লেখক: তাজিম আহমেদ
পর্ব:০২
মেয়েটা ওদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলে আশিক কনুই দিয়ে ইবনানকে গুঁতো দিল। চোখের ইশারায় বলল,
“এইডা কোন মাইয়া রে? আগে তো দেহি নাই! ”
ইবনান একটু ঘাড় বাঁকিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আরে, এইডা তো ওই নেওয়াজ মাস্টারের মাইয়া। ”
আশিকের চোখ বড় হয়ে গেল,
“ওইডা না, যেই মাইয়া শহরে পড়াশোনা করত?”
ইবনান মাথা নেড়ে বলল,
“হ, ঢাকা থেইকা পড়ালেখা শেষ কইরা আইসা কয়দিন হইলো আমাদের ফাজিল মাদ্রাসায় পড়ানো শুরু করছে। মনে হয় বাংলা পড়ায়।”
আশিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“শহরের হাওয়া লাগা মাইয়াদের তো আলাদা ভাব থাকে…কিন্তু এইহানে তো দেখি একদম…”
এমন সময়,
“কিরে ইবনান? কার কতা কস?”
পেছন থেকে হঠাৎ ভেসে আসা ভারী কণ্ঠস্বর শুনে দুজনই প্রায় লাফিয়ে উঠল। কখন যে নিঃশব্দে ইশতিয়াক মির্জা ওদের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে, ওরা টেরই পায়নি।
আশিক বুক চেপে ধরে বলল,
“আরে মির্জা! কহন আইলি রে? হার্ট অ্যাটাক লাগাইয়া দিছিলি প্রায়!”
ইশতিয়াক সানগ্লাসটা খুলে একবার দূরে চলে যাওয়া মেয়েটার দিকে তাকিয়ে, তারপর শান্ত কিন্তু রুক্ষ গলায় বলল,
“তোরা যখন মাইয়া নিয়া পিএইচডি করতেছিলি, ওই টাইমেই আইলাম।”
ইবনান একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
“আরে মির্জা, তুই যেমন ভাবতাছস তেমন কিছু না। নতুন আইছে তো, তাই…”
ইশতিয়াক কথাটা ঘুরিয়ে দিল,
“এইসব বাদ দে। চল, বাজার দিক থেইকা ঘুইরা আই।”
আশিক ভ্রু তুলে বলল,
“এই টাইমে বাজারে গিয়া কি করবি?”
ইশতিয়াক হালকা বিরক্তি নিয়ে বলল,
“আর কইস না… সিগারেট কিনন লাগবো। সকাল থেইকা এই পর্যন্ত এক প্যাক শেষ।”
ইবনান অবাক হয়ে তাকাল,
“তোর কি জীবনের মায়া-টায়া কিচ্ছু নাই নাকি?”
ইশতিয়াক ভ্রু কুচকে তাকাল “হঠাৎ এইডা ক্যান কস?”
ইবনান কাঁধ ঝাঁকাল,
“এই যে তুই যেইভাবে সিগারেট খাওনের হিসাব দিতাছস… শুনছি এইডা খাইলে ক্যান্সার-ট্যান্সার হয়, আবার ওইটার নাকি কোনো চিকিৎসাও নাই।”
কথাটা শুনে ইশতিয়াক হালকা হেসে মাথা নাড়ে
“কিরে আশিক, এইডা আমাদের সাথে কি করতাছে? এইডার তো এখন মেডিকেল কলেজে থাকার কতা!”
তারপর একটু থেমে, নিচু স্বরে বলল
“রোগ তো হয় মানুষের… কিন্তু আমি নিজেই তো একটা অসুখ।”
কেউ কিছু বলার আগেই সে আবার স্বাভাবিক গলায় বলল,
“এইসব বাদ দে। চল, বাজারে যাই।”
ইবনান বিরক্ত হয়ে বলল,
“চল চল। তোর সাথে কতা কইয়া লাভ নাই—দেয়ালে নিজের মাথা ঠুকার মতোই।”
তিনজনই ধীরে ধীরে কালভার্ট থেকে নেমে রাস্তার দিকে হাঁটা ধরল।
এদিকে,
পৌরসভা ভবনের ছাদের খোলা বারান্দায় বসে আছেন মেয়র। আরফান দেওয়ান এদিকে অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন। পান খাওয়া মুখটা রাগে থমথমে, চোখে স্পষ্ট ক্ষোভ।
আরফান বলল,
“না মেয়র সাব, এইটা আপনি কী কইলেন? আমি দলের সেক্রেটারি, আর ওই মির্জার নাতি আমারে রাস্তার মাঝখানে অপমান করে! কয় কী জানেন?
‘কেন্দুয়ায় থাকতে পারুম না’! ওর এত বড় সাহস হয় কেমনে? আপনি এর একটা বিহিত করবেন, না আমি ওপর মহলে যামু?”
মেয়র কোনো তাড়াহুড়া করলেন না। ধীরেসুস্থে হাতের সিগারেটটা ছাইদানিতে ঝাড়লেন। মুখে ভাবলেশহীন শান্ত একটা অভিব্যক্তি নিয়ে বললেন,
“বসেন, দেওয়ান সাব… আগে বসেন। শরীরটা ঠান্ডা করেন। আপনারে অপমান করছে—এইটা শুনলে আমার নিজেরই খারাপ লাগে। আপনি হইলেন দলের লোক, আমার কাছের মানুষ।”
আরফান ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়লেন।তারপর বললেন,
“তাইলে কিছু একটা করেন! ওরে একটু টাইট দেওয়া দরকার।”
মেয়র এবার সামান্য ঝুঁকে বসলেন। গলার স্বর নামিয়ে আনলেন, যেন খুব গোপন কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন,
“বিহিত তো অবশ্যই করা লাগে…
কিন্তু দেওয়ান সাব, একটু ঠান্ডা মাথায় ভাইবা দেহেন। ইশতিয়াক পুলাপাইন মানুষ, মাথা গরম। ওরে কি এই সময়ে ঘাটানো ঠিক হইবো?”
একটু থামলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
“সামনে ইলেকশন। মির্জা বাড়ির ভোট ব্যাংক, আর টাকার পাওয়ার—এইটা যদি হাতছাড়া করি, আমরা কেন্দ্রে কী জবাব দিমু?
এখন যদি ওরে নিয়া কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়, উল্টা আমাদেরই লস হইবো।”
আরফান ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।
আরফান বললেন,
“তার মানে আপনি বলতেছেন, আমি মুখ বুইঝা মাইনা নিব?”
মেয়র হালকা হেসে বললেন,
“আরে না না… মাইনা নিবেন কেন?
সময়মতো জবাব দিমু। কিন্তু বাঘ যখন তেড়ে আসে, তখন ডালপালা নিয়া সামনে দাঁড়ানো বোকামি। একটু সাইড দিতে হয়।”
তিনি চেয়ারে হেলান দিলেন।
“ইশতিয়াকের পেছনে তো ওর দাদা, ইমরান মির্জা খাড়া। উনি যদি এইসবের মধ্যে জড়ায়া যায়, আমাদের লাইফই হেল হইয়া যাইবো। তার চেয়ে—কয়দিন চুপ থাকেন। ওরে নিজের মতো উড়তে দেন। মাটিতে তো একদিন পড়বোই।”
আরফানের চোখে সন্দেহের ঝিলিক।
“আপনি আসলে ওরে ডরান, মেয়র সাব। সত্যি কইরা কন তো—মির্জার সাথে আপনার কোনো গোপন লেনদেন আছে নাকি?”
মেয়র একটুও বিচলিত হলেন না। বরং হঠাৎ করে হেসে উঠ বললেন,
“হাহা! কী যে কন, দেওয়ান সাব! আমার ওর সাথে লেনদেন থাকলে কি আর আপনারে নিয়া এইখানে বইসা চা খাইতাম?”
হাসিটা মিলিয়ে যেতে না যেতেই তার চোখ দুটো আবার আগের মতোই ঠান্ডা হয়ে গেল।
“আমি শুধু পলিটিক্সটা বুঝি। ইশতিয়াক হইলো একটা ক্ষ্যাপা ঘোড়া… ওরে এখনই থামাইতে গেলে উল্টা লাথি খাওয়ার চান্স বেশি।”
আরফান দেওয়ান আর কিছু বললেন না। গুম হয়ে বসে রইলেন।
মেয়রের কথাগুলো ফেলে দেওয়ার মতো না—কিন্তু ভেতরের আগুনটাও নিভছে না।
এদিকে,
আসরের আযানের ধ্বনি তখনও বাতাসে লেগে আছে। সেই রেশ কাটার আগেই আরিশা গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকল। হাঁটার ভঙ্গিতে ক্লান্তি স্পষ্ট—পা ফেলছে, কিন্তু মনে হচ্ছে প্রতিটা পদক্ষেপেই ওজন।
বারান্দার এক কোণে সুফিয়া বেগম পানের বাটা সামনে নিয়ে বসে ছিলেন। আরিশাকে চোখে পড়তেই তিনি চুন মাখতে মাখতেই কথা শুরু করলেন,
“আসরের আযানও শেষ হইলো… এখন গ্রামের মানুষজনের মুখে মুখে গল্পও শুরু হইবো। নেওয়াজ মাস্টারের মাইয়া—কতক্ষণ বাইরে থাকে, কই যায়, কেমনে আসে… সব হিসাব হবে।
মাদ্রাসায় পড়াও, ভালো কথা। কিন্তু সময়-অসময় বলে তো কিছু আছে, না? এই যে রোয়াইল বাড়ির রাস্তা দিয়া তুমি একা একা আসো—কাল যদি কিছু হয়, দোষটা কার ঘাড়ে পড়বো? মানুষ কি বলবো না—মাস্টার সাহেব নিজের মাইয়ারে সামলাইতে পারে নাই?”
আরিশা থেমে গেল। বারান্দার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে তাকাল ভেতরের দিকে।
ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন আরিফ নেওয়াজ মাস্টার।
হাতে তসবিহ, চোখ বন্ধ। যেন সব শুনছেন, আবার কিছুই শুনছেন না।
সুফিয়া বেগম থামলেন না।
“ঢাকা থেইকা আইছো—ভাবছিলাম সংসারটা ধরবা। ঘরের দিকে নজর দিবা। কিন্তু তুমি ধরলা মাদ্রাসার খাতা।
তার ওপর মাদ্রাসা তো ছুটি হইছে দুই ঘণ্টা আগে—তুমি আসতেছো এখন। ভদ্র ঘরের মাইয়ারা কি এইভাবে বাইরে বাইরে ঘুরাঘুরি করে?”
কথাগুলো এবার আরিশার ভেতরে গিয়ে লাগল। তবু সে গলাটা শান্ত রাখার চেষ্টা করল।
“মা, আজকে মাদ্রাসায় খাতা দেখার চাপ ছিল। তাই দেরি হইছে।
আপনি সরাসরি ধরেই নিলেন আমি ঘুরাঘুরি করতেছিলাম… একবার জিজ্ঞেস করলেও পারতেন, না?”
নেওয়াজ মাস্টার এবার ধীরে চোখ খুললেন। ক্লান্ত, নরম দৃষ্টি।তিনি বললেন,
“মা আরিশা… হাত-মুখ ধুইয়া নামাজটা পড়ে নে। তোর ঘরে নাশতা রাখা আছে। শরীরটা খুব ক্লান্ত লাগতেছে তোর।”
এই কথাটুকুতেই যেন সব শেষ। আরিশা আর কিছু বলল না। মাথা নিচু করে নিজের ঘরের দিকে হাঁটল।
দরজায় হাত রাখতেই পেছন থেকে সুফিয়া বেগমের শেষ কথাটা ছুড়ে এল,
“আপনি এইভাবে প্রশ্রয় দিতে থাকেন। কিন্তু মাইয়াডা যখন মাথার উপর উঠবো। তখন নামাইতে পারবেন তো?”
দরজাটা ধীরে বন্ধ করে দিল আরিশা।
বিছানায় গা এলিয়ে দিল কিছুক্ষণ। চোখ বন্ধ করল। কিন্তু শান্তি আসল না।
কিছুক্ষণ পর নিজেই উঠে বসল।
নামাজ পড়া বাকি।
তারপর গোসলও করতে হবে।
তাই সে ওযু করতে গেল।
সন্ধ্যার সময়,
মেয়র হানিফ হোসেন তার সকল অফিসিয়াল কাজগুলো একে একে গুছাতে লাগলেন। কারণ আজ আবার একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।
রাত যখন ১১টা—
হানিফ হোসেন নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রোয়াইল বাড়ি বাজারে এসে থামলেন। পকেট থেকে ফোনটা বের করে কাউকে কল দিতে যাবেন—ঠিক তখনই রফিকের নাম্বার থেকে কল চলে এল।
ফোনটা রিসিভ করেই মেয়র বললেন,
“কী ব্যাপার রফিক? আমি তো বাজারে এসে পড়ছি, এইমাত্র তোমাকেই কল দিতে যাচ্ছিলাম।”
ওপাশ থেকে রফিক শান্ত গলায় বলল,
“আপনি আইসা পড়ছেন মেয়র সাব? ঠিক আছে, এখন দুর্গের পথে সরাসরি ভেতরে আসেন।”
মেয়র একটু অবাক হয়ে বললেন,
“তুমি কী বলতাছো রফিক? তোমাকে আগেই বলছিলাম, কোনো একটা হোটেলে বসে মিটিংটা করি। তুমি বললা গ্রামে আসতে, এখন আবার দুর্গে আসতে কইতাছো! এইসব মিটিং কি খোলামেলা জায়গায় হয়?”
রফিক একই স্বরে বলল,
“আপনি আগে আসেন, তারপর দেখেন—খোলামেলা নাকি গোপন।”
মেয়র বিরক্ত হয়ে ফোনটা কেটে দিলেন। তারপর গাড়িটা ঘুরিয়ে দুর্গের পথে ঢুকালেন।
দুর্গের ভেতরে ঢুকতেই রফিক এসে তাকে রিসিভ করল।
সেখান থেকে তাকে নিয়ে গেল বড় বটগাছটার নিচে—যেখানে মাটির নিচে নেমে গেছে একটা সুরঙ্গ।
রফিক একটু ঝুঁকে বলল,
“মেয়র সাব, গ্রামের লোকেরা এটারে
“নিয়ামত বিবির সোলাক” বলে।
কিন্তু কেউ জানে না—এইটা আসলে মির্জা ভাইয়ের সোলাক! চলেন।”
মেয়র থমকে গেলেন,
“কী! সুরঙ্গে বসে মিটিং করমু নাকি?”
রফিক হালকা হাঁটতে হাঁটতেই বলল,
“আসেন। আর এখন যেটা দেখবেন, তার জন্য একটু মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন।”
মেয়র অনিচ্ছা সত্ত্বেও সুরঙ্গে নেমে গেলেন। কিছুদূর এগোতেই ভ্যাপসা অন্ধকারের মাঝে ঝাপসা একটা আলোর আভা চোখে পড়ল। যত এগোচ্ছেন, ততই অবাক হচ্ছেন। আরেকটু সামনে গিয়ে একটা ভারী দরজা।
রফিক দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো । পেছন পেছন মেয়রও ঢুকলেন।
ভেতরে ঢুকেই মেয়রের চোখ ছানাবড়া। বেশ বড় একটা রুম—২০ থেকে ২৫ জন লোক আরামে বসে মিটিং করতে পারবে। মাঝখানে বড় সেন্টার টেবিল, তিনপাশে সারি সারি চেয়ার, আর একপাশে একটাই কাঠের চেয়ার।
সেই একটাতে পায়ের ওপর পা তুলে আয়েশ করে বসে আছে ইশতিয়াক মির্জা।
মেয়র কিছুক্ষণ ছাদ আর দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়টা সামলানোর চেষ্টা করলেন। তারপর ধীরে গিয়ে টেবিলের উল্টো পাশে একটা চেয়ারে বসলেন। ইশতিয়াক তখনও একই ভঙ্গিতে—হাতে আধপোড়া সিগারেট।
মেয়র গলা ঝেড়ে বললেন,
“মির্জা, মাটির নিচে এই আয়োজন… এইটা কিন্তু সাধারণ মানুষের কাজ না। রোয়াইল বাড়ির লোকে তো জানে এইটা নিয়ামত বিবির সোলাক—জিনের আস্তানা। তুমি তো দেখি এমন ব্যবস্থা কইরা রাখছো, থানা নামাইলেও কেউ টের পাইবো না।”
ইশতিয়াক ধীরে ধোঁয়া ছাড়ল। চোখ মেয়রের দিকে স্থির করে বলল,
“জিনের আস্তানায় মানুষ আসতে ভয় পায়, মেয়র সাব। আমার একটু শান্তি দরকার ছিল, তাই জায়গাটা বেছে নিছি।
তা… আপনার কাজ কতদূর? সামনের নির্বাচন তো বেশি দূরে না।”
মেয়র একটু ঝুঁকে বসলেন। গলা নামিয়ে বললেন,
“হুম… সময়টা খুব একটা ভালো না। চারদিকে চাপ। প্রতিপক্ষ এবার কোমর বেঁধে নামছে। খবর পাইছি—ওপরে থেইকা বড় বড় ‘সামান’ আসতেছে। আমার কাছে যা আছে, তা দিয়া শুধু বাতাস গরম করা যাবে, ভয় দেখানো যাবে না।”
ইশতিয়াক ছাই ঝেড়ে বলল,
“মানে… আপনাকে বড় কিছু দিতে হবে?”
মেয়র এবার সরাসরি বললেন,
“হ। ক্লিয়ার করে কই—আমার কিছু ক*ড়া মাল লাগবো,যেগুলার শব্দ কম বাট একশন বেশি। আর কয়েকটা পাগলা মা*ল লাগবো যেগুলো কথার আগে চলে। একদম ফ্রেশ মাল। পুরান, জং ধরা কিছু নিয়া আমি রিস্ক নিতে পারুম না।”
ইশতিয়াক হালকা বাঁকা হাসল।
“মেয়র সাব, সময়টা মনে হয় একটু ভুলে গেছেন। বর্ডার এখন অনেক টাইট। কড়া মাল আর পাগলা মানে বুঝেন তো?—ওই জিনিস জোগাড় করা আর হ্যান্ডেল করা দুইটাই কষ্টের। আর সবছেয়ে বড় কথা এই মাল এখন আমার স্টকে নাই।”
মেয়রের মুখ একটু ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
“স্টকে নাই মানে? মির্জার কাছে জিনিস নাই—এইটা তো বিশ্বাস করা কঠিন।”
ইশতিয়াক চেয়ার থেকে সামান্য সামনে ঝুঁকল,
“স্টকে নাই মানে এই না যে,আসবে না। সময় লাগবে। এখন কোনো ডেমো দেখানোর টাইম নাই।
আপনি শুধু শিউর করেন—টাকা রেডি আছে কিনা। সাত দিনের মধ্যে মাল ঢুকবে।
তবে একটা শর্ত আছে।”
মেয়র কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
“পয়সা নিয়ে টেনশন করো না। পেমেন্ট ঠিকমতো পৌঁছাবে। কিন্তু ডেলিভারি কোথায় হবে?”
ইশতিয়াক শান্ত গলায় বলল,
“শর্তটা পয়সার না, মেয়র সাব। মাল দিলে পয়সা তো এমনিতেই দিবেন।
শর্তটা হলো—
এই রুম থেকে বের হওয়ার পর এই সুরঙ্গের কথা ভুলে যাবেন।
কোনো নড়চড় হলে… এই কেন্দুয়ার ভোটার লিস্ট নতুন করে বানাতে হবে।”
একটু থেমে বলল,
“ডেলিভারির জায়গা সময়মতো জানানো হবে।”
মেয়র অজান্তেই কপালের ঘাম মুছলেন।মির্জার শান্ত গলায় বলা কথাগুলো তার ভিতর কাপন ধরিয়ে দিয়েছে । তিনি উঠে দাঁড়ালেন।
“ওকে… ডান। আমি রফিকের সাথে যোগাযোগ রাখমু।”
এটা বলে তিনি সুরঙ্গ রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
রুমের ভেতরে আবার নীরবতা নেমে এল। শুধু সিগারেটের ধোঁয়াটা ধীরে ধীরে বাতাসে ভেসে থাকল….
চলবে……(ইনশাআল্লাহ)
[ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর পর্ব টা কেমন হয়েছে বলে যাবেন! ]