গল্প: প্রান সরোবরের তরঙ্গধ্বনি(০২)

লেখিকা:জান্নাত রাহমান হৃদি
পর্ব:০২

 

 

 

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

স্নিগ্ধ সকাল। ঝলমলে রোদ উঠেছে। এলার্মের কর্কশ ধ্বনিতে ঘুম ভাঙল শুভ্রতার। আড়মোরা ভেঙে উঠে বসল। নয়টায় কোচিং আছে ওর। কোথায় ভেবেছিল পুরো ডিসেম্বর মাসটা আনন্দ ফুর্তিতে পার করবে তা আর হতে দেয়নি খাটাশ প্রিন্সিপাল টা। সকাল সন্ধ্যা কোচিংয়ের ব্যবস্হা করে রেখেছে বাধত্যামূলক। খাটাশ ব্যাটা নিজেই নকল করে পাশ করেছে আবার বড় বড় ডায়লগ ছাড়ে টেষ্টে ফেইল করলে ফর্ম ফিলাপ করতে দিবে না। বকবক করতে করতে ওয়াশরুমে ছুটল শুভ্রতা। ঠান্ডা পানি মুখে পরতেই আর একবার গোটা পৃথীবিটাকে গালাগাল করল।

ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসল নাস্তা করতে। বাসার সামনে অগনিত বার সাইকেলের হর্ন বাজাচ্ছে কেউ। মেহরিন আলফা বললেন, যাও! দেখো তোমার কোন বন্ধু ডাকাডাকি করছে। নিশ্চিত আশিক হবে। এই ছেলেটাকে দেখলেই আমার মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে ওঠে।

“ শুভ্রতা মিনমনি স্বরে বলল, তুমি বাকি সবাইকেই তো মোটামোটি দেখতে পারো। ওরে এতো অপছন্দ করার কারন কি আম্মু?”

প্রশ্ন করে কিন্তু উত্তর শোনার জন্য আর দাড়াল না শুভ্রতা। বড় বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে গেলো। দোতালা থেকে উঁকি দিতেই দেখল তার প্রিয় বন্ধু ফয়সাল দাঁড়ানো। শুভ্রতাকে দেখতে পেয়েই সে হাক ডাকে, “ এই হাদারাম! চাকর বানিয়ে রাখিছিস নাকি? দাঁড়াতে দাঁড়াতে পা ব্যথা হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি আয়।”

শুভ্রতা নিজের জায়গায় দাঁড়িয়েই প্রতুত্তর করল,
“ মামা দু’মিনিট ওয়েট কর। রেডী হয়ে আসছি।”

.

কোচিং শেষ করে সবাই মিলে কলেজ মাঠে আড্ডায় বসল। কেন্দ্রবিন্দু শুভ্রতা এবং তার অনলাইন প্রেমিক। তার এক বান্ধবী মৌমিতা টেনে টেনে বলল, “ মামা তোমার প্রেম কতদূর?”

“শুভ্রতা হতাশ ভঙ্গিমায় বলল, কথা বলে মজা পাচ্ছি না। ছেলেটা অতিরিক্ত ভদ্র সাজছে। আমার ভদ্রতায় এলার্জি আছে। সহ্য হচ্ছে না।”

“তাহিব জবাব দিলো, তোর সাথে ভদ্রভাবে কথা বলছে দেখে তুই ভেবেও নিলি ছেলেটা ভদ্র?”

“ভদ্রই তো লাগছে ভাই। ছেলেটাও বোধহয় প্রথম দিনেই আমাকে চরম অভদ্র হিসেবে গন্য করছে।”

“এতক্ষণ পর নিরবতা ভেঙে আয়াত বলল, ছেলেটা তোকে নিয়ে কি ভাবছে না ভাবছে এসব নিয়ে ভাবার তোর কোন প্রয়োজন নেই। আর একটা কথা, ভুলেও মায়ায় জড়াবি না।”

শুভ্রতা গর্বের সাথে বলল, “হাহ! মায়া? আর আমি? এসব শব্দ আমার সাথে যায় না ভাই।”

আশিক জিগ্যেস করল “ ছেলেটার নাম কি? বাসা কোথায় জিগ্যেস করেছিস?”

“ঠোঁট চেপে মনে করার চেষ্টা করল শুভ্রতা। বেশি কিছু জানি না ভাই। তবে আইডির নাম কাব্য মাহমুদ। আর বায়ো ঘেটে দেখেছি হোম টাউন সিলেট দেওয়া।”

“এই এসব রাখ ফয়সালের কি হইছে? গাঁধাটায় চেহারার অবস্হা এমন করে রাখিছে মনে হচ্ছে কেউ মেরে ধরে একাকার করে ফেলিছে।”কথাটা বলল মালিহা।

অতএব সবার মনযোগ পরল ফয়সালের দিকে। সবাই সমস্বরে বলে উঠলো, সত্যিই তো! তোর কি হলো?

ফয়সাল ঘাসের উপর শুয়ে পরে থমথমে কন্ঠে শুধাল“ অনুপ্রভার বিয়ে ঠিক হয়েছে।”

শুভ্রতা হতাশ স্বরে বলল,“তোর কষ্ট লাগছে?”

ফয়সাল তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল, “ও খুব ভালো মামা! দুটো বছর একসাথে কাটিয়েছি। ওর জন্য আমার ফিলিংস আলাদা।”

-“কিন্তু তোর এটা ভুললে চলবে না যে ও হিন্দু। এটা হওয়ারই ছিলো।”

ফয়সাল নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল, “ অনুপ্রভা দিয়ে কি করবো? আমার শুভ্রতা আছে না? শুভ্রতা বেষ্ট।”

তাহিব বলল, “তোর শুভ্রতাও তো নতুন প্রেমে ডুবিছে।”

ফয়সাল চোখ টিপ মেরে বলল, “ লং ডিসটেন্স রিলেশনশীপে তিনজনই ভালো থাকে।”

.

শান্তির নীড়ে ফিরেছে শুভ্রতা। আসলেই কি এটা শান্তির নীড়? উহু এটা হবে অশান্তির নীড়। আপদত শান্তিই লাগছে। আম্মু বাসায় নেই। শুভ্রতা জানে না কোথায় গিয়েছে। নানু বাড়িই যাবে হয়তো। শুভ্রতার ওত কাজ নেই এসব দিয়ে। সে আরামসে বসে ফেসবুক চালাচ্ছে। ম্যাসেজ নোটিফিকেশনে একটা ম্যাসেজ এসেছে। যদিও সে জানে ম্যাসেজ কে দিয়েছে তবুও সে ইগনোর করল। একটু অপেক্ষা করুক। সাথে সাথে রিপ্লাই দিলে ভাব বেড়ে যাবে।

শুভ্রতা ম্যাসেজের রিপ্লাই দিলো টানা দু’ঘন্টা পরে। “ওয়ালাইকুম আসসালাম।” ছেলেটা তৎক্ষণাৎ রিপ্লাই করলো, “এত ফার্ষ্ট রিপ্লাই কিভাবে?” ভাবলাম একদম আগামি বছরই রিপ্লাই করবেন মেবি।”

ঠোঁট টিপে হাসল শুভ্রতা। “তাতে কি? এমনিতেও নিউ ইয়ার আসতে মাএ দুদিন বাকি। অত টাও লেট হতো না।”

ছেলেটা ঝটপট উত্তর দিলো, “কিন্তু প্রেমিককে দু’টো দিন অপেক্ষা করানোটাও পাপ। শুধু পাপ না মহাপাপ।”

শুভ্রতা জবাব দিলো,“ওয়াও ফ্লাটিং স্কেল তো দারুণণণণণ! তা কাল অত রাএিরে কার সাথে ডেটিং মারছিলেন?”

ছেলেটা হাসল, “ সে আমি যার সাথেই ডেটিং মারি না কেনো। আপনি অত রাতে অনলাইনে কি করছিলেন?”

-“আমি? এই কথা ঘুরানোর চেষ্টা করবেন না একদম। বলুন কি করছিলেন।”

-“রিলাক্স ম্যাম! শান্ত হন। আমি ফ্রি ফায়ার খেলছিলাম।”

শুভ্রতা দ্রুত টাইপ করল, “ তো! আমি কি করবো? আমাকে বলছেন কেনো? জানতে চেয়েছি আমি?”

-কাব্য বিস্ময়ে হতবিহ্বল! বলে কি এই মেয়ে? সাথে সাথে ম্যাসেজ করল, “ আপনিই জিগ্যেস করলেন।”

-” জিগ্যেস করেছি তো? কি হয়েছে? আমি আপনার গার্লফ্রেন্ড। আমি জানতে পারিনা?”

কাব্যর এবার নিজেকে পাগল বলে গন্য করতে ইচ্ছে হচ্ছে। বলল, “ আচ্ছা পরে কথা বলছি। আমি একটু বিজি আছি।”

শুভ্রতা উত্তর দিলো, “ইউর উইশ।”

.

শুভ্রতার সাথে কথা বলে ঘুমিয়েছিলো কাব্য। ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো ছোটে বন্ধুমহলের সাথে আড্ডা দিতে। ইতিমধ্যে তার বন্ধুরাও সবাই জেনে গেছে যে কাব্য অনলাইনে প্রেম শুরু করেছে। কাব্যর বন্ধু তাশরিফ ছেলেটা একপ্রকার নেটওয়ার্ক টাইপের মানুষ। সকল ধরনের খবরাখবর তার কাছে থাকে। এবং সবার কাছে তা দায়িত্ব সহকারে পৌছে দেয় সে। কাব্যর উপস্হিতি টের পেয়েই সবাই টিটকারি মারা শুরু করে তাকে। কথার এক ফাঁকে তার এক বন্ধু বলল, “ তোর গার্লফ্রেন্ড দেখতে কিন্তু সুন্দর আছে মামা।”

হতাশার নিঃশ্বাস ছাড়ে কাব্য। কন্ঠ খাদে নামিয়ে জবাব দেয়, “ মেয়েটা পাগলাটে ধরনের মামা। একটু জেদী টাইপের ও মনে হচ্ছে।”

তাশরীফ ভ্রুকুটি করে বলল, “ তো অপছন্দ হলে সরাসরি নিষেধ করে দে। এত প্যারা নিচ্ছিস কেন?”

কাব্য ঠোঁট বিস্তর করে হেসে বলল, “ কথা বলতে ইন্টারেষ্ট পাচ্ছি!”

পুনরায় বলল, “ এসব ছাড়! চল টিলায় গিয়ে বসি। সিগারেট খাবো।”

.

ধরণীতে সন্ধ্যা নেমেছে। সেই সাথে শীতের মাএাটাও বাড়ছে। আম্মু এখনো বাসায় ফেরেনি। শুভ্রতা বিরক্তিতে চ কারন্ত শব্দ উচ্চারণ করে। চোখ ভিজে ওঠে। মুঠোফোনটা নিয়ে মায়ের নম্বরে ডায়াল করে। ওপাশ থেকে মায়ের গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসে, “ বলো।”

শুভ্রতা মিনমিনে কন্ঠে জবাব দেয়, “ বাসায় আসবা না আম্মু?”

“ সকালে আসবো। মৌমিতাকে বলে দিয়েছি আমি। কিছুক্ষন পর ও যাবে নে তোমার কাছে। ওকে নিয়ে থাকো। আর দরজা ঠিকঠাক মতো লক করে ঘুমিয়ো।”

“শুভ্রতা আচ্ছা বলে ফোন ডিসকান্টেক্ট করে।”

মায়ের সাথে কথা বলার সময় ফয়সাল ফোন দিচ্ছিল। শুভ্রতা কথা শেষ করে ফয়সালকে কলব্যাক করল। সাথে সাথেই রিসিভ হয় কলটা। যেনো এই অপেক্ষাতেই ছিলো অপর পাশের মানুষটি। বিষন্ন গলায় বলল, “ দোস্ত অনুপ্রভা কি সত্যিই যাচ্ছে?”

কথাটা কর্ণগোচর হতেই শুভ্রতা থমকায়। ভীষনভাবে চমকায়। ভালোবাসার আসল মানে জানা নেই শুভ্রতার। এই শব্দের প্রতি বিশ্বাস ও নেই শুভ্রতার। তবে কি ফয়সালের মতো এমন ব্যকুলতাকেই ভালোবাসা বলে?

দায়সারা ভাবে জবাব দেয় শুভ্রতা, “ তো তুই বলছিস তোর মতো অপদার্থের কাছে ও থেকে যাক?”

“থেকে গেলে খুব বেশি ক্ষতি হতো?”

“শুভ্রতা কি বলবে বলার মতো ভাষা খুঁজে পায়না। মিনিট দের দুপাশেই পিনপতন নিরবতা। শুভ্রতা নিরবতা ভেঙে জবাব দেয়, “ হতোই তো অনেক বড় ক্ষতি হতো। যদি পেয়েই যেতিস মন খারাপ করতি কি নিয়ে? অনুশোচনা করতিস কি নিয়ে? হারানোর ব্যথা কি জিনিস উপলব্ধি করতিস কিভাবে? সব সময় হেসে বেড়ানো ছেলেটা হঠাৎ হঠাৎ দুঃখ করত কি নিয়ে?”

.

মৌমিতা আর শুভ্রতার বাসা রাস্তার এপাড়- ওপাড় এতটুকু ব্যবধান। শুভ্রতার বাসায় কোনোরকম গ্যান্জাম নেই বিধেয় মৌমিতা প্রায়ই শুভ্রতার বাসায় এসে সময় কাটায়। তবে শুভ্রতা মৌমিতাদের বাসায় খুব বেশি জরুরি ছাড়া যায় না। এর একটা কারণ ও আছে– সেটা হলো মৌমিতার মা দীপাবলি সাহা একজন কট্টর হিন্দু। তার মনে হয় মুসলমান রা তাদের বাসায় ডুকলে, কিংবা কোনো জিনিসপএ ধরলে তা অশুদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনি ওদের ফ্রেন্ড সার্কেল টাকে খুব পছন্দ ও করেন। এটা ওটা বানিয়ে সবার জন্য পাঠিয়েও দেয় ওদের জন্য। শুভ্রতার পরিবারে সাথেও এককথায় তাদের ভালো সম্পর্ক।

শুভ্রতার দরজার কলিং বেল বেঁজে ওঠে! সে একাউন্টিং এর ম্যাথ করছিল। ইচ্ছে করছে না গিয়ে দরজা খুলতে। শুভ্রতা মৌয়ের নম্বরে ডায়াল করে,

“মৌ ফোন রিসিভ করে একটা গালি ছুড়ে মেরে বলে, কতক্ষণ ধরে কলিংবেল টিপছি। দরজা খোল।”

শুভ্রতা আলস্যের সুরে টেনে বলে, “ মনা! উঠতে ইচ্ছে করছে না, রান্নাঘরের দরজা খোলা আছে। ওখান থেকে আয়।”

মৌ ফোন কেটে পিছনের দরজা দিয়ে ঘুরে শুভ্রতার রুমে আসে। শুভ্রতার বাহুতে ঘুসি মেরে বলে, সারাদেশ ঘুরিয়ে তারপর আনলি। গর্দভ একটা। পিছনের রুমটা তুই নিলি না কেনো?”

“শুভ্রতা শয়তানি হাসে, পিছনের রুম নিলে আমার তো এই সামনের রুম পেরিয়েই বের হতে হতো। অথবা কিচেন রুম পেরিয়ে, এতে আমার হুটহাট বাইরে বের হওয়াটা বন্ধ হয়ে যেতো।”

“মৌ মুখটাকে মলিন করে বলে, “ তোদের বাসার এই সিস্টেম টা ভালো আছে। আমাদের বাসা থেকে ঢোকা কিংবা বের হওয়ার একমাএ উপায় সামনের দরজাটাই। পাশে করিডোর ও নেই দরজাও নেই।”

শুভ্রতা এতক্ষণ খাতা বইয়ের দিকে নজর রেখেই কথা বলছিল। বইটা বন্ধ করে ঘুরে তাকায় মৌয়ের দিকে। আগ্রহ নিয়ে শুধায়, “ এই আজ তো থার্টি ফার্ষ্ট নাইট। গাধার বাচ্চা গুলোয় কি পিকনিক করছে?”

মৌ মুখটাকে পান্ডুর করে বলে, “ হ্যা! গ্রুপে পিকচার পাঠিয়েছে। দেখিস নি তুই?”

“না আমি অনলাইনে ডুকি নি। তুই গ্রুপে কল দে। আমি রান্নাঘরে গিয়ে দেখি কি বানানো যায়। ক্ষুধা লাগিছে।”

মৌ গ্রুপে কল দেয়, সাথেই সাথেই রিসিভ হয়! ওপাশ থেকে তাহিব হেসে ওঠে। মৌ ভ্র সংকুচিত করে বলে, “গাধার মতো হাসছিস কেন?”

-তুই গাঁধা! ফোন দিয়েছিস কেন?

তুই যে বলদ একটা আবারো প্রমান করলি! ওটা গাঁধা হবে না, হলে গাঁধি হতে পারতো। ফোন দিয়েছি শুভ্রতা দিতে বলেছে তাই!”

ওপাশ থেকে আশিক এসে ফোনের সামনে দাড়িয়ে বলে, তুই এত রাতে শুভ্রতার বাসায়?

শুভ্রতা দুই বাটি নুডলস নিয়ে ফিরে এসেছে। টেবিলের উপর বাটি রেখে বলে, “ এই তোরা একা একা পিকনিক করছিস? আমাদের কেও বলতি! যাই হোক আমাদের খাবারটা পৌছে দিস।”

সাথেই সাথেই ওপাশ থেকে সমস্বরে ভেসে আসে, “ তোদের টা মানে কি? পিকনিক করছি আমরা। তোরা কোথাকার ভাগিদার জুড়ে বসেছিস?”

“শুভ্রতা আরামসে বসে এক চামচ নুডলস মুখে দিয়ে বলে, না পৌছালে বুঝাবানি, আমাদের ভাগ কিসের। আশা করি শুভ্রতা কি জিনিস রন্ধ্রে রন্ধ্রে জানা আছে তোদের।”

ফয়সাল এক পর্যায়ে বলে উঠে, ” থাম তোরা। এই শুভ্রতা তোর ভাই আছে না? সময়মতো পৌছে যাবে তোর বাসায়। হুদাই চিল্লাচিল্লি করিস না।”

শুভ্রতা বাকিদের ধমকে বলে, ” দেখ ওর থেকে শেখ তোরা কিছু।”

আশিক বরাবরের মতো আয়েশী ভঙ্গীতে বসে। একটা সিগারেট জ্বালায়। শুধায়, ” কি শিখবো। প্রেমিক কি ভাবে ভাই হয়ে যায় তার গল্প?”

এপাশ থেকে খিলখিল করে হেসে ওঠে মৌ। শুধায়, ” মামা তোর সাথে একমত আমি।”

ফয়সাল এবার পাল্টা আক্রমন করল, ” হ্যা আশিক তোর প্রেমিকা সেদিন যেমন তোর কাজিন হয়ে গেলো। আমিও তেমনি শুভ্রতার ভাই হয়ে যাই মাঝেমাঝে।”

বিদ্রপ: ( গল্পে আমি খুলনার আঞ্চলিক ভাষা ইউস করছি মাঝেমাঝে। বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করবেন আপনারা। আর ভুল এুটি ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং।)

 

চলবে…

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x