লেখক:তাবাসসুম তাজ্বওয়ারী
পর্ব:০৪
(শেষের নোটটা একটু পড়বেন)
আহিল আর নওমির বিয়ের পরের জীবন নওমির কাছে সুখের ছিলো। ওদের দুইজনের বন্ডিং ছিলো খুব শক্ত। আহিল যেন নওমিকে প্রতি মুহূর্তে চোখে হারায়। এতো এতো ভালোবাসা দেখে নওমির চোখে পানি এসে যেতো। নওমির মা চলে যাওয়ার পর কেউ তাকে এভাবে ভালোবাসে বোধহয়! দীর্ঘ সাতটি বছর সৎ মায়ের অবহেলা আর বাবার উদাসীনতায় যে মেয়েটি এক ফোঁটা ভালোবাসার জন্য চাতক পাখির মতো তৃষ্ণার্ত ছিল তাকে আহিল যেন এক সমুদ্র ভালোবাসায় ডুবিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিয়ের দুমাস পর হঠাৎ করে আহিলের আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু হয়। যেই আহিল নওমিকে চোখে হারাতো সেই আহিল নওমিকে সহ্য করতে পারতো না। প্রতি মুহূর্তে অপমান অবহেলা করতে শুরু করে। কিন্তু কেন করে সেটা নওমি জানতো না! কিছু বললেই তার উপর আসত কথার ঝড়, অপমান আর লাঞ্ছনা। আহিল তাকে “চরিত্রহীন” ট্যাগ দিতেও ভুলেনি! ঠিক কি কারণে এই ট্যাগ পেয়েছিল সেটা নওমি আজও জানে না! আহিলকে প্রশ্ন করেও উত্তর পায়নি সে। বিয়ের দুমাস পর থেকে আহিলের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পায় নওমি। সে ভেবেছিল আহিল হয়তো ব্যস্ত সময় পার করছে কিংবা কোনো কারণে টেন্সড। সে এই ভেবে প্রথমে কিছু না বললেও আহিল ওকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে শুরু করলো। নওমি কিছু বললে বা ওর কোনো কাজ করে দিলেই চিল্লাফাল্লা করতো। নওমির মা বাবা নওমিকে ভীষণ দেখতে পারতো। আহিলের অবহেলা আর খারাপ ব্যবহার তাদের চোখে পড়েছিল কিন্তু কিছু বললেও সে শুনত না আর না কোনো জবাব দিতো।
একদিন রাতে যখন আহিল থমথমে মুখে ঘরে ফিরলো। নওমি ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গিয়ে তার কোটটা টেনে নিতে গেলেই আহিল এক ঝটকায় তার হাত সরিয়ে দিত। তীব্র ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কর্কশ গলায় বলত,
– তোমার ওই নোংরা হাত দিয়ে আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করবে না ! আমার ঘেন্না করে তোমার এই মায়াবী চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল রূপটা দেখতে!
নওমি অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করেছিল,
– আমার অপরাধটা কী আহিল? আমি কী করেছি? কেন আপনি আমার সাথে এমন করছেন?
– অপরাধ? অপরাধ তো আমার, যে তোমার মতো একটা চরিত্রহীন, ধোঁ’কাবাজ মেয়েকে নিজের ঘরের বউ করেছি! বাইরে দেখতে কত নিষ্পাপ, অথচ ভেতরে এত নোংরামি? ছি!!
নওমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ওর এমন কথা শুনে। কেউ যেন তার বুকে ছু’রি চালিয়ে দিচ্ছে। একটা মেয়ের জন্য এর চেয়ে বড় লাঞ্ছনা, এর চেয়ে বড় ম’রণ আর কী হতে পারে? অথচ ঠিক কী কারণে, কার দেওয়া কোন অপবাদের ভিত্তিতে সে এই কুৎসিত ট্যাগটা পেয়েছিল, নওমি আজও তা জানে না। সেদিন নওমি চিৎকার করে কেঁদেছিল আর বারবার বলছিল,
– আল্লাহর দোহাই লাগে আহিল, এভাবে মিথ্যে অপবাদ দিবেন না! আমি শুধু আপনাকে ভালোবেসেছি। আপনি ছাড়া কোনো পুরুষ আমার ত্রিসীমানায় আসেনি! আপনি আমায় ভুল বুঝছেন! কি করেছি আমি? কিসের ভিত্তিতে আপনি আমার এসব বলছেন?
সেদিনের পর আহিলকে হাজার প্রশ্ন করেও নওমি কোনোদিন উত্তর পায়নি। নওমি বারবার বলতো,
– আপনাকে তো জোর করা হয়নি আমাকে বিয়ে করার জন্য? না তো আমাকে! দুজনের পূর্ণ সম্মতিতেই বিয়েটা হয়েছে! আপনি আর আপনার পরিবারই আমায় পছন্দ করেছিলেন! আমি কিন্তু আপনার কাছে আসি নি! তাহলে এসব করার মানে কি?
আহিল কোনো উত্তর দিতো না কিন্তু কথার বি’ষ ছড়াতেও ভুলতো না! শেষ পর্যন্ত আহিল কোনো সুযোগই দেয়নি তাকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার। করবেই বা কি করে! আহিল কেন এমন করছে সেটাই তো জানতে দেয় নি! উল্টো আহিলের ব্যবহার দিনদিন আরো খারাপ হচ্ছিল। এর মধ্যে বিয়ের চার মাসের মাথায় নওমি জানতে পারল সে মা হতে চলেছে। খবরটা পাওয়ার পর নওমির বুকটা আনন্দের বদলে এক তীব্র আতঙ্কে কেঁপে উঠল। আহিল যেভাবে দিন দিন পৈশা’চিক আচরণ করছিল, যেভাবে তাকে প্রতি মুহূর্তে ঘৃণা উগরে দিচ্ছিল, নওমির মনে হলো আহিল হয়তো এখন তাকে আর সহ্যই করতে পারছে না। তার ওপর তাকে দেওয়া হয়েছে ‘চরিত্রহীন’ অপবাদ! এই অবস্থায় আযলান যদি জানতে পারে এই খবর তবে সে হয়তো এই সন্তানকে নিজের বলে স্বীকারই করবে না। উল্টো তীব্র আ’ক্রোশে সে হয়তো বাচ্চার কোনো বড় ক্ষ’তি করে বসবে! তবে নওমি প্রথমে ভেবেছিল, সব অপমান ভুলে সে আহিলকে এই খবরটা দেবে। সন্তানের কথা শুনলে হয়তো আহিলের পাথরের মতো মনটা একটু গলবে, হয়তো সে শান্ত হয়ে নওমিকে বুকে টেনে নেবে। সেই শেষ আশাটুকু বুকে নিয়ে একদিন রাতে আহিল ঘরে ফিরতেই নওমি সমস্ত ভয়-ডর উপেক্ষা করে তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে খুব মৃদুস্বরে বলেছিল,
– আহিল, একটু শুনবেন? একটা খুব জরুরি কথা বলার ছিল…
আহিল তীব্র বিরক্তি আর ঘৃণায় মুখ কুঁচকে তাকালো। এক ঝটকায় নওমিকে নিজের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে বরফশীতল কণ্ঠে বলল,
– তোমার মুখ থেকে কোনো কথা শোনার রুচি আমার নেই। তোমার ছায়াও আমার সহ্য হচ্ছে না আজ। আমার তো মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে এই ঘর থেকে তোমার অস্তিত্বটাই মুছে দিতে! এই সমাজ আর পরিবারের চাপের কথা ভেবে এখনো তোমাকে সহ্য করছি, নইলে কবেই গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতাম!
ব্যাস! নওমি বুঝে গেল আহিলকে এখন এসব বলে লাভ নেই। নিশ্চয় আহিল অন্য কিছুতে জড়িয়ে গেছে! ঠিক পরের রাতে যেদিন বাড়ির কেউ ছিলো না। নিজের সন্তানকে বাঁচানোর আশায় এবং নতুন একটা জীবনের আশায় ওই সংসারের মায়া ছেড়ে বেরিয়ে আসে সে। কিন্তু ওই যে, এই অভাগীর কোথাও জায়গা নেই! বাবার বাড়িতে গিয়ে দুদিনও টিকতে পারেনি সে।
সেখানেও তার ভাগ্যে জুটল চরম ধিক্কার। সৎ মা তো দূর, নিজের বাবাও সেদিন তাকে আশ্রয় দেয়নি। উল্টো ভাঙা গলায় বলেছিলেন,
– যে মেয়ে জামাইয়ের ঘর থেকে এভাবে মাঝরাতে পালিয়ে আসে, তার এই বাড়িতে কোনো জায়গা নেই। তুই আমার মুখ পুড়িয়েছিস নওমি!
বাবার বাড়ির দরজাটা যখন মুখের ওপর দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল, নওমি তখন অথৈ সাগরে। মন চেয়েছিলো তার নিজেকে শেষ করে দিতে। আহিলের কাছে যাওয়ার কোনো পথ ছিলো না আর থাকলেও সে যেতো না! নওমিরই এক কাজিন “আবরার”। ওর এই অবস্থার খবর শুনে ওদের বাড়ি আসে। আবরার ছিলো নওমির মায়ের দুর সম্পর্কের এক আত্মীয়। তবে মায়ের মৃ’ত্যুর পর সেই সম্পর্কের সুতোটাও প্রায় ছিঁ’ড়েই গিয়েছিল। আগে নওমির উপর অত্যাচার দেখে আবরারের ওর প্রতি মায়া হতো আর এখন ফিরে এসেছে শুনে সে এক প্রকার অবাকই হয়েছে। তার জানামতে আযলান ভালো ছেলে আর নওমিকেও খুব ভালোবাসে। নওমিকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে সে কোনো প্রশ্ন না করেই বলে,
– তোকে আমার বাড়িতে তো নিয়ে যেতে পারবো না। জানিসই তো একেক লোকের একেক কথা। তবে তোকে আমি একজনের কাছে সেফ রাখতে পারবো।
নওমি উত্তর দেওয়ার অবস্থায় ছিলো না। সে তখন সমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়ার অবস্থায়। আবরার তাকে নিয়ে গেল তুহির কাছে। তুহি তখন মাত্র পড়ালেখা শেষ করে এই শহরে একটা ছোট্ট ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একা থাকত আর একটা হসপিটালে ল্যাব টেকনোলজিস্ট হিসেবে স্ট্রাগল করছিল। আবরার ওকে আগেই বলে রেখেছিল তারপরই সেদিন ওকে নিয়ে গেল। পরেরদিন সকালে যখন নওমি কেঁদে কেঁদে সবটা তুহিকে জানায় তখন সে নওমিকে জড়িয়ে ধরে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিল,
– ওই কাপুরুষ মানুষের কাতারে পড়ে না। তুই একদম ঠিক করেছিস ওই ন’রক থেকে পালিয়ে এসে। তুই এই বাচ্চাকে জন্ম দিবি নওমি, আর আমি তোকে সবরকম সাহায্য করবো। বাবার পরিচয়ের দরকার নেই! দেখব কোন সমাজ তোকে আটকায়! তোর যতদিন ইচ্ছে ততদিন তুই আমার কাছে থাকবি!
সেই থেকে আজ তিনটে বছর কেটে গেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই দেওয়া থেকে শুরু করে ডেলিভারির খরচ, বাচ্চার যত্ন সবকিছুতে তুহি নিজের জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। নিজের আপন র ক্তের মানুষগুলো যেখানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেখানে এই দূর সম্পর্কের আপুটাই নওমির বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছিল। তুহিরও তার বাবা ছাড়া কেউ ছিলো না! আপন মানুষের আসল রূপ দেখে তারও নওমির মতো অবস্থা।
নওমি পড়ালেখায় খুব ভালো ছিলো। বিয়ের পরও আহিল ওকে ভার্সিটিতে ভর্তি করিয়েছিলো। কিন্তু এই কাহিনির পর ওর পড়ালেখা বন্ধ। কিভাবে কি করবে বুঝতে পারছিল না। তুহির চেনা এক কলেজে ওকে ভর্তি করায় এবং সব জানিয়ে তাকে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেয়। এর মধ্যে নওমি প্রথমে টুকটাক টিউশন করতো যেন কিছুটা নিজে চলতে পারে। কিন্তু আদনান হওয়ার আগে ছেড়ে দেয় সব। আদনান হওয়ার পর কয়েকমাসও সে দূরে ছিলো সবকিছু থেকে তখন তার জগৎ ছিলো শুধু তার ছেলে! একটা পর্যায়ে চিন্তা করলো এভাবে বসে থাকলে তো হবে না। তাই তুহি আর ও খোঁজ খবর নিয়ে একটা কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে টিচারের জব নেয়। তখন তার অনার্সও শেষ হয়নি ফলে ভালো কোথাও চাকরির সুযোগ পাচ্ছিলো না কিন্তু ওই যে চেনা! যেই কলেজে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পেয়েছিল সেই কলেজেরই এক শিক্ষক এর সুপারিশে কিন্ডারগার্ডেনে পড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। এতে ওর আর আদনানের ভালোই চলে যায়। এর মধ্যে তুহির বিয়ে হয়ে যায়। তুহি ওকে বলেছিল ওর সাথে থাকতে কারণ তুহি আর তুহির হাসব্যান্ড থাকে শহরে কিন্তু নওমি রাজি হয়নি। তুহি মাঝে মাঝেই এসে ওদের দেখে যায়। এভাবেই যাচ্ছে জীবন!
– আজ উঠি আমি।
তুহির কথায় ধ্যান ভাঙল নওমির। সে বললো,
– আরো কিছুক্ষণ থাকো? আদনান উঠুক তারপর যেও? ছেলেটা প্রায় তোমাকে খুঁজে।
– ছেলেকে নিয়ে আসতে পারিস না আমার বাসায়?
– বের হতে ইচ্ছে হয় না বাসা থেকে। স্কুল না থাকলে বেরই হতাম না।
তুহি কিছুটা সন্দেহের দৃষ্টি তাক করে বললো,
– একটা কথা বল তো?
– কি?
– আদনান দুদিন ধরে তার বাবার কথা বেশি বলছে না? হঠাৎ এমন করার কারণ কি?
নওমি থতমত খেয়ে গেল। সে চাই বলতে কিন্তু কেন যেন আযলানের কথা কাউকেই বলতে ইচ্ছে হয় না তার।
– ও তো সবসময়ই এমন করে। এ আর নতুন কি?
তুহি মনে মনে ভাবলো এই মেয়ে কোনোদিন আমার সামনে মুখ খুলবে না! বেকার খাটনি! সে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
– আসছি আমি। আদনানের আপডেট জানাস আমাকে।
আদনানকে একটু আদর করে বেরিয়ে গেল তুহি। নওমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বসে রইলো সেভাবেই।
.
সপ্তাহ খানিক পর,
ব্যস্ত রাস্তা ধরে ডক্টর আযলান আজওয়াদ আহিলের গাড়িটা ছুটে চলছিল হসপিটালের দিকে। ড্রাইভিং সিটে বসে আযলানের এক হাত ছিল স্টিয়ারিং এ, অন্য হাতটা কপালে। ইদানীং মনটা তার ভীষণ বিক্ষিপ্ত থাকে। হাসপাতালের কাছাকাছি আসতেই আহিলের চোখ গেল ফুটপাথ ধরে হেঁটে যাওয়া একটা যুগলের ওপর। কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। সে ভ্রু কুঁচকে বিড়বিড় করলো,
– এদের কোথায় যেন দেখেছি?
সে গাড়ির গতি কমিয়ে গ্লাস দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। ভালো করে তাকাতেই কপালের রগগুলো ফুলে উঠলো। হাত দুটো ক্রমশ মুঠো করে নিলো।
ফুটপাতের উপর হেসে হাত ধরে হাঁটছে তুহি এবং আবরার। ওদের ওভাবে হাসিমুখে চলতে দেখে আযলানের চোখের মণি দুটো রাগে আর তীব্র আক্রোশে সঙ্কুচিত হয়ে এল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, বুকের ভেতর চেপে রাখা একটা জ্ব’লন্ত আগ্নে’য়গিরি যেন এক লহমায় জেগে উঠল। অতীতের একটা কুৎসিত অধ্যায় তার চোখের সামনে ভেসে উঠতেই গাড়ির ভেতরের এসি চলা সত্ত্বেও আযলানের কপাল বেয়ে এক ফোঁটা ঘাম ঝরে পড়ল। এতক্ষণ খেয়াল না করলেও হুঁশ আসতেই তুহিকে দেখে রাগের পাশাপাশি এক বিস্ময় দানা বাঁধল।
– ওরা দুজন…
মুহূর্তেই যেন হিসাব গরমিল লাগছে তার! আরেকবার তাকিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে গাড়ি ফুল স্পিড দিয়ে শো করে ধুল উড়িয়ে করে চোখের আড়াল হয়ে গেল!
চলবে…….
[শব্দসংখ্যা- ১৬০০]
(আপনারা যারা বলছেন গল্পটা খুব স্লো যাচ্ছে তাদের জন্য একটু বলি, গত তিনপর্বে আমি কয়েকটা চরিত্র এনেছি যেটা আপনাদের কাছে কাহিনি লম্বা করা মনে হচ্ছে কিন্তু এই চরিত্রগুলোর সাথে আমি পরিচয় করিয়েছি কারণ এই চরিত্রগুলো এই গল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর তিনপর্বেই যদি সবটা খোলাশা করে দিই তাহলে তো গল্পে আর মজা থাকলো না!
দ্বিতীয় একটা ব্যাপার, আহিল কেন নওমিকে চিনলো না? এটা আমি গল্পে ক্লিয়ার করবো তবুও একটু বলে দিই, তিনবছর কম সময় নয় সেখানে আবার আহিল ওকে ঘৃণা করে তাই ওকে ভুলার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছে। আরেকটা কারণ আছে যেটা আমি গল্পে ক্লিয়ার করবো ইনশাআল্লাহ্।
ধন্যবাদ & হ্যাপি রিডিং🌸)