অণুগল্প
লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী
সাধারনত গ্রামের দিকে বিকেল বেলা অনেক স্নিগ্ধ সুন্দর একটা দৃশ্য হয়।
★★★ জাবির আসর নামাজ শেষ করে তার বন্ধু সাফিন এর সাথে কথা বলতে বলতে গ্রামের মেঠোপথ ধরে জমিনে যাচ্ছে তাদের গবাদিপশু ঘরে আনার জন্য
ছেলেটা সব ছেলেদের মত নয় গ্রামের অন্যান্য যুবক এর থেকে আলাদা বটে তার একটাই বন্ধু সাফিন সেও
জাবির এর মত কিন্তু তার মত গম্ভীর নয়।
,,সাফিন সন্ধিহান সরে জিজ্ঞেস করল,,
__ কাল মাদ্রাসাই যাবি দোস্ত?
জাবির অসহায় সরে বলল
__ নাহ পারুম না রে ভাই আব্বারে লই কাল একবার হাসপাতাল যাইতো হইবো
জাবির এর বাবার হার্ট এ প্রবলেম আগের মত কাজ করতে পারেনা তাই সব কাজ জাবির কে সামলাতে হয়
জাবির রা তিন বোন এক ভাই
সাফিন চিন্তিত সরে বলল
__ তাহলে আমি কাল মাদ্রাসাই যামু না তোর লগে কাকারে লই হাসপাতাল জামু
__ আচ্ছা তাহলে যাইস আমার লগে,, একা একা সব সামলাতে কষ্ট হয়,,
তারা দুই বন্ধু ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে
____দুই বন্ধু কথা বলতে বলতে নিজের গন্তব্যে চলে আসলো ___
,,,জাবির গরু গুলো নিয়ে বাড়ির রাস্তায় হাটা দরলো আর সাফিন নিজের বাড়ির দিকে,,,
জাবির গরু গুলো জমিন থেকে উঠার সময়
একটা গরু তার হাত থেকে ছুটে গেলো গরুটা গ্রামের আকা বাকা রাস্তা ধরে ছুটতে থাকলো জাবির তার অন্য গরু গুলোকে একটা গাছের সাথে বেধে সেও ছুটতে লাগলো,,
একটু এগোতে দেখলো গরুর আগে আগে একটা ছোট মেয়ে দোড়াচ্ছে আর চিৎকার করছে সে ভাবলো হয়তো গরু তাকে তাড়া করেছে,,,
__ আম্মু আমাকে বাচাও দাদা ভাই গোোোোো
জাবির একটু দোড়ে গরুটাকে দরে পেললো
ততক্ষণাৎ দড়ি দরে নিছে বসে পড়ে আর হাপাতে শুরু করলো,,,
__ হাইরে কপাল বেটা তুই আমারে এমন দোড়ানি দিলি
গলা শুকাইয়া গেছে
একটু চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো একটা পিচ্চি মেয়ে তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে সে সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে পেললো ততক্ষনাৎ বুঝতে পারল মেয়েটা দোড়ে কোথাও চলে গেলো,,,,
একটু পর আবার দেখতে পেলো তার সামনে দাড়িয়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো,,
__ এইযে মিস্টার নিন পানি খান হইরান হয়ে গেছেন,,
জাবির ও গ্লাস টা হাতে নিলো তার এখন পানির প্রয়োজন ছিলো,,
এক চুমুক এ পানিটা শেষ করে সামনে থাকা রমনির পানে তাকালো আর মনে মনে আওড়ালো স্নিগ্ধ বিকেলের স্নিগ্ধ আখি,,
জাবির উঠে দাড়ালো যাওয়ার উদ্দেশ্য,,,
,,,তখন ডাক পড়লো,,
__দাড়ান যাচ্ছেন কোথায় আমরা পরিচিত হয়,,
জাবির বুঝতে পারলো মেয়েটা সুদ্ধ ভাষায় কথা বলছে আর আগে কখনো গ্রামে দেখেনি তাই সেও সুদ্ধ ভাষায় উওর করলো
__ আমার কাজ আছে আসি
__ আমি রুকাইয়া ইবনাত আপনার নামটাতো বলেন
__ আমি আবদুল্লাহ জাবির
__ আপনার নামটা অনেক সুন্দর
জাবির আর কিছু বললো না গরু নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো,,,
রুকাইয়া তার দাদুর বাবার বাড়ি এসেছে গ্রাম গুরে দেখার জন্য বিকেল বেলা বের হতেই জাবির এর সাথে দেখা,,
~~~~~রাত প্রায় তিনটার কাচাকাছি জাবির সুন্দর করে ওজু করে তাহাজ্জুদ নামাজ এর জন্য দাড়ালো
সেজদায় দোয়া করলো,, কিন্তু একটা দোয়া ছিলো এমন,,,
_____ মালিক আপনি ভালো করেই যানের আপনার বান্দা কেমন আপনার বান্দা সব সময় হালাল এর পিছনে ছুটে আজও তাই।
ওই ছোট্ট চড়ুই পাখিটাকে আমার জন্য হালাল করে দিন দুনিয়া এবং আখেরাত এর জন্য,,,
নামাজ শেষ করে জায়নামাজ এ বসে রুকাইয়াকে কল্পনা করতে লাগলো,,,
~~~~মেয়েটার বয়স কত হবে এই তেরো চৌদ্দ চুল গোলো মাজ পিট বরাবর গায়ের রং হোলদাটে চোখে ভিষন মায়া তেমন একটা লাম্বা না গোলগাল চড়ুই পাখির মত,,,
~~~~ জবির এর বয়স বিশ কি একুশ হবে লাম্বা পাঁচ ফিট নয় গায়ের রং শ্যামলা মুখ বরতি দাড়ি এখনো তেমন একটা দাড়ি ওঠে নি একদম সাধারন ভাবে চলা পেরা করে। পড়া লেখায় ভালো,,
★★★ প্রায় দুই মাস পর সেই স্নিগ্ধ বিকেল আজকেও জাবির এর পাশে সেই স্নিগ্ধ মায়াবি দুটো চোখের অধিকারী তার চড়ুই পাখি আছে।
~~~~ তাদের প্রথম দেখা হওয়ার পরের দিন জাবির তার মাকে সব বলেছিল আর পরিবাররের সবাইকেও বলে ছিলো তারপর জাবির এর মা ও তার বড় বোন রুকাইয়ার দাদুর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলো সবাই খুশি হয়ে ছিলো এই প্রস্তাব এ কেননা জাবির ছেলেটার নামে অনেক সুনাম গ্রামে দেখতেও এতটা খারাপ নয়। ঘরোয়া ভাবে তারের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
~~~ জাবির রুকাইয়ার কাদে হাত রেখে বললো~~~
__ আমার লগে এক জিবন পার করতে পারবেতো চড়ুই পাখি?
রুকাইয়া এক গাল হেসে বললো
__ সুধু এক জিবন কেন আমিতো আপনার লগে জান্নাতেও থাকমু যেমন করে আপনি আমাকে তাহাজ্জুদ নামাজে চাইয়া লইছেন তেমনি আমি আর আপনি মিল্লা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইয়া সেটাও নিয়া নিমু হইবোনা কন?
রুকাইয়া এখন আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারে তাই জাবির ও তার সাথে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে,,,
__ হুম হইবো, আমার দিকে একটু তাকাও
“””রুকাইয়া কিছু না বলেই জাবির এর মুখের পানে তাকালো,,,
__ আমার আত্মা তুমি আমার স্নিগ্ধ বিকেলের এক পোষলা বাতাস যা দিন শেষে আমার হৃদয় প্রশান্তি করে দেই।
“”””প্রতি উত্তর এ রুকাইয়া বলল”””””
__আর আপনি আমার কালা চান যা আমারে রাতেও আলো দেই।
রুকাইয়ার থেকে এমন উওর জাবির আসা করেনি
~~দুজন প্রান খুলে হাসছে আর সূর্যাস্ত দেখছে ~~