Golpo:sensation (02)

লেখনীতে:মাহজাবিন রাফা

পর্ব: ২

 

 

ইমরান বলল -স্যার আপনি কি ওদের সাথে যাবেন?

মাহতিম ঠান্ডা স্বরে বলল – হ্যাঁ, আমি যাব

অফিসার নিজের পকেট থেকে হ্যান্ডকাফ বের করে মাহতিমের হাতটা টেনে ধরে মাহতিম বলে ওঠে – কি করছেন?

-আমরা আমাদের কাজ করছি

– আমার নামে অভিযোগ কে করেছে?

– ভিকটিমের নাম বলা যাবে না

ইমরান বলে ওঠে – মিশকা নামের কেউ কি

পুলিশ অফিসার বলে ওঠে – আপনি কি করে জানলেন?

ইমরান তুমি প্রনয়কে কল করো আমি অফিসারের সাথে যাচ্ছি

মাহাতিম এর হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেয় আর হ্যান্ডকাফ ধরে মাহতিমকে একটা হেচকা টান দেয়। মাহতিম টাল সামলে অফিসার এর সাথে পা বাড়ায়।

ইমরান প্রণয় কে কল করে দুইবার রিং হওয়ার পর ফোন রিসিভ হয় প্রণয় চিৎকার করে বলে ওঠে – কে?

– প্রণয় ভাই আমি ইমরান মাহতিম স্যারের অ্যাসিস্ট্যান্ট

– হ্যাঁ বল

– স্যার পুলিশ মাহতিম স্যারকে এরেস্ট করেছে

– what!

– জি স্যার

– why?

– molestation এর অপবাদে

– মাহতিম তাও আবার molestation!

– স্যারকে এই অপবাদেই এরেস্ট করেছে

– আচ্ছা আমি জামিনের ব্যবস্থা করছি

– ভাই আমি কি থানায় যাবো?

– না লাগবে না তুমি হসপিটাল সামলাও

প্রনয় কলটা কেটে দেয় আর বলে – শালী আবার মাহতিমের পিছনে লাগছে। বারবার ভুলে যায় এই প্রনয় শিকদার বেঁচে থাকতে ও কোনোদিন মাহতিমের জীবনে এন্ট্রি নিতে পারব না। শালীরে মন চায় থাপড়ায়া গাল ফাটায়া ফেলি। বা*লের বেডী মানুষ।

অন্যদিকে মাহতিমের এরেস্ট হওয়ার নিউজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সব টিভি চ্যানেলে এই নিউজ প্রচার হচ্ছে। মাহতিম থানায় বসে থানার টিভিতে দেখতে থাকে anytime news
চ্যানেলে একজন নিউজ প্রেজেন্টার বলছে – “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় Neurologist Mahtim Karahan কে শাহবাগ থানা এরেস্ট করেছে। জানা গেছে শিক্ষামন্ত্রী কে এম নিজাম আনছারীর মেয়ে মিশকা আনছারীরকে molest করার দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নজর রাখুন anytime news Bangladesh “

মাহতিমের মাথা ঘুরছে। হচ্ছে কি এসব। মাহতিম হাতের তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কপাল ডলতে থাকে আর মনে মনে বলতে থাকে – মেয়েটাকে আজ পর্যন্ত ভালো করে দেখলামও না আর আমি নাকি তাকে molest করেছি! তখনি থানায় প্রবেশ করে একটি যুবক। বয়স বেশি নয় ৩৫ কি ৩৪ হবে। সুঠাম দেহী। মুখের গঠনও নজর কারার মত। যে কোনো মেয়ে দেখলেই প্রেমে পড়ে যাবে। তবে এই মুহূর্তে যুবকটা বেশ রেগে আছে। চোয়ালটা শক্ত করে রেখেছে।
যেন এখনই কাউকে মেরে ফেলবে। থানার ভিতরে ঢুকেই সজা এএসআই এর টেবিলের সামনে গিয়ে একটা খাম বের করে এএসআই এর টেবিলে রে টেবিলে দুটো বারি দিল। এএসআই যুবকটার দিকে তাকালো আর বলল – প্রনয় স্যার আপনি?

প্রনয় খামের দিকে ইশারা করে বলল – জামিনের কাগজ

এএসআই খামটা খুলে দেখে মাহতিমকে ডেকে মাহতিমের সাইন রেখে মাহতিমকে ছেড়ে দিলো। মাহতিম যেতে যেতে প্রনয়কে বলল – এরা আমাকে থানায় হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে আনলেও
লকাপে ঢুকায়নি। আজিব!

– এরা তোমার সম্মানের যা করেছে

– হুম। all tv chanel etc

প্রনয়ের ফোনে একটা কল আসে প্রনয় রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কেউ একজন বলে ওঠে- ভাই হসপিটালের বিষয়টা জানিয়েন

– হ্যাঁ জানাবো

প্রণয় কেটে দেয় কলটা। তারপর মহতিমকে নিয়ে গাড়িতে উঠে প্রণয় ড্রাইভিং সিটে বসে আর মাহাতিম তার পাশের সিটে মাহতিম গাড়িতে বসেই গাড়ির সিটে গা এলিয়ে নিয়ে দেয়। প্রণয় গাড়ি স্টার্ট দেয়। গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে প্রণয় বলে শালী আবার তোর পিছে লাগল কেন?

– প্রণয় মুখ সামলে কথা বল ও একটা মেয়ে ওকে সম্মান দিয়ে কথা বল

– নেভার ও নিজেই নিজের সম্মান এর কথা চিন্তা করলো না

– জানিনা বাদ দে হসপিটালে যেতে হবে আজকে আমার সবচেয়ে ফেভারিট পেসেন্ট এর এপয়েন্টমেন্ট আছে

– তোকে অনন্তকালের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে

– হোয়াট আমি না গেলে আমার রোগীদেরকে কে দেখবে আর আজকে যে ওর এপয়েন্টমেন্ট আছে

– ইমরান হ্যান্ডেল করবে। ও ভুলেই তো গিয়েছিলাম এক মিনিট একটা কল করতে হবে

ইমরান নিজের মুঠোফোন বের করে একটা কল করে। প্রথমবার রিং হতেই ফোনটা রিসিভ হয়।ওপাশ থেকে একটা মেইলি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে – হ্যাঁ প্রণয় বল

প্রণয় একটু ভণিতা করে বলে – শোন কায়নাত আমি একটু অসুস্থ। তুই একটা হেল্প করবি?

ওপাশের মেইলি সরটা চিন্তিত হয়ে বলে – কি হয়েছে তোর?

– শোন তুই আমার কথা আগে

– বল

– নিউজ দেখেছিস

– না ঠিক আছে মিস কারা মিসকা আনসারী নামের একটা মেয়ের molest এর কেস আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট এর সাথে কথ……

– ওই শালির কেস তুই নিবি না

– কেন? তুই চিনিস ওকে?

– হুম। তুই আমার বাসায় আয়। তোকে সব বলছি

– কিন্তু আজকে তো কুহুকে নিয়ে হসপিটালে যেতে হবে

– কোন হসপিটাল?

– ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল

– কোন ডিপার্টমেন্টে দেখাবি?

– নিউরো

– ঠিকাছে তুই আমার বাসায় আয়। তোর জন্য আমি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিউরোলজিস্টকে বুক করেছি

– ফাইজলামি করিস না

– আরে সত্যি বলছি। মাহতিম কারাহান আমার সাথে আছে।

– বাদ দে ফাইজলামি করা লাগবে না আমি আসছি তোর বাসায়।

কায়নাত ফোনটা কেটে দেয়। প্রনয় বলতে থাকে যা বিশ্বাস করলো না। মাহতিম বলে ওঠে – কাকে কল দিয়েছিলি?

– কায়নাত কে। ওই তোর কেস লড়বে।

– কেন?

– She is kaynat yashar. Defence Lawyer. বাংলাদেশের নামকরা লইয়ারদের মধ্যে কায়ানাত একজন। কায়নাত যখনই কোন কেস হাতে নেয় তখনই সেই কেস জিতে যায় ওর বিচক্ষণ বুদ্ধি দিয়ে। এইজন্যই মিশকা ওর কাছে গিয়েছিল নিজের কেস নিয়ে কিন্তু আমি ফোন করেছি বলে কায়নাত ওর কেসটা নেয়নি। নিলে তোর ঝামেলা পোহাতে হতো।

ও…

 

চলবে……..

 

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x