গল্প: চলো না আজ এ রুপকথা তোমাকে শোনাই (১২)

পর্বসংখ্যা:১২

লেখনীতে:প্রিয়াংশি চৌধুরী

 

 

প্রীতিষা বাড়িতে ফিরেই কাবিরকে আগে ফোন করল। শান্ত গলায় জানিয়ে দিল সে ভাইয়ের সাথেই ফিরেছে, একদম সেফলি। কাবির ওপাশে নিশ্চুপ হয়ে শুনল। হঠাৎ না বলে চলে আসায় কাবির যে চিন্তা করেছে সেটা প্রীতিষা টের পেলো ঠিকই, কিন্তু কাবিরের গলায় তার ছিটেফোঁটাও প্রকাশ নেই। খুব সংক্ষেপে শুধু বলল,
” আচ্ছা, রাইখা দেও এখন। “

ফোনটা কেটে যেতেই প্রীতিষার বুকের ভেতরটা কেমন জমাট হয়ে গেল। আবারও সেই পুরোনো হতাশা।কাবির কি আদৌ কখনো অনুভুতির কথা বলবে?
নাকি সব সময়ই এলোমেলো উদাসীনতার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখবে। অপ্রকাশিত, অধরা হয়ে!
এইসব ভাবনার মাঝেই হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ফোন করেছে কায়রা। কায়রা ফোন করেই জানিয়ে দিয়েছে কালকে দেখা করতে ভার্সিটিতে।

——————————–
পরদিন ক্যান্টিনে ঠিক সময়েই এসে বসে ছিল প্রীতিষা। পাশে তার বান্ধবী ইসরাত। কফি খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলো দুজন। কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে প্রীতিষা জিজ্ঞেস করল,
“ইসরাত, পড়াশোনার অবস্থা কেমন তোর?”

ইসরাত চেয়ারে হেলান দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হতাশার সুরে বলল,
“খুব বাজে রে! বলার মতো কিছুই নেই।”

প্রীতিষা হালকা হেসে বলল,
“আরে ধুর! একদিক থেকে মন দিয়ে পড়া শুরু করলে দেখবি এমনিই সব কভার হয়ে যাবে।”

ইসরাত শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল। ঠিক তখনই কায়রা এসে হাজির। প্রীতিষার পাশের চেয়ারটার কাছে এসেই বসে বলল,
“একটু কষ্ট দিয়ে ফেললাম তোমায়!”

“আরে না আপু, একদমই না।”

প্রীতিষা হন্তদন্ত হয়ে দ্রুত বলল। কায়রা ব্যাগ খুলে খুব যত্ন করে একটা টিফিন কারি বের করল। সেটা প্রীতিষার হাতে দিয়ে অনুনয়ের সুরে বলল,
“এইটা বাসায় গিয়ে স্যারকে খাওয়াবে আর বাচ্চাদেরও দিও, অনেকগুলো আছে এতে। এখানে পিঠেপুলি আর পায়েস আছে। জীবনে প্রথমবার এত কষ্ট করে বানিয়েছি। সেই ভোরে উঠে! আর হ্যাঁ, তুমি বলবে এটা তুমি বানিয়েছো। আমার কথা ভুলেও বলবে না কিন্তু!”

প্রীতিষা ভ্রু কুঁচকে ফেলল। একটু অদ্ভুত লাগলো এই শুনে যে তার ভাইয়ের জন্য কেন খাবার বানিয়ে নিয়ে আসবে! বিষয়টা অদ্ভুত লাগার মতোই। তবে মুখে তা প্রকাশ না করে স্বাভাবিক হয়ে বলল,
“আপু, তুমি কষ্ট করে বানিয়েছো যখন, তুমিই দিও। আমি কেন…”

কায়রা মলিন একটা হাসি হাসল। চোখেমুখে অমুদ্রিত কষ্টের ছাপ। বলল,
“আমি দিতে পারলে তো নিজেই দিতাম। সে তো আমাকে দুচোখে দেখতেই পারে না। আমি দিলে খাবারটা খাওয়া তো দূর, ছুড়েও ফেলতে পারে। আমি নিশ্চিত।”

প্রীতিষা অবাক হয়ে বলল,
“না না! এমনটা কেন করবে ভাইয়া? আমার ভাইয়া অতটাও রাগী নয়।”

কায়রা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“সে অনেক গল্প। পরে না হয় বলবো। আমার সুইট কিউট ভাবী, এইটুকু তো করে দিতেই পারও…. প্লিইইজ!!”

‘ভাবী’ শব্দটা কানে যেতেই প্রীতিষার গাল দুটো আচমকা লাল হয়ে উঠল। অজান্তেই সে গলে গেল এমন আদুরে স্বরে। তাই আর আপত্তি না করে মৃদু হেসে বলল,
“ঠিক আছে। বাসায় গিয়েই দেব।”

কায়রার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,
“থ্যাংক ইউ। আমার ক্লাস আছে, এখন যাই। বাই ভাবীইইই…..”

শেষের কথাটা সুর টেনে বলে ফ্লাইং কিস দিয়ে চলে গেল কায়রা। আর প্রীতিষাও মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, সে বাড়িতে গিয়েই তার ভাইকে দেবে। কায়রা চলে যেতেই ইসরাত কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“এই! তোকে ভাবী বলল কেন? এই আপুকে তো আমি চিনি। আমাদের সিনিয়র হয়।”

প্রীতিষা লাজুক স্বরে চোখ নামিয়ে বলল,
“ওই আপুর ভাই আর আমি…পরিচিত। তাই আর কি…”

ইসরাত মুচকি হেসে বলল,
“ওহ! এই ব্যাপার! বুঝি বুঝি, সব বুঝি…”

প্রীতিষা ইসরাতের হাতে মৃদু চাপড় দিয়ে নিজের মুখ দু’হাতে ঢেকে লাজুক স্বরে বলল,
” আরে, যাহ তো! কি না কি ভাবছিস! লজ্জা লাগে তো! “

**********************

কায়রাভ গতকাল বাড়ি ফেরেনি। রাতটা বাড়ির বাইরে কাটিয়েছে। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটাই কায়েশীর বুকের ভেতর অজানা শঙ্কার ঢেউ তুলেছিল। হ্যাঁ, অস্বাভাবিকই তো! কারণ, যত কাজের চাপই থাকুক না কেন, কায়রাভ কখনোই বাইরে রাত কাটায় না। শত কাজ শেষে রাতে বাড়ির পথেই ফেরে সে। কিন্তু আজ সবকিছু যেন ব্যতিক্রম। ফোন করতে গিয়েও করা হয়নি আর। কায়েশী জানে, ফোন করলে কায়রাভ নিশ্চয়ই মজা নেবে বিষয়টা নিয়ে। সেসব ভেবে আর ফোন করা হয়নি। এইসবের জন্য কাল রাতে ঘুমও হয়নি কায়েশীর। কাল রাত থেকে শুধু নিরবে কায়রাভের ফেরার অপেক্ষা করতে থাকে সে।

সকালের দায়িত্বগুলো কায়েশী যথারীতি সামলে নিয়েছে। কায়ানকে সকালের খাবার খাইয়ে খেলনার সরঞ্জাম দিয়ে বসিয়ে দিয়েছে মাদুরের ওপর। শিশুটার ছোট্ট দুনিয়ায় তখন শুধু রঙিন খেলনা আর কল্পনার রাজ্য নিয়ে। বাইরের কোনো উদ্বেগ সেখানে ঢোকার পথ পায়নি।

হঠাৎ সদর দরজায় শব্দ হলো। শব্দটা কানে যেতেই কায়েশী প্রায় দৌড়েই নিচে নেমে এলো। দরজা খুলতেই দেখা গেল কায়রাভকে। তার চোখমুখে গভীর ক্লান্তির ছাপ। রাতে ঘুম হয়নি তারও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। কায়েশীও বুঝলো আর মনে সন্দেহের দানা বাঁধলো। তাই ক্লান্তি দেখার অবকাশ না পেয়েই কায়েশীর মনে জমে থাকা প্রশ্নগুলো একসাথে উগরে বেরিয়ে এলো। ক্রুদ্ধ হয়ে বলতে লাগলো,
“কাল সারারাত কোথায় ছিলেন আপনি? বাসায় আসেননি কেন? আজ দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছিলো, আর আপনি এখন….. ”

কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই কায়রাভ তর্জনী আঙুল তুলে কায়েশীর ঠোঁট চেপে ধরে। সেই স্পর্শে সমস্ত অভিযোগের শব্দ থেমে গেল। কায়েশীও ভ্রু কুচকে নিল। কায়রাভ শান্ত, ক্লান্ত কণ্ঠে সে বলল,
“একটু পরে কথা বলি। এখন ভীষণ ক্লান্ত আমি। আগে একটু ঘুমোতে দাও। আমি রুমে যাচ্ছি।”

এই কথা বলেই কায়রাভ ধীরে ধীরে সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু কায়েশী সহজে ছাড়বার পাত্রী নয়। উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তার জেদ থামে না। তার প্রশ্নের উত্তর চাই’ই চাই। তাই কায়রাভের পিছু পিছু সেও সিড়ি বেয়ে উঠে আসে। ঘরে ঢুকেই কায়েশীর চোখে পড়ে আরেকদফা অস্বাভাবিক দৃশ্য। বাইরের পাঞ্জাবিটা না খুলেই আয়েশী ভঙ্গিতে বিছানায় শুয়ে আছে কায়রাভ। জুতোটা পর্যন্ত খুলে নি। এমনটা সে কখনো করে না। কারণ, কায়েশী এসব অপছন্দ করে। এ কথা কায়রাভ ভালো করেই জানে। আজ যেন সবকিছুই নিয়ম ভেঙে চলছে। এই অনিয়ম কায়েশীর মাথার ভেতরের রাগটাকে আরও উসকে দিল, রাগ যেন তরতর করে বেড়েই চলেছে। সে কায়রাভের পাশে বসে চেঁচিয়ে উঠল,
“এখন ঘুমাতে পারবেন না আপনি! উঠুন বলছি… আগে আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিন।”

চেঁচামেচিতে কায়রাভের বন্ধ চোখ খোলে। ভ্রু কুঁচকে বিরক্তির সঙ্গে উঠে বসে সে। বলল,
“এইসব কী শুরু করেছো, কায়েশী? এসে থেকে দেখছি! বললাম তো, আমি ভীষণ ক্লান্ত! “

কিন্তু কায়েশী থামার মেয়ে নয়। গলার স্বর আরও চড়া হয়ে ওঠে তার।
“আমি শুরু করেছি! আপনি রাতে বাড়ি ফেরেননি কেন? কি এমন রাজকার্য করে এসেছেন যা আমাকে বলা যাচ্ছে না! সত্যি করে বলুন কার সঙ্গে রাত কাটিয়ে এসেছেন? বলুন! “

কথাটা শুনে মুহূর্তের জন্য কায়রাভ মুহুর্তের মধ্যে থমকে যায়। তারপর ঠোঁটের কোণে একচিলতে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে কায়েশীকে পরীক্ষা করতে বলে,
“যেই মেয়ের সঙ্গেই রাত কাটাই না কেন, তাতে তোমার কী? তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসো না! “

কায়েশী চোখ তুলে তাকিয়ে কঠিন স্বরে বলে,
” আপনি আমার স্বামী, এটা ভুলে যাবেন না। আমার সবকিছু জানার অধিকার আছে। “

কায়রাভের হাসি আরও গভীর হয়।
” আমারও তো চারটা বিয়ে করার অধিকার আছে।”

কায়েশীর কণ্ঠ হঠাৎ কেঁপে ওঠে। আহত গলায় বলে,
” কীহ! আপনি এমন কথা কিভাবে বলতে পারলেন?”

কায়রাভ হেসে ওঠে উচ্চস্বরে।
” আরে, রিল্যাক্স! মজা করছিলাম। এক বউ সামলাতেই হাড়ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, আবার চার বউ! “

কায়েশী ব্যাথাতুর ভঙ্গিতে বলে,
” আপনার মুখে এমন মজা মানায় না। “

কায়রাভ আর কিছু না বলে ফোনটা তুলে নেয়। কায়েশীর এসবের মানে বুঝতে পেরেছে। তাই আর না জ্বালিয়ে কাউকে কল করে। রিসিভ হতেই কায়রাভ বলে,
” কাল রাতে আমরা কী করছিলাম, বল তো সবুজ?”

ওপাশ থেকে সবুজ খানিকটা হতচকিত গলায় বলে,
” এইটা কী অদ্ভুত প্রশ্ন, ভাই? “

” যা জিজ্ঞেস করেছি, সেটার উত্তর দে। “

“কাল আমরা দলের ছেলেপেলেরা মিলে সারারাত বারবিকিউ পার্টি করেছি। সঙ্গে কয়েক বোতল মাল…”

এর আগেই কায়রাভ ফোন কেটে দেয়। কায়েশীর দিকে তাকিয়ে বলে,
“শুনেছো? কোনো মেয়েলোকের কাছে ছিলাম না আমি। আমার সম্পর্কে এত জঘন্য ধারণা এলো কীভাবে তোমার মাথায়? “

কায়েশী দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। ধীর স্বরে বলে,
” রাজনীতিতে ভালো মানুষ খুব কমই থাকে। আর তাদের চরিত্রও খুব একটা ভালো থাকে না।”

কায়রাভ শান্ত স্বরে বলে,
“ভালো মানুষ কম থাকে, কথাটা ঠিক। কিন্তু সবার নারীদোষ থাকে না। কেউ কেউ এক নারীতেই আসক্ত থাকে। আমার মতো। “

এই কথা শুনে কায়েশী উঠে চলে যেতে চাইলে আচমকা কায়রাভ তার হাত ধরে টেনে আবার নিজের খুব কাছে বসিয়ে নেয়। তারপর একহাতে জড়িয়ে ধরে চোখে দুষ্টু হাসি এনে কায়েশীর দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে বলে,
“আমার জন্য চিন্তা করছিলে, তাই না কায়েশী? তোমার বুকটা জ্বলছিলো স্বামীর চিন্তায়। ঠিক কি না, বলো? “

কায়েশী দ্রুত নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। এদিক ওদিক তাকিয়ে ছটফট করতে থাকে। তবুও নিজের নাজুকতা গোপন করে বলে,
“একদমই না। আমার কেন জ্বলবে? অধিকার আছে বলেই প্রশ্ন করেছি, বউ আমি আপনার। আর আপনিও বাধ্য উত্তর দিতে।”

কায়রাভ দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের বুকে হাত বুলায়। গলায় জমে থাকা আক্ষেপ ঝরে পড়ে কথায়,
“কখনো তো মিথ্যেও বলতে পারো। শুধু একবার বললেই পারতে, আমি আপনাকে ভালোবাসি, তাই এমন করি। এই মিথ্যেটুকু শুনলেও তৃষ্ণার্ত বুকটা শান্ত হতো। “

*******************

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। প্রীতিষা ঘরে ফিরে কায়রার দেওয়া টিফিন বক্সটা আলতো করে রান্নাঘরের টেবিলে রেখে দেয়। ফ্রিজে তোলার প্রয়োজন বোধ করে না, কারণ শীতের দিনে এসব খাবার নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। আর একটু পরেই তো প্রীষান ফিরবে, তখনই পিঠেগুলো গরম গরম বেড়ে দেওয়া যাবে। এইসব ভাবনার মাঝেই দরজার শব্দ পায়। প্রীষান এসে গেছে, সঙ্গে প্রীভানও। প্রীভান বরাবরের মতো প্রীতিষাকে হাই বলে সোজা নিজের ঘরে ঢুকে যায়। প্রীতিষা মৃদু স্বরে প্রীষানকে বলে ওঠে,
” ভাইয়া, ফ্রেশ হয়ে টেবিলে বসো।”

” আচ্ছা। “

বলেই প্রীষান ঘরের দিকে যায়। কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে এসে টেবিলে বসতেই প্রীতিষা একটি প্লেটে পিঠেপুলি আর পাশে বাটিভরা পায়েস তুলে দেয়।
খাবার দেখে প্রীষান অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
” এসব কখন বানালি?”

প্রীতিষা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে একটু ভেবে নেয়, তারপর স্বাভাবিক ভান করে বলে,
” ওই আর কী, হুট করেই ভাবলাম। খেয়ে দেখো না! “

পিঠেপুলি আর পায়েস প্রীষানের দুর্বলতা, কারণ প্রীষান আগে ভোজনরসিক মানুষ ছিলো। শীত-গ্রীষ্ম নির্বিশেষে প্রীষানের স্ত্রী পৃথা এগুলো বানিয়ে রাখত, শুধু তার স্বামীর পছন্দের কথা ভেবেই। একদম পাক্কা ঘরনী ছিলো পৃথা। প্রীষানের মুখে কিছু বলার আগেই সব হাজির করতো সে। পৃথা চলে যাওয়ার পর সেই স্বাদ, সেই যত্ন সব যেন হারিয়ে গেছে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও আর হয়ে ওঠে না। হঠাৎ প্রীতিষার কণ্ঠস্বরে তার ভাবনার সুতো ছিঁড়ে যায়,
” কী হলো ভাইয়া? খাচ্ছো না কেন? “

” হ্যাঁ, খাচ্ছি। বাচ্চাদেরও ডাক। ওরাও তো এগুলো খুব পছন্দ করে।”

” আমি বরং দিয়ে আসছি ওদের রুমে। তুমি শুরু করো। ওরা গেমস খেলতে বসে গেছে, নিশ্চয়ই।”

এই বলে প্রীতিষা বাকি পিঠেপুলি আর পায়েস নিয়ে প্রিহার ঘরে যায়। প্রীভানও সেখানে এসে খাবার দেখে চোখমুখ উজ্জ্বল করে তোলে। দুই ভাইবোন মিলে খেতে বসে যায় উচ্ছসিত হয়ে। তাদেরও পিঠেপুলি খুব পছন্দের।

অনেকদিন পর প্রীষান যেন মন ভরে খায়। খাওয়া শেষে অজান্তেই ঠোঁটের কোণে একফোঁটা হাসি খেলে যায়। তাই সে প্রীতিষাকে ডেকে বলে,
“এটা কি সত্যিই তুই বানিয়েছিস?”

প্রীতিষা থমকে ভাইয়ের দিকে তাকায়। ভাবলো, ধরা পরে গেলো নাকি! তাই একটু ইতস্তত করে বলে,
” হ্যাঁ… মানে… আমি ছাড়া আর….!

কথার মাঝেই প্রীষান পকেট থেকে এক হাজার টাকার নোট বের করে এগিয়ে দেয়। একগাল হেসে বলল,
” সত্যি বলছি, অনেকদিন পর তৃপ্তি করে খেলাম। তোর হাতের রান্না এত সুস্বাদু কবে হলো বল তো! আর এই টাকাটা রাখ। “

প্রীতিষা হাসিমুখে টাকাটা নেয়। আর অদ্ভুতভাবে তার ভাইয়ের হাসিমুখটা অনেকদিন পর লক্ষ্য করলো। সচরাচর প্রীষান হাসে না এমন। তার মানে খাবারটা তার ভাইয়ের সত্যি খুব ভালো লেগছে। কিন্তু মনটা অন্য কথা ভাবলো আবার। মনে মনে ঠিক করে ফেলল, কাল ভার্সিটিতে গিয়ে কায়রার হাতে এই টাকাটাই তুলে দেবে। এটা যে আসলে তারই প্রাপ্য।

চলমান…….

[ কেমন লাগছে পর্বটি জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং। 🦋 🥀]

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x