভালোবাসার রঙ লাল। আর তুমি আমার জীবনের লাল রঙ। সবাই লাল কে ভালোবাসার প্রতীক ভাবে আর তুমি নিজেই এক সমুদ্র ভালোবাসা। এই সাদা যতটা স্বচ্ছ তার থেকে ও আলোক বর্ষ গুন স্বচ্ছ তুমি।
সাদা কে পবিত্র বলা হয় কিন্তু তুমি আমার দুনিয়ার সব থেকে পবিত্র। এই সাদা কে দেখিয়ে তোমায় ভালোবাসতে চাই। সাদা সবাইকে হিং সে তে জ্বালায়। আর আজ আমি সাদাকে দেখিয়ে দেখিয়ে , তোমাকে ভালোবেসে ওকে জ্বালাতে চাই। আমাকে দিবে কী সেই সুযোগ? তোমাকে নিয়ে ভালোবাসার সাগরে ডুব দিতে চাই। আমার হাতে হাত রাখবে কী তুমি? আমার ভালোবাসা কে গ্রহন করবে কী তুমি? বলো, বলো প্লিজ।"

ভালোবাসা কে কতটা স্বচ্ছ ভাবে আরাব আঁখিকে বর্ননা করল। এই মানুষটিকে কী, না ভালোবেসে পারা যায়? যায় না বোধহয়। তাই তো আজ আঁখি নিজেকে আরাবের কাছে উৎসর্গ করে দিল। সে ও আরাবের ভালোবাসা তে ডুবে গেল। আজ এ ঘরে পবিত্র ভালোবাসা বিরাজ করছে। হয়তো জান্নাতের আলো ঘিরে নিয়েছে ওদের। এভাবেই যেন জান্নাতে ও দুটি ভালোবাসা এক হয়ে যায়। আঁখি আর আরাবের জীবন পায় পূর্ণতা। মেয়েটির কানের কাছে চুম্বন দিয়ে আরাব বলল,"ভালোবাসি খুব। ভালোবাসি পিচ্চি পাখি।"

অভিমান আর ভালোবাসার যুদ্ধে অভিমান হেরে গেল আজ। আঁখি ও তাই বলে উঠল,"আমি ও ভালোবাসি, খুব বেশি ভালোবাসি, অভিমানে ও ভালোবাসি।"

Loading spinner

Reply
Share:

Loading spinner