গল্প: ভালোবাসি বলেই(০১)

জনরা ক্যাটাগরি:ভার্সিটি-ফানি-রোমান্টিক-বন্ধুমহল-অনেকগুলো চরিত্র-কটম্যারেজ রিলেটিভ – ফানি রিলেটিভ] 🌷

লেখিকা:নুসরাত জাহান তীব্রতা

 

*** এটা একটা ভার্সিটি রিলেটিভ ফানি ধাঁচের স্টরি। দুষ্টু মিষ্টি প্রেমকাহিনী, রাগ- অভিমান, ঝগড়া, খুনসুটি, জেলাসি নিয়েই বিভিন্ন কাহিনী। যারা ভার্সিটি রিলেটিভ ও ফানি ধাঁচের গল্প পছন্দ করেন তারা পরতে পারেন। আর যারা অনেকগুলো চরিত্রের গল্প পছন্দ করেন তারাও পরতে পারেন।

 

 

 

–” বিনা দাওয়াতে বিয়ে খাইতে এসেছি একটু তো লজ্জা কর  তা না করে তুই রোস্ট দেন,পোলাও দেন করেও যাচ্ছিস। তোর কি একটুও লজ্জা লাগছে না? ভয় লাগছে না ? আমার তো ভয়ে কলিজার পানি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। আমার গলা দিয়ে খাবার নামছে না।তুই খা আমি গেলাম ভাই।” মিনমিন সুরে কথাটা বলতেই অপরপক্ষ থেকে কড়া একটা ধমক খায় মেয়েটি।

— তুই চুপচাপ খা। বিয়ে খাইতে এসেছি খাবার খাবো না তো বাসন মাজবো।তোর এই ভয়ের কারণেই ধরা খাবো আমি।একটু রিল্যাক্স থাক না বইন আমার।দেখ জিমি পেট ভরে খা যাতে বাসায় গিয়ে আর রাতে খেতে না হয় ।” মেয়েটা রাগী কন্ঠে বলে।

—  ইশমির বাচ্চা তুই যে  ঘুরার কথা বলে চুরি করে বিয়ে বাড়িতে আসবি এটা আমি আগে জানলে কখনোই আসতাম না।” জিমি দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা বলে।

— হি হি। আমি না তোর বেস্ট ফ্রেন্ড। এরকম করছিস কেন।তোর এরকম করার কারণে দেখ মানুষ কীভাবে তাকিয়ে আছে। নরমাল হো । তোর এই হুতুম পেঁচার মতো মুখটা দেখেই মানুষ বুঝে যাবে আমরা চোর।

মেয়েটার কথায় জিমি আশেপাশে তাকিয়ে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে ইশমিকে বলে,
— ভাই আমার প্রচন্ড ভয় লাগছে রে।দেখ না কেমন করে তাকিয়ে আছে সবাই।আর শা’লা ক্যামেরাম্যানটাও মুখের উপর ক্যামেরা ধরে রেখেছে মনে চাচ্ছে একদম লাথি মেরে উগান্ডায় ফেলে দেই।

— যেই না শরীর আবার তুই উগান্ডায় ফালাবি! হাউ ফানি ইয়ার।” ইশমি মেয়েটা ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে বলে।

— ধুর বা’ল । আমি যাইগা। তুই তোর খাবার খা।চুরি করে খেতে এসেছিস এখানেও আবার বলতেছিস এটা ভাল্লাগে না, ওটা ভাল্লাগে না। এটা ভালো হয় নাই,ওটাতে ঝাল হয় নাই। তুই আসলে কোন গ্রহের প্রাণী একমাত্র খোদাই জানে।” কথাটা বলে চেয়ারে থেকে ওঠতেই যাবে তখনই দুইটা ছেলে এসে তাদের টেবিলের সামনে দাঁড়ায়।
এতে দুজনেই ভরকে যায়।একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। এরমধ্যে একটা ছেলে প্রশ্ন করে,

— আপনারা কোন পক্ষ? আপনাদের তো চিনলাম না।”

এহেন প্রশ্নে দুইজনেই হতভম্ব হয়ে যায়। আসলে কার বিয়ে হচ্ছে মেয়ে নাকি ছেলে তাঁরা তো সেটাই জানে না।কি উত্তর দিবে। টেনশনে দাঁত দিয়ে নখ কামড়াচ্ছে দুজনেই। এরমধ্যে অন্য ছেলেটি জিজ্ঞেস করে ওঠে,
— কি হলো কিছু বলছেন না যে?

—- আপনারা কোন পক্ষের? আপনাদের তো চিনলাম না।” ইশমি প্রশ্ন করে ওঠে।

হ্যাংলা পাতলা গড়নের ছেলেটা উত্তর দেয়,
— আমরাতো মেয়ে পক্ষ।

ইশমি তৎক্ষণাৎ উত্তর দেয়,
— আমরা তো ছেলেপক্ষ।
ইশমির কথায় ছেলে দুইটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলে,

— কিন্তু বরযাত্রী তো এখনও আসে নাই। তাঁরা তো রাস্তায়।একটু আগেই তো কথা হলো।”

এরকম কথায় দুজনেই ভয় পেয়ে যায়।জিমি ফোকলা ফোকলা হাসি দিয়ে বলে,
— আসলে আমরা মেয়ের বান্ধবী তাই ছেলেপক্ষের হয়ে আগেই খাচ্ছি।হি হি । ও আসলে সেটা বোঝাতেই বরপক্ষ বলেছে।

— ওহ আচ্ছা। ছেলেটা বলে।

তাদের কথোপকথনের মধ্যেই একটা মধ্যবয়স্ক দেখতে লোক এসে তাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— তোমরা কারা!

এবার চারজন একসাথে বলে,
— আমরা মেয়েপক্ষের!( ইশমি)
— আমরা মেয়ে পক্ষ!( জিমি)
—- আমরা মেয়েপক্ষের!( প্রথম ছেলেটা)
—- আমরা মেয়েপক্ষের!( দ্বিতীয় ছেলেটা)

তাদের এরকম কথায় মধ্যবয়স্ক লোকটা বলে উঠে,
— তোমরা সিউর এখানে তোমরা মেয়েপক্ষের।

এবার কিছুটা দমে যায় চারজন ‌। ভয়ে আমতা আমতা করে বলে,
— জ্বি হ্যাঁ।

— কিন্তু এখানে তো কোনো বিয়েই হচ্ছে না তাহলে তোমরা কিভাবে মেয়েপক্ষের হও। এটা তো একটা মুসলমানির অনুষ্ঠান।” মধ্যবয়স্ক লোকটার কথায় জিমি আর ইশমি রেগে ছেলে দুইটার দিকে তাকায় যারা কিনা তাদের দিকেই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। বুঝতে পারলো তারাও তাদের মতো বিনা দাওয়াতে খেতে এসে ধরা পরেছে।

মধ্যবয়স্ক লোকটা কিছু চ্যালাপ্যালাকে তাদের বেঁধে রাখার জন্য আদেশ দিতেই জিমি আর ইশমি খাওয়া ছেড়েই দৌড় দেয়। দৌড়ের মধ্যেই একবার পিছনে তাকিয়ে দেখে ওই ছেলে দুটোকে ধরে ফেলেছে। মানসম্মান বাচাতে ভরা অনুষ্ঠানের মধ্যেই লোকজনকে ঠেলে বাইরে বেরিয়ে সোজা একটা রিকশায় ওঠে হাঁপাতে থাকে।
একটুর জন্য বেঁচে গেছে নয়তো আজকে সব মানসম্মান নষ্ট হয়ে যেত।

রিকশায় বসে জিমি ধুম করে ইশমির পিঠে একটা থাপ্পড় মেরে দেয়। রেগে বলে,
— কিসের চুরি করতে গেছস তুই। সামান্য খোঁজখবরই নিতে পারোস না।

— আরে ভাই আমার কি দোষ? ওখানে দেখস নাই কাঁচা হলুদ বাটা পরে আছে তাইতো আমি ভাবছিলাম বিয়ের অনুষ্ঠান।”

— তো খাইলিনা বিয়ে। চলে এসেছিস কেন? তোর রোস্ট তো রয়ে গেছে।

— ঠিক ভাই রোস্টটা যে কি মজা হয়েছে। কিন্তু ওই বাটপার আমারে আর রোস্ট দিলো না।

— ভাই তুই অলরেডি তিন তিনটা রোস্ট নিছিস।তাও আবার চাস। তুই কি মানুষ ভাই?

— দোস্ত দেখ না ছেলেরা আসছে না আমাদের পিছনে।আয় আমরা গিয়ে আবার কতগুলো রোস্ট নিয়ে আসি।
কথাটা শুনতেই জিমি রেগে চলন্ত রিকশা থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয় ইশমিকে। রেগে কটমট করে বলে,
— তুই যা। আমার সাথে যদি আর একটা কথাও বলছিস না তাহলে তোরে খুন করবো আমি।

___________________________

শীতের শেষ দিক। বসন্ত এসে পড়েছে। সকালবেলা সূর্যের মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে এক কিশোরী মেয়ের মুখে।

জানালার বাইরে থেকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ আসছে। জানান দিচ্ছে অনেক বেলা হয়ে গেছে।কিশোরী মেয়েটি পঞ্চমবারের মতো অ্যালার্ম টা বন্ধ করে নড়ে চড়ে পুনরায় ঘুমানোর চেষ্টায়।
কিন্তু তা মনে হয় আর সম্ভব হলো না। একটানা ফোনটা বেজেই চলেছে লাগাতার। নাকমুখ কুঁচকে ঘুমঘুম চোখে দেখতে চাচ্ছে কোন মহান ব্যক্তি তার সাধের ঘুমের বারোটা বাজিয়েছে।
মনে মনে তার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলেছে।কলটা রিসিভ করে কানে নিতেই তার কানের বারোটা বেজে গেল।স্লাইকোন মনে হয় তার উপর দিয়ে সুরসুর করে বয়ে যাচ্ছে।
ভালো করে চেয়ে দেখে তার প্রাণপ্রিয়, কলিজা, বেস্টু কলে। ভাবসাব এমন যে সামনে পেলে বর্তা বানিয়ে ফেলতো লবণ মরিচ ছাড়াই। এখন মাএ ঘুম থেকে উঠেছে সে ।
মেয়েটা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সাড়ে আটটা বাজে।জিভে কামড় দিয়ে হুরমুর করে ওঠে বসে।সে তো ভুলেই গিয়েছিল আজকে তার ভার্সিটিতে প্রথম দিন।
এক দৌড়ে গিয়ে ওয়াশ রুমে প্রবেশ করলো। তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে দেখলো তার বাবা ডাইনিং এ বসে তার জন্য অপেক্ষা করছে।তাড়াতাড়ি আম্মুকে বলল খাবার দেওয়ার জন্য। সে জানে এখন তার প্রাণপ্রিয় মাতাজি নিত্যদিনের মতো এসে ভাষণ শুরু করবে।কোনমতে খেয়ে উপরে গিয়ে রেডি হয়ে নিচে নেমে আসলো।

তাড়াহুড়োয় একটা গ্রে কালার থ্রিপিস পড়ে ওড়নাটা নিয়ে, চোখে একটু আইলেনার আর চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া।ঠৌটে হালকা লিপবাম দেওয়া।ব্যস এতটুকুই । এতেই যেন সৈন্দর্য ফুটে উঠেছে।

বাবার সাথে দেখা করে রিক্সায় করে ভার্সিটি চলে যায়। চাইলেই সে বড়লোকের মতো গাড়ি নিয়ে যেতে পারতো কিন্তু তার সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে ভালো লাগে।তাই বাবাকে চলে যেতে বলে নিজেই রিকশা দিয়ে ভার্সিটি যায়।
___________________________

ইশিতা নিশাত জিমি।বয়স ১৯+ । গায়ের রং দুধে আলতা ফর্সা। টানা টানা মায়াবী চোখ। ঘনকালো চুলগুলো কোমর ছড়িয়ে নিচে পড়ে। গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট। নাকটা খাড়া। দেহের গড়ন চিকন,বাকানো। একমাত্র মেয়ে। বাবা ইশতিয়াক আহমেদ, বিজনেস ম্যান ।মা গৃহিণী  সুমনা বেগম।
একমাত্র বেস্টু ইশমি জাহান । গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা। ঠোঁট দুটো গোলাপী। নাকটা খাড়া। চেহারা কাট বাচ্চা বাচ্চা। লম্বা ঠিক আছে। বাবা বিজনেস ম্যান জহিরুল ইসলাম।মা সুফিয়া খাতুন গৃহিণী। ছোট ভাই মাহিন।
ইশতিয়াক আহমেদ আর জহিরুল ইসলাম বিজনেস পার্টনার হওয়ার জিমি আর ইশমি ছোট বেলা থেকেই একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ড কম একে অপরের কলিজা।
___________________
ভার্সিটিতে পৌঁছে জিমি দেখে তার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড আগে থেকেই তার জন্য অপেক্ষা করছে।

জিমি তার  কাছে যেতেই ইশমি বলে,
—তোর এতক্ষণ লাগে আসতে। আমি আধা ঘন্টা ধরে তোর জন্য অপেক্ষা করতেছি। তুই সবসময় দেরি করে আসিস বলে আজকের দিনে ও দেরি করে আসবি।

জিমি ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে,
—আমি কি ইচ্ছে করে দেরি করে আসি, কীভাবে যেন হয়ে যায়।

ইশমি বলে,
—-ডং বাদ দিয়ে চল এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। ভাবছিলাম ভার্সিটিটা ঘুরে ঘুরে দেখবো।

জিমি বলে,
—আচ্ছা ছুটির পর দেখবো। এখন চল ক্লাসে যাই কিন্তু ইশু তুই কি জানিস কোনটা ক্লাসরুম আমাদের?

ইশমি বলে ,হ্যাঁ আমি দেখেছিলাম।
—চল যাই।

টিফিন পিরিয়ডে ইশমি আর জিমি হেঁটে হেঁটে ক্যান্টিনের দিকে আসছিল। হঠাৎ মনে হল তাদের কেউ ডাকছে।তারা দুজনেই তাকিয়ে দেখে পাঁচজন ছেলে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। একজনের হাতে গিটার।

জিমি ভয় পায় কারণ সে শুনেছে পাবলিক ভার্সিটিতে রেগিং হয় । সিনিয়ররা অনেক ভয়ংকর হয়।আর ছেলে গুলোকে দেখে তো সিনিয়রই মনে হচ্ছে।
জিমি ইশমির হাতটা চেপে ধরে বলে,
— চল আমরা চলে যাই। ওরা যখন চলেই যাবে তখন আবার ডাক পড়ে।

ইশমি বলে চলতো,
— যা হবে দেখা যাবে।
____

কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে আড্ডা দিচ্ছে পাঁচ বন্ধু। কিয়ান, সাব্বির,রিহান, তামিম আর শ্রাবণ।কিয়ান বাইকে বসে ফোন চালাচ্ছে। আর বাকি চারজন আড্ডা দিচ্ছে ।

আড্ডার মধ্যে তামিম বলে উঠে ,
— ইশান কখন আসবে। ওকে ছাড়া ভালো লাগেনা।

রিহান বলে উঠে – ঠিক।

সাব্বির উৎফুল্ল হয়ে বলে,
“আজকে তো ফার্স্ট ইয়ারের প্রথম দিন,চল একটু মজা করি।কিয়ান তুই কি বলিস? “

“তোদের যা মনে চায় কর কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করবি না”( কিয়ান গম্ভীর মুখে বলে)

সাব্বির আবার উৎফুল্ল হয়ে বলে ,
— ওই দেখ দুটো মেয়ে যাচ্ছে ওদের ডাক দেই।

— এইযে মিস গ্রে আর ব্ল্যাক ড্রেস এদিকে আসো “(সাব্বির )

……( নিশ্চুপ)

– এইযে তোমাদের  আসতে বলা হয়েছে না  “শ্রাবণ বলে।

জিমি আর ইশমি ভয়ে ভয়ে এগিয়ে আসে।
— জ্বী ভাইয়া কিছু বলবেন?” ইশমি বলে।

— “নিউ স্টুডেন্ট ” সাব্বির বলে উঠে।

–“জ্বী ভাইয়া “
ইশমি উওর দেয়।

–“নাম কি”

— “ইশমি জাহান “

“তোমাকে কি নাম বলার জন্য আলাদা করে ইনভাইট পাঠানো লাগবে”  ( জিমিকে উদ্দেশ্য করে বলে)

“জ্বী আমার নাম ইশিতা নিশাত জিমি “

কিয়ান তাকিয়ে দেখে দুটো মেয়ে। একজন গ্রে কালার থ্রিপিস পড়া আরেকজন কালো কালার। একজন শ্যামলা আরেকজন ফর্সা।

– “সিনিয়ররা ডাকার পরেও ইগনোর করেছ কেন।আর আসার পরে সালাম ও দেও নি।এর শাস্তি কি হতে পারে জানো”কিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে।

ইশমি চেয়ে তাকিয়ে দেখে ফর্সা একটা ছেলে সাদা শার্ট সাথে কালো প্যান্ট পড়া। শার্টের উপরে একটা বোতাম খোলা। কাঁধে গিটার। নায়কের চেয়ে কোন অংশে কম লাগে নাই ইশমির কাছে।

“আমরা কি জানতাম নাকি আমাদের ডেকেছেন আপনি”ইশমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।

“বড্ড বেশি কথা বলো তুমি মেয়ে”কিয়ান বলে।

“সরি ভাইয়া ও একটু বেশি কথা বলে। কিছু মনে করবেন না”জিমি বলে।

কিয়ান জিমির দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা গ্রে কালার থ্রিপিস পড়া, চোখে আইলেনার দেওয়া, চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। গোলাপের পাপড়ির মতো ঠৌট। মায়াবতী এক কথায় যাকে বলে। শান্তশিষ্ট, চুপচাপ স্বভাবের।

কিয়ান মনে মনে কিছু ভেবে মুচকি হাসি দিলো।
ওদিকে ইশমিও কিয়ানের দিকে তাকিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।আর মনে মনে কিছু একটা ভাবছে ।

“ভাইয়া আজকে আমরা আসি “জিমির কথায় কিয়ানের ধ্যান ভাঙে।

কিয়ান বলে
” আচ্ছা,আর কোন সমস্যা হলে জানিও।”

ইশমি বলে” অবশ্যই অবশ্যই”

কিয়ান ভ্রু কুঁচকে ইশমির দিকে তাকালো।

ইশমি একটা বোকার মতো হাসি দিয়ে জিমিকে নিয়ে চলে আসলো।

_____________

ইশমি ওয়াশ রুমে যাওয়ায়  জিমির বোরিং লাগছিল তাই একটু এদিক ওদিক হাঁটছিল।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একটা ইটের মধ্যে উষ্ঠা খেয়ে পরার সময় ব্যালেন্স রাখার জন্য হাতড়ে কিছু ধরতে চায়। ধরার সময় একটা মেয়ের চায়ের কাপ উল্টে ফেলে দেয় যা গিয়ে একটা ছেলের বুকের উপর পড়ে। সাথে সাথে জিমি ও মাটিতে পড়ে যায়। নিচে পরে গিয়ে আফসোস করছে নিজের কৃতকর্মের কথা ভেবে।

জিমি মাটিতে পড়ে আল্লাহর নাম ডাকতেছে। এইবারের মত বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য । ভয়ে ভয়ে এক চোখ খুলে দেখতে পায় একটা ছেলে রাগি মুখে তার শার্ট পরিষ্কার করছে। যেটা সে মাএই নষ্ট করে দিয়েছে। চা পরার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

জিমি ভাবতেছে প্রথম দিনেই তার সাথে এরকম একটা ঘটনা ঘটা লাগলো। সবকিছু কুফা লাগছে। যদি কোন কিছু তার সাথে ভালো ঘটে।

সে আস্তে আস্তে হেঁটে দাঁড়িয়ে যেই না সরি বলতে যাচ্ছিল তখনই একটা শক্তপোক্ত হাতের চড় খেয়ে মাটিতে পুনরায় পড়ে যায়।
এরকম শক্ত হাতের চড় খেয়ে জিমির মাথা ঘুরে উঠলো। চোখে পানি চলে আসে। পরিবারের একমাত্র মেয়ে হওয়ার চড়, থাপ্পর এসবের প্রতি সে পরিচিত নয়।মা বকলেও কখনো বাবার কারণে গায়ে হাত তুলতো না।

অচেনা লোকের হাতে চড় খেয়ে জিমি ভেজা চোখে লোকটার দিকে তাকায়। সাদা রঙের শার্টটা ইতিমধ্যে লালচে হয়ে গেছে চা পড়ে।কালো প্যান্ট, সানগ্লাস টা শার্টের বোতামের উপরে ঝুলিয়ে রাখা। পায়ের মধ্যে সাদা জুতা।জিম করা বডি।
তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ঠোঁটের নিচে কালো তিলটা।যেন একটা চাদের নিচে একটা তারা।

জিমি ঠৌঁটের নিচের তিলটার দিকে চেয়ে রইল।

“হেই ইউ, চোখে দেখতে পাও না।স্টুপিট”

এমন কড়া ধমক শুনে জিমি ঝাকি দিয়ে উঠে।
একটু ভালো করেও তো বলা যায় ।মানলো সে একটু ভুল করেছে তাই বলে এরকম করবে। মনে মনে ভাবে” হাহ্ ডং”

“এই বয়রা নাকি “কানে শুনতে পাও না “চোখ কোথায় থাকে তোমার?

” ভাইয়া আমি আসলে খেয়াল করিনি”জিমি  অসহায় কন্ঠে বললো।

“মন কোথায় থাকে যে খেয়াল করো নি ? কি খেয়াল করো তুমি?

জিমি প্রচন্ড বিরক্ত হয় ছেলেটার ধমকে।জিমি আস্তে আস্তে বিরবির করে বলে “শালা বান্দর। ইংরেজের বংশধর “

“একে তো দোষ করেছ তারউপর আবার তর্ক ক …
কথা শেষ করার আগেই তার একটা কল আসে।

কথা বলা শেষ করে জিমির দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় কিড়মিড় করে বলে ,
“আরেকবার সামনে পেয়ে নিই তোমার ব্যবস্থা করবো।”
এই বলে গটগট পায়ে চলে যায়।

জিমি হাপ ছেড়ে বাঁচে। এরকম বজ্জাত লোক জীবনেও দেখে নাই।
তখনই দেখতে পায় ইশমি দৌড়ে তার দিকে আসছে। হঠাৎ তার নিজের দিকে খেয়াল হয় সে এখনো মাটিতে বসে আছে।আর বেশ কয়েকজন মানুষ তাকিয়ে রয়েছে। ক্লাস টাইম হওয়ায় বেশি মানুষজন নাই। কিন্তু যারা আছে তারা কেমন খেয়ে ফেলা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।যেন জিমি তাদের কোন প্রিয় জিনিসে হাত দিয়েছে।

ইশমি দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করে ,
— এখানে বসে কি করিস তুই, সারা ভার্সিটি খুঁজে ফেলেছি আমি তোকে? একলা একলা কোথায় যাস তুই! আমারে চিন্তায় ফেলতে ভালো লাগে তোর বেয়াদব ছেমড়ি! বেডি আমি কি তোর জামাই লাগি যে তুই গভীর সমুদ্রে হারিয়ে গেলেও আমি মনের টানে বুঝে যাবো তুই কোথায়?

চলবে……

❌🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫

ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x