পর্বঃ১৩
লেখনীতেঃআফসানা শোভা
[কার্টেসি ব্যতিত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।⛔]
হালকা গোলাপি আভা যুক্ত ছোট্ট আদুরে আনন। যেই মায়াবী মুখটা দেখলে যে কারোরই ঝাপটে ধরে কয়েকটা চুমু খেয়ে আদর করতে ইচ্ছে করবে৷ সেই অভিলাষ হতে বাদ যায়নি সয়ং ওয়াফার জন্মদাত্রীও। হতচকিত হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা গুলুমুলু ওয়াফার আদুরে মুখটা আজলায় নিয়ে শ’খানেক চুমু খাচ্ছে তার আজন্ম অচেনা জননী৷
লন্ডনে ঘাঁটি গাড়ার আজ তিনবছর পর স্বীয় গর্ভে জাত সন্তানটিকে চাক্ষুষ দেখছে তার নির্দয় জননী। যে জননী তার দুধের তৃষ্ণায় কাতর সন্তানটিকে ছেড়ে যেতে বিন্দুমাত্র বুক কাঁপেনি! সেই জননীর হঠাৎ মেয়ের প্রতি এই উথলে পড়া টান দেখে বোধহয় কক্ষের জড়বস্তু গুলোও হাসছে।
আবৃতি বিভ্রান্ত নয়নে সম্মুখ পানের অচেনা নারীটির পাগলামী দেখছে। কে এই মহিলা?
— কেমন আছ বেইবি? ইশ আমার বেবিটা কত্ত বড় হয়ে গিয়েছে৷ ছবির থেকেও সামনাসামনি ইউ আর সো এডোরেবল মাই বেইবি!
ওয়াফা চোখ পিটপিট করে তার সম্মুখে হাটু গেড়ে বসে থাকা অতি আধুনিকা নারীটিকে দেখে যাচ্ছে। হয়তো চেনার চেষ্টা করছে নারীটি কে?
মাহিরা চোখ উপচে আসা পানিটুকু মুছে নেয়। নিজেকে ধাতস্থ করে জিজ্ঞেস করে,
— তুমি আমাকে চিনতে পেরেছ বেইবি?
ওয়াফা দুপাশে মাথা নাড়ায়। তাতে নারীটিকে খানিক আশাহত হতে দেখা যায়৷
— ইয়ে মানে আপনি কি ওয়াফার কোন রিলেটিভ আপু?
পেছনে আবৃতির প্রশ্নে মাহিরা ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। আপাদমস্তক আবৃতিকে দেখে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
— আপনি কে?
আবৃতি প্রশ্নের পিঠে পাল্টা প্রশ্নে থতমত খেয়ে যায়।
— কি হলো? বললেন না তো আপনি কে? ওয়াফার কি হোন আপনি?
আবৃতি আমতা আমতা করে বলে,
— আমি আসলে ওয়াফার ফ্রেন্ডের মাম্মাম।
— ওহ। আমি ওয়াফার মাদার।
আবৃতি চকিতে তাকায়। আগাগোড়া কালো মাস্কে আবৃত নারীকে অবাক চোখে পরখ করে জিজ্ঞেস করে,
— আপনি ওয়াফার মাম্মাম?
মাহিরা চমৎকার হেসে বলে,
— ইয়েস আ’ম দ্য মাদার অফ দিস কিউট চাইল্ড!
আবৃতি হতবুদ্ধিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ও কিছুতেই দুইয়ে দুইয়ে মিলাতে পারছেনা। একটু আগে ওয়াফার কথায় ও তো মনে হয়েছিল ওয়াফার মা মৃত। তাহলে ইনি? আর ওয়াফার অবচেতন মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে ভদ্রমহিলাকে বাচ্চাটা এই প্রথমই দেখছে।
–আন্টি আপনি আমার মাম্মাম? ওমা তাহলে পাপা যে বলে আমার মাম্মার মরে গিয়েছে?
ওয়াফার কথায় মাহিরার মুখের রঙ উড়ে যায়। থতমত খেয়ে একবার ওয়াফা তো আরেকবার চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে থাকা আবৃতিকে দেখে। জোরপূর্বক হেসে বলে,
— ওয়াফা কি বলছো এসব? তুমি আমাকে চেনোনা?
ওয়াফা দুপাশে মাথা নাড়ায়। তারপর ভীষণ উৎসুক কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
— আন্টি আপনি কি সত্যি সত্যি আমার মাম্মাম? তাহলে সবাই কেন বলে আমার মাম্মার আকাশের তারা হয়ে গিয়েছে।
আবৃতি হতবুদ্ধি বনে যায়৷ কি বলছে এসব ওয়াফা? এই মহিলাটা যদি ওয়াফার মা হয় তাহলে ওয়াফা ওনাকে চিনছে না কেন? আচ্ছা এই মহিলাটা আবার ছেলে ধরা নাতো? ওয়াফাকে কি অপহরণ করতে এসেছে এই মহিলা? এ বাবা হতে পারে। আহান বলেছিল ওয়াফার বাবা কোটি পতি। হয়তো টাকার লোভে ওয়াফার মা সেজে এসেছে। এ পর্যায়ে এসে আবৃতি খানিক শক্ত কন্ঠে বলে,
— দেখুন আপু আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। আপনি যদি ওয়াফার মাই হোন তাহলে ও আপনাকে চিনতে পারছেনা কেন? আর আপনি মাস্ক পরে আছেন কেন। ওটা সরান প্লিজ।
মাহিরা মনে মনে ভাবে হয়তো মাস্ক পড়ার কারণে ওয়াফা ওকে চিনতে পারছেনা। ও সাবধানি নজরে চারদিক পরখ করে। নাহ এদিকে এখন তেমন কেউ নেই। ও হুট করে মাস্কটা খুলে ফেলে। আশাবাদী হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— এবার চিনতে পেরেছ?
হালকা মেকআক আর লিপগ্লসে আবৃত সুদর্শনা মাহিরাকে ওয়াফা চোখ বড় বড় করে দেখে৷ হঠাৎ উৎফুল্ল গলায় লাফিয়ে বলে উঠে,
— ইয়েস চিনতে পেরেছি৷
মাহিরা হাফ ছেড়ে বাঁচে। যাক মেয়েটা তাকে চিনতে পেরেছে। কেন যে এতক্ষণ মাস্ক পড়ে ছিল! কিন্তু ওয়াফার পরবর্তী কথায় মাহিরার সে আশায় যেন এক বালতি জল পড়লো।
— আপনাকে আমি টিভিতে দেখেছিলাম আন্টি।
মাহিরার চেহারারা ফাটা বেলুনের মতে চুপসে যায়।
যাকে এতক্ষণ ছেলেধরা মনে করেছিল তার চেহারাটা দেখে আবৃতি তব্দা খেয়ে যায়।
মডেল মাহিরা! ইনি এখানে কি করছেন? আর ইনি নিজেকে ওয়াফার মাই বা কেন বলছেন? আবৃতি যতদূর জানে মডেল মাহিরা এখনো সিঙ্গেল৷ তাহলে নিজেকে অত বড় মেয়ের মা কেন বলছেন? আবৃতির ভেতরে সব তালগোল পাকিয়ে যায়৷ হতভম্ব কন্ঠে আওড়ায়,
— আপনি মডেল মাহিরা না? আপনি এখানে কি করছেন? আর আপনি ওয়াফার মা মানে? প্লিজ একটু ক্লিয়ারলি বলবেন?
মাহিরার মাথাটা ধপধপ করছে। তার উপর আবৃতির করা এত জেরা যেন আগুনে ঘি ঢালার কাজ করছে। মাস্কটা খোলা যে উচিত হয়নি তা মাহিরা এখন হারে হারে টের পাচ্ছে। আবৃতির এত জোরে জোরে কথা শুনে যদি কেউ এদিকে চলে আসে তাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। কত বড় ভুল করেছে সে। ডাইরেক্ট ওয়াফার স্কুলে চলে আসা উচিত হয়নি। এখন যদি এই মহিলা সবাইকে ডেকে নিয়ে আসে?
মাহিরা শঙ্কিত হয়ে তড়িঘড়ি করে পুনরায় মাস্কটা পড়ে নিয়ে খানিকটা অনুনয়ের সুরে বললো,
— আমি যে এখানে এসেছি প্লিজ কাউকে বলবেন না। বিশেষ করে ঐক্য আই মিন ওয়াফার পাপা যাতে কিছুতেই জানতে না পারে। প্লিজ আই বেগ ইউ!
এই বলে আবৃতিকে দ্বিধার সাগরে ফেলে মাহিরা দ্রুতপায়ে বের হয়ে যায়। গেইটের কাছে নিজের কারে ঢুকতে ঢুকতে ড্রাইভারকে আদেশ ছোড়ে মাহিরা,
— রাজের ফ্ল্যাটে ইউ টার্ন নাও।
স্কুল গেইট দিয়ে শা শা করে মাহিরার কালো গাড়িটা চলে য়ায়। বিপরীত পাশ ধরে রয়েল ব্লু রঙের আরেকটি কার স্কুলের মেইন ফটকের সামনে তার গতি লব্ধ করে।
গাড়ি থেকে ক্লান্ত পায়ে নেমে স্কুলের ভেতর ঢোকে ঐক্য। আরেকটু সময় পূর্বে আসলে হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রহেলিকার দেখা পেত।
★
— স্যার আপনার মন খারাপ?
লেকচার ক্লাস শেষে আহান বেখেয়ালি হয়ে বসে ছিল নিজের ডেস্কের চেয়্যারে। হঠাৎ ঐশীর প্রশ্নে আহান নড়েচড়ে বসে। সামনে তাকিয়ে দেখে সব ছাত্রীরা চলে গেলেও ঐশী ডেস্ক সংলগ্ন সামনের বেঞ্চিতে এখনো বসে আছে। উদ্বিগ্ন প্রেমময় চোখে তার মুখপানে চেয়ে আছে উত্তরের আশায়। মেয়েটার পরনে আকাশী রঙের একটা চুড়িদার। হাতে একঝাঁক সাদা কাচের চুড়ি। চুলগুলো আজ ছেড়ে রাখা। আগাগোড়া ঐশীকে পরখ করে আহান একটা শুকনো ঢোক গিললো। উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণা মেয়েটি যেনওই আকাশেরই আরেক রুপ নিয়েছে আজ!
আহানকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ঐশী লজ্জিত হয়ে চোখ নামিয়ে নিল। আহান চোখ ফিরিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
— কই নাতো। তোমার এমন কেন মনে হচ্ছে?
ঐশীর মন খারাপ হয়ে যায়৷ ওইদিন একসাথে ঘুরে আসার পরদিন থেকেই মনে হচ্ছে আহান যেন ঐশীকে এড়িয়ে চলছে। গতিবিধি সবসময় কেমন নির্লিপ্ত। আগের মতো আর ঐশীর সাথে কথা বলছেনা। ঐশী যেচে পড়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে কেবল সেটারই ছাড়া ছাড়া উত্তর করছে। ঐশী ভেবে পাচ্ছেনা আহানের এরুপ ব্যবহারের কারণ৷ ঐশী জানে আহানও তাকে মনে মনে পছন্দ করে। একটা মেয়ে হয়ে একজন ছেলের চোখের ভাষা ও পড়তে পারে। তাহলে?
— ইয়ে মানে দুইদিন ধরে একটু চুপচাপ মনে হচ্ছে। তাই…
— দেখ ঐশী। তোমাকে আজ একটা কথা ক্লিয়ারলি বলি। তুমি আমার স্টুডেন্ট আর আমি তোমার টিচার। এর বাইরে মনের মধ্যে আর কোন আকাঙ্খা পোষণ করবে না দয়া করে।
ঐশীর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে আহান রাশভারী গলায় বলে। ঐশী আহত চোখে আহানের কঠোর মুখটায় চেয়ে থাকে৷ এই মানুষটা এমন কেন? এর কাছে কি ঐশীর ফিলিংস এর কোন দামই নেই? ঐশীর চোখজোড়া ছলছল করে উঠে। ধরা গলায় ফিসফিসিয়ে বলে,
— ভালোবাসা কি অন্যায় আহান স্যার?
আহানের বুকটা ধ্বক করে উঠে। ঐশী যে ওকে ভালোবাসে সেটা কখনো সে নিজের মুখে স্বীকার করেনি। কখনো কনফেশন করেনি নিজের ভালোবাসার! কিন্তু আজ এমন এক মুহুর্তে মেয়েটা নিজের ভালোবাসা জাহির করছে যেখানে আহানের হাতে আর কিচ্ছুটি নেই।
–কি হলো বলুন?
আহান তাকিয়ে থেকে ঐশীর ডাগর ডাগর আঁখি যুগল থৈ থৈ করছে নোনাজলে। হয়তো ক্ষণকাল ব্যয়ে ঝরে পড়বে অশ্রু গুলো। আহানের বুকটা ভার হয়ে যায়। নিজেকে বহু কষ্টে সামলে বলে,
— হ্যাঁ অন্যায়। ভুল মানুষকে ভালোবাসা অন্যায় ঐশী৷
— আপনি ভুল মানুষ নন আহান। আপনার প্রেমে আমি হুট করে পড়িনি। একটু একটু করে এক একেকটা মুহুর্ত, দিন, মাস, বছর পেরিয়ে এই অনুভূতি গুলো ভালোবাসায় রুপ নিয়েছে। তাহলে সেই ভালোবাসা ভুল কিভাবে হয় বলুন?
আহান স্তব্ধ হয়ে যায় কথাগুলো শুনে। কেমন অবোধের মতো ফ্যালফ্যাল করে ঐশীর মায়াবী অশ্রুসিক্ত পেলব মুখটায় চেয়ে রয়।
ঐশী চোখের পানি মুছে ব্যগটা হাতে নিয়ে উঠে দাড়ায়। তারপর আহানের উদ্দেশ্যে শক্ত কন্ঠে বলে উঠে,
— আমি জানিনা হঠাৎ আপনার কি হয়েছে? কিন্তু আমি এটা অন্তত নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি আমার প্রতিও আপনার অনুভূতি আছে। মনে রাখবেন এই ঐশী আপনাকে সহজে ছাড়ছেনা৷ আপনি শুধু এবং শুধুমাত্র আমার!
বলেই আহানকে বিস্ময়ের সাগরে ডুবিয়ে ঐশী গটগট পায়ে ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে যায়।
*
ক্লাসরুমে ওয়াফাকে না পেয়ে ঐক্য প্লে গ্রাউন্ড এরিয়ার দিকে যায়৷ গিয়ে অবাক চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে। একটা চেয়ারে আবৃতি কপালে একটা হাত চেপে বসে আছে। সামনেই ওয়াফা ঠোঁট ফুলিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে চলেছে৷ সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে আরশান দুটো চকোলেট হাতে তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছে৷ ঐক্য ব্যস্ত পায়ে ঢুকে মেয়েকে কোলে তুলে নেয়৷ উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞেস করে,
— কি হয়েছে আম্মাজান? তুমি কাঁদছো কেন?
পাপাকে দেখতে মেয়ে আহ্লাদী মেয়ের আহ্লাদ যেন তরতরিয়ে কয়েক ধাপ বেড়ে গেল। তাইতো এতক্ষণ ধরে চলা ননস্টপ কান্নার বেগ দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেল। ঐক্য চৌধুরী আবৃতিকে প্রশ্ন করে,
— কি হয়েছে ওর৷ কাঁদছে কেন আমার মেয়ে?
আবৃতি অসহায় চোখে চেয়ে আছে। কি বলবে সে? এটাই যে আপনার আলালের দুলালিকে আমি একটা ধমক দিয়ে ফেলেছি। বাপরে বাপের লাডলিকে ধমক টা দিয়ে গাঁট হয়েছে আবৃতির।সেই যে কান্না স্ট্যার্ট করলো বিগত একঘন্টা যাবত সেই কান্না ননস্টপ রেডিওর মতো বেজে চলেছে।
–সু…টি….আন্টি.. সুইটি আন্টি আমাকে বকে দিয়েছে পাপা!
ওয়াফা ফোঁপাতে ফোপাঁতে বললো। ঐক্য অবাক হয়ে আবৃতির দিকে তাকিয়ে বললো,
— আপনি ওকে বকা দিয়েছেন মানে? কি করেছে আমার মেয়ে?
— আপনার মেয়ে প্রশ্ন করতে করতে আমার কানের পোকা নাড়িয়ে দিচ্ছিল৷ আরে বাবা মাহিরা কি ওয়াফার মাম্মার সেটা আবৃতি কিভাবে জানবে? কিন্তু আপনার মেয়েকে সেটা কে বোঝাবে? সেতো আমাকে একপ্রকার পাগলই বানিয়ে দিচ্ছিল।। তাই সামান্য একটা ধমক দিলাম। তাতেই মহারাণী কেঁদে কুটে ধরিয়া ভাসাচ্ছেন।
আবৃতি বিড়বিড় করে বললো। কিন্তু মুখে আমতা আমতা করে বললো,
— আসলে দুষ্টুমি করছিল তাই সামান্য একটু বকে দিয়েছিলাম কিন্তু ওয়াফা যে এত কাঁদবে আমি আসলে বুঝতে পারিনি৷ আ’ম রিয়েলি স্যরি ওয়াফার পাপা!
ওয়াফার পাপা! কথাটা কেমন যেন লাগলো ঐক্যর নিকট। যেন সোজা তীরের মতো বুকের কোথাও গেঁথে গিয়েছে। আবৃতি ইতস্তত পায়ে ঐক্যর সামনে গিয়ে দাড়ালো। ওয়াফা এখনো কাঁদছে। আবৃতির খুব খারাপ লাগলো বাচ্চাটার কান্নায়। তখন মাহিরা চলে যাওয়ার পর আবৃতি যখন চিন্তায় ডুবে ছিল তখন ওয়াফা মাহিরাকে নিয়ে নানা রকম হাবিজাবি প্রশ্ন করতে থাকে। তাই বিরক্ত হয়ে অবচেতনে আবৃতি একটা ধমক দিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু সামান্য এই ধমকে যে মেয়েটা এত কষ্ট পাবে আবৃতি কি জানতো? আরশানকে ধমক দিতে দিতে এখন অন্যের মেয়েকেও ধমক দিয়ে বসছে। উফ!
আবৃতির থেকে ঐক্য লম্বাচওড়ায় বিশাল হওয়ায় ওর একটু নাগাল পেতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই দুই আঙুলে ভর দিয়ে দাড়িয়ে ওয়াফার গালে একটা চুমু খায়। বহু বছর পর এত নৈকট্যে একজন নারীর উপস্থিতি ঐক্যর ভেতরে কিছু একটা অনুভব করায়। ও ঢোক গিলে অন্যপাশে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। আবৃতি নিজের দুকান ধরে অনুনয় করে বললে,
— ওয়াফা। মামনি প্লিজ তোমার সুইটি আন্টিকে মাফ করে দাও। আন্টির একদম ভুল হয়ে গিয়েছে আর কখনো আন ওয়াফা সোনাকে বকবেনা।
— ওয়াফা মাফ করবে এক শর্তে।
পেছন থেকে অতর্কিতে কেউ বলে উঠে কথাটা।
চলমান……..