লেখনীতে:প্রিয়াংশি চৌধুরী
পর্ব:০৯
কায়ানকে জাপটে ধরে নিজের খসখসে পুরু ঠোঁ’ট দাবিয়ে বেশ কয়েকটা চু’মু খেয়ে ছাড়লো কাবির। অনেকদিন পর দেখা হলো বাচ্চাটার সাথে। চু’মু তো খেতেই হবে! এরপর এক ঝটকায় কায়ানকে নিজের কাঁধে তুলে নিলো। কায়ানের তো চাচ্চুর কাঁধে ওঠা বেশ পছন্দ। তাই খিলখিল করে হাসলো সে, অতি আনন্দে। কাবির সেভাবেই কায়রাভকে বলল,
“তাহলে ভাইজান, তোমরা যাওগা। আমি আর কায়ান একটু ঘুরাঘুরি করমু। সন্ধ্যার আগে বাড়িতে দিয়া আসমুনি ওরে। “
কায়রাভ মাথা নাড়িয়ে বলল,
” আচ্ছা, সাবধানে যাস। “
কায়ান কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“চাচু, কোতায় যাব আমলা?”
কাবির মৃদু ধমকে বলল,
“হো’প ব্যা’টা! যেনে নিয়া যামু হেনেই যাবি চুপচাপ। এত কথা কি! আর চকলেট কিনা দিমুনি, যা’হ।”
কাবিরের ধমকেও হাসলো কায়ান। কাবির আর কিছু না বলে কায়ানকে নিয়ে সোজা পথে হাঁটা দিল। আপাতত বাচ্চাটার সাথে সময় কাটাবে সে। এদিকে কায়রাভ কায়েশীর হাত ধরে দুষ্টু হেসে বলল,
“চলো, আমরাও ঘুরে আসি। “
কায়েশী হাত ছাড়ালো না আজ। কায়রাভের দিকে তাকিয়ে একদম ধিমি আওয়াজে বলল,
“আমি বাড়িতে যেতে চাই, কায়রাভ। প্লিজ…”
কায়েশীর বলার ভঙ্গিটা ছিলো অত্যন্ত কাতর। সচরাচর এমনভাবে কথা বলে না কায়েশী। আর কায়রাভের সাথে তো নয়’ই। হুট করেই অন্যরকম লাগছে তাকে। কায়রাভ তা লক্ষ্য করলেও এর কারণ বুঝতে পারলো না। তাই খানিকটা উদ্বিগ্ন হয়ে কায়েশীর কপালে হাত ছুঁইয়ে জিজ্ঞেস করে,
“এভাবে কথা বলছো কেন? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?”
কায়েশী দূর্বল ভঙ্গিতে মাথা নাড়ায়। আর অস্থি’র শ্বাস ফেলতে থাকে। কায়রাভ এমন অবস্থা দেখে কায়েশীকে আর জোর করে না। বলল,
“আচ্ছা, যেতে হবে না কোথাও। বাড়িতেই যাচ্ছি, চলো।”
কায়েশীর হাত ধরেই গাড়িতে বসিয়ে নেয় কায়রাভ। তারপর বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় কালো গাড়িটি দ্রুততম গতিতে। গাড়িতে বসে পুরো রাস্তায় কায়েশী চুপচাপ ছিলো, একদম ধীর-স্থির। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে চাইলেও পারছিলো না সে। এত বছর পর এই অস্থিরতা কা’ম্য নয়। মোটেও কা’ম্য নয়।
——————————-
কায়েশী বাড়িতে পৌছে সোজা নিজের ঘরে চলে যায়। বাইরের শাড়িটা পর্যন্ত পরিবর্তন করেনি, ওভাবেই গিয়ে বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ে। অক্ষিপল্লব বন্ধ হওয়া মাত্র চারদিকে অন্ধকারে ছেয়ে যায়। সেভাবেই অচেতন ভঙ্গিতে ঘুমিয়ে পড়ে সে। ক্লান্তিতে এমনিতেও চোখ বুজেই আসছিলো তার। কায়রাভ এমন আচরণের মানে ধরতে পারে না। সে ঘরে এসেই দেখে কায়েশী বিছানায় শোয়া, একদম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন লাগছে তাকে।
কায়রাভ ঘরে এসে হাতমুখ ধুয়ে নেয়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরনের সাদা পাঞ্জাবিটা খুলে ফেলে। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বিত কাঁধের ক্ষততে চোখ পরে যায় হঠাৎ। কালো, জখম হয়ে আছে সেই স্থান। তার বাহু এবং কাঁধের ক্ষত এখনো সাড়েনি পুরোপুরি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখছিলো নিজেকে, নিজের ক্ষত’কে। এসবে পাত্তা না দিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে একটা ছাইরঙা শার্ট পরিধান করে সে একাই, একটু কষ্ট হলেও। কারণ, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নিজে নিজে জামাকাপড় পরতে তার কষ্ট হয়, চিনচিন ব্যাথা’য় কাত’র হলেও সাহায্য করার মতো কেও নেই।
হাসপাতাল থেকে ফেরার পর সে নিজেকে নিজেই সামলেছে, কষ্ট হলেও। এতে অভ্যস্থ কায়রাভ, সে কারও কাছ থেকে যত্নের আশা কোনোকালেও করেনি। এসব ভাবতে ভাবতে আয়নায় কায়েশীর প্রতিবিম্ব দেখতে পায়। যে ওপাশ হয়ে শুয়ে আছে। কমলা রঙের শাড়িটা এখনো তার গায়ে। কায়রাভের ভালো লাগে কায়েশীকে, সব রঙের শাড়িতেই। কিন্তু কমলা আর লাল রঙ তার বেশি প্রিয়। ফর্সা মেয়েটাকে খুব মানায় এই দুটো রঙে। কিন্তু কখনো মুখ ফুটে কায়েশীকে তার পছন্দের কথা জানায়নি। পাছে না কায়েশী রেগে গিয়ে উল্টো এই দুটো রঙকে ঘৃ’না করা শুরু করে। নিজের অযাচিত ভাবনায় নিজেই হাসলো সে।
তারপর ঘুরে গিয়ে কায়েশীর দিকে এগিয়ে যায় কায়রাভ। তবে বিছানায় নয়, বিছানার পাশে মেঝেতে গিয়ে বসে পরে। যেদিকটায় কায়েশী ঘুমে বিভোর। মাথাটা বিছানার হেলিয়ে দিয়ে কায়েশীকে দেখতে থাকে মনভরে। মেয়েটাকে এখনো বুঝে উঠতে পারলো না সে। এই রাগ করবে, এই চুপচাপ হয়ে থাকবে, এই আবার ঝগড়াঝাটি করবে। একটুও ভালো করে কথা বলবে না কায়রাভের সাথে। কেন? কায়রাভ কি এতই খারাপ? তাকে কি ভালোবাসা যায় না? সে তো কায়েশীর কাছে আর কিছু চায় নি কোনোদিন। মনে মনে প্রশ্ন করছিলো কায়েশীকে। কিন্তু একটারও উত্তর পেলো না। অগত্যা কিছুসময় পর কায়রাভের চোখেও ঘুম নেমে এলো। অবশ্য ঘুমানোর আগে বউটার কপালে একটা চু’মু খেয়ে নিয়েছে সে। আর নিজের বউয়ের প্রতি মৌন অভিযোগ করলো না । কারণ, এসব তো কেও শুনবে না। কায়েশী তো জানবেই না তার স্বামীর আহাজা’রি। আর কায়রাভ নিজেও হয়তো ভুলে যাবে, ঘুম থেকে জাগলে।
————————-
কায়েশীর ঘুম ভাঙলে দেখে কায়রাভকে নিজের মাথার কাছে ঘুমানো অবস্থায়। কিন্তু মেঝেতে বসে! এ কেমন ঘুম! কায়েশী হকচকিয়ে যায়। কিছুটা দূরে সরে গিয়ে মাথা নিচু করে কায়রাভকে দেখার চেষ্টা করে এক পলক। দেখলো সে ঘুমে ম’গ্ন। তবুও উঠে গিয়ে কায়েশী কায়রাভের কাধে হাত রেখে আলতো স্বরে ডাকে,
” উঠে বিছানায় গিয়ে ঘুমান। এভাবে শুয়ে থাকলে ঘাড় ব্যা’থা করবে তো! “
মেয়েলী রিনরিনে গলার স্বর পেয়ে ঘুম হালকা হয় কায়রাভের। মাথা উঠিয়ে চোখ কুচকে স্বাভাবিক হয়ে সামনে দেখতে পায় কায়েশীকে। কায়েশী তৎক্ষনাৎ কা্ধ থেকে হাত সরিয়ে নেয়। তারপর চলে যায় শাড়ি চেঞ্জ করতে। কায়রাভও উঠে দাঁড়ায় তবে আর শোয়া হয় না বিছানায়। দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনে সম্বিত ফিরে আসে কায়রাভের। কায়রাভ ভেতরে আসতে বললে কায়রা কায়ানকে নিয়ে ভেতরে আসে। কায়ান তখন কায়রার কোলে ঘুম। কায়রা সন্তপর্ণে বিছানায় কায়ানকে শুইয়ে দেয়। আর পাশে প্রক্সি হিসেবে দুটো ছোট কোলবালিশ রাখে। এরপর কায়রা ঘুরে কায়রাভকে অভিযোগ করে বলে,
“ছোট ভাইজান কায়ানকে দিয়ে গেলো একটু আগে। কতবার বললাম ভাইজান থেকে যাও, শুনলোই না কথা! উল্টো আমাকে বকে চলে গেলো! “
কায়রাভ হেসে বলল,
“ও কেমন জানিসই তো! নিজের মর্জিমতো চলে। “
কায়ারা শ্বাস ফেলে বলে,
“ছোট ভাইজানকে বিয়ে করিয়ে দাও। তাহলে যদি ছন্নছাড়া জীবন ছেড়ে একটু স্বাভাবিক হয়। “
কায়রাভ ঠোঁট কামরে হেসে বলল,
” হবে হবে, কাবিরও স্বাভাবিক হবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা। বউ এমন একটা জিনিস যাকে দেখে স্বয়ং সিংহও ভয় পায়। তো কাবির আর কি… “
পুরো কথা বলার আগেই ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে আসে কায়েশী। কায়রাভের কথার মাঝেই রুঢ় স্বরে বলে,
“তো বউজাতি সম্পর্কে আপনার এমন ধারণা! “
কায়রাভ থমকে যায়। এই রে! এসে গেছে নারীবাদী নেত্রী! কায়রাভ আর কথা বাজালো না। কায়রা মিছে হাই তুলে বলে,
“তো তোমরা ঝগড়া কন্টিনিউ করো। আই নি’ড এ ডিপ স্লি’প। সো গুড নাইট গাই’স! “
এই বলে কায়রা হেলেদুলে নিজের ঘরে চলে গেলো। আর এদিকে কায়রাভ আলনা থেকে একটা টাওয়াল নিয়ে বলল,
“বাইরের পুলে যাচ্ছি, গোসল করব। এসো। “
কায়েশী ভ্রু কুচকে বলে,
” আশ্চর্য! আমাকে কেন ডাকছেন? আমি কেন যাব?”
কায়রাভ টাওয়ালটা কাধে রেখে নিজের গোফের কোনা আঙুল দিয়ে সামান্য ঘুরিয়ে হেসে বলে,
“কারণ, তুমি আমার বউ। আমি গোসল করব আর তুমি দেখবে বসে বসে। এজন্যই, এসো। “
কায়েশী কথা না শুনে ত্যাড়ামি করে ঘুরে চলে যেতে গেলে কায়রাভ পেছন থেকে গম্ভীর স্বরে বলে,
“তুমি আমার কাঁধে উঠতে চাও বললেই পারো। এত ভণি’তা করার প্রয়োজন কি! যদিও কাঁ’ধে ব্যা’থা তবে…সমস্যা নেই। “
কায়েশী ঘুরে তাকিয়ে বিস্মিত স্বরে বলে,
” মানে! “
কায়রাভ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“মানে তুমি যদি আমার সাথে ভালোভাবে না আসো পুলে তাহলে আমি কাঁধে তুলে নিয়ে যাব তোমায়, কায়েশী। ক’স’ম! “
এই কথায় কায়েশী কিছুক্ষণ জ্বল’ন্ত দৃষ্টিতে কায়রাভের দিকে তাকিয়ে থাকে। কতটা অসভ্য হলে এমন কথা বলতে পারে কেও? কায়েশীর খে’য়ে ফেলা লুক দেখে কায়রাভ দুষ্টু হেসে ল’জ্জা পাওয়ার ভান করে বলে,
” ই’স্!এভাবে তাকাও কেন? কেমন কেমন জানি লাগে!”
এই শুনে কায়েশী রেগেমেগে পা দিয়ে দেয়ালে লা’থি মারে। তারপর রাগান্বিত হয়ে হনহন করে নিজেই চলে যায় পুলের দিকে। আর কায়রাভ পেছনে দাঁড়িয়ে হু হা হাসতে থাকে। বেশ জব্দ করা গেছে আজ নিজের বউকে।
****************
পুলের একপাশে কায়েশী নিজের কাঁধে তোয়ালে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নির্লিপ্তভাবে। হ্যাঁ, অনিচ্ছা সত্ত্বেও কায়রাভের বউগত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে। কায়েশীর দৃষ্টি পুলে থাকা সর্বোত্ত’ম নির্ল’জ্জ পুরুষটির উপর। যে সাঁতরে সাঁতরে বিশাল পুলে এপাশ থেকে ওপাশ যাচ্ছে, সামনে বউকে দাঁড় করিয়ে রেখেই। আর কায়রাভ যে সত্যি পাগ’ল একটা লোক এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই কায়েশীর। নাহলে এই হা’ড় হি’ম করা শীতের রাতে কেও পুলে এতক্ষণ সাঁতরাতে পারে! এতক্ষণ নির্লিপ্ত থাকলেও কায়েশী এবার আর চুপ থাকতে পারলো না। বলল,
“আমি কিছু বললে তো খারাপ হয়ে যাব। এই শীতের রাতে ঢং করে গোসল করার মানেটা কি? তাও পু’লে!”
কায়রাভ বউয়ের কথায় সাঁতার থামালো। এক জায়গায় থিতু হয়ে বাম হাতে চুল গুলো কপাল থেকে সরিয়ে ব্যাকব্রাশ করে নিলো। আউটডোর লাইটের আলোয় কায়রাভের সফেদ উদা’ম শরীরে পানির কণাগুলো মুক্তো’র ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। শুধুমাত্র কালো ট্রাউজার পরনে তার। এসব না চাইতেও কায়েশীর দৃষ্টিগোচর হলে অস্বস্তিতে চোখ পি’টপি’ট করে অন্যদিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নেয়। হাঁসফাঁস করে উঠে চিত্ত। কায়রাভ তা লক্ষ করে হেসে বলে,
“এদিকে তাকাও, কায়েশী। জাস্ট, লু’ক এ’ট মি! ঢং করে কি আর এমনি এমনি গোসল করছি শীতের রাতে! বউ তো আমার দিকে ফিরেও তাকায় না। ভাবলাম ব’ডি-ট’ডি দেখিয়ে যদি একটু পটানো যায়। তাই আর কি, জনদরদী নেতার এই ছোট্ট প্রয়াস।”
কায়েশী এখনো অন্যদিকেই তাকিয়ে আছে। তা দেখে কায়রাভ রেগে বলল,
“তুমি আমার দিকে না তাকালে কিন্তু আমার সাথে এই ঠান্ডা পানিতে গোসল করাবো তোমায়!”
কায়েশী এবার তাকায়। ঠোঁট গোল করে শ্বাস ফেলে বলে,
“আচ্ছা, একটা কথা বলবেন? আপনি সবকিছুতে আমায় জোর কেন করেন? “
কায়রাভ হেসে বলে,
“সত্যি কি সবকিছুতেই জোর করি? আর তোমার ভাষ্যমতে জোর যদি করেও থাকি তার কারণ তোমার অজানা নয়। আমার ভালো কথা তুমি কখনো শোনো না। “
কায়েশী কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে,
“এখন আপনার এমন পাগলামিগুলো মানায় না। “
“যখন পাগলামি করার কথা ছিলো, তখন তুমি আমার ছিলে না, কায়েশী। “
” আপনি অলীক স্বপ্ন দেখছেন, কায়রাভ। আর কখনো কিচ্ছু সম্ভব নয়।”
“অলীক স্বপ্ন এত সুখকর হলে স্বপ্ন দেখতে ক্ষতি কি! সব হয়েছে, শুধু তুমিই গ্রহন করতে পারো নি।”
এই দুই নর-নারীর কথাবার্তা বড্ড ধাঁধাময় যা বিভ্রমে ফেলে দেয়। কথা বলতে বলতে কায়রাভ উঠে আসে পুল থেকে। শরীর না মুছে কায়রাভ ভেজা অবস্থাতেই কায়েশীকে কোলে তুলে নেয়। আর হেঁটে যেতে থাকে বেসমেন্টের পাশের ছোট্ট রুমটায়। কায়েশী আর কিছুই বলে না এবার। ভেতরে ভেতরে ডুক’রে ওঠায় শরীর কেঁপে উঠে সামান্য। এভাবে কেঁপে ওঠায় না চাইতেও ভরসা হিসেবে কায়রাভকেই আঁক’ড়ে ধরে। কায়েশীর সম্বিৎ ফেরে তখন যখন মাথাটা বালিশে ঠেকে। তার ঠিক সামনে কায়রাভ ঝুঁকে আছে উ’বু হয়ে। এখনো কায়েশীর ঘোর না কাটায় কায়রাভের গলা জড়িয়ে রয়েছে। কায়রাভ কায়েশীর কপালে বড্ড আবেশে ঠোঁ’ট ছুইয়ে বলে,
“তুমি আমার সাথে স্বতস্ফূর্তভাবে মিশে গেছো, কায়েশী। এইটার সবথেকে বড় প্রমান কি জানো? “
কায়েশী মৃদু ফুঁপিয়ে উঠে বলে,
” কি? “
কায়রাভ নিচু হয়ে কায়েশীর শাড়ির আঁচ’ল কোমর থেকে সরিয়ে উজ্জ্বল, ধবধবে উদ’র উন্মুক্ত করে। কায়রাভ আরও একবার দেখে সেই সেলাইয়ের মসৃ’ন দাগে’র রেখা। যা না’ভি থেকে নিচের দিকে পেটের মাঝ বরাবর রয়েছে। ঠিক সেই স্থানে কায়রাভ আরও একবার ঠোঁ’ট ছুঁইয়ে দেয় ভীষন অনুরাগ নিয়ে। এখান থেকেই আগমন হয়েছিলো তার অংশের, তার রক্তে’র। স্বামীর এমন অনুরাগ মিশ্রিত ঠোঁটে’র স্প’র্শ অনুভব করা মাত্রই এতক্ষণ ধরে জমে থাকা অ’শ্রু গড়িয়ে পরে কায়েশীর অক্ষিকো’ন বেয়ে। কায়রাভ ধীর গলায় বলে,
“তুমি আমার অস্তি’ত্বে মিশে আছো, এর থেকে বড় প্রমান আর কিছু হতেই পারে না। কায়ান আমার ভালোবাসার ফ’ল।”
কায়েশী প্রথমবারের ন্যায় একটু হলেও কায়রাভের অনুভুতি উপলব্ধি করলো। তাই ছটফটিয়ে বলার চেষ্টা করে,
” আপ…আপনাকে আমার কিছু বলার আছে, কায়রাভ। আমি…. “
কিন্তু কায়রাভ সেসব শুনলো না। সে আবেগের তাড়নায় ব্যাকুল হয়ে কাছে টেনে নিতে লাগলো কায়েশীকে। কায়েশীর কিছু বলার অপেক্ষা রাখলো না সে। কায়েশীও আর বলার সুযোগ পেলো না। বিচি’ত্র, অপ্রকা’শ্য অনুভুতিতে টালমাটা’ল হয়ে অন্য জগতে হারিয়ে গেলো দুজন কপোত-কপোতি। কায়রাভের কাছে তা ভালোবাসার অনুভুতি হলেও কায়েশীর কাছে এসব জর্জরি’ত অনুভুতি ছিলো এতকাল। কিন্তু আজকের এই স্বামীসুলভ স্প’র্শে অজান্তেই আহ্লা’দী হলো কায়েশী, প্রফু’ল্ল হলো চি’ত্ত। আজ পী’ড়া লাগছে না এই ছো’য়া বরং আপ্লু’ত হলো সে। তাহলে কি কায়েশীর উচিত একবার চেষ্টা করা কায়রাভকে বুঝতে? মনে মনে কায়েশী ভেবে নিলো যে সে সংসারটা করবে এবার। জোরজবরদ’স্তি বা অনিচ্ছা’য় নয়, নিজের অধিকার বুঝে। একবার চেষ্টা করে দেখুক না হয়, এভাবে আর কতকাল কাটাবে। তারও ই’চ্ছে আছে, অনুভু’তি আছে। পুরোনো সব অতীত ভুলে তাকে সামনে এগোতেই হবে এবার। কারণ, কেওই নিজের জীবনে থেমে নেই। সবাই এগোচ্ছে দা’গী, পুরোনো অনুভুতি সরিয়ে নতুনকে আপন করে। তাহলে কায়েশী কেন পারবে না, সেও পারবে। পারতেই হবে।
চলমান…….
{ 📌দুঃখিত, সামনে এক্সামের জন্য একটু অনিয়মিত হবো। একটু গ্যাপ দিয়ে দিয়ে গল্প লিখতে হবে। অপেক্ষা করার অনুরোধ রইল। }