গল্প: অমৃত তোকে চাই (১২)

 

লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা

পর্ব :১২

 

চারপাশে আজানের ধ্বনি, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, বাতাসের শব্দ সব মিলিয়ে মনোরম পরিবেশ।
রিক্তা কোনো মতে বিছানা থেকে উঠে বসে। কাল কলেজ থেকে এসে খুব মাথা ব্যথা উঠেছিল। ব্যথার তুপে কান্না করে দিয়েছে। রিয়া ফোন করে ঘুমের ঔষধ খেতে বলেছিল। সানজিদা আহমেদ নিষেধ করেছিল কিন্তু যতো সময় যাচ্ছে ততই ব্যথা বাড়ছে। ব্যথায় জ্বর উঠে গেছে। রাহাদ বাসায় এসে এরকম পরিস্থিতি দেখে জ্বরের ঔষধ, ব্যথার ঔষধ, ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দিয়েছে মিনিটের মধ্যেই রিক্তা ঘুমিয়ে যায়
এই সব বসে বসে ভাবছে রিক্তা দুই হাতে মাথা ধরে ওয়াশরুমে চলে যায় অজু করে নাম পড়ে নেয়। এরমধ্যেই রিতু উঠে পরে রিতুকে উঠতে দেখে রিক্তা বলে „“ তাড়াতাড়ি অজু করে নাম পড়ে নে ”
এই বলে রিক্তা জায়নামাজ বাজ করে রাখে।
রিতু ওয়াশরুমে চলে যায়।
রিক্তা ভালো করে ওরনা মাথায় দিয়ে ছাদে চলে যায় গাছে পানি দিতে।
ছাদে উঠতেই রিক্তার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে।
সত্যি বলতে সকালে ছাদে উঠলেই দেখা যায় আসলো প্রকৃতি দৃশ্য গুলো। রিক্তা আলতো হাতে গাছ গুলো ছুয়ে দেয়। একটা জবা ফুলে আলতো করে ধরে চুমু দেয়। পাশ থেকে গাছে পানি দেওয়ার যন্ত্র হাতে তুলে নেয়৷ হাসি মুখে গাছে পানি দিতে থাকে।
৩০ মিনিট পানি দিয়ে রিক্তা রুমে চলে আসে। রুমের মধ্যে এসে দেখে টেবিলে আদা চা রাখা। আদা চা দেখে রিক্তার কপাল কুচে আসে „“ আর ভালো লাগে না আদা চা ”
বিরক্ত নিয়ে চেয়ারে বসে আদা চা টা খেতে থাকে। চার্জে থাকা ফোনটা বেজে ওঠে রিক্তা চা মুখে নিয়ে চার্জের থেকে ফোন খুলে ফোন রিসিভ করে বলে „“ হ্যাঁ বল ময়না ”
ওপাশ থেকে শিখা বলে „“ বেবি তোর শরীর কেমন? ”
” এই তো ভালো ”
” মাথা ব্যথা কমেছে? ”
” মোটামুটি কমেছে ”
” হসপিটালে যাবি কখন? ”
” জানি না আর হসপিটালে ভয় লাগে আমার ”
” তার জন্যই তো আমি আরশি যাচ্ছি ”
” কিন্তু? ”
” কোনো কিন্তু নেই কিছু খেয়ে তৈরি হয়ে নে আমি আরশি তোদের বাসায় আসছি ”
” আচ্ছা ”
” বায় বেবি ”
” বায় ময়না ”
দুজনে ফোন কেটে দেয়। রিতু দৌড়ে এসে বলে „“ আপু নিচে খেতে চলো ”
” এখন? ”
” হুম তাড়াতাড়ি করো ”
” আচ্ছা যাচ্ছি তুই যা ”
” তারাতাড়ি আসবে ”
এই বলে রিক্তা চলে যায়। রিক্তা কাপের সব চা খেয়ে নেয়। অবশ্য চা খেতে রিক্তার বিরক্ত লাগছিল কিন্তু করার কিছুই নেই। না খেলে আবার মাথা ব্যথা করবে। চায়ের কাপ নিয়ে রিক্তা নিচে যায়।
নিচে এসে দেখে সবাই টেবিলে চলে আসছে রিক্তাকে দেখে সোহেল আহমেদ জিজ্ঞেস করেন „“ কি অবস্থা তোমার? ”
রিক্তা হাসি মুখে বলে „“ এই তো ভালো ”
সৈয়দ আহামেদ বলেন „“ যাক কিছু হলেও কমেছে ”
রাহাদ বলে „“ বোনু খেয়ে তৈরি হয়ে নে।  হসপিটাল যেতে হবে আর শুভ ভাইয়া তাড়াতাড়ি যেতে বলছে ”
রিক্তা মাথায় নাড়িয়ে চেয়ারে বসে। সবাইকে নাস্তা তুলে দিচ্ছে সানজিদা আহমেদ আর মনিরা আহামেদ তাকে সাহায্য করছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার খাওয়া শেষ হয়ে যায়। সবাই যে যার রুমে চলে যায় তৈরি হতে এখন সবাই অফিসে চলো যাবে।
রিক্তা নিল রঙের গাউন পরে নেয়, মাথায় হিজাব বেধে নেয়, মুখে একটু সানসক্রিম দিয়ে নেয়।
পুরো তৈরি হয়ে আয়না নিজেকে দেখছে। মুখটা মলিন হয়ে আছে।
নিচ থেকে রাহাদ ডাক দিল „“ বোনু তাড়াতাড়ি শিখারা চলে আসছে।
রিক্তা মুচকি হেসে রুম থেকে বেড় হয়ে নিচে আসছে রিক্তার সঙ্গে তার নুপুর নাচছে।
রিক্তাকে হাসিখুশি দেখে সবার মুখে হাসি ফুটে।
রিক্তা নিচে এসে শিখাকে জিরিয়ে ধরে বলে „” ময়না”
পাশ থেকে আরশি অভিমানী কন্ঠে বলে „“ আমাকে তো ভুলেই গেছে রিক্তা ম্যম ”
সাথে নাহিদাও বলে „“ হুম তাই তো দেখছি ”
রিক্তা শিখাকে ছেড়ে আরশি নাহিদাকে  ধরে বলে „“ না রে ময়না ভুলিনি ”
রাহাদ বাহিরে যেতে যেতে বলে „“ তাড়াতাড়ি চলে আয় ”
রিক্তা বাসার সবার থেকে বিদায় নিয়ে রাহাদের সঙ্গে গাড়িতে উঠে বসে রিক্তা, নাহিদা, আরশি পিছনে বসেছে আর শিখাকে জোর করে সামনে বসিয়েছে রিক্তা।
সবাই বসতেই রাহাদ গাড়ি স্ট্যাট দিলো।
রাহাদ গাড়ির মিররে তাকাতেই শিখার চোখ দেখতে পায় মুখে আবেশে হাসি ফুটে উঠে
রিক্তা বিষয় টা খেয়াল করতেই খিলখিল করে হেসে উঠে। সবাই ভ্রু কুঁচকে রিক্তার দিকে তাকায়।

চলবে…..

( মি :- ভুল হলে একটু মানিয়ে নিয়েন…. আর ছোট করে দিলাম… কারন আমি একটু ডিপ্রেশনে আছি.. আরেকটা সুখবর আমি দ্বিতীয় বার ছোট আম্মা(খালামুনি)  হলাম… সবাই আমার আব্বুজানের ( মামাতো বোনের বাচ্চা)  তার জন্য দোয়া করবেন…আর আমি মানুষিক ডিপ্রেশনে আছি..পরে আমি বড় পর্ব দিবো ইনশাআল্লাহ)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x