Golpo:sensation (03)

লেখনীতে :মাহজাবিন রাফা
পর্ব:৩

– যার সাথে কথা বলছিলাম ওর নাম কায়নাত ইয়াশার।  সুপ্রিম কোর্টে ডিফেন্স লয়্যার।  বাংলাদেশে শীর্ষে যে নয়জন ডিফেন্স লয়্যার আছে তার মধ্যে কায়নাত প্রথম।  আজ পর্যন্ত এমন কোনো কেস নেই যেই কেস ও নিয়েছে আর জিতেনি।  ওর বিচক্ষণ বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে ও সব কেস জিতে যায়।  তোর কেসটাও ওই লড়বে কারণ আমি নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস ওকে করি।

– আর আমি যে তোকে বিশ্বাস করি

– আরে বাংলাদেশের আইন মেয়েদেরকে বেশি সাপোর্ট করে এজন্য নিতে চাই।  মিশকা কায়নাতের কাছে নিজের কেস নিয়ে গিয়েছিল বাই এনি চান্স কায়নাত যদি মিশকার কেস নিয়ে নিত তখন এই কেসটা অনেকদিন চলতো বাট তোর কেস যদি কায়নাত নেয় তাহলে এই সমস্যাটা হবে না।

– হুম।  ঠিকাছে তাহলে মিসেস ইয়াশার এর সাথে কেসের ব্যাপারে তুই কথা বলে নিস

– মিসেস ইয়াশার না মিস ইয়াশার

– ওহ

– কায়নাতের মেয়ের আজকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল তোর হসপিটালে নিউরো বিভাগে

– নাম কি?

– মেয়ের নাম কুহু

– বয়স ৫

– হুম।  তুই কি চিনিস?

– কুহুই আমার ফেবারিট পেশেন্ট।  আারে ও আমার পেশেন্ট কম বন্ধু বেশি।

– ওই পুচকিটা তোর বন্ধু

প্রণয় কথাটা বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।  মাহতিম রাগী স্বরে প্রনয়কে ধমকে বলে – একদম  হাসবি  না।  ও একটা পিচ্চি বিড়ালছানা।

মাহতিমের কথা শুনে প্রনয় হেসে বলে – ও মোটেও বিড়ালছানা না।  ওর মা একটা সিংহিনী।

– তাই নাকি!

– হুম আর কোর্টেই তার প্রমান পাওয়া যায়।  আমার আর তোর রাগ নিয়ে সবাই কথা বলে আর ওর রাগ দেখলে সবাই চুপ করে থাকবে।  তোকে আর আমাকে ভুলেই যাবে।

মাহতিম নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে – ভালো

প্রনয়ের বাড়ি চলে এসেছে।  প্রনয়ের গাড়ি প্রনয়ের ডুপ্লেক্স বাড়িতে ঢুকে।  প্রনয়ের বাড়িটা কোনো রাজবাড়ির থেকে কম নয়।  গ্যারেজ এর বাপাশে বড় বাগান যার মাঝখানে একটা বড় সদা পাথরের  ঝর্না।  গাড়ি থেকে বের হয়ে মাহতিম আর প্রনয় হাটা ধরে সদর দরজার দিকে।  প্রনয় নিজের গাড়ির চাবি একটা বডিগার্ডের হাতে দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দেয় গাড়িটা গ্যারেজে পার্ক করতে।  বাড়ির পিন চেপে প্রনয় আর মাহতিম বাড়িতে প্রবেশ করে।  বাড়িতে ঢুকেই  ভিডিও গেমের আওয়াজ শুনতে পায় দুজনে।  মাহতিম বলে ওঠে বাসায় কি কেউ আছে?

– সিংহিনী তার পুচকি সিংহিকে নিয়ে অলরেডি চলে এসেছে

– ওহ

প্রনয় কায়নাতকে গলা উঁচিয়ে ডাক দেয় – কায়নাত!

কায়নাত প্রতিউত্তরে বলে  ওঠে  – আমি রান্নাঘরে আছি

প্রনয় বিরক্তি নিয়ে বলে ওঠে – সারভেন্টদের কি কাজ তাহলে আজকেই সবগুলোকে বিদায় করবো

কায়নাত কিচেন থেকে বের হয়ে হলরুমে প্রনয়ের সামনে এসে বলল, – what happened pronoy?

– Nothing.  তোকে বলেছি আমি এগুলো কাজ করতে?

– যা সর তো

অন্যদিকে মাহতিম গিয়ে বসে পড়েছে কুহুর সাথে।  হলরুমের ঠিক মাঝখানে সোফা আর তার সামবেই বড় একটা টিভি।   প্রনয় আর কায়নাত সোফার পিছন দিকটায় একটু  দাড়িয়ে আছে।

কায়নাত বলে ওঠে- কুহু কার সাথে কথা বলছে?

– মাহতিমের সাথে

প্রনয় মাহতিমকে ডাক দেয় – মাহতিম!

প্রনয়ের ডাক শুনে মাহতিম পিছনে ফিরে  প্রনয়ের সাথে কায়নাতকে দেখে থমকে যায়……

চলবে…….

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x