গল্প: দ্বিতীয় সূচনা (১৪)

পর্বঃ১৪

লেখনীতেঃআফসানা শোভা

[কার্টেসি ব্যতিত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।⛔]

ঠাস করে একটি কাঁচের বস্তু মারবেল মেঝেতে ঝনঝন করে শব্দ তুললো। দামী শোপিসটি ভেঙ্গে কয়েক খন্ডে বিভক্ত হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এই কান্ডের হোতা মাহিরা সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে৷

— আহ সুইটহার্ট একটু শান্ত হও তো।

সোফায় বসতে বসতে রাজ বললো। যে কিনা সাম্প্রতিক একজন জনপ্রিয় তারকা৷ বিগত দুইবছর ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে মাহিরার সাথে লিভ ইন রিলেশনশিপে আছে। তবুও মিডিয়া পাড়ায় ওদের মাখোমাখো সম্পর্ক নিয়ে প্রায়সই বিভিন্ন গসিপ শোনা যায়।

মাহিরা ক্ষ্যাপাটে গলায় বললো,

— কি করে শান্ত হব রাজ? মাই ডটার ডিডেন্ট রিকজনাইজ মি।

রাজ এগিয়ে এসে মাহিরাকে জড়িয়ে ধরে। ওর গালে চুমু খেয়ে বলে,

— কি এসে যায় তাতে? এতে তো আর সত্যিই টা বদলে যাবেনা।

মাহিরা দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,

— ঐক্য আমার থেকে প্রতিশোধ নিতে এমন করেছে আমি জানি রাজ। তুমি ভাবতে পারছো ঐক্য কোনদিন আমার মেয়েকে জানতেই দেয়নি যে আমি ওর মা।

— আচ্ছা বাদ দাওনা এসব। ওয়াফা তোমাকে চিনলেই বা কি হতো? তুমি তো দুইমাস পর আবার লন্ডন ব্যাক করছোই।

— নাহ!

— মানে? কি বলতে চাইছো তুমি?

মাহিরা এগিয়ে গিয়ে বিলাস বহুল ফ্ল্যাটের কাঁচের জানালার পাশে দাড়ায়। কেমন গা হিম করা কন্ঠে উদ্বগীরণ করে,

— আমি লন্ডন ব্যাক করছিনা।

রাজ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

— মাহিরা কি বলছো তুমি? লন্ডন ব্যাক করছোনা মানে?

— রাজ আমার ওয়াফাকে চাই!

★★★

ম্যাফল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

সবাই একযোগে পেছনে ফিরে দেখে এপ্রোন আর ব্যাগ হাতে হাসিমুখে দাড়িয়ে আছে ঐশী৷ যদিও হাসির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বিষাদ কারো দৃষ্টিগোচর হলোনা।

— তুই এখানে?

ঐক্য ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো।

— লেকচার ক্লাস শেষ করে এসেছি ভাইয়া। আজ আর ইভিনিং ওয়ার্ড এটেন্ড করবোনা৷

— কিন্তু কেন? শরীর ঠিক আছে তোর?

— আমি একদম ঠিক আছি। ভাবলাম ওয়াফাকে নিয়ে একটু হ্যাংআউটে যাব। এখন দেখি তুমিও আছো।

ভাইয়া চলোনা ওয়াফাকে নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আসি৷

ঘোরাঘুরি করার কথা শুনে ওয়াফা তড়িৎ কান্না থামিয়ে পাপার মুখ পানে চাইল। ঐক্য মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে হাসলো। ওয়াফার অশ্রুতে সিক্ত মুখটা টিস্যু দিয়ে মুছে দিয়ে বললো,

— কি আম্মাজান? যাবেন ঘুরতে পাপার সাথে?

ওয়াফার পেলব শিশু কোমল চেহারা নিমিষে চকচক করে উঠলো৷ উত্তেজনায় বিগত সময়ের সবকিছু তার বাচ্চা হৃদয় থেকে মুহুর্তেই মুছে গেল। সহসা উপরনিচ মাথা দুলিয়ে অস্থির চিত্তে বললো,

— যাব পাপা যাব ঘুরতে।

ঐশী আর ঐক্য সমন্বয়ে হেসে উঠলো। ঐক্য মেয়ের নরম গালে ঠোঁট দাবিয়ে হাসলো। ফিসফিসিয়ে বললো,

–ঘোরাঘুরির কথা শুনলে আর কিছু লাগেনা আপনার তাইনা আম্মাজান? হু?

আবৃতি চিন্তিত মুখে এদিকে হাসিখুশি বাবা-মেয়েকে দেখে যাচ্ছে। ওর বোধগম্য হচ্ছেনা একটু আগে বাতাসের বেগে উড়ে আসা ওয়াফার মায়ের কথা জানাবে কিনা? ওর যতটুকু মনে হচ্ছে ওয়াফার বাবামায়ের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঐক্যর মতো একজন ধনী ব্যবসায়ী টপনোচ সুদর্শন পুরুষকে আদতে কি কারণে ছাড়লো মাহিরা? সন্তানের মায়াও কি আসেনি একটুখানি মনে? আবৃতির মনটা খচখচ করছে। কি করবে এই মুহুর্তে মাথায় আসছেনা৷ নাকি সব কিছু না জানার ভান করে থাকবে? আর বিষয়টা নিয়ে বেশি ঘাটা তো উচিতও হবেনা। কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলানোর মতো রুচি অন্তত আবৃতির নেই।

— পাপা সুইটি আন্টি আর পঁচা ছেলে যাবেনা আমাদের সাথে?

ওয়াফার কথাটা শুনে আরশান চোখ গরম করে তাকায়। ওয়াফা মুখরা ভেংচিয়ে পাপার গলা জড়িয়ে ওপাশ ফিরে যায়।

আবৃতি হতচকিত হয়ে তাকায়। এইরে মেয়েটা এসব কি বলছে? ও কোন ক্ষেতের মুলা যে ঐক্য চৌধুরী সাথে নিয়ে যাবে ঘুরতে? বাচ্চাটাও না কিসব অদ্ভুত রকম বায়না ধরে৷

— হ্যাঁ ওয়াফা যাবেনা কেন।

ঐশী প্রফুল্লচিত্তে বললো।

আবৃতি অবাক স্বরে বললো,

— না না ঐশী আমি কেন যাব? এটা তোমাদের ফ্যামিলি টাইম। সেখানে আমাদের কি কাজ। তাছাড়া আজ তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরা লাগবে। তুমি তো জানো আহান আজ আমাদের নিতে পারবেনা। আজ ওর নাইট ডিউটি সিডিউল। তাই তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে আমাদের।

— আরে আপু চিল৷ ভাইয়া তোমাদের সেইফলি বাসায় পৌঁছে দেবে।

আরশান এগিয়ে এসে আবৃতি ওরনার কাছা টেনে ধরে। আবৃতি ফিরতেই ছেলেটি সরল আবদার করলো।

— মাম্মাম চলোনা একটু। আমরাও ঘুরব একটু।

— কিন্তু বাবা আমাদের জলদি বাসায় ফিরতে……

— কোন কিন্তু নয় আপু। চলোতো তোমার সঙ্গ ওয়াফা এবং আমার দু’জনেরই অনেক অনেক পছন্দ।

গম্ভীর মুখ করে তাকিয়ে থাকা ঐক্যর দিকে তাকিয়ে আবৃতি মেকি হাসলো৷ এরা এত চেপে ধরেছে যে না বলার উপায় নেই। এদিকে ওয়াফার পাপার মুখ দেখে মনে হচ্ছে তিনি বিরক্ত হচ্ছেন। শুধুমাত্র ভদ্রতার খাতিরে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন৷ ওয়াফা দু’হাতে পাপার শার্টের টাই ধরে ঝাকায়।

— পাপা ও পাপা। সুইটি আন্টিকে বলোনা আমাদের সাথে আসতে। তুমি জানো সুইটি আন্টির সাথে ঘুরুঘুরু করতে অন্নেক মজা?

মেয়ের আধো আধো গলা শুনে এতক্ষণ ধরে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালনা করা ঐক্য এবার সরাসরি আবৃতির কাঁচুমাচু মুখপানে চাইলো। ঐক্যর দৃষ্টি দেখে আবৃতি বোকা বোকা হাসলো। এই দুষ্টুটা নিজের পাপার সামনে আবৃতির প্রেস্টিজ পাঞ্চার করেই দম নেয় প্রতিবার। ঐক্য ভরাট কন্ঠে আবৃতিকে অফার করলো,

— বাচ্চারা যেহেতু এত করে বলছে৷ প্লিজ জয়েন আস মিসেস আবৃতি…?

ঐক্য প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চাইলো।

— মিস আবৃতি। আবৃতি খন্দকার আমার নাম।

ঐক্যর ভ্রু টানটান হয়ে গেল। প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো আবৃতির পানে। আবৃতি স্বাভাবিক ভাবেই বললো,

— আমি একজন সিঙ্গেল মাদার।

ঐশী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললো,

— আহ তোমরা কি এখানেই দাড়িয়ে থাকবে? এদিকে বলছো দেরী হচ্ছে।

আবৃতি এবারেও ভোদাই মার্কা হাসি দিল। চিপায় পড়ে জোরপূর্বক হেসে বলে,

— আচ্ছা ঠিক আছে।

আবৃতির কথায় কোলে থাকা ওয়াফা ইয়াহু বলে চিল্লিয়ে উঠে। ঐশী হেসে বলে,

— চলো তবে। যাওয়া যাক।

.

ড্রিম হলিডে পার্ক। এটি মূলত বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী করা একটি দৃষ্টিনন্দন সাফারি পার্ক৷ চারদিকে বাচ্চাদের হৈ চৈ আর উল্লাসে মেতে আছে পার্কটা৷ আরশান আর ওয়াফা একটা প্লে স্ট্রোলারের দুপ্রান্তে দুজন ঝুলে আছে। আপাতত কিছু সময়ের তারা নিজেদের পুরনো ঝগড়া ভুলে এক টিমে আছে। তাইতো খিলখিল করে হেসে নিজেরা নিজেদেরকে দোল দিচ্ছে। ফুড কাউন্টারের ওইদিকে বসে থাকা দুজন বাবা-মা মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিজেদের সন্তানকে দেখছে গোলাকার টেবিলের দু’প্রান্তের দুটি চেয়ারে বসে।

স্ট্রোলার থেকে দৌড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে দুটিতে এবার স্লাইডারে উঠে স্লাইড দিতে লাগলো। যেন তাদের আজ কোন ক্লান্তি নেই!

— ওমা তোমরা এখনো কিছু অর্ডার করোনি?

ঐশী ফোনটা ব্যাগে ঢুকাতে ঢুকাতে বললো। ওর কথায় ঐক্য নড়েচড়ে বসে। এক পলক কাচুমাচু করে বসে থাকা আবৃতিকে আঁড়চোখে দেখে নিয়ে বললো,

— আমি কি অর্ডার করব? আমিতো আর জানিনা উনি কি খেতে পছন্দ করেন।

— আচ্ছা তোমাদের করতে হবেনা। দেখি মেনুকার্ডটা দাও। আমি অর্ডার করে দিচ্ছি৷

খাবার আসতে কিছুক্ষণ সময় লাগবে তাই ঐক্য একটু উঠে বাচ্চাদের ওখানটায় চলে গেল। ও বুঝতে পেরেছে আবৃতি ওর উপস্থিতিতে কম্পোর্ট পাচ্ছেনা৷ টেবিলে কেবল তখন আবৃতি আর ঐশী বসে আছে। সকালে মাহিরা আসার ব্যপারটা হুট করে আবৃতির মনে পড়লো। ও তটস্থ হয়ে ভাবলো ঐক্যকে জানালে হয়তো সমস্যা হবে। ঐশীকে কি একটু জিজ্ঞেস করবে? কিন্তু কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা কি ঠিক হবে?

আবৃতিকে চিন্তায় বিভোর থাকতে দেখে ঐশী ওর হাতের উপর একটা হাত রাখে।

— কোন সমস্যা আপু? তোমাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে।

আবৃতি আমতাআমতা করে বললো,

— তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো ঐশী? যদি কিছু মনে না করো?

— না না আপু। তোমার কোন প্রশ্ন থাকলে তুমি নিশ্চিন্ত মনে করতে পার।

— ইয়ে মানে ওয়াফার বাবা-মার কি সেপারেশন হয়ে গিয়েছে৷

ঐশীর উজ্জ্বল মুখ জোড়া নিমিষে আঁধারে ঢেকে যায় প্রশ্নটি শুনে। আবৃতি ভালোভাবে খেয়াল করে তা।

ঐশী ক্ষীণ কন্ঠে বলে,

— হ্যাঁ অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে।

আবৃতির সব তালগোল পাকিয়ে যায়। ও মনে করার চেষ্টা করে মাহিরার মিডিয়ায় কবে এসেছিল। উদ্ঘাটন করে মাহিরার মিডিয়া জগতে আসার কিছু বছর মাত্র।

তাহলে কেন কেউ তার সংসার, বাচ্চা সম্পর্কে কিছুই জানলোনা। এটা কি ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? আবৃতি ঐশীর দিকে তাকায় যে কিনা বিদূর নয়নে ওয়াফা আর ঐক্যর দিকে তাকিয়ে আছে৷ আবৃতি সেদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

— আচ্ছা তখন ওয়াফার বয়স কত ছিল?

— ও দুধের শিশু ছিল৷

ঐশী আনমনেই উত্তর করলো। অাবৃতি হতবিহ্বল হয়ে আওড়ায়,

— কি? ওয়াফা তাহলে কি তখন ওর মায়ের কাছে ছিল? যেহেতু ও ছোট ছিল?

ঐশী এবার পুরোপুরি আবৃতির দিকে তাকায়। আবৃতি উত্তরের আশায় চেয়ে আছে তার দিকে। ঐশী মলিন হেসে বললো,

— নাহ৷ ওর মা নিজের সংসার, দুধের শিশু আর আমার ভাইয়াকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল।

আবৃতি অবাক হয়ে বললো,

— কিন্তু কেন?

— নিজের ক্যারিয়ারের জন্য। তার কাছে তখন মনে হয়েছিল না চাইতেও আল্লাহর ইচ্ছেতে চলে আসা নাজুক প্রাণটি তার ক্যারিয়ারের পথে প্রধান অন্তরায়! তাই সে স্বামী-সন্তানের মাঝে নিজের স্বপ্ন আর ক্যারিয়ারকে বেছে নিয়েছিল।

আবৃতি ভাষা হারিয়ে তাকিয়ে রইল। ও বলতে গেলে মাহিরাকে মডেল হিসেবে অনেক পছন্দ করে। ওর

চলন -বলন, মডেলিং, ওর কনটেন্টগুলো আবৃতির ভালো লাগে৷ সোস্যাল মিডিয়ায় কখনো মাহিরার ব্যাক্তিগত কোন তথ্য উঠে আসেনি। সবাই জানতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করে মডেলিংয়ে আসা হয়েছে অতিমাত্রায় সুদর্শনা এই যুবতীর! কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার কোথাও তার ব্যক্তিগত

জীবনের কোন তথ্য জানা যায়নি৷ তাহলে কি এসব কি? মাহিরা নিজের কাল অতীত সবার কাছ থেকে স্বইচ্ছায় লুকিয়ে রেখেছে?

— আপু?

— হু?

আবৃতির ধ্যান ভাঙ্গে। ফিরে তাকায় এদিকে। ঐশী বিষণ্ণ স্বরে বললো,

— তুমি হয়তো ভাবছো আমার ভাইয়ার কোন দোষে হয়তো তাদের ডিভোর্স হয়েছে তাইনা?

— ওমা না না! একটা সম্পর্কে যে অলওয়েজ ছেলেদের দোষ থাকে তাতো না। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা যে একটা সম্পর্কের ভাঙ্গনের জন্য কেবল একজন পুরুষ দায়ী। আমার সাথে যেটা হয়েছে সেটা যে সব সম্পর্কে হবে এমন তো কোন কথা না৷

— প্লিজ এসব কোনদিন কাউকে জানাবেন না। বিশেষ করে ওয়াফাকে। ও জানে ওর মা মারা গিয়েছে৷

আবৃতি কি বলবে ভেবে পেলনা৷ ও কি ঐশীকে বলে দেবে আজ মাহিরার ওয়াফার স্কুলের আসার কথা? অনেকক্ষণ নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে আবৃতি হঠাৎ বলে উঠে,

— ঐশী আজ ওয়াফার মা স্কুলে এসেছিল।

ঐশী স্তব্ধ,বিস্মিত চোখে তাকায়৷ হতবাক বনে গিয়ে আনমনে বিড়বিড় করে,

— কি? মা….হিরা ? কিভাবে? না না এটা কিভাবে সম্ভব?

ঐশী নিশ্চিত হতে দুরুদুরু বুকে আবৃতিকে শুধায়,

–আপু তুমি শিউর ওয়াফার মা এসেছিল?

— হুম। তিনি তো নিজেকে ওয়াফার মা বলেই পরিচয় দিয়েছিলেন৷

ঐশী মনে মনে ভাবে,’মাহিরা যদি স্কুলে আসতোই এতক্ষণ তো তাহলে ব্রেকিং নিউজ হয়ে যেত। তাহলে কে এসেছে ওয়াফার মা সেজে? নাকি আবৃতি আপুর মনের ভুল?’ ঐশীর ভ্রু কুঁচকে যায়। সন্দিগ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করে,

— তুমি তার চেহারা দেখেছিলে?

— হ্যাঁ৷

ঐশীর পিলে চমকে উঠে। হতবাক স্বরে কিছু বলতে নিবে এমন মুহুর্তে আবৃতি শীতল কন্ঠে বলে উঠে।

— ওয়াফার মাদার মডেল মাহিরা। তাইনা ঐশী?

চলমান……..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x