লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা
পর্ব:২০
সকালের ব্যস্ততা দিয়ে শুরু হয়েছে আহমেদ বাড়ি। এটাই তাদের প্রতিদিনের রুটিন। ফজরের নামাজ আদায় করে যে যার কাছে যায়। যেমন সানজিদা আহমেদ এবং মনিরা আহমেদ নামাজ আদায় করার পর তাদের কাজ হচ্ছে সকালের নাস্তা বানানো, সোহেল আহমেদ এবং সৈয়দ আহমেদের কাজ হচ্ছে বাগানে হাঁটাহাঁটি করে কথা বলা, রাহাদের কাজ হচ্ছে নামাজ পড়ে একটু ঘুমানো এবং একটু ঘুমানোর পর উঠে গোসল করে তৈরি হয়ে একেবারে নিচে আসা, রিক্তা নামাজ পড়ে বেলকনিতে গিয়ে উপন্যাস পড়া বা নিচে তাকিয়ে বড় আব্বু-আব্বুদের কথাবার্তা দেখা মাঝে মাঝে রিক্তাও তাদের সাথে যুক্ত হয়, এই বাড়ির সবচেয়ে ছোট্ট রাজকন্যা রিতু নামাজ পড়তে রিক্তা চেঁচিয়ে উঠায়, উঠেও জিমায়। রিক্তা নামাজ আদায় করেও দেখে রিতু এখনো বিছানায় বসে ঝিমুচ্ছে, তারপর রিতুকে টেনে-হিঁচড়ে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে অযু করিয়ে নামাজ আদায় করায়, নামাজ শেষ হতে দেরি হয় কিন্তু রিতুর ঘুমাতে দেরি হয় না।
এই হচ্ছে আহমেদ বাড়ির রুটিন।
রিক্তা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে মুখে হাসি। তা দেখে সাথী হেসে বলে „“আজ রিক্তা আফার মুখে হাসি কেন?”
রিক্তা নিচে এসে দাঁড়িয়ে কোমরে হাত রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“এটা কেমন কথা সাথী আপা? আমি কি এখন হাসতেও পারবো না?”
সাথী একটু ভাবুক ভঙ্গিতে বলে „“হাসবেন তো, কিন্তু কী কারণে হাসছেন সেটা জানতে চাইছি। কী হলো, ভাইজানের সাথে যোগাযোগ হয়েছে?”
রিক্তা লাজুক ভঙ্গিতে বলে „“কি সব বলো না আপা!”
এই বলে রিক্তা রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। আর পিছনে সাথী হাসছে।
সাথী এই বাড়িতে ছোট থেকেই সাথী থাকে। রিক্তাদের বয়সে বড়, তাই রিক্তা রিতু তাকে আপা বলে সম্বোধন করে। কাজ শেষে প্রায় রিক্তাদের সাথে আড্ডা দেয়, তাই রিক্তা যে শুভকে পছন্দ করে সেটা সাথী জানে। তাই তো রিক্তাকে লজ্জায় ফেলেছে।
রিক্তা রান্নাঘরে গিয়ে দেখে সানজিদা আহমেদরা খুব ব্যস্ত। রিক্তা তাদের পিছনে দাঁড়িয়ে বলে „“কি করছো তোমরা?”
দুজনে একসঙ্গে ঘুরে রিক্তাকে দেখে আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়। সানজিদা আহমেদ রুটি বানাতে বানাতে বলে „“তা আম্মা, আপনার চশমা কোথায়?”
রিক্তা চোর ধরার মতো করে বলে „“আসলে হয়েছে টা কি?”
মনিরা আহমেদ চায়ের কাপ ঢালতে ঢালতে বলে „“চশমা পরিসনি কেন?”
„“দূর আম্মু ভালো লাগে না।”
„“এই কথা বললে মার খাবি! কাল রাহাদ কাজের ফাঁকে তোকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে, শুভ কাজ বাদ দিয়ে তোকে চেকআপ করেছে আর তুই বলছিস ভালো লাগে না?”
রিক্তা ঠোঁট উল্টে পাশের ছোট টেবিলের উপর বসে আপেল খেতে থাকে।
মনিরা আহমেদ একটু থেমে আবার বলে „“শুভ ফোন করে বারবার বলছে চশমা পরে থাকতে। এখন চশমা পরে তোর আব্বুদের চা দিয়ে আয়।”
শুভর কথা শুনামাত্রই রিক্তা বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। তাকে এমনভাবে দাঁড়াতে দেখে মনিরা আহমেদ, সানজিদা আহমেদ তার দিকে তাকায়।
রিক্তা আশ্চর্য হয়ে বলে „“শুভ ভাইয়া ফোন করেছে?”
মনিরা আহমেদ নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলে „“হুম…”
এর মধ্যেই সানজিদা আহমেদের ফোন বেজে ওঠে। রিক্তা পাশ থেকে ফোনটা তোলে, স্ক্রিনে ভেসে উঠে “শুভ”। রিক্তা তাড়াতাড়ি করে ফোনটা সানজিদা আহমেদের কাছে দেয়।
সানজিদা আহমেদ ভ্রু কুঁচকে বলে „“কে ফোন করেছে?”
„“নিজেই দেখে নাও।”
এই বলে ফোনটা বাড়িয়ে দেয়। সানজিদা আহমেদ নিজের হাতে নিয়ে অসহায় কণ্ঠে বলে „“ফোনটা তো রিসিভ করে দে।”
রিক্তা ফোন রিসিভ করে সানজিদা আহমেদের কানের কাছে রেখে দেয়।
সানজিদা আহমেদ হাতের উল্টো পিঠে ধরে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে „“আসসালামু আলাইকুম।”
সানজিদা আহমেদ শুভর কণ্ঠ বুঝতে পেরে বলে „“ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো বাবা?”
„“এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?”
„“আমিও ভালো।”
„“শুনে ভালো লাগলো। তা রিক্তার কি অবস্থা?”
সানজিদা আহমেদ রিক্তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে বলে „“তোমার রোগী তুমিই খোঁজ নাও।”
এই বলে রিক্তাকে উদ্দেশ্য করে বলে „“রিক্তা, শুভ কথা বলবে নে, কথা বল।”
রিক্তার অভিমান হলো। তার ফোন আছে কি করতে? মায়ের ফোনে করবে কেন? রিক্তা অভিমানী কণ্ঠে শুভকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে „“বড় আম্মু, আমার ফোন আছে। কারো খোঁজ নিতে চাইলে আমার ফোনে ফোন করতে পারে আর নাম্বার না থাকলে লিখে নিতে বলো 019******58।”
এই বলে রিক্তা চায়ের ট্রে নিয়ে রান্নাঘর থেকে চলে যায়। মনিরা আহমেদ পিছন থেকে অনেক ডাকলেও রিক্তা আর আসেনি।
শুভ লাইনে থেকেই সব শুনে হাসি থামিয়ে বলে „“রাগ করেছে বুঝি?”
„“তুমি জানোই রিক্তা কেমন?”
„“হুম…”
(….কথোপকথন চলতে থাকে….)
রিক্তা বাগানের টেবিলের উপর চায়ের ট্রে রাখতে রাখতে বলে „“শুভ সকাল।”
দুই ভাই কথা বলছিল, রিক্তার কথায় দুজনেই ঘুরে তাকিয়ে হেসে বলে „“শুভ সকাল আম্মা।”
„“এই যে আপনাদের চা।”
বলতে বলতে দুজনের হাতে চা তুলে দেয়।
দুই ভাই চায়ে চুমুক দেয়। সোহেল আহমেদ মুখের চা খেয়ে রিক্তার উদ্দেশ্যে বলে „“তোমার কি অবস্থা আম্মু?”
রিক্তা মিষ্টি হেসে বলে „“খুব ভালো।”
„“যাক, আল্লাহ মাফ করেছে।”
„“আপনাদের দোয়া সবসময় আমার সাথে আছে তো।”
„“হুম, আমাদের দোয়া সারাজীবন থাকবে।”
„“আচ্ছা আব্বু আমি যাই, কিছু লাগলে বলবেন।”
„“আচ্ছা যাও।”
রিক্তা বাবাদের সম্মতি পেয়ে বাড়ির ভিতরে চলে যায়।
রুমে এসে বিছানায় বসতেই তার চোখ পড়ে পাশেই পড়ে থাকা ফোনটার দিকে।
ঠোঁট ফুলিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বিরবির করে „“হুহ! নিজে ফোন দিবে না, বড় আম্মুর ফোনে কল করবে!”
ফোনটা বিরক্ত হয়ে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়। কিন্তু পরক্ষণেই আবার ফোনটা হাতে তুলে নেয়।
স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড শুভর নাম্বারের দিকে তাকিয়ে থাকে।
হঠাৎ ফোনে টুং করে একটা মেসেজ ভেসে উঠে। রিক্তা তাড়াতাড়ি মেসেজ ওপেন করে।
“রাগ কমেছে?”
রিক্তা মুচকি হেসে ফেলে।
তবুও নিজেকে গম্ভীর দেখিয়ে রিপ্লাই দেয় „“আমি রাগ করিনি।”
ওপাশ থেকে সাথে সাথেই রিপ্লাই আসে „“তাহলে এত বড় বক্তৃতা দিলে কেন?”
রিক্তা বিছানার উপর উপুড় হয়ে শুয়ে টাইপ করতে থাকে „“কারণ আমারও ফোন আছে।”
শুভ কয়েক সেকেন্ড পর রিপ্লাই করে „“ও আচ্ছা। তাহলে এখন থেকে শুধু রোগীর ফোনেই কল দিবো।”
রিক্তা মুচকি হেসে ফেলে।
তবুও জোর করে নিজেকে সামলে লিখে „“রোগী আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক না।”
„“কিন্তু ডাক্তার তো ইচ্ছুক ।”
রিক্তা এবার হেসে দেয়।
„“কিন্তু আমি তো শুনিনি যে ডাক্তার রোগীর সাথে কথা বলে।”
„“কারণ আমি পিচ্চির একান্ত বাধ্যগত ডাক্তার সাহেব।”
রিক্তার চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দেখা দেয়। যেই না রিপ্লাই দিতে যাবে ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে রিতুর চিৎকার ভেসে আসে „“আপু আমার ফিতা পাচ্ছি না!”
রিক্তা চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে „“এই মেয়েটা আমাকে একদিন পাগল করে দিবে!”
ফোনটা পাশে রেখে দ্রুত নিচে নেমে যায়…
নিচে এসে দেখে রিতু স্কুল ড্রেস পরে সোফার উপর দাঁড়িয়ে ব্যাগ খুঁজছে। সাথী মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে „“কি হয়েছে আবার?”
রিতু কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে „“আমার চুলের ফিতা খুঁজে পাচ্ছি না।”
রিক্তা দুই হাত কোমড়ে রেখে বলে „“আজকে কয়টা জিনিস হারালি?”
রিতু আঙুল গুনে বলে „“তিনটা।”
সাথী হেসে ফেলে।
রিক্তা কপালে হাত দিয়ে বলে „“ইয়া আল্লাহ!”
ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে রাহাদ।
কালো শার্ট, হাতে ঘড়ি, চোখে গাম্ভীর্য।
নিচে নেমেই বলে „“এত চিৎকার কিসের?”
রিতু দৌড়ে গিয়ে রাহাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে „“ভাইয়া আমার ফিতা হারিয়েছে।”
রাহাদ গম্ভীর মুখে বলে „“ফিতা কি নিজে নিজে হাঁটতে হাঁটতে পালিয়েছে?”
রিতু মুখ ফুলিয়ে বলে „“তোমরা কেউ আমাকে বুঝেন না।”
রিক্তা বলে „“কারণ তুই সব কিছু উল্টাপাল্টা করিস।”
রাহাদ বলে „“আচ্ছা বাবা হয়েছে, এখন রিক্তা তোর থেকে রিতুকে একটা ফিতা দিয়ে দিলেই তো হয়। আর বোনু তুই কলেজ যাবি না? তৈরি হসনি কেন?”
রিক্তা বলে „“যাচ্ছি তো। আগে এই ছোট্ট অপদার্থটার জিনিস খুঁজে দিই।”
রিতু সাথে সাথে বলে উঠে „“আমি অপদার্থ না!”
রিক্তা ভ্রু তুলে বলে „“তাহলে তুই কি?”
রিতু গর্বিত ভঙ্গিতে বলে „“আমি এই বাড়ির রাজকন্যা।”
সাথী এবার হেসে ফেলে।
রিক্তা মাথা নাড়িয়ে সোফার পাশে তাকাতেই একটা সাদা ফিতা দেখতে পায়।
ফিতাটা হাতে নিয়ে রিতুর সামনে ধরে বলে „“এই নে রাজকন্যা।”
রিতু খুশিতে লাফিয়ে উঠে রিক্তার গালে চুমু দিয়ে বলে „“লাভ ইউ আপু!”
রিক্তা মুচকি হেসে তার চুল ঠিক করে দেয়।
ঠিক তখনই মনিরা আহমেদ ডাইনিং থেকে বলে উঠে „“সবাই তাড়াতাড়ি এসে নাস্তা করো!”
রাহাদ হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে „“আমার আজ একটু আগে বের হতে হবে।”
সোহেল আহমেদও ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বলে „“আজ অফিসে অনেক কাজ।”
সৈয়দ আহমেদ চশমা খুলতে খুলতে বলে „“মিটিংও আছে।”
সবাই একে একে ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ে।
টেবিল ভর্তি নাস্তা—পরোটা, ডিম, সবজি আর চায়ের কাপ।
রিতু চেয়ার টেনে বসে হাই তুলতে তুলতে বলে „“আমার এখনও ঘুম পাচ্ছে।”
রাহাদ পরোটা মুখে দিয়ে বলে „“তাহলে স্কুলে গিয়ে ঘুমাস।”
রিতু মুখ ফুলিয়ে বলে „“ভাইয়া তুমিও অনেক খারাপ।”
রাহাদ অবাক হয়ে বলে „“আমি আবার কি করলাম?”
„“তুমি তো বলতে পারো যে বোন রিতু স্কুলে যাওয়া লাগবে না, তুই বাসায় ঘুমা। আপুও স্কুল যেতে বলে তুমিও যেতে বলো।ভালো লাগে না ছাই ”
এই কথায় রাহাদ মুখ চেপে হাসছে।
সানজিদা আহমেদ রিতুকে ধমক দিয়ে বলে „“ফালতু বকবক বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি খা।”
রিতু মুখ কালো করে ফেলে।
রিক্তা কোনো মতে দুটো পরোটা খেয়ে নিজের রুমের দিকে ছুট লাগায়। মনিরা আহমেদ, সানজিদা আহমেদ অনেক বার ডেকেছে আরেকটা পরোটা খাওয়ার জন্য কিন্তু রিক্তা না শুনেই রুমের দিকে দৌড়ায়। রুমে ঢুকেই কলেজ যাওয়ার জন্য তৈরি হতে থাকে। রিক্তা কখনো হিজাব বেঁধে যায় আবার কখনো না বেঁধেই যায়। আজ বাঁধলো না, এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। ব্যাগের মধ্যে কিছু বই আর ফোন নিয়ে, চোখে চশমা পড়তে ভুলে না। কোনো মতে তৈরি হয়ে নিচে নামে।
খাওয়া শেষ হতেই বাড়ি জুড়ে আবার ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়।
সাথী রিতুর ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছে।
মনিরা আহমেদ বারবার বলে দিচ্ছেন যেন কেউ টিফিন নিতে ভুলে না যায়।
সোহেল আহমেদ সোফায় বসে আছে, সৈয়দ আহমেদের জন্য অপেক্ষা করছে। রাহাদ বাবার পাশে বসে ফোনে কি যেন করছে।
রিক্তাকে নিচে নামতে দেখে সবাই তার দিকে তাকায়। রিতু এক গাল হেসে বলে „“আপু তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, একজন টিচার টিচার ভাব আছে তোমার মাঝে।”
সোহেল আহমেদও তাকায় „“এই তো এখন খুব সুন্দর লাগছে।”
রাহাদও প্রশংসা করে বলে „“একদম পেত্নির মতো।”
রিক্তা সোহেল আহমেদের দিকে তাকায়। সোহেল আহমেদ ছেলের কান টেনে বলে „“এই! তুই আমার মেয়েকে পেত্নি বলিস?”
রাহাদ হালকা শব্দ করে বলে „“আহ আব্বু ভুল কি বললাম?”
„“হ্যাঁ ভুল বলেছিস, এখন সরি বল।”
রাহাদ নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে „“আমার দাদি, প্রিয় বোনু আমি ভুল করেছি, এখন আমাকে ক্ষমা করুন প্লিজ।”
রিক্তাও ভাব নিয়ে বলে „“হয়েছে হয়েছে মাফ করলাম।”
রাহাদ মুখ ভেংচি কাটে।
সবাই হেসে উঠে।
হাসি-আনন্দের মাঝে সবাই তৈরি হয়ে বের হয়ে যায়।
আর পিছনে পড়ে থাকে সানজিদা আহমেদ এবং মনিরা আহমেদ এবং তাদের সাথে দুপুরের ব্যস্ততা।
চলবে……
( কি আর বলবো আজ একটা ফোন নেই বলে কারো মেসেজ আসে না 🤧)
Rất cảm ơn những chia sẻ này. Nếu cần tư vấn du học Hàn Quốc, hãy tìm đến Letco — kinh nghiệm nhiều năm, dịch vụ uy tín. Chi tiết tại
Thank you for commenting, brother. Please do not share any links here.