গল্প: অমৃত তোকে চাই (১৬)

লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা
পর্ব:১৬

রিক্তার বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দ হচ্ছে হাত পা কাঁপছে তার।
চারপাশের সবাই তাকিয়ে আছে তার দিকে।রিক্তা ধীরে ধীরে ফোনটা কানে ধরে কাঁপা কন্ঠে বলে„“হ্যালো…”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর ভেসে আসে ভারী, শান্ত একটা মেয়ের কণ্ঠ„“বাসায় যাও।”
রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে„“কে আপনি?”
„“রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিন ক্রিয়েট করো না।”
” আমি কি করবো না করবো আপনার থেকে জিজ্ঞেস করে করবো? ”
” প্রয়োজনে তাই ”
রিক্তা চোখ বুঝে শ্বাস ছাড়ে শুধায় „“ আপনি কে পরিচয় টা দেন প্লিজ ”
” পরিচয় খুব শীঘ্রই দিবো এখন গাড়ি করে বাড়ি যাও। এই প্রমিস তোমার কোনো ক্ষতি করবো না বিলিভ মি ”
” আপনি আমার বাড়ি চিনেন ”
” সব কথা কি আজকেই জেনে নিবে? পরের জন্যও কিছু রাখো  মিসেস পিচ্চি ”
এই বলে ওপাশ থেকে ফোন কেটে যায়
রিক্তা বিস্মিতো হয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে।
গার্ড টা নমনীয় কন্ঠে বলে „“ মিসেস ম্যাম আপনার কোনো ক্ষতি আমরা করবো না প্রমিস। আমাদের বিশ্বাস করতে পারেন ”
নাহিদা বিরক্ত স্বরে বলে „“ এ্যা…চিনি না জানি না তাদের বিশ্বাস করবো বললেই হলো? ”
শিখা নাহিদাকে থামিয়ে বলে „“ আহা…. থামতো নাহু।তারা তো বলছে তারা কোনো ক্ষতি করবে না আমাদের তাহলে কেনো এমন করছিস? ”
শিখা থেমে আবার বলে „“ রিক্তা চল তো কিছু হবে না। ”
রিক্তা মিনমিনিয়ে বলে„“ কিন্তু…”
শিখা রিক্তার হাত চেপে ধরে আস্তে করে বলে„“Trust me জানু। কিছু হবে না।”
রিক্তা কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে ধীরে গাড়ির দিকে এগোয়।
চারপাশের মানুষ এখনো তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ ফিসফিস করছে, কেউ ভিডিও করছে।
নাহিদা বিরক্ত হয়ে বলে„“ধুর! মনে হচ্ছে কোনো মুভির শুটিং চলছে।”
আরশি আস্তে করে বলে„“আমার কিন্তু একটু ভয় ভয় লাগছে।”
গার্ডরা খুব সম্মানের সাথে গাড়ির দরজা খুলে দেয়।
রিক্তা গাড়িতে উঠে বসে। তার পাশে নাহিদা, আরশি। সামনে শিখা।
গাড়ির দরজা লাগতেই বাইরের কোলাহল যেন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। গার্ড টা অন্য গাড়ি করে চলে যায়। শুধু একটা গাড়ি করে চারজন মেয়ে যাচ্ছে। গাড়ি ড্রাইভার চালাতে শুরু করে।
রিক্তা নিজের ফোন শক্ত করে ধরে আছে।মাথার ভিতর শুধু একটা কথাই ঘুরছে“মিসেস পিচ্চি…”
এই নামটা তাকে খুব পরিচিত লাগছে।
কিন্তু কোথা থেকে… মনে করতে পারছে না।
নাহিদা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে„“আমি হলে এতক্ষণে থানায় কল দিতাম।”
শিখা কেশে উঠে বলে„“আরে আরে তুই কি আমাদের বেড় হওয়া টা কি বন্ধ করতে চাস? এমনিতেই ভাইয়া আমাকে বেড় হতে দেয় না আবার তুই বলছিস মামলা করবি পাগল তুই? ।”
নাহিদা চোখ ছোট করে রিক্তার দিকে তাকিয়ে বলে „“তুই আজকে বেশি শান্ত না?”
রিক্তা শুকনো ঢোক গিলে বলে„“আমি আবার কি করলাম?”
আরশি জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।
রাস্তার আলো একের পর এক পিছনে পড়ে যাচ্ছে। আকাশ টাও আজ খুব শান্ত। রৌদ্রময় দিনগুলো খুব সুন্দর লাগছে।
হঠাৎ ফোন আবার ভাইব্রেট করে উঠে।Unknown I’d থেকে মেসেজ আসে। রিক্তা মেসেজ টা ওপেন করে। কিন্তু আইডিটা চিনতে পারছে না।
“এভাবে ভয় পেলে চলবে?”
রিক্তা কয়েক সেকেন্ড ভেবে রিপ্লাই দেয়„“ আপনি আমাকে ফলো করছেন?”
ওপাশ থেকে উত্তর আসে„“প্রয়োজন হলে পুরো পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করবো। ফলো করা তো খুব ছোট ব্যাপার।”
মেসেজটা দেখে রিক্তার মনে আনমনে শিতল হাওয়া বয়ে যায়। মুখে আবেশে হাসি ফুটে উঠে।
নাহিদা ফোনের দিকে তাকিয়ে বলে„“আবার কে দেখি?”
রিক্তা তাড়াতাড়ি ফোন উল্টো করে বলে„“কিছু না।”
নাহিদা সন্দেহ নিয়ে বলে„“তোর মুখে এমন শিতল হাসি কেন? কি তোর ডাক্তার সাহেবের কথা মনে পরছে বুঝি?
আরশি মুচকি মুচকি হাসছে। ।
শিখাও মুখ নিচু করে হাসি চাপার চেষ্টা করছে।
রিক্তা বিরক্ত হয়ে বলে„“তোরা চুপ করবি?”
গাড়িটা ধীরে ধীরে আহামেদ বাড়ির সামনে এসে থামে।ড্রাইভার নেমে দরজা খুলে দেয়।
„“ম্যাম এসে গেছি।”
রিক্তা গাড়ি থেকে নামে। সাথে বাকিটাও।
বাড়ির দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে রিক্তা।
নাহিদা গার্ডদের দিকে তাকিয়ে বলে„“আচ্ছা একটা কথা বলেন তো… আপনাদের স্যার দেখতে কেমন?”
গার্ড হালকা হেসে বলে„“খুব ভয়ংকর।”
নাহিদা ভ্রু কুঁচকে বলে„“সিরিয়াসলি?”
„“জি ম্যাম। রাগলে তো আরো ভয়ংকর।”
শিখা কাশি দিয়ে হাসি চেপে রাখে।
রিক্তা বিরক্ত হয়ে বলে„“আপনারা এখন যেতে পারেন।”
গার্ড সম্মান নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বলে„“জি মিসেস ম্যাম।”
আবারও “মিসেস ম্যাম” শুনে রিক্তার মাথা গরম হয়ে যায়।
„“এই মিসেস ম্যাম বলা বন্ধ করুন!”
গার্ড কিছু না বলে মুচকি হেসে গাড়ির দিকে যায়। রিক্তা পিছনে থেকে ডাকে „“ শুনেন ”
ড্রাইভার টা ঘুরে পিছনে তাকিয়ে বলে „“জ্বি ম্যাম বলেন ”
রিক্তা মিষ্টি হেসে নমনীয় কন্ঠে বলে „“ ধন্যবাদ আপনাদের ওনারা তো আসেনি তাহলে ওনাদের ধন্যবাদ বলতাম আপনি গিয়ে বলেদিবেন। আর আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ ”
ড্রাইভার টা সম্মানের সঙ্গে বলে „“ না না ম্যাম ধন্যবাদ দিতে হবে না এটা তো আমাদের কাজ ”
নাহিদা নমনীয় কন্ঠে বলে „“ ওনাদের এবং আপনাকে সরি। আমি আপনাদের ভুল বুঝেছিলাম এবং উল্টো পাল্টা কথা বলেছি তাই সরি ”
ড্রাইভার টা কুশল বিনিময় করে বলে „“ না না ম্যম আপনাদের জায়গায় আমরা থাকলেও একই মন্তব্য করতাম এতে আপনাদের দোষ নেই ”
ড্রাইভার টা আবার মলিন হেসে রিক্তাকে বলে „” ম্যাম আমাদের স্যার টা একটু রাগী কিন্তু অনেক ভালো। ওনি সব সময় আপনার কথা ভাবে এবং আপনাকে অনেক ভালোবাসে তাই বলি আপনিও স্যার কে ভালোবাইসেন ”
ওরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই ড্রাইভার টা গাড়িতে উঠে গাড়ি চালাতে শুরু করে কালো গাড়িটা ধীরে ধীরে বহু দুরে মিলিয়ে যায়।
রিক্তা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।তার মনে হচ্ছে
কেউ একজন অদৃশ্যভাবে তার চারপাশে জাল বুনছে।আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো…
সে চাইলে হয়তো এই জাল থেকে বের হতেও পারবে না। কিন্তু রিক্তা জানে সে শুধু তার ডাক্তার সাহেব কেই ভালোবাসে। সে ছাড়া আর কাউকে না।
রিক্তা মলিন হেসে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে সাথে আরশি নাহিদা শিখা

চলবে…..

0 0 votes
Article Rating
Loading spinner
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x