গল্প:অমৃত্যু তোকে চাই (০৭)

লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা

পর্ব:০৭

 

 

 

অন্যদিকে…
রিক্তা বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে ।ঠোঁটে ম্লান হাসি।
আকাশের পানে তাকিয়ে ফিসফিস করে  „“ শুভ ভাই কে অন্য কারো সাথে দেখলেই বুকটা হু হু করে ওঠে। আমি তো কিছু চাই না… শুধু একটু ভালোবাসা। এতটুকুই আমার যথেষ্ট। “

মিনি রিক্তার পায়ের কাছ ঘেঁষে মিউ মিউ করছে। রিক্তা তাকে দেখে নিচ থেকে উঠিয়ে বুকে টেনে নিয়ে ফিসফিস করে বলে  „“ তুই তো আমার মেয়ে তাই না । আমার সব দুঃখ–কষ্ট তুই বুঝিস।আমি শুনেছি মায়েদের কষ্ট মেয়েরা কিছু হলেও বুঝে। তুই কি বুঝিস না? “

মিনি কি বুঝলো আর কি বুঝলো জানি না। শুধু মিউ মিউ করলো রিক্তার বুকে থেকে।
রিক্তা চোখের কোনের পানি মুছে মোলায়েম কন্ঠে বলে „“ সে মানুষ হয়েও বুঝে না আর তুই তো প্রানী! “

রিক্তা কিছু ক্ষন চুপ থেকে রুমের ভিতর যেতে যেতে বলে „“তুই শিখার কাছে থাক আমি ওনাকে খাবার দিয়ে আসছি।”

রিক্তা খাটের পাশে মিনিকে শিখার কাছে দিয়ে সে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। যাওয়ার আগের রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে গেছে।

কিছুক্ষণ পর…
শুভ নিচে এলো।
টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে রিক্তা।
শুভ একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে  „“তুই ঘুমাস নাই?”

রিক্তা মলিন হেসে বলে „“ পরে ঘুমাবো। আগে আপনাকে খাবার দিয়ে যাই।”

মিলি তাড়াতাড়ি বলে উঠল „“রিক্তা, তুমি যাও। আমি খাবার দেই।”
মুলত মিলিও শুভর পিছন পিছন নিচে আসছে।

রিক্তা ঠোঁট বাঁকিয়ে দু হাত বুকের কাছে বাজ করে বলে „“ খাবার দিতে পারেন?”

মিলি থতমত খেয়ে গেল।
যে মেয়ে নিজের হাতে এক গ্লাস পানি খায়নি সে কি করে ভাত দিবে?
শুভ গম্ভীর কণ্ঠে বলল „“ মিলি, তুই যা। কাল তোর কলেজ আছে।”
রাগে দুঃখে অগত্যা মিলি গটগট পায়ে রুমে চলে গেল।

রিক্তা প্লেটে খাবার সাজিয়ে দিলো।
রিক্তা মিন মিনিয়ে বলে „“  কি কি খান জানতাম না, তাই একটু একটু করে সব দিয়েছি।”

শুভ চুপচাপ খেতে শুরু করল।
হঠাৎ তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল „“তুই খেয়েছিস ?”

রিক্তা মাথা নিচু করে জবাব দেয় „“না।”
শুভ ভ্রু কুঁচকে বলে „“ রাত ১২টা বাজে, এখনো কেন খাসনি?”
রিক্তা আস্তে করে বলে  „“ খিদে নেই।”
“খিদে নেই বললেই হলো? এক্ষনি ভাত নে।”
“দেখুন জোর করবেন না আমার খিদে নেই।”
“রিক্তা ভাত নিতে বলছি..”
“আমি খাবো না”
শুভর ধৈর্য শেষ হয়ে গেল।
শুভ চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। রাগান্বিত কন্ঠে বলে  „“আমি শেষবার বলছি, ভাত নে।”

রিক্তা অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্লেটে ভাত  নিল। ভাতের প্লেট নিয়ে শুভর মুখা মুখি বসলো। মুলত শুভই বলেছে তার সামনে বসতে। রিক্তা খাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু চোখে পানি জমে উঠছে বারংবার ।

শুভ তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ।
আস্তে জিজ্ঞেস করল „“ তুই কি কোনো বিষয়ে আপসেট?”
রিক্তা নীরব। কেবল মাথা নাড়িয়ে বলল„“না”

শুভ মোলায়েম কন্ঠে শুধালো „“যদি কাউকে ভালোবাসিস? আমাকে বলতে পারিস।”

রিক্তার হাত কেঁপে উঠল। ঠোঁট কাঁপল, কিন্তু কিছু বলল না।
নীরবতায় ভরে গেল চারপাশ।
খাওয়াদাওয়া শেষ হলো।

শুভ অবশেষে নিজের রুমে গেল। অনেকক্ষণ ছটফট করে ঘুমিয়ে পড়ল।
কিন্তু রিক্তার চোখে ঘুম এলো না।
চোখের কোণে লুকোনো অশ্রু গড়িয়ে পড়ল বালিশ ভিজিয়ে…..

আজ শুক্রবার খান বাড়িতে আজ তিন দিন হলো রিক্তারা আসছে।
এখন শিখা সুস্থ। তাই রিক্তা বাড়ি চলে যাবে।
রিক্তা রাহাদ কে ফোন করে „” আসসালামু আলাইকুম  ভাইয়া?”
ওপাশ থেকে রাহাদ বলে„“ওয়ালাইকুম সালাম  বোনু কেমন আছিস?”
রিক্তা বলে„“ আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি?”
রাহাদ বলল „“ভালো নেই তুই রিতু বাড়ি নেই তো তাই।”
রিক্তারও কিছু টা মন খারাপ হলো„“আমাদের আজ নিয়ে যেও। আমরা আজ বাড়ি ফিরতে চাই।”
রাহাদ বলল „“ বোনু আমি তো যেতে পারবো না  মিটিং আছে যদি ফ্রী হই তাহলে বিকেলে বা সন্ধ্যার সময় দেখি যেতে পারি কি না। আর না পারলে কাউকে পাঠাবো।”
রিক্তা বলল „“ আচ্ছা ভাইয়া।”
“আচ্ছা শোন শিখা কেমন আছে?”
জিজ্ঞেস করতে রাহাদের কেমন যেন অসস্থি লাগছিল। যতই ফুপাতো বোন হক না কেনো সে ওর সাথে তেমন কথা বলে না।
রিক্তা মুচকি হেসে বলে„“ আলহামদুলিল্লাহ ভালো. কথা বলবে নেও।”
এই বলে রিক্তা ফোট  করে শিখাকে ফোন দিয়ে দেয়।
শিখা বোবার মতো তাকিয়ে থাকে রিক্তার দিকে।

রিক্তা হেসে বলে „“কি রে কথা বল।”
শিখা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে „“আসসালামু আলাইকুম।”
রাহাদ দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে বলে „“ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো?”
শিখা বলে „“ এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?”
রাহাদও হেসে বলে „“ভালোই। বাসার সবাই কেমন আছো?”
„“এই ভালো? মামা মামিরা সবাই কেমন আছে?”
“মোটামুটি ভালো। আচ্ছা নিজের খেয়াল রেখো আর ঠিক মতো ঔষধ খেও কেমন।”
„“আচ্ছা ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ”
„“আল্লাহ হাফেজ।”

শিখা ফোন কেটে হাফাতে থাকে।
রিক্তা বিরক্ত হয়ে বলে „“ দিলাম একটু মধুর মধুর কথা বলবি আর এই দিকে সে লজ্জায় মাটির নিচে মিশে যায়।”

শিখা রিক্তাকে চাটি মেরে বলে „“ তোকে সে বলছে কথা বলবে? তুই কেন ফোন দিলি ?”
রিক্তা ভাব নিয়ে বলে„“ কথা বলার জন্য। তুই প্রথম মধুর মধুর কথা বলবি আর আমি শিখবো। তারপর তোর ভাইয়ের সাথে আমি ট্রাই।”
শিখা বিরক্ত হয়ে বলে „“তোর যে ভাই তার সাথে প্রেম।”

রিক্তা রেগে বলে„“আমি যদি তোর ভাইয়ের সাথে মানিয়ে নিতে পারি তুই কেন পারবি না? আর আমার লাখে একটা তোর ভাইয়ের মতো বাঁদর না।”

শিখা জানে এই মেয়ের সাথে কথায় পারা যাবে না। কোথা থেকে কি বলবে গাল ফুলিয়ে বসে থাকবে।
তাই শিখা হাত জোর করে বলে „“ খালা আমার। আমার মোস্তো বড় অপরাধ হয়েছে। এবার আমাকে মাফ করেন।”
রিক্তা মুখ ভেংচি কেটে বলে „“ হুম হুম। ভাইদাওয়ে  আমার মিনি কই?”
শিখা ঠোট উল্টে বলে „“ আমি জানি না দেখ কোথায়।”

রিক্তা খুজতে শুরু করে।
পুরো বাড়ি খুজা হয়ে গেছে কিন্তু মিনিকে পাচ্ছে না।
রিক্তা কম বেশি সবাইকে জিজ্ঞেস করেছে „“আমার মিনি কই কেই দেখেছো?”
সবাই এক কথা „“আমার দেখি নি।”
রিক্তা খুজতে খুজতে বলছে „“ মিনি মাম্মাম ডাকছে! তুই কোথায়?”

শুভর রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মেউ মেউ শব্দ কানে আসে।
রিক্তা এ বাড়ি এসেছি তিনদিন কিন্তু এখন পর্যন্ত এই রুমে আসে নি ওই দিন রাতে রিক্তা শুভর থেকে কেন্ডি নেওয়ার সময় আসছিল তখন পুরো রুম ছিল অন্ধকার। তাই কিছু দেখে নি।
রিক্তা সাহস নিয়ে দরজায় টোকা দিয়ে ভিতরে ডুকে

ভিতরে ডুকে রিক্তা পুরোই শকট। পুরো রুম জুরে নীল রঙ খেলা করছে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই আকাশি নিল।রুমের জিনিসপত্রও কেমন আকর্ষণী যেমন : বড় সাইজের খাট দেখে বাংলাদেশি মনে হচ্ছে না, দু’টো আলমারি, দুটো বইয়ের শোকেজ,  টেবিলে কিছু কাগজপত্র, লেপটপ,, চশমা রাখা ইত্যাদি, দেওয়ালে শুভর কিছু ছবি , এক সেট সোফা।
সোফায় নজর পরতেই রিক্তা চমকে যায়। মিনি সোফায় বসে গোল গোল ঘুড়ছে।
রিক্তা ছুটে যায় মিনির কাছে মিনিকে কোলে নিয়ে দমকের স্বরে বলে „“ এই বাড়িতে কি রুমের ঠাটা পরছিল যে তোর এই রুমে আসতে হলো? ডাক্তার সাহেব যদি দেখে তাহলে তোকে সহ আমাকে জানালা দিয়ে ছুরে ফেলে দিবে।”
রিক্তা কথার মাঝে ওয়াশরুম থেকে টাওয়াল পরে সদ্য গোসল করে বেড় হলো শুভ। চুল থেকে পানি পরছে, জিম করা শরীরে কোনো পোশাক নেই…
তাকে দেখে রিক্তার শরীর গাম পড়ছে,হাত পা কাপছে, মনে হচ্ছে এক্ষনি জ্ঞান হারাবে,মিনি কোল থেকে নেমে চলে গেছে।
রিক্তাকে খেয়াল করতেই শুভর ভ্রু কুঁচকে যায়। কুচকানো ভ্রু নিয়ে বলে „“ এখানে কি?”

রিক্তা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে „“মিনি…. আমি.. মিনি”
বেচারা এতো ভয় পেয়েছে যে ভয় জন্য বলতেই পারছে না।

শুভ বাঁকা হেসে রিক্তার দিকে এগিয়ে যায়।
শুভর এগনো দেখে রিক্তা পিছাতে পিছাতে এক পর্যায় সোফার  উপর পড়ে যায় । শুভ রিক্তার পিছনে দু হাত দিয়ে সামনের দিকে কিছু টা ঝুকে ফিসফিস করে বলে„“ You are ready after 2 years of shame of your shame
InshaAllah will return.”

রিক্তা কথার মানে বুঝলো কি বুঝলো না তার মাঝে মিলি  জোরে চেচিয়ে বলে  „“ভাইয়া…….”

মিলিকে দেখে শুভ সরে আসে।
রিক্তাও উঠে দাড়ায়।

মিলি রেগে রিক্তাকে চর মারতে যাবে তার আগে শুভ মিলির হাত ধরে ফেলে। মিলিকে ঝারা মেরে শুভ দূরে মেঝেতে ফেলে দিয়ে রেগে বলে „“কি করছিস মিলি?”

মিলি শুভর ঝারা খেয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে পরে „“ছিঃ এই নির্লজ্জ মেয়ে। নোংরা মেয়ে শেষে কি না তোমার সাথেও ছিঃ এই সব মুখে আনাও পাপ।”

শুভ কিছু বলতে যাবে তার আগের রিক্তা গটগট পায় রুমে থেকে চলে যায়।

রুমে গিয়ে রিক্তা কেন্ডি মুখে নিয়ে রাগে পায়চারি করছে পুরো রুম । রিতু, শিখা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে।

শিখা অধৈর্য হয়ে বলে „“কি হইছে? এমন করছিস কেন?  সেই কখন থেকে এ মাথা থেকে ওমাথা তো আবার ওমাথা থেকে এমাথা তোকে দেখতে দেখতে মাথা ধরে গেলো”

রিক্তা রাগে কটমট করে খাটের উপর দপাস করে বসে পরে দাতে দাত চেপে বলে „“তোর ভাইয়ের নাগরিকা কে কিছু একটা শাস্তি দিতেই হবে। সে জানে না কার সাথে লাগতে আসছে।”

শিখা কিছুটা ভেবে বলে „“তুই কি মিলি আপুর কথা বলছিস?”
“তো সে ছাড়া এবাড়িতে কে আছে?”
রিতু ভ্রু কুঁচকে বলে „“কেনো সে কি করেছে?”
“সে আমায় বলে আমি নাকি নির্লজ্জ, নোংরা।এর শাস্তি তো তাকে পেতেই হবে।”
শিখা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে বলে „“এখন কি করবি?”

রিক্তা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে„“Wait and watch!”

শিখা আর কিছু বলল না। শিখা মনে মনে বলে „“ কেনো যে মিলি আপু রিক্তার সাথে লাগতে যাও বুঝি না। এখন আল্লাহ ভালো জানে। ও তোমাকে কি শাস্তি দেয়।”

—-

মিলি রুমে ছিল তখন নিচ থেকে আকলিমা খানের ডাকের আওয়াজ শুনে মিলি রুম থেকে বের হওয়ার জন্য দরজার বাহিরে পা রাখতেই পা  পিছলে পড়ে যায়। ব্যথায় মা বলে চিৎকার করে উঠে।
শুভ দৌড়ে রুম থেকে ছুটে আসে। কি হয়েছে দেখার জন্য।
এসে দেখে মিলি মেঝেতে পরে ব্যথায় কুকরাচ্ছে। এসেছে ঠিকই কিন্তু তাকে ছোয় না।
রিক্তা দাড়িয়ে দাড়িয়ে আপেল খাচ্ছে আর আফসোসের সুরে বলছে „“ আহারে! বেশি ব্যথা লাগছে বুঝি?”

শুভ রিক্তার দিকে একবার তাকায় তার পর গম্ভীর কণ্ঠে মিলিকে বলে „”কিভাবে পরলি তুই?”

মিলি রিক্তাকে জালানোর জন্য শুভ কে বলে „“উফ খুব ব্যথা করছে প্লিজ আমাকে দরে রুমে দিয়ে আসো”
এই বলে মিলি শুভর দিকে হাত বারিয়ে দেয়।

শুভ দূরত বসা থেকে দাড়িয়ে সরে গিয়ে  শিখাকে ডাক দেয়। শিখা ভাইয়ের ডাকে রুম থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলে „“জ্বি ভাইয়া?”

শুভ গম্ভীর কণ্ঠে  বলে„“  তুই মিলিকে রুমে দিয়ে আয়। আর না পাড়লে ভাবি বা আম্মু কে ডেকে নিস আমি নামাজে যাবো।”
এই বলে গটগট পায়ে প্রস্থান ত্যাগ করে।

মিলি রাগে কটমট করছে।
আর রিক্তা আপেল খাচ্ছে মনের সুখে।

শিখা মিলিকে উঠাতে চায়। কিন্তু প্রচন্ড ব্যথায় মিলি উঠতেই পারছে না। একা মিলিকে উঠাতে বেচারি শিখা হাঁপিয়ে গেছে অসহায় কন্ঠে রিক্তাকে বলে „“ একটু সাহায্য কর ময়না”

রিক্তা হাতের আপেল টা পাশের জুরিতে ফেলে  মিলিকে বসা থেকে উঠাতে আসে। মিলিকে উঠাতে উঠাতে মিলির কানে কানে ফিসফিস করে বলে „“আগেই বলেছিলাম আমার সাথে লাগতে এসো না এর ফল খারাপ হবে কিন্তু কথা শুনো নি এখন বুঝো এটা ছোট একটা নমুনা ছিল আবার যদি লাগতে এসো তাহলে এর থেকে বড় কিছু হবে বলে দিলাম।”

মূলত রিক্তা এখানে তেল দিয়ে রেখেছিল আর নিচ থেকে রিক্তা গিয়ে আকলিমা খানকে বলেছিল যে সুফিয়া মিলিকে ডাকচ্ছে। তো আকলিমা খান সে ও মিলিকে নিচ থেকে ডাক দেয়।
তো মিলিও রিক্তার ফাদে পা দিয়ে সোজা পিছলে গিয়েছে।
এক এক করে সবাই মিলিকে দেখে গেছে।  শুভ কিছু ঔষধ শিখাকে দিয়ে বলেছে এগুলো মিলিকে দিতে।

শুভ, সাব্বির, শরিফ খান এবং তার ছোট ভাই শাহাদাত খান চারজন নামাজে যাবে। তিনজন এসে দাড়িয়ে আছে কিন্তু শুভ আসছে না। তা দেখে শাহাদাত খান বললেন „“কি রে বাবা শুভ কই তুই দেড়ি হয়ে যাচ্ছে তো।”

শুভ সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলে „“এই যে চলে আসছি।”

নিচে পাঞ্জাবি পরা সবাই কে একপলক পরক করে নেয় শুভ। এই তাদের মাঝে একজন নেই। সে শুভর খুব কাছের মানুষ।
শুভ নামতে নামতে মলিন হাসলো।

রিক্তা তখন সোফায় বসা ছিল। শুভকে দেখে সে নতুন করে প্রেমে পড়েছে। পড়বে না বা কেনো শুভর পরনে নিল পাঞ্জাবী, হাতে নীল রঙের স্মার্ট ওয়াচ, সাদা রঙের নামাজের টুপি দেখে মনে হচ্ছে জান্নাতি ফুল।

শুভ নেমে এসে বলে „“ চলো।”

শরিফ খান বলেন,„“ মাশাল্লাহ খুব সুন্দর লাগছে।”

শুভ মলিন হাসে।
সবাই মিলে নামাজের জন্য বেড়িয়ে যায়।

বাড়ির মেয়েরাও নামাজে চলে যায়।
রিক্তা আজ খয়েরী রঙের থ্রি পিস পরেছে।
নামাজ শেষ নামাজের বিছানায় মোনাজত ধরেছে।
আল্লাহর দরবারে কান্না করছে।

বাড়ির ছেলেরা নামজ পরে সবে মাএ ফিরেছে। যে যার রুমে চলে যায়।
তখন শুভ শিখার রুম পেরিয়ে নিজের রুমে যাচ্ছিল  হঠাৎ চোখ পরে  রিক্তা আড়াই পেছ দিয়ে ওরনা পরে নামাজ পড়ছে আর মোনাজাতে কান্না করছে।

শুভ বুকের কাছে দু হাত বাজ রেখে মৃদু হেসে বিরবির করে বলে„“ মাশাল্লাহ খুব সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে জান্নাতি প্রজাতি এই রুমে নামাজ পরছে। বিশ্বাস কর আর আর দেরি সইছে নাহ। কিন্তু কি করবো তুই এখনো ছোট তাই কিছু বলতে পারছিনা।”

শুভ রুমে চলে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে সাদা টি শার্ট পরে নিচে খাবার টেবিলে বসছে।
এই শুক্রবার যেই দিনে বাড়ির মেয়েরা ছেলেরা সবাই মিলে একসাথে খাবার খেতে বসে।

রিক্তা বসেছে শুভর বরাবর।
সবাই খেতে আরাম্বব করেছে রিক্তা খাবে কি একটু পর পর শুভকে দেখছে।  তাকে দেখেই তার পেট বরছে।
কিন্তু শুভ একবারও তাকাই নি।
অনেকে খাবার টেবিলে আছে, আবার অনেকে নেই।

মিলি রিক্তাকে খোঁচা মেরে ফিসফিস করে বলে „“ কি হলো? তাকাচ্ছে না বুঝি? আর তাকাবেও না। ভাইয়া শুধু আমাকেই ভালোবাসে, বুঝলে?”

রিক্তাও খোচা মেরে ফিসফিস করে বলে„“ জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখছো! যাও, গিয়ে চোখে পানি দিয়ে আসো।”

মিলি রিক্তার জবাবে কটমট করে তাকাল। রিক্তা ভেংচি কেটে নিজের মতে প্লেটে আঙুল ঘুড়াচ্ছে
রিক্তা বারবার শুভর দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু শুভ একবারও তাকাচ্ছে না।
কিছুক্ষণ পর শুভ খাবার শেষ করে টেবিল থেকে উঠতে উঠতে বলে „“ ভাত খেতে দেওয়া হয়েছে কোনো আকিজুকি করতে না।”
এই বলে বেসিনে হাত ধুতে চলে যায়। হাত ধুয়ে সোজা রুমে চলে গেল।
রিক্তা চোখ তুলে তাকায় শুভর দিকে। কিন্তু ততক্ষণে শুভ রুমে চলে গেছে
রুমে গিয়ে বিছানায় আধ শোয়া হয়ে চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল „“ কবে বলবো আমার মনের কথা? আমি পারছি না ওর দিকে তাকাতে… তাকালেই মনে হয় সে আমার চোখের ভাষা বুঝে ফেলে। আল্লাহ, আর কত দেরি করবো? আমাকে ধৈর্য দিন।  আমাকে শক্তি দিন।”

অন্যদিকে রিক্তার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। সে  রুমে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।
সন্ধ্যায় রিক্তা নিচে এসে সবার সাথে গল্প করছে।
তখন পিছন থেকে কেউ বলে –
~ বোনু…”
রিক্তা পিছন ফিরে তাকিয়ে  দেখে রাহাদ। খুশিতে চোখ চিকচিক করে উঠে। দৌড়ে যায়  রাহাদের বুকে।
আনন্দে রিক্তার চোখে জল এসে পরে।
রাহাদ রিক্তার মাথা উচু করে ধরে। চোখের পানি মুছিয়ে বলে „“ আরে পাগলি কাঁদছিস কেনো?”
রিতুও দৌড়ে আসে।
রাহাদের পিছন থেকে শুভ বেড়িয়ে আসে। সে ভিতরে সোফায় গিয়ে বসে।
রিতু বলে „“ভাইয়া আমরা বাড়ি যাবো।”
রাহাদ দুই বোনকে জরিয়ে দরে বলে „“ হ্যাঁ বোন আমরা বাড়ি যাবো মজা করবো।”

তারা ভিতরে গিয়ে বসে।
শিখা বার বার রাহাদের দিকে তাকাছে এটা রিক্তা বুঝতে পরে দুষ্ট হেসে  শিখাকে ফিসফিস করে বলে„“ হ্যাঁ রে কি চলছে?”
শিখা ভ্রু কুঁচকে বলে „“ মানে?”
রিক্তা ভ্রু নাচিয়ে বলে „“সামথিং সামথিং?”
শিখা লাজুক হেসে উওর দেয় „“ নাথিং।”
এই বলে সেখান থেকে চলে যায়।
রিক্তা সোফায় হেলান দিয়ে হাসতে থাকে।
কিন্তু তার টোল পরা হাসির দিকে একজন মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকে
সেটা সে জানতেও পারলো না..

বেলা প্রায় সন্ধ্যা। চারদিকে নিজ তেজ হয়ে যাচ্ছে। আশে পাশে থেকে ভেসে আসছে আজানের ধ্বনী। রাহাদ ঘড়ি দেখে রিক্তার উদ্দেশ্য বলে „“বোনু তৈরি হ। তোদের বাড়ি দিয়ে আমি বের হবো।”

রিক্তা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানিয়ে উপরের রুমে চলে যায় তৈরি।
আকলিমা খান বলেন „“ কিছুক্ষণ পর যাবি। খাবার খেয়ে তার পর যাবি।”

রাহাদ হাসি মুখে বলে„“ না ফুপ্পি পরে এসে খাবো। আজ আসি।

আমেনা খান খাবার টেবিলে আনতে আনতে বলে „“খেয়ে যেতেই হবে। আবার কবে না কবে আসো তার কোনো ঠিক নেই।”
এনিশা খান রাহাদকে খোঁচা মেরে বলে „“ আরে ছেলে বেশি কথা বলো না খেয়ে তার পর যাবে।”
শুভ বলে „“সবাই এতো করে যখন বলছে তখন খেয়ে যায়।”

রাহাদ আর কি করবে। সবার কথা রাখতে খাবার টেবিলে বসে। সাথে রিক্তা.,রিতু, শিখা, মিলি, রাহাদ, শুভ, বসেছে। রিক্তার কোলে বসে আছে সুফিয়া
খাবার খেতে খেতে শুভ রাহাদের দিকে তাকিয়ে বলে „“পরশু লুমিনা আসছে।”
রাহাদ খাবার থামিয়ে বলে „“ হঠাৎ লুমিনা আপু বাংলাদেশ আসছে!”
” চাকরি করতে আমার সাথে।”
“ওহ”
“তোর কোম্পানির কি খবর?”
“এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো। বাবা, চাচ্চু সবাই আমার সাথে আছে।”
“ভালো যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে বলতে পারিস আমি সাহায্য করবো।”
” আচ্ছা বলবো।”
সবাই খাবার খাওয়া শেষ করলো।

এবার বিদায়ের পালা।
রিক্তা ফুপিকে জরিয়ে দরে বলে „“আসি ফুপি। ভালো থেকো নিজের খেয়াল রেখো।”
আকলিমা খানের চোখে অশ্রু জমে উঠে „“ তুই চলে যাচ্ছিস খুব খারাপ লাখছে।”

রিক্তা হাসি মুখে আঁকলিমা খানের চোখের জল মুছে বলে „“আমি আবার আসবো। এখন আসি।”

রিক্তা এনিশা খান এবং আমেনা খান, সিনথিয়া,শিখা  সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। আজ সে কারে করে যাবে। হালকা সমস্যা হবে তা সে মানিয়ে নিবে

গাড়ি চলতে থাকে রাহাদ। পিছনে রিক্তা, রিতু গল্প করছে। হঠাৎ টুং করে মেসেজের শব্দ হয় রিক্তা মেসেজ ওপেন করলো।
দেখলো অচেনা সেই আইডি যেটা রিক্তা অচিন মানব দিয়ে সেভ করছে।
লোকটি বলল„“কেমন আছো আমার বিড়ালের আম্মু?”
রিক্তার মনে পড়ে যায় তার বিড়াল ওই খান বাড়িতে।
রিক্তা ততখনাত রাহাদকে বলে „”ভাইয়া আমার মিনি।”
রাহাদ গাড়ি ব্রেক করে বলে „“কি মিনি?”
“মিনিকে ফুপ্পিদের বাসায় রেখে এসেছি। এখন কি হবে?”
“থাক ওখান পরে গিয়ে নিয়ে আসবো।”

রিক্তার মনে পড়ে যায় শুভ বিড়াল কে খুব ভয় পায় এবং তার এলার্জি আছে। সে যদি মিনিকে ফেলে দেয়। এসব ভাবতে ভাবতে রিক্তা স্পষ্ট স্বরে বলে উঠে „“না না। এক্ষুনি নিয়ে আসবো। তুমি গাড়ি ঘুড়াও। আমি শিখাকে কল করে বলছি মিনিকে নিয়ে এগোতে।”

রাহাদও তাই করলো। কারন তার বোন যে গাড় তেরা। রাহাদ গাড়ি ঘুড়িয়ে সেই বড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিল।

বাড়ির সামনে আসতেই দেখে শিখা মিনিকে কোলে করে দাড়িয়ে আছে রিক্তা গাড়ি থেকে নেমে ছুটে যায় বিড়ালের কাছে। মিনিকে কোলে নিয়ে আদর করতে থাকে।
অথচ তার এই পাগলামি দেখে কেউ আড়ালে দাঁড়িয়ে হাসছে..
রিক্তা শিখার থেকে বিদায় নিয়ে নেয়। রিক্তারা আবার বাড়ির পথে রওয়ানা দিলো।

রিক্তা মিনিকে আদর করছে।
রিতু রিক্তার ফোন দেখছে। তাকে ফোন দেয় নি। রাহাদ বলেছিল “আরো বড় হ তারপর ফোন কিনে দিবো।” রিতুও নিষেধ করেনি। তাই রিক্তার ফোন মাঝে মাঝে ব্যবহার করে।
রিক্তা রাহাদের উদ্দেশ্য বলে„“ভাইয়া!”
রাহাদ সামনে দৃষ্টি রেখে বলে „“হুম বল বোনু।”
রিক্তা চোখে বিরক্ত রেখে বলে „“ লুমিনা আপু কে?”
রাহাদ এক পলক রিক্তাকে দেখে গাড়ির স্ট্যারিং ঘুড়াতে ঘুড়াতে  বলে„“ হঠাৎ এই কথা কেনো?”
রিক্তা না চাইতেও মুখে  মৃদু  হাসি টেনে বলে „“ না জানতে মন চাইলো।”
রাহাদ মনে মনে হাসলো
“লুমিনা হচ্ছে ভাইয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড। তারা আমেরিকায় এক সাথে থাকতো।”
রিক্তা চোখ বড় বড় করে বলে „“ এক বাড়িতে থাকতো?”
“হুম মাঝে মাঝে।”
রিক্তার খুব রাগ হলো। ইচ্ছে করছে নিজের চুল নিজে ছিড়ে ফেলতে।
রাগের তুপে নিজের হাতে নিজেই কামর বসিয়ে দিলো।
রিতু রিক্তার দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বলে „“কে যেন মেসেজ দিচ্ছে।”

রিক্তা ফোনটা হাতে নিয়ে না দেখেই  ছুরে ফেলে দেয় গাড়ির জানালা দিয়ে বাহিরে ।
রাহাদ, রিতু হতভম্ব হয়ে যায়।
রাহাদ গাড়ি থামিয়ে দেয়।
“কি করলি এটা?”

রিক্তা কিছুই বলে না।
রাহাদ হালকা হেসে গাড়ি থেকে নেমে ফোনের কাছে যায় ফোন টা আনতে।
ফোনটা তুলতেই দেখে ভেঙে চুরানো বিচরন হয়ে গেছে। অনেক জোরেই বাহিরে ছুড়ে মেরেছিল তার কারনে। রাহাদ ফোনটাকে হাতে নিয়ে মৃদু হেসে কয়েকটা পিক তুলে। পিক গুলো কাউকে পাঠিয়ে ফোন করে। কিছু একটা বলে ফোন কেটে রিক্তার কাছে আসে।
রাহাদ বোনের মাথায় হাত রেখে বলে „“be a saint বোনু। এতো রাগ মেয়েদের জন্য ভালো না।”
এই বলে আবার গাড়িতে বসে আবার ড্রাইভ করতে থাকে। রিতু রিক্তার রাগি ফেচ দেখে আর কোনো কথা বলে না।
কিছুক্ষণের মধ্যে তারা বাড়ির ফিরে এলো।
রিক্তা বাড়িতে এসে সবার সাথে হাসিতে মেতে উঠলো। তখন সৈয়দ আহামেদের ফোনে শিখা ফোন করে “আসসালামু আলাইকুম মামা।”
“ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো মামুনি?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি কেমন আছেন?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপা কেমন আছো?”
“আছে আলহামদুলিল্লাহ ভালো। বাড়ির সবাই কেমন আছে?”
“ভালো।”
“মামা রিক্তারা কই? বাড়ি ফিরেছে তো?”
“অনেকক্ষণ হয়েছে বাড়ি ফিরেছে।”
“ওর ফোন কই? কতো গুলো ফোন মেসেজ দিলাম। ফোন দিলেই ফোন অফ আর মেসেজ দিলে সিন করছে না কি হয়েছে মামা?”
সৈয়দ আহামেদ কিছুটা অবাক হলো কারন রিক্তা কখনো ফোন অফ রাখে না।
“আচ্ছা আমি বলছি।”
“আচ্ছা মামা ওকে ফোন দিতে বলবেন। আল্লাহ হাফেজ নিজের খেয়াল রাখবেন।”
“আল্লাহ হাফেজ মামুনি।”

সৈয়দ আহামেদ ফোন কেটে দিয়ে রিক্তার উদ্দেশ্যে বলে „“তোমার ফোন কই শিখা ফোন করছে ফোন বন্ধ করে কেনো রেখেছো?”
রিতু সৈয়দ আহামেদের পাশে বসে বলে „“ জানেন ছোট আব্বু রিক্তা আপু ফোন ভেঙে ফেলেছে। আসার সময় গাড়ি দিয়ে ছুড়ে বাহিরে মেরেছে আর ভেঙে গেছে।
সৈয়দ আহামেদ মেয়ের উদ্দেশ্যে বলে „“কেনো ভেঙেছো?”
রাহাদ পাশেই ছিল সে বলে „“ছোট আব্বু আপনি তো জানেন রিক্তা হুটহাট রেগে যায়। আর রেগে গিয়ে কখন কি করে তার কোনো ঠিক আছে?”
সৈয়দ আহামেদ মেয়ে কে ডেকে তার পাশে বসিয়ে রিক্তার মাথায় হাত রেখে বলে „“ আম্মা এতো রাগ ভালো না। আর কাল ভাইয়াকে নিয়ে গিয়ে নতুন ফোন কিনে আনবেন কেমন।”
রিক্তা খুশিতে চোখের জল গড়িয়ে পরে । মনে মনে বলে „“আমার কপালে এতো সুখ কেনো?”
রিক্তা বাবাকে জরিয়ে দরে বলে„“জানেন আব্বু আপনি হচ্ছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। যে তার মেয়ে ছেলেদের কোনো আবদার অপূরন রাখে নি। আপনাকে আব্বু হিসেবে পেয়ে সত্যি আমি গর্ভিত। আব্বু আমি পর জন্মেও আপনাকে আব্বু হিসেবে চাই।”
সৈয়দ আহামেদ মেয়েকে বুকের সঙ্গে আকরে দরলেন। এই একটা পৃথিবী যেখানে সে তার অস্তিত্ব খুঁজে পায়।

আজ বাড়িটা বেশ জাকজমক পরিবেশ। রিক্তা রিতু হৈ-হুল্লোড় করছে। কারন বাড়ির বড় মেয়ে আসছে। হ্যাঁ আজ রিয়া তার হাসবেন্ডকে নিয়ে এই বাড়িতে প্রথম।
সকালের দিকে রিয়া বাড়িতে ফোন করেছিল বলেছে সে আজ বিকেলে  আসবে সাথে তার ছোট দেবর আসবে।

রিয়া আসবে শুনে রিক্তা রিতুর আনন্দ দেখে কে? রাহাদ আজ দেরি করে আসবে। সোহেল আহামেদ এবং সৈয়দ আহামেদ রিয়া আসার আগেই ফিরবে।
রিক্তা কলেজ থেকে ছুটি নিয়েছে। রিতুও স্কুল যায়নি। অবশ্য রাহাদেই দুজনকে যেতে না করেছে।

রিক্তা রিতু দৌড়াতে দৌড়াতে সিড়ি দিয়ে উঠছে। সানজিদা আহামেদ রান্না ঘর থেকে উচ্চ স্বরে বলে „“এই রিক্তা রিতু পড়ে ব্যথা পাবি। পরে রাহাদ বোকা দিবে।”
রিক্তা দৌড়াচ্ছে আর মন খুলে হাসছে „“ কিছু হবে না বড় আম্মু। আর ভাইয়াকে কিছু বলবে না।”

সানজিদা আহমেদ আর মনিরা আহামেদ হেসে ফেলেন। মনিরা আহামেদ হাতের কাজ করতে করতে বলেন „“ বুবু মেয়েগুলো আজ কতো দিন পর মন খুলে হাসছে। দেখতেও ভালো লাগছে।”

সানজিদা আহমেদ হাতের কাজ থামিয়ে। কিছুক্ষণ থম মরে ভেবে বলে „“সত্যি। মেয়েগুলো আজ অনেক দিন পর এভাবে ছোটাছুটি করছে।”

সানজিদা আহমেদ এতো চিন্তা ভাবনা রেখে তাড়াতাড়ি হাতের কাজ করতে থাকে। বাড়ির বড় মেয়ে আসছে বলে কথা খাবারের কোনো কমতি নেই পোলাও থেকে মাছ, মাংস, দই ইত্যাদি সবাই তৈরি হচ্ছে।
রিক্তা ছোটাছুটি করছে এমন সময় রিতু বলে „“আপু আজ শিখা আপু আমাদের সাথে থাকলে কেমন হয়?”

রিক্তা ভাবুকদের মতো বলে „“ সত্যি তো। এতো আনন্দ যে শিখার কথা ভুলেই গেছি। নিচে চল আম্মুর বা বড় আম্মুর ফোন দিয়ে ফোন করি।”

রিতু এক গাল হেসে বলে „“ইয়ে কি মজা। আজ আমরা অনেক আনন্দ করবো।”

রিক্তা রিতু নিচে ছুটে আসে রান্না ঘরে। সানজিদা আহমেদের ওড়নার  আঙ্গুলের মাথায় পেচাতে পেচাতে বলে,„“ একটা কথা ছিল।”
সানজিদা আহমেদ হাতের কাজ করতে করতে বলে „“কিছু বলবে?”
“হুম।”
“কি  লাগবে? বলে ফেলো।”

রিক্তা এক গাল হেসে বলে „“শিখাকে আসতে বলো প্লিজ।”

সানজিদা আহমেদ বলেন „“সেটাতো তুমি বলতে পারো। আমাকে বলার কি আছে?”

রিক্তা মুখের হাসি বিলিন হয়ে যায় „“তুমি বলো প্লিজ বড় আম্মু।”

সানজিদা আহমেদ হেসে বলেন „“ঠিকাছে। ফোন নিয়ে আসো।”

রিতু পিছন থেকে ফোন দিয়ে বলে „“ এই যে আম্মু আমি নিয়ে আসছি।”

মনিরা আহামেদ অবাক হয়ে বলেন „“দেখেছো বুবু মেয়ে গুলো কি ফাজিল। বলার আগেই এনে হাজির করেছে”।
রিক্তা, রিতু খিলখিল করে হেসে উঠে।
সানজিদা আহমেদ কল দিল আকলিমা খানের কাছে „“হ্যালো আকলিমা!”
“জ্বি ভাবি বলেন?”
“শিখাকে আজ এবাড়িতে দিয়ে যেতে পারবে? রিয়া আসবে বাড়িতে রিক্তা বলছিল শিখাকে আসার জন্য।”
“ভাবি আমি কিছুই আপনাকে বলতে পারছি না। শুভ বাড়িতে আসার পর থেকে শিখাকে অনেক চাপে রাখে। শিখার শান্তির দিন শেষ।”
“আচ্ছা আমি আমি শুভকে ফোন করে বলছি। আর তুমি তোমার পরিবার নিয়ে এসো।

চলবে……..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments